আজকের এই কাহিনী আপনাদের এক অন্য জগতে নিয়ে যাবে যেখানে বিশ্বাস আর অলৌকিকতা মিলেমিশে একাকার। কল্পনা করুন এমন এক বাদশাহর কথা যিনি শুধু মানুষ নন বাতাসকেও নিজের ইচ্ছায় চালাতেন। তার একটি আদেশে বাতাস মুহূর্তেই এক মাসের পথকে এক ঘন্টায় পার করিয়ে দিত। আশ্চর্য নয় কি? ভাবুন তার একটি মাত্র আংটির ক্ষমতা এতটাই ছিল যে জিন, মানুষ, পশুপাখি সকলেই তার সেবায় নিঃস্বার্থভাবে হাজির হতো। কিন্তু যখন সেই অলৌকিক আংটি হারিয়ে গেল যখন তার নিজের প্রজারাও তাকে চিনতে পারল না তখন কি ঘটেছিল সেই বাদশাহ কি তার হারানো ক্ষমতা ফিরে পেয়েছিলেন তিনি কি সমুদ্রের গভীর থেকে এক সাধারণ মাছ ধরেছিলেন যার পেট থেকে বেরিয়ে এসেছিল সেই বিশ্বয়কর আংটি হ্যাঁ দর্শক আজকের এই গল্পে রয়েছে জীনদের আনুগত্যের অবিশ্বাস্য কাহিনী শয়তানের সূক্ষ ষড়যন্ত্র ফেরেশতাদের আগুনের গোলার চমকপ্রদ ঘটনা এক রাজকন্যার প্রেম ও তার ভোল মূর্তি পূজার ঘোল ফেতনা আর সেই কিংবদন্তি সিন্দুক যার খোঁজে ইহুদিরা আজও দিশেহারা তাহলে চলুন ডুব দেই হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের সেই অলৌকিক ও রোমাঞ্চকর কাহিনীর গভীরে যা আপনার মনকে মুগ্ধ করে রাখবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম যিনি ছিলেন আল্লাহর এক মনোনীত নবী ও বাদশাহ মহান আল্লাহর কুদরতে তিনি বাতাসকে নিজের বশীভূত করতে পারতেন বাতাসের উপর তার ছিল একছত্র নিয়ন্ত্রণ। তিনি যখনই বাতাসকে নির্দেশ দিতেন বাতাস তার বাহন হয়ে উঠত এবং তাকে নিয়ে এত দ্রুত বেগে উঠতে শুরু করত যে, যে দূরত্ব অতিক্রম করতে মানুষের এক মাস সময় লাগতো সেই পথ হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম এক ঘন্টারও কম সময় পাড়ি দিতেন। তার রাজত্ব শুধু মানুষের উপরই সীমাবদ্ধ ছিল না। প্রাণীকূলও তার ভাষা বুঝতো এবং তার আদেশ পালন করত। এমনকি অনেক অবাধ্য ও শক্তিশালী জ্বীনও তার হুকুমের অপেক্ষায় থাকতো। আর শয়তানরা তো ভয়ে সবসময় তার কাছ থেকে পালিয়ে বেড়াত। হযরত হাসান বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেছেন যে, কিভাবে মহান আল্লাহ তাআলা হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামকে বাতাস নিয়ন্ত্রণ করার এই বিরল ক্ষমতা দান করেছিলেন। হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের একটি অত্যন্ত প্রিয় ঘোড়া ছিল, যা তার হৃদয়ের খুব কাছের ছিল। তিনি এই ঘোড়ায় চড়ে সর্বত্র ঘুরে বেড়াতেন এবং এর প্রতি সব সময় এক গভীর মমতা অনুভব করতেন। এতটাই মোহগ্রস্ত ছিলেন তিনি যে একবার আসরের নামাজের সময়ও পেরিয়ে যাচ্ছিল তার প্রিয় ঘোড়া পরিদর্শনে। যা তাকে তার রবের স্মরণ থেকে কিছুটা হলেও বিচ্যুত করছিল। এই গভীর মোহ কাটাতে আর আল্লাহর প্রতি তার একাগ্রতা প্রমাণ করতে তিনি এক কঠিন সিদ্ধান্ত নিলেন। তিনি তার সেই প্রিয় ঘোড়াটিকে জবাই করে ফেললেন। হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের এই নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও