সৎ মায়ের অত্যাচার ও দুই বোনের ভাগ্য | শিক্ষণীয় বাংলা গল্প। #banglagolpo

Hikmah voice 3,772 words

Full Transcript

অনেক বছর আগের কথা। বাগদাদের এক গ্রামে আকরাম খান নামে একজন ব্যবসায়ী বাস করত। আকরাম খানের প্রথম স্ত্রী মারা গিয়েছিল। রেখে গিয়েছিল দুই মাসুম মেয়েকে। [মিউজিক] পরিস্থিতির চাপে আকরাম খান দ্বিতীয় বিয়ে করতে বাধ্য হয় এবং তার দুই মেয়েকে সৎ মায়ের কাছে রেখে ব্যবসার কাজে শহরে চলে যায়। আজ তিন বছর পর আকরাম খান গ্রামে ফিরছে। ঘরের সৎমা দুই মেয়েকে সামনে ডাকলো এবং কড়া গলায় বলল >> শোন তোমরা দুজনেই কান খুলে আমার কথা শুনে রাখো। আজ তোমাদের বাবা বাড়ি ফিরছেন। তিনি আসার আগেই বাড়ির সব কাজ শেষ হয়ে যাওয়া চাই। [মিউজিক] বুঝেছো? যদি কোন কাজ বাকি থাকে তাহলে দেখে নিও। পরে আমার কাছে কোন অভিযোগ করো না। জানোই [মিউজিক] তো আমার মেজাজ। রাগ উঠলে আমি কারো কথা শুনি না। >> জি ঠিক আছে। আমরা দুজনে মিলে সব কাজ শেষ করে ফেলব। শুধু একটা অনুরোধ আজ আমাদের মেরো না আর কিছু খেতে দিও। কাল থেকে আমরা শুধু শুকনো রুটি খেয়ে আছি। আজ সন্ধ্যায় খাবার পাবি। কিন্তু মনে রাখবি [মিউজিক] এসব কথা তোর বাবাকে একদম বলবি না। নইলে একদিনও এই বাড়িতে থাকতে দেবো না। ভালো করেই চিনিস তোরা আমাকে। >> ততক্ষণে বাইরে ঘরার গাড়ির আওয়াজ এল। সৎমা দৌড়ে বাইরে গেল। আকরাম খান তিন বছর পর বাড়ি ফিরেছে। [মিউজিক] >> আরে কেমন আছো তুমি? আর আমার মেয়েরা কেমন আছে? তাদের তো দেখছি না। সৎমা মুখ ভেঙেছে বলল, তওবা গো তওবা। এসেই নিজের মেয়েদের কথা মনে পড়ে গেল তোমার। আমার তো একটুও পরোয়া করলে না। আমি তো দিন-রাত খেটে এই বাড়ির চাকরানি হয়ে গেছি। এই বাড়িতে আমার একটা [মিউজিক] স্বামী ছিল সেও এসেই নিজের মেয়েদের কথা জিজ্ঞেস করছে। আমার তো অবস্থা খারাপ। তোমার মেয়েদের আর কি হবে? একদম ঠিকঠাক আছে। >> আরে না না এমন কথা কেন ভাবছো? বাড়িতে ওরাও তো আছে তাই ওদের কথা জিজ্ঞেস করা তো স্বাভাবিক। >> হ্যাঁ সব জানি। থাক বাদ দাও। তোমার মেয়েরা তো সারাদিন খেলতে বেরিয়ে যায় আর তাদের মুখের ভাষা তওবা তওবা তোমার বড় মেয়ে তো আমাকে কথাই বলতে দেয় না এত লম্বা [মিউজিক] জীব তার আর এত বেয়াদব কি আর বলব >> কি বললে তুমি আমার মেয়েরা বেয়াদব হয়ে গেছে কোথা থেকে শিখলো এসব কে এত মাথায় তুলল বাড়িতে কি চলছে আজই আমি ওদের জিজ্ঞেস করব যা জবাব দেওয়ার দিয়েই যাবে আমি এমন চালচালন সহ্য করব না [মিউজিক] >> হ্যা গো তুমি নিজেই জিজ্ঞেস করে নিও আমি কিছু জিজ্ঞেস করলেই মিথ্যা বলে [মিউজিক] না জানি মিথ্যে বলার অভ্যাস কোথা থেকে পেল আর কি লোকাবো তোমার কাছে এখন তো বাড়ি থেকে চুরিও করতে শুরু করেছে >> কি চুরি এ আমি কি শুনছি তুমি আমার মেয়েদের ঠিকমতো দেখাশোনা করোনি আমি তো ওদের তোমার কাছে রেখে দিয়েছিলাম >> আরে তুমি কি বলছ গো ওরা তো আমাকে মাই মনে করে না কিছু জিজ্ঞেস করলে যেমন কোথায় যাচ্ছিস তোরা জবাব পর্যন্ত দেয় না আর তুমি দেখবে যখন ওদের এসব অপকর্মের কথা জিজ্ঞেস করবে তখন আমাকেই মিথ্যেবাদী বলবে বাড়ির সব ব্যাপার ব্যাপারে আমার মুখেই কালো হবে। আর যখন আমি ওদের মেরে বা বকা দিয়ে এসব খারাপ [মিউজিক] কাজ ছাড়তে বলি তখন গ্রামের লোক বলে সৎমা ওদের উপর অত্যাচার করছে। এখন তুমিই