আসসালামু আলাইকুম এক দূরবর্তী অঞ্চলে সবুজ
উপত্যকা আর উঁচু পাহাড় একে অপরের সাথে মিশে রয়েছে| সেখানে বাস করত এক কিশোর নাম
তার আহনাফ । তার জগৎটা ছিল আর 10টা সাধারণ ছেলের মতো নয়। দুনিয়াতে আপন বলতে তার
কেউ ছিল না। গ্রামের এক প্রান্তে এক পুরনো ভাঙ্গা কুটিরে আহনাফ বাস করত। আহনাফের দিন
শুরু হতো ফজরের আযানের সাথে। সে সবার আগে মসজিদে যেত। গ্রামের বৃদ্ধ ইমাম সাহেব
তাকে পরম স্নেহে দ্বীনের শিক্ষা দিতেন। ইমাম সাহেবই ছিলেন তার একমাত্র আশ্রয়।
তিনি প্রায়ই বলতেন আহনাফ মনে রেখো আল্লাহ যাকে ভালোবাসেন তাকে তিনি পরীক্ষা করেন।
তোমার বাবা মা নেই কিন্তু তোমার রব তো আছেন তিনিই তোমার সবচেয়ে বড় অভিভাবক।
কখনো তার উপর থেকে বিশ্বাস হারিও না। গ্রামের অন্য ছেলেরা যখন মাঠে খেলাধুলা
করত আহনাফ তখন হয় মসজিদে থাকতো নয়তো জীবিকার সন্ধানে এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াত।
তার সম্বল ছিল কেবল তার দুটি হাত আর আল্লাহর উপর অগাধ বিশ্বাস। গ্রামের লোকেরা
তাকে ছোটখাট কাজ দিত। কখনো বাগান পরিষ্কার করা, কখনো বাজার থেকে অন্যের সামগ্রী বয়ে
আনা। এর বিনিময়ে যা পেত তা দিয়েই তার দিন চলে যেত। একদিন গ্রামের সবচেয়ে ধনী
এবং অহংকারী মহাজন তার বাড়ির সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন আহনাফ তখন মহাজনের বাগানের
শুকনো পাতা পরিষ্কার করছিল মহাজন তাকে দেখে বলল কিরে এতিম সারাজীবন কি এভাবেই
পরের বাড়ির আবর্জনা পরিষ্কার করে কাটাবি তোর ভাগ্যটাই তো আবর্জনার মতো কথাটা
আহানাফের বুকে তীরের মত বিধোল তার চোখে পানি চলে এলো কিন্তু সে কোন জবাব দিল না
কাজ শেষে সে ইমাম সাহেবের কাছে ছুটে গেল ইমাম সাহেব সাহেব তার মাথায় হাত বুলিয়ে
বললেন মন খারাপ করো না বাবা মানুষের কথায় কান দিতে নেই আল্লাহ মানুষের অন্তর দেখেন
তার বাইরের অবস্থা নয় তুমি শুধু ধৈর্য ধরো আর নিজের কাজ সততার সাথে করে যাও মনে
রেখো রাতের আধার যত গভীর হয় সকালের আলো ততই কাছে চলে আসে সেই রাতে আহনাফ ভাঙ্গা
কুটিরে বসে আল্লাহর কাছে দুই হাত তুলে দোয়া করলো সে কোন সম্পদ চাইল না কোন
ক্ষণতাও চাইল না সে শুধু চাইল ধৈর্য আর আল্লাহর সন্তুষ্টি। সে কাঁদতে কাঁদতে বলল,
হে আমার রব, আমি দুর্বল, আমি এতিম, তুমি ছাড়া আমার আর কেউ নেই। তুমি আমার জন্য যা
ফয়সালা করেছো তাতেই আমার কল্যাণ নিহিত। আমাকে ধৈর্য ধারার শক্তি দাও। কিন্তু সে
জানতো না তার জীবনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা এবং সবচেয়ে বড় পুরস্কার দুটোই তার জন্য
অপেক্ষা করছে। তার ঈমানের শক্তিই ছিল তার সবচেয়ে বড় সম্পদ। যা তাকে ভবিষ্যতের
কঠিন পথ পাড়ি দিতে সাহায্য করবে। কয়েক বছর কেটে গেল আহনাফ এখন আর কিশোর নয় এক
টকবগে যুবক। তার চেহারায় ফুটে উঠেছে কঠোর পরিশ্রমের ছাপ আর চোখে ঈমানের গভীর
