স্ত্রীর হক নষ্ট করে এক সফল মানুষের সম্পূর্ণ পতন | একটি সত্য ইসলামিক গল্প

Seerat Dorpon2,504 words

Full Transcript

আপনি কি কখনো ভেবেছেন, একজন মানুষের জীবন কিভাবে ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ে? কোন বড় দুর্ঘটনায় নয়, কোন হঠাৎ বিপদে নয়, বরং একটি ছোট ছোট অন্যায়ের স্তুপ থেকে, যেটাকে সে অন্যায় বলেই মনে করেনি। আপনি যদি হৃদয় পরিবর্তনের এই যাত্রায় আমাদের সাথে থাকতে চান, তাহলে এখনই চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে পাশে থাকুন। মধ্যপ্রাচ্যের একটি প্রাচীন বাণিজ্যিক শহর। পাথরে পথে উটের কাফেলা চলে সন্ধ্যার আকাশে তামাটে রং ছড়িয়ে পড়ে মসজিদের মিনার থেকে আযানের সুর ভেসে আসে সেই সুর যেন মরুভূমির বালির ভেতর দিয়ে ছুটে যায় আর হাওয়ায় মিলিয়ে যায় এই শহরের নাম আলকাসিম ব্যবসায়ীদের শহর স্বর্ণের চেয়ে সম্মানের মূল্য বেশি এই শহরে একসময় এমনটাই ছিল আর এই শহরে একটি বাড়ি ছিল বড় পাথরে তৈরি খেজুর গাছের ছায়ায় ঢাকা সেই বাড়ির দরজায় খোদাই করা ছিল আরবি হরফে একটি আয়াত। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায় পরায়ণদের সাথে আছেন। কিন্তু সেই দরজার ভেতরের মানুষটি সেই আয়াতের কথা কবেই ভুলে গিয়েছিল। রাশেদ বিন মালিক। বয়স 50 এর কাছাকাছি। লম্বা সুঠাম দেহ। গায়ে সাদা থোভ, মাথায় চেকার কেফিয়া। চোখে একটা তীক্ষ্ণ দৃষ্টি। যে দৃষ্টিতে হিসেব থাকে হৃদয় নয়। রাশেদ ছিল এই শহরের সবচেয়ে সফল মসলার ব্যবসায়ীদের একজন। ইয়েমেন থেকে মসলা আনত, মিশরে বিক্রি করত। কাফেলার নেতৃত্ব দিত। সবাই তাকে চিনত। বাজারে তার মূল্য ছিল। মসজিদে তার আসন ছিল প্রথম শাড়িতে। শহরের বড় লোকেরা তার সাথে হাত মেলাতো। কিন্তু ঘরে ঘরে রাশেদ ছিল অন্যরকম মানুষ। তার কন্ঠস্বর ঘরের ভেতরে প্রবেশ করলে দেওয়ালগুলো যেন শক্ত হয়ে যেত। তার পায়ের শব্দ সিঁড়িতে পড়লে রান্নাঘর থেকে হাড়ি নামিয়ে রাখার আওয়াজ আসতো কারণ ওটুকু শব্দ তার বিরক্তির কারণ হতে পারতো আর তার স্ত্রী তার স্ত্রীর নাম ছিল নুসাইবা নুসাইবা নামের মানে ছোট্ট মাটির টুকরো কিন্তু এই মাটিতে যে ধৈর্যের বীজ বোনা ছিল সেটি পাহাড় সমান বয়স তখন 40 এর কাছাকাছি চুলে কিছু সাদা এসে গেছে চোখের নিচে ছায়া জমে আছে ঘুমের অভাবে নয় কষ্টের ভারে নুসাইবা ছিলেন একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে বিয়ের আগে তার বাবার ঘরে ছিল মান সম্মান সুখ বিয়ের পরে সেই সুখ পাথরের দেওয়ালের ভেতরে আটকে গেল রাশেদ তাকে না মারতো না গালি দিত