ইমরান হাশমি দ্বিতীয় বিয়ে করল! তারপর যা করলেন সেই নারী l Haq Movie Explained In Bangla

Movie Bujhiye Dee4,439 words

Full Transcript

গল্পটি শুরু হয় 1967 সালে। দেখানো হয় উত্তরখন্ডের একটা শহরের জেলা কোর্ট। আব্বাস খান তার কোর্ট কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। অন্যদিকে সাজিয়া বানু চুপি চুপি তা দেখে যাচ্ছিলেন। একসময় আব্বাসের চোখ পড়ে সাজিয়ার দিকে। কোর্ট কার্যক্রম শেষ করে আব্বাস এসে সাজিয়াকে বলে, মৌলভীর মেয়ের মতো এরকম চুপিচুপি দেখা কিন্তু ঠিক নয়। সাজিয়া জানায়, বিয়ের আগে একটু চুপিচুপি দেখছি। সাজিয়ার এই কথাতে জানা যায় আগামীকাল আব্বাস এবং সাজিয়ার বিয়ে। এরপরেই ধুমধাম করে দুজনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর দুজনে সুখ-শান্তিতে সংসার করছিল। আব্বাস সারাক্ষণ কেয়ার করতেই থাকে সাজিয়ার। সাজিয়াও প্রায় সময় অফিস টাইমে ফোন করে খোঁজ নেয় আব্বাসের। আব্বাসও সেটা পছন্দ করে। এর মধ্যে প্রেগনেন্ট হয় সাজিয়া। প্রেগনেন্ট অবস্থায় বাড়িঘর সাজাতে গিয়ে প্রতিবেশীর সাথে গন্ডগোল বাঁধে তার। সাজিয়া দেয়াল একটু ভেঙে ফুলের চারাগুলো লাগাতে চায়। কিন্তু প্রতিবেশী সেখানে বাধা দেয়। তাই সাজিয়া পুলিশ ডাকার হুমকি দেয়। এতে প্রতিবেশী ফোন করে আব্বাসকে সব ব্যাপার খুলে বলে। আব্বাস তাই সাজিয়াকে নিয়ে প্রতিবেশীর মুখোমুখি হয়। তারপর প্রতিবেশীর সামনে সাজিয়াকে জমির দলিল দিয়ে বলে, এখন থেকে জায়গাটা তোমার। তুমি ভাঙবে না কি করবে সেটা তুমিই জানো। যদি কেউ বাধা দেয় তাহলে আগে পুলিশ ডাকবে। বাকিটা আমি দেখবো। হাসবেন্ডের কাছ থেকে এসব কথা শুনে সাজিয়া অনেক খুশি হয়। দেড় বছরের মাথায় তাদের কোল জুড়ে আসে পুত্র সন্তান। পুত্র সন্তান পেয়ে দুজনেই খুশিতে আত্মহারা হয়ে ওঠে। কয়েক বছর বাদেই ঘরে আসে এক কন্যা সন্তান। তারপরেই যেন আব্বাসের ভালোবাসা একদম কমে যেতে শুরু করে। ঠিক আগের মত আর কেয়ার করে না। অফিস টাইমে সাজিয়া ফোন করলে আর ধরে না আব্বাস। একদিন প্রতিবেশীর ছেলে এবং আব্বাস সাজিয়ার বাচ্চারা কুকুর নিয়ে খেলছিল। সেটা দেখে প্রতিবেশী অনেক কথা শোনায় সাজিয়াকে। সাজিয়া তাই ফোন দেয় আব্বাসকে আব্বাস আবার তখন মিটিংয়ে ছিল সাজিয়া ফোন দিলে বলে প্রতিবেশী আবার এসে বিরক্ত করছে কিছু একটা ব্যবস্থা করো আব্বাস জানায় তুমি হ্যান্ডেল করো সাজিয়া বারবার কিছু একটা করতে বললেই আব্বাস বলে তুমি এরকম বারবার অফিস টাইমে ফোন করে বিরক্ত করো কেন এরকম করলে কিন্তু বাসার টেলিফোনের লাইনটা কেটে দেবো এটা বলে ফোনটা কেটে দেয় সাজিয়া খুবই কষ্ট পায় আবার রাগও করে তাই আব্বাস বাসায় আসলে রাগ দেখাতে থাকে সাজিয়া কিন্তু আব্বাস আবার উল্টো কাপড় গোছাতে শুরু করে। কাপড় গোছানো দেখে সাজিয়া বলে, যাও তোমার উপর আর রাগ দেখাবো না। কাপড় গুছিয়ে আর কোথাও যেতেও হবে না। আব্বাস জানায় আমি তোমার উপর রাগ করে কাপড় গোছাচ্ছি না। আমাকে কয়েকদিনের জন্য পাকিস্তানে যেতে হবে। সেখানকার সম্পত্তি নিয়ে একটু ঝামেলা চলছে। এসব জানিয়ে সুন্দর মতোই বাসা থেকে পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ে আব্বাস। বেশ কয়েকটা দিন কেটে যায়। কিন্তু আব্বাস কোন ফোন করে না। তাই সাজিয়া তাদের কাজের মেয়েকে টেলিফোন চেক করতে বলে। কাজের মেয়ে জানায় টেলিফোন তো ঠিকই আছে। তাই পাকিস্তানের পরিচিত লোকদের থেকেও খবর নেয় সাজিয়া। কিন্তু তারাও আব্বাসের সেরকম কোন খবর দিতে পারে না। এর মধ্যে একদিন আব্বাস ফোন করে তাকে। জানায় আমি সম্পত্তির ব্যাপার নিয়ে ঝামেলায় আছি। আমাকে নিয়ে টেনশন করতে হবে না। আব্বাস যখন পাকিস্তানে গিয়েছিল তখনও প্রেগনেন্ট ছিল সাজিয়া। তাই আব্বাসকে ছাড়া সাজিয়া একাকিত্বই অনুভব করে। হঠাৎ তিন মাস বাদে গাড়ির শব্দ পেয়ে মুখে হাসি ফোটে তার। কিন্তু সেই হাসি আর বেশিক্ষণ থাকে না। কারণ আব্বাস ফেরে তার দ্বিতীয় বউ নিয়ে। অর্থাৎ সাজিয়ার সতিন নিয়ে। যা সাজিয়াকে একদম স্তব্ধ করে দেয়। সাজিয়া তাই আব্বাসকে জিজ্ঞেস করে, তুমি দ্বিতীয় বিয়ে করেছ? উত্তর দেয় শাশুড়ি। জানায়, সায়রা ফ্যামিলি আমাদের থেকে অনেক সম্পত্তি পেত। আব্বাসের