পৃথিবীর সবকিছু বরফ হয়ে যাবে! | Movie Explained In Bangla | Sci-Fi | Adventure | New Movie

Cine Recaps BD4,596 words

Full Transcript

হাতে সময় আছে মাত্র 33 বছর। এরপর পৃথিবীর প্রত্যেকটা মানুষ হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় জমে বরফ হয়ে যাবে। কারণ মহাকাশ থেকে আসা [মিউজিক] একদল অদৃশ্য ক্ষুদে দানব আমাদের সূর্যের সব তাপ শুষে নিচ্ছে। যখন পৃথিবীর বাঘা বাঘা বিজ্ঞানীরা ব্যর্থ তখন কোটি কোটি মানুষের শেষ ভরসা হিসেবে মহাকাশে পাঠানো হলো একজন সাধারণ স্কুল শিক্ষককে। তার গন্তব্য 11 আলোকবর্ষ দূরের রহস্যময় নক্ষত্র টাওসিটি। কিন্তু সেই সুদূর যাত্রাপথে তার সাথে দেখা হয়ে যায় এক এলিয়েনের। এরপর তারা দুজনে মিলে এমন এক মিশনে নেমে পড়ে যা পৃথিবীর মানুষ কল্পনাও করতে পারেনি। সেই পুরো মহাজাগতিক মিশনের রহস্য জানাতে নিয়ে এলাম প্রজেক্ট হেইল মেরি মুভির এক্সপ্লেনেশন। যার শুরুটা হয় মুভির মেইন ক্যারেক্টার রাইল এন্ড গ্রেসকে দেখিয়ে। এখানে গ্রেস বহুদিন পর ঘুম থেকে উঠেছে। এক কথায় এতদিন সে কমায় ছিল বিশেষ কোন কারণে। যার ফলে ঘুম থেকে উঠে সে দেখতে পায় তার সারা শরীরে অসংখ্য প্লাস্টিকের টিউব ঢোকানো আর অদ্ভুত একটা রোবটিক হাত তাকে অনবরত নাড়াচাড়া করছে আসলে গ্রেস একটা দীর্ঘ সময়ের ঘুম বা ক্রাইজেনিক স্লিপ থেকে এইমাত্র জেগে উঠেছে তবে জেগে ওঠার পর সে একদমই নড়াচড়া করতে পারছে না তার শরীরের পেশিগুলো কেমন যেন একদম জমি পাথর হয়ে আছে তার শরীরের উপরে কাজ করা রোবটিক হাতগুলো দেখতে একদম মাকরুসার পায়ের মত এই রোবটিক সিস্টেমটা আসলে গ্রেসের শরীরেরঅথা অবস্থা চেক করছে। এবার গ্রেসের কানে একটা যান্ত্রিক কন্ঠস্বর ভেসে আসে। এই ভয়েসটা এই স্পেসশিপের নিজস্ব এআই সিস্টেম মেরির। মেরি তার মানসিক অবস্থা চেক করার জন্য একটা অদ্ভুত প্রশ্ন করে। মেরি তাকে জিজ্ঞেস করে দুই প্লাস দুই সমান সমান কত হয়? গ্রেস কিছুক্ষণ চুপ থেকে এটার উত্তর দেয়। তবে সেটাও ভুল ছিল। মেরি আবারও প্রশ্ন করলে গ্রেস এবারও ভুল উত্তর দেয়। তখন মেরি বুঝতে পারে যে গ্রেস এখনো পুরোপুরি সেন্সে আসেনি। তার সারা শরীর এখনো অবস হয়ে আছে। সে তার হাত পা নড়ানোর জন্য প্রাণপন চেষ্টা করে। কিন্তু নিজের শরীরের উপরে নিয়ন্ত্রণ হারানোটা কতটা যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে তা তো তোমরা বুঝতেই পারছো। যাই হোক গ্রেস কোনমতে বেড থেকে গিয়ে নিজে পড়ে। তার পা দুটো এখনো সাপোর্ট দেওয়ার মতন অবস্থায় আসেনি। মেরি তাকে সতর্ক করে দিলেও সে দমে যায় না। তার মনে হচ্ছে এই রুমের বাইরে না গেলে সে এখানেই দম বন্ধ হয়ে মারা যাবে। এরপর সে তার দুই হাতের উপর ভর করে পঙ্গু মানুষের মত হামাগুড়ি দিয়ে সামনের একটা সিঁড়ির দিকে যায়। সিঁড়ি দিয়ে উপরে ওঠার সময় তার শরীর থরথর করে কাঁপছে। সেখানে পৌঁছানোর পর সে যা দেখে তাতে তার কলিজা একদম শুকিয়ে যায়। সেখানে একটা বেডের উপরে তার দুই সহযাত্রীর লাশ পড়ে আছে। সেই লাশগুলো শুকিয়ে হাড়ের সাথে লেগে গেছে। এই দৃশ্য দেখে গ্রেস বুঝতে পারে সে এই বিশাল স্পেসশিপে এখন সম্পূর্ণ একা। এই একাকিত্ব তাকে আরো বেশি আতঙ্কিত করে তোলে। সে জালনার কাছের ধুলো পরিষ্কার করে বাহিরে তাকায়। আর ঠিক তখনই তার পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যায়। সে দেখতে পায় জালনার ওপাশে অসীম অন্ধকারের মহাকাশ। চারিদিকে কোটি কোটি তারা ঝিকমিক করছে। কিন্তু কোথাও কোন প্রাণীর চিহ্ন নেই। এবার গ্রেস নিশ্চিত হয়ে যায় যে সে একটি স্পেসশিপে আছে। আর সে পৃথিবীর অনেক অনেক দূরে চলে এসেছে। তাই এবার সে দ্রুত কন্ট্রোল রুমে ঢোকার চেষ্টা করে ক্যাপ্টেনকে খুঁজতে থাকে। কিন্তু মেরি তাকে ঠান্ডা গলায় জানায় যে ক্যাপ্টেন ইয়াও লিজাই অলরেডি মারা গেছে। এই কথা শুনে গ্রেস প্রায় কান্নায় ভেঙে পড়ে। সে জিজ্ঞেস করে বাকি সবাই কোথায়? উত্তরে মেরি জানায়, এই মিশনে তুমি ছাড়া আর কেউই বেঁচে নেই। এসব শুনে তো গ্রেস একটা চেয়ারে ধপ করে বসে পড়ে। সে অস্থির হয়ে তাকে জিজ্ঞেস করে যে পৃথিবীর সাথে যোগাযোগ করতে। তবে মেরি জানায় পৃথিবীর সাথে যোগাযোগ করে মেসেজ পাঠাতে তাদের প্রায় 11 বছরের বেশি সময় লাগবে। এই কথাতে গ্রেস যেন আরো বেশি আপসেট হয়ে পড়ে। এবার