দীপ্তি। ইমাম সাহেবের কাছ থেকে সে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি চারিত্রিক দৃঢ়তাও অর্জন
করেছে। গ্রামের সবাই তাকে তার সততা, নম্রতা আর কঠোর পরিশ্রমের জন্য ভালোবাসতো।
তবে সেই অহংকারী মহাজনের চোখে সে আগের মতোই এক নগণ্য এতিম রয়ে গিয়েছিল। একদিন
এক ভিনদেশী সৌদাগরের দল সেই গ্রামে এসে থামল। তাদের বাণিজ্য বহরের মূল আকর্ষণ ছিল
উন্নত জাতের ঘোড়া আর মূল্যবান মসলা। সৌদাগরদের প্রধান একজন অভিজ্ঞ এবং
জ্ঞানীবৃদ্ধ গ্রামে একজন বিশ্বস্ত সাহায্যকারী খুঁজছিলেন যে তাদের মালামাল
দেখাশোনা করবে এবং বাণিজ্য যাত্রায় সঙ্গী হবে। গ্রামের অনেকেই এই লোভনীয় কাজের
জন্য এগিয়ে এল এমনকি সেই ধনী মহাজনের ছেলেও কিন্তু বৃদ্ধ সওদাগরের চোখ পড়ল
আহনাফের ওপর তিনি তাকে দূর থেকে লক্ষ্য করছিলেন আহনাফ তখন এক বৃদ্ধার ভারী পানির
কলস তার বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিচ্ছিল যার বিনিময়ে সে কোন পারিশ্রমিক নেয়নি এই
দৃশ্য দেখে সৌদাগর মুগ্ধা হলেন। তিনি আহনাফকে ডেকে বললেন হে যুবক আমি তোমার
মধ্যে সততা ও বিশ্বস্ততার চিহ্ন দেখতে পাচ্ছি আমি এক দীর্ঘ বাণিজ্য যাত্রায় বের
হচ্ছি তুমি কি আমার সঙ্গী হবে তোমার থাকা খাওয়ার সব দায়িত্ব আমার আর সফর শেষে আমি
তোমাকে এমন পারিশ্রমিক দেব যা দিয়ে তুমি নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবে এই প্রস্তাব
ছিল আহনাফের জন্য এক বিশাল সুযোগ কিন্তু তার মন পড়ে রইল বৃদ্ধ ইমাম সাহেবের কাছে
তিনিই তো তার একমাত্র অভিভাবক সে সৌদাগরকে বলল বলল, আপনার প্রস্তাব আমার জন্য অনেক
বড় সম্মান। কিন্তু আমাকে আমার অভিভাবকের অনুমতি নিতে হবে। এই বলে আহনাফ ছুটে গেল
ইমাম সাহেবের কাছে। সব শুনে ইমাম সাহেব কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর বললেন,
আহনাফ আল্লাহ হয়তো তোমার দোয়ার জবাব দিচ্ছেন। তিনি তোমার জন্য নতুন পথের দরজা
খুলে দিয়েছেন। কিন্তু মনে রেখো বাইরের জগৎটা অনেক কঠিন আর প্রলোভনে ভরা। যেখানেই
যাও নিজের ঈমানকে শক্ত করে ধরে রাখবে। কখনো সততার পথ ছাড়বে না। আমার দোয়া সব
সময় তোমার সাথে থাকবে। ইমাম সাহেবের অনুমতি পেয়ে আহনাফ সওদাগরের প্রস্তাবে
রাজি হলো। যাত্রার আগের রাতে সে তার ভাঙ্গা কুটিরে বসে শেষবারের মতো দোয়া
করল। পরদিন ভোরে গ্রামের সবাই তাকে বিদায় জানাতে এল। কিন্তু সেই ধনী মহাজন ভিড়ের
এক কোণে দাঁড়িয়ে হাসছেন। আর বলছেন, এতিমটা আর কতদূরি বা যাবে? আহনাফ সবার কাছ
থেকে বিদায় নিয়ে বাণিজ্য কাফেলার সাথে রওনা দিল। তার মন ছিল ভারাক্রান্ত, কিন্তু
বুকে ছিল একরাশ আশা। সে জানতো না যে এই যাত্রায় তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেবে।
কাফেলা মরুভূমি পাহাড় আর অজানা সব ভূখণ্ড পাড়ি দিয়ে এগিয়ে চলল। পথে নানা রকম
বিপদ এলো। কখনো মরুঝড় কখনো দস্যুর ভয়। কিন্তু আহনাফ আল্লাহর উপর ভরসা রেখে
