হুসাইন (রাঃ) এর সাথে কারবালায় সিংহটি কি করেছিল? || ইসলামিক কাহিনী || iRC

iRC 1,815 words

Full Transcript

একদিন হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু মসজিদে খুতবা দিচ্ছিলেন| সবাই মনোযোগ দিয়ে চুপচাপ তার কথা শুনছিল| হঠাৎ কিছু মানুষ আতঙ্কিত হয়ে দৌড়ে এসে মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করল তখন আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন কি হয়েছে তোমাদের উত্তরে তারা বলল হুজুর একটি সিংহ এইদিকে আসছে অনেক বড় সিংহ আমরা খুব ভয় পাচ্ছি তখন আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন ভয় পাবার কিছু নেই সে কাউকে কোন ক্ষতি করবে না এই কথার মধ্যেই সেই বিশাল সিংহতি সবার সামনে এসে দাঁড়ালো। বরং সে সোজা হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর এর কাছে এসে তার পায়ে মাথা রেখে দিল। এর কিছু পরেই সেই সিংহের পেছনে পেছনে ছোট্ট একটি সিংহ সাবকও এসে হাজির হলো। তখন সবাই বুঝে গেল যে বড় সিংহটি আসলে একটি সিংহী। অতঃপর সেই সিংহীটি বলল, হুজুর, এইটি আমার সন্তান। এর বাবা এখন আর পৃথিবীতে নেই। আমি চাই আমার সন্তান নিরাপদে বেরিয়ে উঠুক। তাই আমি একে আপনার তত্ত্বাবধানে দিতে এসেছি। তখন আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, তুমি যাও তার ব্যাপারে কোন চিন্তা করো না। আমি কথা দিচ্ছি এই সন্তান কখনো নিজেকে অসহায় ভাববে না। তখন সিংহিটি জিজ্ঞাসা করল, হুজুর কে তাকে লালন-পালন করবে? তখন আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু উত্তর দিলেন, আমার পুত্র হোসাইন তার দেখাশোনা করবে ইনশাআল্লাহ। সে অসহায়দের খুব যত্ন নেয়। তার চেয়ে ভালো আর কেউ পারবে না। এরপর হযরত হোসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ডাকা হলো। তিনি সামনে এসে সিংহ সাবকটিকে কোলে তুলে নিলেন। তার মাথায় স্নেহ ভরে হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন, আজ থেকে এর নাম হবে আবু আল হারিস এবং সে এখন থেকে আমার সাথেই থাকবে। অতঃপর সিংহীটি নিশ্চিন্ত মনে ফিরে গেল। আর সেই সিংহ সাবক হযরত হোসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুর এর সঙ্গেই বড় হতে থাকলো যেন সে নিজের ঘর পেয়ে গেছে। এভাবে দীর্ঘ সময় কেটে গেল। হযরত হোসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু এর কোলে যে সিংহ সাবকটি বড় হচ্ছিল সে এখন যুবক হয়ে উঠেছে| হযরত হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু যেখানে যেখানে যেতেন সেই সিংহটিও তার সাথেই থাকতো এখন সে তো আর শুধু একটি পশু ছিল না বরং সে ছিল হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুর সঙ্গী বন্ধু এবং বিশ্বস্ত একজন সাথী মানুষ তাকে আবু আল হারিস নামেই চিনত সে জঙ্গল থেকে এসেছিল ঠিক কিন্তু তার হৃদয় ছিল মানুষের চেয়েও কোমল এবং বুদ্ধিমান তার মধ্যে হযরত হোসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুর প্রতি গভীর ভালোবাসা গড়ে উঠে ছিল। দিন হোক কিংবা রাত সফর হোক বা বিশ্রাম। আবু আল হারিস সবসময় হযরত হোসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুর কদমের সাথে লেগে থাকতো। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে সিংহটি বিরাট বড় হয়ে যায়। এখন সে যখন কোন গলির মধ্য দিয়ে হেঁটে যেত তখন মানুষেরা কেঁপে উঠতো। তাদের হৃদরে এক অদ্ভুত রকমের ভয় জেগে উঠতো। একদিন কিছু আরব লোক হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর এর খেদমতে হাজির হয়ে আরজ করল হুজুর হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে থাকা সেই সিংহটি এখন অনেক বড় ও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে| আমরা এই ব্যাপারে সংকিত কোন একদিন যদি সে ক্ষতি করে ফেলে এই কথা শুনে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু নীরব হয়ে গেলেন তার হৃদয়ে তখন আবু আল হারিসের সেই নিষ্পাপ শৈশব ও বিশ্বস্ততার স্মৃতি জেগে উঠেছিল কিন্তু তিনি মানুষের স্বভাব এবং তাদের ভয়েও ভালো করেই বুঝতেন অতঃপর তিনি ঘরে ফিরে এলেন। তখন হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু এক কোনায় চুপচাপ বসেছিলেন। তখন আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু তার কাছে এসে কোমল কন্ঠে বললেন ব্যাটা হোসাইন এই আরবরা বলছে আবু আয়াল হারিস এখন বড় হয়ে গেছে। মানুষ তাকে দেখে ভয় পায়। ব্যাটা আমার পরামর্শ হলো তুমি এখন তাকে মুক্ত করে দাও। এই কথা শুনে ইমাম হোসাইন মাথা নিচু করে ফেললেন। তার চোখে অশ্রু চলে এলো। কিছু সময় চুপচাপ বসে থাকলেন তারপর আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর এর দিকে তাকালেন এবং হালকা একটা হাসি দিয়ে কোমল কন্ঠে বললেন জি বাবাজান যেমনটা আপনার আদেশ শুধু আজকের দিনটুকু যেতে দিন আগামীকাল থেকে আপনি তাকে আর দেখতে পাবেন না তখন আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু জিজ্ঞাসা করলেন ব্যাটা আজকের দিনেই এমন কি বিশেষ আছে তখন হোসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু বাইরে তাকিয়ে উত্তর দিলেন বাবাজান এখন সন্ধ্যা হয়ে গেছে এটা এমন সময় নয় যে কাউকে ঘর থেকে বের করে দেওয়া যায় এটা তো ছায়া দেওয়ার সময় রোদে থেকে বাঁচানোর সময় রোদে ফেলে দেওয়ার সময় নয়। তখন আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু নিজের সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। তিনি আর কোন উত্তর দিলেন না। অতঃপর রাত কেটে গেল। হযরত হোসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু জেগে উঠলেন এবং তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করলেন। অতঃপর প্রতিদিনের মত আবু আল হারিসের জন্য খাবার নিয়ে বাইরে এলেন। তখন আবু আল হারিস বিশ্বয়ের সাথে তাকিয়ে বলল, মনিব আজ এত সকালে খাবার