মক্কার সবচেয়ে ভয়ংকর মানুষ! 😨 কিভাবে হলো ইসলামের রক্ষক? | উমর (রা.)-এর সত্য ঘটনা

Tazkiyah Stories2,008 words

Full Transcript

616 খ্রিস্টাব্দ মক্কা নগরী। একজন মানুষ তলোয়ার হাতে রাস্তায় নেমেছেন। মুখে একটাই সংকল্প আজ রাতের মধ্যে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হত্যা করতে হবে। এই মানুষটা কোন সাধারণ মানুষ নয়। পুরো মক্কা তাকে ভয় পায়। তার মুষ্টির আঘাতে বড় বড় যোদ্ধারা মাটিতে লুটিয়ে পড়তো। তার গলার আওয়াজে বাজার থেমে যেত। কুরাইশ গোত্রের সবচেয়ে শক্তিশালী মানুষদের মধ্যে তিনি একজন। নাম তার ওমর ইবনে খাত্তাব। আর সেই রাতে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে হত্যা করতে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু সেই রাতে ওমর রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু যা দেখলেন তা দেখে তার তলোয়ার হাত থেকে পড়ে গেল। সেই রাতে ওমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু যা শুনলেন তা শুনে তার পাথরের মত শক্ত বুকটা কেঁপে উঠলো। আর সেই রাতের পর থেকে যে মানুষটা ইসলামের সবচেয়ে বড় শত্রু ছিলেন তিনিই হয়ে গেলেন ইসলামের সবচেয়ে বড় রক্ষক। আজকের গল্পটা সেই রাতের গল্প। সেই মানুষের গল্প যার জীবন পরিবর্তনের খবরে পুরো মক্কা স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। মনোযোগ দিয়ে শুনুন। কারণ এই গল্প শুনলে আপনি বুঝতে পারবেন আল্লাহর রহমত কতটা বিশাল এবং একটা মানুষ কতটা বদলে যেতে পারে। ষষ্ঠ শতাব্দীর মক্কা আরবের মরুভূমির বুকে গড়ে ওঠা এই শহরে তখন ছিল না কোন আইন শক্তিই ছিল সব যে শক্তিশালী সেই সম্মানিত আর সেই মক্কার সবচেয়ে শক্তিশালী মানুষদের একজন ছিলেন ওমর ইবনে খাত্তাব বয়স তখন তার 26 কি 27 শরীর পাহাড়ের মত বিশাল উচ্চতায় ছিলেন অন্যদের চেয়ে মাথা উঁচু হাঁটলে মাটি কাঁপতো কথা বললে মানুষ থমকে দাঁড়াতো ইতিহাস বিদরা লিখেছেন ওমর রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু এতটাই শক্তিশালী ছিলেন যে খালি হাতে উটকে মাটিতে ফেলে দিতে পারতেন। কুরাইশ গোত্রে তার পরিবার ছিল সম্মানিত। বাবা খাত্তাব ছিলেন কঠোর এবং কর্তৃত্বপরায়ণ একজন মানুষ। উমার শৈশব থেকেই শিখেছিলেন দুর্বলতা দেখানো মানে পরাজয়। তিনি পড়াশোনা করেছিলেন। সেই যুগের মক্কায় অক্ষর জ্ঞান ছিল বিরল। কিন্তু ওমর লিখতে ও পড়তে পারতেন। ব্যবসায়ী ছিলেন তীঘ্ন বুদ্ধির মানুষ। বিভিন্ন দেশে ব্যবসার কাজে গেছেন কুস্তিতে তলোয়ারবাজিতে ঘোড়া সওয়ারিতে সব জায়গায় সেরা মক্কার মানুষ তাকে সমীহ করত কিন্তু ভয়ও পেত কারণ ওমারের রাগ ছিল আগ্নেয়গিরির মত যখন রেগে যেতেন কেউ সামনে দাঁড়ানোর সাহস রাখতো না এই মানুষটা ইসলামের ঘোড়তর শত্রু ছিলেন। [মিউজিক] ইসলাম তখন মাত্র শুরু হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবে নবুয়ত পেয়েছেন। মুষ্টিমেও কিছু মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছেন তাদের বেশিরভাগই দরিদ্র দাস বা সমাজের প্রান্তিক মানুষ কুমার এই নতুন ধর্মকে ঘৃণা করতেন কেন কারণ এই ধর্ম বলছে সকল মানুষ সমান দাস আর মালিক সমান ধনী আর গরীব সমান এটা উমারের মত অভিজাত মানুষের কাছে ছিল অসহনীয় আরবের হাজার বছরের সংস্কৃতি তাদের পূর্বপুরুষদের ধর্ম সবকিছু বদলে দেওয়ার চেষ্টা করছেন এই মোহাম্মদ ওমার এটা মানতে পারতেন তিনি শুধু বিরোধিতায় সীমাবদ্ধ ছিলেন না। মুসলমানদের কষ্ট দিতেন সক্রিয়ভাবে। যে দাসরা ইসলাম গ্রহণ করত ওমার তাদের মারতেন, নির্যাতন করতেন। ইতিহাস বলে তিনি তার এক দাসী খাবিশাকে ইসলাম গ্রহণের কারণে এতক্ষণ মারতেন যতক্ষণ না তিনি নিজেই ক্লান্ত হয়ে থামতেন। এই ছিলেন উমর ইবনে খাত্তাব। ইসলামের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর শত্রুদের একজন। নবুয়তের ষষ্ঠ বছর মক্কায় মুসলমানদের উপর অত্যাচার তখন চরমে কুরাইশরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই ইসলামকে শিকড় থেকে উপরে ফেলতে হবে মুসলমানরা প্রকাশ্যে ইবাদত করতে পারতো না দল বেঁধে চলতে পারতো না এমনকি নিজেদের মধ্যে কথা বলতেও ভয় পেত সেই কঠিন সময়েও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থামেননি দাওয়াত দিচ্ছিলেন। মানুষ ডাকছিলেন আল্লাহর দিকে। মক্কার নেতারা একদিন বৈঠকে বসলেন। এভাবে আর চলবে না মোহাম্মদকে থামাতে হবে চিরতরে। সেই বৈঠকে ওমর উঠে দাঁড়ালেন। আমি দায়িত্ব নিচ্ছি। কেউ প্রশ্ন করেনি। কারণ সবাই জানতো ওমর যা বলেন তা করেন। সেদিন বিকেলে ওমর তলোয়ার কোমরে বেঁধে বের হলেন। রাস্তায় তার পরিচিত একজন নোয়াইম ইবনে আব্দুল্লাহ। নুয়াইম তখন গোপনে ইসলাম গ্রহণ করেছেন কিন্তু প্রকাশ করেননি। ওমরের চেহারা দেখে নোয়াইম বুঝলেন কিছু একটা হতে চলেছে ওমর কোথায় যাচ্ছো এই রাজি মুখ কেন ওমর সরাসরি বললেন মোহাম্মদের কাছে যাচ্ছি আজ তাকে শেষ করে দেব নুয়াইম বুকের মধ্যে কাঁপলেন কিন্তু চেহারায় কিছু বোঝালেন না মাথা ঠান্ডা রেখে বললেন ওমর আগে নিজের ঘরের খোঁজ নাও তোমার বোন ফাতিমা আর তার স্বামী সাঈদ তারা ইসলাম গ্রহণ করেছে ওমর থমকে দাঁড়ালেন চোখ সরু হয়ে গেল। কি বললে? হ্যাঁ। তোমার নিজের বোন। ওমরের রাগ এখন দ্বিগুন হয়ে গেল। সে রাসূলের দিকে না গিয়ে ঘুরে গেলেন বোনের বাড়ির দিকে। ওমর বোনের বাড়ির সামনে পৌঁছালেন। ভেতর থেকে আওয়াজ আসছে। কেউ একজন কুরআন পড়ছেন। সুরেলা মধুর কন্ঠে। ওমর দরজায় ধাক্কা দিলেন। ভেতরে হঠাৎ নীরব হয়ে গেল। ফাতিমা দৌড়ে কোরআনের পাতাগুলো লুকিয়ে রাখলেন যিনি পড়াচ্ছিলেন সাহাবী খাব্বাব ইবনে আরাত রাদিয়াল্লাহু আনহু তিনি ঘরের কোনে লুকিয়ে গেলেন