বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। কখনো কি ভেবে দেখেছেন, একজন মানুষের অহংকার কিভাবে তার পুরো জীবনটাই ধ্বংস করে দিতে পারে? একজন স্ত্রী যখন তার স্বামীর কষ্ট বুঝতে ব্যর্থ হন, তখন সেই সংসারে কি ঘটতে পারে? আজকের এই সত্য ঘটনা শুনে, [মিউজিক] হয়তো আপনার চোখেও পানি চলে আসবে। আসুন শুনি আয়েশা নামের এক নারীর করুণ পরিণতির কাহিনী। বহু বছর আগের কথা। বাগদাদ নগরীর এক সম্পন্ন পরিবারে বাস করতেন আবু তাহের নামের এক ব্যবসায়ী। তার স্ত্রীর নাম ছিল আয়েশা। আয়েশা ছিলেন অসাধারণ সুন্দরী এবং বিত্তশালী পরিবারের মেয়ে। তার বাবা ছিলেন নগরীর অন্যতম ধনী ব্যবসায়ী। ছোটবেলা থেকেই আয়েশা সব ধরনের সুখ স্বাচ্ছন্দে বড় হয়েছিলেন। কোন কিছুর অভাব তিনি কখনো বুঝেননি। আবু তাহের ছিলেন একজন সৎ এবং পরিশ্রমী মানুষ। তিনি কাপড়ের ব্যবসা করতেন। যদিও তার ব্যবসা ভালোই চলছিল, তবুও আয়েশার পরিবারের মত বিশাল সম্পদ তার ছিল না। কিন্তু আয়েশার বাবা আবু তাহেরের সততা এবং ধার্মিকতা [মিউজিক] দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন। তাই তিনি নিজেই এই বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। বিয়ের প্রথম কয়েক মাস সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল। আবু তাহের তার স্ত্রীকে খুবই ভালোবাসতেন। তিনি সবসময় চেষ্টা করতেন আয়েশাকে খুশি রাখতে। কিন্তু ধীরে ধীরে আয়েশার আচলনে পরিবর্তন আসতে শুরু করল। তিনি বুঝতে পারলেন যে আবু তাহেরের আয় আয়েশার বাবার মতো নয়। তার বাবার বাড়িতে যেমন অসংখ্য দাস-দাসী ছিল এখানে সেরকম নেই। তার বাবার বাড়িতে প্রতিদিন যেমন বিভিন্ন পদের খাবার হতো এখানে সেরকম হয় না। আয়েশা শুরু করলেন আবু তাহেরের সাথে তুলনা করতে। প্রতিদিন তিনি বলতেন, আমার বাবার বাড়িতে এমন হতো, ওমন হতো আমার বাবা এত টাকা দিতেন, এত সম্পদ ছিল। আবু তাহের [মিউজিক] প্রথমে ধৈর্য ধরে সব শুনতেন। তিনি বুঝতে চেষ্টা করতেন যে আয়েশা অভ্যস্ত ছিলেন ভিন্ন জীবন যাপনে। তিনি ভাবতেন সময়ের সাথে সাথে সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু দিন যত যাচ্ছিল আয়েশার দাবি তত বাড়তে লাগলো। তিনি চাইতেন দামি দামি গহনা, দামি কাপড়, [মিউজিক] দামি সব আসবাবত্র। আবু তাহের যতটুকু পারতেন চেষ্টা করতেন তার স্ত্রীর [মিউজিক] চাহিদা পূরণ করতে। কিন্তু সবকিছুই তো সম্ভব ছিল না। তার ব্যবসায়ের একটা সীমাবদ্ধতা ছিল। তিনি সৎভাবে ব্যবসা করতেন তাই আয়ও ছিল সীমিত। একদিন আয়েশা তার বান্ধবীদের সাথে এক অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। সেখানে অন্য নারীদের দামি দামি অলংকার দেখে তিনি খুবই মনক্ষুণ্ণ হলেন। বাড়ি ফিরে তিনি আবু তাহেরকে বললেন, আমাকে সেরকম একটা হার কিনে দিতে হবে। আবু তাহের বললেন, আয়েশা, আমি তো তোমাকে ইতিমধ্যে অনেক গহনা কিনে দিয়েছি। এখন আমার হাতে এত টাকা নেই। ব্যবসায়ে কিছু টাকা লাগবে। আরেকটু সময় দাও।" কিন্তু আয়েশা শুনলেন না তিনি রাগে ফেটে পড়লেন। বললেন তুমি আমার কোন চাহিদাই পূরণ করতে পারো না। আমার বাবা তো সবকিছুই দিতে পারতেন। আমি কেন এমন একজনকে বিয়ে করলাম যে আমাকে সুখী করতে পারে না। আবু তাহের কিছু বললেন না মনে মনে কষ্ট পেলেন। কিন্তু তিনি ভাবলেন হয়তো আয়েশা একটু আবেগের বসে এসব বলছেন। কিন্তু এরপর থেকে এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটতে লাগলো। আয়েশা প্রতিটি ছোটখাটো বিষয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করতেন। খাবার ভালো নয়, ঘর ভালো নয়, কাপড় ভালো