কেন? তখন হোসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু কিছু না বলে চুপচাপ বসে পড়লেন। তারপর ধীরে ধীরে অত্যন্ত কোমলভাবে পুরো ঘটনাটি আবু আল হারিসকে জানিয়ে দিলেন। সব কথা শুনে আবু আল হারিস নিশ্চুপ হয়ে গেল তার চোখে এমন এক নীরবতা ফুটে উঠলো যা সোজা হৃদয়ে গিয়ে আঘাত করেছে। কিছু সময় পর সে মাথা নিচু করে বলল, ঠিক আছে মুনিব আমি চলে যাব। তবে আমার একটি শর্ত আছে। তখন হোসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু জিজ্ঞাসা করলেন, কি শর্ত আবু আল হারিস? তখন আবু আল হারিস মাথা তুলে বলল মুনিব আমাকে জীবনে আরো একবার আপনার সাথে সাক্ষাতের অনুমতি দিন| শুধুমাত্র একবার| এই কথা শুনে ইমাম হোসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু কিছু সময় নীরব রইলেন তারপর বললেন মনে রেখো আবু আল হারিস তারিখ হবে 10ই মহারররাম 60 হিজরী স্থান হবে কারবালার একটি টিলা তখন তুমি একটি আহ্বান শুনতে পাবে সেই মুহূর্তটাই হবে আমাদের শেষ সাক্ষাতের সময় সেই ডাক শুনেই তুমি চলে এসো সেই জায়গাতেই আমি তোমায় স্মরণ করব তখন আবু আল হারিস ধীরে ধীরে একটি প্রশ্ন করল মুনিব যখন সেই দিন আসবে তখন কে আমাকে ফিরে ডাকবে? আপনি কি আমাকে আহ্বান করবেন? উত্তরে ইমাম হোসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, না আবু আল হারিস। তখন আবু আল হারিস আবার জিজ্ঞাসা করল, তাহলে কি আপনার ভাই আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাকে ডাকবেন? এই প্রশ্নেও হোসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুর চোখ অশ্রুসল হয়ে উঠলো। চোখ পানিতে ভরে গেল। কন্ঠ ভারী হয়ে গেল। তিনি বললেন, না আবু আল হারিস। তখন আবু আল হারিস নিশ্চুপ হয়ে গেল। ঠিক তখনই ইমাম হোসাইন কান্নায় ভেঙে পড়লেন এবং বললেন আমাদের মা ফিজা তোমাকে ডাকবেন। বর্ণনায় পাওয়া যায় যে আজও কারবালায় সেই স্থান বিদ্যমান যেখান থেকে বিবি ফিজা আবু আল হারিসকে আহ্বান করেছিলেন। অতঃপর যখন হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু আবু আল হারিসকে বিদায় দিচ্ছিলেন তখন তিনি বললেন, আবু আল হারিস, তুমি ইরাকের দিকে চলে যাও। নাইওয়ার পাছে একটি বন আছে। সেই বনের রাজা সিংহ এখন আর জীবিত নেই। তুমি সেখানে যাও এবং রাজত্ব করো। অতঃপর আবু আল হারিস মাথা নিচু করে নাইওয়ার দিকে রওনা হয়ে গেল। অতঃপর দীর্ঘদিন পর সেই আশুরার দিন আসলো। কারবালার প্রান্তরে এক নীরবতা বিরাজ করছিল। কিন্তু সেই নীরবতার পেছনে ছিল এক ভয়ঙ্কর ঝড়ের পূর্বাভাস। যখন হযরত হোসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু শহীদ হলেন তখন ওমর ইবনে সাদ এর আদেশ ছিল হুসাইনের পবিত্র দেহের উপর ঘোড়া চালানো হবে এবং তার দেহকে পদদলিত করা হবে। এই সংবাদ যখন শিবিরে পৌঁছে গেল তখন সেখানে যেন কিয়ামতের মত দৃশ্য দেখা দেয়। ঠিক সেই সময় বিবি ফিজা হযরত জয়নাব রাদিয়াল্লাহু আনহা এর কাছে এসে বললেন হে আমার পবিত্র