বিয়ের শর্ত স্ত্রীকে প্রতিদিন ১০০ জুতার বাড়ি! তারপর যা ঘটলো..শিক্ষণীয় গল্প #banglagolpo #ইসলামিকগল্প

AAA Puraton Golper Hat – Islamic & Moral Stories3,234 words

Full Transcript

অনেকদিন আগের কথা। রহমতপুর নামের এক জনপদে ইব্রাহিম নামের এক অত্যন্ত সম্পদশালী ব্যবসায়ী তার স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন। তাদের বাড়িটি ছিল যেন এক স্বপ্নের রাজপ্রাসাদ। বিয়ের বহু বছর পর দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর হাজারো কান্নাকাটির পর মহান আল্লাহ ইব্রাহিম সাহেবকে একটি মাত্র পুত্র সন্তান দান করেছিলেন। যার নাম রাখা হয়েছিল তারিক। কিন্তু আদরে অন্ধ হয়ে যাওয়া তারিখ ছোটবেলা থেকেই ছিল ভীষণ জেদি আর অহংকারে মত্ত। তার পায়ের নিচে যেন মাটি পড়তো না। ছোটদের ধমক দেওয়া, চাকরবাকরদের উপর অমানসিক হুকুম চালানো আর যে কোন মূল্যে নিজের জেদ আদায় করা ছিল তার রোজগার অভ্যাস। সে কারো কোন কথাই শুনতে চাইতো না। এভাবে যখন সে যুবক হলো তার বৃদ্ধ মা-বাবা ভাবলেন, হয়তো বিয়ে দিলে ছেলের এই উগ্র স্বভাব শান্ত হবে। তাই একদিন তার মা-বাবা অত্যন্ত নরম সুরে বুক ভরা আশা নিয়ে তাকে বললেন বাবা এবার তোমার বিয়ের বয়স হয়েছে। আমরা চাই তোমার জন্য কোন নেককার চরিত্রবতী ও সুন্দরী মেয়ে খুঁজে ঘরের বউ করে আনি। মায়ের কথা শুনে তারিক এক চরম তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে জবাব দিল। বিয়ে তো আমি করব। কিন্তু আমার একটাই শর্ত। আমার স্ত্রীকে প্রতিদিন বিনা কারণে আমার হাতে 100 জুতার বাড়ি খেতে হবে। রাজি থাকলে বিয়ে ঠিক করো। ছেলের মুখে এমন ভয়ঙ্কর কথা শুনে মা-বাবার যেন মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো। এমন অদ্ভুত আর পাশবিক শর্তে কে তার নিজের কলিজার টুকরা মেয়েকে এই বাড়িতে তুলে দেবে। কোন বাবা আছে যে জেনে শুনে তার মেয়েকে এই জাহান্নামে পাঠাবে। কিছুদিন পর ওই জনপদে অন্য এক সম্ভ্রান্ত ব্যবসায়ী তার মেয়ের জন্য পাত্র খুঁজতে এলেন। কেউ একজন তাকে জানালো যে ইব্রাহিমের এক সুদর্শন যুবক ছেলে আছে। সেই ব্যবসায়ী বুক ভরা আশা নিয়ে ইব্রাহিমের বাড়িতে এলেন। সালাম ও কুশল বিনিময়ের পর যখন বিয়ের কথা উঠলো তারিক সবার সামনে বুক ফুলিয়ে তটখুনাক তার শর্ত জুড়ে দিল। আমার নিকা কেবল সেই মেয়ের সাথেই হবে যে প্রতিদিন নীরবে আমার 100 জুতার বাড়ি সহ্য করবে। এই কথা শুনে মেহমানের চোখ কপালে উঠলো। তিনি হতবাক ও ক্ষুব্ধ হয়ে বললেন, কোন পাগল বাবা নিজের আদরের মেয়েকে রোজ মার খাওয়ার জন্য এমন কসাইয়ের হাতে তুলে দেবে। এই বলে তিনি চরম অপমানে তৎক্ষণাৎ উঠে বাড়ি ফিরে গেলেন। বাড়ি ফিরে তিনি তার স্ত্রীকে সব কথা খুলে বললেন। স্ত্রী শিউরে উঠে বললেন, আল্লাহ বাঁচিয়েছেন। খুব ভালো করেছো যে তুমি ওই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছো। কিন্তু তাদের মেয়ে খাদিজা আড়াল থেকে সব শুনছিল। খাদিজা ছিল অত্যন্ত