৪০০০ সৈন্য ঘোড়া নিয়ে সাগরের ওপর দিয়ে কীভাবে গেল? 🌊 Miracle of Allah

ইমানের আলো2,338 words

Full Transcript

ভাবুন তো একবার সামনে বিশাল উত্তাল সমুদ্র আর পেছনে ধেয়ে আসছে হাজার হাজার শত্রু। পালাবার কোন পথ নেই। মৃত্যু একদম নিশ্চিত। ঠিক সেই মুহূর্তে একজন সেনাপতি ঘোড়া ছুটিয়ে দিলেন সোজা গভীর সাগরের বুকে। বিজ্ঞান বলে মানুষ পানিতে ডুবে যায়। কিন্তু সেদিন প্রকৃতির সব নিয়ম ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছিল। সাগর ভাগ হয়নি। বরং পানি যেন পাথরের মত শক্ত হয়ে গিয়েছিল। 4000 সৈন্য ঘোড়া নিয়ে সমুদ্রের ওপর দিয়ে এমনভাবে হেঁটে গেল যেন তারা কোন রাজপথ দিয়ে হাঁটছে। তাদের পায়ে এক ফোঁটা পানিও লাগলো না। কে ছিলেন সেই অলৌকিক সেনাপতি যার তর্জনীর ইশারায় সমুদ্র শান্ত হয়ে যেত। আর কেন মৃত্যুর পর কবর খুরলে দেখা গেল তার লাশ গায়েব আর কবরের ভেতর থেকে ভেসে আসছে জান্নাতি সুঘ্রান। ইতিহাসের পাতায় লুকিয়ে থাকা এই রোমহর্ষক সত্যটি জানলে আপনার গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যাবে। রাসূলুল্লাহ এর ইন্তেকালের পরবর্তী সময়ের কথা। মদিনায় তখন খলিফা হিসেবে আছেন হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু। কিন্তু নবীজির ইন্তেকালের পর আরবের [মিউজিক] বিভিন্ন গোত্র ইসলাম ত্যাগ করতে শুরু করল। তারা যাকাত দিতে অস্বীকার করল। কেউ কেউ ভন্ড নবীর দাবি করে বসল। ইসলামের এক নাজুক পরিস্থিতি। [মিউজিক] এই সময় বাহরাইনের এলাকার মানুষরাও ইসলাম ত্যাগ করে বিদ্রোহ ঘোষণা করল। খালিফা আবু বকর তখন বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আলা বিন হাদ্রামী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে সেনাপতি করে 4000 মুজাহিদের একটি বাহিনী দিয়ে বাহরাইনের উদ্দেশ্যে পাঠালেন। এই বাহিনীতে বড় বড় সাহাবীরা ছিলেন তাদের উদ্দেশ্য ছিল একটাই বিদ্রোহ দমন করা এবং মানুষকে আবার সত্য দ্বীনের পথে ফিরিয়ে আনা। মুসলিম বাহিনী মদিনা থেকে রওনা হলো। তারা যখন দাহানা নামক এক বিস্তীর্ণ এবং জনমানবহীন মরুভূমিতে প্রবেশ করল তখন তাদের ওপর এক বিশাল পরীক্ষা নেমে এলো। এই মরুভূমিটি ছিল অত্যন্ত রুক্ষ এবং ভয়ানক। মাইলের পর মাইল শুধু বালি আর বালি। কোথাও এক ফোঁটা পানি নেই। কোন গাছের ছায়া নেই। কাফেলাটি যখন মরুভূমির ঠিক মাঝখানে পৌঁছলো তখন দুপুর গড়িয়ে বিকেল। সূর্য আগুনের মত তাপ ছড়াচ্ছে। সৈন্যরা ক্লান্ত। তারা বিশ্রামের জন্য উট এবং ঘোড়া থেকে নামল। