পৃথিবীতে যার জন্ম হয়েছে তাকে মৃত্যুর স্বাদ পেতেই হবে। এটা আমরা সবাই জানি। কিন্তু একবারও কি ভেবে দেখেছেন যিনি কোটি কোটি মানুষের জান অত্যন্ত নিপুণভাবে কবজ করছেন সেই মালাকুল মাউথ বা হযরত আজরাইল আলাইহিস সালাম এর মৃত্যু কিভাবে হবে? যেদিন আসমান আর জমিনের সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে। চারদিকে থাকবে শুধু পিনপতন নীরবতা। তখন মহান আল্লাহ স্বয়ং মৃত্যুর ফেরেশতা আজরাইল আলাইহিস সালামকে নির্দেশ দেবেন তুমিও মরে যাও। জানেন নিজের জান নিজে কবজ করার সময় আজরাইল আলাইহিস সালাম এমন এক ভয়ঙ্কর চিৎকার দিয়ে উঠবেন যা শুনলে মৃত মানুষও ভয়ে দ্বিতীয়বার মারা যেত। সেদিন আসলে কি ঘটবে মহাবিশ্বে? কিভাবে শুরু হবে কিয়াবদ? এই ভিডিওটি আজ আপনার রাতের ঘুম হারাম করে দিতে পারে। যদি দুর্বল চিত্তের হন তবে এখুনি ভিডিওটি স্কিপ করুন। আর যদি বুকের ভেতর সাহস থাকে তবে ঈমানকে শক্ত করে শেষ পর্যন্ত শুনুন। হাদীস শরীফে এসেছে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যেদিন এই বিশাল পৃথিবী এবং আসমান সৃষ্টি করেছেন ঠিক সেই দিনই তিনি এক বিশাল আকৃতির ফেরেশতাকে একটি বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে দাঁড় করিয়ে রেখেছেন। [মিউজিক] তার নাম হযরত ইসরাফিল আলাইহিস সালাম। তার দায়িত্ব জিবরাঈল আলাইহিস সালামের মতো ওহী আনা নয়। অথবা মিকাইল আলাইহিস সালামের মত বৃষ্টি নামানো নয়। তার একটাই কাজ একটি বিশাল আকৃতির সিঙ্গা বা সুর নিজের মুখের কাছে ধরে আল্লাহর আদেশের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হযরত ইসরাফিল আলাইহিস সালাম যেদিন থেকে শিঙ্গাটি মুখে নিয়েছেন, সেদিন থেকে তিনি তার চোখ আল্লাহর আরশের দিকে স্থির করে রেখেছেন। তিনি এক সেকেন্ডের জন্যও চোখের পলক ফেলেন না। তার বুকের ভেতর চরম ভয় যদি তিনি চোখের পলক ফেলেন আর ঠিক সেই মুহূর্তেই আল্লাহ ফু দেওয়ার হুকুম দিয়ে দেন। একবার শুধু চোখ বন্ধ করে ভাবুন, একজন মহান ফেরেশতা কোটি কোটি বছর ধরে চোখের পলক না ফেলে শ্বাস বন্ধ করে দাঁড়িয়ে আছেন। শুধু তার রবের একটা হুকুমের অপেক্ষায়। আর আমরা দুনিয়ার মানুষ কতটা নিশ্চিন্তে ঘুমায়, কতটা অহংকার নিয়ে পৃথিবীতে হেঁটে বেড়াই। পৃথিবীর বয়স যখন একেবারে শেষ হয়ে আসবে, দুনিয়াতে যখন আল্লাহ নাম নেওয়ার মত আর একজন মানুষও বেঁচে থাকবে না, যখন চারদিকে শুধু জিনা, খুন, সুদ আর জুলুমের রাজত্ব চলবে, ঠিক তখনই আল্লাহর সেই চূড়ান্ত ফয়সালা নেমে আসবে। দিনটি হবে শুক্রবার বা জুমাবার। মানুষ তখন কিয়ামতের কথা ভুলেই যাবে তারা নিজেদের দুনিয়াবী কাজে চরম ব্যস্ত থাকবে। সহী বুখারীর হাদিসে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন