পাথর হাতে নবীজির দিকে আবু জাহেল! হঠাৎ কী দেখে ভয়ে পালালো সে? | Islamic Story Bangla

ইমানের আলো2,535 words

Full Transcript

মক্কার সর্দার আবু জাহেল প্রতিজ্ঞা করেছিল আজ সে নবীজিকে হত্যা করবেই পাথর হাতে সে নবীজির একদম কাছে চলেও গিয়েছিল কিন্তু হঠাৎ এমন এক অলৌকিক ঘটনা ঘটলো যা দেখে আবু জাহেলের কলিজা শুকিয়ে গেল সে দেখল মাটি ফুরে এক ভলঙ্কর দানব তার দিকে ধেয়ে আসছে যার চোখ দিয়ে আগুন বের হচ্ছে অথচ বাকিরা কিছুই দেখল না কে ছিল সেই ভয়ঙ্কর সত্তা কেন আবু জাহেল সেদিন মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছিল এই ঘটনার পেছনের আসল রহস্য শুনলে আপনি চমকে উঠবেন। চলুন মূল ঘটনায় যাওয়া যাক। মক্কার অবস্থা তখন খুব গরম। আমাদের নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষকে এক আল্লাহর পথে ডাকছেন। কিন্তু মক্কার নেতারা এটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছিল না। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হিংসা ছিল আবু জাহেলের মনে। সে নবীজিকে থামানোর জন্য সব রকম চেষ্টা করেছে, গালি দিয়েছে, মারধোর করেছে, পথে কাঁটা দিয়েছে। কিন্তু কোন কিছুতেই কাজ হচ্ছিল না। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্ভয়ে [মিউজিক] আল্লাহর কথা বলেই যাচ্ছিলেন। আবু জাহেলের বুকের ভেতর হিংসার আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছিল। সে ভাবল অনেক হয়েছে। আর সহ্য করা যায় না। এবার আমি এমন এক কাজ করব যা আগে কেউ করেনি। আমি মোহাম্মদকে দুনিয়া থেকেই সরিয়ে দেব। নাউজুবিল্লাহ। একদিন মক্কার সব বড় বড় নেতারা কাবার পাশে তাদের মিটিং করার জায়গায় বসে গল্প করছিল আবু জাহেল সেখানে এসে দাঁড়ালো সে খুব রাগী গলায় সবাইকে বলল হে কুরাইশরা তোমরা কি দেখছো না মোহাম্মদ আমাদের দেবতাদের অপমান করছে আমাদের বাপ-দাদার ধর্মকে বাতিল বলছে আমরা আর কতদিন চুপ করে থাকবো সবাই চুপ করে রইল আবু জাহেল তখন লাত ও উজ্জা মূর্তির কসম খেয়ে বলল আমি আজ প্রতিজ্ঞা করছি আগামীকাল সকালে মোহাম্মদ যখন এখানে নামাজ পড়তে আসবে এবং নামাজ পড়তে পড়তে যখন সে সিজদায় গিয়ে মাথা মাটিতে রাখবে ঠিক তখন আমি আসবো আমি আমার সাথে নিয়ে আসবো পাহাড়ের [মিউজিক] সবচেয়ে ভারী আর ধারালো একটা পাথর এবং সেই পাথর দিয়ে আমি তার মাথায় আঘাত করব আমি তার মাথা চূর্ণ করে দেব আবু জাহেলের মুখে এত বড় ভয়ঙ্কর কথা শুনে অন্য কাফের নেতারা খুশি হয়ে গেল তারা তাকে উৎসাহ দিয়ে বলল সাবাস আবুল হাকাম তুমি যাও তুমি এই কাজ করো আমরা তোমাকে কথা দিচ্ছি কেউ তোমার গায়ে হাত দিতে পারবে না আমরা তোমাকে সব রকম সাহায্য করব সেই রাতটা ছিল আবু