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে এক অদ্ভুত এবং ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা ঘটলো। হঠাৎ করেই তাদের উটগুলো ভয় পেয়ে গেল। কোন এক অজানা কারণে হয়তো জিনের আছর বা কোন বন্য পশুর গন্ধে উটগুলো পাগলের মত ছোটাছুটি শুরু করল। মুসলিম বাহিনীর সব খাবার, সব পানি, তাবু এবং যুদ্ধের অস্ত্রশস্ত্র সব ছিল ওই উটগুলোর পিঠে। চোখের পলকে হাজার হাজার উট তাদের পিঠে থাকা সব রসদ নিয়ে মরুভূমির চারদিকে দৌড়ে পাড়িয়ে গেল। মুহূর্তের মধ্যে 4000 সৈনের এই বিশাল বাহিনী একদম নিঃস্ব হয়ে গেল। তাদের কাছে এক ফোঁটা পানি নেই। এক লোকমা খাবার নেই। এমনকি গায়ে দেওয়ার মত চাদর বা তাবুও নেই। তারা দাঁড়িয়ে আছে এক মৃত্যুপুরীর মাঝখানে। সূর্য ডুবে গেল। রাত নেমে এলো। মরুভূমির রাত যেমন ঠান্ডা তেমনি ভয়ঙ্কর। সাহাবীরা একে অপরের মুখের দিকে তাকাতে লাগলেন। সবার চোখে মুখে হতাশা। একজন আরেকজনকে ওসিয়াত করতে লাগলেন। তারা ধরেই নিলেন এটাই [মিউজিক] তাদের শেষ রাত। পানির অভাবে তাদের গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। ক্ষুধা এবং দুশ্চিন্তায় তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেন। কেউ কেউ মৃত্যুর অপেক্ষায় শুয়ে পড়লেন। সৈন্যদের এই করুণ অবস্থা দেখে সেনাপতি আলা বিন হাদ্রামি রাদিয়াল্লাহু আনহু এগিয়ে এলেন। তার ঈমান ছিল পাহাড়ের মত মজবুত। তিনি উচ্চস্বরে সবাইকে ডাকলেন। তিনি বললেন হে মানুষেরা তোমরা কেন ভয় পাচ্ছ? তোমরা কি মুসলমান নও? তোমরা কি আল্লাহর পথের পথিক নও? তোমরা কি আল্লাহর সহকারী নও? সৈন্যরা দুর্বল কন্ঠে উত্তর দিল, হ্যাঁ, আমরা আল্লাহর পথের পথিক। তখন আলা বিন হাদ্রামি রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, তবে সুসংবাদ গ্রহণ করো। কসম, [মিউজিক] আল্লাহ কিছুতেই তোমাদের ধ্বংস করবেন না। যিনি তোমাদের তার দিনের জন্য বের করেছেন তিনি এই মরুভূমিতে তোমাদের পিপাসায় মেরে ফেলবেন না। ওঠো এবং আল্লাহর কাছে চাও। রাত তখন গভীর। চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। আলা বিন হাদ্রামী রাদিয়াল্লাহু আনহু নামাজের জন্য অযু করার মত পানিও পাচ্ছিলেন না। তিনি তায়াম্মুম করলেন। তারপর তিনি কেবলামুখী হয়ে দুই হাত আকাশের দিকে তুলে দিলেন। তিনি বললেন, হে মহাজ্ঞানী, হে মহান, হে সর্বোচ্চ, হে মহান দাতা, আমরা তোমার বান্দা এবং তোমার পথেই আমরা জিহাদে নেমেছি। আমাদের পানি দাও, আমাদের বৃষ্টি দাও। তিনি যখন দোয়া করছিলেন তখন আকাশে এক টুকরো মেঘ ছিল না। লক্ষ লক্ষ তারা জলজল করছিল। কিন্তু আল্লাহর কুদরত বোঝা বর্দায়। তার দোয়া শেষ হতে না হতেই হঠাৎ কোথা থেকে একখন্ড কালো মেঘ ভেসে