নয়। এমন সব অভিযোগ। আবু তাহের কঠোর পরিশ্রম করতেন তার স্ত্রীকে খুশি করতে। কিন্তু যত চেষ্টাই করুন না কেন আয়েশার কখনো সন্তুষ্টি আসতো না। একদিন আবু তাহের বাজার থেকে কিছু ফল কিনে এনেছিলেন আয়েশার জন্য। তিনি জানতেন আয়েশা এই ফল পছন্দ করেন। কিন্তু ফলগুলো দেখে আয়েশা বললেন, এগুলো তো একদম তাজা নয়। তুমি সবসময় সস্তা জিনিস কেন কেন? আবু তাহের বোঝাতে চাইলেন যে ফলগুলো একদম তাজা। কিন্তু আয়েশা শুনলেন না। এভাবে দিন যেতে লাগল। আবু তাহের তার ব্যবসায় মনোযোগ দিতে পারছিলেন না। ঘরে এসে স্ত্রীর কাছ থেকে শুধু অভিযোগ আর অসন্তুষ্টি পাচ্ছিলেন। তিনি মসজিদে গিয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতেন। হে আল্লাহ আমার স্ত্রীকে হেদায়েত দান করুন। তাকে [মিউজিক] কৃতজ্ঞতা শেখান। একবার আবু তাহের অসুস্থ হয়ে পড়লেন। তিনি কয়েকদিন ব্যবসায় যেতে পারলেন না। এই সময় তার স্ত্রীর সেবা পাওয়ার আশা ছিল। কিন্তু আয়েশা বরং বিরক্ত হলেন। তিনি বললেন, এখন তো ব্যবসায় যেতেও পারছো না। আয় আরো কমে যাবে। আমার কপাল কত খারাপ। >> [মিউজিক] >> আবু তাহের শুনে শুধু চুপ করে রইলেন। তিনি বুঝতে পারলেন তার স্ত্রী তার কষ্ট একদমই বুঝতে পারছেন না। তিনি সুস্থ হয়ে আবার ব্যবসায় মনোযোগ দিলেন কিন্তু মনে এক গভীর যন্ত্রণা নিয়ে তাকে প্রতিদিন চলতে হচ্ছিল। আয়েশার একজন বিশেষ বান্ধবী ছিল নাম ফাতিমা। ফাতিমা ছিলেন খুবই ধার্মিক এবং বুদ্ধিমতী নারী। তিনি আয়েশার আচরণ লক্ষ্য করছিলেন। একদিন ফাতিমা আয়েশাকে ডেকে বললেন, আয়েশা তুমি কি জানো একজন স্ত্রীর কর্তব্য কি? একজন স্ত্রীর উচিত তার স্বামীকে সম্মান করা, তার কষ্ট বোঝা, তাকে সহযোগিতা করা। তুমি কিন্তু উল্টোটা করছো। আয়েশা রাগান্বিত হয়ে বললেন তুমি বুঝবে না ফাতিমা। তোমার স্বামী তো তোমাকে সবকিছু দিতে পারে কিন্তু আমার স্বামী আমাকে কিছুই দিতে পারে না। ফাতিমা বললেন আয়েশা সুখ কিন্তু টাকা পয়সায় নয়। সুখ হলো মনের সন্তুষ্টিতে কৃতজ্ঞতায়। তোমার স্বামী তোমাকে ভালোবাসেন। তোমার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেন। এটাই তো আসল সম্পদ। কিন্তু আয়েশা ফাতিমার কথা মনে রাখলেন না তিনি ভাবলেন ফাতিমা বুঝতে পারবে না তার অবস্থা তিনি আগের মতোই চলতে লাগলেন আবু তাহেরের প্রতি অসন্তুষ্টি প্রকাশ করা অভিযোগ করা এসব তার নিত্যদিনের কাজ হয়ে গেল এরপর একটা ঘটনা ঘটলো যা সবকিছু বদলে দিল বাগদাদ নগরীতে হঠাৎ একটা বড় আগুন লাগলো সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ল বাজারের দিকে আবু তাহেরের দোকান ছিল সেই বাজারেই সেদিন রাতে খবর এলো যে পুরো বাজার পুড়ে ছাই হয়ে গেছে আবু তাহেরের দোকানও পুড়ে গেছে তার সব পুঁজি সব মাল সবকিছু শেষ। আবু তাহের ভেঙে পড়লেন। কিন্তু তিনি ধৈর্য ধরলেন। তিনি বললেন, ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আল্লাহ যা করেন মঙ্গলের জন্যই করেন। তিনি আয়েশাকে বললেন, চিন্তা করো না। আমি আবার শুরু করব। আল্লাহ আমাদের সাহায্য করবেন। কিন্তু আয়েশার প্রতিক্রিয়া ছিল ভিন্ন। তিনি বললেন, আমি তো জানতাম এমন কিছু একদিন হবে। তুমি কখনো সফল হতে পারবে না। এখন আমরা কিভাবে চলবো? আমার বাবার কাছে ফিরে যাওয়া ছাড়া আর কোন উপায় আছে কি? [মিউজিক] আবু তাহের স্তব্ধ হয়ে গেলেন। এই দুর্যোগের মুহূর্তে যখন তার সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা দরকার তখন তার স্ত্রী তাকে ছেড়ে যাওয়ার কথা বলছেন। তিনি কিছু বললেন না। শুধু নিজের ঘরে গিয়ে আল্লাহর [মিউজিক] কাছে কাঁদলেন। পরদিন আবু