শিক্ষিতা, বুদ্ধিমতী এবং দ্বীনদার এক মেয়ে। সে হঠাৎ সামনে এসে এক দৃহ কন্ঠে বলল, >> জানান আমি ওই তারিকের সাথেই নিকা করতে চাই। >> মা-বাবা বিশ্বয়ে হতবাক। ডুকরে কেড়ে উঠে মা বললেন, মা তুমি একি বলছো। তুমি কি পাগল হয়ে গেছো? সে তো প্রতিদিন তোমাকে 100 জুতো দিয়ে মারবে। খাদিজা শান্ত কিন্তু অটল কন্ঠে বলল, >> হ্যাঁ মা। আমি রাজি আছি তার এই জুতোর বাড়ি খাওয়ার জন্য। আমার ফয়সালা চূড়ান্ত। আপনারাই নিকাহের ব্যবস্থা করুন। >> বাবা চোখের পানি ফেলে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করলেন কিন্তু খাদিজা কোনভাবেই মানলো না। বাধ্য হয়ে ভাঙ্গার হৃদয়ে তিনি পুনরায় ইব্রাহিমের বাড়িতে গেলেন এবং বললেন যদি মহারানা বা সম্পদের প্রয়োজন হয় আমরা সব দিতে প্রস্তুত। কিন্তু আল্লাহর দোহায় দয়া করে শর্তটা বদলে দিন। কিন্তু অহংকারী তারিক অত্যন্ত গাম্ভীর্যের সাথে বলল আমার এক পয়সাও চাই না কোন সম্পদও চাই না। আমার শর্ত একটাই যা বলেছি সেটাই থাকবে। অবশেষে বাধ্য হয়ে এই ভয়ঙ্কর শর্তেই বিয়ে ঠিক হলো। বিয়ের দিন বরযাত্রী এলো এবং খাদিজা বধু সেজে বুক ভরা সাহস নিয়ে তারিকের ঘরে পা রাখল। শ্বশুরবাড়িতে তাকে খুব উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হলো। শাশুড়ি চোখের পানি ফেলে দোয়া পড়ে তাকে বরণ করে নিলেন। রাতের বেলা চারদিক নিস্তব্ধ। খাদিজা নিজের ঘরে স্বামীর অপেক্ষায় বসে আছে। তারিক ঘরে ঢুকেই নিজের পা থেকে জুতো খুলল এবং চরম অহংকারের সাথে বলল, মাথা এগিয়ে দাও। আজকের 100 জুতোর বাড়ি পাওনা আছে। ওয়াদা পূরণ করো। খাদিজা এতটুকু ভয় না পেয়ে মুচকি হেসে অত্যন্ত শান্ত ও মিষ্টি কন্ঠে বলল >> দেখুন 100 জুতো মারতে চাইলে শখ করে মারতে পারেন আমার কোন আপত্তি নেই আমি সব জেনে শুনেই আপনার সাথে নিকাহে বসেছি তাই ভয় পাওয়ার কিছু নেই কিন্তু আমাকে শুধু একটি প্রশ্নের জবাব দিন >> তারিক থমকে দাঁড়ালো খাদিজা তার চোখের দিকে সরাসরি তাকিয়ে বলতে লাগলো >> আমার মা-বাবা আমাকে জন্ম দিয়েছেন বুকের দুধ খাইয়ে লালন পালন করেছেন শিক্ষা দিয়েছেন এত সম্পদ দিয়ে বিদায় করেছেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত আদর ছাড়া আমার গায়ে একটা ফুলের টোকাও দেননি। আর আপনি কোন অধিকারে আমাকে মারবেন? আপনার উপার্জনের এক গ্লাস পানিও আমি আজ পর্যন্ত খাইনি। আজ রাতে যে খাবার খেয়েছি তা হয় আপনার মায়ের কষ্টের রন্না। নয়তো আপনার বাবার ঘামের টাকার কেনা। যতক্ষণ না আপনি নিজের উপার্জনের কিছু আমাকে খাওয়াচ্ছেন ততক্ষণ আমার গায়ে হাত তোলার অধিকার আপনি কোথায় পেলেন? আগে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করুন। নিজে উপার্জন করে দেখান। তারপর গায়ে হাত তুলুন। >> খাদিজার এই ধারালো কথায় তারিকের চেহারায় থাকা অহংকারের কালো মেঘ মুহূর্তেই মিলিয়ে গেল। কথার ওজন ছিল পাহাড়ের চেয়েও ভারী। সে স্তব্ধ হয়ে গেল। চুপচাপ উঠে সে তার মা-বাবার কাছে চলে গেল এবং সব ঘটনা