কিয়ামত এমনভাবে হঠাৎ করে চলে আসবে যে বাজারে দুজন মানুষ কাপড় কেনার জন্য দরদাম করবে কিন্তু তারা সেই কাপড় কেনা বা ভাজ করা শেষ করতে পারবে না। তার আগেই কিয়ামত শুরু হয়ে যাবে। একজন কৃষক তার উট বা গরুর দুধ দহন করে নিয়ে আসবে কিন্তু সে সেই দুধ এক ঢক পান করার সুযোগ পাবে না। একজন ক্ষুধার্থ মানুষ তার নিজের মুখের কাছে খাবারের লোকমা তুলে নেবে কিন্তু সে তা গিলে খাওয়ার আগেই কিয়ামতের শিঙ্গায় ফু দেওয়া হবে। ঠিক এভাবেই পৃথিবীর সব ব্যস্ততার মাঝখানে যখন কেউ টের পাবে না, হঠাৎ আসমান থেকে হযরত ইসরাফিল আলাইহিস সালাম তার শিঙ্গায় প্রথম ফুকটি দেবেন। কোরআনের ভাষায় একে বলা হয় নাফাতুল ফাজা বা চরম আতঙ্কের ফুক। এই ফুকের আওয়াজ কেমন হবে? এটি দুনিয়ার কোন মাইক বা বোমার আওয়াজ নয়। এটি হবে এমন এক ভয়ঙ্কর তীক্ষ্ণ এবং কলিজা কাঁপানো শব্দতরঙ্গ যা মানুষের স্নায়ুতন্ত্রকে মুহূর্তের মধ্যে অকেজো করে দেবে। প্রথম আওয়াজটি হবে খুব ক্ষীণ কিন্তু ধীরে ধীরে তা এত বিকট আর কান ফাটানো গর্জনে পরিণত হবে যে মানুষ ভয়ে পাথর হয়ে যাবে। কুরআনের সূরা আল হাজের প্রথম আয়াতেই আল্লাহ এই ভয়ঙ্কর দৃশ্যের কথা বলে মানুষকে সতর্ক করেছেন। আল্লাহ বলেছেন হে মানুষেরা তোমাদের রবকে ভয় করো। নিশ্চয়ই কিয়ামতের প্রকম্পন এক ভয়ঙ্কর ব্যাপার। এরপর আল্লাহ বলছেন, যেদিন তোমরা তা দেখবে সেদিন দেখতে পাবে প্রতিটি স্তন্নদায়ী মা তার দুধের শিশুকে ভুলে যাবে। প্রতিটি গর্ভবতী নারী আতঙ্কে তার গর্ভপাত করে ফেলবে। তুমি মানুষকে দেখবে মাতালের মত এদিক ওদিক টলছে। অথচ তারা মদ পান করেনি। বরং আল্লাহর আজাব এতটাই ভয়ঙ্কর যে ভয়ে তাদের এই দশা হয়েছে। একটু কল্পনা করুন দৃশ্যটা একজন মা যে মা তার সন্তানকে নিজের প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসে যে মা সন্তানের জন্য নিজের জীবন দিতে পারে সেই মা আতঙ্কে তার কোলের দুধের শিশুকে মাটিতে ফেলে দিয়ে নিজের জান বাঁচানোর জন্য দৌড়াচ্ছে। গর্ভবতী নারীরা ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ছে। মানুষ পাগলের মত চিৎকার করছে। একে অপরের গায়ের উপর দিয়ে দৌড়াচ্ছে। কারো পায়ে জুতো নেই, কারো গায়ে কাপড় ঠিক নেই। কিন্তু তারা পালাবে কোথায়? কারণ বিপদ শুধু মাটির উপর নয় বিপদ আসছে আসমান থেকেও। আল্লাহ আকাশকে হুকুম দেবেন, যেই আকাশ এতদিন আমাদের মাথার উপর ছাদের মত নিরাপদ ছিল, যেই আকাশ দেখে আমরা মুগ্ধ হতাম সেই আকাশ সেদিন টুকরো টুকরো হয়ে ফেটে পড়তে শুরু করবে। আল্লাহ বলেছেন, আকাশ সেদিন গলে যাওয়া তামা বা ফুটন্ত তেলের মত হয়ে যাবে। আর রাতের আকাশের ওই সুন্দর নক্ষত্রগুলো তারা তাদের আলো হারিয়ে ফেলবে। সেগুলো