তাহের বের হলেন কাজের খোঁজে। তিনি ঠিক করলেন তিনি হাল ছাড়বেন না তিনি কঠোর পরিশ্রম করবেন আবার দাঁড়াবেন [মিউজিক] কিন্তু ঘরে ফিরে প্রতিদিন তাকে আয়েশার কটু কথা শুনতে হতো প্রতিদিন অপমান প্রতিদিন তিরস্কার আয়েশা তার বাবার কাছে চিঠি লিখলেন তিনি লিখলেন যে তার স্বামী এখন সর্বশান্ত তিনি আর এখানে থাকতে চান না তার বাবা উত্তরে লিখলেন মেয়ে ধৈর্য ধরো বিপদের সময়ই একজন স্ত্রীর স্বামীর পাশে থাকা উচিত কিন্তু আয়েশা তার বাবার কথাও শুনলেন না। আবু তাহের একটা ছোট কাজ পেলেন। তিনি একজন বড় ব্যবসায়ীর কাছে হিসাবরক্ষক হিসেবে কাজ শুরু করলেন। বেতন অল্প ছিল কিন্তু তিনি মনোবল হারালেন না। তিনি সৎভাবে পরিশ্রম করে কাজ করতে লাগলেন। কিন্তু ঘরে এসে কোন শান্তি পেতেন না। একদিন আয়েশা আবু তাহেরকে বললেন, আমি আর এভাবে থাকতে পারবো না। আমাকে আমার বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দাও। আবু তাহের [মিউজিক] বললেন, আয়েশা আমি তোমাকে ভালোবাসি। আমি জানি এই সময়টা কঠিন। কিন্তু আমরা একসাথে থাকলে সব কাটিয়ে উঠতে পারব। আমাকে একটু সময় দাও। কিন্তু আয়েশা অনর রইলেন। তিনি বললেন, না আমি আর থাকবো না। এই দারিদ্র, এই কষ্ট আমি সহ্য করতে পারছি না। অবশেষে আবু তাহের মনে মনে খুবই কষ্ট পেলেন। কিন্তু তিনি জোর করে তার স্ত্রীকে রাখতে চাইলেন না। তিনি আয়েশাকে তার বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দিলেন। আয়েশা তার বাবার বাড়ি ফিরে গেলেন। সেখানে আবার সেই আগের সুখ স্বাচ্ছন্দ পেলেন। দাস-দাসী, ভালো খাবার, দামি কাপড় সবকিছু। তিনি ভাবলেন আহ আবার সেই জীবনে ফিরে এসেছি। কিন্তু তার বাবা খুবই অসন্তুষ্ট ছিলেন। তিনি মেয়েকে বোঝাতে চাইলেন যে এটা ঠিক হয়নি। কিন্তু আয়েশা বললেন, আমি আর ফিরে যাব না। এদিকে আবু তাহের একাকি জীবন শুরু করলেন। তিনি তার কাজে আরো বেশি মনোযোগ দিলেন। তিনি প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন। কোরআন তেলাওয়াত করতেন। দরিদ্রদের সাহায্য করতেন। তার সততা এবং পরিশ্রম দেখে তার নিয়োগকর্তা খুবই সন্তুষ্ট হলেন। সময় চলে যেতে লাগল। আবু তাহের তার কাজে এতটাই পারদর্শী হলেন যে তার নিয়োগকর্তা তাকে আরো বড় দায়িত্ব দিতে শুরু করলেন। তিনি তাকে একটা ছোট্ট ব্যবসা পরিচালনার দায়িত্ব দিলেন। আবু তাহের সেই ব্যবসা এত ভালোভাবে চালালেন যে মুনাফা দ্বিগুন হয়ে গেল। তার নিয়োগকর্তা খুশি হয়ে তাকে সেই ব্যবসার অংশীদার বানিয়ে দিলেন। ধীরে ধীরে আবু তাহেরের অবস্থা ভালো হতে শুরু করল। তার আয় বাড়লো। তিনি আবার নিজের একটা দোকান খুললেন। এবার তিনি আরো সতর্কতার সাথে ব্যবসা পরিচালনা করলেন। আল্লাহর রহমতে তার ব্যবসা ভালো চলতে লাগলো। কিন্তু তিনি কখনো অহংকারী হলেন না। তিনি সবসময় মনে রাখতেন যে সবকিছু আল্লাহর দান। আবু তাহের যখন একা থাকতেন প্রায়ই তার স্ত্রী আয়েশার কথা মনে পড়তো। তিনি তার [মিউজিক] জন্য দোয়া করতেন। তিনি কখনো তার প্রতি রাগ করেননি। তিনি ভাবতেন হয়তো আয়েশা একদিন বুঝতে পারবেন তার ভুল। তিন বছর কেটে গেল। এই তিন বছরে আবু তাহের বাগদাদের একজন সফল ব্যবসায়ী হয়ে উঠলেন। তার ব্যবসা এখন অনেক বড়। তার অনেক কর্মচারী আছে। তিনি একটা বড় বাড়িতে থাকেন। কিন্তু তিনি কখনো বিলাসিতায় মত্ত হননি। তিনি সাদাসিদে জীবনযাপন করতেন এবং তার আয়ের একটা বড় অংশ দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করতেন। একদিন বাজারে একটা ভিক্ষুক বৃদ্ধা আবু তাহেরের [মিউজিক] কাছে ভিক্ষা চাইলেন। আবু তাহের তাকে কিছু টাকা দিলেন। বৃদ্ধা তার জন্য দোয়া করলেন এবং বললেন, আল্লাহ তোমার মত সৎ এবং দয়ালু মানুষদের সবসময় রক্ষা করেন বাবা। তোমার জীবনসঙ্গী [মিউজিক] যেন তোমার যোগ্য হয়। আবু তাহের মৃদু হাসলেন এবং বৃদ্ধাকে ধন্যবাদ দিলেন। [মিউজিক] এদিকে আয়েশার বাবার ব্যবসায় সমস্যা শুরু হলো। একের পর এক ব্যবসায়িক ক্ষতি। তার বয়সও হয়েছে তিনি আগের মতো ব্যবসা সামলাতে পারছেন না। ধীরে ধীরে তার সম্পদ কমতে শুরু করল। তিনি একে একে তার দাস-দাসী মুক্ত করে দিলেন কারণ তাদের রাখার সামর্থ্য আর নেই। ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি করতে শুরু করলেন। আয়েশা এই পরিবর্তন দেখে খুবই চিন্তিত হলেন। তিনি কখনো ভাবেননি যে তার বাবার এই অবস্থা হতে পারে। তার বাবা তো সবসময় সফল ছিলেন। সবসময় ধনী ছিলেন। কিন্তু এখন দেখছেন, দিন দিন অবস্থা খারাপ হচ্ছে। একদিন আয়েশার বাবা অসুস্থ হয়ে পড়লেন। চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা লাগবে। কিন্তু সেই টাকা কোথায়? আয়েশা তার গহনা বিক্রি করতে শুরু করলেন বাবার চিকিৎসার জন্য। কিন্তু তাতেও সব খরচ মেটানো যাচ্ছে না। আয়েশার বান্ধবী ফাতিমা খবর পেয়ে তাদের দেখতে এলেন। তিনি কিছু সাহায্য করলেন। আয়েশা লজ্জিত হলেন। তিনি যে একসময় এত অহংকার করতেন আজ তাকে সাহায্য নিতে হচ্ছে। ফাতিমা বললেন আয়েশা তুমি জানো তো আবু তাহের এখন খুবই সফল। তার ব্যবসা খুব ভালো চলছে। মানুষ তার সততা এবং দানশীলতার কথা বলে। আয়েশা শুনে অবাক হলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন সত্যি? আবু তাহের সফল হয়েছে?" ফাতিমা বললেন হ্যাঁ। কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা হলো তিনি একজন মহৎ মানুষ হয়েছেন। [মিউজিক] তিনি গরীবদের সাহায্য করেন, মসজিদে দান করেন, মানুষের বিপদে এগিয়ে আসেন। মানুষ তাকে খুব সম্মান করে। মনে মনে খুবই কষ্ট পেলেন আয়েশা। তিনি বুঝতে পারলেন যে তিনি কত বড় ভুল করেছেন। যখন আবু তাহেরের বিপদের সময় ছিল, তখন তিনি তার পাশে না দাঁড়িয়ে তাকে ছেড়ে চলে এসেছিলেন। তিনি তার স্বামীর কষ্ট বুঝতে পারেননি। শুধু নিজের সুখ স্বাচ্ছন্দের কথা ভেবেছিলেন। রাতে শুয়ে আয়েশা কাঁদতে লাগলেন। তিনি [মিউজিক] তওবা করলেন তিনি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলেন। তিনি বুঝতে পারলেন যে একজন স্ত্রী হিসেবে তিনি কত বড় ব্যর্থ ছিলেন। তিনি শুধু চাইতেন, কখনো দিতে চাননি। তিনি শুধু তার স্বামীর কাছ থেকে আশা করতেন। কখনো তার কষ্ট বোঝার চেষ্টা করেননি। পরদিন আয়েশা ফাতিমার কাছে গেলেন। তিনি বললেন ফাতিমা আমি আবু তাহেরের সাথে দেখা করতে চাই। আমি তার কাছে ক্ষমা চাইতে চাই। ফাতিমা বললেন এটা ভালো সিদ্ধান্ত আয়েশা। কিন্তু তুমি কি সত্যিই তোমার ভুল বুঝেছো? নাকি শুধু এখন আবু তাহের সফল বলে তার কাছে ফিরে যেতে চাও? আয়েশা [মিউজিক] কেঁদে ফেললেন। তিনি বললেন, না ফাতিমা। আমি সত্যি বুঝেছি আমার ভুল। আমি এখন বুঝতে পারছি যে সম্পদ কোন কিছু না। সত্যিকারের সম্পদ হলো একজন সৎ ভালো মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়া। আবু তাহের আমাকে ভালোবাসতেন কিন্তু আমি তার মর্যাদা বুঝিনি। আমি শুধু টাকা পয়সা চেয়েছি। আমি আমার বাবার বাড়ির সাথে তুলনা করেছি। আমি কখনো কৃতজ্ঞ ছিলাম না। ফাতিমা বললেন তাহলে তুমি আবু তাহেরের কাছে যাও। কিন্তু মনে রেখো তিনি হয়তো তোমাকে ক্ষমা করবেন কিন্তু তোমাকে ফিরিয়ে নাও নিতে পারেন। তুমি তাকে খুব কষ্ট দিয়েছিলে। আয়েশা বললেন আমি জানি আমি শুধু তার কাছে ক্ষমা চাইতে চাই। তিনি আমাকে ফিরিয়ে নেন বা না