দ্বিতীয় বইয়ের নাম সায়রা। তো এজন্যই নিরুপায় হয়ে আব্বাস বিয়ে করেছে তাকে। সাজি আবার আব্বাসকে জিজ্ঞেস করে। তুমি কি দ্বিতীয় বিয়ে করেছ? শাশুড়ি আবার জানায়, সাইবার হাজবেন্ড মারা গিয়েছে। বেচারি অসহায় হয়ে পড়েছিল। তাই বিয়ে করেছে আব্বাস। এবার রেগে যায় সাজিয়া। বলে আমাকে না জানিয়ে কেন দ্বিতীয় বিয়ে? শাশুড়ি উল্টো বলে, এক ঘন্টা হয়ে গেছে। নতুন বউ বাইরে। তাকে ঘরে তুলতে হবে। সাইরা ঘরে প্রবেশ করে। প্রতিবেশীরা আসে দেখতে। যেটা ভালোভাবে সামলিয়ে নেয় সাজিয়া। তাই আব্বাস পরবর্তীতে সাজিয়াকে জানায় আজকে তুমি প্রতিবেশীর সামনে যা করেছো তা আসলে কেউই করে না। আসলে পরিস্থিতিটা এমন হয়েছিল যে বিয়ে করতে হয়েছে। চিন্তা করো না। সাইরা তোমার কোন কিছুই দখল নিতে আসবে না। তাকে আউটার রুমে রাখবো। তোমার সাথে কোন সমস্যাই হবে না। তোমার এই প্রেগনেন্সির সময় তোমার টেক কেয়ারও করবে। এসব বলার পর আব্বাস আরো জানায় আমি তোমাকেই বেশি ভালোবাসি। তুমি আমার কাছে সবসময় এগিয়ে থাকবে। এগুলো শুনে কিছুটা শান্তি পায় সাজিয়া। পরের দিন সাজিয়া রান্নার কাজ করতে থাকলে সাঁইরা এসে কিছু কাজ করতে চাইলে সেটার অনুমতি দেয় সাজিয়া। খাবার টেবিলে সাঁইরা খাবার এগিয়ে দিতে চাইলে সেটা কেড়ে নেয় সাজিয়া। আর সেই সময় শাশুড়ি খাবার টেবিলে সাইরাকেও বসতে বলে। যেটা আবার ভালোভাবে নেয় না সাজিয়া। সেদিন বিকেলে সাজিয়া সাদে কাপড় শুকাতে গেলে সায়রা এসে সাজিয়াকে বলে আমার কিছু জিনিস লাগবে সাজিয়া জানায় ঠিক আছে আমি তোমাকে বাজারে নিয়ে যাব যেটা শুনে পাশের জন সাজিয়াকে টিটকারি করে বলে সতিনের উপর দেখি ভালোই দরদ উঠছে তো দুজন যায় বাজারে সাজিয়া সায়রার জন্য জিনিস কিনতে থাকে যেগুলো সাইরা পছন্দ করে না আর আব্বাসও যে পছন্দ করে না তা ভালোভাবেই জানে সাইরা তাই তো বলে এসব কি কিনে দিচ্ছেন এসব একটাও তো আব্বাস পছন্দ করে না। আর কি শুরু করেছেন? ভাবছেন আব্বাস আপনার প্রেগনেন্সি দেখাশোনার জন্য চ্যারিটি হিসেবে আমাকে নিয়ে এসেছে। তাহলে ভুল ভাবছেন আব্বাস আমাকে ভালোবেসে বিয়ে করেছে। আসলে আমি আব্বাসের প্রথম ভালোবাসার মানুষ। আপনাকে বিয়ে করার আগে আব্বাস আমাকে ভালোবাসতো। কিন্তু আমার অন্যত্র বিয়ে হয়ে যাওয়াতেই আব্বাস আপনাকে বিয়ে করে। আপনি প্রথম বউ হলেও আমি কিন্তু তার প্রথম প্রেমিকা। যেই আমার হাসবেন্ডের মৃত্যুর কথা শুনে ছুটে এসেছে আমার কাছে। মৃত্যুর দিনেই আমাকে বিয়ে করতে চেয়েছিল কিন্তু আমি না করেছি। আসলে আব্বাসের কাছে আমি চ্যারিটি নই। আপনি হচ্ছেন চ্যারিটি। এসব বলে সায়রা চলে যায়। সাজিয়ার মাথায় যেন পুরো আকাশ ভেঙে পড়ে। কি শুনল সে? যাকে এতটা ভালোবাসে সে তাকে কিনা শুধুমাত্র করুণা করে রেখেছে এসব শুনে সাজিয়া বানু এক বুক কষ্ট নিয়ে আসে আব্বাসের কাছে এসে জিজ্ঞেস করে আপনি কি আগে থেকেই সাইরাকে চিনতেন আব্বাস জিজ্ঞেস করে তো কি হয়েছে সাজিয়া বলে ও তো আপনার সব পছন্দের জিনিস সম্পর্কে জানে এমনকি অন্তর্বাসীর ব্যাপারেও এবার আব্বাস রেগে গিয়ে বানুকে চুপ থাকতে বলে সাজিয়া জানায় আমি বেগম আমাকে তো বিয়ের পর নাম ধরে ডাকেননি আজকে ডাকছেন কেন? আব্বাস এবার ঘুমাতে বলে সাজিয়াকে। সাজিয়া মাঝরাতে আউটার রুমে এসে কান পাতলে শোনে আব্বাস আর সাইরা হাসিট্টায় মেতে আছে। যা কষ্ট দেয় তাকে। তারপরও সাজিয়া সবকিছু মেনে নেয়। ধীরে ধীরে বাড়িতে রাত শুরু করে সায়রা। এর মধ্যে সাজিয়ার আরো একটা বাচ্চার জন্ম নেয়। সাজিয়া শুধু তিন বাচ্চা পালতে থাকে। অন্যদিকে আব্বাস শুধু সাইরাকে নিয়েই মজামাস্তি শুরু করে। তাওবা সাজিয়ার সামনেই। যা সাজিয়া বুকে পাথর বেঁধে মেনে নেয়। একসময় সাইরাও প্রেগনেন্ট হয়। অন্যদিকে সাজিয়া চলে আসে বিবাহ বার্ষিকী। তাই হাসিখুশি ভাবেই নাফা নিয়ে আসে আব্বাসের অফিসে। এসে সহকারীকে নাস্তা দেয়। তারপর আব্বাসের রুমে আসে। আব্বাস তখন আবার মিটিং করছিল। আব্বাস হঠাৎ সাজিয়ার আসা দেখে জিজ্ঞেস করে, এখানে কেন? সাজিয়া জানায়, আজকে আমাদের বিবাহ বার্ষিকী। আব্বাস এবার মিটিং করতে আসা লোকেদের একটু বাইরে যেতে বলে। সাজিয়াকে জিজ্ঞেস করে বিবাহ বার্ষিকী হয়েছে তো কি হয়েছে? সাজিয়া জানায় আপনি তো আমাকে