এলো। বাতাসের গতিপথ বদলে গেল। দেখতে দেখতে সেই মেঘ পুরো কাফেলার উপর ছড়িয়ে পড়ল এবং মুসুরুলধারে বৃষ্টি শুরু হলো। সুবহানাল্লাহ। মরুভূমির সেই শুকন বালি মুহূর্তের মধ্যে ভিজে কাদা হয়ে গেল। সৈন্যরা আনন্দে চিৎকার করে উঠলো। তারা পেট ভরে পানি পান করল। তারা গোসল করল। তাদের উটগুলো যেগুলো পালিয়ে গিয়েছিল সেই বৃষ্টির কারণে বা আল্লাহর হুকুমে সেগুলো আবার ফিরে এলো। সকালবেলা যখন সূর্য উঠলো তখন তারা দেখল তাদের সব সমস্যা মিটে গেছে। তারা পানি পেয়েছে, খাবার পেয়েছে এবং তাদের হারানো উটগুলো ফিরে [মিউজিক] পেয়েছে। এই ঘটনাটি ছিল তাদের জন্য এক বিশাল ঈমানী পরীক্ষা [মিউজিক] এবং প্রস্তুতি। আল্লাহ তাদের বুঝিয়ে দিলেন মরুভূমিতে যেমন আমি পানি দিতে পারি সামনে যা আসছে সেখানেও আমি তোমাদের রক্ষা করব। কিন্তু তারা জানতো না সামনে তাদের জন্য মরুভূমির চেয়েও বড় এক বাধা অপেক্ষা করছে। কাফেলা আবার চলতে শুরু করল। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে অবশেষে তারা বাহরাইনের উপকূলে বা সমুদ্রের তীরে এসে পৌঁছল। সেখানে পৌঁছে তারা দেখল শত্রুরা তাদের আসার খবর আগেই পেয়ে গেছে। কাফেররা তাদের সব নৌকা সব জাহাজ নিয়ে সাগরের ওপারে দারাইন নামক এক দ্বীপে পালিয়ে গেছে এবং যাওয়ার সময় তারা উপকূলের সব নৌকা ধ্বংস করে দিয়ে গেছে অথবা সাথে নিয়ে গেছে। মুসলিম বাহিনী সমুদ্রের তীরে দাঁড়িয়ে আছে। সামনে বিশাল সমুদ্র উত্তাল ঢেউ আর ওপারে দেখা যাচ্ছে শত্রুর দ্বীপ। কিন্তু সেখানে যাওয়ার কোন উপায় নেই। নৌকা নেই, জাহাজ নেই। আর পেছনের রাস্তা অনেক দূর। শত্রুরা দ্বীপের ওপর থেকে অট্টহাসি দিচ্ছে। তারা ভাবছে মুসলিমরা এখানে আটকা পড়েছে। সাগর পার হওয়া তাদের সাধ্য নয়। তারা ওখানেই না খেয়ে মরবে। সেনাপতি আলা বিন হাদ্রামী রাদিয়াল্লাহু আনহু [মিউজিক] সমুদ্রের দিকে তাকালেন। তারপর তিনি তার সৈন্যদের দিকে তাকালেন। তিনি জানতেন ফিরে যাওয়ার কোন পথ নেই। তিনি ঘোড়ার পিঠে সোজা হয়ে বসলেন। তারপর তিনি এমন এক ঘোষণা দিলেন যা পৃথিবীর কোন সেনাপতি কোনদিন দেওয়ার সাহস করেনি। তিনি বললেন, হে আল্লাহর সৈন্যরা তোমরা কি প্রস্তুত? আজ আমরা কোন নৌকা ছাড়াই আল্লাহর নাম নিয়ে এই সমুদ্র পার হব। সৈন্যরা অবাক হয়ে তাকালো। ঘোড়ার পিঠে সমুদ্র পার হওয়া এটা কি সম্ভব? সাঁতার কেটে এত বড় সাগর পাড়ি দেওয়া তো আত্মহত্যার শামিল। কিন্তু আলা বিন হাদ্রামী রাদিয়াল্লাহু আনহুর চোখে ছিল এক ঐশ্বরিক আভা। সেনাপতি আলা বিন হাদ্রামী রাদিয়াল্লাহু আনহুর সেই ঘোষণা শুনে সৈন্যদের মনে বিশ্বয় জাগলেও তাদের অন্তরে ছিল আল্লাহর