হযরত ইউসুফ (আঃ) কে কুয়াতে ফেলে দেওয়ার সম্পূর্ণ ঘটনা। | Story of Prophet Yusuf | Islamic Story

ইমানের আলো996 words

Full Transcript

আসুন আজ আমরা ডুব দিই ইতিহাসের সেই অধ্যায় যেখানে স্বপ্ন সত্যি হয়েছিল যেখানে ষড়যন্ত্রের জাল ছিড়ে বেরিয়ে এসেছিল এক ঐশ্বরিক আলো এ কাহিনী ধৈর্য বিশ্বস্ততা আর আল্লাহর সাহায্যের এক জীবন্ত দলিল এ হল আল্লাহর প্রিয় নবী হযরত ইউসুফ আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবিশ্বাস্য জীবনের গল্প কাহিনীটা শুরু হয় একটি স্বপ্ন দিয়ে এক রাতে বালক ইউসুফ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক অদ্ভুত স্বপ্ন দেখলেন। পরদিন সকালে নিষ্পাপ মুখে তিনি তার বাবা হযরত ইয়াকুব আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ছুটে গেলেন। বললেন আব্বাজান আমি স্বপ্নে দেখেছি 11 টি নক্ষত্র আর সাথে চাঁদ এবং সূর্য সবাই আমাকে সিজদা করছে। হযরত ইয়াকুব আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন একজন নবী। তিনি স্বপ্নের অর্থ বুঝতে পারলেন। ছেলের চোখে তিনি ভবিষ্যতের উজ্জ্বল আভা দেখতে পেলেন। কিন্তু সাথে সাথে তার মন এক আশঙ্কায় কেঁপে উঠলো। তিনি স্নেহভরে ইউসুফকে বললেন আমার প্রিয় সন্তান তোমার এই স্বপ্নের কথা ভুলেও তোমার ভাইদের বলো না কারণ শয়তান মানুষের প্রক্ষাশ্য শত্রু আর হিংসা মানুষের অন্তরকে অন্ধ করে দেয় কিন্তু যা ঘটার তা ঘটেই গেল কথাটি কোনভাবে পৌঁছে গেল বাকি 10 ভাইয়ের কানে তাদের মনে যে হিংসার আগুন আগে থেকেই জ্বলছিল তা যেন আরো দাউ দাউ করে জ্বলে উঠলো তারা একে অপরকে বলতে লাগলো দেখেছো আব্বাজন শুধু ইউসুফকেই ভালোবাসেন আমাদের কোন গুরুত্বই নেই এভাবে চলতে থাকলে আমরা কোনদিনও বাবার প্রিয় হতে পারবো না। আর সেদিন থেকেই বোনা হলো এক গভীর ষড়যন্ত্রের বীজ। তারা সিদ্ধান্ত নিল ইউসুফকে তাদের পথ থেকে সরিয়ে দিতে হবে। হয় তাকে হত্যা করা হবে অথবা এমন কোন দূরদেশে ফেলে আসা হবে যেখান থেকে সে আর কোনদিনও ফিরতে পারবে না। পরদিন তারা বাবার কাছে এসে একটি মিথ্যা আবদার করল। বলল, আব্বাজান আমরা ইউসুফকে নিয়ে খেলতে যেতে চাই। ও আমাদের সাথে থাকলে খুব মজা পাবে। হযরত ইয়াকুব আলাইহি ওয়াসাল্লামের মন ছাই দিচ্ছিল না। কিন্তু ছেলেদের বারংবার অনুরোধ আর আবেগের কাছে তিনি হার মারলেন। ভারী মনে তিনি অনুমতি দিলেন। কিন্তু হায় খেলার নামে তারা ইউসুফকে নিয়ে গেল এক নির্জন প্রান্তরে। সেখানে গিয়ে তাদের আসল রূপ বেরিয়ে এল। ভাইদের হিংস্র আচরণে ছোট্ট ইউসুফ কেঁদে বললেন, ভাই তোমরা আমার সাথে এমন কেন করছো? আমি তোমাদের কি ক্ষতি করেছি? কিন্তু তাদের পাষান হৃদয়ে কোন দয়া হলো না তাদের। তারা তাকে মারধর করে এক গভীর অন্ধকার কুয়ায় ফেলে