দৃঢ় সংকল্পে মহান আল্লাহ তা'আলা অত্যন্ত খুশি হলেন এবং তখন থেকেই বাতাসকে তার এক অবিস্মরণীয় বাহন বানিয়ে দিলেন। এরপর যখনই হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের কোথাও ভ্রমণের প্রয়োজন হতো তিনি বাতাসকে নির্দেশ দিতেন। এবং বাতাস এত জোরে বইতে শুরু করত যে মুহূর্তেই তিনি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছে যেতেন। শুধু বাতাসই নয়, মহান আল্লাহ তা'আলা জিন এবং শয়তানদেরকেও হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম এর বশীভূত করে দিয়েছিলেন। তারা সর্বদা তার চাকরের মতো আদেশ পালন করত। এই জিনরা সাগরের তলদেশ থেকে হীরা, মুক্তা এবং অন্যান্য মূল্যবান সম্পদ সংগ্রহ করে আনত। হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের অসামান্য ইমারত বানানোর শখ ছিল এবং এই জিনরাই তার হুকুম অনুযায়ী অগণিত সুন্দর সুন্দর প্রাসাদ ও স্থাপত্য নির্মাণ করেছিল যা তৎকালীন পৃথিবীতে এক বিস্ময় এই সমস্ত জ্বীনদের মধ্যে কেউ যদি হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের অবাধ্য হতো তবে হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম তাকে ভয়ঙ্কর শাস্তি প্রদান করতেন পবিত্র কোরআন শরীফে সূরাতুল আম্বিয়াতে মহান আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন আমি সুলাইমানের জন্য অনেক শয়তান ও জীনকে নিয়োগ দিয়েছি ছিলাম যারা তার হুকুম পালন করত এবং তার জন্য কাজ করত। প্রিয় দর্শক জিনদের মাঝেও দুই ধরনের জিন রয়েছে। একদল জিন ছিল ঈমানদার যারা নবীদের দেওয়া হুকুমকে ঈমানের দায়িত্ব হিসেবে পালন করত। আরেক দল জিন ছিল কাফের যারা হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের ভয়ে কাজ করত। কিন্তু তাদের দ্বারা হযরত সুলাইমানের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যেত। কারণ তাদের আনুগত্য ছিল ভয়ে ভালোবাসায় নয়। এই কারণেই মহান আল্লাহ তাআলা হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের হেফাজতের এক বিশেষ ব্যবস্থা করলেন পবিত্র কোরআন শরীফে আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন আর যারা সুলাইমানের অবাধ্য হতো আমি নিশ্চয়ই তাদেরকেই জাহান্নামে নিক্ষেপ করবঅনেক মুফাসসিরগণ বর্ণনা করেন যে মহান আল্লাহ তাআলা একজন ফেরেশতাকে নিয়োগ করেছিলেন যার হাতে সবসময় আগুনের গোলা থাকতো কোন জিন যদি হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের অবাধ্য হতো সেই ফেরেশতা অবাধ্য জ্বীনের উপর আগুনের গোলা ছুড়ে মারতেন এবং সেই এই গোলার আঘাতে অবাধ্য জিন পুড়ে ছারখার হয়ে যেত। এই ভয়ঙ্কর শাস্তি অবাধ্য জ্বীনদেরকে হযরত সুলায়মানের প্রতি অনুগত থাকতে বাধ্য করত। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা আরো বলেন, আমি সুলায়মানের জন্য গলিত তামার ঝর্ণা প্রবাহিত করেছিলাম। হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের নিকট মহান আল্লাহ তাআলা প্রদত্ত সবথেকে বড় মোজেজাগুলোর মধ্যে এটিও ছিল একটি। এই আগুনের ঝর্ণা বা গলিত তামার প্রবাহের সাহায্য নিয়ে জিনরা লোহা গলিয়ে বড় বড় বাসনপত্র জাহাজ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র তৈরি করত। এটি ছিল এক অত্যাচার্য প্রযুক্তি যা সেই যুগে কেউ কল্পনাও করতে পারতো না। হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম কে মহান আল্লাহ তাআলা মোজেজাস স্বরূপ একটি আংটি দান করেছিলেন। কথিত আছে এই আংটি সরাসরি জান্নাত থেকে আনা হয়েছিল এবং সর্বপ্রথম এই আংটি হযরত দাউদ আলাইহিস সালামের নিকট সোপর্দ করা হয়েছিল। হযরত দাউদের মৃত্যুর পর এই আংটির মালিকানা তার পুত্র হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম এর নিকট আসে। এই আংটির বৈশিষ্ট্য ছিল অলৌকিক। এই আংটি ধারণ করলে মানুষ জিন এবং পশুপাখি সবাই হযরত সুলাইমানের নিকট বশীভূত হয়ে ছুটে আসতো। এই আংটি পড়েই হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম তার বিশাল সাম্রাজ্য খুব সুন্দর ভাবে পরিচালনা করতেন। এটি ছিল তার ক্ষমতা ও নবুয়তের প্রধান নিদর্শন। আংটি যতক্ষণ তার কাছে থাকত ততক্ষণ তিনি এক অপারজীয় শক্তির অধিকারী ছিলেন আর যখনই এটি তার কাছ থেকে দূরে থাকতো তখন তিনি এক অসহায়ত্ব অনুভব করতেন। অদ্ভুতভাবে হযরত সুলায়মানের মৃত্যুর পরেই এই আমটি অদৃশ্য হয়ে যায়। একবার হযরত সোলাইমান আলাইহিস সালাম সাইদুল নামের একটি শহর আক্রমণ করেন কারণ সেই শহরের বাদশাহের ফেতনা এবং প্রজাদের উপর তার অত্যাচারের খবর তার কাছে চলে এসেছিল এই যুদ্ধে হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের বাহিনী বিজয় লাভ করে এবং সেই অত্যাচারী বাদশাহকে হত্যা করে ফেলেন। সেই যুদ্ধের পর ফেতনাবাজ বাদশাহের কন্যাকে হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের নিকট হাজির করা হয়। হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম তাকে তাওহীদের দাওয়াত দিলেন এবং সেই বাদশাহের মেয়ে আল্লাহর একত্ববাদ কবুল করে মুসলমান হয়ে যান এরপর হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম তাকে বিবাহ করেন কিন্তু বিয়ের কয়েক বছর পরেও সেই রাজকন্যা তার পিতাকে মোটেও ভুলতে পারছিলেন না এক গভীর বিষন্নতা তাকে আচ্ছন্ন করে রাখত তিনি প্রায়ই তার পিতার কথা ভেবে বিমর্শ হয়ে থাকতেন এই সুযোগে জিনরা হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের চোখ এড়িয়ে তার বাবার মতোই দেখতে একটি মূর্তি তৈরি করে দেয়। এই মূর্তি দেখে রাজকন্যা কিছুটা শান্তি পেতেন। কিন্তু এর কিছুদিন পরেই সেই বাদশাহের কন্যার কওমের লোকেরা সেই জীনদের বানানো তার পিতার মূর্তির পূজা শুরু করে দেয়। এভাবে হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের অজ্ঞাতে তার রাজ্যে মূর্তি পূজা শুরু হয়ে যায়। যা প্রায় 40 দিন পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। এরপর হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের বিশ্বস্ত উজির আসিফ বিন বাখরিয়ারের কাছে এই খবর পৌঁছে