যে কারণে কসাই মুসা নবীর সাথে জান্নাতে যাবে

দ্বীনের আলোঘর3,186 words

Full Transcript

একদিন হযরত মুসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর সাথে কথা বলার জন্য তুর পাহাড়ের দিকে রওনা করলেন। অনেকটা পথ চলার পর অবশেষে তিনি তুর পাহাড়ে এসে উপস্থিত হলেন। অতঃপর আল্লাহ রাব্বুল আলামীন গায়েব আওয়াজের মাধ্যমে হযরত মুসা আলাইহি সালামের সাথে কথা বলা শুরু করলেন। হযরত মুসা আলাইহিস সালাম আল্লাহ রাব্বুল আলামীনকে জিজ্ঞাসা করলেন হে আল্লাহ আমি জানতে চাই জান্নাতে আমার সাথে কে থাকবে তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বললেন হে মুসা এই বনী ইসরাইলের মধ্যে একজন কসাই বসবাস করে সে তোমার সাথে জান্নাতে থাকবে এবং সে তোমার জান্নাতের সঙ্গী হবে এই কথা শোনার পর হযরত মুসা আলাইহি সালাম বিনয়ের সাথে আল্লাহ আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে জানতে চাইলেন হে আল্লাহ আমাকে তুমি নবী বানিয়ে এই পৃথিবীতে পাঠিয়েছো আমার সাথে তো জান্নাতে থাকার কথা কোন আল্লাহওয়ালা বুজুর্গ দরবেশ ব্যক্তির কিন্তু আমার জান্নাতের সঙ্গী কেন একজন কষায় হবে হে মাবুদ আপনি দয়া করে ওই কসায় ব্যক্তির ঠিকানা দিন আমি গিয়ে দেখতে চাই সে কি এমন আমল করে যে আমলের কারণে সে আমার সাথে জান্নাতে বসবাস করবে। তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বললেন, হে মুসা, তুমি আজকে বাড়িতে চলে যাও। সময় হলে আমি তোমাকে ডেকে আনবো। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কথা শুনে মুসা আলাইহিস সালাম বাড়িতে ফিরে আসলেন। বেশ কিছুদিন পর একদিন আল্লাহর নবী হযরত মূসা আলাইহিস সালাম কোন একটি জায়গায় যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে রওনা করলেন। তিনি রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে পথই মধ্যে দেখতে পেলেন একজন মহিলা রাস্তার পাশে কান্না করছেন। মহিলা তখন হযরত মূসা আলাইহিস সালামকে দেখে তার কাছে আসলেন এবং মুসা আলাইহিস সালামকে জিজ্ঞাসা করলেন হে আল্লাহর নবী মুসা আপনি কি আজকে আল্লাহর সাথে কথা বলার জন্য দূর পাহাড়ে যাচ্ছেন যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে আপনি আল্লাহর কাছে আমার একটা আরজি পৌঁছে দিবেন আপনি আল্লাহর কাছে জিজ্ঞাসা করবেন আমার বিবাহের এত বছর হয়ে গেল কিন্তু আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এখনো পর্যন্ত কেন আমাকে কোন সন্তান সন্ততি দান করলেন না? আমি জানতে চাই আমার কি অপরাধ যার কারণেই আমি আজও কোন সন্তানের মুখ দেখতে পারলাম না। হে মুসা আপনি আপনার আল্লাহকে জিজ্ঞাসা করবেন আমার কোন ভুল আছে কিনা। কোন ভুলের কারণে আমার বিবাহের এত বছর অতিবাহিত হওয়ার পরেও এখনো পর্যন্ত আমি কোন সন্তান কোলে নিতে পারলাম না। মহিলার মুখে এমন কথা শোনার পর হযরত মূসা আলাইহিস সালাম অবাক হয়ে গেলেন। তারপর তিনি ওই মহিলাকে বললেন, ঠিক আছে। আমি অবশ্যই আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে আপনার কথা জিজ্ঞাসা করব। এই কথা বলেই মুসা নবী সামনের দিকে হাঁটতে শুরু করলেন। তারপর তিনি মনস্থির করলেন। তিনি এখন সফর করতে