দিল। ভাবতে পারেন সেই ছোট্ট শিশুটির মনের অবস্থা? অন্ধকারের গভীরে একা অসহায়। কিন্তু আল্লাহ কি তার প্রিয় বান্দাকে একা ছেড়ে দেন? কক্ষনোই না। ইউসুফ আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুয়ের গভীরে পড়ার আগেই আল্লাহ হযরত জিব্রাইল আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পাঠান। জিব্রাইল আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি পাথর দিয়ে তাকে রক্ষা করেন। এবং জানান যে আল্লাহ তার সাথেই আছেন। এদিকে ভাইরা এক নতুন নাটক সাজালো। একটি ছাগল জবাই করে তার রক্ত ইউসুফ আলাইহি ওয়াসাল্লামের জামাই মাখিয়ে নিল। রাতে কাঁদতে কাঁদতে তারা বাবার কাছে ফিরে এলো। বলল, আব্বাজান আমরা খেলার সময় ইউসুফকে রেখে একটু দূরে গিয়েছিলাম। আর এক নেকড়ে এসে তাকে খেয়ে ফেলেছে। এই দেখুন তার রক্তমাখা জামা। হযরত ইয়াকুব আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামাটি হাতে নিয়ে দেখলেন তাতে কোন ছেঁড়ার দাগ নেই। তিনি বুঝতে পারলেন এটি এক ভয়ঙ্কর মিথ্যাচার। তিনি দুঃখে ভেঙে পড়লেন। কিন্তু আল্লাহর উপর ভরসা হারালেন না। তিনি বললেন, আমি ধৈর্য ধরবো। আর আল্লাহই আমার একমাত্র সাহায্যকারী। ইউসুফের শোকে কাঁদতে কাঁদতে তার চোখের জ্যতি নিভে গিয়েছিল। অন্যদিকে কুয়র গভীরে দুই দিন কেটে গেল। একদিন এক ব্যবসায়ী কাফেলা সেই পথ দিয়ে যাচ্ছিল। তারা পানি তোলার জন্য কুতে বালতি ফেলল। আর বালতির সাথে উঠে এলো এক ফুটফুটে সুন্দর বালক। তারা তো অমাক ভাবল এ কোনো মানুষ নয় নিশ্চয়ই কোন ফেরেশতা কিন্তু ইউসুফের ভাইয়েরা দূর থেকে সব দেখছিল। তারা দৌড়ে এসে বলল ও আমাদের পালিয়ে যাওয়া গোলাম। এরপর সামান্য কিছু টাকার বিনিময়ে তারা নিজেদের আপন ভাইকে সেই কাফেলার কাছে বিক্রি করে দিল। কাফেলা ইউসুফকে নিয়ে মিশরের দিকে রওনা হলো। পথে একজন লোক তাকে চড় মারলে সাথে সাথে আল্লাহর গজব নেমে আসে। পুরো কাফেলা বিপদে পড়ে যায়। তখন তারা বুঝতে পারে এই বালক সাধারণ কেউ নয়। তারা ইউসুফের কাছে ক্ষমা চাইলে আল্লাহ তাদের বিপদ থেকে উদ্ধার করেন। অবশেষে কাফেলা পৌঁছালো মিশরে। সেখানে তখন দাস-দাসী কেনাবেচার হাট বস্ত। ইউসুফের সৌন্দর্যের কথা সারা শহরে ছড়িয়ে পড়ল। মিশরের তৎকালীন আজিজ অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী তাকে সর্বোচ্চ মূল্যে কিনে নিলেন তিনি তার স্ত্রী জুলাইখাকে বললেন এর সাথে সম্মানের সাথে ব্যবহার করবে হতে পারে সে আমাদের উপকারে আসবে অথবা আমরা তাকে পুত্র হিসেবেও গ্রহণ করতে পারি জুলাইখা ছিলেন অত্যন্ত রূপবতী কিন্তু হযরত ইউসুফ আলাইহি ওয়াসাল্লামের অকল্পনীয় সৌন্দর্য আর পবিত্র চরিত্র দেখে তিনি তার প্রতি অসৎভাবে আসক্ত হয়ে পড়লেন। দিনের পর দিন তিনি