সময় দেন না। সারাক্ষণ তো সাইরাকে নিয়েই পড়ে থাকেন। তাই যদি আজকে একটু সময় দিতেন। আব্বাস বলে কই সময় দেই না। যা চাও তাই তো পাও। আবার কি শুরু করেছো? এত সময় সময় করো কেন? যাও এত সময় দিতে পারবো না। আরো বেশ কিছু কথা বলে। যা অন্যরাও শুনতে পায়। এতে সাজিয়া অনেক কষ্ট পায়। বাড়ি এসে অনেক ভেবে বাচ্চা নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। বাপের বাড়ির উদ্দেশ্যে। অন্যদিকে আব্বাসও তাদের টেবিলে থাকা সাজিয়ার ছবির দিকে তাকিয়ে রিয়েলাইজ করে। আজকে একটু সাজিয়াকে বেশি সময় দেওয়া যেত। তাই ফুল নিয়ে আসে বাড়িতে। কিন্তু এসে জানতে পারে সাজিয়া বাপের বাড়ি চলে গিয়েছে। সাজিয়া বাড়ি এসে তার ছেলেদের বাবার মাদ্রাসায় দেয়। একদিন বাদে বাবা সাজিয়াকে জানায় আব্বাস ফোন করেছিল। বাচ্চাদের খবর নিয়েছে। সাজিয়া জিজ্ঞেস করে আমার খবর নিয়েছে? বাবা জানায় না আরো কেটে যায় বেশ কয়েকদিন। সাজিয়া অপেক্ষা করে শুধু আব্বাসের ফোনের। কিন্তু আব্বাসও ইগো নিয়ে থাকে। একদিন শাশুড়ি ফোন করে সাজিয়াকে। জানায় অনেকদিন হয়েছে। এবার বাড়ি ফেরো। সাজিয়া জানায়, আমি তো কিছু করিনি। আব্বাস আমার কাছে মাফ চাইলে আমি চলে যাব। মাফ শব্দটা শুনে শাশুড়ি রেগে যায়। আব্বাসও চুপ থাকে। সাজিয়া তখন মনে মনে বলে আব্বাস যদি একবার সরি বলতো তাহলে কোন কিছু না ভেবেই চলে যেতাম। তো আব্বাসের পর থেকে বাচ্চাদের ভরণপোষণের টাকাও দেয় না সাজিয়ার কাছে। তাই নিরুপায় হয়ে সাজিয়া একদিন বাবাকে সাথে করে আব্বাসের বাড়ি চলে আসে। এসে দেখে সায়রারও একটা বাচ্চা হয়েছে। আব্বাস তার ছেলেদের অনেকদিন বাদে আদর করে। সাজিয়া আব্বাসকে আলাদা কথা বলার জন্য ডাকলে আব্বাস আসে। আব্বাস আসলে সাজিয়া জিজ্ঞেস করে, কেমন আছেন?" আব্বাস উল্টো প্রশ্ন করে এখানে কেন আসা হয়েছে? সাজিয়া জানায় আপনি দেখে আর বাচ্চাদের হালচালও জিজ্ঞেস করলেন না। কয়েক মাস ধরে বাচ্চাদের ভরণপোষণের টাকাও দিচ্ছেন না। এটা শুনে আব্বাস বলে তাহলে টাকার জন্যই আসা তাই না? সাজিয়া জানায় বাচ্চা তো আর আমার একার না যে একা সব সামলাবো। আব্বাস বলে কেন? আমি তো তোমাকে চলে যেতে বলিনি। তুমি নিজে থেকেই গিয়েছো। আমার দ্বিতীয় বিয়ে করার ব্যাপারটা তুমি নিতেই পারোনি। সাজিয়া জানায় আপনি তো আর আমাকে বলে বিয়ে করেননি। আব্বাস তখন জোরে জোরে কথা বলে। সে বলে আমি দ্বিতীয় বিয়ে করে সওয়াবের কাজ করেছি। সওয়াবের প্রসঙ্গে আসলেই সাজিয়া বলে হজ যাকাত দিয়ে সওয়াব কামানো যায়। দ্বিতীয় বিয়ে কেন? আব্বাস রেগে গিয়ে বলে তুমি আসলে মুসলিম নও। দ্বিতীয় বিয়ে কিন্তু করা যায়। সাজিয়া এবার বলে আমাকে ইসলামের কথা শোনাতে আসবেন না। জীবনে তো কখনো কোরআন পড়েননি। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজও পড়েন না। জুমার নামাজটাও জোর করে পড়তে পাঠাতে হয়। এবার আব্বাস কথা অন্যদিকে নিয়ে যায়। জানায় তুমি আসলে আমার দ্বিতীয় বিয়ে আর সাইরাকে মেনেই নিতে পারোনি। তাই তার উপর রাগ দেখিয়ে বাড়ি থেকে চলে গিয়েছো। সাজিয়া জানায় হ্যাঁ আমার সায়রার উপর রাগ হয়। সে আমার চেয়ে বেশি সুন্দর। বেশি শিক্ষিত। আমার চেয়ে আপনি তাকে বেশি ভালোবাসেন। আমি তো সব স্বীকার করলাম। এবার দেখি আপনি করেন। এটা বলে সাজিয়া জানতে চাই। আপনি কি আমার আগে সাইরাকে চিনতেন? সাইরার হাসবেন্ড মারা যাওয়ার কথা শুনতেই তার কাছে ছুটে গিয়েছিলেন। আব্বাস রেগে গিয়ে বলে, তুমি আসলে বিয়েকে খেলা হিসেবে দেখছো? তাই তো বাড়ি থেকে চলে গিয়েছো। সাজিয়া জানায়, খেলা হিসেবে আমি দেখছি নাকি আপনি দেখছেন। বিয়ের পর একটা মেয়ে কি চায় তা জানেন না? এসব বলতে গিয়ে হচ্ছে অসম্মানিত। আব্বাস এবার বলে তাহলে অসম্মানিত হতে এসেছো কেন? সাজিয়া জানায় শুধু বাচ্চাদের জন্য এসেছি। আপনি বাচ্চাদের জন্য প্রতি মাসে 400 টাকা করে দিতে চেয়েছিলেন এসব বলে চলে যায় সাজিয়া বাড়িতে আসলে সাজিয়ার বাবাকে একজন বোঝায় অনেক তো হয়েছে মিটপাট করে মেয়েকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দেন কিন্তু বাবা মেয়ের পক্ষেই থাকে জানায় তুই যা করবি আমি তোর সাথেই আছি সাল চলে আসে 1975 আট বছরের বিয়ের সম্পর্কের