সে ক্যালকুলেশন করে দেখে যে তার কাছে যে জ্বালানি রয়েছে সেটা দিয়ে পৃথিবীতে ফিরতে প্রায় 114 বছর সময় লাগবে। বুঝতে পারলে তো? গ্রেসের আর বাড়ি যাওয়া হচ্ছে না। এদিকে সে বাহিরে তাকিয়ে দেখে যে নক্ষত্রটা জ্বলছে সেটা আমাদের সূর্য নয়। আর ঠিক এই মুহূর্তে তার মস্তিষ্কে একটা পুরনো বন্ধ দরজা খুলে যায়। তার কিছু কিছু মেমোরি এখন ফিরে আসতে থাকে। আর এখানেই আমরা ফ্ল্যাশব্যাকে দেখি গ্রেস আসলে কোনো মহাকাশ জারি ছিল না। সে ছিল একজন সাধারণ মিড স্কুলের সাইন্স টিচার। সেই সময় পৃথিবীতে একটা অদৃশ্য আতঙ্ক থাবা বসিয়েছিল। যার নাম পেট্রোভালাইন। গ্রেস ক্লাসের বাচ্চাদের বোঝায় যে দু বছর আগে রাশিয়ার এক বিজ্ঞানী ডক্টর ইরিনা পেট্রোভাল রেডিও টেলিস্কোপে একটা অদ্ভুত জিনিস লক্ষ্য করেন। তিনি দেখেন যে সূর্য থেকে শুক্র গ্রহ পর্যন্ত একটা ইনফ্রারেড লাইন তৈরি হয়েছে। এই রহস্যময় লাইনের কারণে সূর্যের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তখন গ্রেস জানায় যদি এই তাপমাত্রা কমা বন্ধ না হয় তবে পৃথিবী দ্রুত একটা বরফের যুগে ঢুকে যাবে। মাঠের ফসল নষ্ট হয়ে পড়বে। আর কোটি কোটি মানুষ না খেয়ে মারা যাবে যার ফলে পুরো মানব সভ্যতা হয়ে যাবে ধ্বংসস্তূপ। তবে গ্রেস তখনো জানতো না যে এই সমস্যার সমাধান আসলে তার হাতেই আছে। এভাবেই সময় পার হতে থাকে। আর একদিন ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির ইভা স্ট্রেট নামের একজন লোক গ্রেসের সাথে দেখা করতে আসে। আসলে গ্রেস যদিও একজন টিচার কিন্তু অতীতে সে একজন অসাধারণ মলিকিউলার বায়োলজিস্ট ছিল। সে দাবি করেছিল যে পানি ছাড়াও মহাকাশে প্রাণের বিকাশ ঘটানো সম্ভব। তার এই থিওরির কারণে বিজ্ঞানীরা তাকে একসময় পাগল ভেবে সমাজ থেকে বের করে দেয় কিন্তু এখন পেট্রোভালাইনের স্যাম্পল পাওয়ার পর ইভাদেরও মনে হচ্ছে যে গ্রেসের ওই থিওরিটা হয়তো সঠিক তাই গ্রেসকে তার একটা গোপন ল্যাবে নিয়ে যায় সেখানে গ্রেসকে ওই পার্টিকেলস গুলোর স্যাম্পল পরীক্ষা করানো হয় এবং দেখা যায় সেগুলো নড়াচড়া করছে তাই সে নিশ্চিত হয় যে এগুলো আসলে জীবন্ত কোন এলিয়েনের সিঙ্গেল সেল অর্গানিজম যারা পানি ছাড়াই মহাকাশে টিকে আছে গ্রেস ল্যাবে পরীক্ষা করে দেখে যে এই জীবগুলো আলোর দিকে পাগলের মত ছুটছে। সে এগুলোর নাম দেয় অস্ট্রোফেস। যার অর্থ হলো যারা নক্ষত্রকে খেয়ে ফেলে। সে লক্ষ্য করে যে এই অস্ট্রোফেজ গুলো সূর্যের শক্তি ব্যাটারির মত করে নিজেদের ভিতরে জমিয়ে রাখে। জাস্ট চিন্তা করো। একটা ক্ষুদ্র কণা সূর্যের অসীম তাপ নিজের ভিতরে ধরে রেখেছে। আসলে অস্ট্রোফেজগুলো সূর্য থেকে শক্তি দিয়ে শুক্র গ্রহের দিকে রওনা দিয়েছে। কারণ তাদের বংশবৃদ্ধির জন্য মূলত কার্বন ডাইঅক্সাইডের প্রয়োজন। আর শুক্র গ্রহের বায়ুমন্ডল পুরোটাই এই গ্যাসে ঠাসা। মোট কথা এই ক্ষুদেবগুলো নিজেদের অস্তিত্ব টিকে রাখতেই আমাদের সূর্যকে ধীরে ধীরে ঢেকে ফেলছে। তো গ্রেস এই সত্য বের করলে ইভাস্টার তাকে নিয়ে সোজা প্যাসিফিক মহাসাগরের মাঝখানে চলে যায়। সেখানে পৃথিবীর বড় বড় বিজ্ঞানী এবং সরকার প্রধানরা জড়ো হয়েছেন। ইভা তখন একটা পাগলাটে আইডিয়া শেয়ার করে। সে বলে যদি অস্ট্রোফেজ এত শক্তি জমা করতে পারে তবে কেন এটাকে স্পেসশিপ ফুয়েল হিসেবে তারা ব্যবহার করছে না। বিজ্ঞানীরা হিসেব করে দেখে যে মাত্র কয়েক কেজি অস্ট্রোফেজ দিয়ে পুরো একটা শহরের এনার্জি চালানো সম্ভব। আর এই শক্তি দিয়েই তারা বানাতে চায় মানব ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুতগামী স্পেসশিপ। যার নাম প্রজেক্ট হেইল মেরি। তবে এই মিশনের আসল উদ্দেশ্য শুধু অ্যাস্ট্রোফেস কে জানা নয় বরং তাদের লক্ষ্য আরো অনেক দূরের কিছু। আসলে মহাকাশের একটা অদ্ভুত ঘটনা বিজ্ঞানীদের কপালে ভাঁজ ফেলে দিয়েছে। তারা লক্ষ্য করছে যে প্রায় সব নক্ষত্রই অস্ট্রোফেজ দিয়ে আক্রান্ত হলেও টাও সিটি নামের একটা নক্ষত্র এখনো একদম সুরক্ষিত আছে। এখন কেন টাও সিটি এখনো ঠিক আছে সেই রহস্য খুঁজে বের করলেই হয়তো এই অস্ট্রোফেজদেরকে থামানো যাবে। আর এটাই হবে হেলমেরি মিশনের মূল কাজ। গ্রেস বুঝতে পারে টাও সিটিতে এমন কিছু আছে যা অস্ট্রোফিসকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে তবে এই মিশনের