কিন্তু এমন কিছু আঘাত আছে যা দেহে লাগে না কিন্তু আত্মাকে ক্ষয় করে দেয় রাশেদ নুসাইবার এর সাথে কথা বলতো না। সে প্রশ্ন করলে রাশেদ চুপ থাকতো। সে মতামত দিলে রাশেদ মুখ ঘুরিয়ে নিত। সে অসুস্থ হলে রাশেদ বলতো তুমি সবসময়ই দুর্বল। ইসলামে স্ত্রীর যে হক আছে ভরণপোষণ, সম্মান, সৎ ব্যবহার, আন্তরিকতা, আলাপ-পালোচনা, রাশেদ তার কিছুই দিত না। শুধু বাড়ি দিয়েছিল। শুধু রুটিন ব্যবস্থা করেছিল। এতটুকুতেই সে ভাবতো তার দায় শেষ কিন্তু আল্লাহর কাছে হিসেব কি এতটুকুতেই শেষ একটি রাতের কথা বলি চাঁদ উঠেছে বাইরে মরুভূমির বুক আলোয় ভাসছে বাইরে কোথাও একটা উট ডাকছে দূরে কোথাও মসজিদে রাত্রির নামাজের পর কেউ কেউ তিলাওয়াত করছে কিন্তু ঘরের ভেতরে নুসাইবা বসে আছে তার ছোট্ট কক্ষে হাঁটুতে মাথা রেখে চোখ বন্ধ ঠোঁট নড়ছে নিঃশব্দে সে দোয়া করছে হে আল্লাহ তুমি কি আমার কথা শুনছো কক্ষে কেউ নেই কিন্তু সে জানে একজন আছেন যিনি সবসময় থাকেন সে মাঝে মাঝে রাশেদকে বলতে চেষ্টা করেছিল বলতে চেষ্টা করেছিল যে তার মন ভালো নেই বলতে চেষ্টা করেছিল যে তার বাবার বাড়ি যেতে ইচ্ছে করছে রাশেদ প্রতিবার বলতো যাও কে আটকেছে কিন্তু সেই কথাটা এমন টোনে বলতো যেন সাইবা যাওয়ার সাহস পেত না কারণ জানতো ফিরে এলে আরো অবহেলা আরো নীরবতা তার দুটি মেয়ে ছিল রাশেদ ছেলে চেয়েছিল মেয়ে হওয়ায় সে নুসাইবাকে দোষ দিয়েছিল যেন এই সিদ্ধান্ত নুসাইবার ইসলামে মেয়ে সন্তান রহমতের দরজা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে ব্যক্তি তিনটি মেয়ে সন্তানকে সঠিকভাবে লালনপালন করেন তার জন্য জান্নাত কিন্তু রাশেদ এই কথা জানতো না অথবা জানতো তবু মানতো না। সেই বছর রাশেদের ব্যবসায় বিপুল মুনাফা হলো। ইয়েমেন থেকে আনা এক বিরল মসলা যার নাম কুস্ততুস। মিশরের বাজারে আগুনের দামে বিক্রি হল। রাশেদ এক মৌসুমে যা আয় করল তা 10 বছরেও হয়নি। সোনার মহর, নতুন উট, বড় গোদামঘর। রাশেদের বুকটা আরো বড় হল। হাঁটায় আরো দাপট এল। কন্ঠে আরো কঠোরতা এবার সে আরেকটি বিয়ে করল নতুন বিয়ে নাম জুয়া এরিয়া বয়স কম চেহারা সুন্দর রাশেদ তাকে ভালো ঘর দিল ভালো পোশাক দিল নিয়মিত সময় দিল আর নুসাইবা নুসাইবাকে সে আরো অবহেলা করতে লাগল ইসলামে একাধিক বিয়ে হালাল কিন্তু শর্তসহ সেই শর্ত হলো ইনসাফ সমান সময় সমান মনোযোগ রাশেদ সেই ইনসাফ করল না। নুসাইবার রাত গেল একা। তার দিন গেল একা। তার দুই মেয়ে মায়ের গায়ে মাথা রেখে ঘুমাতো। আর মা সন্তানদের ঘুমানোর পর নিজে কাঁদতো। চোখ বন্ধ করে নিঃশব্দে। এই শহরে একজন বৃদ্ধ আলেম ছিলেন। নাম