সঠিক হকের জন্য সাজিয়া একটা লয়ারের কাছে আসে আর আব্বাসের নামে কেস করতে চাই কিন্তু লয়ার আব্বাস নাম শুনে অবাক হয়। সাজিয়া যে কোর্টে এসে আব্বাসের নামে মামলা করছে সেটা আবার আব্বাসের সহকারী জানতে পেরে আব্বাসকে জানায়। সাজিয়ার কেস সেশনাল কোর্টে আসে। জর্জ সাজিয়ার লয়ারকে তা জানাতে চাইলে সাজিয়া জানায় আমার কোন লয়ার নেই। আমি নিজেই আমার কেসের কথা বলব। কেসটা হচ্ছে সাজিয়ার হাসবেন্ড আব্বাস তার তিন ছেলে মেয়ের দেখভাল করে না। সেটা নিয়ে কেস করতে এসেছে। জর্জ এটা শুনে কাজীর কাছে যেতে বলে। সাথে জানায় মুসলিম রীতিতে এটা কাজই দেখবে। সাজিয়া জানায় সেখানে গিয়ে কোন লাভ নেই। তাই এখানে এসেছি। জর্জ এরপরেও শুনতে চায় না। সাজিয়া বলে আমি যদি কাউকে মার্ডার করি তাহলে কেস তো ঠিকই নেবেন। তাহলে এটা কেন নেবেন না? সেই সময় বেলাজিন এবং তার সহকারী ফারাজ সাঈদ সেকশন 125 ধারায় সাজিয়ার হয়ে কেস লড়তে যায়। সাজিয়াও এতে মত দেয়। এসব আবার আব্বাসের সহকারী শুনে আব্বাসকে জানাতে তার অফিসে আসে। তারপর বলে 125 ধারা মামলা মানে ক্রাইমের উপর মামলা। এতে জেলেও যাওয়া লাগতে পারে। এবার ভয় পেয়ে যায় সায়ারা। তাই আব্বাসকে বলে 400 টাকারই তো ব্যাপার। মিটমাট করে নিলেই তো হতো। পরের দিন আব্বাস সাজিয়াকে ডাকে। সাজিয়া আসলে আব্বাস আগে ছেলেগুলোর খবর নেয়। তারপর বলে তোমার কোর্টে কেস করা উচিত হয়নি। সাজিয়া জানায় আমি আসলেও কেস করতে যাচ্ছিলাম না। যদি এভাবে মিটমাট হয়ে যাই তাহলে ভালো। আব্বাস এবার তার খুব ছাড়ে। বলে আমি আসলে সায়ারাকেই ভালোবাসি। তোমাকে না তোমার আগে আমি সায়ারাকেই ভালোবাসতাম। তার জন্য আমার অপেক্ষা করতে হতো। আমি ভুল করেছি যার ভুলে তোমাকে বিয়ে করে পস্তাচ্ছি। কিন্তু আর না এসব বলে কাবিনের টাকা দিয়ে তিন তালাক দেয় সাজিয়াকে। সাজিয়া যেন বুঝে উঠতেই পারে না। আচমকা তার সাথে কি ঘটে গেল। শুধু সাজিয়া নয় আব্বাসের মা বোনও অবাক হয়। তাই মা আব্বাসকে বলে, এত বড় ডিসিশন নেওয়ার আগে একবার আমাকে তো বলতে পারতি। আব্বাস জানায় ও কেস করেছে। সেকশন 125 ধারায় ঘরের বউ কেস করতে পারে তাই তালাক দিয়ে সুযোগ থেকে বঞ্চিত করলাম। কোর্টে আমার সম্মান আছে। অন্যদিকে সাজিয়া কান্নায় ভেঙে পড়ে। কান্নারত অবস্থায় যেতে থাকে বাড়ির দিকে। সাজিয়া বানানো বাড়ি আসলে কাজের মেয়ের হাত দিয়ে সাজিয়ার জিনিসপত্র পাঠিয়ে দেয় আব্বাস। সাজিয়া তবুও সেলাই মেশিন চালিয়ে নিজের শোখ কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করে। এর মধ্যে লয়ার বেলাজিন এবং ফারাদেশে সান্ত্বনা দেয় সাজিয়াকে। সাজিয়া জানায় আমাকে যে তালাক দেওয়া আছে সেটা বেদাত তালাক। যেটা কোরআনে স্পষ্ট উল্লেখ আছে। বেলা বলে তাহলে কি বলতে চাচ্ছ? শরীয়ত মোতাবেক তালাক হয়নি তাহলে তো সেকশন 125 এখনো লাঘব। তাই কোর্টে সাজিয়া হয়ে আবারো কেস তোলে বেলা। জানায় আব্বাস খান স্ত্রী এবং সন্তানদের দেখভাল করেনি। কথা ছিল 400 টাকা মান্থলি দেওয়ার। সেটাও দেয়নি। তাই 400 টাকা মান্থলি দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। আব্বাস বলে আমি তিন মাস আগেই তাকে তালাক দিয়েছি। বেলা বলে এটা বিদাত তালাক। তালাক হয়নি। আব্বাস কোর্টে জানায় সে শরীয়া মোতাবেক তালাক দিয়েছে। পেছন থেকে সাজিয়া জানায় এক নিঃশ্বাসে তিন তালাক জায়েজ নেই। ইসলামে এটাই জানানো হয়েছে। আব্বাস তারপরও জানায় সে ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক তালাক দিয়েছে। সাজিয়া বলে তালাক দিতে হলে কোরআন পড়া জানতে হয়। আপনি তো কোরআনও পড়েননি। তাই তালাক হয় কিভাবে? এরকম গন্ডগোল চলতে থাকে জজ জানায় এই কেস এখানকার নয় এটা মুসলিম ল কেস তাই মুসলিম কোর্টে যেতে বলে সাজিয়াকে তার বাবার সাথে করে নিয়ে আসে মসজিদে সাজিয়া মুখ থেকে মসজিদে আসে সেখানে সাজিয়ার বিপক্ষে লড়ে কাজী লয়ার কাজী লয়ার আর হুজুর মিলে দোষারোপ করতে থাকে সাজিয়াকে তারা এভাবে সাজায় সাজিয়া শরীয়তকে অপমান করেছে যেটা কিনা কাজীর কাছে সমাধান হয়ে যায় সেটা কোর্টে নিয়ে গিয়ে ইসলামকেও অপমান করেছে সুরুরিয়া মানছে না কথা শোনায় সাজিয়ার বাবাকে। কারণ সে একজন মৌলভী। ভেতর