যাবেন না। তিনি তুর পাহাড়ের দিকে যাবেন। অতঃপর মুসা আলাইহিস সালাম তুর পাহাড়ের দিকে রওনা দিলেন। তুর পাহাড়ে পৌঁছানোর পর মুসা নবী আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সাথে কথা বলা শুরু করলেন। মুসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর কাছে জানতে চাইলেন হে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমি রাস্তা দিয়ে আসার সময় একজন মহিলা আমাকে বলেছে তার বিয়ের অনেক বছর হয়ে যাওয়ার পরেও তাকে আপনি কেন এখনো পর্যন্ত কোন সন্তান সন্ততি দান করেননি সে জানতে চেয়েছে তার কি এমন অন্যায় কি এমন অপরাধ যার কারণে বিয়ের এত বছর পরেও সে কোন সন্তান সন্ততির মুখ দেখতে পারলো না অতঃপর আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এক গায়েব আওয়াজের মাধ্যমে হযরত মুসা আলাইহিস সালামকে জানিয়ে দিলেন হে মুসা তুমি ওই মহিলাকে জানিয়ে দাও যে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার ভাগ্যে কোন সন্তান লিখেননি যার কারণে সে মা হতে পারেনি। একমাত্র আল্লাহ যাকে চাইবেন তাকেই সন্তান দান করবেন। যার ভাগ্যে সন্তান লিখা থাকবে সে কেবল সন্তানের মুখ দেখতে পারবে। ওই মহিলার ভাগ্যে কোন সন্তান লিখা নেই। তাই সে কোনদিন মা হতে পারবে না। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছ থেকে এমন কথা শোনার পর হযরত মুসা আলাইহিস সালাম বাড়ির দিকে রওনা করলেন। কিছু সময় পথ চলার পর হঠাৎ তার মনে পড়লো ওই মহিলার কথা। অতঃপর হযরত মুসা আলাইহিস সালাম নিজ বাড়ির দিকে রওনা না করে ওই মহিলার বাড়ির দিকে রওনা করলেন। এরপর তিনি মহিলার বাড়ির ভেতর প্রবেশ করলেন এবং মহিলার কাছে গিয়ে বললেন, মা জননী আল্লাহ রাব্বুল আলামীন জানিয়ে দিয়েছেন তোমার ভাগ্যে কোন সন্তান লিখা নেই। যার কারণে তুমি কোনদিন মা হতে পারবে না। হযরত মুসা আলাইহি সালামের মুখে এমন কথা শুনে ওই মহিলার চিৎকারটি অঝরে কান্না করতে লাগল। অতঃপর মুসা আলাইহি সালাম সেখান থেকে চলে গেলেন। এই ঘটনার কিছুদিন পর একদিন আল্লাহর এক ফকির সেই মহিলার বাড়িতে এলেন এবং বললেন, বাড়িতে কেউ কি আছেন? আমাকে কিছু খাবার দিতে পারবেন? আমি বেশ কিছুদিন যাবৎ না খেয়ে আছি। আমাকে কিছু খাবার দিন। নিশ্চয়ই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আপনার মনের আশা পূর্ণ করবেন। তখন মহিলাটি ওই ফকির বুজুর্গ ব্যক্তিকে ঘরের ভিতরে নিয়ে আসলেন এবং তাকে তিনটি রুটি খেতে দিলেন। রুটিগুলো খাওয়ার পর মহিলাটি ওই ফকিরকে উদ্দেশ্য করে বললেন, আপনি তো আল্লাহ তাআালার প্রিয় বুজুর্গ ব্যক্তি। আপনি আমার জন্য একটু দোয়া করবেন যেন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমার গর্ভে একটি সন্তান দান করেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এখনো পর্যন্ত আমার গর্ভে কোন সন্তান দান করেননি। আপনি একটু দোয়া করে দিন যাতে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাকে একটি সন্তান দান করেন। তারপর বুজুর্গ ব্যক্তিটি আল্লাহর কাছে দোয়া করে চলে গেলেন। এর কয়েক বছর পর হযরত মূসা আলাইহিস সালাম আবারো কোথাও যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা করলেন। হাটতে হাঁটতে হঠাৎ হযরত মূসা আলাইহি সালামের সেই মহিলার কথা মনে পড়ে গেল। তখন মুসা আলাইহি সালাম সেই মহিলার বাড়িতে প্রবেশ করলেন। মহিলার বাড়িতে ঢুকে মুসা আলাইহি সালাম দেখলেন তা দেখে তিনি বিশিত হয়ে গেলেন। তিনি দেখতে পেলেন ওই মহিলা একটি ছোট্ট শিশু বাচ্চাকে কোলে নিয়ে মনের আনন্দে খেলা করছেন। মহিলাটি হযরত মুসা আলাইহি সালামকে দেখে তার কাছে আসলেন এবং বললেন হে আল্লাহর নবী আপনি এসেছেন আপনি তো বলেছিলেন আল্লাহ আমার ভাগ্যে কোন সন্তান লেখেননি। আমার ভাগ্যে কোন সন্তান নেই। কিন্তু আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাকে একটি সন্তান দান করেছেন। মহিলার মুখে এমন কথা শুনে হযরত মুসা আলাইহি সালাম অবাক হয়ে গেলেন। তখন তিনি সেখানে আর কোন কথা না বলে সোজা তুর পাহাড়ের দিকে রওনা করলেন। তুর পাহাড়ে এসে হযরত মুসা আলাইহি সালাম আল্লাহ রাব্বুল আলামীনকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আপনি তো বলেছিলেন ওই মহিলার ভাগ্যে কোন সন্তান লেখা হয়নি। আর ওই মহিলা কোনদিন মা হতে পারবে না। কিন্তু আজ আমি তার বাড়িতে গিয়েছিলাম। গিয়ে দেখলাম ওই মহিলাটি ছোট্ট একটি শিশুর সঙ্গে মনের আনন্দে খেলা করছেন এবং সেই মহিলা বলেছে যে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাকে একটি সন্তান দান করেছেন। হে রাব্বুল আলামীন আমি এই ব্যাপারটা বুঝতে পারিনি। কিভাবে এই ঘটনা ঘটলো? তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এক গায়েবী আওয়াজের মাধ্যমে হযরত মুসা আলাইহিস সালাম কে জানিয়ে দিলেন হে মুসা যদি তুমি এই প্রশ্নের উত্তর পেতে চাও তাহলে কোন এক মানুষের গোস্ত নিয়ে আমার কাছে আসো তাহলে তুমি তোমার প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন থেকে এমন কথা শোনার পর হযরত মুসা আলাইহিস সালাম মানুষের গোস্ত খোঁজার জন্য বের হয়ে গেলেন। তিনি তার কওমের লোকেদের কাছে গিয়ে বললেন, হে আমার কওমের লোকেরা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নির্দেশে আমি এখানে এসেছি। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন, মানুষের গোস্ত নিয়ে যেতে। তোমাদের মধ্যে কেউ কি আছে যে আমাকে এক টুকরো গোস্ত শরীফ থেকে কেটে দিবে? মুসা আলাইহিস সালামের মুখে এমন কথা শুনে তার কওমের লোকেরা সবাই সেখান থেকে চলে গেল। এই ঘটনায় হযরত মুসা আলাইহি সালাম অনেক চিন্তিত এবং পেরেশান হয়ে গেলেন। চিন্তিত মন নিয়ে তিনি এদিক সেদিক ঘুরতে লাগলেন। অবশেষে কোন সমাধান না পেয়ে তিনি বাড়ির দিকে রওনা করলেন। এমন সময় পিছন থেকে একজন বুজুর্গ দরবেশ হযরত মুসা আলাইহি সালামকে ডাক দিয়ে বললেন, হে আল্লাহর নবী মুসা, তোমাকে এত চিন্তিত এবং পেরেশানি দেখাচ্ছে কেন? ঘটনা কি? আমাকে বল। তখন মুসা আলাইহিস সালাম ওই বুজুর্গ ব্যক্তিকে বললেন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন মানুষের গোস্ত নিয়ে যেতে। আমি আমার কওমের লোকেদের কাছে গিয়েছিলাম। কিন্তু কোন মানুষই আমাকে এক টুকরো গোসত দিতে রাজি হলো না। সবাই মুখ ফিরিয়ে নিল। তখন বুজুর্গ ব্যক্তিটি হযরত মুসা আলাইহিস সালামের হাত