একটা ডার্ক সাইডও রয়েছে টাউ সিটি পৃথিবী থেকে প্রায় 12 আলোকবর্ষ দূরে আর এখানে কোন মিশন নিয়ে যাওয়া হলে তাদের কাছে ফেরার মতন কোন জ্বালানি থাকবে না মানে এটা একটা ওয়ান ওয়ে সুইসাইড মিশন হতে চলেছে অর্থাৎ এই মিশনে যারা যাবে তারা আর কোনদিন পৃথিবীর মুখ দেখতে পারবে না গ্রেস এই মিশনের ভয়াবহতা শুনে শিউরে ওঠে সে বারবার ইভা কে বলে যে এটা সেফ আত্মহত্যা ইভা তখন ঠান্ডা চোখে তার দিকে তাকিয়ে বলে পৃথিবী তো এমনিও শেষ হয়ে যাচ্ছে। ইভা এই মিশনের জন্য তিনজন ক্রু মেম্বারকে বাছাই করে। একজন দুর্ধর্শ পাইলট ক্যাপ্টেন ইয়াও, ইঞ্জিনিয়ার ডাভারভাসকি আর সাইন্টিস্ট ডক্টর ডুবোয়া। গ্রেসকে শুধু সাইন্টিস্টদের ট্রেনিং দেওয়ার জন্য ব্যাকাপ হিসেবে রাখা হয়। কিন্তু দেখা যায় তার ভাগ্যের খেলা ছিল একদম অন্যরকম। মিশন লঞ্চ হওয়ার মাত্র কিছুদিন আগে ডক্টর ডুবো ল্যাবে একটা ছোট্ট এক্সপেরিমেন্ট করছিল। গ্রিস তখন ছিল ল্যাবের বাইরে। আর ঠিক সেই মুহূর্তে হঠাৎ এক বিকট শব্দে পুরো বিল্ডিং তছন হয়ে যায়। আসলে ল্যাবের ভিতরে থাকা অ্যাস্ট্রোফেস কন্টেইনার ফেটে গিয়ে ভয়াবহ এই বিস্ফোরণ ঘটে। গ্রেস দৌড়ে গিয়ে দেখে পুরো ল্যাব ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ডক্টর ডুবোয়া সেই বিস্ফোরণে সাথে সাথেই মারা যায়। আর এই কারণেই যেই মানুষগুলোর উপরে পুরো পৃথিবীর দায়িত্ব ছিল তারা চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। যার ফলে এখন হেইল মেরি মিশনের যাওয়ার মতন কোন সাইন্টিস্টই আর পৃথিবীতে বেঁচে নেই। এসব কিছু দেখে ইভা স্ট্রাট এবার সরাসরি গ্রেসের চোখের দিকে তাকিয়ে বলে এখন তোমাকেই যেতে হবে। গ্রেস ভয়ে পিছিয়ে যায় আর আবারো বলে সে কখনো মরতেই চায় না। গ্রেসের এই অস্বীকৃতি দেখে ইভা চরম কঠোর হয়ে ওঠে। সে গ্রেসকে হুমকি দেয় যে যদি সে রাজি না হয় তবে তাকে জোর করে নিয়ে যাওয়া হবে। এই সব শুনে গ্রেস পালানোর চেষ্টা করলে সিকিউরিটি অফিসার কার্ল তাকে ধরে ফেলে। ইভা বুঝতে পারে যে গ্রেস স্বইচ্ছায় এই মিশনে যাবে না। তাই সে তাকে একটা ইনজেকশন দিয়ে অজ্ঞান করে দেয়। এভাবেই গ্রেসকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে স্পেসশিপ হেলমেতে তুলে দেওয়া হয়। তারপরে তাকে ক্রাইজেনিক স্লিপে পাঠিয়ে দেওয়া হয় যাতে সে এই দীর্ঘ জার্নি ঘুমিয়ে পার করতে পারে। এই ছিল পুরো ব্যাকস্টোরি। এবার বর্তমানে ফিরে আসি যেখানে গ্রেস এখনো টাউ সিটির কক্ষপথেয় আছে। সে দেখতে পায় টাও সিটিতে পেট্রোভা লাইন আছে ঠিকই। কিন্তু সেগুলো কেমন যেন ম্লান হয়ে যাচ্ছে। মানে অস্ট্রোফেসগুলো সেখানে টিকতে পারছে না। গ্রেস যখন এই রহস্য সমাধান চেষ্টা করছে ঠিক তখনই স্পেসশিপ রাডারে একটা অদ্ভুত সিগনাল ধরা পড়ে। গ্রেস জালনার কাছে গিয়ে দেখে তার স্পেসশিপের দিকে এক বিশাল এলিয়েন স্পেসশিপ এগিয়ে আসছে। এই দৃশ্য দেখে তো তার গাইলোম খাড়া হয়ে যায়। কারণ সে বুঝতে পারে যে এই মহাবিশ্বে এখন আর সে একা নয়। বরং তার চোখের সামনে এখন একটা ভিনগি সভ্যতার অস্তিত্ব দাঁড়িয়ে আছে গ্রেস প্রথমে প্রচন্ড ভয় পেয়ে যায় আর এআই ম্যারিকে বলে স্পেসটাকে দ্রুত সরাতে কিন্তু এলিয়েন শিপটা গ্রেসের শিপকে অনবরত অনুসরণ করতে থাকে হঠাৎ এলিয়েন শিপ থেকে ছোট্ট একটা সিলিন্ডার গ্রেসের শিপের দিকে ছুড়ে দেওয়া হয় গ্রেস প্রথমে ভাবে যে ওই এলিয়েন স্পেসশিপ থেকে হয়তো মিসাইল ছড়া হয়েছে আর এর জন্যই তো সে উপরওয়ালার নাম জপতে থাকে কিন্তু তার ভুল ভাঙ্গিয়ে দেখা যায় এটা কোন মিসাইল নয় বরং এটা হচ্ছে কোন একটা বার্তা। তাই সে বা সাহস করে স্পেস শুট পড়ে নেয় এবং বাইরে যায় সেটাকে নিয়ে আসার জন্য। তবে তার কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও সে অনেক কষ্টে ওই সিলিন্ডারটাকে সংগ্রহ করে ভিতরে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়। এখন সিলিন্ডার তো পাওয়া গেল। কিন্তু এটাকে খোলা যাবে কি করে? গ্রেস অনেক ভাবেই তা খোলার চেষ্টা করে। কিন্তু বারবার সে ব্যর্থ হতে থাকে। এক পর্যায়ে তার রুমের প্রেসার কন্ট্রোল সেটিং চেঞ্জ করতেই সেটা অনায়াসেই খুলে যায়। তবে এরপর সে যখন সিলিন্ডারের ভিতরে দেখে তখন তার যেন বিশ্বয়ের সীমা থাকে না। এখানে সে একটা অদ্ভুত ম্যাপের