থেকে বারবার প্রশ্ন তোলে সাজিয়া। জানায় আমি তো প্রথমে কাজীর কাছেই গিয়েছিলাম। কিন্তু কাজী তো সঠিক সমাধান দেয়নি। তাছাড়া তালাকটা বেদাত তালাক। কোরআনে স্পষ্ট বলা হয়েছে এক নিঃশ্বাসে তালাক হয় না। তালাক দেওয়ার আগে তিন মাস সময় দেয়া হয়। যাতে এই তিন মাসে হাসব্যান্ড ওয়াইফের দ্বন্দ ঠিক হওয়ার জন্য একটা সুযোগ থাকে। একটা বিয়ের সম্পর্ক তো আর ছেলে খেলা নয়। উদাহরণ হিসেবে সূরা বাকারা এবং সূরা নিসার আয়াত উল্লেখ করে। তবে আব্বাসের পক্ষের লোকেরা জানায় শরীয়তের তালাকের কথা তো স্পষ্ট উল্লেখ আছে। সেটা তুমি মানছো না। সাজিয়া এবার বলে ইসলামী শরীয়তে স্পষ্ট উল্লেখ আছে। একজন হাসবেন্ড ওয়াইফের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারবে না। সাজিয়া তখন সূরা নিসার আরো একটা উদাহরণ দেয় এটার উপর। সাথে জানায় পুরুষরা যদি শরীয়ার বাইরে গিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারে তাহলে নারী কেন পারবে না? হুজুর এবার সাজিয়াকে বলে তুমি কওমিকে নিয়ে প্রশ্ন তুলছো তুমি আসলে কাফের হয়ে গিয়েছো সাজিয়া জানায় আপনি এভাবে বলতে পারেন না আমার আর আল্লাহর মধ্যে যা চলে তা আমাদের একান্ত এখানে আপনি কোন প্রশ্ন তুলবেন না আমি যা জানি সব কোরআন থেকে মেয়ের এরকম কথাতে খুশি হয় সাজিয়ার বাবা এবং গর্ভের সাথে মেয়েকে নিয়ে মুসলিম কোর্ট থেকে চলে যায় সাজিয়া এরপর কোর্টে কোর্টে ঘুরতে থাকে এতে অর্থসংকটেও পড়ে তাই নিজের স্বর্ণ বিক্রি করে দেয়। এভাবেই কেস কন্টিনিউ হয় আরো চার বছর। 1979 সালে সাজিয়াবানু ভার্সেস আব্বাস খানের কোর্ট কার্যক্রম শুরু হয়। সেখানে আব্বাস বলে আমি শরীয়া অনুযায়ী তালাক দিয়েছি। তালাকের সময় আমি দেন মোহরও পরিশোধ করেছি। তাই এই সেকশন 125 কেসটার কোন মানেই হয় না। প্রশ্ন তোলে বেলাজিন কোর্টে জানায় যদি তালাক হয়েও থাকে তারপরও আপনাকে এক্স স্ত্রী সন্তানদের দেখভাল করতে হবে। যতদিন না এক্স ওয়াইফের বিয়ে হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে একজনের কেসের ব্যাপারটা উল্লেখ করে। আরও এক বছর কেস চলতে থাকলে অবশেষে জয় লাভ করে সাজিয়া। কোর্ট থেকে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়, আব্বাসকে বছরে ৳1,000 দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যেটা কিনা মাসে ৳2 করে। কিন্তু ৳2 সাজিয়া চলবে কেমনে? ছেলেমেয়েরাও তো বড় হচ্ছে। বাবার মাদ্রাসার ছাত্রগুলো স্কুলের দিকে দৌড়াচ্ছে। তাই ছাত্রও ফাঁকা। তারপরও বাবা হাল ছাড়ে না। জানায় সে তার সাথেই আছে। কিন্তু সাজিয়া যেন সমাজের চোখে শত্রু হয়ে যায়। সবাই তার চোখে দেখে সাজিয়ার দিকে। দেওয়ালে লেখে উল্টাপাল্টা অনেক লেখাও। চলে আসে 1981 সাল। শুরু হয় হিন্দু-সলিম দাঙ্গা যার প্রভাব বেশি এসে পড়ে সাজিয়ার উপর। সাজিয়া তার তিন সন্তানকে কোনভাবে বাঁচানোর চেষ্টা করে। বাবা তখন সাজিয়াকে সেফ জোনে যেতে বলে। সাজিয়া দলিল বের করে লয় আর ফারাজকে নিয়ে আসে আব্বাসের বাড়ি। মনে আছে তো নিশ্চয়ই আব্বা সাজিয়ার নামে বাড়ির জায়গা দলিল করে দিয়েছিল সেটার দাবি করতেই আসে সাজিয়া এমনকি বাইরের আউটার রুমে নিজের ঠিকানা করে নেয় রুম পরিষ্কার করার সময় জানালা দিয়ে একটু বাইরে তাকালে তার আশা নিয়ে আব্বাস এবং সাইরার মাঝে তর্ক [মিউজিক] চলা দেখতে পাই অন্যদিকে আব্বাসকে কাজী এবং হুজুররা জানায় সাজিয়া একবার জেতাই অনেকে এখন তালাক নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কোর্টেও মামলাও তুলেছে এরকম হতে থাকলে আমাদের শরীয়া হুমকির মুখে পড়বে এই কেসটা এখন আর আমাদের মাঝে বিদ্যমান নেই। এই কেসটা এখন দেশের সবাই শোনে। আব্বাস জানায় এত সহজে দেশের সামনে শরীয়া আইনকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারি না। আমি হাইকোর্টে যাচ্ছি। 