থেকে ছুরিটি নিয়ে তার নিজের শরীর থেকে এক টুকরো গোস্ত কেটে হযরত মূসা আলাইহিস সালামের কাছে দিয়ে দিল। তারপর বুজুর্গ ব্যক্তিটি চলে গেলেন। হযরত মুসা আলাইহিস সালাম এই ঘটনার পর অত্যন্ত অবাক হয়ে গেলেন। অতঃপর তিনি গোশতের টুকরা নিয়ে তুর পাহাড়ে চলে আসলেন। হযরত মূসা আলাইহিস সালাম আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের উদ্দেশ্যে বললেন, হে আল্লাহ, আমি মানুষের গোস্ত নিয়ে এসেছি। কিন্তু এই গোস্তের জন্য আমি আমার কওমের লোকেদের কাছে গিয়েছিলাম। কিন্তু কোন মানুষই তাদের শরীর থেকে গোস্ত দিতে রাজি হয়নি। হঠাৎ একজন বুজুর্গ দরবেশ ব্যক্তি তার শরীরের গোস্ত কেটে আমাকে দিয়ে দিল। তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন গায়েব আওয়াজের মাধ্যমে হযরত মুসা আলাইহিস সালামকে বললেন, হে মুসা, তোমার তো মানুষের গোস্তের জন্য অন্য কারো কাছে যাওয়ার কোন দরকার ছিল না। তার জন্য তুমি নিজেই যথেষ্ট ছিলে। এরই মধ্যে তোমার প্রশ্নের উত্তর তুমি পেয়ে গেছো। আর ওই দরবেশ বুজুর্গ ব্যক্তিটি আল্লাহর নাম শোনা মাত্রই তার শরীরের গোস্ত কেটে তোমাকে দিয়ে দিল। তার দোয়ার বরকতের ফলেই আমি ওই মহিলার গর্ভে সন্তান দিয়েছি। হে মুসা জেনে রেখো যে বান্দা আমার জন্য পাগল এবং আমার নামের উপর ভরসা করে সবকিছুই অর্জন করে এবং আমাকে খুশি করার জন্য সবকিছু মান্য করে। আমি আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার জন্য সবকিছু করতে পারি। আর দোয়ার ফলে আমি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করে দিতে পারি। হযরত মুসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর কাছ থেকে এ প্রশ্নের উত্তর পেয়ে সরাসরি বাড়িতে চলে গেলেন। আর এভাবে বেশ কিছুদিন অতিবাহিত হয়ে গেলেন। একদিন হযরত মূসা আলাইহিস সালামের হঠাৎ মনে পড়ে গেল আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছিলেন, একজন কসাই তার জান্নাতে সঙ্গী হবে। তখন হযরত মুসা আলাইহিস সালাম সেই প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার জন্য তুর পাহাড়ের দিকে রওনা করলেন। হযরত মুসা আলাইহিস সালাম তুর পাহাড়ে এসে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনকে বললেন, হে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন, আপনি বলেছিলেন, এই বনী ইসরাইলের একজন কসাই আমার সাথে জান্নাতে যাবে। দয়া করে আপনি সেই কসাইয়ের ঠিকানা আমাকে দিন। আমি দেখে আসতে চাই কি এমন আমল করার কারণে সে আমার সঙ্গে জান্নাতে যাবে। তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এক গায়েব আওয়াজের মাধ্যমে হযরত মুসা আলাইহি সালামকে সেই কসাইয়ের ঠিকানা দিয়ে দিলেন। এরপর হযরত মুসা আলাইহি সালাম দূর পাহাড় থেকে সোজা সেই কষাইয়ের দোকানে আসলেন। দূরে দাঁড়িয়ে কষাইয়ের দোকানের দিকে লক্ষ্য করলেন। দেখলেন কষাই দোকানে বসে গোসত কাটছেন। ভালো গোস্তগুলো কেটে কেটে আলাদা একটি পাত্রে রাখছেন। এছাড়া আর কোন বিশেষ আমল কসাইয়ের মধ্যে দেখতে পাচ্ছেন না। কিছুক্ষণ পর কসাই দোকান বন্ধ করে সেই ভালো গোস্তের পাত্রটি নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা হলেন। হযরত মুসা আলাইহি সালাম কসাই লোকটির পিছু পিছু অনুসরণ করতে লাগলেন। কিছুক্ষণ পর কসাই বাড়িতে এসে পৌঁছায়। হযরত মুসা আলাইহি সালাম সেদিন কসাইয়ের বাড়িটা লক্ষ্য করে ঘিরে গেলেন। পরের দিন হযরত মুসা আলাইহি সালাম কসাইয়ের বাড়িতে এসে দরজায় কড়া নাড়লেন। বাড়িতে কেউ কি আছেন? কিন্তু বাড়ির ভেতর থেকে কোন শব্দ পেলেন না। তখন মুসা আলাইহিস সালাম ভাবলেন এই বাড়িতে হয়তো আর কেউই থাকে না। তখন তিনি বাড়ি থেকে আবার সেই কসাইয়ের দোকানের দিকে চলে গেলেন। কসাইয়ের দোকানে এসে দূর থেকে আবার লক্ষ্য করলেন। সেদিনও সেই কসাই ভালো ভালো কিছু গোস্তের টুকরা কেটে আলাদা একটি পাত্রের মধ্যে রাখছেন। ঠিক তখনই দোকানে একজন ক্রেতা উপস্থিত ছিলেন। ক্রেতা কসাইকে লক্ষ্য করে বললেন, ভাই আপনি আমাকে এই ভালো ভালো টুকরোর গোস থেকে দিন। বিনিময়ে আপনাকে আমি অতিরিক্ত দাম প্রদান করব। কিন্তু কসাই বললেন, ভাই আপনি আমাকে অতিরিক্ত যতই দাম দেন না কেন, আমি এই গোস্তগুলো বিক্রি করবো না। আমি এই গোস্তগুলো বাড়িতে নিয়ে যাব। মুসা নবী মনে মনে চিন্তা করতে লাগলেন। বাড়িতে তো কেউ থাকে না। তাহলে এই গোস্তগুলো কার জন্য? অতঃপর ক্রেতা অন্য দোকানে গোস্ত নিয়ে চলে গেল। কসাই দোকান বন্ধ করে সেই ভালো গোশতের টুকরো গুলো হাতে নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা হলেন। তখন হযরত মুসা আলাইহিস সালাম কসাইয়ের পিছু পিছু অনুসরণ করতে লাগলেন। মুসা আলাইহি সালাম দেখলেন কসাই বাড়িতে এসে দরজা খুলে ঘরে প্রবেশ করলেন। মুসা আলাইহিস সালাম কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে দরজার কাছে গিয়ে শব্দ করতে লাগলেন। বাড়িতে কেউ কি আছেন? আমি একজন মুসাফির। আমি বিপদে পড়ে এসেছি। আজকের রাতটুকু আমি এখানে কাটাতে যাই। তখন ঘর থেকে বসা এসে বলল, আপনাকে তো ঠিক চিনতে পারলাম না। তখন মুসা আলাইহি সালাম বললেন, ভাই আমি একজন মুসাফি। আমি আজকে রাতটুকু এখানে থেকে কাল সকালে চলে যাব। আমাকে একটু আশ্রয় দিন। তখন কসাই বললেন, ঠিক আছে ভাই। আপনি আমার ঘরে আসুন। ঘরের ভেতরে আসার পর কসাই মুসা আলাইহিস সালামকে বললেন, ভাই আপনি একটু বসুন। আমি পাশের ঘর থেকে একটি কাজ সেরে আসছি। কিছুক্ষণ পর মুসা নবী লক্ষ্য করলেন কসাই তার পাশের ঘরে গিয়ে একটি চুলা জ্বালিয়ে সেই গোশতের টুকরোগুলো রান্না করছেন। তিনি আরো দেখলেন কসাই রান্না শেষ করে একজন বৃদ্ধা মহিলাকে কোলে বসিয়ে সেই রান্না করা গোসত তার মুখে তুলে খাওয়াচ্ছেন। ঠিক যেমন একটি মা তার শিশুকে খাওয়ায়। এরপর কসাই কিছু রুটি এবং গোসত নিয়ে মুসা আলাইহি সালামের কাছে এসে বললেন, ভাই আপনি এই রুটি এবং গোসত খান। আমার বিশেষ কাজ থাকায় আপনার খাবার দিতে দেরি হয়ে গেল। তখন হযরত মুসা আলাইহিস সালাম কসাইকে বলে ভাই আমি খাবো। তার আগে আপনি আমার একটা প্রশ্নের উত্তর দিন। যে বৃদ্ধা মহিলাকে আপনি কোলে করে বসিয়ে খাওয়ালেন তিনি কে? তখন কসাই জবাব দিলেন, ভাই বৃদ্ধা মহিলাটি আমার দুঃখিনী মা। এই দুনিয়ায় আমার মা ছাড়া আমার আর কেউই নেই। আর আমি ছাড়া আমার মায়েরও আর কেউ নেই। এই বলে কষায় চলে গেলেন। কিছুক্ষণ পর হযরত মুসা আলাইহি সালাম