বল আমি কি করব? >> আকরাম খান রাগে হাত নাড়লো। ব্যাস ব্যাস তোমাকে আর কিচছু করতে হবে না। এখন যা করার আমি নিজেই করব। আসতে দাও ওদের। ওদিকে দুই বোন জঙ্গলে গরু চড়াচ্ছিল। বড় বোন ছোট বোনকে বলল, >> সাফিয়া অনেক সন্ধ্যা হয়ে গেছে। [মিউজিক] এখন আমাদের বাড়ি যাওয়া উচিত। আব্বা যেন এতক্ষণে পৌঁছে গেছেন নিশ্চয়ই। আমি ঘাসও কেটে নিয়েছি। আম্মাকে বলেছিলাম যে আজ গরু চড়াতে আমাদের জঙ্গলে পাঠিও না। কিন্তু সে কি আমাদের কথা শোনে? >> ছোট বোন সাফিয়া চিন্তিত গলায় জিজ্ঞেস করল, >> বুবু আব্বাজানও কি আমাদের সাথে সৎ মায়ের মত ব্যবহার করবেন? আরে না না পাগল এমন কেন ভাবছিস? আমাদের মা তো সৎ মা। কিন্তু আব্বাজান তো আমাদের নিজেদের বাবা। [মিউজিক] এমন ভাবিস না। হ্যাঁ বুবু সেটা ঠিক। কিন্তু শুনেছি মা মারা গেলে বাবা যদি দ্বিতীয় বিয়ে করে সৎ মা ঘরে আনে তবে বাবাও সৎ হয়ে যায়। না আমাদের সাথে এমন হবে না। বিশ্বাস [মিউজিক] কর আজ আমাদের আব্বাজান আমাদের দেখে খুব খুশি হবেন। তুই দেখিস। >> কিন্তু সত্যি বলতে ছোট বোন সাফিয়া বড় বোনের চেয়ে বেশি বুঝদার আর বুদ্ধিমতী ছিল। দুজনেই গরু নিয়ে বাড়ির পথে রওনা হলো। বাড়িতে আকরাম খান অস্থির হয়ে পায়চারি [মিউজিক] করছিল। আসতে দাও ওদের। আমি নিজে গিয়ে কান ধরে নিয়ে আসবো। কোথায় মুখ পুড়িয়ে ঘুরছে। [মিউজিক] এতক্ষণ হয়ে গেল এখনো বাড়ি ফিরলো না। সীমা ছাড়িয়ে গেছে একদম। আসতে দাও। আজ আমি এক এক করে সব হিসাব নেব। ততক্ষণে [মিউজিক] দুই বোন গরু নিয়ে বাড়ি পৌঁছালো। আকরাম খান তাদের দেখেই রাগে জিজ্ঞেস করল। কোথায় ছিলি তোরা? তিন বছর পর আজ আমি বাড়িতে পা রাখলাম। আর এসে দেখি তোরা বাড়িতেই নেই। এই কি শিষ্টাচার শিখেছিস? বাবা ফিরেছে আর তোদের কোন খবর নেই। আজ তোর সীমা ছাড়িয়ে গেলি। এখন এসেই তোদের সব অপকর্মের হিসাব নিতে হবে। >> আব্বাজান আমরা তো আম্মার কথাতেই গরু চড়াতে জঙ্গলে গিয়েছিলাম। নইলে আমরা কখনো বাড়ির বাইরে যাই না। [মিউজিক] >> তাহলে তোমাদের আম্মা কেন আমাকে এই কথা বলল না? সৎ মাস সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলো >> তওবা তওবা। কত বড় মিথ্যেবাদী এই মেয়েরা। তওবা তওবা। আমি তো তোমাকে আগেই বলেছিলাম যে বাড়ির কাছে কত ঘাস। আর এরা অকারণে [মিউজিক] গরু নিয়ে জঙ্গলে চলে গেল। আজকাল তো আমি নিজেই রোজ গরু চড়াতে যাই। কিন্তু আজ তোমাকে দেখানোর জন্য এরা গরু নিয়ে জঙ্গলে চলে গেল। আব্বাজান আম্মা মিথ্যে বলছেন। আম্মা আপনি এমন কেন বলছেন? আব্বাজানকে সত্যিটা বলে দিন না। [মিউজিক] আমরা তো আজ পর্যন্ত কখনো আম্মার অনুমতি ছাড়া বাড়ির বাইরে পাও রাখিনি। তাহলে আপনি এমন কেন বলছেন আম্মা? >> আকরাম খান কড়াভাবে হাত তুলল। ব্যাস ব্যাস চুপ কর তোরা সবাই। এখন যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আমি নিজেই নেব। তোরা দুজন [মিউজিক] এখন নিজেদের ঘরে যা আর সকালে তৈরি থাকিস। আমি আমার মেয়েদের ঘরাতে নিয়ে যাব। আর কাল আমরা তোদের ফুপির বাড়ি যাব। >> ঠিক আছে। সত্যি আব্বাজান আব্বাজান আপনি কত ভালো। >> এই কথা শুনে আয়েশা আর সাফিয়া দুই বোন খুব খুশি হলো এবং সকালের অপেক্ষা করতে লাগল। এদিকে সৎমা চিন্তায় পড়ে নিজেই নিজের সাথে ফিসফিস করতে লাগল। >> আরে মনে হচ্ছে আমার স্বামীর আমার