সাইয়েদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক সাহাবী ছিলেন যিনি একবার সমুদ্রযাত্রায় বের হয়েছিলেন তখন তাদের নৌকা ডুবে যায় এবং তারা এক দ্বীপে গিয়ে উঠেছিলেন। সেখানে তারা একটি সিংহের মুখোমুখী হয়েছিলেন। তখন সেই সাহাবী বলেছিলেন, আমাকে কষ্ট দিও না। আমি মোহাম্মদের উম্মত। তখন সিংহটি তাকে আঘাত না করে নিরাপদ পথে পৌঁছে দেয়। এই ঘটনাটি মনে করিয়ে দিয়ে বিবে ফিজা বললেন হে আমার পবিত্র সাইয়েদা এই এলাকাতেও একটি সিংহ আছে তার নাম আবু আল হারিস এটি সেই সিংহ যাকে হোসেন রাদিয়াল্লাহু আনহু ছোটবেলা থেকে নিজের হাতে লালন করেছেন তাকে ভালোবাসা দিয়ে বড় করেছেন। যদি আপনি অনুমতি দেন তাহলে আমি বনের দিকে গিয়ে তাকে ডেকে আনতে চাই। আমি তাকে এই জালিমদের পরিকল্পনার কথা জানাতে চাই। তখন জয়নাব রাদিয়াল্লাহু আনহা কোন কথা না বলে মাথা নেড়ে সম্মতি দিলেন। তখন বিবি ফিজা দৌড়ে দ্রুত কারবালার প্রান্তরের দিকে এগিয়ে গেলেন। তার জিহ্বায় ছিল একটিই নাম আবু আল হারিস। তিনি মুখ ঘুরিয়ে বনের দিকে ডাকিয়ে উচ্চস্বরে ডাক দিলেন, হে আবু আল হারিস, তোমার মনিব তোমার কাছে একটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। আজ সেই দিন এসে গেছে। এই ডাক শুনে জঙ্গলের বাতাসের চারিপাশ কেঁপে উঠলো। গাছপালা থরথর করে কাঁপতে লাগল। তারপর মাটি কেঁপে উঠলো। ঝোপঝাড়ের মধ্যে নড়াচড়া শুরু হল এবং হঠাৎ সেই সিংহ আবু আল হারিস ভজ্রপাতের মত গর্জন করল। দৌড়ে এসে বিবি ফিজার সামনে উপস্থিত হলো। সিংহটিকে দেখে বিবি ফিজার চোখ অশ্রুসল হয়ে উঠলো। তার কন্ঠ ভারী হয়ে এল। তিনি বললেন, "হে আবু আল হারিস, তুমি কি জানো এই অত্যাচারীদের কি উদ্দেশ্য?" তারা চায় তোমার মনিব হযরত হোসেন রাদিয়াল্লাহু আনহুর এর পবিত্র দেহকে পদদলিত করতে। তারা চায় এমনভাবে তার পবিত্র দেহের উপর ঘোড়া চালাতে যাতে তার দেহ এতটাই বিকৃত হয়ে যায় যে কেউ চিনতেও পারে না। এই কথা শোনা মাত্র আবু আল হারিসের চোখ লাল হয়ে উঠলো। সে শক্তভাবে মাটিতে পা ঠল। আকাশের দিকে তাকিয়ে এমন এক গর্জন করল, যা ইয়াজিদ সেনাবাহিনীর হৃদয়ে কাঁপন ধরিয়ে দিল। অতঃপর আবু আল হারিস যেন পৃথিবী কাঁপাতে কাঁপাতে বাতাস কাঁপাতে কাঁপাতে বিবি ফিজার সঙ্গে কারবালার প্রান্তরে চলে এলো। এটি সেই মুহূর্ত, যখন হযরত হোসেন রাদিয়াল্লাহু আনহু এর পবিত্র মৃতদেহ নির্জন অচেতন অবস্থায় কারবালার ময়দানে পড়েছিল। আকাশ নীরব, পৃথিবী নিশ্চুপ এবং ফেরেশতারাও অশ্রু ঝরাচ্ছিল। তখন আবু আল হারিস ধীরে ধীরে এগিয়ে এল এবং স্নেহভরে হোসেন রাদিয়াল্লাহু আনহু এর পবিত্র লাশের পাশে এসে বসল। এরপর তার মাথা নিচু করে সম্পূর্ণ আন্তরনিকতায় মুনিবের রক্তে নিজের কপাল রাঙিয়ে নিল। যেন বিশ্বস্ততার একটি চিরন্তন শীলমোহর নিজের কপালে মুঠো করে বসিয়ে দিচ্ছে। রেওয়ায়েতে এসেছে যখন ইয়াজিদী সেনাবাহিনীর ঘোড়া সওয়াররা হুসেন রাদিয়াল্লাহু আনহু এর দেহ পদদলিত করতে এগিয়ে