1982 সালে শুরু হয় হাইকোর্টেশের শুনানিী। বেলাসিন হাইকোর্টেও জানায়, এক্স ওয়াইফ হওয়ার পরেও আবার বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত সাজিয়া সহ সন্তানদের খরচ বহন করতে হবে। সেটা ইচ্ছার বিরুদ্ধে হলেও আব্বাস জানায়, এক্স ওয়াইফ একটা সেকুলার ভাষা। শরীয়তে এসব কিছুই নেই। বেলা বলে এই কোর্টে সেক্যুলার কিংবা শরীয়তের কোন প্রশ্ন নিয়ে আসা উচিত নয়। আব্বাস জানায় তালাক হচ্ছে একটা লিগাল কন্ট্রাক্টের টার্মিনেশন। একবার শেষ হয়ে গেলে সব শেষ। বেলা বলে কন্টাক্ট তো শেষ হয় বুঝলাম। কিন্তু সম্পর্ক কিভাবে শেষ হয়? ওয়াইফের আগে এক্স তালাক। দ্বিতীয় নতুন যাই লাগানো হোক না কেন শব্দের শেষে তো ওয়াইফ থাকবেই। আব্বাস জানায় যেদিন তালাক হয়ে যাবে সেদিন থেকে হাসবেন্ড এবং ওয়াইফের মধ্যে সম্পর্ক হবে অপরিচিত। বেলায় এবার ছবি দেখিয়ে বলে এই বাচ্চার সাথে ছবি আছে। এই সম্পর্কের নাম কি দেবেন? আব্বাস জানায় জাস্ট বাচ্চার মা আর কিছুই নয়। ছবিগুলো দেখে জর্জ। বেলা তাকে জিজ্ঞেস করে, সে যখন বাচ্চার জন্ম দিয়েছে সে তখন আপনার ওয়াইফ ছিল কিনা। আব্বাস তখন অবজেকশন দিয়ে আবারো সরিয়ে নিয়ে আসে। বেলা এবার উল্টো জানায় এটা শরীয়তের কোর্ট নয় এখানে সেকুলার চলে যেটা এর আগে সেশনাল কোর্টে আব্বাস বেলাকে বলেছিল যেটার প্রশ্ন তোলে বেলা তাই আব্বাসও চুপ হয়ে যায় বেলা এরপর কোর্টে জানায় যে প্রশ্ন ফ্যামিলির ছোট ডায়রিতে ওঠে সেটা এখন কোর্টেই উঠেছে ওয়াইফ আছে তো ওয়াইফ নেই আর ওয়াইফ শব্দটা নিয়ে নীতিবাক্য শোনায় কোর্ট শেষে সাজিয়া বাইরে আসলে দেখা যায় তার তিন ছেলেমেয়ে কোর্ট প্রাঙ্গণে লেখাপড়া করছে আসলে জন্ম থেকে তাদের এসব চলছে মা লড়াই করছে হকের জন্য কিন্তু তাদের ফেলে দেয়নি সুশিক্ষার ব্যবস্থা নিজ হাতে করেছে সেদিন রাতে সায়রা জানালা দিয়ে সাজিয়া কোরআন শরীফ পড়তে দেখে আব্বাসকে জানায় ও আমাদের থেকে বেশি জানে সেটা শরীয়ত পরের হেয়ারিং ডেতে আব্বাস বেলার সহকারী ফারাজকে টাকা নিয়ে কিনতে চায় কিন্তু ফারাজ বিক্রি হয় না কোর্টে আব্বাস জানায় বিয়ের সময় যে মোহরানা দিয়ে বিয়ে করেছি তালাক দেওয়ার সময় দিয়ে শেষ করেছি তাই কোন কিছু দেওয়ার আর প্রশ্নই আসে না এটারও প্রশ্ন তোলে বেলা বেলা বলে মোহরানা তো বিয়ের দিনেই দেওয়া উচিত কিন্তু অনেক মেয়েকেই দেয়া হয় না মেয়েরাও চেয়ে নেয় না এই মোহরানাকে আমাদের হিন্দু রীতিতে কন্যাদান বলা হয় যেটা নিয়ে এবার কথা তোলে আব্বাস বলে কন্যাদান মানে তো যৌতুক যৌতুকের সাথে মোহরানার ব্যাপারটা মেলাবেন না বেলা জানায় স্ত্রীর সম্পদ আসলে যৌতুক বলা যায় না আব্বাস বলে কোট পর্যন্ত আসলে স্ত্রীর সম্পদ যৌতুকী হয়ে যায় জস তখন সোজাসুজি কথা বলতে বলে আব্বাসকে। আব্বাস কিছুটা অসুস্থ অনুভব করলে নিজে থেকে কোর্ট মলতুবি চায়। কোর্ট শেষে আব্বাস সাজিয়ার কাছে এসে জানায়, এবারও তুমি জিতবে। এবার আবার নোটিশ করে বেলা। তাই সাজিয়ার কাছে এসে বলে, কিছু একটা চাল চালছে আব্বাস। হাইকোর্টের কার্যক্রম আরো এক বছর চলতে থাকে। 1983 সালে হাইকোর্ট রায় দেয় সাজিয়ার পক্ষে। এবার 180 টাকা করে দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। এই রায়ের পরপরই বেলাজিনে মিষ্টি নিয়ে আসে আব্বাসের চেম্বারে। জানায় এই কেসটা ইচ্ছা করেই হেরেছেন। কারণ কেসটা যেন আপনি সুপ্রিম কোর্টে নিয়ে যেতে পারেন। আর তালাকের পুরো কেচ্ছায় খতম করতে পারেন। আব্বাস জানায় আপনি যে এত দ্রুত বুঝে যাবেন তা তো বুঝতে পারিনি। বেলাজেন জানায় আমরাও কিন্তু কম যায় না। আব্বাস বলে সেক্যুলার লয়ের মাধ্যমে শরীয়া আইনকে নিয়ে মজা করা হচ্ছে। তা তো আমি চেয়ে চেয়ে দেখতে পারিনা। তাই না? এই শরীয়া আইনকে বাঁচানো আমাদের ফরজ। বেলা তখন বলে স্ত্রী সন্তানের দেখভাল করাটাও তো ফরজ। তারপর মিষ্টি নিয়ে যেতে চায় বেলা। সাথে জানায় আপনার যে সুগার খাওয়া চলবে না সেটা সাজিয়া আমাকে জানিয়েছে। এই কথা শুনে কিছুটা চুপ হয়ে যায় আব্বাস। সায়রা এবার আব্বাসকে বলে দরকার হলে 180 টাকা করে দেব। তাও সুপ্রিম কোর্টে আর মামলা করো না। আব্বাস জানায় আমি 180 টাকার জন্য লড়ছি না। সায়রা এবার আসে সাজিয়ার রুমে। এসে সাজিয়াকে বলে কি শুরু করেছো? সাজিয়া বলে আমি তো 180 টাকায় মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু আব্বাস তো মেনে নিচ্ছে না। সাইরা বলে ও তোমাকে ভালোবাসে। তারপরও এসব করছো কেন? সাজিয়া জানায় আমিও তোমাকে মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু তুমি তো তোমার