নির্ভিকভাবে তার দায়িত্ব পালন করে গেল। তার সততা সাহস আর বুদ্ধিমত্তা দেখে বৃদ্ধ
সৌদাগর প্রতিনিয়তই আরো বেশি মুগ্ধ হতে লাগলেন। একদিন রাতে যখন কাফেলা এক
মরুদ্দানে বিশ্রাম নিচ্ছিল, একদল সশস্ত্র দস্যু তাদের উপর অতর্কিত হামলা করল। সবাই
যখন প্রাণভয়ে পালাচ্ছিল, আহনাফ তখন বৃদ্ধ সওদাগরের জীবন বাঁচাতে নিজের জীবনের ঝুঁকি
নিয়ে দস্যুদের সামনে রুখে দাঁড়ালো। তার অসীম সাহসিকতা দেখে কাফেলার অন্যান্যরাও
সাহস ফিরে পেল। এবং সবাই মিলে দস্যুদের হটিয়ে দিল। এই ঘটনায় বৃদ্ধ সৌদাগর
আহনাফের কাছে ঋণী হয়ে গেলেন। তিনি বুঝতে পারলেন এই যুবক শুধু একজন সাধারণ কর্মচারী
নয় সে এক বিরল রত্ন। তিনি মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলেন এই যুবককে তিনি তার যোগ্য
সম্মান ও স্থান দেবেন। কিন্তু আহানাফের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা তখনো বাকি ছিল।
সে জানতো না এই দীর্ঘ সফর শেষে তার জন্য কি বিষয় অপেক্ষা করছে যা তার ধৈর্য ও
বিশ্বাসের চূড়ান্ত পরীক্ষা নেবে। দীর্ঘ এক বছর পর বাণিজ্য যাত্রা শেষ হলো।
আহনাফের জীবন থেকে একটি বছর হারিয়ে গেলেও সে অর্জন করেছে অতুলনীয় অভিজ্ঞতা। বৃদ্ধ
সওদাগর তার সততা, বিশ্বস্ততা এবং সাহসিকতার এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে, তিনি
তাকে কেবল একজন কর্মচারী হিসেবে নয়, বরং নিজের ছেলের মতো দেখতে শুরু করেছিলেন। সফর
শেষে কথা অনুযায়ী পারিশ্রমিক দেওয়ার দিন এল। বৃদ্ধ সওদাগর আহনাফকে তার তাবুতে ডেকে
পাঠালেন। আহনাফের বুকে আসা এই পারিশ্রমিক দিয়ে সে গ্রামে ফিরে নিজের জন্য একটি ছোট
ব্যবসা শুরু করবে এবং ইমাম সাহেবের দেখাশোনা করবে। সওদাগর আহানাফের সামনে
দুটি থলে রাখলেন। একটি থলে তে ছিল 100 টি স্বর্ণ মুদ্রা যা এই দীর্ঘ সফরের জন্য
একটি বিশাল পারিশ্রমিক। অন্য থলেটি ছিল আকারে ছোট এবং তাতে ছিল মাত্র 10 টি রৌপ্য
মুদ্রা। সওদাগর এক অদ্ভুত প্রস্তাব দিয়ে বসলেন। তিনি বললেন আহনাফ আমি তোমার কাজে
অত্যন্ত সন্তুষ্ট। তোমার সততা অতুলনীয় তাই আমি তোমাকে একটি সুযোগ দিতে চাই। এই
দুটি থলের মধ্যে যেকোনো একটি তুমি বেছে নিতে পারো। একটিতে আছে তোমার প্রাপ্য
পারিশ্রমিক অন্যটিতে আছে আমার পক্ষ থেকে একটি বিশেষ উপহার। তবে কোন থলেতে কি আছে
তা আমি বলবো না। তোমার ভাগ্যই তোমার সিদ্ধান্ত নেবে। আহানাফ এক গভীর দ্বিধায়
পড়ে গেল। তার চোখের সামনে ভাসছিল তার ভাঙ্গা কুটির ইমাম সাহেবের স্নেহমাখা মুখ
আর গ্রামের সেই অহংকারী মহাজনের তাচ্ছিল্যের হাসি। 100 টি স্বর্ণমুদ্রা
তার জীবন বদলে দিতে পারে। সে আর এতিম থাকবে না সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে
পারবে। কিন্তু যদি সে ভুল থলেটি বেছে নেয় দশটি রৌপ্য মুদ্রা দিয়ে তার কিছুই হবে