এল তারা একটি আশ্চর্য দৃশ্য দেখল। একটি সিংহ একা নির্ভয়ে হোসেনের লাশের পাশে বসে আছে। এই দৃশ্য দেখে ঘোড়াগুলো ভয়ে পিছিয়ে গেল। তারাও আর এগোতে সাহস করল না। সৈনিকরা আতঙ্কে দিশাহারা হয়ে ছোটাছুটি করতে লাগল। অনেকে ভয়ে ঘোড়া থেকেও পড়ে গেল। কেউ পিছিয়ে গেল আবার কেউ ভয়ে আর কাঁপনীতে অচল হয়ে পড়ল ফলে কারো সাহস হলো না হযরত হোসেন রাদিয়াল্লাহু আনহুর এর পবিত্র লাশের কাছাকাছি যেতে অতঃপর যখন এই খবর ওমর ইবনে সাদের কাছে গেল তখন তার মুখ বিবর্ণ হয়ে গেল চোখে ভয় ফুটে উঠল এবং কাঁপা কন্ঠে বলল এই ঘটনা কাউকে জানিও না জানালে এটি একটি ফিতনা হয়ে দাঁড়াবে কারণ সে জানতো যদি এই সত্য ছড়িয়ে পড়ে তাহলে অত্যাচারের মুখস চিরতরে খুলে যাবে অতঃপর বিবি ফিজা শিবিরে ফিরে এসে হযরত জয়নাব রাদিয়াল্লাহু আনহা জানালেন সাইয়েদা হোসেন রাদিয়াল্লাহু আনহুর এর পবিত্র লাশ এখন নিরাপদ আবু আল হারিস সেখানে আছে যতক্ষণ সে আছে কোন জালিম তার ধারে কাছেও আসতে পারবে না অতঃপর তাই ঘটল যতদিন আবু আল হারিস কারবালার মাটিতে বসেছিল কোন ঘোড়া কোন খঞ্জর কোন সৈনিক হোসেন রাদিয়াল্লাহু আনহুর এর পবিত্র দেহকে পদদলিত করতে পারেনি অতঃপর এক রাতে যখন কারবালার আকাশে নিঃশব্দ আর বন্দি কাফেলা প্রস্তুত হচ্ছিল বন্ধিত যাত্রার জন্য তখন জয়নুল আবেদিন বিবি জয়নাব রাদিয়াল্লাহু আনহ কে বললেন, ফুপু আম্মা আবু আল হারিসকে বলে দিন যেন সে এখন ফিরে যায়। সে তার বিশ্বস্ততার দায়িত্ব পূর্ণ করে ফেলেছে। তখন বিবি ফিজার সেই পুরনো সাহস নিয়ে আবার আবু আল হারিসের কাছে গেলেন এবং বললেন হে আবু আল হারিস মাওলার হুকুম এখন তুমি চলে যাও। তখন আবু আল হারিস বিবি ফিজার দিকে তাকাল। চোখে অশ্রু কপালে মাটি আর হৃদয় ছিল একটি ভাঙ্গা শান্তি। তারপর সে উঠলো এবং হোসেন রাদিয়াল্লাহু আনহুর এর পবিত্র লাশের কাছে গিয়ে শেষবারের মতো সম্মান জানালো। বিবি ফিজা দেখলেন সিংহের চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে। তারপর আবু আল হারিস ধীরে ধীরে হাঁটতে হাঁটতে কারবালা থেকে বিদায় নিল। প্রিয় বন্ধুগণ আমরা আপনাদের পরিষ্কার করে জানিয়ে দিতে চাই এই ঘটনাটি কোরআন বা সহি হাদিসে বর্ণিত ঘটনা নয়। বরং এটি একটি জনশ্রুতি রেওয়াত যা হোসেন রাদিয়াল্লাহু আনহুর এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের জন্য বলা হয়ে থাকে। আমাদের উদ্দেশ্য এটি ইতিহাস হিসেবে নয়। ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে একটি বার্তা তুলে ধরা।

Need a transcript for another video?

Get free YouTube transcripts with timestamps, translation, and download options.

Transcript content is sourced from YouTube's auto-generated captions or AI transcription. All video content belongs to the original creators. Terms of Service · DMCA Contact

হুসাইন (রাঃ) এর সাথে কারবালায় সিংহটি কি করেছিল? || ইসলামি...