উপর সন্দেহ হয়েছে। আর এই মশাগুলো কিছু ভাবতেই দিচ্ছে না। আরে কিছু তো ভাবো। সকালে ওঠার আগে কিছু তো একটা ভাবতে হবে। তার ভয় ছিল যে তার স্বামী হয়তো আর তার কথা বিশ্বাস করছে না। তাই তো মেয়েদের ঘোরাতে নিয়ে যাচ্ছে। এই চিন্তায় সে সারারাত ঘুমাতে পারল না। সকাল হতেই দুই বোন তৈরি হয়ে তাদের বাবার কাছে চলে গেল। আর ওদিকে সারারাত না ঘুমানোর কারণে [মিউজিক] সকালে সৎ মায়ের চোখ লেগে গেল। যার ফলে সে জানতেই পারল না তার স্বামী কখন মেয়েদের নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেছে। >> আব্বাজান আমরা দুজনেই ফুপির বাড়ি যাওয়ার জন্য তৈরি। আমরা আম্মাকে বলে বের হই। >> না না, তোমাদের আম্মা ঘুমাচ্ছে। তাকে এখন জাগানো ঠিক হবে না। চলো আমি তোমাদের জন্য শহর থেকে কিছু কাপড় এনেছিলাম। ওগুলোও সাথে নিয়ে চলো। তোমরা ফুপির বাড়ি কিছুদিন থাকবে কাজে লাগবে। [মিউজিক] >> ঠিক আছে। হ্যাঁ আব্বাজান এটাই ভালো হবে। চলুন। আপনিও তো আমাদের সাথে ফুপির বাড়ি থাকবেন তাই না? >> আমিও তোমাদের সাথে ফুপির বাড়ি কিছুদিন থাকবো। চলো এখন অনেক কথা হলো। দেরি হয়ে গেলে আমরা পৌঁছাতে [মিউজিক] পারবো না। >> এই বলে আকরাম খান মেয়েদের নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ল। কে জানে আকরাম খানের মনে কি চলছে হাঁটতে হাঁটতে তারা [মিউজিক] বাড়ি থেকে অনেক দূরে চলে এলো জঙ্গলের পথে আয়েশা চিন্তিত হয়ে জিজ্ঞেস করল >> আব্বাজান আমরা কোথায় যাচ্ছি এদিকে তো ফুপির বাড়িও নেই আমরা তো বাড়ি থেকে অনেক দূরে চলে এসেছি আমার খুব ভয় লাগছে আসলে আমরা যাচ্ছি কোথায় >> আরে পাগলী [মিউজিক] যখন তোমার বাবা তোমার সাথে আছে তখন ভয়ের কি আছে তোমরা দুজন দাঁড়াও আর একটা কাজ করো এই আশেপাশে দেখো এখানে কত বড় ইয়ের ঝোপ আর দেখো কত বড়ই ঘরে এই ঝোপগুলোতে দেখো মা আমি খুব ক্লান্ত হয়ে গেছি আমি এখানে বসছি তোমরা দুজন আমার জন্য বড়ই কুড়িয়ে আনো যতক্ষণ না আমি নিজে ডাকি তোমরা বড়ই কুড়াতে থাকবে ঠিক আছে সাফিয়া আশঙ্কা [মিউজিক] নিয়ে বলল >> কিন্তু আব্বাজান সন্ধ্যা হয়ে আসছে যদি আমরা এখানে আর কিছুক্ষণ থাকি তবে রাত হয়ে যাবে আর আমরা জঙ্গলে পথ হারিয়ে ফেলবো >> বাবার কথা মেনে দুই মেয়ে বরুই কুড়াতে কুড়াতে এগিয়ে গেল সাফিয়ার একটু সন্দেহ তো হচ্ছিল কিন্তু তবুও বাবার কথায় সে চুপ থাকলো কিছু বলল এদিকে মেয়েরা চলে যেতেই তাদের বাবা হাতে ধরা লাঠিটা মাটিতে পুতে দিল এবং নিজের টুপি খুলে তার উপর রেখে দিল। তারপর সে এদিক ওদিক তাকাতে লাগল। হঠাৎ তার নজর এক বানরের উপর পড়ল। >> আরে আরে এতো দারুন উপায়। এখনই বানরই আমার কাজ করবে। কিন্তু তাকে একটু লোভ দেখাতে হবে। কিসের লোভ [মিউজিক] দিই তাকে? হ্যাঁ। বানরের প্রিয় খাবার কলা। এটাই কাজে আসবে। আকরাম খান তার টুপিটা বানরটিকে পড়ালো এবং তাকে কলা দিতে দিতে নিজে বাড়ির দিকে রওনা দিল। বানর একটা করে কলা খাচ্ছিল আর ডাকছিল >> কুড়াও মেয়েরা বাপ দাঁড়িয়ে আছে কুড়াও মেয়েরা বাপ দাঁড়িয়ে আছে >> দেখ সাফিয়া আব্বাজানের গলা শোনা যাচ্ছে তিনি আমাদের [মিউজিক] আরো বুড়োই কুড়াতে বলছেন চলো যতক্ষণ আব্বাজান বলছেন আমরা ততক্ষণ কুড়াতে থাকি >> দুই বোন অনেকক্ষণ ভরে বুড়োই কুড়াতে থাকলো আর ওদিকে বানরও ডাকতে থাকলো যখন বানর শেষ কলাটা খেয়ে ফেলল তখন একটা কলা নিচে পড়ে গেল বানর একদম চুপ হয়ে গেল এবার মেয়েরা খেয়াল করল যে আব্বাজানের গলা আর শোনা শোন [মিউজিক] সাফিয়া আব্বাজানের গলা আর শোনা যাচ্ছে না। মনে হয় তিনি আমাদের ফিরে যেতে বলছেন। চলো এবার আব্বাজানের কাছে যাই। অনেক দেরি হয়ে গেছে। >> হ্যাঁ অনেক দেরি হয়ে গেছে। এখন তো রাত হয়ে আসছে। চলো চলো ফিরে যাই। >> দুই বোন দৌড়ে সেই জায়গায় পৌঁছালো যেখানে গাছের নিচে তাদের বাবা বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। সেখানে গিয়ে তারা তাদের বাবার জায়গায় একটা বানরকে বসে থাকতে দেখল। বানরকে কথা বলতে দেখে তারা সবটা বুঝে গেল। কুড়াও মেয়েরা বাপ দাঁড়িয়ে আছে। >> আয়েশা আপা, তুমি ঠিকই বলেছিলে। আমাদের আব্বাজান আমাদের এতদূরে জঙ্গলে শুধু ফেলে যেতে এসেছিলেন এবং তিনি আমাদের ফেলে চলে গেছেন। এখন আমরা এই জঙ্গলে কি করব? কোথায় যাব সাফিয়া? [মিউজিক] আমার তো আগেই সন্দেহ হয়েছিল। কিন্তু এখন কেঁদো না। কেঁদে তো আর আমরা এই জঙ্গল থেকে বেরোতে পারবো না। [মিউজিক] এখন আমাদের নিজেদের সাহায্য নিজেদেরই করতে হবে। চলো এখান থেকে আজ রাত কাটানোর কোন জায়গা খুঁজি। কোন রাজপুত্র তো আর আসবে না আমাদের মহলে নিয়ে যেতে। এখন চলো নিজেরাই কিছু খুঁজি। >> দুই বোন হাঁটতে হাঁটতে এক কুড়ে ঘরের কাছে পৌঁছালো। যা দেখে তারা অবাক হয়ে গেল। >> আরে এখানে চুলাও আছে। মনে হয় এখানে কেউ থাকে। ভেতরে গিয়ে দেখে নি। কি বলিস? >> আরে [মিউজিক] এভাবে ভেতরে যাওয়া ঠিক হবে না। এমন না হয় যে অন্য কোন বিপদে পড়ে যাই। আমার তো খুব ভয় লাগছে। কিন্তু সত্যি কি আমরা এই ঘন জঙ্গলে সারারাত বাইরে কাটাবো সাফিয়া? [মিউজিক] আমার তো খুব ভয় লাগছে চলো না ভেতরে গিয়ে দেখি হয়তো থাকার [মিউজিক] জন্য কোন ছোট ছাদ পেয়ে যাব কে জানে হয়তো আমাদের জন্য কোন পথও বেরিয়ে আসবে যদি থাকার জন্য কিছু না পাই তবে এই জঙ্গলের ভয়ঙ্কর জানোয়াররা আমাদের ছিড়ে খেয়েও ফেলতে পারে আপা তুমি ঠিকই বলছ ভয় তো [মিউজিক] খুব লাগছে কিন্তু একটু ঝুঁকি তো নিতেই হবে নইলে আমরা সারারাত এই অন্ধকার জঙ্গলেই ঘুরপাক খাবো চলো আপা সাহস করে গিয়ে দেখেই নি হয়তো ভেতরে আমরা কোন আশ্রয় পেয়ে যাবো এই বলে দুই বোন সাহস করে ভেতরে গেল। সেখানে পৌঁছে তারা দেখল যে কুড়ে ঘরের ভেতরে কেউ নেই। এটা দেখে তারা খুশি হলো এবং রাতটা কুড়ে ঘরেই কাটালো এবং সকালের অপেক্ষা করতে লাগল। এভাবেই সময় কাটতে লাগল। দুই বোন জঙ্গল থেকে ফল খেত এবং সেই ফল নিয়ে বাজারে যেত। আর যা আয় হতো তা দিয়ে নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে আনতো এবং রাত হলেই কুড়ে ঘরে ফিরে আসতো। তাদের জীবন এভাবেই চলতে থাকলো। আর [মিউজিক] দেখতে দেখতে কয়েক বছর কেটে গেল। এখন দুই মেয়েই বড় হয়ে গেছে এবং দেখতে এত সুন্দরী হয়েছে যে যেই তাদের দেখতো শুধু তাকিয়েই থাকতো >> আপা আজ আমি জঙ্গলের একটু দূরে যাচ্ছি কিছু তাজা ফল আনবো যাতে বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায় আমি আসা পর্যন্ত তুমি রান্না করে রেখো ঠিক আছে আপা কিন্তু আয়েশা আপা আমাকেও আজ বাজারে যেতে হতো আর ফেরার পথে বাড়ির রেশনও আনতে হতো আমি কালই কিছু ফল পেড়ে রেখেছিলাম ওগুলো নষ্ট হয়ে যাবে আজ বাজারে যাওয়া জরুরি আপা [মিউজিক] আমি মাঝে মাঝে একটা কথা ভাবি আমার তো তুমি ছাড়া আর কেউ নেই যখন আমি বাড়ি আসি আর তুমি ঘরে থাকো না তখন আমি খুব ভয় পেয়ে যাই আমি [মিউজিক] বাড়ির চারপাশে তোমাকে খুঁজতে শুরু করি আমি তোমাকে হারাতে খুব ভয় পাই আরে এমন কেন ভাবিস আমারও তো তুই ছাড়া আর কেউ নেই আমি তোকে ছেড়ে কোথায় যাব বলতো আর যদি কখনো কোথাও দূরে যেতেও হয় তবে তোকে বলেই যাব কথা দিলাম আর যদি কখনো বলতে না পারি আর কোথাও চলে যাই যদিও এমন কখনো হবে না কিন্তু যদি কখনো এমন হয়ে যায় তবে আমি তোর জন্য কোন চিহ্ন রেখে যাব। কিন্তু চিহ্ন কি রাখবো? এমন কিছু চিহ্ন যা আমাকে তোর কাছে পৌঁছে দিতে পারে। এমন কিছু ভাব তো একটু। [মিউজিক] যাক এটা নিয়ে পরে কথা হবে। ঠিক আছে। এখন আমার খুব দেরি হচ্ছে। আমি বাজারে যাই। তুই কালের জন্য ফল পেড়ে নিয়ে আসিস। ঠিক আছে। >> এই বলে আয়েশা বাজারের দিকে চলে গেল। আর সাফিয়া ঘরের কাজ করতে লাগল। আয়েশা এত সুন্দরী ছিল যে যখন সে বাজারে যেত তখন রাস্তায় একটা চাদর দিয়ে নিজের মুখ ঢেকে রাখতো। যাতে তার উপর কারো নজর না পড়ে ঘটনাক্রমে সেই রাজ্যের বাদশাহও জঙ্গলের শিকারের জন্য বেরিয়ে ছিলেন বাদশাহ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শিকারের খোঁজে জঙ্গলে ঘুরছিলেন হঠাৎ বাদশার নজর এক খরগোশের উপর পড়ল উজির সাহেব সকাল থেকে শিকারের জন্য বেরিয়েছি খিদে তো জান বেরিয়ে যাচ্ছে এই শিকার হাত ছাড়া হওয়া চাই না আমি আপনাকে [মিউজিক] বলে রাখছি >> জি জি হুজুর নিশ্চিন্ত থাকুন আমি আজ এই খরগোশ শিকার করেই ছাড়বো আপনি শুধু দেখতে থাকুন >> এই বলে উজির তীর চালাতে শুরু করলেন। আর অনেকবার চেষ্টার পর অবশেষে একটা তীর গিয়ে খরগোশের গায়ে লাগলো। বাহ উজির সাহেব বাহ আপনি তো কামাল করে দিলেন। শেষমেষ আপনি এই খরগোশ শিকার করেই ফেললেন। এখন জলদি যান। এটা তুলে আনুন এবং রান্নার ব্যবস্থা করুন। যত দ্রুত সম্ভব আমি এখানেই এই গাছের নিচে আপনার অপেক্ষা করছি। জি জি হুজুর। যা আপনার আদেশ। আমি এক্ষনি রান্নার ব্যবস্থা করছি। উজির ডানে বায়ে না তাকিয়ে খরগোশটা তুললেন এবং তারপর জঙ্গলে আগুনের খোঁজে খুরতে লাগলেন। >> আরে হুজুরও না এখানে জঙ্গলে আগুন কোথা থেকে পাবো? কোথা থেকে রাধবো আমি এই খরগোশ? এতো অসম্ভব। >> তখনই উজির দেখলেন যে এক কুড়ে ঘরের পাশ থেকে ধোঁয়া বেরচ্ছে। >> আরে এত সুন্দরী মেয়ে আর জঙ্গলে মনে হচ্ছে রান্না করছে। চলো [মিউজিক] খরগোশটাও এখানেই রেধে নিই। কিন্তু এই মেয়ে জঙ্গলে এখানে একা কি করছে। ও কি এখানেই থাকে? চলো গিয়ে ওকেই জিজ্ঞেস করি। সাফিয়া দ্রুত ঘুরে বলল, >> আপনি কে এখানে? কি করছেন? আর আমাকে চুপচাপ দেখছিলেন নাকি? [মিউজিক] এগোবেন না। নইলে আমি আপনাকে টুকরো টুকরো করে ফেলবো। আর এটা সাবধান বাণী নয় মনে রাখবেন। >> আপনি আমাকে ভুল বুঝছেন। আমি এখানে আপনার ক্ষতি করতে আসেনি। আসলে ব্যাপারটা হলো আমি একটা খরগোশ শিকার করেছি। তো ওটা রান্না করার জন্য আমার আগুন দরকার ছিল। তাই এখানে চলে এসেছি। আচ্ছা [মিউজিক] ঠিক আছে আপনি রেঁধে নিন এবং রেধে জলদি এখান থেকে চলে যান। >> সাফিয়া এত সুন্দরী ছিল যে যখন উজির খরগোশটা চুলায় চড়ালেন তখন তার মনোযোগ সাফিয়ার সৌন্দর্যে হারিয়ে গেল। এতটাই হারিয়ে গেল যে খরগোশ পুড়ে কয়লা হয়ে গেল আর উজির