না। সে চোখ বন্ধ করে তার রবের কথা স্মরণ করল। ইমাম সাহেবের সেই কথাটি তার কানে
বাঁচতে লাগলো। আল্লাহর সিদ্ধান্তই সেরা। সে ভাবল আমি কেন আমার ভাগ্য নিজে নির্ধারণ
করতে চাইছি। আমার রব আমার জন্য যা নির্ধারণ করেছেন তাই আমার জন্য উত্তম।
আহনাফ চোখ খুলে শান্তভাবে ছোট থলেটির দিকে হাত বাড়ালো। সে বললজনাব আমি আপনার দেওয়া
উপহারটিই গ্রহণ করতে চাই। আমার বিশ্বাস আমার রব আমার জন্য যা রেখেছেন তাতেই
কল্যাণ নিহিত। তার এই সিদ্ধান্ত দেখে সওদাগরের মুখে এক রহস্যময় হাসি ফুটে উঠল।
তিনি বড় থলেটি খুলে দেখালেন। সেখানে ছিল 100 টি স্বর্ণ মুদ্রা। আহনাফের সঙ্গীরা
যারা বাইরে থেকে উঁকি দিচ্ছিল তারা আফসোস করে বলতে লাগলো কি বোকা ছেলেটা নিজের
ভাগ্যকে পায়ে ঠেলে দিল আহানাফের বুকটা এক মুহূর্তের জন্য ধক করে হলেও সে নিজেকে
সামলে নিল সে ভাবল নিশ্চয়ই এর মধ্যে কোন কল্যাণ আছে সে দশটি রৌপ্য মুদ্রা নিয়ে
সওদাগরকে সালাম জানিয়ে বিদায় নিল তার মন ভারাক্রান্ত ছিল কিন্তু তার ঈমান ছিল অটল
গ্রামে ফেরার পথে তার মন দুঃখে ভরে গেল সে কি জবাব দেবে ইমাম সাহেবকে গ্রামের লোকেরা
তাকে নিয়ে হাসাহাসি করবে সেই মহাজন তাকে আরো বেশি করে অপমান করবে এই দশটি রৌপ্য
মুদ্রা দিয়ে তো তার কিছুই হবে না হঠাৎ পথের ধারে এক বৃদ্ধ লোককে সে বসে থাকতে
দেখল লোকটি ছিল ক্ষুধার্থ ও তৃষ্ণার্থ তার কাছে সামান্য যা খাবার ও পানি ছিল আহনাফ
তা দিয়ে লোকটিকে সাহায্য করল বিদায়ের সময় বৃদ্ধ লোকটি তার দিকে তাকিয়ে বলল হে
যুবক তোমার অন্তর কাছের মত স্বচ্ছ আল্লাহ তোমাকে উত্তম প্রতিদান দিন। আহানাফ তার
ভাঙ্গা হৃদয়ে সামান্য সান্ত্বনা নিয়ে গ্রামের দিকে এগিয়ে চলল। সে জানত না তার
এই ছোট ত্যাগের বিনিময়ে আল্লাহ তার জন্য কত বড় প্রতিদানের ব্যবস্থা করে রেখেছেন।
তার জীবনের সবচেয়ে বড় মোরটি ছিল আর মাত্র কয়েক কদম দূরে। ভারাক্রান্ত হৃদয়ে
আহনাফ তার গ্রামে প্রবেশ করল। তার ফেরার খবর পেয়ে গ্রামের লোকেরা জড় হল। কিন্তু
তার মলিন চেহারা আর শূন্য হাত দেখে তাদের চোখে মুখে ফুটে উঠলো বিশ্বময় ও হতাশা সেই
অহংকারী মহাজন এগিয়ে এসে ব্যঙ্গ করে বলল কি হে সৌদাগরের সঙ্গী এক বছর পর ফিরে এলে
খালি হাতে আমি তো আগেই বলেছিলাম এতিমের ভাগ্য কখনো ফেরে না আহনাফ কোন উত্তর না
দিয়ে সোজা ইমাম সাহেবের কাছে গেল ইমাম সাহেব তার সব কথা মনোযোগ দিয়ে শুনলেন তার
সততার সাথে কাজ করার কথা দস্যুদের সাথে লড়াইয়ের কথা এবং সব শেষে দুটি থলের মধ্য
থেকে ছোটটি বেছে নেওয়ার কথা। সব শুনে ইমাম সাহেব হাসলেন। তিনি আহনাফের কাঁধে
হাত রেখে বললেন, তুমি ঠিক কাজই করেছো আহনাফ। তুমি সম্পদের চেয়ে আল্লাহর উপর
বিশ্বাসকে বড় করে দেখেছো। হতাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমার জন্য উত্তম কিছু
রেখেছেন। ইমাম সাহেবের কথায় আহনাফ কিছুটা শান্তি পেল। সে তার পাওয়া দশটি রৌপ্য