জাহেলের জন্য এক উত্তেজনার রাত খুশিতে আর উত্তেজনায় সে সারারাত ঘুমাতে পারল না সে শুধু ভাবছিল কাল সকালেই সব ঝামেলা শেষ হয়ে যাবে শয়তান তাকে বারবার উস্কানি দিচ্ছিল সে মনে মনে পরিকল্পনা করছিল কিভাবে পাথরটা মারবে কিভাবে পালাবে রাত শেষ হয়ে সকাল হলো সে সোজা পাহাড়ের দিকে চলে গেল সেখানে গিয়ে সে পাথর খুঁজতে লাগলো। ছোটখাট পাথর তার পছন্দ হলো না। সে খুঁজলো এমন একটা পাথর যা একজন মানুষ খুব কষ্ট করে তুলতে পারে। অনেক খোঁজার পর সে একটা বিশাল ভারী এবং অমশ্রৃণ পাথর পেল। সে পাথরটা কোনমতে দুই হাতে তুলে বুকে জড়িয়ে ধরল। পাথরটা এত ভারী ছিল যে হাঁটতে তার কষ্ট হচ্ছিল। সে ধীর পায়ে কাবার চত্তরে এসে পৌঁছালো। কিন্তু সে সামনে এলো না। সে এক কোনায় লুকিয়ে বসে রইল। যাতে নবীজি তাকে দেখতে না পান। তার চোখ ছিল শিকারি বাঘের মতো। অন্যদিকে মক্কার অন্য নেতারাও সকাল সকাল এসে কাবার চারপাশে গোল হয়ে বসলো। তারা অপেক্ষা করতে লাগলো আজ এক বড় তামাশা হবে। আজ আবু জাহেল তার কথা রাখবে। তারা একে অপরের দিকে তাকিয়ে শয়তানি হাসি হাসছিল। সূর্য উঠলো। মক্কার রাস্তা দিয়ে ধীর পায়ে হেঁটে এলেন আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনি জানতেন না যে আজ তার জন্য কি মরণ ফাঁত পাতা হয়েছে। তার চেহারা ছিল শান্ত। তিনি কাবার সামনে এলেন। কাবাকে সামনে রেখে তিনি নামাজে দাঁড়ালেন। আবু জাহেল আড়াল থেকে সব দেখছিল। সে পাথরটা শক্ত করে ধরল। তার হাতের রগ গুলো টানটান হয়ে গেল। সে ভাবল আর কিছুক্ষণ। শুধু আর কিছুক্ষণ। সিজদায় গেলেই কাজ শেষ। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরা পাঠ করলেন তারপর রুকু করলেন। রুকু থেকে উঠে তিনি সিজদায় গেলেন। তিনি তার পবিত্র কপাল কাবার মাটিতে রাখলেন। তিনি আল্লাহর প্রশংসায় মগ্ন হয়ে গেলেন। এটি সেই মুহূর্ত যার জন্য আবু জাহেল অপেক্ষা করছিল। কারণ মানুষ যখন সিজদায় থাকে তখন সে দেখতে পায় না তার পেছনে কি হচ্ছে। আবু জাহেল তার লুকানো জায়গা থেকে বেরিয়ে এল। তার হাতে সেই বিশাল পাথর। সে বিড়ালের মত পা টিপে টিপে নবীজির দিকে এগোতে লাগলো। কাবার চত্তরে পিন পতন নীরবতা। হাজার হাজার চোখ তাকিয়ে আছে। কারো মুখে কোন কথা নেই। বাতাসের শব্দও যেন ভয়ে থমকে গেছে। সবাই ভাবছে এই বুঝি পাথরটা পড়ল। আবু জাহেল নবীজির খুব কাছে চলে এলো। আর মাত্র কয়েক হাত দূরত্ব। সে পাথরটা তার মাথার উপরে তুলল। এবার সে গায়ের জোরে পাথরটা ছুড়ে মারবে। কাফেররা ভাবল ব্যাস কাজ শেষ। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তেই ঘটলো এক অভাবনীয় এবং অলৌকিক ঘটনা। পাথর মারার ঠিক আগ মুহূর্তে আবু জাহেল হঠাৎ থমকে দাঁড়িয়ে গেল। তার শরীরটা যেন বিদ্যুতের শকে কেঁপে উঠলো। তার চোখগুলো বড় বড় হয়ে গেল। তার হাত থেকে সেই বিশাল পাথরটা ধপাস করে মাটিতে পড়ে গেল এবং পাথরটা তার নিজের পায়েই আঘাত করল। কিন্তু ব্যথার দিকে তার কোন খেয়াল নেই। সে উল্টো পায়ে সরে আসতে লাগলো। যেন তার সামনে সাক্ষাৎ মৃত্যু দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ ভয়ে হা হয়ে গেছে। সে তার দুই হাত মুখের সামনে তুলে ধরল, যেন সে নিজেকে কোন কিছুর আক্রমণ থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে। তার গায়ের রং সাদা হয়ে গেল। মনে হলো তার শরীরে এক ফোঁটা রক্তও নেই। সে উল্টো পায়ে দৌড় দিল। কিন্তু ভয়ে তার পা ঠিকমতো চলছে না। সে হুমড়ি খেয়ে পড়ে যাচ্ছে। আবার উঠছে। তার অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিল সে কোন পাগল হয়ে গেছে। সে চিৎকার করতে করতে তার বন্ধুদের দিকে দৌড়াতে লাগলো। মক্কার নেতারা যারা এতক্ষণ মজা দেখার জন্য বসেছিল তারা এই দৃশ্য দেখে অবাক হয়ে গেল। তারা কিছুই বুঝতে পারল না। তারা তো কিছুই দেখেনি। তারা দেখল মোহাম্মদ শান্তভাবে সিজদায় পড়ে আছেন। তার আশেপাশে কেউ নেই। আর আবু জাহেল একা একাই ভয়ের অভিনয় করছে। তারা দৌড়ে আবু জাহেলের কাছে গেল। তারা তাকে ধরে ফেলল। আবু জাহেল তখনো কাঁপছে তার শরীর ঘামে ভিজে একাকার হয়ে গেছে তার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে তারা তাকে জিজ্ঞেস করল হে আবুল হাকাম তোমার কি হলো তুমি পাড়ালে কেন পাথর ফেললে কেন মোহাম্মদ তো সিজদাতেই ছিল কেউ তো তোমাকে বাধা দেয়নি তখন আবু জাহেল বড় বড় চোখে তাদের দিকে তাকালো সে তোলামি করে বলল তোমরা তোমরা কি কিছুই দেখোনি তোমরা কি অন্ধ হয়ে গেছো তোমরা কি দেখোনি আমার আর মোহাম্মদের মাঝখানে কি দাঁড়িয়ে ছিল। তারা বলল, না আমরা তো কিছুই দেখিনি। সেখানে তো কিছুই ছিল না। তুমি কি পাগল হয়ে গেলে? আবু জাহেল তখন এমন এক দানবের বর্ণনা দিল যা শুনলে সাহসী পুরুষদেরও কলিজা শুকিয়ে যাবে। সে বলল, তোমরা দেখনি কিন্তু আমি দেখেছি। আমি যখনই তার কাছে গেলাম, হঠাৎ মাটি ফেটে আমার সামনে এক ভয়ঙ্কর দৃশ্য ভেসে উঠলো। আমি দেখলাম এক বিশাল উট। না। ওটা কোন সাধারণ উট ছিল না। ওটা ছিল এক দানব। তার মাথাটা আকাশ ছোঁয়া তার শরীরটা পাহাড়ের মত সে আরো বলল তার দাঁতগুলো ছিল বিশাল বড় বড় আর তার চোখ দিয়ে আগুন বের হচ্ছিল সে আমার দিকে হা করে তাকিয়েছিল তার সেই ভয়ঙ্কর রূপ দেখে আমার হাত অবশ হয়ে গেল আমি যদি আরেক কদম এগোই তবে ওই দানব আমাকে চিবিয়ে খেয়ে ফেলত আবু জাহেলের কথা শুনে মক্কার নেতারা একে অপরের দিকে তাকাতে লাগল তাদের চোখমুখে অবিশ্বাসের ছায়া তারা ভাবল আবু জাহেল