পুরো হক আদায়ের জন্য সব সত্য বলে দিয়েছো। যদিও জানতে এর পরিণামটা খারাপই হবে। তবে সবসময় ভালোবাসা যথেষ্ট নয়। চাই সম্মানও। সেদিনই সাজিয়ার মা কল করে আব্বাসের ফোনে। ফোনটা রিসিভ করে আব্বাসের মা। সাজিয়ার মা কোন জরুরি কথা বলতে চায় সাজিয়াকে। কিন্তু আব্বাসের মা ফোন দিতে নিষেধ করে। আসলে সাজিয়ার মা সাজিয়াকে জানাতে চেয়েছিল যে তার বাবা মারা গিয়েছেন। কিন্তু সেটা শেষমেষ ফায়েজ এসে জানায়। সাজিয়া ছুটে যায় বাড়িতে। বাবার মৃত্যুতে আরো ভেঙে পড়ে সে। আব্বাস মাটি দিতে আসে। মাটি দিতে এসে সে তার বড় ছেলেকে কাছে ডাকলে বড় ছেলে পাত্তাই দেয় না। মাটি দেওয়ার পর সাজিয়া তার বাবার রেখে যাওয়া জিনিসগুলো ধরে শুধু কান্না করে। কোরআন শরীফে বাবার রেখে যাওয়া একটা চিরকুট পায় সাজিয়া। যেখানে বাবা লেখে সাজিয়া বানু তুই ঠিক ছিলি। সাজিয়া সেটা দেখে শুধুই কান্না করে। এর মধ্যে সাজিয়া একদিন বাজারে আসলে ওই প্রতিবেশী লোকটা সাজিয়া আর সাজিয়ার বাবাকে নিয়ে কটু কথা বলে। সাজিয়াও তখন জনসম্মুখে জানায়, আপনি তো সারাদিন রাত বউকে পেটান। তারপর সকালে কোরআন শরীফের বয়ান দেন। লোকটি রেগে গিয়ে বলে, কোরআনে স্ত্রীকে কন্ট্রোল করার নির্দেশ আছে। সাজিয়া এবার বলে, আপনি আসলে ঠিকমতো কোরআন পড়েন ইনি? যদি পড়তেন তাহলে অন্যকে নিয়ে কটুকথা আর বউকে নির্যাতন করতেন না। কোরআন শরীফের প্রথম শব্দই হচ্ছে ইকর যার অর্থ পড়। যেটা আপনি ঠিকমতো আয়ত্ত করতেই পারেননি। এসব শুনে লোকটি আরো রেগে যায়। কারণ সে ছিল মৌলভী। তাই সবাইকে নির্দেশ দেয় যেন কেউ তার সাথে কথা না বলে। কেউ যেন সাজিয়াকে আর কোন বাজারও না দেয়। তার ছেলেমেয়ের সাথেও যেন না খেলে। একদম এক ঘরে করে রাখতে বলে। সাজিয়া তাই কয়েকটা বাজার ঘরে নিয়ে এসে শুধু দেখতে থাকে। তারপর দরজা খুললে অনেকগুলো বাজারের ডালা দেখতে পাই। যেটা সাইরা দিয়েছে সাজিয়ার জন্য। শুরু হয় রোজা। সাজিয়ার দুই ছেলে নানার কবর জিয়ারত করতে আসে। সেখানে আব্বাস আসলেই দুই ছেলে চলে যায়। আব্বাস তাই সাজিয়ার রুমে এসে বলে, আমার ছেলে আমাকে দেখে দূরে চলে যায়। এর চেয়ে কষ্টের আর কি আছে? আজকে পবিত্র রাত। জানি আমি অনেক গুনাহ করেছি। হয়তো এর মাফ আমি পাবো না। কিন্তু তোমার কি হবে? আমি তো শুধু ম্যাচের কাঠি জ্বালিয়েছি। তুমি তো পুরো দুনিয়া জ্বালিয়ে দিয়েছো। সাজিয়া খাবার দিয়ে জানাই এই পবিত্র দিনে আপনার সকল গুনাহ মাফ হয়ে যাক। এই দোয়াই করি। 1983 সাল শুরু হয় সুপ্রিম কোর্টে সাজিয়া বানু ভার্সেস আব্বাস খান কেসের শুনানি। প্রথম দিন আব্বাস বলা শুরু করে। সে জানায় এই কেসটা আর আমাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটা পুরো দেশের হয়ে গিয়েছে। আমাদের এই হিন্দুস্তান মুসলিমদের শরীয়তের আইন স্থাপন করতে অনেক বেগ পোহাতে হয়েছে। যেটা কিনা সেকশন 125 এর মাধ্যমে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। শরীয়তের বিধান ভেঙে যাচ্ছে। যা হিন্দুস্তান মুসলিম এবং মুসলিমদের জন্য একটা কালো দিক। আমি আগেও বলেছি। এই কেসটা উদ্দেশ্য প্রণোদিত। শরীয়তে বলা আছে তালাক দেওয়ার সাথে সাথেই সকল সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়। এই কেস আসলে লোয়ার কোর্টেই শেষ হওয়া উচিত ছিল। এতদূর আসা উচিতই ছিল না। শুধু শুধু ইসলামিক শরিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের কার্যক্রম শেষে ফায়াদ সাজিয়া এবং ব্যারাজেনের সামনে বলে আজকে আব্বাস যা বলেছে সেটা কিন্তু ঠিকই বলেছে। যেখানে আমি তার পক্ষে কথা বলছি। সেখানে না জানি বেঞ্চ কি ভাবছে। কিন্তু সাইরা আবার আব্বাসকে জানায়। সাজিয়া বানু ঠিক। আব্বাস তাই রেগে যায় সায়রার উপর। 