দরজা খুলল ওমর ঢুকলেন চোখ দিয়ে পুরো ঘর স্ক্যান করলেন কি পড়ছিলে এইমাত্র ফাতিমা বললেন কিছু না ভাই এমনিই কথা বলছিলাম ওমর ঘুরলেন দেওয়ালের কাছে মুখ [মিউজিক] লুকিয়ে বসে থাকা খাব্বাবকে দেখলেন তুমি এখানে কেন তারপর বোনের স্বামী সাঈদের দিকে তাকালেন তোমরা ইসলাম গ্রহণ করেছ এটা কি সত্য? সাঈদ মাথা উঁচু করে বললেন, হ্যাঁ সত্য। ওমর এক ঘুষি মেরে সাঈদকে মাটিতে ফেলে দিলেন। ফাতিমা ভাইয়ের সামনে এসে দাঁড়ালেন। ভাই থামো। ওমর বোনকে সরাতে গেলেন। ফাতিমার মুখে একটা আঘাত লাগলো। রক্ত পড়তে লাগলো। কিন্তু ফাতিমা সরে গেলেন না। ওমরের চোখের সামনে দাঁড়িয়ে রইলেন। রক্ত মাখা মুখে। কাঁপছেন না ভয় পাচ্ছেন না বরং বললেন ওমর তুমি যা খুশি করো কিন্তু আমি ইসলাম ছাড়বো না ওমর এই দৃশ্য দেখে একটু থমকে গেলেন। এই বোনকে তিনি চেনেন ছোটবেলা থেকে। এই বোন কখনো তার সামনে এভাবে দাঁড়ায়নি। আজ দাঁড়িয়ে আছে রক্তমাখা মুখে। কি আছে এই ধর্মে? যেটা তার কোমল বোনকে এতটা সাহসী করে তুলেছে। ওমরের রাগ হঠাৎ একটু থিতু হলো। তিনি বললেন ঠিক আছে তোমরা কি পড়ছিলে দেখাও আমাকে ফাতিমা একটু ভাবলেন তারপর বললেন ভাই তুমি পবিত্র নও এই কালামে পাক ছুতে হলে আগে গোসল করো ওমর যিনি এইমাত্র বোনের মুখে রক্ত ঝরিয়েছেন চুপ করে গেলেন উঠে গেলেন পানি দিয়ে হাত মুখ ধুয়ে এলেন। তারপর ফাতিমার হাত থেকে কুরআনের পাতা নিলেন। ওমর পাতাটা হাতে নিলেন। পড়তে লাগলেন সূরা তহার প্রথম কয়েকটা আয়াত তোহা আমি তোমার উপর কোরআন এই কারণে নাযিল করিনি যে তুমি কষ্ট পাবে বরং এটা নাযিল করেছি তাদের জন্য যারা ভয় করে ওমর পড়তে থাকলেন নিশ্চয়ই আমি আল্লাহ আমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই সুতরাং আমার ইবাদত করো এবং আমার স্মরণে নামাজ কায়েম করো ওমর থামলেন আবার পড়লেন আবার কিছু একটা হচ্ছে তার ভেতরে। এই কথাগুলো তো তিনি আগেও শুনেছেন। কিন্তু আজ এই মুহূর্তে এই আয়াতগুলো যেন সরাসরি তার বুকে ঢুকে যাচ্ছে। নিশ্চয়ই কিয়ামত আসবে। আমি তা গোপন রাখতে চাই। যাতে প্রতিটি মানুষ তার কর্মের প্রতিদান পায়। ওমর কাঁপলেন। এই কোরআন মানুষের লেখা হতে পারে না। এটা কোন মানুষের ভাষা না। এটা এটা আল্লাহর কথা। ওমর পাতা নামিয়ে রাখলেন। মুখ তুলে তাকালেন। খাব্বাব ইবনে আরাত কোন থেকে বেরিয়ে এলেন। তিনি বললেন, ওমর আল্লাহর কসম আমি আশা করি আল্লাহ তোমার মাধ্যমে এই দ্বীনকে সম্মানিত করবেন। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গতকালও দোয়া করেছেন। ইয়া আল্লাহ আবুল হাকাম ইবনে হিশাম অথবা ওমর ইবনে খাত্তাবের মাধ্যমে ইসলামকে শক্তিশালী করো। ওমর চমকে উঠলেন। রাসূল তার জন্য দোয়া করেছেন। সেই মানুষ যাকে ওমর হত্যা করতে বেরিয়েছিলেন। তিনি ওমরের জন্য দোয়া করেছেন। ওমর দাঁড়িয়ে গেলেন। খাব্বাব রাসূল এখন কোথায়? সাফা পাহাড়ের কাছে। দারুল আরকামে। ওমর তলোয়ার তুললেন। ফাতিমা ভয় পেলেন। কিন্তু ওমর বললেন, ভয় পেও না। আমি যাচ্ছি। দারুল আরকাম। সাফা পাহাড়ের পাদদেশে একটা ছোট্ট বাড়ি। এই বাড়িতে তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং কয়েকজন সাহাবী আছেন। হঠাৎ দরজায় জোরে ধাক্কা। ভেতরে থাকা সাহাবীরা চমকে উঠলেন কে এসেছে? হামজা ইবনে আব্দুল মুত্তালিব রাসূলের চাচা ইসলামের সিংহ জানালা দিয়ে উঁকি দিলেন। বাইরে ওমর [মিউজিক] তলোয়ার হাতে। হামজা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন ওমর এসেছে তলোয়ার হাতে। ঘরে উত্তেজনা। একজন সাহাবী বললেন, দরজা খুলবো না। আরেকজন বললেন, সে আমাদের মারতে এসেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শান্ত গলায় বললেন, দরজা খোলো। তাকে আসতে দাও। দরজা খুলে গেল। ওমর ঢুকলেন। রাসূলুল্লাহ উঠে সামনে এলেন। ওমরের গলার কলার ধরলেন জোরে। ওমর কেন এসেছো? কি চাও? ওমর সেই স্পর্শে থমকে গেলেন। এই মানুষটা ভয় পাচ্ছেন না। সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন। ওমরের হাতে তলোয়ার। সামনে নিরস্ত্র একজন মানুষ। কিন্তু সেই মানুষের চোখে কোন ভয় নেই। বরং একটা অদ্ভুত আলো। ওমর মাথা নিচু করলেন। গলা ধরে এল। ইয়া রাসূলাল্লাহ আমি ইসলাম গ্রহণ করতে এসেছি। মুহূর্তের নীরবতা। তারপর দারুল আরকামের সেই ছোট্ট ঘরে। >> আল্লাহু আকবার। এত জোরে তাকবীর উঠলো যে সাফা পাহাড় কেঁপে উঠলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চোখে আনন্দের অশ্রু। এই সেই ওমর যার জন্য তিনি দোয়া করেছিলেন। আল্লাহ তার দোয়া কবুল করেছেন। ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু ইসলাম গ্রহণ করলেন। কিন্তু ওমর চুপ করে বসে থাকার মানুষ নন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললেন ইয়া রাসূল আল্লাহ আমরা কি সত্যের উপর নেই? অবশ্যই। তাহলে আমরা লুকিয়ে থাকবো কেন? সেই মুহূর্তে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটু থামলেন। তারপর হাসলেন। ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু সরাসরি বের হলেন। গেলেন আবু জাহালের কাছে। আবু জাহাল মক্কার সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতাদের একজন। ইসলামের চরম শত্রু। ওমর দরজায় ধাক্কা দিলেন। আবু জাহাল বেরিয়ে এল। ওমর কি ব্যাপার? ওমর সরাসরি বললেন, আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ আবু জাহেলের মুখ ফ্যাকাসে হয়ে গেল তুমি তুমি কি বললে শুনেছ ঠিকই আবু জাহাল দরজা বন্ধ করে দিল ওমর সেখান থেকে বের হলেন এবং পুরো মক্কায় ঘোষণা দিতে লাগলেন খবর ছড়িয়ে গেল মক্কায় আলোড়ন পড়ে গেল ওমর ইসলাম গ্রহণ করেছেন যে ওমর মুসলমানদের নির্যাতন করতো যে ওমর রাসূলকে হত্যা করতে বেরিয়েছিল সেই ওমর মুসলমান হয়ে গেছে মুসলমানদের ভেতরে আনন্দ, কুরাইশদের ভেতরে আতঙ্ক। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ রাদিয়াল্লাহু আনহু পরে বলেছিলেন, ওমরের ইসলাম গ্রহণ ছিল আমাদের জন্য বিজয়। তার হিজরত ছিল আল্লাহর সাহায্য। আর তার খেলাফত ছিল আল্লাহর রহমত। ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু ইসলাম গ্রহণের পর মুসলমানরা প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে কাবার সামনে নামাজ পড়তে পারলেন| কারণ ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন| তাকে আটকানোর সাহস কারো ছিল না| ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু ইসলাম গ্রহণের পরে কেমন মানুষ হয়েছিলেন সেই একই মানুষ যিনি দাসদের নির্যাতন করতেন তিনি এখন দাসদের মুক্ত করতে সম্পদ খরচ করেন সেই মানুষ যিনি নিজের বোনের মুখে রক্ত ঝরিয়েছিলেন তিনি এখন মানুষের সামান্য কষ্টেও ব্যথিত হন। খলিফা হওয়ার পরে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর একটা বিখ্যাত ঘটনা আছে। এক রাতে তিনি একা মদিনার রাস্তায় হাঁটছিলেন। দেখলেন একটা তাবুর [মিউজিক] কাছে একজন মহিলা কাঁদছেন। পাশে ছোট ছোট বাচ্চারা। ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু কাছে গেলেন। কি হয়েছে? কাঁদছেন কেন? মহিলা বললেন, বাচ্চারা ক্ষুধার্থ। কিছু নেই ঘরে। আমি পানি গরম করছি যেন বাচ্চারা ভাবে রান্না হচ্ছে। ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু কিছু বললেন না। সরাসরি চলে গেলেন বায়তুল মালে। রাষ্ট্রীয় কোষাগারে নিজে কাঁধে বহন করে আটা তেল নিয়ে এলেন এবং নিজের হাতে সেই মহিলার জন্য রান্না করলেন। বাচ্চাগুলো খেল। মহিলা অবাক। এই মানুষটাকে তিনি চেনেন না। পরে জেনেছিলেন যিনি তার জন্য রান্না করেছিলেন তিনি স্বয়ং খলিফা ওমর। এই ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু খলিফা থাকাকালীন রাতের পর রাত মানুষের খোঁজে বের হতেন। নিজের কষ্ট নিজে বহন করতেন। নিজের জন্য কখনো বিশেষ সুবিধা নিতেন না। একবার এক ব্যক্তি এসে বলল, আমিরুল মুমিনীন সিরিয়ায় ধনীরা ভালো পোশাক পড়ে। আপনিও ভালো পোশাক পড়ুন। ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমি এমন কাউকে চাই না যে আমার পোশাক দেখে সম্মান করুক। আমি চাই মানুষ ন্যায়বিচার দেখে সম্মান করুক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন বলেছিলেন আমার পরে যদি কোন নবী হতো তাহলে সে হতো ওমর। সেই ওমর যিনি ইসলাম ধ্বংস করতে চেয়েছিলেন তিনিই হলেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা। ইসলামের সবচেয়ে শক্তিশালী স্তম্ভ গুলোর একটি। প্রিয় ভাই ও বোনেরা, ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর এই গল্পটা শুধু একজন মানুষের গল্প নয়। এই গল্প আমাদের একটা সত্য শেখায়। কেউ এতটা পাপী নয় যে আল্লাহর রহমত তার কাছে পৌঁছাতে পারবে না। ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু কি ছিলেন? ইসলামের শত্রু। মুসলমানদের নির্যাতনকারী। রাসূলকে হত্যা করতে বেরিয়ে যাওয়া মানুষ। কিন্তু আল্লাহ তাকে বেছে নিলেন। কেন? কারণ আল্লাহ মানুষের বাইরেটা দেখেন না। তিনি দেখেন ভেতরটা। ওমরের মধ্যে ছিল সত্যের প্রতি ভালোবাসা। সেই রাতে বোনের ঘরে কোরআনের আয়াত শুনে যে কম্পন তিনি অনুভব করলেন সেটাই ছিল তার অন্তরের সত্যিকারের প্রতিক্রিয়া। আল্লাহ সেই মুহূর্তটাকে কাজে লাগালেন। এখন আপনার দিকে আসি। হয়তো আপনি মনে করেন আমি অনেক পাপ করেছি। আমার জন্য কি আর ফিরে আসার সুযোগ আছে? ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর গল্প বলছে অবশ্যই আছে। হয়তো আপনার পরিবারে বা পরিচিতদের মধ্যে কেউ আছেন যিনি এখন ইসলাম থেকে দূরে। ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর গল্প বলছে তাদের জন্য দোয়া করুন। হাল ছেড়ে দেবেন না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই দোয়া করেছিলেন ওমরের জন্য। আল্লাহ কবুল করেছিলেন। আপনার দোয়াও কবুল হতে পারে। একটা কথা মনে রাখবেন সবসময়। সেই রাতে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তলোয়ার হাতে বেরিয়েছিলেন ইসলাম ধ্বংস করতে। কিন্তু আল্লাহর পরিকল্পনা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। আল্লাহর পরিকল্পনা কখনো মানুষের পরিকল্পনায় হারায় না। কুরআনে আল্লাহ বলেছেন তারা পরিকল্পনা করেন আল্লাহ পরিকল্পনা করেন আর আল্লাহ সর্বোত্তম পরিকল্পনাকারী। সূরা আল ইমরান আয়াত 54 ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর জীবন এই আয়াতের জীবন্ত প্রমাণ। প্রিয় দর্শক আজকের এই সত্য ঘটনাটা যদি আপনার মনে নাড়া দিয়ে থাকে তাহলে এখনি ভিডিওটিতে একটা লাইক দিন। এই গল্পটা আপনার কোন প্রিয়জনকে পাঠান। হয়তো এই গল্প কারো জীবনে একটা পরিবর্তন আনতে পারে। আমাদের চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন। বেল আইকনটা চাপুন। আর নিচে কমেন্টে জানান ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর এর জীবন থেকে আপনি কোন শিক্ষাটা সবচেয়ে বেশি কাজে লাগাবেন। আল্লাহ হাফেজ।

Need a transcript for another video?

Get free YouTube transcripts with timestamps, translation, and download options.

Transcript content is sourced from YouTube's auto-generated captions or AI transcription. All video content belongs to the original creators. Terms of Service · DMCA Contact

মক্কার সবচেয়ে ভয়ংকর মানুষ! 😨 কিভাবে হলো ইসলামের রক্ষক?...