হয়তো মনের ভুলে এমন কিছু দেখেছে কারণ সেখানে তারা তো কিছুই দেখেনি। তারা আবু জাহেলকে সান্ত্বনা দিয়ে বলল, আবুল হাকাম তুমি শান্ত হও। এটা নিশ্চয়ই মোহাম্মদের কোন জাদুকরী চাল। সে তোমাকে ভয় দেখানোর জন্য তোমার চোখের উপর জাদু করেছে। আসলে ওখানে কোন দানব বা উট ছিল না। আবু জাহেল তখনো কাঁপছে। সে ঢোক গিলে বলল তোমরা একে জাদু বল আর যা খুশি বলো কিন্তু আমি নিজের চোখে যা দেখেছি তা আমি ভুলতে পারছি না। ওই প্রাণীটি যদি আর এক সেকেন্ড সময় পেত তবে আমাকে জ্যান্ত চিবিয়ে খেয়ে ফেলতো। আমি আর কখনো মোহাম্মদের কাছে যাওয়ার সাহস করবো না। অন্তত সে যখন নামাজ পড়ে তখন তো নয়ই। এদিকে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত ধীর স্থির ভাবে তার নামাজ শেষ করলেন। তার মধ্যে কোন ভয় নেই, কোন অস্থিরতা নেই। তিনি সালাম ফিরালেন। তারপর তিনি জায়গা থেকে উঠলেন। আবু জাহেল এবং তার সঙ্গীদের দিকে তিনি একবারের জন্য তাকালেন না। তিনি জানতেন, তার রক্ষাকর্তা স্বয়ং আল্লাহ। তিনি ধীর পায়ে সেখান থেকে চলে গেলেন। পরে সাহাবীরা এই ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারলেন। সাহাবীরা নবীজিকে জিজ্ঞেস করলেন ইয়া রাসূলাল্লাহ আজ কাবার চত্তরে কি ঘটেছিল? আমরা শুনলাম আবু জাহেল আপনাকে পাথর মারতে এসে ভয়ে পালিয়ে গেছে। সে নাকি এক বিশাল দানব উট দেখেছে। কিন্তু আমরা বা অন্য কেউ তো কিছুই দেখিনি। আসল ঘটনাটা কি? নবীজি তখন মুচকি হাসলেন। তার সেই হাসিতে এক গভীর রহস্য ছিল। তিনি সাহাবীদের দিকে তাকিয়ে বললেন আবু জাহেল যা দেখেছে তা সত্য। সে কোন ভুল দেখেনি। সে আমার এবং তার মাঝখানে যে বিশাল প্রাণীটিকে দেখেছে ওটা কোন সাধারণ উট ছিল না। ওটা ছিলেন স্বয়ং ফেরেশতা জিব্রাইল আলাইহিস সালাম। সাহাবীরা অবাক হয়ে গেলেন, জিব্রাইল আলাইহিস সালাম উটের রূপ ধরে এসেছিলেন। নবীজি বলতে লাগলেন, হ্যাঁ, আল্লাহ আজ জিব্রাইলকে পাঠিয়েছেন আমাকে রক্ষা করার জন্য। আবু জাহেল যখন পাথর নিয়ে আমার দিকে আসছিল তখন জিব্রাইল আলাইহিস সালাম এক ভয়ঙ্কর এবং বিশাল পুরুষ উটের রূপ ধারণ করে আমার সামনে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন। তার চেহারা ছিল হিংস্র তার দাঁতগুলো ছিল ধারালো আর তার চোখ দিয়ে আগুনের মত ক্রোধ বের হচ্ছিল। সে হা করে অপেক্ষা করছিল কখন আবু জাহেল কাছে আসবে। এরপর নবীজি এমন এক কথা বললেন যা শুনলে কলিজা কেঁপে উঠবে। তিনি বললেন আল্লাহর কসম যদি আবু জাহেল আর এক পা সামনে বাড়ায় যদি সে আমার শরীরের দিকে হাত বাড়ায় তবে জিব্রাইল আলাইহিস সালাম তাকে সবার চোখের সামনেই ধরে ফেলতেন এবং তাকে ছিড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলতেন তার শরীরের একটা হারও আসতো থাকতো না মক্কার মানুষ দেখতো আবু জাহেলকে এক অদৃশ্য শক্তি কিভাবে ছিড়ে খাচ্ছে আল্লাহু আকবার চিন্তা করুন আল্লাহর কুদরত আল্লাহ তার হাবিবকে রক্ষা করার জন্য আসমানের সবচেয়ে বড় ফেরেশতাকে পাহারাদার হিসেবে পাঠিয়ে দিয়েছেন। আর সেই ফেরেশতা এমন রূপ ধরেছেন যা দেখলে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সাহসী মানুষেরও হার্ট অ্যাটাক হয়ে যাবে। এই ঘটনার পর আবু জাহেল বেশ কিছুদিন অসুস্থ ছিল। ভয়ে তার জ্বর এসে গিয়েছিল। সে তার ঘরে শুয়ে থাকতো আর বিড়বিড় করতো। ওই চোখ ওই দাঁত। কিন্তু মানুষের স্বভাব বড়ই অদ্ভুত। যখন বিপদ কেটে যায় তখন সে আবার তার আগের রূপে ফিরে আসে। আবু জাহেলও তাই করল। কয়েকদিন পর তার জ্বর কমল। তার সঙ্গীরা তাকে বোঝাতে লাগলো। আরে ওটা তো মনের ভুল ছিল। ওটা জাদ ছিল। শয়তান তাকে আবার উস্কানি দিল। আবু জাহেল ভাবল হ্যাঁ তাই তো আমি কেন ভয় পাচ্ছি। আমি মক্কার সরদার আমি মোহাম্মদকে ছাড়বো না। সে ভুলে গেল সেই ভয়ঙ্কর দানবের কথা। সে ভুলে গেল আল্লাহর সেই সতর্ক বার্তার কথা। তার অহংকার আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠলো। সে আবার নতুন করে ইসলাম ধ্বংসের পরিকল্পনা করতে শুরু করল। সে ভাবল, এবার আমি একা যাবো না। এবার আমি দলবল নিয়ে যাব। দেখবো মোহাম্মদকে কে বাঁচায়। কিন্তু সে জানতো না আল্লাহ তাকে ছাড় দিয়েছেন কিন্তু ছেড়ে দেননি। কাবার চত্তরে আল্লাহ তাকে শুধু ভয় দেখিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন। কারণ তার মৃত্যু সেখানে লেখা ছিল না। তার জন্য আল্লাহ আরো অপমানজনক এবং আরো যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু লিখে রেখেছেন। সেই দানব উট তাকে খায়নি ঠিকই। কিন্তু তার জন্য অপেক্ষা করছে এর চেয়েও বড় শাস্তি। আবু জাহেলের এই বাড়াবাড়ি এবং সীমালঙ্ঘন যখন চরমে পৌঁছালো তখন আল্লাহ আরবের মুসলমানদের হিজরত করার হুকুম দিলেন নবীজি মদিনায় চলে গেলেন কিন্তু আবু জাহেল সেখানেও শান্তি পেল না সে মদিনায় আক্রমণ করার জন্য এক বিশাল সেনাবাহিনী প্রস্তুত করল সে কসম খেল মোহাম্মদ এবং তার ধর্মকে পৃথিবী থেকে মুছে ফেলব সে তার 1000 সৈন্যের বিশাল বাহিনী নিয়ে বদর প্রান্তরের দিকে রওনা দিল তার পরণে ছিল লোহার বর্ম হাতে ছিল চকচকে তলোয়। সে ভাবছিল আজ তার বিজয়ের দিন। কিন্তু সে জানতো না বদরের মাঠে তার জন্য জিব্রাইল আলাইহিস সালাম আবার অপেক্ষা করছেন। বদরের প্রান্তর একপাশে আবু জাহেলের নেতৃত্বে 1000 সুসজ্জিত কুরেশী সৈন্য। তাদের কাছে ঘোড়া, উট, তলোয়ার, বর্ম সব আছে। আর অন্যপাশে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নেতৃত্বে