প্রজেকশন দেখতে পায়। গ্রেস একজন সাইন্টিস্ট হিসেবে দ্রুত বুঝে ফেলে যে এলিয়েনটা আসলে কি বোঝাতে চাইছে। সে দেখতে পায় সেই ম্যাপটাই 40 এডেনি নামের একটা ট্রিপল স্টার সিস্টেমের দিকে ইশারা করছে। মানে এই এলিয়েনটা আমাদের পৃথিবী থেকে প্রায় 16 আলোকবর্ষ দূরের একটা জগত থেকে এসেছে। গ্রেস বুঝতে পারে এলিয়েনটা আসলে তার নিজের বাড়ির ঠিকানা জানান দিল। জাস্ট চিন্তা করো। মানুষের এই বিশাল শূন্যতায় দুই ভিন গ্রহের প্রাণী একে অপরের সাথে পরিচিত হওয়ার চেষ্টা করছে। গ্রেসিভ সাহস করেই নিজের পরিচয় দেওয়ার কথা ভাবে। সে একটা কাগজে পৃথিবীর অবস্থান এবং আমাদের সৌরজগতের ম্যাপ একে সিলিন্ডারটা আবারও পাঠিয়ে দেয়। সে সিলিন্ডারটা এমনভাবে ছুড়ে মারে যাতে এলিয়েন শিপ সেটাকে সহজেই ধরতে পারে। সেভাবে কাজ হয়ে গেলে কিছুক্ষণ পর এলিয়েন শিপ থেকে একটা পাল্টা মেসেজ আসে। এবারের মেসেজটা আর কোন ম্যাপ না। বরং এলিয়েন শিপ থেকে হেইল মেরির দিকে বিশেষ কিছু ছোট ছোট রোবটিক বাহু এগিয়ে আসতে থাকে। গ্রেস জালনার কাছে দাঁড়িয়ে দেখছি এই অদ্ভুত দৃশ্য। সেই বাহুগুলো হেলমেরির হালের সাথে একটা টানেল বা টিউবের মতন করে জোড়া লেগে যায়। মানে এলিয়েনটা সরাসরি তাকে তার সাথে দেখা করার জন্য ডাকছে। গ্রেসের বুকের ধরফারানি এখন কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। সে জানে না যে ওই পাশে তার জন্য কোন বিপদ অপেক্ষা করছে কিনা। কিন্তু তারপরেও গ্রেস একটা সেফটি সুট পড়ে নেয়। আর আত্মরক্ষার জন্য তার সাথে একটা রেঞ্জ বা ভারী যন্ত্র নিয়ে ফেলে। সে হেইল মেরে এয়ার লক খুলে সেই টানেলের ভিতরে ঢোকে। এই টানেলটা দেখতে একদম স্বচ্ছ কাচের মতো। কিন্তু এটা জেনোনাইট নামের একটা রহস্যময় পদার্থ দিয়ে তৈরি। গ্রেস ধীরে ধীরে টানেলের মাঝে পৌঁছায়। আর ঠিক তখনই মাঝখানের একটা কাচের দেওয়াল তাকে এবং এলিয়েন শিপটাকে আলাদা করে ফেলে। গ্রেস কাচের ওপাশে উকি দিয়ে দেখার চেষ্টা করতে থাকে। সেখানে সে আবছা অন্ধকারে কিছু একটা নড়াচড়া করতে দেখতে পায়। ঠিক তখনই কাচের ওপাশ থেকে একটা হাতের মত কিছু একটা বেরিয়ে আসে। তবে সেটা মানুষের হাত নয়। এটা দেখতে একদম পাথরের মত শক্ত। আর এর পাঁচটা আঙ্গুল আছে যা মাকরসার পায়ের মত কাজ করছে। গ্রেইস ভয় পেয়ে দুকদম পিছিয়ে যায়। তার কলিজা যেন গলা দিয়ে বেরিয়ে আসার উপক্রম হচ্ছে। কিন্তু ঠিক তখনই গ্রেস লক্ষ্য করে এলিয়েনটা তাকে কোন অটাকই করছে না বরং সে গ্রেসের নড়াচড়া কপি করছে। গ্রেস হাত তুললে এলিয়েনটাও সে অদ্ভুতভাবে হাত তুলছে। গ্রেস তখন সাহস পায়। সে ধীরে ধীরে জালনার কাছে গিয়ে দাঁড়ায়। এবার সে এলিয়েনটাকে স্পষ্ট করে দেখে। আর বুঝতে পারে তার বডি একটা মাকরসার মতো। কিন্তু পুরো শরীর পাথরের মত খসখসে চামড়া দিয়ে ঢাকা। এর কোন চোখ নেই, মুখ নেই এমনকি নাকও নেই। গ্রিস অবাক হয়ে ভাবে যে এই প্রাণীটা তাহলে কথা বলে এবার দেখে কিভাবে? আসলে এদের দেখার জন্য চোখের বদলে শ্রবণশক্তির কাজ করে। এরা শব্দ বা ভাইব্রেশনের মাধ্যমে চারিপাশের জগৎটাকে অনুভব করে। ঠিক যেমন বাদুর অন্ধ হয়েও সবকিছু দেখতে পায়। এলিয়েনটা বারবার কাচের উপরে টোকা দিচ্ছিল। গ্রেস প্রথমে বুঝতে পারে না যে সে কি চাইছে কিন্তু পরে সে দেখতে পায় এলিয়েনটা টানেলে তার জন্য একটা অদ্ভুত উপহার রেখে দিয়েছে এলিয়েনটা ইশারায় গ্রেসকে সেই জিনিসটা নিতে বলে এবার সে ওটা নিতে গেলে দেখা যায় দুটো আংটির মতন জিনিস রাখা আছে প্রতিটা আংটির চারিদিকে আটটা করে পুঁথি বসানো গ্রেস প্রথমে বেশ কনফিউজ হয়ে যায় কিন্তু হঠাৎ তার সাইন্টিস্ট ব্রেন কাজ করা শুরু করে সে মনে করে যে অক্সিজেনের পারমাণবিক বা অ্যাটমিক নাম্বার হলো এইট আর দুটো আংটির মানে মানে হলো ওজু। তার মানে এলিয়েনটা তাকে বোঝাতে চাইছে যে এই ট্যানেলের ভিতরে অক্সিজেন দিয়ে ভর্তি করে রাখা হয়েছে। মানে গ্রেস চাইলে তার হেলমেট খুলে সেখানে নিঃশ্বাস নিতে পারে। এই কথা বোঝার পর গ্রেসের সামনে এখন জীবনের সবচেয়ে বড় রিস্ক। যদি সে হেলমেট খোলে আর এটা যদি এলিয়েনের ভুল থাকে তাহলে সে এক সেকেন্ডের মধ্যেই মারা যাবে। কিন্তু গ্রেস যেন ওই এলিয়েনটার উপর একটা অদ্ভুত ভরসা খুঁজে পায়। সে ধীর স্থিরভাবে তার হেলমেটের লক খুলে ফেলে। আর দেখা যায় মুহূর্তের