টেরও পেলেন না। সাফিয়া রেগে বলল >> হ্যাঁ এটা তো সব পুড়ে গেছে। আপনার মনোযোগ কোথায়? এখন এই পুরা খরগোশ তুলুন আর এখান থেকে যান। >> হায় এ কি হলো? বাদশাহ নামদার তো আজ আমাকে মেরেই ফেলবেন। >> দেখুন যান এখান থেকে। আপনি ইচ্ছে করেই নিজের খরগোশ পুড়িয়েছেন [মিউজিক] যাতে আমি আপনাকে কিছু খেতে দিই। আর এখানে থাকতে বলি কিন্তু এমন হবে না। আপনি এখান থেকে যান নইলে আমি আমার কুড়াল নিয়ে আসব। >> এসব দেখে উজির বাদশার ভয়ে কাঁপতে লাগলেন। এদিকে বাদশাহ নামদারও খরগোশের অপেক্ষায় ছিলেন। বাদশার খুব খিদে পেয়েছিল। উজির সাহেব আপনি একটা খরগোশ রানতে গিয়েছিলেন না। 10 টা রেধে আনছেন? এত দেরি করলেন কেন? খুব খিদে পেয়েছে [মিউজিক] আমার। এখন দিন কোথায় খরগোশ? উজির হাঁটু গেড়ে বললেন, হুজুর আমাকে মাফ করে দিন হুজুর। আমার দোষ ছিল না। জেনে বা অজানতে আমার দ্বারা এমন হয়ে গেছে। সে এত সুন্দরী ছিল যে আমি তাকে দেখে দুনিয়ায় ভুলে গিয়েছিলাম। কে এত সুন্দরী ছিল? কার কথা বলছো? আমাকে খুলে বল। আর খরগোশ কোথায়? হুজুর সে এখানে এক কুড়ে খুলে [মিউজিক] থাকে। হুজুর আপনি তাকে দেখলে খরগোশ কি সবকিছুই ভুলে যাবেন? চলুন হুজুর আসুন আমি আপনাকে সেই কুড়েঘরেই নিয়ে যাই। দেখলেই বুঝতে পারবেন কেন আমি দুনিয়া ভুলে বসেছিলাম। আচ্ছা এই ব্যাপার। [মিউজিক] আমাদের রানীরা এই পুরো জাহানের সবচেয়ে সুন্দরী। আর তুমি বলছো তুমি এক সুন্দরী দাসীকে দেখেছো যাকে দেখে তুমি সব ভুলে বসেছো। চলো আমিও গিয়ে দেখি। কেমন সৌন্দর্য দেখেছো তুমি। [মিউজিক] এখন বাদশাহ আর উজির দুজনেই সেই কুনে ঘরের দিকে এগোতে লাগলেন। আয়েশা সেখানেই বসে রান্না করছিল। বাদশার নজর যখন আয়েশার উপর পড়ল তখন বাদশাহ তার হুশ হারিয়ে ফেললেন। তিনি আজ পর্যন্ত এমন সৌন্দর্য দেখেননি। তখন উজির বাদশাকে জিজ্ঞেস করলেন >> কি হুজুর? বলেছিলাম না আপনাকে। এমন সৌন্দর্য আপনি আজ পর্যন্ত দেখেননি। তো কি তৃতীয় রানীর ব্যবস্থা করা হবে? কি বলেন? >> না না উজির সাহেব নিজের রানীকে এভাবে নিয়ে যাওয়া ঠিক নয়। আমরা আমাদের সুন্দরী রানীকে পালকিতে করে নিয়ে যাব। এখন চলো এখান থেকে। কাল আমরা আমাদের রানীকে নিতে পালকি নিয়ে আসবো। এভাবে বাদশাহ [মিউজিক] আর উজির দুজনেই সেখান থেকে চলে গেলেন। আয়েশা টেরও পেল না যে কেউ তাকে লুকিয়ে দেখছিল। [মিউজিক] পরের দিন সকালে। দুই বোন নিজেদের মধ্যে কথা বলতে লাগল। আয়েশা সাফিয়াকে বলল, >> শোন তো কাল [মিউজিক] এক লোক এসেছিল একটা খরগোশ নিয়ে। পাগল এমন ছিল যে তার মনোযোগ এতই সরে গিয়েছিল যে পুরো খরগোশটাই পুড়ে গেল। বেচারা ওই পোড়া খরগোশই হয়তো খেয়েছে। আপা তুমিও না। [মিউজিক] আচ্ছা শোন আপা আমি আজ জঙ্গলে যাচ্ছি ফল পাড়তে। সন্ধে পর্যন্ত [মিউজিক] চলে আসবো। কুড়েঘরের দরজা ভালো করে বন্ধ রেখো। ঠিক আছে। কেউ এলেও দরজা খুলো না। >> এই বলে সাফিয়া সেখান থেকে চলে গেল। সাফিয়া চলে যাওয়ার পর এখন আয়েশা বাড়িতে একা ছিল। তখনই আয়েশা ঘোড়ার খুরের শব্দ শুনতে পেল। দেখার জন্য আয়েশা কুড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এল। তখন আয়েশা যা দেখল তা দেখে অবাক হয়ে গেল। আয়েশার বরাত তার দরজা পর্যন্ত চলে এসেছে। এটা দেখে আয়েশা সব বুঝে গেল। তখনই উজির তার কাছে এল [মিউজিক] এবং বলল, আমি