নেন সেটা তার সিদ্ধান্ত। ফাতেমা আয়েশাকে নিয়ে গেলেন আবু তাহেরের দোকানে। আবু তাহের তখন তার হিসেবের খাতা দেখছিলেন। [মিউজিক] আয়েশা দূর থেকে তাকে দেখলেন। তিনি দেখলেন আবু তাহের হুর সাদাসিধে পোশাক পড়ে আছেন। তার চেহারায় এক শান্তি, এক প্রশান্তি। তিনি সফল হয়েছেন। কিন্তু কোন অহংকার নেই তার মধ্যে। আবু তাহের আয়েশাকে দেখে অবাক হলেন। তিনি উঠে দাঁড়ালেন এবং সালাম দিলেন। আয়েশা উত্তর দিলেন। তারপর চোখের পানি ধরে রাখতে পারলেন না। তিনি কাঁদতে শুরু করলেন। তিনি বললেন আবু তাহের আমি আপনার কাছে ক্ষমা চাইতে এসেছি। [মিউজিক] আমি খুব বড় ভুল করেছি। আমি আপনার কষ্ট বুঝিনি। আপনি যখন বিপদে ছিলেন তখন আমি আপনার পাশে না থেকে আপনাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলাম। আমি শুধু আমার নিজের সুখের কথা ভেবেছি। আপনার কথা ভাবিনি। আবু তাহের শান্তভাবে শুনলেন। তারপর বললেন আয়েশা আমি তোমাকে কখনো রাগ করিনি। আমি সবসময় তোমার জন্য দোয়া করেছি। আমি চেয়েছিলাম তুমি সুখী থাকো। আয়েশা বললেন কিন্তু আমি যেভাবে আপনার সাথে আচরণ করেছি সেটা কি আপনি ভুলতে পারবেন? আবু তাহের বললেন, আয়েশা ক্ষমা করাটা ঈমানের অংশ। আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছি অনেক আগেই। আয়েশা আরো জোরে কাঁদতে শুরু করলেন। তিনি বললেন, আমি জানি আমি আপনার যোগ্য নই। কিন্তু আপনি যদি আমাকে আরেকটা সুযোগ দেন আমি প্রমাণ করব যে আমি পাল্টেছি আমি এখন বুঝতে পারি যে সত্যিকারের সুখ কোথায় আবু তাহের নীরব রইলেন কিছুক্ষণ তারপর বললেন আয়েশা আমাকে কিছুটা সময় দাও ভাবতে আয়েশা মাথা নিচু করে বললেন আমি অপেক্ষা করব যতদিন লাগে তারপর তিনি চলে গেলেন। আবু তাহের একা বসে ভাবতে লাগলেন। তিনি আল্লাহর কাছে ইস্তেখারা করলেন। সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য পথনির্দেশনা চাইলেন। কয়েকদিন পর আবু তাহের আয়েশার বাবার বাড়িতে গেলেন। তিনি দেখলেন সেই এককালের সমৃদ্ধশালী বাড়ি এখন প্রায় শূন্য। আয়েশার বাবা অসুস্থ শুয়ে আছেন। আবু তাহের তার খোঁজখবর নিলেন এবং তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেন। তিনি কোন কথা না বলেই সব খরচ বহন করলেন। আয়েশা আবু তাহেরের এই মহানুভবতা দেখে আরো লজ্জিত হলেন। তিনি যে একদিন এই মানুষটাকে অপমান করেছিলেন আজ সেই মানুষটাই তার বাবার সেবা করছেন। তিনি বুঝলেন যে সত্যিকারের মহত্ব কাকে বলে। আয়েশার বাবা সুস্থ হয়ে উঠলেন। একদিন আবু তাহেরকে ডেকে বললেন, বাবা তুমি আমার প্রাণ বাঁচিয়েছো। তোমার এই দয়া আমি কখনো ভুলবো না। আবু তাহের বললেন, চাচাজান, আপনি আমার শ্বশুর। আপনার সেবা করা আমার কর্তব্য। আপনি একদিন আমার মেয়ে দিয়ে আমাকে সম্মানিত করেছিলেন। সেই ঋণ আমি কখনো শোধ করতে পারবো না। আয়েশার বাবা বললেন, আবু তাহের, আমার মেয়ে তোমার সাথে যে আচরণ করেছিল তা আমি জানি। সে ভুল করেছিল। কিন্তু সে এখন তার ভুল বুঝেছে। তুমি কি তাকে আরেকটা সুযোগ দিতে পারবে? আবু তাহের বললেন চাচাজান আমি ইতিমধ্যে আয়েশাকে ক্ষমা করে দিয়েছি। কিন্তু আবার একসাথে জীবন শুরু করার আগে আমাকে নিশ্চিত হতে হবে যে আয়েশা সত্যিই পাল্টেছে। আয়েশার বাবা বললেন আমি তোমাকে আশ্বাস দিচ্ছি সে পাল্টেছে। এই কয়েক মাসে আমি তার মধ্যে অনেক পরিবর্তন দেখেছি। সে এখন নামাজ পড়ে কোরআন তেলাওয়াত করে। গরীবদের [মিউজিক] সাহায্য করে। সে তার ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছে। আবু তাহের কিছুদিন অপেক্ষা করলেন। তিনি নিজে আয়েশার পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করতে