যায়। তিনি দ্রুত হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামকে এই ভয়াবহ খবরটি জানালেন এই খবর শুনে হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম ভীষণ ক্রোধান্বিত হলেন এবং তিনি রাগের বশে সেই মূর্তিকে ভেঙে চুরমার করে ফেললেন। সেই রাজকন্যাকে শাস্তিস্বরূপ শহর থেকে বের করে দিলেন এবং তিনি সেজদায় পড়ে মহান আল্লাহ তাআলার কাছে তার অজ্ঞতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করলেন। এটি ছিল তার জীবনের এক বড় পরীক্ষা এবং তার অনুশোচনা ছিল গভীর ও আন্তরিক। একবার মহান আল্লাহ তাআলা হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামকে পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিলেন হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামকে মহান আল্লাহ তাআলা যে অলৌকিক আংটি দান করেছিলেন কথিত আছে এই আংটি জান্নাত থেকে এসেছিল এই আংটি ছিল হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের নবুয়ত প্রাপ্তির সবথেকে বড় আলামত যেমন হযরত মূসা আলাইহিস সালামের লাঠি ছিল তার নবুয়তের প্রতীক হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম এই আংটির সাহায্যে তার অনেক কার্য পরিচাল করতেন এবং এই আংটি কখনোই নিজের কাছ থেকে দূরে রাখতেন না। তবে খুব বেশি প্রয়োজন হলে তিনি তার এই আংটি তার একজন বিশ্বস্ত স্ত্রী যার নাম ছিল আমিনা তার কাছে গচ্ছিত রেখে যেতেন। একবার হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম তার এই আংটি আমিনার নিকট গচ্ছিত রাখলেন এবং কিছুক্ষণের জন্য সৌচাগারে গেলেন। ঠিক সেই সময় শাকার নামের এক ধূর্ত শয়তান হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের রূপ ধরে আমিনার নিকট আসে। শয়তানের নিখুঁত ছদ্মবেশ দেখে আমিনা তাকে চিনতে পারেননি তিনি ভেবেছিলেন তিনি হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম সরল মনে আমিনা শয়তানের হাতে আংটিটি তুলে দিলেন এই আংটি শয়তানের হাতে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম তার সমস্ত ক্ষমতা হারিয়ে ফেললেন। সৌচাগার থেকে ফিরে এসে হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম দেখেন তার সিংহাসনে অন্য কেউ বসে আছে এবং সবাই সেই শয়তানরূপী ব্যক্তিকে বাদশাহ বলে মেনে নিচ্ছে। সবথেকে অবাক করার ব্যাপার ছিল তার নিজের প্রজারা এমনকি তার আপন স্ত্রীরাও তাকে চিনতে পারছিল না। তিনি যখন বলতেন আমি আল্লাহর নবী হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম কেউ তার কথা বিশ্বাস করতো না এবং সবাই তাকে নিয়ে হাসি ঠাট্টা করত তাকে পাগল ভাবতো। এবার তিনি বুঝতে পারলেন এটা মহান আল্লাহ তাআলার তরফ থেকে এক বিশেষ পরীক্ষা। এই ঘটনার পরে হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম বিমর্শ মনে শহর ছেড়ে চলে যান। তিনি ছিলেন একজন নবী। কিন্তু এই মুহূর্তে তিনি ছিলেন ক্ষমতা ও সম্মানহীন এক সাধারণ মানুষ। বেঁচে থাকার জন্য তাকে রোজগারের সন্ধান করতে