উপর অগাধ বিশ্বাস। তারা দেখেছিল যেই আল্লাহ গত রাতে মরুভূমির শুকনো বালিতে বৃষ্টি নামিয়ে তাদের বাঁচিয়েছিলেন সেই আল্লাহ আজ এই সাগরের উত্তাল ঢেউ থেকেও তাদের রক্ষা করতে পারেন আলামি বিন হাদ্রামী রাদিয়াল্লাহু আনহু ঘোড়ার লাগাম শক্ত করে ধরলেন তিনি তার সঙ্গীদের দিকে তাকিয়ে বললেন তোমরা সবাই আমার সাথে এই দোয়াটি পাঠ করো ইয়া আলিমু ইয়া হালিমু ইয়া আলিয়ু ইয়া আজিমু হে সর্বজ্ঞানী হে ধৈর্যশীল হে সুউচ্চ হে মহান আমরা তার বান্দা এবং তার পথেই আমরা জিহা নেমেছি। আল্লাহর কসম তিনি আজ আমাদের অপমানিত করবেন না। হাজার হাজার সৈন্য সমস্বরে সেই দোয়াটি পাঠ করল। তাদের আওয়াজে সমুদ্রের গর্জনের শব্দও যেন ছোট হয়ে গেল। এরপর আল্লাহর নাম নিয়ে আলা বিন হাদ্রামী রাদিয়াল্লাহু আনহু তার ঘোড়াটিকে সোজা সমুদ্রের দিকে ধাবিত করলেন। ঘোড়াটি যখন প্রথম পা ফেলল তখন সবাই শ্বাস বন্ধ করে তাকিয়েছিল। সবাই ভাবছিল এই বুঝি ঘোড়াটি গভীর পানিতে তলিয়ে যাবে। কিন্তু সুবহানাল্লাহ। এক অবিশ্বাস্য দৃশ্য তাদের চোখের সামনে ভেসে উঠলো। ঘোড়ার পা যখন পানির উপর পড়লো তখন পানি সরে গেল না বা ঘোড়া ডুবলো না। মনে হলো পানির নিচেই কোন এক অদৃশ্য এবং শক্ত রাস্তা তৈরি হয়ে আছে। ঘোড়াটি পানির উপর দিয়ে দৌড়াতে শুরু করল। এই দৃশ্য দেখে বাকি 4000 সৈন্য আর এক মুহূর্ত দেরি করেনি। তারা সবাই একসাথে আল্লাহু আকবার ধ্বনি দিয়ে সাগরের বুকে ঝাঁপিয়ে [মিউজিক] পড়ল। চিন্তা করুন সেই দৃশ্যটা। 4 হাজার ঘোড়া সবার সৈন্য। উত্তাল সমুদ্রের উপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। ইতিহাসবিদরা এবং সেই যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবীরা বর্ণনা করেছেন যে আমরা যখন সমুদ্রের উপর দিয়ে যাচ্ছিলাম তখন আমাদের মনে হচ্ছিল আমরা কোন নরম বালির চড়ের উপর দিয়ে হাঁটছি। পানি আমাদের পায়ের নিচ দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু তা ছিল খুবই সামান্য। এতটাই সামান্য যে আমাদের ঘোড়ার খোড়ের নিচের অংশটুকু ছাড়া আর কিছুই ভিত ছিল না। অথচ সেই জায়গাটি ছিল দারাইন দ্বীপ এবং মূল ভূখণ্ডের মাঝখানে গভীর সমুদ্র। সাধারণত জাহাজে করে পার হতে সেখানে কয়েক ঘন্টা বা সারাদিন লেগে যেত কিন্তু আল্লাহর কুদরতে মুসলিম বাহিনীর সেই বিশাল পথ মাত্র ঘন্টাখানিকের মধ্যে পার হয়ে গেল তারা পানির ওপর দিয়ে এমনভাবে হাঁটছিল যেন তারা কোন রাজপথ দিয়ে মার্চ করে যাচ্ছে তাদের মনে কোন ভয় ছিল না কোন শঙ্কা ছিল না তাদের চারপাশে মাছেরা সাতার কাটছিল ঢেউ খেলছিল কিন্তু তাদের পায়ে পানি লাগছিল না এদিকে সমুদ্রের