লাগলেন। তিনি দেখলেন সত্যি আয়েশা পাল্টেছেন। এখন তিনি বিনয়ী কৃতজ্ঞ এবং ধার্মিক হয়ে উঠেছেন। তিনি দরিদ্রদের সাহায্য করেন অসুস্থদের সেবা করেন। একদিন আবু তাহের আয়েশাকে ডেকে বললেন আয়েশা আমি দেখেছি তুমি সত্যিই পাল্টেছো। আমি তোমাকে আরেকটা সুযোগ দিতে রাজি আছি। কিন্তু আমার একটা শর্ত আছে। আয়েশা বললেন আমি যে কোন শর্ত মেনে নেব। আবু তাহের বললেন আমাদের জীবনে আবার যদি কখনো কঠিন সময় আসে তুমি আমার পাশে থাকবে তুমি কৃতজ্ঞ থাকবে আল্লাহর দেওয়া যা কিছু আছে তার জন্য তুমি কখনো অন্যের সাথে তুলনা করবে না আয়েশা কাঁদতে কাঁদতে বললেন আমি প্রতিজ্ঞা করছি আমি সবসময় আপনার পাশে থাকবো সুখে দুঃখে ধনে দারিদ্রে আমি আল্লাহর দেওয়া সবকিছুর জন্য কৃতজ্ঞ থাকবো এভাবে আবু তাহের এবং আয়েশা আবার একসাথে জীবন শুরু করলেন। কিন্তু এবার তাদের সম্পর্ক ছিল ভিন্ন। এবার সেখানে ছিল পারস্পরিক সম্মান, বোঝাপড়া এবং [মিউজিক] কৃতজ্ঞতা। আয়েশা এবার সম্পূর্ণ পাল্টে গেলেন। তিনি এখন একজন আদর্শ স্ত্রী হয়ে উঠলেন। তিনি আবু তাহেরকে সম্মান করতেন। তার কথা শুনতেন। তার ব্যবসায় সহযোগিতা করতেন। তিনি ঘর সামলাতেন। দরিদ্রদের সাহায্য করতেন। প্রতিবেশীদের সাথে ভালো ব্যবহার করতেন। আবু তাহের তার স্ত্রীর এই পরিবর্তন [মিউজিক] দেখে খুবই খুশি হলেন। তিনি বুঝতে পারলেন যে মানুষ সত্যিই পরিবর্তন হতে পারে যদি সে নিজের ভুল বুঝতে পারে এবং সত্যিকারের তওবা করে। >> [মিউজিক] >> তিনি আয়েশাকে আরো ভালোবাসতে শুরু করলেন। কিন্তু এবার তাদের ভালোবাসা ছিল আরো গভীর আরো পরিপক্ক। একবার আবু তাহের আয়েশাকে নিয়ে বাজারে গেলেন কিছু কেনাকাটা করতে। এক দোকানে খুব সুন্দর একটা হার দেখে আবু তাহের বললেন, আয়েশা এই হাড়টা তোমার জন্য কিনে দেই? আয়েশা মৃদু হেসে বললেন, [মিউজিক] না আমার দরকার নেই। আমার কাছে যা আছে তাই যথেষ্ট। তার চেয়ে এই টাকা দিয়ে কোন গরীব পরিবারকে সাহায্য করুন। আবু তাহের খুবই আনন্দিত হলেন। তিনি বুঝতে পারলেন [মিউজিক] যে আয়েশা সত্যিই পাল্টেছেন। যে আয়েশা একদিন দামি গহনার জন্য কান্নাকাটি করতেন আজ সেই আয়েশাই [মিউজিক] গহনা প্রত্যাখ্যান করে দরিদ্রদের সাহায্য করতে চাইছেন। আল্লাহ তাদের ঘরে বরকত দিলেন। কিছুদিন পর আয়েশা গর্ভবতী হলেন। তাদের একটি সুন্দর পুত্র সন্তান হলো। তারা তার নাম রাখলেন আব্দুল্লাহ। আব্দুল্লাহকে তারা ইসলামী শিক্ষায় গড়ে তুললেন। তারা তাকে শেখালেন কৃতজ্ঞতা, বিনয়। সততা [মিউজিক] এবং দানশীলতা। আয়েশা প্রায়ই তার বান্ধবী ফাতিমার সাথে দেখা করতেন। [মিউজিক] একদিন ফাতিমা তাকে বললেন, আয়েশা তুমি জানো তোমার পরিবর্তন দেখে আমি কতটা খুশি। তুমি এখন সত্যিকারের মোমিনা নারী হয়ে উঠেছো। আয়েশা বললেন ফাতিমা [মিউজিক] এটা সব আল্লাহর রহমত। তিনি আমাকে হেদায়েত দিয়েছেন। আমি আবার ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছি। আমি শুধু আফসোস করি যে আমি আগে এত সময় নষ্ট করেছি। ফাতিমা বললেন আয়েশা কিন্তু তুমি এখন শিখেছো। এটাই বড় কথা। অনেকেই সারা জীবনেও শিখতে পারে না। আয়েশা বললেন, ফাতিমা [মিউজিক] আমি চাই অন্য নারীরাও যেন আমার ভুল থেকে শিক্ষা নেয়। আমি চাইনা অন্য কেউ আমার মত ভুল করুক। এরপর থেকে আয়েশা তার অভিজ্ঞতা অন্য নারীদের সাথে শেয়ার করতে শুরু করলেন। তিনি নারীদের বৈঠকে গিয়ে তার গল্প বলতেন। তিনি বলতেন, কিভাবে তার অহংকার এবং অকৃতজ্ঞতা তার জীবন প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছিল। তিনি বলতেন কিভাবে আল্লাহ তাকে আরেকটা সুযোগ দিয়েছিলেন এবং কিভাবে তিনি নিজেকে পরিবর্তন করেছিলেন। অনেক নারী আয়েশার গল্প শুনে অনুপ্রাণিত হতেন। যারা তাদের স্বামীদের কদর করতেন না তারা আয়েশার গল্প শুনে নিজেদের ভুল [মিউজিক] বুঝতে পারতেন। যারা সবসময় অভিযোগ করতেন তারা কৃতজ্ঞতা শিখতেন। একদিন এক তরুণী আয়েশার কাছে এলেন। তিনি বললেন, বোন আয়েশা আমার অবস্থা [মিউজিক] আপনার মতোই। আমি আমার স্বামীকে সবসময় অন্যের সাথে তুলনা করি। তিনি যা করেন তাতে আমার কখনো সন্তুষ্টি আসে না। কিন্তু আপনার গল্প শুনে আমি বুঝতে পেরেছি আমি ভুল করছি। আমি কিভাবে নিজেকে পরিবর্তন করব। আয়েশা তাকে বললেন বোন প্রথমে আল্লাহর কাছে তওবা করো। তারপর তোমার স্বামীর কাছে ক্ষমা চাও। তারপর প্রতিদিন আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতের জন্য শুকরিয়া আদায় করো। তোমার স্বামীর ভালো দিকগুলো দেখো। খারাপ দিকগুলো নয়। মনে রেখো [মিউজিক] কোন মানুষই নিখুত নয়। তুমিও নিখুত নও। তাই অন্যের কাছ থেকে নিখুতটা আশা করো না। তরুণী কাঁদতে [মিউজিক] কাঁদতে বললেন আপনি ঠিক বলেছেন। আমি আজ থেকেই নিজেকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করব। আয়েশা তাকে আশ্বাস দিলেন এবং তার জন্য দোয়া করলেন। সময় চলে যেতে লাগলো। আবু তাহের এবং আয়েশার ছেলে আব্দুল্লাহ বড় হলো। তাকে দেখে কেউ বুঝতে পারতো না যে তার বাবা-মায়ের সম্পর্কে একসময় এত সমস্যা ছিল। আব্দুল্লাহ ছিল খুবই ভালো ছেলে। ধার্মিক, বিনয়ী এবং দয়ালু। সে তার বাবা-মায়ের কাছ থেকে সততা এবং কৃতজ্ঞতার শিক্ষা পেয়েছিল। একদিন আব্দুল্লাহ বিয়ে করল। [মিউজিক] আয়েশা তার বৌমাকে বললেন, মা একটা কথা মনে রেখো স্বামীর কষ্ট বোঝা এবং তার পাশে থাকা একজন স্ত্রীর সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। টাকা পয়সা আসে যায় কিন্তু সম্পর্কের মূল্য অনেক বেশি। সবসময় কৃতজ্ঞ থেকো আল্লাহর কাছে এবং তোমার স্বামীর কাছে। কখনো অন্যের সাথে তুলনা করো না। আয়েশার বৌমা তার কথা মনে রাখলেন। আয়েশা এবং আবু তাহেরের সংসার হয়ে উঠলো একটা আদর্শ সংসার। মানুষ তাদের দেখে অনুপ্রাণিত হতো। তাদের ঘরে ছিল শান্তি, ভালোবাসা এবং বরকত। [মিউজিক] একদিন আবু তাহের এবং আয়েশা একসাথে বসে তাদের অতীত নিয়ে কথা বলছিলেন। আয়েশা বললেন, আবু [মিউজিক] তাহের, আমি আপনার কাছে একটা কথা জানতে চাই। যখন আমি আপনাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলাম তখন কি আপনি আমার উপর রাগ হয়েছিল? আবু তাহের হেসে বললেন শুরুতেই একটু কষ্ট পেয়েছিলাম কিন্তু রাগ হয়নি। আমি বরং তোমার জন্য দোয়া করতাম। আমি জানতাম যে তুমি একদিন তোমার ভুল বুঝবে। আয়েশা বললেন আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন। আপনি আমাকে ক্ষমা করে এবং আরেকটা সুযোগ দিয়ে আমার জীবন বদলে দিয়েছেন। [মিউজিক] আবু তাহের বললেন আয়েশা ক্ষমা করাটা আমাদের ধর্মের শিক্ষা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে ক্ষমা করে আল্লাহ তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন। আয়েশা বললেন আমি এখন বুঝতে পারি যে সত্যিকারের সম্পদ টাকা পয়সা নয়। সত্যিকারের সম্পদ হলো ঈমান, সৎ সৃজীবনসঙ্গী, [মিউজিক] শান্তিপূর্ণ সংসার এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি। আবু তাহের বললেন, সুবহানাল্লাহ। তুমি ঠিক বলেছ। আল্লাহ যদি সন্তুষ্ট থাকেন তাহলে আর কিছুর প্রয়োজন নেই। বছরের পর বছর কেটে গেল। আবু তাহের এবং আয়েশা বৃদ্ধ হয়ে গেলেন। তাদের অনেক নাতিনাতনী হলো। [মিউজিক] তারা সবাইকে সততা, কৃতজ্ঞতা এবং ঈমানের শিক্ষা দিলেন। তাদের পরিবার হয়ে উঠলো সমাজে একটা আলোকবর্তিকা। আয়েশা তার জীবনের শেষ দিনগুলোতে [মিউজিক] প্রায়ই তরুণীদের সাথে কথা বলতেন। তিনি তাদের বলতেন, মেয়েরা তোমরা আমার ভুল থেকে শিক্ষা নাও। স্বামীর কষ্ট বোঝা, [মিউজিক] তার পাশে থাকা, কৃতজ্ঞ থাকা এসব একজন স্ত্রীর সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। অহংকার, অসন্তুষ্টি এবং তুলনা এসব জীবন ধ্বংস করে দেয়। আল্লাহ যা দিয়েছেন তাতে সন্তুষ্ট থাকো, কৃতজ্ঞ থাকো। একদিন আয়েশা অসুস্থ হয়ে পড়লেন। তার জীবনের শেষ সময় এসে গেছে বুঝতে পারলেন। [মিউজিক] তিনি তার পরিবারকে ডেকে বললেন, আমি আল্লাহর কাছে যাচ্ছি। আমার জীবনে অনেক ভুল হয়েছে। কিন্তু আল্লাহ আমাকে ক্ষমা [মিউজিক] করেছেন। সংশোধন হওয়ার সুযোগ দিয়েছেন। তোমরা সবসময় আল্লাহকে ভয় করবে। সৎপথে চলবে এবং একে অপরকে ক্ষমা করবে। আবু তাহের কাঁদছিলেন। তিনি বললেন, আয়েশা তুমি একজন আদর্শ স্ত্রী ছিলে। তুমি আমাকে কৃতজ্ঞতা এবং ক্ষমার সত্যিকারের অর্থ শিখিয়েছো। আয়েশা মৃদু হেসে বললেন, [মিউজিক] না আপনি আমাকে শিখিয়েছেন। আপনার ধৈর্য, ক্ষমা এবং মহানুভবতা আমাকে পরিবর্তন করেছে। কিছুক্ষণ পর আয়েশা শান্তিতে মৃত্যুবরণ করলেন। তার মুখে ছিল এক প্রশান্তির হাসি। সবাই তার জানাযায় অংশ নিলেন এবং তার জন্য দোয়া করলেন। মানুষ তার জীবনের গল্প বলতে লাগলো। তারা বলত, কিভাবে আয়েশা তার ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেকে পরিবর্তন করেছিলেন এবং একজন আদর্শ মুমিনা হয়ে উঠেছিলেন। আবু তাহের তার স্ত্রীর মৃত্যুতে খুব কষ্ট পেলেন। কিন্তু তিনি ধৈর্য ধরলেন এবং আল্লাহর ফায়সালায় সন্তুষ্ট থাকলেন। তিনি প্রতিদিন [মিউজিক] তার স্ত্রীর জন্য দোয়া করতেন। কয়েক বছর পর তিনিও মৃত্যুবরণ করলেন। [মিউজিক] তার জানাযায় পুরো শহরের মানুষ অংশ নিয়েছিল। মানুষ তাকে স্মরণ করত একজন সৎ ব্যবসায়ী দয়ালু মানুষ এবং ধার্মিক মুসলিম হিসেবে। আয়েশা এবং আবু তাহেরের গল্প জনমের পর জনম মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে গেল। মানুষ এই গল্প থেকে শিক্ষা নিত তারা বুঝতো যে অহংকার এবং অকৃতজ্ঞতা কিভাবে জীবন ধ্বংস করতে পারে। তারা শিখতো যে একজন স্ত্রীর উচিত তার স্বামীর কষ্ট বোঝা এবং তার পাশে থাকা। [মিউজিক] তারা বুঝতো যে ক্ষমা এবং সংশোধনের সুযোগ দেওয়া কত বড় গুণ। তাই প্রতিটি স্ত্রীর উচিত তার স্বামীকে মূল্য দেওয়া, তার পরিশ্রমের কদর করা এবং তার কষ্ট বোঝা। [মিউজিক] প্রতিটি স্বামীরও উচিত তার স্ত্রীকে ভালোবাসা, সম্মান করা এবং তার যত্ন নেওয়া। একটা সফল সংসারের ভিত্তি হলো পারস্পরিক সম্মান, ভালোবাসা [মিউজিক] এবং বোঝাপড়া। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেদায়েত দান করুন। আমাদের সবাইকে কৃতজ্ঞ, বিনয়ী এবং ধৈর্যশীল হওয়ার তৌফিক দান করুন। আমাদের সংসারগুলোতে শান্তি, ভালোবাসা এবং বরকত দান করুন। আমিন। [মিউজিক] ভিডিওটি ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক, কমেন্ট এবং চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করবেন। আপনার পরিবার এবং বন্ধুদের সাথে এই শিক্ষণীয় গল্পটি শেয়ার করুন যাতে তারাও এই শিক্ষণীয় গল্প থেকে উপকৃত হতে পারে। আল্লাহ হাফেজ
Get free YouTube transcripts with timestamps, translation, and download options.
Transcript content is sourced from YouTube's auto-generated captions or AI transcription. All video content belongs to the original creators. Terms of Service · DMCA Contact