হল। এরপর তিনি একজন মাছওয়ালার খোঁজ পান যার অধীনে তিনি কাজ শুরু করেন। হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম তার জন্য প্রতিদিন সমুদ্র থেকে মাছ ধরে নিয়ে আসতেন। এর বদলে ওই মাছওয়ালা তাকে প্রতিদিন দুইটি করে মাছ পারিশ্রমিক হিসেবে দিতেন। এই কাজটি তিনি বেশ কিছুদিন ধরে করেছিলেন। এক গভীর হিউমিলিটি ও ধৈর্যের সাথে। এই কঠিন সময়েও তিনি গোপনে মহান আল্লাহ তাআলার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন এবং নিজের গুনাহের জন্য ক্ষমা চাইতেন। অবশেষে মহান আল্লাহ তাআলা হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের দোয়া কবুল করলেন। অন্যদিকে সেই শয়তান হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালামের বেশে বাদশাহী পরিচালনা করছিল। কিন্তু তার আচরণ, বিচার এবং সিদ্ধান্তগুলো ধীরে ধীরে স্বাভাবিক সুলাইমানের চেয়ে ভিন্ন হতে শুরু করে। লোকেরা তার আচরণ দেখে বুঝতে পারছিল যে সে আসলে প্রকৃত হযরত সুলাইমান হতেই পারে না। সুলাইমানের বারবারের আলেমরা একত্রিত হয়ে সিদ্ধান্ত নিল যে তারা তার সামনে তাওরাত পাঠ করবে। যদি সিংহাসনে বসা ব্যক্তি তাওরাতের পবিত্র আয়াত সহ্য করতে না পারে তবে সে অবশ্যই শয়তান হবে। পরের দিন আলেমরা দরবারে তাওরাত পাঠ শুরু করল। শয়তান এই তাওরাতের আয়াত সহ্য করতে পারলো না। সে মুহূর্তেই দরবার থেকে পালিয়ে গেল। যেতে যেতে শয়তান সেই আংটিকে সমুদ্রে ফেলে দিল যেন এই আংটি আর কখনোই হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের কাছে ফেরত না যায় কিন্তু মহান আল্লাহ তাআলার কুদরতি বিধান ছিল অন্যরকম সেই আংটি একটি মাছ গিলে ফেলল আর সেই দিনই হযরত সুলায়মান ওই মাছটিকে সমুদ্র থেকে ধরে আনলেন। মহান আল্লাহ তাআলার কুদরতে মাছওয়ালা যখন হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালামকে দুইটি মাছ দিলেন সেই দুইটি মাছের মাঝে সেই মাছটিও ছিল যার পেটে আংটি ছিল। হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম যখন মাছটিকে কাটতে গেলেন তিনি দেখতে পেলেন সেই মাছের পেটে তার হারানো অলৌকিক আংটি রয়েছে। তার চোখ দিয়ে আনন্দের অশ্রু ঝরে পড়ল। তিনি যখনই সেই আংটি পুনরায় তার আঙ্গুলে পড়লেন তৎক্ষণাৎ সমস্ত জিন এবং মানুষেরা তার খেদমতে হাজির হয়ে গেল। হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে শুকরিয়া আদায় করলেন এবং তার হারানো বাদশাহী ও ক্ষমতা পুনরায় প্রতিষ্ঠা করলেন। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে আল্লাহর পরীক্ষা যতই কঠিন হোক না কেন তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপনকারী বান্দা কখনো হতাশ হয় না এবং আল্লাহ তাকে অবশ্যই বিপদ থেকে উদ্ধার করেন। প্রিয় দর্শক, মহান আল্লাহ তাআলা যখন হযরত আদম আলাইহিস সালাম কে দুনিয়ায় প্রেরণ করেছিলেন, তখন তাকে একটি মজবুত কাঠের তৈরি এবং সোনায় মোরানো একটি সিন্দুক দান করেছিলেন, যেটি ছিল প্রায় তিন গজ লম্বা এবং দুই গজ চওড়া। কথিত আছে, এই সিন্দুকটি