শেখ আব্দুল আউয়াল। বয়স কেউ জানতো না ঠিক কত। মুখে লম্বা সাদা দাড়ি, পরণে সাদা পাগড়ি। চোখে একটা গভীরতা। যেন সেই চোখ দিয়ে তিনি কেবল বাইরে নয় মানুষের ভেতরটাও দেখতে পান শেখ সাহেব রাশেদের পরিচিত ছিলেন মসজিদে দেখা হতো রাশেদ শ্রদ্ধা করতো বাইরে কিন্তু তার কথা মনে রাখতো না একদিন শেখ সাহেব বাজারে রাশেদের সাথে দেখা করলেন রাশেদ জি শেখ সাহেব তুমি কি জানো আল্লাহর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আদালত কোথায় বসে রাশেদ হাসল মসজিদে নিশ্চয়ই শেখ মাথা নাড়লেন না তোমার ঘরে। রাশেদ চুপ করে রইল। শেখ আবার বললেন, "তোমার স্ত্রীর কান্নার সাক্ষী আল্লাহ নিজে। সেই সাক্ষ্য কেউ মুছতে পারে না রাশেদ। সাবধান হও। রাশেদ মাথা নত করল ভদ্রতায়। কিন্তু মনে মনে ভাবল, এই বৃদ্ধ লোকটা অতিরিক্ত ধার্মিক। সে জানতো না, শেখ সাহেবের সেই কথাটাই তার জীবনের শেষ সতর্কতা ছিল। পরের মৌসুমে কাফেলা বেরলো। ইয়েমেনের পথে। এবার কিছু একটা অন্যরকম ছিল, আকাশে মেঘ জমছিল, কিন্তু বৃষ্টির সময় নয়, বাতাসে একটা অদ্ভুত গন্ধ। কাফেলার অন্য সদস্যরা বলেছিল, রাশেদ ভাই, একটু অপেক্ষা করি, রাশেদ শুনল না। সে কখনো অন্যের কথা শুনতো না। তিনদিন পর মরুভূমির ভেতরে ঝড় এলো। সে ঝড় সাধারণ ঝড় ছিল না। তিনদিন তিন রাত চলল। বালু আকাশ ছুঁয়ে ফেলল। সূর্য ঢেকে গেল। কাফেলার উটগুলো পথ হারালো মসলার বস্তা উড়ে গেল পথ ভুল হল যখন ঝড় থামলো রাশেদের কাফেলার অর্ধেক মালামাল নষ্ট দুটো উট মৃত দুজন কর্মচারী গুরুতর অসুস্থ রাশেদ ফিরল মুখ শুকন কিন্তু সে ভাবল এটা প্রকৃতির দুর্ঘটনা পরের বার সব পুষিয়ে নেবে সে ভুল করল সেই ক্ষতির রাতে নুসাইবা জানতো না কি হয়েছে সে কেবল রাতে উঠে তাহাজ্জুদ পড়ছিল ছিল। দূর আকাত পড়ে সে সেজদায় গেল। সেজদায় গিয়ে সে কাঁদলো। কাঁদলো। কারণ সে আজ তার বড় মেয়েকে দেখেছিল। মেয়ে তার বাবার জন্য অপেক্ষা করছে। বাবা কবে তার সাথে কথা বলবে কবে তাকে কোলে নেবে? মেয়ের সেই অপেক্ষায় নুসাইবার বুক ফেটে গেছিল। সে বলল, হে আল্লাহ, আমি তার বিচার চাই না। আমি চাই তুমি তাকে সঠিক পথে আনো। তুমি তাকে বোঝাও। তাকে ক্ষমা করো কিন্তু হে রব এই মেয়ে দুটোকে রক্ষা করো সেই রাতে নুসাইবার সেজদা শেষ হলো সে উঠল জানালা দিয়ে বাইরে তাকালো মরুভূমির আকাশে অসংখ্য তারা সে জানতো না তার সেই দোয়া আকাশে পৌঁছে গেছে আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা'আলার কাছে সেই ফরিয়াদ কবুল হয়ে গেছে রাশেদের ব্যবসার অংশীদার ছিল একজন মাসরুর বিন হারিস দীর্ঘদিনের বন্ধু