লক্ষ্য করলেন সেই বৃদ্ধা মা ঘরের ভিতরে বসে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে দুই হাত তুলে দোয়া করছেন। তিনি বলছেন হে রাব্বুল আলামীন এই দুনিয়ায় আমার ছেলে ছাড়া আমার আর কেউ নেই। হে মাবুদ আমার ছেলে প্রতিদিন দোকান থেকে ভালো ভালো গোস্তের টুকরো নিয়ে আসে। সেগুলো রান্না করে আমার মুখে তুলে দেয়। হে আল্লাহ আমি আমার সন্তানের প্রতি সন্তুষ্ট। আর তুমিও আমার সন্তানের প্রতি সন্তুষ্ট থেকো। হে মাবুদ আমি মা হয়ে তোমার দরবারে হাত তুলেছি। হে আল্লাহ এই বনী ইসরাইলের সবচেয়ে বড় পয়গম্বর হযরত মুসা আলাইহি সালামের সাথে তুমি আমার ছেলের জান্নাত নসিব করিও। এই দৃশ্য দেখে হযরত মুসা আলাইহি সালাম অত্যন্ত অবাক হয়ে গেলেন। অতঃপর পরের দিন তিনি তুর পাহাড়ের দিকে রওনা হলেন। তুর পাহাড়ে এসে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনকে বললেন, হে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন, আমি কসাইয়ের তেমন কোন আমল দেখতে পাইনি। তবে একটি আমল দেখেছি। আর সেটি হল সে অত্যন্ত মা ভক্ত। সে তার মাকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা এবং সম্মান করে। সে তার মায়ের খুব খেদমত করে। প্রতিদিন সে তার বৃদ্ধা মাকে কোলে তুলে বসিয়ে নিজ হাতে রান্না করে গোসত খাওয়ায়। হযরত মুসা আলাইহিস সালামের কথা শুনে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন গায়েব আওয়াজের মাধ্যমে মুসা নবীকে জানিয়ে দিলেন, হে মুসা, এই বৃদ্ধা মা তার সন্তানের প্রতি সন্তুষ্ট। তার সন্তান তাকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করে, ভালোবাসে এবং তার খেদমত করে। এই বৃদ্ধা মা তার সন্তানের প্রতি খুশি হয়ে প্রতিদিন আমার দরবারে দুই হাত তুলে দোয়া করে বলেন হে মাবুদ আমার সন্তানকে তুমি মুসা নবীর সাথে জান্নাতে থাকার ব্যবস্থা করে দিও হে মুসা আমি দুনিয়ার সবকিছু ফিরিয়ে দিলেও মায়ের দোয়া কখনো ফিরিয়ে দিতে পারি না তাই আমি সেই বৃদ্ধা মায়ের দোয়া কবুল করে নিয়েছি এইজন্য ওই কসাই লোকটি জান্নাতের তোমার সাথে বসবাস করল। এরপর সময়ের পর সময় গড়িয়ে যায়। ইতিমধ্যে হযরত মূসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর দেওয়া সমস্ত আদেশগুলো দায়িত্ব সহকারে পালন করেছেন। এরপর তার বিশ্রামের পালা। তাছাড়া হযরত মুসা আলাইহিস সালামের অনেক বয়স হয়ে গিয়েছে। তিনি অতীতের সমস্ত কথাগুলো মনে মনে ভাবছিলেন। এরই মধ্যে হঠাৎ একদিন আজরাইল আলাইহিস সালাম হযরত মুসা আলাইহি সালামের ঘরের সামনে এসে দাঁড়ালেন। আজরাইলকে দেখে হযরত মুসা আলাইহি সালাম বললেন, হে আজরাইল তুমি কি আমার জান কবজ করতে এসেছো? তখন আজরাইল আলাইহিস সালাম বললেন, হ্যাঁ আল্লাহর আদেশে আপনার জান কবজ করতে এসেছি। তখন মুসা আলাইহি সালাম বললেন, তুমি কি আমার সেই মুখ দিয়ে জান কবজ করবে? যে মুখ দিয়ে আমি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সাথে কথা বলেছি। তখন হযরত আজরাইল আলাইহিস সালাম বললেন, তাহলে আমি আপনার চোখ দিয়ে জান কবজ করব। তখন মুসা আলাইহি সালাম বললেন, কোন চোখ দিয়ে জান কবজ করবে? যেই চোখ দিয়ে আমি আল্লাহর নূরের