খুলে বলল। ইব্রাহিম সাহেব ছেলেকে দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, বাবা, বৌমা তো এক বর্ণও মিথ্যে বলেনি। আমাদের যে সম্পদ আছে তা তোমার সাত পুরুষের বসে খাওয়ার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু এই রুঢ় সত্যটাকে তুমি কোনদিন অস্বীকার করতে পারবে না যে তুমি জীবনে নিজের যোগ্যতায় আজ পর্যন্ত এক পয়সাও কামাই করোনি। বাবার এই কথাগুলো তারিকের বুকে যেন বিষাক্ত তীরের মত মিধলো। তার পুরুষত্বে আঘাত লাগলো। পরের দিনই সে সিদ্ধান্ত নিল এবার সে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করবে। তার বাবা ছিলেন বড় সামুদ্রিক ব্যবসায়ী। জাহাজে মালপত্র ভরে তিনি দেশ-বিদেশে পাঠাতেন। তারিক বলল, আব্বাজান আমাকে একটি জাহাজ আর কিছু মূল্যবান মালপত্র দিন। আমি নিজে মেহনত করে কামিয়ে আনবো। বাবা অনুমতি দিলেন। মালপত্র বোঝাই করে তারিক সফরের প্রস্তুতি নিল। বিদায় নেওয়ার সময় স্ত্রীর কাছে এসে চরম অহংকারের সুরে সে বলল, ফিরে এসে নিজের কামাই করা টাকা থেকে তোমাকে খাওয়াবো পড়াবো। তারপর প্রতিদিনের জমানো হিসাব কুষে 100 জুতো পুরো করব মনে রেখো। খাদিজা মুচকি হেসে বলল, >> ঠিক আছে। তবে মনে রাখবেন যেদিন ফিরে আসবেন সেদিন আপনার এই অহংকারী মাথা নিচুই থাকবে। >> তারিক অহংকারের হাসি হেসে জাহাজে উঠে বসল। এদিকে মা-বাবা জায়নামাজে বসে আল্লাহর কাছে অঝরে কাঁদছিলেন আর দোয়া করছিলেন এই সফর যেন তাদের বিপদগামী ছেলেকে একজন সত্যিকারের মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেক কয়েকদিনের দীর্ঘ সফর শেষে জাহাজ একটি অচেনা বন্দরে ভিরল নোংড় ফেলে তারিক শহরের দিকে রওনা হলো পথে এক লোকের সাথে তার দেখা লোকটির হাতে একটি লাঠি আর এক চোখে কালো পট্টি বাঁধা সে কাছে এসে ধূর্ত হেসে বলল আরে এবার দেখছি তুমি এসেছো। তোমার আব্বাজান আসেননি। তারিক চমকে উঠলো। এই অচেনা শহরে তাকে কে চেনে? সে বলল, আমি তো তোমাকে কোনদিন দেখিনি। পরিষ্কার করে বল তুমি কে? লোকটি ধূর্ত কন্ঠে বলল, গতবার তোমার আব্বাজান এসেছিলেন। আমার টাকার খুব প্রয়োজন ছিল। তখন আমি আমার একটি চোখ তোমার বাবার কাছে বন্ধক রেখে 500 স্বর্ণমুদ্রা ধার নিয়েছিলাম। এখন আমার কাছে টাকা আছে। এই নাও তোমার 500 মুদ্রা আর আমার চোখটা ফেরত দাও। তারিখ হতভম্ব। আমার কাছে তো কোন চোখ নেই। আর আমার আব্বাজানও আমাকে এমন কিছু বলে দেননি। লোকটি গলা উচিয়ে হুমকি দিয়ে বলল, তুমি হও আর তোমার বাপ হোক আমার জানার দরকার নেই। আমার চোখ ফেরত চাই। তারিক ভয় পেয়ে গেল। সে ভাবল, আপোষ করে নেওয়াই ভালো। সে নরম সুরে বলল, এখন তো এটা সম্ভব নয়। পরেরবার এলে চোখ করে নিয়ে আসবো। আপাতত কিছু টাকা নিয়ে ঝামেলাটা মেটাও। লোকটি বলল, ঠিক আছে। এখন 500 মুদ্রা দিয়ে দাও। বাকি ওয়াদার কথা যেন মনে থাকে। টাকা নিয়ে লোকটির চোখের পলকে হাওয়া হয়ে গেল। তারিক স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। যাক। বড় বিপদের হাত থেকে