ওপারে দারাইন দ্বীপে কাফেররা এবং বিদ্রোহীরা নিশ্চিন্তে বসেছিল তারা জানতো মুসলিমদের কাছে নৌকা নেই তাই তারা সাগর পার হতে পারবে না। তারা দুর্গের ওপর দাঁড়িয়ে বা দূরবীন দিয়ে সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে ছিল। হঠাৎ তারা দেখল দিগন্তের ওপার থেকে কালো মতো কি যেন ধেয়ে আসছে। প্রথমে তারা ভাবলো হয়তো কোন মেঘ বা জাহাজের বহর। কিন্তু যখন মুসলিম বাহিনী কাছাকাছি এল তখন কাফেরদের চোখ কপালে উঠলো। তারা দেখল মানুষ হাজার হাজার মানুষ ঘোড়ায় চড়ে পানির উপর দিয়ে ছুটে আসছে। কোন নৌকা নেই কোন ভেলা নেই। সরাসরি পানির উপর দিয়ে। এই দৃশ্য দেখে তাদের অন্তরাত্মা কেঁপে গেল। তাদের হাত থেকে অস্ত্র পড়ে গেল। তারা চিৎকার করে বলতে লাগল এরা মানুষ নয়। এরা মানুষ হতে পারে না। এরা নিশ্চয়ই জিন বা আসমানের ফেরেশতা। নইলে সাগর পাড়ি দিয়ে এভাবে কেউ আসতে পারে না। ভয় এবং আতঙ্কে কাফেরদের মনোবল ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। তারা যুদ্ধ করার সাহস হারিয়ে ফেলল। মুসলিম বাহিনী যখন তীরে উঠল তখন তাদের শরীর ছিল শুকন। তাদের ঘোড়া গুলো ছিল তরতাজা। তারা আল্লাহু আকবার বলে দ্বীপে প্রবেশ করল। শত্রুরা এতটাই ভীত ছিল যে তারা ঠিকমত প্রতিরোধও করতে পারলো না। তারা ভাবলো যাদের জন্য সাগর পথ করে দেয় তাদের সাথে যুদ্ধ করে আমরা কিভাবে জিতবো? খুব অল্প সময়ের যুদ্ধে মুসলিমরা বিজয় লাভ করল। বাহরাইনের সেই বিদ্রোহ দমন হলো এবং আবার সেখানে ইসলামের পতাকা উড্ডিন হলো। প্রচুর গণিমতের মাল এবং সম্পদ মুসলিমদের হস্তগত হলো। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর সাহাবী এবং সেনাপতি আলা বিন হাদ্রামী রাদিয়াল্লাহু আনহু আল্লাহর দরবারে সিজদায় লুটিয়ে পড়লেন। তিনি জানতেন এই বিজয় তলোয়ারের জোরে আসেনি। এই বিজয় এসেছে একমাত্র আল্লাহর গায়েবী মদদে। কিন্তু প্রিয় দর্শক এখানে কি আলা বিন হাদ্রামী রাদিয়াল্লাহু আনহু এর অলৌকিক ঘটনাগুলোর শেষ? না বাহরাইনের সেই দ্বীপে বিজয়ের পতাকা উড্ডিন হওয়ার অনেক পরে যখন যুদ্ধের ধুলো [মিউজিক] বসে গেছে যখন মুসলিম বাহিনী অন্য এক যাত্রায় আবার মরুভূমির পথে পা [মিউজিক] রেখেছে তখন আল্লাহ তার এই প্রিয় বান্দার জন্য আরো এক বিশ্বয় লুকিয়ে রেখেছিলেন। [মিউজিক] তিনি ওই সফরে মারা গেলেন তখন সাহাবীরা মরুভূমির মধ্যে ছিলেন এবং তাদের কাছে পানি ছিল না। তারা তাকে দাফন করলেন। কিন্তু দাফনের পর যখন তারা একটু দূরে গিয়ে পানি পেলেন তখন তারা ভাবলেন আমরা আমাদের সেনাপতিকে বিনা গোসলে দাফন করেছি। চলো কবর খুরে তাকে বের করে গোসল