তাজাল্লি দেখেছি সেই চোখ দিয়ে তখন হযরত আজরাইল আলাইহিস সালাম বললেন তাহলে আমি আপনার নাক দিয়ে জান কবজ করব। এবার মুসা আলাইহি সালাম বললেন এই নাক দিয়ে যেই নাক দিয়ে আমি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ঘ্রাণ অনুভব করেছি। তখন হযরত আজরাইল আলাইহি সালাম বললেন আমি আপনার এত কথা শুনতে চাই না। আমার যেদিকে ইচ্ছা সেদিক থেকে আমি জান কবজ করে নিয়ে যাব। হযরত মুসা আলাইহিস সালাম আজরাইলের এই কথা শুনে অত্যন্ত প্রভাবিত হয়ে হযরত আজরাইল আলাইহিস সালামকে থাপ্পড় লাগিয়ে দিলেন। তখন হযরত আজরাইল আলাইহিস সালামের চোখ কানা হয়ে গেল। অতঃপর হযরত আজরাইল আলাইহিস সালাম আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে এসে সমস্ত ঘটনা বর্ণনা করলেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সাথে সাথে হযরত আজরাইল আলাইহিস সালামের চোখ ঠিক করে দিয়ে বললেন, হে আজরাইল, আমার নবীগণের মধ্যে মুসা একটু গরম মেজাজের এবং তার রাগ বেশি। হে আজরাইল, তোমাকে আর মুসা নবীর কাছে যেতে হবে না। মুসার ব্যাপারটা আমি আল্লাহ নিজেই দেখব। কিছুদিন পর আল্লাহ রাব্বুল আলামীন একটি ওহীর মাধ্যমে হযরত মুসা আলাইহি সালামকে জানিয়ে দিলেন হে মুসা তুমি যদি একটি মেশের পশমের সংখ্যা পরিমাণ হায়াতের আরজি আমার কাছে করো আমি আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সেই পরিমাণ হায়াতও তোমাকে দানব তুমি পৃথিবীতে যতদিন থাকার ইচ্ছা পোষণ করো আমি ততদিন তোমাকে রাখব আল্লাহ রাব্বুল আলামনের এই কথা শুনে হযরত মুসা আলাইহি সালাম বললেন, হে আল্লাহ, তারপরেও তো আমাকে একদিন না একদিন মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। তাহলে কষ্ট করে এতদিন এই পৃথিবীতে থেকে কি লাভ? হে আল্লাহ, আমি এই পৃথিবীতে এতদিন থাকতে চাই না। আমি তোমার সান্নিধ্য লাভ করতে চাই। আমি অতি শীঘ্রই তোমার দিদার লাভ করতে চাই। হে রাব্বুল আলামিন, তুমি আমার নির্ধারিত হায়াতের পরেই তোমার সান্নিধ্য লাভের জন্য আমাকে তোমার কাছে নিয়ে যাও। হে রাব্বুল আলামিন তোমার কাছে আমার মৃত্যুর পূর্বে শেষ একটি অনুরোধ তুমি আর একটি পাহাড় পুর পাহাড়ে নিয়েই আমাকে তোমার সাথে কথা বলার সুযোগ করে দাও আল্লাহ রাব্বুল আলামন তখন মুসা আলাইহি সালামকে তুর পাহাড়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুমতি দিলেন। অতঃপর হযরত মুসা আলাইহি সালাম তুর পাহাড়ে আসলেন এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নূরের তাজাল্লি দর্শন করলেন। অতঃপর হযরত মুসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করে বললেন, হে আল্লাহ, আমার কওমের প্রতি আপনি গজব নাযিল করিয়েন না। তাদেরকে আপনার ছায়াতলে আশ্রয় দিন। তাদেরকে আপনি রুজি রোজগারের ব্যবস্থা করে দিন এবং তাদেরকে আপনি অনাহারে মৃত্যু দিবেন না। তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন হযরত মুসা আলাইহিস সালামের দোয়ার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জানিয়ে দিলেন হে মুসা আমি আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ঈমানদার নাফরমান ও কাফেরসহ সমস্ত মানুষের প্রতিপালক