বাঁচা গেল। এই কথা ভাবতে ভাবতে সে শহরের মূল ফটকে প্রবেশ করল। হঠাৎ দেখল ক্রাচে ভর দিয়ে এক খোড়া লোক তার দিকে এগিয়ে আসছে। কাছে এসেই লোকটি বলল, ও এবার তাহলে তুমি এসেছো। তোমার আব্বাজান আসেননি? তারপর এক তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বলল, তোমার বাবা তো খুব জ্বালাক। আমার একটা পা তার কাছে বন্ধক রাখা আছে। আর এখন সে তোমাকে পাঠিয়ে দিয়েছে। তারিকের কপালের ভাঁজ গভীর হলো। সে রেগে গিয়ে বলল, এ তুমি কি আবলতা-তাবল বকছো? তোমার পায়ের ব্যাপারে তো আমি কিছুই জানিনা। লোকটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, গতবার তোমার বাবা এলে টাকার অভাবে আমি আমার একটা পা 500 মুদ্রার বিনিময়ে বন্ধক রাখি। এই নাও তোমার টাকা। আমার পা ফেরত দাও। তারিকের কাছে এসব যেন অবিশ্বাস্য লাগছিল। কেউ কি পাও বন্ধক রাখে? কিন্তু সে যেহেতু প্রথমবার বাইরের দুনিয়ায় এসেছে তাই বেশি তর্ক করলো না। সে বলল, আমার কাছে তো পা নেই। পরের বার নিয়ে আসবো। আপাতত টাকা নিয়ে বিষয়টা শেষ করো। এই লোকটিও 500 মুদ্রা নিয়ে কেটে পড়ল। তারিক এবার বাজারের মাঝখানে পৌঁছালো। চারপাশের দোকানপাট দেখতে দেখতে সে ভাবছিল, এখান থেকে কি কিনে নিয়ে গেলে ব্যবসায় লাভ হবে। হঠাৎ তার নজর পড়ল একটি বাড়ির দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা এক নারীর দিকে। নারীটি এতই রূপবতী ছিল যে তারিক পলক ফেলতে ভুলে গেল। কিছুক্ষণ পর নারীটি জাদু করে ইশারায় তাকে কাছে ডাকল। তারিক যেন কোন এক ঘোরে আকৃষ্ট হয়ে তার কাছে চলে গেল। নারীটি মিষ্টি হেসে বলল, মনে হচ্ছে তুমি এখানে নতুন এসেছো। তারিক মহাভৃষ্ট হয়ে মাথা নাড়লো। তাহলে তুমি আমাদের মেহমান। আমাদের এখানকার রেওয়াজ হলো মেহমানকে সোনার পেয়ালায় দুধ পান করিয়ে আপ্যায়ন করা। এই বলে সে তারিককে বসতে দিয়ে ভেতরে চলে গেল। একটু পর সে সোনার পেয়ালায় দুধ নিয়ে এল। তারিক রেওয়াজ মনে করে এক নিঃশ্বাসে দুধ পান করে পেয়ালাটি মাটিতে রাখল। ঠিক তখনই একটি বিড়াল কোথা থেকে ছুটে এসে পেয়ালাটি মুখে কামড়ে ধরে সোজা তারিকের জাহাজের দিকে দৌড় দিল। বিড়ালটি জাহাজের ভেতর পেয়ালা লুকিয়ে আবার ফিরে এল। তারিক এই ধোঁকাবাজির কিছুই টের পেল না। তারিক যখন ওঠার জন্য প্রস্তুত হল নারীটি বলল, যাওয়ার আগে আমার সোনার পেয়ালাটি তো দিয়ে যাও। তারিক অবাক হয়ে যেখানে পেয়ালা রেখেছিল সেখানে তাকালো। কিন্তু জায়গাটা খালি। সে বলল, আমি তো এখানেই রেখেছিলাম। নারীটি এবার শয়তানি হাসি দিয়ে বলল, না তুমি ওটা চুরি করে তোমার জাহাজে রেখে এসেছো। তর্কতর্কি বাড়তে লাগলো। লোক জড়ো হয়ে গেল। নারীটি চিৎকার করে বলল, আমাকে 50 টি স্বর্ণ মুদ্রা দাও। নয়তো আমি চুরি বলে সোরগোল ফেলে দেব। তারিক লেগে গিয়ে বলল, আমি যখন চুরিই করিনি, তখন কেন টাকা দেব? ঠিক তখনই সেখান দিয়ে কোতোয়াল যাচ্ছিল। সব শুনে সে তারিককে ঘাড় ধলে গ্রেফতার করে সোজা বাদশার দরবারে নিয়ে গেল। বাদশাহ ওই