মুদ্রা নিয়ে ভাবতে লাগল। কি করা যায়? পরদিন সকালে এসে বাজারে গেল। সেখানে সে
দেখল এক লোক একটি অদ্ভুত দর্শন অসুস্থ ও দুর্বল ঘোড়া বিক্রি করার চেষ্টা করছে
কিন্তু কেউ সেটি কিনছে না ঘোড়াটির অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে সেটি ঠিকমতো দাঁড়াতেও
পারছিল না সবাই ঘোড়াটিকে অলক্ষ খুনে বলে দূরে সরে যাচ্ছিল আহনাফের মায়া হলো সে
ভাবল এই সামান্য মুদ্রা দিয়ে তো আমার ভাগ্য ফিরবে না তার চেয়ে বরং এই অসহায়
প্রাণীটির জন্য কিছু করি সে বিক্রেতার কাছে গিয়ে তার ওই 10টি রৌপ্য মুদ্রা
দিয়ে ঘোড়াটি কিনে নিল তার এই কান্ড দেখে বাজারের সবাই হাসতে লাগল। মহাজন পাশেই
ছিল। সে বলল, এতিমটা এবার পুরোপুরি পাগল হয়ে গেছে। নিজের শেষ সম্বল দিয়ে এক মরা
ঘোড়া কিনেছে। আহনাফ কারো কথায় কান না দিয়ে ঘোড়াটিকে পরম যত্নে বাড়ি নিয়ে
এলো। সে নিজের খাবারের অংশ থেকে ঘোড়াটিকে খাওয়ালো। তার ক্ষতস্থান পরিষ্কার করে
সেবা করতে লাগল। তার একটাই চিন্তা ছিল প্রাণীটি যেন সুস্থ হয়ে ওঠে। এদিকে সেই
বৃদ্ধ সওদাগর যার সাথে আহনাফ সফরে গিয়েছিল তিনি আসলে ছিলেন এক রাজ্যের একজন
অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং ধনী ব্যক্তি তার কোন সন্তান ছিল না তিনি একজন সৎ ও যোগ্য
উত্তরসুরি খুঁজছিলেন যাকে তিনি তার সমস্ত ব্যবসার দায়িত্ব দেবেন আহনাফের সততা ও
আল্লাহর প্রতি অঘাত বিশ্বাস দেখে তিনি তাকে পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন সেই দুটি
থলের প্রস্তাব ছিল সেই পরীক্ষারই অংশ আহনাফ চলে যাওয়ার পর সৌদাগর তার লোকদের
পাঠালেন আহনাফের খোজ খবর রাখার জন্য। যখন তিনি শুনলেন যে আহনাফ তার শেষ সম্বল দিয়ে
একটি অসুস্থ ঘোড়া কিনে তার সেবা করছে তখন তার চোখ অশ্রুতে ভরে গেল। তিনি বুঝতে
পারলেন তিনি সঠিক মানুষকেই চিনেছেন। যার মনে সৃষ্টির জন্য এত দয়া সে কখনো
অবিশ্বাসী হতে পারে না। এর কিছুদিন পর এক সকালে গ্রামের মানুষ দেখল এক বিশাল
রাজকীয় বাহিনী গ্রামের দিকে এগিয়ে আসছে। সবার আগে ছিলেন সেই বৃদ্ধ সৌদাগর। তবে
এবার তার পরণে ছিল মহামূল্যবান পোশাক। গ্রামের সবাই ভয়ে কাঁপতে লাগলো। অহংকারী
মহাজন ভাবল নিশ্চয়ই কোন বড় বিপদ আসছে। সৌদাগর সোজা আহনাফের ভাঙ্গা কুটিরের সামনে
এসে থামলেন। আহনাফ অবাক হয়ে বেরিয়ে এলো। সৌদাগর ঘোড়া থেকে নেমে আহনাফকে জড়িয়ে ধরে
বললেন, আমি তোমার মত একটি রত্নকেই খুঁজছিলাম আহনাফ। তুমি আমার পরীক্ষায়
উত্তীর্ণ হয়েছো। তুমি শুধু আমার সম্পদের নয় আমার বিশ্বাসের যোগ্য উত্তরসুরী। তিনি
তখন সবাইকে খুলে বললেন, সেই দুটি থলের রহস্য। ছোট থলেটি বেছে নিয়ে আহনাফ প্রমাণ
করেছিল যে তার কাছে সম্পদের চেয়ে আল্লাহর উপর বিশ্বাস অনেক বড় আর তার শেষ সম্বল
দিয়ে একটি অসুস্থ পশুর সেবা করে সে প্রমাণ করেছে তার হৃদয়ের বিশালতা এরপর