মধ্যেই সে তখন ফুসফুস ভরে অক্সিজেন নিতে পারছে। সত্যিই সেখানে বিশুদ্ধ অক্সিজেন ছিল যা এলিয়েনটা গ্রেসের জন্য তৈরি করেছে। এলিয়েনটার এই বুদ্ধিমত্তা দেখে সে তো পুরো ইম্প্রেসড হয়ে পড়ে। সে বুঝতে পারে যে এই ভিনগোয়ী প্রাণীটা মোটেও হিংস্র নয়। সে আসলে গ্রেসের মতনই একজন একা আর অসহায় যাত্রী যে তার নিজের গ্রহকে বাঁচানোর জন্য সমাধান খুঁজছে। এই ঘটনার পর গ্রেস ও এলিয়েনটার মধ্যে একটা অদ্ভুত বন্ডিং তৈরি হয়ে যায়। গ্রেস তার নাম দেয় রকি। কারণ তার শরীর দেখতে একদম শক্ত পাথরের মতো। এছাড়াও সে লক্ষ্য করে রকের ভিতরে খুব দ্রুত শেখার ক্ষমতা আছে। তার একটা নিজস্ব ভাষাও আছে যা অনেকটা দেখতে মিউজিক্যাল নচের মতো। রকে যখন কথা বলে তখন মনে হয় কেউ বাঁশি বা তবলার মতন শব্দ করছে। গ্রেস এবার ঠিক করে যে তাকে কমিউনিকেট করতে হলে রকির ভাষা শিখতে হবে। তাই সে এবার একটা কম্পিউটার প্রোগ্রাম বানায় যার রকির শব্দগুলোকে টেক্সটে কনভার্ট করবে। গ্রেস রকিকে তার ঘড়ির মাধ্যমে হা না ভালো, খারাপ এই শব্দগুলো শেখাতে শুরু করে। রকিও অবাক করার মতন গতিতে মানুষের ভাষা রপ্ত করে নেয়। এখানে রকি গ্রেসকে জানায় যে সে এরিড নামের একটা গ্রহ থেকে এসেছে। তাদের সূর্য এই অস্ট্রোফেস দিয়ে আক্রান্ত আর যার ফলে তাদের জগতও ধীরে ধীরে বরফ হয়ে যাচ্ছে। রকি জানায় যে তাদের শিপেও 23 জন সদস্য ছিল। কিন্তু এক তেজস্ক্রিয়তার কারণে রকি ছাড়া সবাই মারা গেছে। এই সব শুনে গ্রেস আর রকি বুঝতে পারে যে তাদের ভাগ্য একদম একসুতই গাথা। তারা দুজনেই নিজেদের প্রজাতির শেষ ভরসা। এরপর রকি গ্রেসিকে একটা ল্যাপটপের মত ডিভাইস দেখায় যাহা তাদের প্রযুক্তির এক বিস্ময়। রকি জানায় যে সে একজন দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার। সে জেনোনাইট নামের এক অত্যন্ত শক্তিশালী ধাতু দিয়ে যেকোনো কিছু তৈরি করতে পারে। এসব শোনার পর গ্রেসি এবার রকে সাথে নিয়ে এই টাও সিটির রহস্য সমাধানের পরিকল্পনা করে। মোট কথা দুই ভিন্ন গ্রহের দুজন বন্ধু এখন এক হয়ে মহাবিশ্বকে বাঁচানোর শপথ নিয়েছে। যাই হোক গ্রেস আর রকি এখন পুরোপুরি একটা টিমের মতো কাজ করতে থাকে। তাদের মধ্যে ভাষার বাধা এখন নেই বললেই চলে। গ্রেস এর সেই ভয়েস ট্রান্সলেটর এখন রকির মিউজিক্যাল শব্দগুলোকে পরিষ্কার ইংরেজি টেক্সটে কনভার্ট করছে। রকি জানায় যে তাদের গ্রহের প্রযুক্তি এখন অনেক উন্নত হলেও তারা রেডিয়েশন বা তেজস্ক্রীয়তা সম্পর্কে খুব একটা ভালো জানতো না। এই কারণে রকির বাকি সঙ্গীরা মারা গেছে। গ্রেস তখন তাকে পৃথিবীর লজিক আর সাইন্স বোঝায়। আর রকি সেটাকে বাস্তবের রূপ দিতে থাকে। মোটকথা দুই ভিন্ন গ্রহের দুই সেরা মস্তিষ্ক এখন এক হয়ে কাজ করছে। তারা দুজনে মিলে টাও সিটি সিস্টেমের এড্রিয়ান নামের একটা গ্রহকে পর্যবেক্ষণ শুরু করে। গ্রেস লক্ষ্য করে যে এই গ্রহের বায়ুমন্ডলে লুকিয়ে আছে আসল রহস্য। সে দেখে যে টাও সিটিতেও অস্ট্রোফেজ আছে। কিন্তু সেগুলো সংখ্যায় বাড়ছে না। এর মানে হলো অড্রিয়ান গ্রহে এমন কিছু একটা আছে যা অস্ট্রোফেজ গুলোকে খেয়ে সাবার করে দিচ্ছে। গ্রেস এই অদৃশ্য শিকারীর নাম দেয় চাওমিবা। সে বুঝতে পারে যে যদি এই চাওমি বা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে পাঠানো যায় তবেই সূর্যকে বাঁচানো সম্ভব হবে কিন্তু এখানে রয়েছে একটা বড় ঝামেলা এড্রিয়ান গ্রহের পরিবেশ অত্যন্ত ভয়াবহ এর মধ্যে মধ্যাকর্ষণ শক্তি অনেক বেশি আর তাপমাত্রা এতটাই যে কোন স্পেসশিপ সেখানে গলে যাবে রকি তখন একটা দুর্দান্ত বুদ্ধি বের করে সে বলে যে তাদের নিচে নামা দরকার নেই রকি নিজের শিপের জেনোনাইট ধাতু দিয়ে পাঁচ কিলোমিটার লম্বা একটা চেইন বা শিকল তৈরি করবে এই শিকলের মাথায় একটা স্যাম্পল কালেক্টর বা বক্স থাকবে। পরিকল্পনা হলো হেইল মেরির স্পেসশিপটাকে এড্রিয়ান গোহের বায়ুমন্ডলের খুব কাছে নিয়ে যাওয়া হবে। আর এরপরে সেই শিকলটা নামিয়ে দিয়ে মাছ ধরার মত করে টাওমি বা সংগ্রহ করতে হবে। গ্রেস এই প্ল্যান শুনে তো পুরোই থমকে যায়। কেননা পাঁচ কিলোমিটার লম্বা একটা শিকল মহাকাশে ঝুলিয়ে স্যাম্পল ধরাটা কতটা রিস্কি হতে পারে। কিন্তু এছাড়া তাদের কাছে আর কোন উপায়ও নেই। যার ফলে শুরু হয় তাদের সেই বিপদজনক মিশন। গ্রেস স্পেসশুট