প্রতারক নারীর কথায় বিশ্বাস করে তারিকের জাহাজ বাজেয়াপ্ত করলেন এবং তাকে চুরির দায়ে ছ মাসের কারাদণ্ড দিলেন। তারিকের সব অহংকার যেন ধুলোয় মিশে গেল। রাজপ্রাসাদে বড় হওয়া ছেলেটি ছ মাস জেলের অন্ধকূপে পচে যখন বাইরে বেরোল তখন তার কাছে কানা করিড়িও নেই। পরনে ছেঁড়া কাপড় পেটে ক্ষুধা। খালি হাত গরিব আর নিদারুণ অসহায় অবস্থায় সে রাস্তায় রাস্তায় কুকুরের মত ঘুরতে লাগল। হঠাৎ এক লোকের সাথে তার পরিচয় হলো। লোকটি জিজ্ঞেস করল, তুমি কে? আর এখানে এমন ভবঘুরের মত কেন ঘুরছো? তারিক চোখের পানি ফেলে তার দুঃখের সব কাহিনী শোনাল। শুনে লোকটির মায়া হলো। সে বলল, ভাই, এই শহরের নাম হলো ঠগর। এখানে যে একবার ফাঁদে পড়ে তার আর বের হওয়া মুশকিল। তোমার যদি থাকার জায়গা না থাকে তাহলে আমার সাথে চলো। আমি গান গেয়ে পেট চালাই। তুমি মেয়েদের পোশাক পড়ে আমার সাথে নাচবে। এভাবেই আমাদের দুজনের খাবারের ব্যবস্থা হয়ে যাবে। ক্ষুধায় ক্লান্ত তারিকের কাছে আর কোন পথ খোলা ছিল না। একসময়ের অহংকারী জমিদার পুত্র বাধ্য হয়ে এই চরম অপমানজনক প্রস্তাবে রাজি হলো। রাস্তায় রাস্তায় তাদের গান আর নাচের পালা শুরু হলো। ভাগ্যের কি নির্মম পরিণশ। এভাবে কেটে গেল আটটি মাস। এদিকে বাড়িতে স্ত্রী খাদিজা স্বামীর অপেক্ষায় প্রহর গুন ছিল। আট মাস পেরিয়ে গেলেও যখন স্বামী ফিরলো না, সে তার শাশুড়ি ও শ্বশুরকে বলল, >> আমি নিজেই তাকে খুঁজতে যাব। >> শ্বশুর অবাক হয়ে বললেন, মা এই বিশাল দুনিয়ায় তুমি তাকে কোথায় খুঁজবে? খাদিজা দৃঢ় কন্ঠে জবাব দিল, >> আমার কথার কারণেই সে ঘর ছেড়েছে। তাই আমিই তাকে ফিরিয়ে আনবো। আপনি আমাকে পাঁচটি জাহাজ আর কিছু সম্পদ দিন। >> শ্বশুর তাকে পাঁচটি মাল বোঝাই জাহাজ ও মূল্যবান জহরত দিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করে বিদায় দিলেন। খাদিজা এবার এক বুদ্ধিদীপ্ত কৌশল করল। সে তার রূপ লুকিয়ে পুরুষের বেশ ধরল। শ্বশুরের পরামর্শে সে পাঁচজন বিশ্বস্ত পাহারাদার এবং একটি অত্যন্ত চালাক ও প্রশিক্ষিত কুকুর সাথে নিয়ে নিল। চারদিন সফরের পর জাহাজ একটি বন্দরের কাছাকাছি এসে থামল। খাদিজা তার লোকজনকে বলল >> আমার মন বলছে সে এখানেই আছে তোমরা সবাই জাহাজে থাকো আমি একাই পরিস্থিতি দেখছি >> ঠিক তখনই সেই এক চোখওয়ালা ঠল এসে হাজির আরে বাবা এবার দেখি তুমি এসেছো তোমার আব্বাজান আসেননি গতবার তোমার বাবা আমার একটি চোখ 500 মুদ্রায় বন্ধক রেখেছিলেন এই নাও 500 মুদ্রা আমার চোখ ফেরত দাও খাদিজা এক পলকেই বুঝে ফেলল লোকটা চরম ধোকাবাজ আর এই জায়গাটা আসলেই ঠগর তার সন্দেহ হলো হয়তো তারিকও এদের কোন ফাঁদেই আটকা পড়েছে। খাদিজা অত্যন্ত চালাকির সাথে তার সঙ্গীদের চোখের ইশারায় ডেকে বজ্রকণ্ঠে বলল >> ভাইসাব ওই চাচার ওই চোখটা তো আমাদের জাহাজেই আছে। তোমরা বরং যাও উনার এই দ্বিতীয় চোখটাও তুলে নিয়ে যাও। তারপর জাহাজে নিয়ে দুটোর সাইজ মিলিয়ে দেখো ঠিক আছে কিনা। >> এই কথা শোনা মাত্রই এক চোখওয়ালা