1984 সাল চলে আসে। এবার সুপ্রিম কোর্টে সাজিয়ার বলার কথা। লয় আর বেলাসেন জানায় আমার ক্লায়েন্ট তার কথাগুলো বলবে। সাজিয়া শুরুতে নার্ভাস হয়। তারপর তার নাম এবং নামের অর্থ জানিয়ে বলে এক বছর আগে আমার বাবা মারা গিয়েছে। জানাজার সময় সেরকম কান্না পর্যন্ত পায়নি। কিন্তু আমার বাবা কিনা গ্রামের সবাইকে শিক্ষা দিয়েছে। কিন্তু আমার জন্যই বাবা সে সময় অবহেলিত হয়েছে। তবে আমি তো শুধু আমার হকের জন্যই লড়েছি। আমার ছেলে-মেয়ের খেলার সঙ্গী পায়নি। তাই নিজেরাই নিজেদের সাথে খেলেছে। কখনো নিজেরাই কাজই স্বাস্থ্য। আবার নিজেরাই লয় আর সেজে খেলত। বাচ্চাদের সবচেয়ে হেফাজত হচ্ছে বাবা-মা [মিউজিক] পাশে থাকা। কিন্তু তারা কখনো বাবা মাকে পাশে পায়নি। আর আমি তো শুধু লাশের মতোই ছিলাম। একবার ভেবেছিলাম এসব কোটকাচারি বাদ দেবো। কিন্তু পরক্ষণেই ভেবেছি আমার বাবা যদি আমার সাথে এমন করতো বা তারাও যদি করে তখন বুঝতে পেরেছি এই লড়াই শুধু আমার জন্য নয়। আমার চেয়ে উপরে। আমি এখন ভুলভাল নিয়মের ব্যাপারে লড়ছি। আজকে মুসলিম বোর্ড আব্বাসের সাথে আছে। কারণ শরীয়তের হেফাজতের দায়িত্ব তাদের। আব্বাস সাহেব বলেছিল বড় লড়াই লড়ার পরে সংবিধান পাশ হয়েছে। কিন্তু এই সংবিধানে তো নারীদেরও ভূমিকা ছিল। সাজিয়া আরো জানায় 17 বছর আগে আমার আব্বাসের সাথে বিয়ে হয়েছিল। আমি তার সাথে সুন্দরভাবে সংসার করছিলাম। আট বছর পর দ্বিতীয় বিয়ে করে নিয়ে আসে আব্বাস। তাও আমাকে না জানিয়ে। বিয়ের আগে দুজনের সম্পর্ক ছিল। যেটা কিনা জিনার সমতুল্য। কেউ এখানে তো শরীয়তের কোন কিছু লঙ্ঘন নিয়ে প্রশ্ন উঠায় না তাহলে একজন নারী কেন হক নিয়ে কথা বললে শরীয়া নিয়ে কথা ওঠে একজন ভালো মানুষ এমনিতেই তো তালাক দিয়ে নারীর দেখাশোনা করবে যতদিন না কোন গতি হচ্ছে বিয়ে কোন ছেলে খেলা নয় যেখানে কন্টাক্ট নামে কোন শব্দ থাকবে বিয়ে হচ্ছে ভালোবাসা এবং সম্পর্কের বন্ধন আবার সেটা রক্ষা করাও যখন এই সম্পর্কের বন্ধন ছিন্ন হয়ে যায় তখন আসে দাগাবাজি সাজিয়া আরো জানায় এত বছর কোট কাচারি করে জানতে পেরেছি যা কোরআনে আছে সেটাই সংবিধান হিসেবে চিহ্নিত। আমি হিন্দুস্তানের মুসলিম নারী। আমি আমার হকের জন্য লড়ছি। কিন্তু কেন? এজন্য আমাকে এত কথা শুনতে হবে। আমার মৃত বাবা ভালোবেসে আমার নাম সাজিয়া বানু রেখেছিলেন। যে নামের উপর অনেক কলঙ্ক পড়েছে। তাই আমি এই কলঙ্ক দূর করার জন্য এখানে এসেছি। যদি আজকে এই কলঙ্ক দূর না হয় তাহলে আর কেউ তাদের বাচ্চার নাম সাজিয়া রাখবেন না এই সবকিছু সে কান্না জড়িত কন্ঠে বলে কেটে যায় আরো এক বছর 1985 সালে সুপ্রিম কোর্ট ফাইনালে রেজাল্ট জানায় যেখানে বলে সেকশন 125 এর নারী তালাকের পর মেইনটেনেন্স এর অর্থ পাবে সাথে আরো জানায় কোর্ট কার্যক্রম কোরআনের বিধান অনুযায়ী চলে তাই কোরআনে যেটা স্পষ্ট উল্লেখ আছে সেটাই কোর্ট ফায়সালা করে সাজিয়া বানানো 180 টাকা করে মান্থলি পাবে। তাছাড়া সেকশন 125 এর অন্যান্য কেসগুলো তার সঠিক পথ বেছে নেবে। [মিউজিক] এই নির্দেশনার মধ্য দিয়েই কোর্ট কার্যক্রম শেষ হয়। সাজিয়া বানানো লড়াইয়ে জিতে যায়। রায় শেষে সাজিয়া এবং আব্বাস দুজনেই দুজনকে দূর থেকে দেখে। সাংবাদিক ঘিরে ধরে সাজিয়াকে। সাজিয়ার পুরো কেস নিয়ে বলাও শেষ হয়। সাংবাদিক আবার জিজ্ঞেস করে, এখন কিভাবে চলছেন? সাজিয়া জানায়, বাচ্চাদের কোরআন শরীফ পড়ানো শিখায়। যেটার হাদিয়া দিয়ে সংসার চলছে। মুভির শেষে সাজিয়া বানুকে কোরআন পড়তেই দেখা যায়। এভাবেই মুভিটি শেষ হয়ে যায়। মুভিটির গল্পটা শুধু সাজিয়া বানুর নয়। এটা সেইসব নারীর গল্প যারা ন্যায়ের জন্য লড়ে যায় যখন পুরো সমাজ চুপ করে থাকে। মন চাইলো না তাই ছেড়ে দিলাম। ইসলাম কখনোই এমনটা শেখায় না। বিয়ে মানে শুধু একটা কাগজ নয়। এটা দায়িত্ব, সম্মান আর ভালোবাসার প্রতিশ্রুতি। সাজিয়া বানু সেই হকের জন্য লড়েছিলেন। নিজের সম্মানের জন্য দাঁড়িয়েছিলেন। আর ইতিহাসের জায়গা করে নিয়েছিলেন। সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার। এই গল্পটা কোন সিনেমার গল্প নয়। এটা সত্যি ঘটনার উপর নির্মিত। সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। এই আশা ব্যক্ত করে এখানেই শেষ করছি। আল্লাহ হাফেজ

Need a transcript for another video?

Get free YouTube transcripts with timestamps, translation, and download options.

Transcript content is sourced from YouTube's auto-generated captions or AI transcription. All video content belongs to the original creators. Terms of Service · DMCA Contact

ইমরান হাশমি দ্বিতীয় বিয়ে করল! তারপর যা করলেন সেই নারী l...