পড়ে শিপের বাহিরে বেরিয়ে আসে যাতে সে সিকলটা ঠিকমত অপারেট করতে পারে। রকি ভিতর থেকে সিকলটাকে ব্যালেন্স করার চেষ্টা করছে। গ্রেস তার ভাইজার ইনফ্রারেড মুড অন করে পুরো পেট্রোবাল্যান্ডকে স্পষ্ট দেখতে পায়। সে দেখে কোটি কোটি অস্ট্রোফেজ সেই লাইনে ঘুরে বেড়াচ্ছে। গ্রেস শিকলটা অড্রিয়ানের বায়ুমন্ডলে নামিয়ে দেয়। কিন্তু ঠিক তখনই এক মহাবিপত্তি ঘটে যায়। মহাকাশে ভাসমান একটা পুরাতন স্যাটেলাইট এর ধ্বংসাবশেষ হঠাৎ তীরের মতো ছুটে আসে। সেই ধাতব টুকরোটা সরাসরি হেল মেরির গায়ে গিয়ে আঘাত করে। গ্রেস এই আঘাতে ছিটকে গিয়ে শিপের হালের উপর পড়ে যায়। প্রচন্ড ঝাঁকুনিতে স্যাম্পল কালেক্টরটা গ্রেসের হাত থেকে প্রায় ফসকিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু সেই নিজের জীবনের পরোয়া না করে সেটাকে শক্ত করে ধরে রাখে। ততক্ষণই স্পেসশিপের এই আইমারি বারবার এলার্ট দিচ্ছে যে শিপের উচ্চতা কমছে। এড্রিয়ান গোহের প্রচন্ড মধ্যাকর্ষণ হেইল মেরিকে নিজের দিকে টেনে নিচ্ছে। গ্রেস কোনমতে কালেক্টরটা টেনে ভিতরের দিকে নিয়ে আসে এবং দ্রুত এয়ারলকের ভিতরে ঢুকে পড়ে। কিন্তু ইতিমধ্যেই শিপের অবস্থা তখন একদমই শোচনীয়। একটা ফুয়েল আর ট্যাংক ফুটো হয়ে গেছে এবং সেখানে আগুন ধরে গেছে। গ্রেইস পাগলের মতন ইঞ্জিন কন্ট্রোল করার চেষ্টা করে। কিন্তু ঠিক তখনই প্রচন্ড এক বিস্ফোরণে সে ছিটকে গিয়ে দেওয়ালে ধাক্কা খায় তার মাথা থেকে রক্ত বের হতে শুরু করে আর সে সেখানেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলে ঠিক এই মুহূর্তে রকি তার নিজের জীবনবাজি ধরে সে জানতো যে হেলমেরির ভিতরে অক্সিজেন আছে যা তার জন্য বিষাক্ত রকিরা অ্যামোনিয়া গ্যাস গ্রহণ করে আর অক্সিজেন তাদের শরীরকে জ্বালিয়ে দিতে পারে কিন্তু তবুও নিজের বন্ধুকে বাঁচাতে সে নিজের স্পেসশিপ থেকে বেরিয়ে আসে সে একটা বিশেষ শীল ব্যবহার হার করে কোনমতে গ্রেসের কাছে পৌঁছায়। রকি এবার গ্রেসকে টেনে নিয়ে গিয়ে মেডিকেল কম্পার্টমেন্টের বেডে শুয়ে দেয়। যার ফলে রকির নিজের শরীর তখন অক্সিজেনের সংস্পর্শে সে পুড়তে শুরু করে। কিন্তু তবুও সে হাল ছাড়ে না। আর ফাইনালি সে নিশ্চিত করে যে গ্রেস এখন নিরাপদে আছে। এভাবে অনেকক্ষণ চলার পর গ্রেসের জ্ঞান ফেরে। সে দেখে সে মেডিকেল বেলে শুয়ে আছে। আর তার ক্ষতগুলোতে ব্যান্ডেজ করা। তারপর সে পাশে ফিরে তাকিয়ে দেখে রকি ফ্লোরে পড়ে রয়েছে। রকির অবস্থা খুব আশঙ্কজনক। তার পাথরের মতন শরীরটা অক্সিজেনের প্রভাবে ম্লান হয়ে গেছে। গ্রেস দ্রুতই বুঝতে পারে যে রকি তাকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের বড় ক্ষতি করে ফেলেছে। তাই গ্রেস তখন এক মুহূর্ত দেরি না করে রকিকে তার অ্যামোনিয়ার চেম্বারে ফেরত নিয়ে যায়। একবার চিন্তা করো এই বন্ধুত্বের গভীরতা। রকি তাকে বাঁচাতে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েছে। আর এখন গ্রেস তাকে সুস্থ করার আপ্রাণ চেষ্টা করছে। এভাবে রকি সুস্থ হওয়ার পর তারা সেই স্যাম্পলগুলো পরীক্ষা করে দেখে। তারা দেখতে পায় বক্সের ভিতরে সত্যিই চাওমি বা আছে। এই ক্ষুদ্র জীবগুলো অস্ট্রোফেজ গুলোকে গবগ করে খেয়ে ফেলছে। এই দৃশ্য দেখে গ্রেস খুশিতে আত্মহারা হয়ে যায়। কারণ সে পৃথিবীর জন্য একটা সমাধান খুঁজে পেয়ে গেছে। কিন্তু টাওমি বানিয়ে একটা বড় সমস্যা দেখা দেয়। এই জীবগুলো নাইট্রোজেন গ্যাসে বাঁচতে পারে না। অথচ পৃথিবী এবং রকির গ্রহ এরিডে দুটো জায়গাতেই নাইট্রোজেন আছে। তখন গ্রেস বুঝতে পারে যে এই চাওমিবা গুলোকে এখন ট্রেন দিতে হবে। যাতে তারা নাইট্রোজেনের মধ্যেও টিকে থাকতে পারে। এভাবেই শুরু হয় তাদের ল্যাবে বসে বংশ বৃদ্ধি করার এক দীর্ঘ প্রক্রিয়া। গ্রেইস আর রকি। এখন ল্যাবে দিন-রাত এক হয়ে কাজ করছে। এই কাজের মূল লক্ষ্য হলো টাওমি গুলোকে নাইট্রোজেন সহ্য করার ক্ষমতা করে দেওয়া। তাওমি নাইট্রোজেন স্পর্শে এলেই সাথে সাথে মারা যায়। আর মারা যাওয়ার কারণে তারা শুক্র গ্রহ কিংবা রকের গ্রহতে বাঁচতে পারবে না। তাই গ্রেস এই সমস্যা সমাধানের জন্য ইভালুয়েশনারিং ব্রিডিং মেথড ব্যবহার করে। সে একটা বিশেষ ট্যাংকে টাওমি রেখে আসে। আর সেখানে ধীরে ধীরে নাইট্রোজেনের পরিমাণ বাড়াতে থাকে। শুরুতে সব টাওমিবা মারা গেলেও