ঠগের আত্মার পানি শুকিয়ে গেল। সে হাত জোড় করে কাঁপতে কাঁপতে বলল, দোহাই আপনার আমার উপর রহম করুন। আমার দ্বিতীয় চোখটা বের করবেন না আমার কোন চোখ লাগবে না এই বলে সে এক দৌড়ে হাওয়া হয়ে গেল সঙ্গীরা বলল হুজুর এখানকার লোকেরা তো চরম ধরিবাজ আমরা আপনাকে একা ছাড়তে পারি না খাদিজা দুজন সঙ্গীকে সাথে নিল এবং বাকি তিনজনকে চারটি জাহাজের পাহারায় রাখল কুকুরটিকেও জাহাজে লুকিয়ে রাখা হলো শহরের মূল ফটকে পৌঁছতেই সেই খোড়া লোকটি এসে হাজির এবার তুমি এসেছো বাবা আসেননি গতবার আমার পা বন্ধক রেখেছিলেন খাদিজা আবার মুচকি হাসলো >> আমাদের জাহাজে তো অনেকগুলো পা রাখা আছে কোনটা যে তোমার তা তো বুঝতে পারছি না এক কাজ করো ভাইসব উনার এই দ্বিতীয় পা টাও কেটে নাও যাতে জোড়া মিলিয়ে সঠিক পাটা বের করতে পারি >> খোড়া লোক ভয়ে চিৎকার দিয়ে উঠল না আমার কোন পা চাই না আমাকে ছেড়ে দিন সে এক পায়ে লাফাতে লাফাতে দৌড় দিল খাদিজা পেছন থেকে হাসতে হাসতে ডাক দিল >> আরে চাচা পাটা তো নিয়ে যাও >> এবার খাদিজা বাজারের ভেতর প্রবেশ করল হাঁটতে হাঁটতে সে দেখল সেই হসিন রূপবতী নারী দরজায় দাঁড়িয়ে তাকে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখছে। চোখে তার এমন জাদুকরী চমক যে কেউ আকৃষ্ট হতে বাধ্য। নারীটি ইশারায় খাদিজাকে কাছে ডাকল। খাদিজা পুরুষ বেসে কাছে গিয়ে গম্ভীর কন্ঠে বলল >> আমাকে কেন ডাকলে? >> নারীটি মিষ্টি হেসে বলল >> মনে হচ্ছে তুমি ভিনদেশী মুসাফির। আমাদের রেওয়াজ হলো মেহমানকে সোনার গ্লাসে দুধ খাইয়ে বরণ করা। >> খাদিজা হেসে বলল >> রেওয়াজ যখন আছে তখন আর না করে কিভাবে? নারীটি ভেতরে গিয়ে সোনার গ্লাসে দুধ নিয়ে এলো। খাদিজা দুধ পান করে গ্লাসটি নিচে রাখল। ঠিক আগের মতোই বিড়ালটি ছোঁ মেরে গ্লাসটি মুখে নিয়ে জাহাজের দিকে দৌড় দিল। কিন্তু এবার আর শেষ রক্ষা হলো না। জাহাজের পাহারায় থাকা কুকুরটি বিড়ালকে দেখামাত্রই প্রচন্ড জোরে ঘেউ ঘেউ করে তেড়ে এলো। কুকুরের তারা খেয়ে বিড়ালটি ভয় পেয়ে সোজা ওই নারীর ঘরে গিয়ে খাটের নিচে লুকিয়ে পড়ল। খাদিজা উঠে দাঁড়াতেই নারীটি বলল, >> দুধ তো খেলে মুসাফির এবার আমার সোনার গ্লাসটা দাও। খাদিজা বলল >> আমি তো এখানেই রেখেছিলাম কোথায় গেল জানিনা >> নারীটি আগের মতই চিৎকার করে সোরগোল পাকিয়ে দিল এই ভিনদেশী আমার সোনার গ্লাস চুরি করেছে কোতোয়াল চলে এল খাদিজা শান্তকন্ঠে বলল >> আমি চুরি করিনি চাইলে আমার জাহাজে তল্লাশি চালাতে পারেন >> জাহাজে তল্লাশি হলো কিন্তু কিছুই পাওয়া গেল না এবার খাদিজা কোতুয়ালকে ধমক দিয়ে বলল >> এবার এই নারীর ঘর তল্লাশি করুন আমার তো মনে হচ্ছে এই নারী নিজে গ্লাস লুকিয়ে আমার উপর মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে >> কোতুয়াল ঘর তল্লাশি করতেই বিছানার নিচ থেকে বিড়াল আর সোনার গ্লাসটি উদ্ধার হলো। প্রমাণ হাতে নাতে পেয়ে কোতুয়াল সেই ধোকাবাজ নারীকে গ্রেফতার করে নিয়ে গেল। বিরাট এক স্বস্তি