বিভিন্ন নবীদের হাত ধরে হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম এর নিকট পর্যন্ত এসেছিল। এই সিন্দুকটিকেই তাবুতে এ সাকিনা বা সাকিনার সিন্দুক বলা হয়। যখন হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম এই সিন্দুকটি খুঁজে পান তিনি সেখানে অত্যন্ত দামি জিনিসপত্র এবং নবুয়তের নিদর্শনস্বরূপ কিছু পবিত্র সামগ্রী রেখেছিলেন। হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম যেকোনো যুদ্ধ বা লড়াইয়ের পূর্বে এই সিন্দুকটিকে সামনে রাখতেন। এতে করে বনী ইসরাইলের মনে এক অনাবিল শান্তি আসতো এবং তারা নিজেদেরকে সুরক্ষিত ও শক্তিশালী অনুভব করত। যখন বনী ইসরাইলের কোন বিপদ আসতো, তারা এই সিন্দুকের নিকটে চলে আসতো এবং এই সিন্দুকটিকে সামনে রেখে দোয়া করত। কোন শত্রু আক্রমণ করলে তারা এই সিন্দুকের বরকতে জয় লাভ করতে পারতো। যখন কোন বিষয়ে মীমাংসার প্রয়োজন হতো, তখন তারা এই সিন্দুকের শরণাপন্ন হতো। কারণ এর উপস্থিতি ন্যায় ও সত্যের প্রতীক ছিল। কিন্তু যখন বনী ইসরাইলের লোকেরা মহান আল্লাহ তাআলার অবাধ্য হতে শুরু করে এবং তার আদেশ অমান্য করে তখন তাদের উপর গজব চলে আসে। আমেলেখা সম্প্রদায় তাদের উপর আক্রমণ করে এবং তাদের সমস্ত ধন-সম্পদ লুট করে নিয়ে যায়। এই আক্রমণের সময় তারা এই পবিত্র সিন্দুকটিকেও সঙ্গে নিয়ে যায়। কিন্তু সিন্দুক নিয়ে যাওয়ার পরে তারা এই সিন্দুকটিকে একটি অপবিত্র ও নোংরা জায়গায় রেখে দেয় এবং এই সিন্ধুকের সঙ্গে চরম বেয়াদবি করে। এই গম্ভীর বেয়াদবির শাস্তি স্বরূপ একটি কঠিন অসুখ এবং অজানা রোগ এসে এই সম্প্রদায়ের একটি অংশকে একদম শেষ করে দেয়। তখন তারা বুঝতে পারে যে এই সিন্দুকের সঙ্গে বেয়াদবির কারণেই তাদের এই করুণ পরিণতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। এরপর তারা এই সিন্দুকটিকে একটি ঠেলা গাড়িতে করে বনী ইসরাইলের নিকট ফিরিয়ে দেয়। এই তাবুতে এ সাকিনা বা সাকিনার সিন্দুক আজও এক রহস্য। কথিত আছে ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম যখন আসবেন তখন এই সিন্দুকটিকে পুনরায় খুঁজে বের করবেন। কেউ কেউ বলেন ইমাম মাহদী এই সিন্দুকটিকে তুর্কিস্থানের ইন্তোতাই নামক একটি শহর থেকে বের করে আনবেন। ইহুদিরা এখনো সেই সিন্দুকটিকে পাগলের মতো খুঁজে বেড়াচ্ছে। তাদের বিশ্বাস এই সিন্দুকটিকে মসজিদুল আকসার নিচে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। আর এর কারণেই ইহুদিরা মসজিদুল আকসাকে ধ্বংস করতে চায় যাতে তারা সেই সিন্দুকটি খুঁজে পায়। আল্লাহ তাআলা সেই দামি সম্পদকে রক্ষা করুন এবং ইমাম মাহদী আলাইহিস সালামের নিকটে আল্লাহ তাআলা সেই সিন্দুককে পৌঁছে দিন। আমিন। আল্লাহ হাফেজ।
Get free YouTube transcripts with timestamps, translation, and download options.
Transcript content is sourced from YouTube's auto-generated captions or AI transcription. All video content belongs to the original creators. Terms of Service · DMCA Contact