কয়েক জেনারেশন পর কিছু টাওমি বেঁচে যায়। মোটকথা গ্রেস সফলভাবে টাওমিবাকে নাইট্রোজেন রেজিস্টেন্ট হিসেবে তৈরি করে ফেলে। এই সাফল্যে রকি এতটাই খুশি হয় যে সে তার পা ছা হাত দিয়ে গ্রেস কে জড়িয়ে ধরতে চায় যদিও মাঝখানের কাচের দেয়াল থাকায় সেটা সম্ভব হয় না গ্রেস রকিকে তার ল্যাপটপ গিফট করে যেখানে মানুষের ইতিহাস বিজ্ঞান আর সব তথ্য আছে সেই রকিকে পৃথিবীর ছোট্ট একটা গ্লোব উপহার দেয় রকিও বিনিময়ে গ্রেসকে তার প্রযুক্তির কিছু গোপন তথ্য দেয় এই মুহূর্তটা দেখলে তোমার মনেই হবে না যে তারা দুজন দুই ভিন্ন গ্রহের প্রাণী তাদের এই বন্ধুত্ব মহাকাশের সব সীমানা পার করে গেছে। এবার তাদের বিদায় নেওয়ার সময় ঘনিয়ে এসেছে। কিন্তু এই মুহূর্তে গ্রেইসের পৃথিবীতে ফিরে যাওয়ার কোন জ্বালানি নেই। কারণ তোমাদের তো প্রথমে বলেছি এটা ছিল একটা ওয়ান ওয়ে মিশন। এই কথাটা রকি শুনতে পেরে তার মন খারাপ হয়ে যায়। নিজের বন্ধু কখনো বাড়ি ফিরতে পারবে না এটা সে কোনভাবে মেনে নিতে পারে না। তাই তখন সে জানায় তার কাছে 20 লাখ কেজি ওজনের অস্ট্রোফেস জ্বালানি হিসেবে এক্সট্রা রয়েছে। তাই রকি এই পুরো বিশাল পরিমাণের ফুয়েল গুলো গ্রেসকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। রকি জানায় যে এই ফুয়েল নিয়ে যেন সেও পৃথিবীতে গিয়ে তার সাথে আবার যোগাযোগ করে তবে এই ত্যাগের কারণে রকের কিন্তু নিজের গ্রহতে ফিরে যেতে আরো ছয় বছর বেশি সময় লাগবে কিন্তু তাতেও তার কিছু যায় আসে না কেননা তার বন্ধু বেঁচে আছে এটাই তার কাছে অনেক কিছু এই সব কথাবার্তা শুনে গ্রেস এবার প্রচন্ড ইমোশনাল হয়ে পড়ে তার চোখ দিয়ে পানি পড়তে থাকে রকি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে যে মানুষের চোখ দিয়ে কেন পানি পড়ছে গ্রেস তখন তাকে বোঝায় যে মানুষ খুব বেশি খুশি কিংবা খুব বেশি কষ্ট পেলে কান্না করে। রকি কিছুক্ষণ চুপচাপ থেকে তার মিউজিক্যাল শব্দে বলে, গ্রেস তুমি আমার খুব ভালো বন্ধু। আমি চাই তুমি বাড়ি ফেরো। জাস্ট চিন্তা করো। নিজের জীবনের ছয়টা বছর বিসর্জন দিয়ে রকি তার বন্ধুকে বাঁচাতে চাইছে। এবার তারা দুজন যে যার স্পেসশিপে ফিরে যায়। গ্রেস হেল মেরি স্পেসশিপ টাকে পৃথিবীর দিকে ঘুরায়। সে ভাবতে থাকে স্কুলে ফিরে গিয়ে সে আবারো বাচ্চাদের বিজ্ঞান পড়াবে। গ্রেসের কাছেও এখন চাওমি বা আছে এবং পৃথিবী থেকে নিয়ে আসা সেই প্রভ গুলো রয়েছে সেই সিদ্ধান্ত নেয় যে পৃথিবীতে পৌঁছানোর আগে সে ছোট্ট ছোট্ট ড্রোন বা প্রোভ গুলোর মাধ্যমে টাওমি বা স্যাম্বলগুলো পৃথিবীতে পাঠিয়ে দেবে যাতে সে পৌঁছানোর আগেই পৃথিবীকে বাঁচানোর কাজ শুরু হয়ে যায় সবকিছু একদম ঠিকঠাক মতোই চলছিল কিন্তু তখনই গ্রেসের স্পেসশিপে এক অদ্ভুত পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় সে দেখতে পায় তার ল্যাবের কোনায় রাখা জেনোনাইট কন্টেইনার গুলো থেকে কিছু একটা চুইয়ে পড়ছে। গ্রেস দ্রুত সেই স্যাম্পলগুলো চেক করে তার পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যায়। সে দেখে যে টাওমি গুলো এখন জেনোনাইট ধাতু ভেদ করে বাইরে বেরিয়ে এসেছে। আসলে টাওমি গুলো বিবর্তিত হতে হতে এখন জেনোনাইডো খেতে শুরু করেছে। এখন রকির পুরো স্পেসশিপটাই এই জেনোনাইড দিয়ে তৈরি। গ্রেসের মাথায় তখন বজ্রপাত পড়ার মত অবস্থা। সে বুঝতে পারে যে টাওমি বা গুলো এখন রকি শিপ কে খেতে শুরু করবে এবং রকি সব জ্বালানি খেয়ে সাবার করে নেবে। এছাড়াও রকি এখন স্পেসশিপের ভিতরে একদম একা এবং সেই বিপদের কথা কিছুই জানে না। ফলে টাওমি যদি রকির সব অস্ট্রোফেস খেয়ে ফেলে তবে রকি মহাকাশের শূন্যতায় আটকা পড়ে মারা যাবে। গ্রেস তখন এক চরম দোটানায় পড়ে যায়। তার সামনে এখন দুটো রাস্তা খোলা। হয় সে রকিকে তার ভাগ্যের উপর ছেড়ে দিয়ে পৃথিবীতে ফিরে যাবে। অথবা সে পৃথিবীতে ফেরার আশা ত্যাগ করে রকিকে বাঁচাতে যাবে। একবার ভাবো এই ইমোশনাল কনফ্লিক্টটা। একদিকে পুরো পৃথিবী আর নিজের জীবন। অন্যদিকে তার প্রিয় বন্ধু রকি কিন্তু এতকিছু ভাবার সময় তার হাতে একদমই নেই। গ্রেস এক মুহূর্ত ভাবে তার প্রিয় স্কুল আর ছাত্রদের কথা। কিন্তু পরক্ষণে তার মনে পড়ে রকি তাকে বাঁচানোর জন্য নিজের ছয়টা বছর বিসর্জন দিয়েছে। যার ফলে গ্রেস তখনই