খসে খসে বৃষ্টির মত পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়বে। সূর্য যা আমাদের আলো দেয় তা আলোহীন হয়ে কুচকে যাবে। পুরো মহাবিশ্ব এক গাঢ় এবং ভয়ঙ্কর অন্ধকারে ঢেকে যাবে। শুধু আকাশ নয় পৃথিবীর সবচেয়ে শক্ত জিনিসগুলোর অবস্থাও সেদিন শোচনীয় হবে। আমাদের চোখের সামনের এই বিশাল বিশাল পাহাড়গুলো যেগুলো মেঘের বুক চিড়ে দাঁড়িয়ে থাকে আল্লাহর হুকুমে সেগুলো মাটি থেকে শেকড় সহ উপরে যাবে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে পাহাড়গুলো হবে ধুনো রঙিন তুলোর মত অর্থাৎ লেপ তোষক বানানোর সময় তুলো যেমন বাতাসে উড়ে বেড়ায় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বড় পাহাড়গুলো সেদিন ওজনহীন হয়ে শূন্যে ভাসতে থাকবে এবং একে অপরের সাথে সজরে ধাক্কা খেয়ে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে ধুলোবালিতে পরিণত হবে। সাগরের পানিগুলো কি শান্ত থাকবে? না। সাগরের পানি টকবক করে ফুটতে শুরু করবে। পাহাড় সমান উঁচু উঁচু ঢেউ উঠবে এবং একসময় সেই পানিতে দাউ দাউ করে আগুন ধরে যাবে। চিন্তা করতে পারেন যে পানি দিয়ে আমরা আগুন নেভাই সেই পানি সেদিন আগুনে পরিণত হবে। প্রথম ফুকের সেই প্রলয়ঙ্করী আতঙ্কের পর যখন পৃথিবীর সব মানুষ সব প্রাণী বনের বাঘ সিংহ থেকে শুরু করে জীন জাতি পর্যন্ত সবাই ভয়ে দিশেহারা হয়ে এদিক ওদিক ছুটছে তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন হযরত ইসরাফিল আলাইহিস সালামকে দ্বিতীয়বার সিংহায় ফুঁক দেওয়ার নির্দেশ দেবেন। কোরআনের ভাষায় এই দ্বিতীয় ফুককে বলা হয় নাফখাতুস সাইক বা মৃত্যুর ফুক ধ্বংসের ফুক। এই ফুকটি হবে এমন এক কান ফাটানো আওয়াজ যা শোনার সাথে সাথে আসমান এবং জমিনের প্রতিটি জীবিত প্রাণী প্রতিটি আত্মা সেকেন্ডের ভগ্নাংশের মধ্যে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বে। [মিউজিক] যে মানুষটি দৌড়াচ্ছিল সে দৌড়ানো অবস্থাতেই মাটিতে আছড়ে পড়ে মারা যাবে। যে পাহাড়ের গুহায় লুকানোর চেষ্টা করছিল সে সেখানেই চিরনিদ্রায় সায়িত হবে। সমুদ্রের তলদেশের বিশাল তিমি থেকে শুরু করে আকাশের ক্ষুদ্র পাখিটি পর্যন্ত সবাই এক নিমিষে প্রাণ হারাবে। আল্লাহ পবিত্র কুরআনে সূরা আজ-যুমারে বলেছেন, ততঃপর শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে| ফলে আসমান এবং জমিনে যারা আছে সবাই বেহুশ হয়ে মারা যাবে| তবে আল্লাহ যাদের ইচ্ছা করেন তারা ছাড়া পুরো পৃথিবী এক বিশাল নীরব গোড়স্থানে পরিণত হবে| কোথাও কোন মানুষের গলার আওয়াজ থাকবে না কোন পশুর ডাক থাকবে না পাতার খসখস শব্দও থাকবে না শুধু থাকবে ধ্বংসস্তূপ চূর্ণ বিচূর্ণ পাহাড় শুকিয়ে যাওয়া সাগর আর