সওদাগর সেই অসুস্থ ঘোড়াটির দিকে এগিয়ে গেলেন। তিনি ঘোড়াটির গায়ে হাত বুলিয়ে
একটি বিশেষ চিহ্ন দেখালেন। তিনি বললেন, এটি কোন সাধারণ ঘোড়া নয়। এটি আরবের
সবচেয়ে উন্নত জাতের ঘোড়া যা এক ঝরে কাফেলা থেকে হারিয়ে গিয়েছিল। এর মূল্য
হাজার হাজার স্বর্ণ মুদ্রার চেয়েও বেশি। সবার চোখ বিস্মোয়ে ছানা হয়ে গেল। যে
মহাজন আহনাফকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি উপহাস করেছিল সে লজ্জায় ও ভয়ে মাথা নিচু করে
ফেলল। বৃদ্ধ সওদাগর আহনাফকে তার সমস্ত ব্যবসা ও সম্পদের উত্তরাধিকারী ঘোষণা
করলেন। আহনাফ রাতারাতি সেই অঞ্চলের সবচেয়ে ধনী এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিতে
পরিণত হল। কিন্তু সম্পদ তাকে বদলাতে পারলো না। সে আগের মতোই নম্র, দয়ালু ও
আল্লাহভীরু রয়ে গেল। সে প্রথমে তার গ্রামের জন্য কাজ করল, একটি এতিমখানা
প্রতিষ্ঠা করল এবং গরীবদের জন্য ব্যবসার সুযোগ করে দিল। সে বৃদ্ধ ইমাম সাহেবকে
নিজের বাবার আসনে বসালো এবং আজীবন তার সেবা করল। আর সেই অহংকারী মহাজন সে তার
অহংকারের কারণে ধীরে ধীরে সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেল। একদিন সে আহনাফের কাছে
ক্ষমা চাইতে এল। আহনাফ তাকে শুধু ক্ষমাই করল না বরং তাকেও নিজের প্রতিষ্ঠানে একটি
কাজ দিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ করে দিল। আহনাফ প্রায়ই তার পুরনো ভাঙ্গা
কুটিরটির সামনে গিয়ে দাঁড়াতো এবং আকাশের দিকে তাকিয়ে বলতো হে আমার রব আপনি সত্য
বলেছেন আপনার সিদ্ধান্তই বান্দার জন্য স্রেরা আমি চেয়েছিলাম সামান্য কিছু আর
আপনি আমাকে দিয়েছেন আমার কল্পনার চেয়েও অনেক বেশি তার জীবন কাহিনী সবার জন্য এক
শিক্ষণীয় গল্প হয়ে রইল মানুষ শিখলো যে ধৈর্য সততা এবং আল্লাহর উপর অটল বিশ্বাস
থাকলে তিনি তার বান্দাকে কখনো নিরাশ করেন না রাতের আধার যতই গভীর হোক না কেন ঈমানের
আলোয় একদিন ভোরের সূর্য উঠবেই। আসসালামু আলাইকুম। আমাদের ইসলামিক ভয়েস বাংলা
চ্যানেলের ভিডিওগুলো যদি আপনার ভালো লাগে তবে অবশ্যই ভিডিওটিকে লাইক, কমেন্ট এবং
শেয়ার করবেন। আর নতুন নতুন ইসলামিক গল্প, দাওয়া, নবীদের জীবনী ও শিক্ষামূলক ভিডিও
পেতে আমাদের চ্যানেলটিকে সাবস্ক্রাইব করতে ভুলবেন না। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেদায়েত
দান করুন এবং দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা দান করুন। আমিন।
Get free YouTube transcripts with timestamps, translation, and download options.
Transcript content is sourced from YouTube's auto-generated captions or AI transcription. All video content belongs to the original creators. Terms of Service · DMCA Contact
Browse transcripts generated by our community



