বিশ্বস্ত সঙ্গী কিন্তু ক্ষতির পর রাশেদ যখন ঋণ নিতে বাধ্য হলো মাসরুর তখন আরে ছলনার জাল বুনছিল রাশেদ জানতো না মাসরুর তার গোডাউনের চাবি নকল করে রেখেছে মাসরুর তার ব্যবসার খদ্দের ভিন্ন পথে নিয়ে গেছে একদিন রাশেদ গোদামে গেল খালি সব মসলা উধাও শুধু একটা কাগজ পড়ে আছে মাটিতে যে মানুষ নিজের ঘরে ইনসাফ করে না সে বাইরেও ইনসাফ পায় না। লেখকের নাম ছিল না। রাশেদ হাতে কাগজটা ধরে দাঁড়িয়ে রইল। তার মনে পড়লো শেখ সাহেবের কথা। কিন্তু সে তবুও নিজেকে সামলালো। ভাবলো এটাও কাটিয়ে উঠবো। আমি রাশেদ বিন মালিক। মাসরুরের বিরুদ্ধে মামলা করল রাশেদ। কিন্তু মামলায় সাক্ষী দিল না কেউ। কারণ রাশেদের ব্যবহার এমন ছিল যে বছরের পর বছর সে যাদের সাথে কাজ করেছিল তারা কেউ তার পক্ষে দাঁড়ালো না। মামলা হেরে গেল। আর ঠিক সেই সময় রাশেদের পিঠে ব্যথা শুরু হলো। প্রথমে ভাবল ক্লান্তি কিন্তু ব্যথা বাড়তে লাগলো। রাতে ঘুমাতে পারে না। দিনে উঠতে পারে না চলাফেরা কঠিন হয়ে গেল। হেকিম ডাকা হলো। হেকিম পরীক্ষা করে চুপ করে রইল। কি হয়েছে? আপনার মেরুদন্ডে সমস্যা হয়েছে। চিকিৎসা দীর্ঘ হবে। রাশেদ যে মানুষ এতদিন দাপটের সাথে হেঁটেছিল সে এখন বিছানায় শুয়ে। আর সেই বিছানায় তার সেবা করতে এলো কে? নুসাইবা। এটাই সবচেয়ে কঠিন অংশ। রাশেদ শুয়ে আছে। নুসাইবা তার পাশে এসে বসল। সে এলো রুটি নিয়ে। সে এলো ওষুধ নিয়ে সে পিঠে হাত বুলিয়ে দিল। রাতে তাকে পানি দিল। রাশেদ এমন মানুষ ছিল না যে সহজে কাঁদে। কিন্তু সেই রাতে যে রাতে নুসাইবা তার মাথায় হাত রেখে ঘুম পাড়ানি দোয়া পড়ছিল রাশেদের চোখ ভিজে গেল। সে চোখ বন্ধ রাখল। ভাবল যদি নুসাইবা দেখে সে কাঁদছে কিন্তু নুসাইবা দেখেছিল সে চোখের জল মুছে দিল কিছু বলল না শুধু বলল আল্লাহ ভালো করবেন রাশেদ তখন প্রথমবারের মতো অনুভব করল সে কতটা একা কতটা ফাঁকা কতটা ভুল পথে ছিল দ্বিতীয় স্ত্রী জুয়াইরিয়া ধনী রাশেদকে বিয়ে করেছিল রোগী রাশেদকে নয় যখন ব্যবসা ডুবলো যখন অসুস্থতা এল যখন ঘরে টান পড়তে লাগল জুয়াইরিয়া তার বাবার বাড়ি গেল এবং ফিরল না খালেদ নামের তার এক দুঃসম্পর্কের আত্মীয় তার সাথে নতুন সম্পর্কে জড়ালো রাশেদ জানল কিন্তু তার আর কিছু করার ছিল না সে শুধু বিছানায় শুয়ে ছাদের দিকে তাকিয়ে রইল একদিন দুইদিন তিনদিন চিন্তা করল কত মানুষ তার চারপাশে ছিল যখন সে সফল ছিল এখন কেউ নেই শুধু আছে নুসাইবা সেই নুসাইবা যাকে সে 10 বছর অবহেলা করেছিল যার কান্না সে উড়িয়ে দিয়েছিল কেন সে আছে রাশেদ জিজ্ঞেস করল নুসাইবা তুমি কেন আমার কাছে আছো তুমি চলে