আমি কাউকে কখনো অনাহারে রাখি না তারা যে যেখানে থাকুক না কেন আমি সেখানেই তাদের খাবার পৌঁছে দি অতঃপর আল্লাহ রাব্বুল আলামন আবার মুসা আলাইহি সালামকে বললেন হে মুসা তুমি তোমার লাঠির দ্বারা পাহাড়ের উপর আঘাত করো। তো এরপর হযরত মুসা আলাইহি সালাম পাহাড়ের উপর আঘাত করার সাথে সাথে পাহাড়ের পাশ থেকে একটি নদী বয়ে যায়। তারপর আল্লাহ রাব্বুল আলামীন হযরত মুসা আলাইহি সালামকে বললেন, হে মুসা তুমি নদীর উপর আঘাত করো। হযরত মুসা আলাইহি সালাম আবার নদীর উপর যখন আঘাত করলেন তখন নদীর উপর দিয়ে একটি পাথর ভেসে যাচ্ছিল। তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আবার মুসা আলাইহিস সালামকে বললেন হে মুসা তুমি পাথরের উপর আঘাত করো তো তখন হযরত মুসা আলাইহি সালাম পাথরের উপর আঘাত করতেই দেখলেন পাথর ফেটে একটি ফরিং বেরিয়ে আসল যার মুখের মধ্যে ছিল একটি কাঁচা ঘাস এই দৃশ্য দেখার পর হযরত মুসা আলাইহি সালাম সেজদায় লুটিয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ পর হযরত মুসা আলাইহি সালাম সেজদা থেকে উঠে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনকে সালাম প্রদান করে তুর পাহাড় থেকে বের হয়ে এলেন। তিনি যখন সামনের দিকে অগ্রসর হতে লাগলেন তখন দেখতে পেলেন রাস্তার পাশে কতিপয় লোক মিলে একটি কবর খুরছে। তখন মুসা আলাইহি সালাম তাদের কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন হে ভাইয়েরা তোমরা এই নির্জন এলাকায় কার কবর খুলছো? তখন তাদের মধ্যে একজন জবাব দিল হে আল্লাহর নবী মুসা আলাইহি সালাম আমরা আপনার মতই একজন মহান ব্যক্তির কবর খুরছি। আপনিও আমাদের সঙ্গে এই সওয়াবের কাজে শরিক হতে পারেন। তাদের কথায় হযরত মুসা আলাইহি সালাম তাদেরকে কবর খোয়ার কাজে সাহায্য করলেন। এরপর তাদের মধ্যে একজন মুসা নবীকে বললেন, হে আল্লাহর নবী মুসা আমরা যার জন্য কবর খুরছি সেও আপনার ন্যায়। আপনি একবার কবরে শুয়ে মাপটা পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। ওই লোকের কথা মত হযরত মুসা আলাইহি সালাম কবরে গিয়ে শুয়ে পড়লেন। অতঃপর আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে দোয়া করলেন, হে আল্লাহ এই জায়গাটি কতই না নিশ্চুপ এবং নিস্তব্ধ। এই জায়গাটি তুমি আমার জন্য কবুল করো। সাথে সাথেই মুসা আলাইহি সালামের দোয়া কবুল হয়ে যায়। একজন ফেরেশতা এসে হযরত মুসা আলাইহি সালামকে একটি আপেল খেতে দিলেন। মুসা আলাইহি সালাম বিসমিল্লাহ বললেন। সে আপেলটি খেতে থাকলেন। আর সাথে সাথে হযরত মুসা আলাইহি সালামের জান কবজ হয়ে যায়। এরপর ওই মানুষরূপী ফেরেশতাগণ হযরত মুসা আলাইহি সালামকে কবর থেকে উঠিয়ে গোসল দিয়ে জানাজা পড়িয়ে পুনরায় ওই কবরে দাফন করে দিলেন।

Need a transcript for another video?

Get free YouTube transcripts with timestamps, translation, and download options.

Transcript content is sourced from YouTube's auto-generated captions or AI transcription. All video content belongs to the original creators. Terms of Service · DMCA Contact

যে কারণে কসাই মুসা নবীর সাথে জান্নাতে যাবে - YouTube Tran...