ফেটে যাওয়া আকাশ কিন্তু আল্লাহ আয়াতে বলেছেন আল্লাহ যাদের ইচ্ছা করেন তারা ছাড়া এর অর্থ কি? তাফসীর কারকরা বলেন, এই সময় পর্যন্ত শুধু চারজন প্রধান ফেরেশতা হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম, হযরত মিকাইল আলাইহিস সালাম, হযরত ইসরাফিল আলাইহিস সালাম আর মালাকুল মউত বা হযরত আজরাইল আলাইহিস সালাম আর আল্লাহর আরশ বহনকারী আটজন ফেরেশতা বেঁচে থাকবেন। তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যিনি চিরঞ্জীব যিনি সবকিছুর মালিক তিনি মৃত্যুর ফেরেশতা মালাকুল মউতকে ডাকবেন। [মিউজিক] আল্লাহ জিজ্ঞেস করবেন হে মালাকুল মউত আর কে কে বেঁচে আছে? আজরাইল আলাইহিস সালাম অত্যন্ত বিনীতভাবে উত্তর দেবেন| হে আমার রব আপনি তো সব জানেন| আমি দুর্বল বান্দা বেঁচে আছি জিবরাঈল আছেন মিকাইল আছেন ইসরাফিল আছেন আর আপনার আরশ বহনকারী ফেরেশতারা বেঁচে আছেন। তখন আল্লাহ হুকুম দেবেন যাও জিব্রাইল এবং মিকাইলের জান কবজ করো। আজরাইল আলাইহিস সালাম আল্লাহর হুকুম পালন করবেন। সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ ফেরেশতা জিব্রাইল এবং মিকাইল আলাইহিস সালাম ও মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবেন। তারা সিজদায় লুটিয়ে পড়ে মৃত্যুবরণ করবেন। আল্লাহ আবার জিজ্ঞেস করবেন এবার বল আর কে কে বেঁচে আছে?" আজরাইল আলাইহিস সালাম বলবেন হে আমার মহান রব হে পরাক্রমশালী এখন আসমান জমিনে কেউ নেই। শুধু আপনিই আছেন যিনি চিরঞ্জীব যার কোন মৃত্যু নেই আর আপনার এই দুর্বল নগণ্য বান্দা মৃত্যুর ফেরেশতা আজরাইল বেঁচে আছে তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এমন এক নির্দেশ দেবেন যা শুনে স্বয়ং মৃত্যুর ফেরেশতাও শিউড়ে উঠবেন আল্লাহ বলবেন হে মালাকুল মউত আমি [মিউজিক] জিন এবং ইনসানের জন্য মৃত্যুকে সৃষ্টি করেছি আজ সব সৃষ্টি ধ্বংস হয়ে গেছে তুমিও আমার একটি সৃষ্টি সুতরাং তুমিও [মিউজিক] মরে যাও হাদিস শরীফে এসেছে আল্লাহর এই হুকুম পেয়ে আজরাইল আলাইহিস সালাম জান্নাত এবং জাহান্নামের মাঝখানে গিয়ে দাঁড়াবেন। তিনি নিজের জান নিজ কবজ করার জন্য প্রস্তুত হবেন। যখন তিনি নিজের রুহ টান দেবেন তখন তিনি এমন এক বিকট এবং ভয়ঙ্কর চিৎকার করে উঠবেন যে চিৎকার যদি পৃথিবীর মৃত মানুষ বা জীনরা শুনতো তবে শুধু সেই চিৎকারের ভয়েই তারা পুনরায় মারা যেত। মৃত্যুর ফেরেশতা যিনি কোটি কোটি মানুষের জান অত্যন্ত সহজেই কবজ করেছেন। তিনি নিজের মৃত্যুর যন্ত্রণায় ছটপট করতে করতে মাটিতে লুটিয়ে পড়বেন। মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার আগেই তিনি বলবেন হে আল্লাহ আমি যদি জানতাম যে মৃত্যুর কষ্ট এত ভয়াবহ তবে আমি আপনার মুমিন