যেতে পারো আমি তোমার সাথে ভালো ছিলাম না নুসাইবা একটু চুপ করে রইল তারপর বলল কারণ আল্লাহ আমাকে সাক্ষী রেখেছেন আমি যদি চলে যাই সেই সাক্ষ্য নিয়ে কি করব রাশেদ বুঝলো না পরে বুঝেছিল একদিন শেখ আব্দুল আউয়াল এলেন রাশেদের বিছানার পাশে বসলেন কেমন আছো রাশেদ ভালো নেই শেখ সাহেব জানি শেখ সাহেব হাত রাখলেন রাশেদের হাতে আল্লাহ তোমাকে সময় দিচ্ছেন কিসের সময়? ফেরার সময়। রাশেদ চোখ বন্ধ করল। শেখ সাহেব বললেন, রাশেদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সেই সর্বোত্তম যে তার স্ত্রীর কাছে সর্বোত্তম। তুমি কি জানতে তোমার স্ত্রীর হক কি ছিল? রাশেদ জবাব দিল না। শেখ বললেন, তার হক ছিল ভালোবাসা। তার হক ছিল সম্মান তার হক ছিল তোমার সময় তার হক ছিল তোমার মুখের হাসি শেখ সাহেব উঠে দাঁড়ালেন তুমি যা হারিয়েছো সব পূরণ হবে না কিন্তু তুমি যদি আজ সত্যিকারের তওবা করো আল্লাহ তোমার শেষটা সুন্দর করতে পারেন সেই রাতে রাশেদ একা ছিল নুসাইবা পাশের ঘরে মেয়েদের নিয়ে রাশেদ শুয়ে আছে ছাদে চাঁদের আলো এসে পড়েছে জানালা দিয়ে কাফেলা নেই মোহর নেই সম্মান নেই শুধু আছে একটা বিছানা একটা অসুস্থ দেহ আর একজন স্ত্রী যাকে সে 10 বছর কষ্ট দিয়েছে আর সেই স্ত্রী এখন তার একমাত্র সাথী রাশেদ বুঝলো এটাই হলো আল্লাহর বিচার সে অন্যায়কে অন্যায় মনে করেনি তাই আল্লাহ তাকে এমন এক জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছেন যেখানে সে নিজেই দেখতে পাচ্ছে সে কি ছিল তার চোখ দিয়ে পানি গড়ালো এবার কেউ দেখছে না এবার কোন নুসাইবা নেই কাছে শুধু সে আর তার রব হে আল্লাহ রাশেদ ফিসফিস করল আমি ভুল করেছিলাম আমি তোমার আমার হুকুম মানিনি আমি তোমার দেওয়া আমানত আমার স্ত্রীকে সঠিকভাবে রক্ষা করিনি সে থামলো বুকের ভেতর কাঁপছে আমাকে মাফ করো আমাকে সুযোগ দাও পরদিন সকাল রাশেদ ডাকল নুসাইবা নুসাইবা এল রাশেদ তার দিকে তাকালো সরাসরি প্রথমবারের মতো বসো নুসাইবা বসল রাশেদ একটু সময় নিল তারপর বলল আমি তোমার সাথে যা করেছি তা ঠিক ছিল না আমি জানি ঠিক ছিল না বললেই সব ঠিক হয়ে যায় না কিন্তু আমি ক্ষমা চাই নুসাইবার চোখ ভিজে গেল রাশেদ বলল আমার মেয়েদের ডাকো দুই মেয়ে এলো রাশেদ তাদের দিকে দুই হাত বাড়িয়ে দিল মেয়েরা কি করবে বুঝতে পারছিল না এই হাত তাদের আগে কখনো ডাকেনি তারপর বড় মেয়ে যার নাম হালিমা এগিয়ে গিয়ে বাবার হাত ধরল রাশেদের বুক ফেটে গেল সে কাঁদলো এমন করে কাঁদলো যেমন সে জীবনে কখনো কাঁদেনি সেই কান্না থেকে রাশেদের বদলানো শুরু হল ধীরে কিন্তু সত্যিকারের সে