দিয়ে আবার দাফন করি। সাহাবীরা যখন সিদ্ধান্ত নিলেন কবর খোরার তখন সূর্য মাথার উপর। তাদের মনে একটাই আফসোস ছিল এমন একজন মহান আল্লাহর ওলি যিনি আমাদের সমুদ্র পার করালেন তাকে আমরা বিনা গোসলে বিদায় দিলাম। এটা হতে পারে না। তারা হাতে কোদাল নিলেন এবং কবরের মাটি সরাতে শুরু করলেন। মাটি ছিল খুব নরম। তাই অল্প সময়েই তারা কবরের মূল জায়গায় পৌঁছে গেলেন। তাদের বুক ভরফর করছিল, চোখে ছিল শ্রদ্ধার অশ্রু। তারা কবরের উপরের তক্তা বা পাথরগুলো সরানোর প্রস্তুতি নিলেন। কিন্তু যেই মুহূর্তে তারা কবরের মুখের পাথরটি সরালেন, তখন কবরের ভেতর থেকে লাশের পচা গন্ধ বা মাটির গন্ধ বের হলো না, বরং কবরের ভেতর থেকে জান্নাতের মত এক সুমিষ্ট সুঘ্রাণ বেরিয়ে এল। যা মরুভূমির বাতাসকে মোহিত করে দিল। সাহাবীরা অবাক হয়ে ভেতরেও কি দিলেন এবং তারা যা দেখলেন তা দেখে তাদের হাত থেকে কোদাল পড়ে গেল। তারা দেখলেন কবরের ভেতরে হযরত আলা বিন হাদ্রামী রাদিয়াল্লাহু আনহুর লাশ নেই। কবরটি ফাঁকা [মিউজিক] কিন্তু না ঠিক ফাঁকা নয় কবরের ভেতরটা এক অদ্ভুত নূরের আলোয় ভরে আছে এবং সেই আলোর বিস্তার এতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত যে মনে হচ্ছে মাটির নিচে মাইলের পর মাইল জুড়ে এক অন্য জগৎ তৈরি হয়েছে তাদের দৃষ্টির সীমানা শেষ হয়ে যাচ্ছে কিন্তু সেই আলোর সীমানা শেষ হচ্ছে না সাহাবীরা ভয়ে এবং বিশ্বয়ে একে অপরের দিকে তাকাতে লাগলেন। তারা ভাবলেন, আমরা কি ভুল কবর খুরলাম? কিন্তু না এটাই তো সেই কবর। আমরা নিজের হাতেই তো কিছুক্ষণ আগে তাকে এখানে রেখেছিলাম। তখন তাদের মধ্যে একজন বিজ্ঞ সাহাবী বললেন থামো আর খুরো না মাটি চাপা দিয়ে দাও| নিশ্চয়ই আল্লাহ চান না যে তার [মিউজিক] এই প্রিয় বান্দার শরীর আমরা আর দেখি| যিনি জীব্য দশায় মানুষকে গোপন গায়েবী সাহায্য দেখিয়েছেন মৃত্যুর পরও আল্লাহ তাকে গোপন করে নিলেন। আল্লাহ তার অলিদের সম্মান এভাবেই রক্ষা করেন। তারা দ্রুত কবরটি আবার মাটি দিয়ে ঢেকে দিলেন এবং সেই সুঘ্রাণ বুকে নিয়ে বিদায় জানালেন সেই মহান সেনাপতিকে। ইতিহাসবিদরা বলেন, এটি ছিল আলা বিন হাদ্রামি রাদিয়াল্লাহু আনহু এর কারামত বা অলৌকিকত্বের চূড়ান্ত নিদর্শন। আল্লাহ হয়তো তার দেহকে ফেরেশতাদের মাধ্যমে অন্য কোথাও স্থানান্তরিত করেছিলেন যা মানুষের জ্ঞানের বাইরে। আজকের এই ভিডিওটি শেষ করার আগে আসুন আমরা একটু ভাবি 1400 বছর আগের এই ঘটনাটি কেন ইতিহাসের পাতায় শ্বরণাক্ষরে লেখা আছে। প্রথম শিক্ষা আল্লাহর উপর অটল বিশ্বাস। যখন সামনে সমুদ্র ছিল আর পেছনে শত্রু ছিল তখন আলা বিন হাদ্রামি রাদিয়াল্লাহু