নিয়ে খাদিজা আবার বাজারের দিকে পা বাড়ালো স্বামীর খজে। চৌরাস্তার মোড়ে গিয়ে সে যা দেখল তাতে তার পায়ের তলার মাটি সরে যাওয়ার উপক্রম হল। এক লোক গান গাইছে আর তার সাথে এক নারী নাচছে। ওই নারীর চেহারার দিকে তাকাতেই খাদিজার বুকের ভেতরটা ছ্যাত করে উঠল। মুখটা বড্ড চেনা। সঙ্গীতের ইশারা করে সে বলল, ওই দুজনকে ধরে আনো। তাদের ধরে আনা হলো। গায়ক লোকটি হাত জোড় করে বলল, হুজুর, এ কোন নারী নয়, এ আমার সঙ্গী। পেটের দায়ে আমরা বাধ্য হয়ে এই বেশে নাচ গান করছি। খাদিজার হৃদয় ডুকরে কেঁদে উঠলো। চোখ ফেটে পানি আসতে চাইল। এই তো তার স্বামী তারিক। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস। আজ স্ত্রী-পুরুষের বেশে আর একসময়ের চরম অহংকারী স্বামী নারীর বেশে রাস্তায় নাচছে। খাদিজা তার স্বামীকে চিনতে পারল ঠিকই কিন্তু তারিক তাকে চিনতে পারলো না। খাদিজা নিজের আবেগ চেপে গাম্ভীর্য বজায় রেখে বলল, >> আমার সাথে চলো। এর চেয়ে অনেক ভালো কাজ দেব তোমাকে। >> তারিক রাজি হয়ে গেল। জাহাজে নিয়ে খাদিজা তাকে ভালোভাবে গোসল করালো। নারীর সেই পোশাকগুলো সযত্নে একটি বাক্সে লুকিয়ে রাখলো এবং তাকে রাজকীয় পুরুষের পোশাক পড়তে দিল। বহু মাস পর তারিকের মুখে হাসি ফুটলো। মনে হলো বুকের উপর থেকে পাহাড় সম বোঝা নেমে গেছে। খাদিজা তারিককে বলল, >> শোনো আমি ব্যবসার কাজে একটি জাহাজ নিয়ে 10 দিনের জন্য সফরে যাচ্ছি। বাকি তিনটি জাহাজ তোমার হেফাজতে রইল। আমি যদি ফিরে আসি তবে তোমাকে 500 স্বর্ণমুদ্রা পুরস্কার দেব। আর যদি কোন কারণে আমি ফিরে না আসি, তবে মাল বোঝায় এই তিনটি জাহাজই তোমার হয়ে যাবে। >> তারিখের তো লোভের শেষ নেই। সে মনে মনে হিসাব কষলো যদি ফিরে আসে তবে নগদ পাঁচ সমুদ্রা আর যদি না ফেরে তবে আমি বিশাল সম্পদের মালিক। সে কোন কিছু চিন্তা না করেই এক বাক্যে রাজি হয়ে গেল। খাদিজা তার সঙ্গীদের নিয়ে রওনা হলো এবং নিজের শহরে পৌঁছে বাবা-মাকে সুসংবাদ দিল যে সে তার স্বামীকে খুঁজে পেয়েছে। বাড়িতে আনন্দের বন্যা বয়ে গেল। এদিকে তারিক জাহাজে বসে রাজার হালে দিন কাটাতে লাগলো। 10 দিন কেটে গেল 12 দিন কেটে গেল। কিন্তু সেই মুসাফির আর ফিরলো না। তারিক ভাবলো, যাক বাবা। এবার এই তিনটি জাহাজ পুরোপুরি আমার। চারদিনের মাথায় সে জাহাজ নিয়ে নিজের শহরে গিয়ে পৌঁছালো। ছেলের বিশাল সম্পদ নিয়ে ফিরে আসার খবর শুনে মা-বাবা সানাই বাজিয়ে তার অভ্যর্থনা জানালো। সবার চোখে মুখে চরম আনন্দ। কিন্তু বাড়ি ফিরেই তারিকের মাথায় সেই পুরনো অহংকারের ভূত আবার চেপে বসলো। সে হিসাবের খাতা বের করে বসলো। কতদিন আমি বাড়ির বাইরে ছিলাম? প্রতিদিনের 100 জুতো হিসাবে মোট কত জুতো পাওনা হলো? হিসেব শেষ করে সে জুতো হাতে নিয়ে গটগট করে সোজা খাদিজার ঘরে গিয়ে ঢুকল। বুক ফুলিয়ে চরম অহংকারের সুরে বলল, >> তোমার বাপ-দাদাও জীবনে এত টাকা কামাইনি। যা আমি মাত্র আট মাসে কামিয়ে এনেছি। >> খাদিজা তার কথা শুনে খিলখিল করে হেসে উঠলো। তারিখ রেগে গিয়ে বলল, হাসছো কেন? মাথায় এগিয়ে দাও। জুতো খাওয়ার সময় হয়ে গেছে। খাদিজা অত্যন্ত শান্ত ও গম্ভীর কন্ঠে বলল, >> জুতো তো আমি খাবো না। >> তারিক্ষিপ্ত হয়ে উঠলো। কেন? এখন কি নিজের ওয়াদা থেকে পিছিয়ে যাচ্ছো? খাদিজা এবার তার চোখের দিকে সোজা তাকিয়ে তীক্ষ্ণ কন্ঠে বলল, >> এই বিশাল সম্পদ কি সত্যি তুমি নিজে কামিয়েছো? নাকি কেউ তোমাকে দয়া করে ভিক্ষা হিসেবে দিয়েছে। >> এ কথা শোনা মাত্রই তারিকের বুকের ভেতরটা ধক করে উঠলো। সে তো প্রচন্ড ভয় পেয়ে গেল। এ কথা সে কিভাবে জানল? খাদিজা ধীর পায়ে ভেতরের ঘরে গেল এবং একটি বাক্স বের করে আনল। বাক্সটি খুলতেই বেরিয়ে এল সেই মেয়েদের জং ধরা পোশাক যা পড়ে তারিক চৌরাস্তার মোড়ে নেচে ছিল। তারিকের চেহারা লজ্জায় অপমানে লাল হয়ে গেল। তার মনে হলো পায়ের নিচের মাটি যেন সরে গেছে। খাদিজা অত্যন্ত শান্তকন্ঠে বলল >> যে সওদাগর তোমাকে ওই চরম লাঞ্ছনা আর অপমান থেকে বাঁচিয়েছিল সেই সওদাগর ছিলাম আমি। আর তুমি যে জাহাজগুলোর পাহারাদারি করে আজ নিজেকে মালিক দাবি করছো ওইসব জাহাজের আসল মালিকও আমি। >> তারিকের সমস্ত গরিমা সমস্ত অহংকার এক মুহূর্তের মধ্যে কাঁচের মত ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। সে খাদিজার পায়ের কাছে লুটিয়ে পড়ে হাত জোড় করে কাঁদতে কাঁদতে বলল, আল্লাহর ওয়াস্তে এই কথা এখানেই শেষ করো। আমাকে ক্ষমা করে দাও। কাউকে বলো না আমি কি হালে ছিলাম। আমার অহংকার আমাকে ধ্বংস করে দিয়েছিল। খাদিজা মুচকি হেসে একটু দুষ্টুমির সুরে বলল >> তাহলে জনাব আমাকে 100 জুতো আর মারবেন না? >> তারিক চরম অনুশোচনায় নিয়ে বলল কক্ষনো না। বরং তুমি চাইলে আমাকে রোজ জুতো মারতে পারো। শুধুই গোপন কথা কারো কাছে ফাঁস করো না। এই কথা শুনে খাদিজা হেসে ফেলল। দুজন দুজনকে মন থেকে ক্ষমা করে দিল। অহংকার থেকে মুক্ত হয়ে তারিক তওবা করে একজন সত্যিকারের ভালো মানুষে পরিণত হলো এবং তারা একে অপরের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও সম্মান নিয়ে এক নতুন সুন্দর জীবন শুরু করল। প্রিয় দর্শক শিক্ষণীয় এবং ইসলামিক গল্প নিয়মিত দেখতে আমাদের চ্যানেলটি এক্ষুনি সাবস্ক্রাইব করুন এবং আমাদের সাথেই থাকুন। ভিডিওটি ভালো লাগলে একটি লাইক দিয়ে আপনার আপনজনদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। আপনাদের সুন্দর মন্তব্য আমাদের আরো ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা দেয়। আল্লাহ আপনাদের সবাইকে সুস্থ ও নিরাপদে রাখুন। আমিন।

Need a transcript for another video?

Get free YouTube transcripts with timestamps, translation, and download options.

Transcript content is sourced from YouTube's auto-generated captions or AI transcription. All video content belongs to the original creators. Terms of Service · DMCA Contact

বিয়ের শর্ত স্ত্রীকে প্রতিদিন ১০০ জুতার বাড়ি! তারপর যা ঘটল...