বান্দাদের জান কবজ করার সময় আরো অনেক বেশি রহমত এবং দয়া করতাম| আজরাইল আলাইহিস সালামের মৃত্যুর পর পুরো মহাবিশ্বে আসমান এবং জমিনের কোথাও আর কোন প্রাণীর স্পন্দন [মিউজিক] থাকবে না কোন ফেরেশতা নেই কোন মানুষ নেই কোন জীন নেই কোন পাখি নেই শুধু এক মহাশূন্যতা এক গহীন অন্ধকার আর পীন পতন নিস্তব্ধতা তখন আসমান ও জমিনের একমাত্র [মিউজিক] মালিক সকল রাজাধিরাজ মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন একাই থাকবেন। তিনি বিশাল আসমানগুলোকে তার ডান হাতে গুটিয়ে নেবেন। ঠিক যেমন মানুষ পড়ার পর খবরের কাগজ গুটিয়ে ফেলে। তিনি জমিনগুলোকে তার বাম হাতে গুটিয়ে নেবেন। এরপর আল্লাহ তার নিজ মহিমায় তার অহংকার এবং পরাক্রমশালীতার সাথে এমন এক ডাক দেবেন যা শোনার মত কেউ থাকবে না। আল্লাহ তিনবার প্রশ্ন করবেন লিমানিল মুলকু ইয়াওম। অর্থাৎ আজকের দিনে রাজত্ব কার? লিমানিল মুলকু ইয়াওম। আজ ক্ষমতা কার হাতে? লিমানিল মুলকুইয়াওম কোথায় আজ দুনিয়ার সেই অহংকারী রাজারা কোথায় সেই ফেরাউন নমরুদ সাদ্দাদ কোথায় সেই স্বৈরাচারীরা যারা দুনিয়াতে ক্ষমতা পেয়ে বুক ফুলিয়ে চলত কোথায় তারা যারা আমার গরীব বান্দাদের উপর জুলুম করত পুরো মহাবিশ্ব চুপ উত্তর দেওয়ার মত একটা পিপড়াও বেঁচে নেই তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নিজেই নিজের প্রশ্নের উত্তর দেবেন তিনি তার অনন্ত প্রতাপের সাথে ঘোষণা করবেন লিল্লাহিল ওয়াহিদুল কাহার অর্থাৎ আজকের রাজত্ব আজকের ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর যিনি এক ও অদ্বিতীয় যিনি পরাক্রমশালী এবং সবকিছুর উপর বিজয়ী। পুরো মহাবিশ্ব যখন এই অনন্ত নিস্তব্ধতায় ডুবে থাকবে তখন কত বছর কত যুগ বা কত হাজার বছর পার হয়ে যাবে তা একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন। হাদিস শরীফে এসেছে দুই ফুকের মাঝখানে 40 ব্যবধান থাকবে। মহান সাহাবী হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে অন্য লোকেরা জিজ্ঞাসা করেছিলেন, এই 40 কি 40 দিন? নাকি 40 মাস নাকি 40 বছর? হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছিলেন আমি জানিনা কারণ এই সময়কাল শুধু আল্লাহই জানেন এই সুদীর্ঘ নীরবতার পর আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যখন বিচার দিবস শুরু করার সিদ্ধান্ত নেবেন তখন তিনি আবার তার কুদরতের প্রকাশ ঘটাবেন আল্লাহ সবার আগে জীবিত করবেন হযরত ইসরাফিল আলাইহিস সালামকে ইসরাফিল আলাইহিস সালাম গভীর ঘুম থেকে ওঠার মত জেগে উঠবেন তিনি দেখবেন তার হাতে সেই ভয়ঙ্কর সিঙ্গাটি পড়ে আছে তিনি সাথে সাথে সেটি তুলে নেবেন এবং আল্লাহর আরশের দিকে তাকিয়ে পরবর্তী নির্দেশের