আনহু কোন প্রযুক্তির উপর ভরসা করেননি তিনি ভরসা করেছিলেন তার রবের উপর| তিনি বলেছিলেন ইয়া আলিমু ইয়া হালিমু তার বিশ্বাস এতই প্রবল ছিল যে তরল পানি তার জন্য শক্ত মাটি হতে বাধ্য হয়েছে আজ আমাদের জীবনেও অনেক সমুদ্র সমান বিপদ আসে কিন্তু আমাদের সেই ইয়াকিন বা বিশ্বাস নেই বলেই আমরা ডুবে যাই দ্বিতীয় শিক্ষা হালাল রিজিক ও দোয়া কবুল হযরত সাদ ইবনে আব ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর মত আলা বিন হাদ্রামী রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন মুস্তাজাবুদ দাওয়া অর্থাৎ যার দোয়া আল্লাহ ফেরত দেন না এর মূল কারণ ছিল তাদের পবিত্র জীবনযাপন আমরা যদি আমাদের জীবনকে পাপমুক্ত রাখতে পারি তবে আমাদের দোয়া ও বুলেটের মত কাজ করবে তৃতীয় শিক্ষা অসম্ভব বলে কিছু নেই মরুভূমিতে বৃষ্টি নামানো সমুদ্রের উপর দিয়ে হাঁটা এবং মৃত্যুর পর গায়েব হয়ে যাওয়া এসবই প্রমাণ করে যে আল্লাহর কুদরতের সামনে প্রকৃতির নিয়ম বা বিজ্ঞান তুচ্ছ আল্লাহ চাইলে আগুনকে বাগান বানাতে পারেন আর সাগরকে রাস্তা। প্রিয় দর্শক, বাহরাইনের সেই সমুদ্রের ঢেউ আজও হয়তো সেই ঘোড়ার খুরের শব্দ মনে রেখেছে। আলাদিন হাদ্রামী রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাদের শিখিয়ে গেছেন, ঈমান যদি খাঁটি হয়, তবে দুনিয়ার কোন বাধাই মুমিনের পথ আটকাতে পারে না। আসুন, আমরা আমাদের ঈমানকে মজবুত করি এবং সব অবস্থায় আল্লাহর উপর ভরসা রাখি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তার প্রিয় বান্দা হিসেবে কবুল করুন এবং আখেরাতে এই মহান সাহাবীদের সাথে জান্নাত নসিব করুন। আমিন ইয়া রব্বাল আলামিন। এই ঘটনাটি কোরআনের আয়াত বা সহীহ হাদিস নয় বরং এটি ইসলামের প্রাচীন ঐতিহাসিক গ্রন্থ সমূহে বর্ণিত সাহাবী আলাবিন হাদ্রামী রাদিয়াল্লাহু আনহু এর কারামতের অন্তর্ভুক্ত। এই ঘটনাটি পাওয়া যায় আততাবাকাপুল কুবরা ইবনে সাদ তারিখুত তাবারী ইমাম তাবারী আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ইবনে কাসীর সিয়ার আলামুন নুবালা ইমাম জাহাবী আহলু সুন্নাহর আলেমদের কাছে এটি সাহাবীর কারামত হিসেবে পরিচিত তো

Need a transcript for another video?

Get free YouTube transcripts with timestamps, translation, and download options.

Transcript content is sourced from YouTube's auto-generated captions or AI transcription. All video content belongs to the original creators. Terms of Service · DMCA Contact

৪০০০ সৈন্য ঘোড়া নিয়ে সাগরের ওপর দিয়ে কীভাবে গেল? 🌊 Mirac...