গুরু দরকার হয় কেন? দীক্ষা কেন নেব? ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণদেব এই দুটি প্রশ্নের উত্তর খুব সুন্দর একটি উপমা সহকারে দিয়েছেন। ঠাকুর বলছেন, ওরে গুরু ধরতে হয় রে গুরু ধরতে হয়। নরেন বললে আমি গুরু মানি না। ঠাকুর বললেন সে কিরে গুরু মানবিনে? নরেন বললে কে গুরু? ঠাকুর তখন কমনডুলুটি তুলে বললেন, এটা কি? নরেন্দ্রনাথ বললে কমন ডুলু ঠাকুর জিজ্ঞেস করলেন কিসের তৈরি? নরেন্দ্রনাথ উত্তর দিলেন তামার। ঠাকুর আবার জিজ্ঞেস করলেন কে তৈরি করেছে? নরেন উত্তর করল কামার। ঠাকুর এবার সহস্যে বললেন, তাহলে ভাব শুধু তামা থাকলেই হয় না। তাকে কমনডুলু বানাবার জন্য একটা কামারও লাগে। গুরু হলো ওই কামারটা। গুরু হলেন ঘটক যিনি ভগবানের সাথে ভক্তের মিলন ঘটিয়ে দেন। তাই গুরুর ভূমিকা ভক্তদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গুরুদেব শিষ্যকে মন্ত্র দিলেন তো দীক্ষা হল। গুরু এবং দীক্ষা অনেকটা আগুন আর তার দাহিকা শক্তির মত মনে হয়। আগুন না থাকলে যেমন দাহিকা শক্তির অস্তিত্ব নেই তেমনি গুরু না থাকলে দীক্ষাও হয় না। আমরা পিতা-মাতার কাছে যেহেতু প্রাথমিক বিদ্যা শিক্ষা লাভ করি সেই সময় তারাই আমাদের কাছে গুরুস্থানে থাকেন। পরবর্তীকালে বিদ্যালয়ের শিক্ষক মহাশয় খেলার মাঠে কোচ, সংগীত, কলা এইসব সর্বক্ষেত্রে আমরা গুরুকে পাই। এই সকল গুরুরা শিষ্যদের একটা স্তর পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারেন যা জাগতিক মানদন্ডে বিচার করা যায়। কিন্তু জাগতিক সবকিছু পেয়েও তো আমরা সুখী হতে পারছি না। শান্তি পাচ্ছি না। তাহলে উপায় স্বামীজি এক জায়গায় বলেছেন নিঃস্বার্থপরতাই আধ্যাত্মিকতা। তাই আমাদের আধ্যাত্মিক জীবনযাপন করতে হবে যদি শান্তি চাই। সদগুরু আমাদের শিখিয়ে দেন কেমন করে আধ্যাত্মিক জীবনযাপন করতে হবে। এরই প্রথম ধাপ হলো দীক্ষা। গুরুদেব শিষ্যকে যে মন্ত্রটি দেন সেটি জপ করতে হয়। মহাশক্তি সম্পন্ন এই মন্ত্র গুপ্ত রাখতে হয়। গুপ্ত থাকলে পক্ত হয়ে ক্রমে তা অসীম শক্তিশালী হয়ে ওঠে। মা বলেছেন, যদি শান্তি চাও মা কারো দোষ দেখো না। আমরা করে ঠিক উল্টোটা। আমি নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে দোষী সাব্যস্ত করি অপরকে। আসলে এটাই স্বাভাবিক। কারণ আমরা ছোট থেকে এমনটাই দেখে এসেছি। শিখে এসেছি। এই ধারণা বদলাতে না পারলে কিছুতেই শান্তি আসবে না। সুতরাং এমন একজনকে দরকার যিনি আমাদের শেখাবেন কিভাবে অন্যের দোষ দেখা বন্ধ করা যায়। কিভাবে স্বার্থপরতা ত্যাগ করে নিঃস্বার্থ হওয়া যায়।
Get free YouTube transcripts with timestamps, translation, and download options.
Transcript content is sourced from YouTube's auto-generated captions or AI transcription. All video content belongs to the original creators. Terms of Service · DMCA Contact