প্রতিদিন নামাজ পড়তে শুরু করল পাঁচ ওয়াক্ত তাহাজ্জুদ ইস্তেগফার অসুস্থতার মধ্যেও সে নুসাইবার সাথে কথা বলতো মেয়েদের সাথে সময় কাটাতো হালিমা তার কাছে এসে বসতো রাশেদ গল্প বলতো ছোট মেয়ে সুমাইয়া তার বাবার দাড়ি টানতো রাশেদ হাসতো এই হাসি এই সত্যিকারের হাসি রাশেদের মুখে এর আগে কখনো ছিল না আর ধীরে ধীরে আল্লাহর রহমতে রাশেদের শরীরও একটু একটু ভালো হতে লাগলো। হেকিম অবাক হলো বলল, তুমি এত দ্রুত ভালো হচ্ছ কিভাবে? রাশেদ বলল, দোয়া। একদিন বাজারে গেল রাশেদ। অনেকদিন পর একজন পরিচিত ব্যবসায়ী যার সাথে আগে কোন গভীর সম্পর্ক ছিল না তার কাছে এল। রাশেদ ভাই, আমি শুনেছি তোমার অবস্থা ভালো নয়। আমার একটা প্রস্তাব আছে। লোকটির নাম সালেম বিন জুবায়ের। ধার্মিক মানুষ। আমার একটা বড় কাফেলা যাচ্ছে মরক্কো থেকে মালামাল নিয়ে আসতে তুমি যদি অংশীদার হতে চাও আমার একজন বিশ্বস্ত মানুষ দরকার আমার তো টাকা নেই টাকা লাগবে না তোমার অভিজ্ঞতা লাগবে লাভের ভাগ সমান রাশেদ চমকে গেল কিন্তু তুমি কেন আমাকে সালেম হাসলো কারণ তোমার স্ত্রী প্রতিদিন ফজরের নামাজে মসজিদের পাশের মহিলাদের জায়গায় দোয়া করেন তোমার জন্য শহরের মানুষ তা জানে যার স্ত্রী এভাবে দোয়া সেই মানুষ কিছু ভালো জিনিস নিয়ে জন্মেছে। রাশেদ কিছু বলতে পারলো না। ব্যবসা আবার শুরু হলো। প্রথম লাভে মোহর হাতে পেয়ে রাশেদ নুসাইবার কাছে গেল। বলল, এই টাকা তোমার। নুসাইবা অবাক হল, আমার কেন? কারণ তুমি ছাড়া আমার কাছে কিছুই থাকতো না। নুসাইবা সেই মোহর হাতে নিল। তার চোখ ভিজে গেল। তারপর একটি কথা বলল। যে কথাটা রাশেদের বাকি জীবন মনে থাকবে। রাশেদ আমি কোনদিন আল্লাহর কাছে তোমার ক্ষতি চাইনি শুধু চেয়েছিলাম তুমি বুঝতে পারো রাশেদ নুসাইবার হাত ধরল সেই হাত যে হাত 20 বছর আগে বিয়ের আকোদে একসাথে ছিল তারপর 10 বছর আলাদা পথে চলেছিল আবার একসাথে হল সেই সন্ধ্যায় তারা একসাথে বসেছিল মরুভূমির সূর্য ডুবছে আকাশ লাল হয়ে গেছে দূরে আযান ভেসে আসছে মাগরিবের রাশেদ বলল চলো নামাজ পড়ি নুসাইবা বা উঠে দাঁড়ালো তার মুখে হাসি। বছর কয়েক পরের কথা রাশেদের ব্যবসা আবার ভালো হয়েছে। কিন্তু এবার সে জাগজমক করে করে না। সে আল্লাহর পথে দান করে মসজিদে দিয়েছে অনাথদের জন্য দিয়েছে। মেয়ে হালিমার বিয়ে দিয়েছে একজন ধার্মিক যুবকের সাথে। বিদায়ের সময় কাঁদতে কাঁদতে বলেছে, তোমার স্বামীকে ভালোবাসো। কিন্তু নিজের হকের কথাও ভুলো না। সুমাইয়া বড় হচ্ছে। সে তার বাবার কাঁধে মাথা রেখে ঘুমায়। আর নুসাইবা নুসাইবা এখন সকালে হাসি মুখে ওঠে ফজরের