রাজগড়ের বাদশা আসাদ খানের উজির। আমাদের রাজ্যের বাদশা আপনাকে বিয়ে করতে চান। আপনি কি এই বিয়ে কবুল করছেন? আয়েশা যখন এটা শুনল তখন তার বিশ্বাসই হলো না যে মেয়েকে তার বাবা আবর্জনা ভেবে জঙ্গলে ফেলে দিয়েছিল [মিউজিক] সেই মেয়েটির বিয়ে বাদশার সাথে হতে যাচ্ছে। এটা ভেবে আয়েশার চোখ ভরে এল এবং সে সময় নষ্ট না করে সাথে সাথে হ্যাঁ করে দিল। >> আমার এই বিয়ে কবুল। আমি এক্ষুনি ভেতর থেকে আমার পোটলা নিয়ে আসছি। আয়েশা কুড়ে ঘরের ভেতরে গেল এবং তারপর মুঠো ভরে সরিষার বীজ [মিউজিক] নিয়ে এলো এবং যে পথে যেতে লাগলো বীজ ফেলতে ফেলতে গেল। এখন আয়েশা এই কুড়ে [মিউজিক] ঘর থেকে চলে গেছে। কিছুক্ষণ পর সাফিয়াও সেখানে চলে এলো। [মিউজিক] কিন্তু যখন সাফিয়া কুড়ে ঘরে ঢুকলো তখন সেখানে কেউ ছিল না। সাফিয়া সব জায়গায় তার বোনকে খুঁজতে লাগলো। কিন্তু আজ তার বোন সেখান থেকে চলে গেছে। >> আপা কোথায় চলে গেল? আমার ভয় ছিল। আর সেটাই হল। আপা এখন কোথায়? আমাকে ছেড়ে কোথায় চলে গেল? আপা কোথায় তুমি আপা? >> এভাবে আয়েশা চলে যাওয়ার দুইদিন কেটে গেল। সে মহলের জাগজমকে নিজের বোনকে ভুলেই গেল। ওদিকে [মিউজিক] দুইদিন ধরে সাফিয়া তার বোনের অপেক্ষা করতে থাকলো। রাতে খুব জোরে বৃষ্টি হলো। কিন্তু যখন সকাল হলো তখন দৃশ্যই বদলে গেল। যখন সাফিয়া সকালে উঠলো তখন সে দেখল যে সরিষা গাছের এক লম্বা শাড়ি তৈরি হয়েছে তা দেখে সে বুঝে গেল >> আমার বোন আমাকে এখানে ফেলে যায়নি বরং আমার জন্য চিহ্ন রেখে গেছে যাতে আমি ওই ফুলগুলোর সাহায্যে তোমার কাছে পৌঁছাতে পারি হে উপরবেলা আমাকে আমার বোনের সাথে মিলিয়ে দাও >> এই বলে সাফিয়া সেই ফুলে তৈরি পথে হাঁটতে লাগলো হাঁটতে হাঁটতে সে অনেক দূরে চলে এলো তখন সে দেখল যে এই [মিউজিক] পথই এক বাদশার মহলের দিকে যাচ্ছে যেই সাফিয়া মহলের ফটোকে পৌঁছাল প্রহরীরা তাকে আটকালো। কিন্তু [মিউজিক] ততক্ষণে আয়েশা উপরের বারান্দা থেকে তার বোনকে দেখে ফেলেছে। সে দৌড়ে নিচে নেমে এল এবং সাফিয়াকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে [মিউজিক] পড়ল। >> সাফিয়া আমি জানতাম তুই ঠিক আমার দেওয়া চিহ্ন ধরে চলে আসবি। বোন আমার তোকে ছাড়া আমি এই রাজপ্রাসাদেও একা ছিলাম। বাদশাহ সব ঘটনা শুনে সাফিয়াকেও রাজকীয় সম্মান দিলেন। সাফিয়ার বুদ্ধিমত্তা আর সাহসের কথা শুনে উজির মুগ্ধ হয়ে গেলেন এবং বাদশার অনুমতি নিয়ে সাফিয়াকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন। [মিউজিক] ধুমধাম করে উজির ও সাফিয়ার বিয়ে হল। দুই বোন যারা একসময় জঙ্গলে না খেয়ে দিন কাটাতো। আজ তারা রাজ্যের রানী ও উজির পত্নী। কিন্তু গল্পের এখানেই শেষ নয়। ওদিকে গ্রামে সেই সৎ মা আর বাবা আকরামণ খানের উপর আল্লাহর গজব নেমে এল। [মিউজিক] দুই মেয়েকে জঙ্গলে ফেলে আসার পর থেকেই আকরাম খানের ব্যবসায় ধস নামতে শুরু করে। ঘরে অশান্তি আর অভাব অনটন দেখা দেয়। সৎ মায়ের মেজাজ আর দুর্ব্যবহারের কারণে গ্রামের মানুষও তাদের এক ঘরে করে দেয়। শেষমেষ তাদের ঘর-বাড়ি সব বিক্রি করে পথে বসার উপক্রম হলো। পেটের দায়ে তারা দুজনে ভিক্ষা করার জন্য শহরে এল। ঘুরতে [মিউজিক] ঘুরতে তারা শুনল এই রাজ্যের রানী খুব দয়ালু। তিনি নাকি গরীব দুঃখীদের নিজ হাতে দান করেন। এই শুনে জীর্ণশীর্ণ পোশাকে আকরাম খান আর তার স্ত্রী রাজপ্রাসাদের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। রানী আয়েশা আর তার বোন সাফিয়া তখন দান খয়রাত করছিল। হঠাৎ আয়েশার নজর পড়লো ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা দুই বৃদ্ধ বৃদ্ধার ওপর। তাদের চেহারা খুব চেনা চেনা লাগলো। আয়েশা সাফিয়াকে ইশারা করে বলল, >> সাফিয়া দেখ তো ওদের চিনতে পারিস কিনা? >> সাফিয়া [মিউজিক] কাছে গিয়ে চমকে উঠল। এতো তাদের সেই বাবা আর সৎ মা। সাফিয়া আয়েশাকে বলল, >> আপা এরা তো আমাদের সেই বাবা আর সৎ মা যারা আমাদের আবর্জনা মনে করে জঙ্গলে ফেলে এসেছিল। >> আয়েশা তখন প্রহরীদের দিয়ে ভেতরে ডাকল। আকরাম হান আর সৎমা ভয়ে কাঁপছিল। তারা রানীকে চিনতে পারেনি। আয়েশা [মিউজিক] সিংহাসন থেকে নেমে বলল, >> হে পথিক, তোমরা কি তোমাদের ফেলে আসা অতীতকে চিনতে পারছো? ভালো করে তাকিয়ে দেখো। আমরা সেই দুই মেয়ে যাদের তোমরা জঙ্গলের হিংস্র পশুর মুখে ফেলে এসেছিলে। >> আকরাম খান মাথা তুলে ভালো করে তাকালো এবং লজ্জায় তার মাথা নিচু হয়ে গেল। সৎমা ভয়ে মাটিতে বসে পড়ল। আকরাম খান কেঁদে বলল, মারে লোভে পড়ে আর তোর সৎ মায়ের বুদ্ধিতে আমি অন্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। নিজের কলিজার টুকরাদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছিলাম। আজ আমার এই ভিখারীর হাল তারই শাস্তি। আমাকে মাফ করে দে মা। সৎমাও তাদের পায়ে পড়ে ক্ষমা চাইতে লাগলো। আয়েশা আর সাফিয়া একে অপরের দিকে তাকালো। তারা ছোটবেলা থেকে অনেক কষ্ট সহ্য করেছে। কিন্তু তাদের মন ছিল বিশাল। [মিউজিক] আয়েশা বলল, >> বাবা আমরা তোমাদের মত নিষ্ঠুর হতে পারবো না। আল্লাহ তোমাদের শাস্তি দিয়েছেন। আবার [মিউজিক] তিনিই তোমাদের আমাদের কাছে ফিরিয়ে এনেছেন। আমরা তোমাদের মাফ করে দিলাম। কারণ তোমরা আমাদের ফেলে না দিলে আজ আমরা এই রাজপ্রাসাদের সম্মান পেতাম না। হয়তো সেই কুড়েঘরেই জীবন কেটে যেত। >> এরপর আয়েশা ও সাফিয়া তাদের বাবা ও সৎ মাকে প্রাসাদের কাছে একটি ভালো থাকার ব্যবস্থা করে দিল। আকরাম খান আর তার স্ত্রী বাকি জীবন নিজেদের ভুলের জন্য অনুশোচনা করে এবং মেয়েদের জন্য দোয়া করে কাটিয়ে দিল। গ্রামের মানুষ জানলো যাকে [মিউজিক] তারা একদিন বোঝা মনে করেছিল তারাই আজ রাজ্যের ভাগ্যবতী। সত্যি আল্লাহ যাকে সম্মান দিতে চান [মিউজিক] জঙ্গলের কাঁটা গাছ থেকেও তাকে রাজ সিংহাসনে বসাতে পারেন। এতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের গল্প শোনার জন্য আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ। গল্পটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে বেল [মিউজিক] আইকনটি চাপুন। আর ভিডিওটি কোন জায়গা থেকে দেখছেন কমেন্টে জানান। আপনাদের মতামত আমাদের জন্য অনেক মূল্যবান।

Need a transcript for another video?

Get free YouTube transcripts with timestamps, translation, and download options.

Transcript content is sourced from YouTube's auto-generated captions or AI transcription. All video content belongs to the original creators. Terms of Service · DMCA Contact

সৎ মায়ের অত্যাচার ও দুই বোনের ভাগ্য | শিক্ষণীয় বাংলা গল্...