এক কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সিদ্ধান্ত নেয় সে আর পৃথিবীতে ফিরবে না। সে সব ডাটা এবং টাওমি বা স্যাম্পলগুলো পৃথিবীর দিকে ছোট্ট ছোট্ট প্রবে করে পাঠিয়ে দেয়। এরপর সে নিজের স্পেসশিপটা 180 ডিগ্রি ঘুরিয়ে রকির পিছে পিছে ছুটতে শুরু করে। এভাবে তার স্পেসশিপটা এখন ঝড়ের গতিতে রকির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কয়েকদিনের রুদ্ধশ্বাস জার্নির পর গ্রেস অবশেষে রকি শিপের কাছে পৌঁছাতে পারে। সে দেখতে পায় রকির পুরো স্পেসশিপটা একদম নিস্তেজ হয়ে মহাকাশে ভাসছে। চামি গুলো রকির শিপে সব জেনোনাইট কন্টেইনার ফুটো করে দিয়েছে এবং সব জ্বালানি খেয়ে সাবার করে ফেলেছে। গ্রেইস তখন বুক ভরা আতঙ্ক নিয়ে শিপের ভেতরে ঢোকে। সে মনে মনে প্রার্থনা করছে যেন রকি বেঁচে থাকে। এবার সে ভিতরে গিয়ে দেখে রকি এক কোনায় কুকড়ে পড়ে আছে। রকির শরীরে আর এক ফোঁটা শক্তিও অবশিষ্ট নেই। রকি যখন গ্রেসকে দেখে তখন সে তার মিউজিক্যাল শব্দে বলে, তুমি কেন ফিরে এলে গ্রেস? গ্রেস কোন কথা না বলেই রকিকে জড়িয়ে ধরে। সে দ্রুতই তার নিজের শিপ থেকে নিয়ে আসা বাড়তি অস্ট্রোফেসগুলো রকির ফুয়েল ট্যাংকে ভরে দেয়। এদিকে রকি ধীরে ধীরে শক্তি ফিরে পায়। আর সে তার পাথরের শরীরটা আবারো উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। দুই ভিন্নগের দুই বন্ধু আবার মিলিত হয়। তবে গ্রিস জানে যে এই মহামিলন মানে হলো সে আর কোনদিনই পৃথিবীতে ফিরতে পারবে না। কারণ তার নিজের শিপে এখন পৃথিবীতে ফিরে যাওয়ার মতন জ্বালানি নেই। এদিকে পৃথিবীতে কি হচ্ছে একবার ভেবে দেখো। ইভা স্টার্ট এবং সারা বিশ্বের মানুষ তখন সূর্যের মৃত্যুর প্রহর গুনছে। তবে ঠিক হুট করেই একদিন পৃথিবীর রাডারে গ্রেসির পাঠানো সেই প্রভগ গুলো ধরা পড়ে। বিজ্ঞানীরা যখন সেই প্রোগপ গুলো উদ্ধার করে তখন ভেতরে টাওমি বা স্যাম্পল পায়। আর এই আনন্দে পুরো পৃথিবী আনন্দের জোয়ারে ভেসে যায়। ইভা গ্রেসের শেষ ভিডিও মেসেজটা দেখে ঢুকরে কেঁদে ওঠে। সে বুঝতে পারে যে গ্রিস সফল হয়েছে। কিন্তু সে আর কোনদিন ফিরে আসবে না। কয়েক বছরের মধ্যে চামি গুলো বংশবিস্তার করে সূর্যকে আবারো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনে। যার ফলে আইসিএস বন্ধ হয়ে যায়। আর পৃথিবীতে আবারো প্রাণের মেলা বসতে থাকে। মোট কথা রেসের সেই আত্মত্যাগ কোটি কোটি মানুষের জীবন বাঁচিয়ে দেয়। এবার ফিরে আসি কয়েক বছর পরের দৃশ্যে। এখানে আমরা দেখতে পাই গ্রেস এখন রকির গ্রহ এডিডে বাস করছে। রকির লোকেরা গ্রেসের জন্য একটা বিশাল স্বচ্ছ ডোম বা গম্বুজ তৈরি করে দিয়েছে। আর এই ডোমটার ভিতরে হুবহু পৃথিবীর মতন পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। সেখানে অক্সিজেন আছে, সুন্দর একটা বাগান আছে। আর গ্রেসের জন্য তার প্রিয় খাবারও আছে। এরই গ্রহের মধ্যাকর্ষণ শক্তি পৃথিবীর চেয়ে অনেক বেশি। আর সবসময় সেখানে অন্ধকার থাকে। কিন্তু এই জুমের ভিতরে গ্রিস একদমই নিরাপদ। সে জালনার ওপাশ দিয়ে তাকিয়ে দেখে রকি আর তার সজাত্রা মহাকাশে তাদের নতুন সভ্যতার কাজ করছে। মুভির শেষ দৃশ্যটা সবচেয়ে বেশি ইমোশনাল। আমরা দেখি গ্রেসতার সেই ডোমের ভিতরে একটা ছোট্ট ক্লাসরুম বানিয়েছে। সেখানে সে আবার তার প্রিয় কাজ শুরু করে দিয়েছে। সে এরিরেড গ্রহের ছোট্ট ছোট্ট মাকরসের মতন এলিয়েন বাচ্চাদের বিজ্ঞান পড়াতে থাকে। বাচ্চারা তাদের পাঁচটা হাত নেড়ে গ্রেসকে প্রশ্ন করছে আর গ্রেসও হাসিমুখে তাদের সব উত্তর দিচ্ছে গ্রেস হয়তো তার নিজের পৃথিবীতে ফিরতে পারেনি কিন্তু সে এক নতুন পৃথিবীতে নিজের একটা ঘর খুঁজে পেয়েছে সে এখন আর শুধু একজন মানুষ নয় বরং সে হয়ে উঠেছে আন্ত নক্ষত্রীয় বন্ধুর এক জীবন্ত প্রতীক আর ঠিক এই সুন্দর সিনের মধ্যে দিয়ে এই অসাধারণ মুভিটা এখানে শেষ

Need a transcript for another video?

Get free YouTube transcripts with timestamps, translation, and download options.

Transcript content is sourced from YouTube's auto-generated captions or AI transcription. All video content belongs to the original creators. Terms of Service · DMCA Contact

পৃথিবীর সবকিছু বরফ হয়ে যাবে! | Movie Explained In Bangla ...