অপেক্ষায় থাকবেন। তখন আল্লাহ আসমান থেকে এক বিশেষ ধরনের বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। তাফসীর কারকগণ বলেন, এই বৃষ্টি দুনিয়ার সাধারণ বৃষ্টির মতো হবে না। এটি হবে মাউল হায়াত বা জীবনের পানি। এই পানি পুরুষদের বীর্যের মত ঘন হবে। এই বৃষ্টি টানা 40 দিন ধরে পৃথিবীর বুকে সেই চূর্ণ বিচূর্ণ পাহাড় আর ধুলয়ে মিশে থাকা মাটির উপর ঝরতে থাকবে। এই বৃষ্টির স্পর্শে এক অদ্ভুত ব্যাপার [মিউজিক] ঘটবে। মাটির নিচে থাকা মানুষের পচা গলা হাড়গোড়গুলো আবার জোড়া লাগতে শুরু করবে। মাটির নিচে কঙ্কালগুলোর গায়ে মাংস গজাবে, রগ তৈরি হবে, চামড়া দিয়ে শরীর ঢেকে যাবে। তারা পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে তৈরি হয়ে যাবে। কিন্তু তাদের শরীরে কোন রুহ বা প্রাণ থাকবে না। তারা মাটির নিচে নিথর হয়ে শুয়ে থাকবে। [মিউজিক] তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন হযরত ইসরাফিল আলাইহিস সালামকে হুকুম দেবেন, হে ইসরাফিল, এবার তৃতীয় ফুঁকটি দাও। কুরআনের ভাষায় এই ফুঁককে বলা হয় নাফকাতুল বাস বা পুনরুত্থানের ফুঁক। ইসরাফিল আলাইহিস সালাম তার শিঙ্গায় এক প্রচন্ড ফুঁক দেবেন। আর সেই ফুকের সাথে সাথে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সমস্ত রুহকে হুকুম দেবেন, তোমরা তোমাদের নিজ নিজ শরীরে প্রবেশ করো। কোটি কোটি রুহ যা এতদিন বার্জাখে বা অপেক্ষমান জগতে ছিল তারা চোখের পলকে বাতাসের বেগে যার যার শরীরের দিকে ছুটে যাবে। প্রত্যেকটি রুহ ঠিক তার নিজের শরীরকেই খুঁজে নেবে। কোটি কোটি মানুষের ভিড়ে একটা রুহ ভুল করে অন্যের শরীরে ঢুকবে না। আর ঠিক তখনই পৃথিবীর মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যাবে। কুরআনের সূরা জিলজালে আল্লাহ বলেছেন এবং জমিন যখন তার ভেতরের সব বোঝা মানুষদের বের করে দেবে। কোটি কোটি মানুষ হযরত আদম আলাইহিস সালাম থেকে শুরু করে কিয়ামত পর্যন্ত যত মানুষ জন্মেছিল সবাই একযোগে মাটির নিচ থেকে মাথা তুলে দাঁড়াবে। তাদের গায়ে কোন সুতো পরিমাণ কাপড় থাকবে না। পায়ে কোন জুতো থাকবে না। তারা সবাই মাতালের মত পাগলের মত মাটি ঝাড়তে ঝাড়তে উঠে দাঁড়াবে। তাদের চোখে মুখে থাকবে চরম আতঙ্ক আর বিশ্বয় তারা এদিক ওদিক তাকাবে। যারা দুনিয়াতে আল্লাহকে মানেনি তারা ভয়ে চিৎকার করে বলবে, হায় আমাদের দুর্ভোগ। কে আমাদের এই ঘুমের জায়গা থেকে জাগিয়ে তুলল? তখন মুমিনরা বা ফেরেশতারা উত্তর দেবে। এটাই তো সেই দিন যার ওয়াদা দয়াময় আল্লাহ করেছিলেন এবং রাসূলগণ সত্য বলেছিলেন। শুরু হবে হাশরের ময়দানের দিকে দৌড়, কেউ কারো দিকে তাকানোর সময় পাবে না। মা তার সন্তানকে চিনতে পেরেও দূরে পালিয়ে যাবে। ভাই