নামাজে দোয়া করে কিন্তু এখন দোয়ায় শুকরিয়া বেশি একদিন রাশেদ বলল নুসাইবা তুমি কখনো কি আমাকে মাফ করেছ সে বলল আমি তোমাকে তখনই মাফ করেছিলাম যখন তুমি আমার সেবা নিচ্ছিলে আর তোমার চোখে জল ছিল সেই জলের ওজন আল্লাহর কাছে অনেক বেশি রাশেদ চোখ বন্ধ করল মনে মনে বলল আল্লাহ তুমি রহমান তুমি রহিম তুমি আমার মত অপরাধীকেও দ্বিতীয় সুযোগ দিয়েছো। যে গল্পটি পড়লেন বা শুনলেন এটি কেবল রাশেদের গল্প নয়। এটি হয়তো আমাদেরও গল্প। আমরা কি কখনো ভাবি আমাদের স্ত্রী বা স্বামীর অধিকার আমরা কতটুকু দিচ্ছি? ইসলামে স্ত্রীর হক শুধু রুটিকাপড় নয়। তার হক হলো সম্মান, মনোযোগ, ভালো ব্যবহার, একটা মুচকি হাসি, একটা ধন্যবাদ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সেই সর্বোত্তম যে তার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম। তিরমিজি স্ত্রীর চোখের জল আল্লাহর কাছে পৌঁছে যায়। সেই জল কখনো মাটিতে পড়ে হারিয়ে যায় না। গল্প থেকে আমরা যা শিখলাম। এক, স্ত্রীর হক আদায় করা শুধু কর্তব্য নয়। এটি আল্লাহর হুকুম। যে এই হক নষ্ট করে সে আসলে আল্লাহর সাথেই অবিচার করে। সম্পদ ক্ষমতা আর অহংকার মানুষকে অন্ধ করে দেয়| আল্লাহ কখনো কখনো সেই অহংকার ভাঙতে কষ্টকে মাধ্যম বানান তিন মজলুম মানুষের দোয়া বিশেষত স্ত্রীর দোয়া আল্লাহর কাছে পৌঁছায় দ্রুত সেই দোয়া শাস্তি নয় সংশোধনের পথ খুলে দেয় চার সত্যিকারের তওবা মানুষকে নতুন করে জন্ম দেয় বদলে যাওয়ার জন্য কখনো দেরি হয় না যতক্ষণ শেষ নিঃশ্বাস পড়েনি পাঁচ পরিবারে ইনসাফ করা মানুষকে বাইরের জগতেও বরকতময় করে তোলে। আর অন্যায় করলে সেই অন্যায়ের ছায়া একদিন না একদিন নিজের উপরেই পড়ে। প্রিয় ভাই ও বোনেরা এখনি আপনার স্ত্রীর কাছে বা স্বামীর কাছে যান। একটু হাসুন একটু কথা বলুন। বলুন তুমি ছাড়া আমি অসম্পূর্ণ। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে আমাদের পরিবারের প্রতি ন্যায়পরায়ণ হওয়ার তৌফিক দিন। আমাদের ঘরগুলোকে জান্নাতের টুকরো বানিয়ে দিন। আমাদের স্ত্রী স্বামীদের মধ্যে ভালোবাসা, সম্মান আর আল্লাহর রহমত ঢেলে দিন। আমিন।

Need a transcript for another video?

Get free YouTube transcripts with timestamps, translation, and download options.

Transcript content is sourced from YouTube's auto-generated captions or AI transcription. All video content belongs to the original creators. Terms of Service · DMCA Contact

স্ত্রীর হক নষ্ট করে এক সফল মানুষের সম্পূর্ণ পতন | একটি সত...