মাত্র 313 জন সাহাবী। তাদের অনেকের পায়ে জুতো নেই, হাতে ভালো তলোয়ার নেই। কিন্তু তাদের সাথে আছেন স্বয়ং আল্লাহ এবং তার ফেরেশতারা। আবু জাহেল লোহার বর্ম পড়ে হাতির মত দুল ছিল। সে চিৎকার করে বলছিল, আজ আমরা মোহাম্মদ এবং তার ধর্মকে চিরতরে শেষ করে দেব। সে ভুলে গিয়েছিল কাবার চত্তরে সেই দানব উটের কথা। সে জানতো না আজও সেই জিব্রাইল আলাইহিস সালাম আকাশ থেকে নেমে এসেছেন। তবে এবার একা নন সাথে হাজার হাজার ফেরেশতার বাহিনী নিয়ে যুদ্ধ শুরু হলো। সাহাবীরা জান প্রাণ দিয়ে লড়ছেন। যুদ্ধের সেই তুমুল হট্টগোলের মাঝে এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটলো। বিখ্যাত সাহাবী হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহু লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ তিনি অনুভব করলেন তার ডান এবং বাম পাশ থেকে দুইজন ছোট বাচ্চা তাকে টানছে। তিনি অবাক হয়ে তাকালেন। দেখলেন মদিনার দুটি কিশোর ছিলে আনসারী বালক। তাদের নাম মোয়াজ এবং মোয়াব্বিজ। আব্দুর রহমান রাদিয়াল্লাহু আনহু ভাবলেন হায়। যুদ্ধের ময়দানে আমার পাশেই দুই বাচ্চা। এরা আমাকে কি সাহায্য করবে? কিন্তু তখন এক কিশোর ফিসফিস করে বলল, চাচা, আপনি কি আবু জাহেলকে চেনেন? আমাদের একটু দেখিয়ে দেবেন সে কোনটা? আব্দুর রহমান রাদিয়াল্লাহু আনহু অবাক হয়ে বললেন, ভাতিজা, তোমরা আবু জাহেলকে দিয়ে কি করবে? সে তো অনেক বড় যোদ্ধা। তোমরা তার কাছেও যেতে পারবে না। তখন অন্য কিশোরটি বলল, চাচা, আমরা আল্লাহর নামে কসম খেয়েছি। আমরা শুনেছি এই পাপিষ্ঠ আমাদের নবীজিকে গালি দেয়। আমরা ওয়াদা করেছি হয় তাকে মারবো না হয় নিজেরা মরে যাব। আপনি শুধু আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিন। তাদের কথা শুনে সাহাবীর গায়ে লোন দাঁড়িয়ে গেল। তিনি আঙ্গুল দিয়ে দূরে আবু জাহেলকে দেখিয়ে দিলেন। সে তখন ঘোড়ার পিঠে চড়ে সৈন্যদের মাঝখানে দাপিয়ে বেড়াচ্ছিল। আবু জাহেলকে দেখা মাত্রই সেই দুটি কিশোর বাজ পাখির মতো তার দিকে ছুটে গেল। তাদের হাতে ছিল সাধারণ তলোয়ার। আবু জাহেল তাদের দেখে পাত্তাই দিল না। সে ভাবল এই পিচ্চি ছেলেরা আমার কি করবে? কিন্তু আল্লাহর সাহায্য যখন আসে তখন বয়স কোন বাধা নয়। কিশোর দুটি ভিড় ছেড়ে আবু জাহেলের ঘোড়ার কাছে পৌঁছে গেল। একজন আবু জাহেলের ঘোড়ার পায়ে আঘাত করল। ঘোড়াটি উল্টে পড়ে গেল। আবু জাহেল মাটিতে পড়ে গেল। সাথে সাথে অন্য কিশোরটি তার তলোয়ার দিয়ে আবু জাহেলের পায়ে সজরে আঘাত করল। বিশাল শরীরের আবু জাহেল মক্কার ফেরাউন যন্ত্রণায় চিৎকার করে মাটিতে গড়াগড়ি খেতে লাগলো। যে লোকটা বলেছিল নবীজির মাথা চূর্ণ করবে আজ দুই কিশোরের হাতে তার নিজের পা কেটে আলাদা হয়ে গেল। যুদ্ধ শেষ হলো। মুসলিমরা বিজয় লাভ করল। নবীজি সাহাবীদের বললেন, যাও দেখোতো আবু জাহেলের কি অবস্থা। সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে খুঁজতে গেলেন। তিনি দেখলেন আবু জাহেল মৃত্যুর যন্ত্রণায় ছটফট করছে। তার সারা শরীর রক্তে ভেসে যাচ্ছে। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ রাদিয়াল্লাহু আনহু তার বুকের উপর চড়ে বসলেন। তিনি বললেন, কি হে আল্লাহর দুশমন? আল্লাহ তোমাকে লাঞ্ছিত করেছেন তো? আবু জাহেল তখনো অহংকার ছাড়েনি। সে মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েও বলল, আমাকে কে মেরেছে? আমাকে তো কোন বড় বীর মারেনি। মেরেছে দুটো চাষার ছেলে। এর চেয়ে বড় অপমান আর কি হতে পারে? আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ রাদিয়াল্লাহু আনহু তখন তার শিরোচ্ছেদ করলেন। কাবার চত্তরে আল্লাহ তাকে দানব দেখিয়ে শুধু ভয় দেখিয়েছিলেন, সুযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু সে সেই সুযোগ কাজে লাগায়নি। তাই বদরের মাঠে তাকে এমন মৃত্যু দেওয়া হলো যা ইতিহাসের পাতায় এক জঘন্য দৃষ্টান্ত হয়ে রইল। প্রিয় দর্শক, আবু জাহেলের এই ঘটনাটি আমাদের জন্য এক বিশাল শিক্ষা। প্রথম শিক্ষা আল্লাহর সাথে যুদ্ধের পরিণতি| আবু জাহেল ভেবেছিল তার ক্ষমতা আর লোক বল দিয়ে সে আল্লাহর নবীকে থামিয়ে দেবে| কিন্তু আল্লাহ দেখালেন তিনি চাইলে এক অদৃশ্য ফেরেশতা দিয়েও ভয় দেখাতে পারেন আবার দুটো ছোট বাচ্চাকে দিয়েও মক্কার সরদারকে মাটিতে মিশিয়ে [মিউজিক] দিতে পারেন| আল্লাহর সাথে যুদ্ধ করে কেউ জিততে পারে না দ্বিতীয় শিক্ষা সুযোগ হেলায় না হারানো কাবার চত্তরে যখন সে দানব দেখল তখন তার বোঝা উচিত ছিল যে মোহাম্মদ সত্য নবী তার তওবা করা উচিত ছিল কিন্তু অহংকার তাকে অন্ধ করে রেখেছিল আল্লাহও আমাদের অনেক সময় ছোট ছোট বিপদে ফেলে সতর্ক করেন আমরা যেন আবু জাহেলের মত সেই সংকেত অবহেলা না করি আসুন আমরা আবু জাহেলের মত অহংকারী না হয়ে সাহাবীদের মত বিনয়ী এবং সাহসী হই আল্লাহ আমাদের সবাইকে নবীর প্রকৃত প্রেমিক হিসেবে কবুল করুন এবং দুনিয়া ও আখেরাতের অপমান থেকে হেফাজত করুন আমিন ইয়া রাব্বুল আলামীন মিন

Need a transcript for another video?

Get free YouTube transcripts with timestamps, translation, and download options.

Transcript content is sourced from YouTube's auto-generated captions or AI transcription. All video content belongs to the original creators. Terms of Service · DMCA Contact

পাথর হাতে নবীজির দিকে আবু জাহেল! হঠাৎ কী দেখে ভয়ে পালালো ...