তার ভাইকে এড়িয়ে চলবে। স্বামী তার স্ত্রীকে দেখে মুখ ফিরিয়ে নেবে। দুনিয়াতে যে মানুষটা আপনার জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত ছিল, হাশরের মাঠে সে আপনাকে দেখে পালিয়ে যাবে। কারণ সবার মাথায় একটাই চিন্তা। আজ আমার কি হবে? আজ আমার বিচার হবে। আমার আমলনামায় কি লেখা আছে? আমি কি জান্নাতে যাবো? নাকি জাহান্নামের আগুনে জ্বলবো? মানুষগুলো পঙ্গপালের মত একদিকে সতে থাকবে। তাদের হাঁকিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আকাশ থেকে আগুন নামবে। ফেরেশতারা তাড়া করবে। হাশরের সেই বিশাল ময়দান হবে সাদা, সমতল আর রুটির মত গোলাকার। যেখানে লুকানোর কোন গাছ থাকবে না, কোন গর্ত থাকবে না, কোন বিল্ডিং থাকবে না। যে সূর্য আমাদের থেকে 9 কোটি 30 লক্ষ মাইল দূরে আছে সেই সূর্যকে নামিয়ে আনা হবে মানুষের মাথায় মাত্র এক মাইল বা এক বিগতে উপরে। রোদের তাপে মানুষের মাথার মগজ ভাতের মারের মত টকবক করে ফুটতে থাকবে। মানুষ নিজের পাপের কারণে নিজের ঘামের মধ্যে হাবুডুবু খেতে থাকবে। কারো ঘাম হবে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত, কারো হাঁটু পর্যন্ত, কারো কোমর পর্যন্ত। আবার কেউ নিজের ঘামের ভেতরেই ডুবে হাবুডুবু খেতে থাকবে। আর এই ভয়ঙ্কর দিনটি দুনিয়ার হিসেবে এক-দুই দিন নয় পুরো 50 হাজার বছরের সমান দীর্ঘ হবে। আর সেইদিন এই ভয়ঙ্কর রোদের মাঝে কোন এসি থাকবে না, কোন ছাতা থাকবে না। শুধুমাত্র সাত শ্রেণীর মানুষ আল্লাহর আরশের নিচে ভিআইপি ছায়া পাবে। কারা তারা? যারা দুনিয়াতে যৌবনের তারণায় পাপ করেনি। আল্লাহকে ভয় করে চলেছে যারা ক্ষমতার চেয়ারে বসে ন্যায় বিচার করেছে যারা এত গোপনে দান করেছে যে ডান হাত দান করলে বাম হাতও জানতে পারেনি আর যাদের অন্তর সবসময় মসজিদের সাথে লাগানো ছিল প্রিয় ভাই ও বোনেরা আমাদের ঘুম ভাঙ্গানোর জন্য আজ আমরা দুনিয়ার মোহে পড়ে টাকার পেছনে ছুটে মোবাইল আর ইন্টারনেটে ডুবে গিয়ে সেই ভয়াবহ দিনটিকে ভুলে গেছি এখনো সময় আছে শ্বাস থাকতে আল্লাহর কাছে তওবা করুন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ধরুন কারণ যখন হযরত ইসরাফ আলাইহিস সালামের সিঙ্গায় ফুক পড়ে যাবে। তখন হাজার কাঁদলেও আর তওবা করার কোন সুযোগ থাকবে না। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হাশরের ময়দানে আরশের ছায়া নসিব করুন। আমিন।
Get free YouTube transcripts with timestamps, translation, and download options.
Transcript content is sourced from YouTube's auto-generated captions or AI transcription. All video content belongs to the original creators. Terms of Service · DMCA Contact