ইউসুফের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করতে লাগলেন। কিন্তু ইউসুফ আলাইহিস সালাম ছিলেন পবিত্রতার মূর্তি প্রতীক। তিনি কখনো জুলাইখার দিকে চোখ তুলেও তাকাননি। সাত বছর কেটে গেল জুলাইখার দৈর্্যচ্যুতি ঘটলো। একদিন সে এক ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা করল। সে সাতটি দরজা বিশিষ্ট একটি বিশেষ কক্ষ তৈরি করালো। এরপর একদিন ইউসুফকে কৌশলে সেই সপ্তম কক্ষে নিয়ে গিয়ে ভেতর থেকে এক এক করে সব দরজা বন্ধ করে দিল। সে ইউসুফকে পাপাচারে লিপ্ত হওয়ার জন্য আহ্বান জানালো। হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি দেখে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইলেন। তিনি বললেন হে আল্লাহ আমি এই জঘন্য কাজের চেয়েও কারাগারে থাকাও পছন্দ করি। তিনি বাঁচার জন্য দরজার দিকে দৌড় দিলেন। জুলাইখা তাকে পেছন থেকে ধরার চেষ্টা করলে তার জামার পেছনের অংশ ছিড়ে গেল। কিন্তু আল্লাহর কি মহিমা তিনি বিসমিল্লাহ বলতেই সেই সাতটি তালাবদ্ধ দরজা এক এক করে নিজে থেকেই খুলে গেল। শেষ দরজা খুলে বাইরে আসতেই তারা দেখলেন স্বয়ং আজিজ এ মিশর সামনে দাঁড়িয়ে। লজ্জা আর অপমানের ভয়ে জুলাইখা মুহূর্তেই খেলা ঘুরিয়ে দিল। সে চিৎকার করে আজিজকে বলল যে তোমার স্ত্রীর সাথে খারাপ উদ্দেশ্য করে তার শাস্তি কারাগার ছাড়া আর কি হতে পারে? আজিজ বিভ্রান্ত হয়ে পড়লেন। একদিকে তার বিশ্বস্ত ইউসুফ অন্যদিকে তার স্ত্রী। কে সত্য বলছে? তখন হযরত ইউসুফ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তিনিই আমাকে প্ররোচিত করেছেন। আমি পালিয়ে আসার সময় তিনি পিছন থেকে আমার জামা টেনে ছিনে ফেলেছেন। পরিস্থিতি যখন জটিল তখন ঘটলো এক অলৌকিক ঘটনা। আজিজের পরিবারের এক শিশু যে তখন দোলনায় শুয়া ছিল সে আল্লাহর হুকুমে কথা বলে উঠলো শিশুটি বলল যদি ইউসুফের জামা সামনের দিক থেকে ছেড়া থাকে তবে জুলাইখা সত্য বলছে আর যদি জামা পেছন দিক থেকে ছেড়া থাকে তবে ইউসুফবাদী এবং জুলাইখা মিথ্যা বলছে সবাই দেখল জামাটি পেছন দিক থেকেই ছেড়া সত্য প্রকাশ হয়ে গেল আজিজ বুঝতে পারলেন যে এটি তার স্ত্রীরই একটি ষড়যন্ত্র তিনি জুলাইখাকে ভৎসণা করলেন এবং ইউসুফকে বিষয়টি গোপন রাখতে বললেন কিন্তু এই ঘটনা কি এখানেই থেমে থাকবে নাকি এই ষড়যন্ত্র ইউসুফকে ঠেলে দেবে আরো বড় কোন পরীক্ষার দিকে?

Need a transcript for another video?

Get free YouTube transcripts with timestamps, translation, and download options.

Transcript content is sourced from YouTube's auto-generated captions or AI transcription. All video content belongs to the original creators. Terms of Service · DMCA Contact

হযরত ইউসুফ (আঃ) কে কুয়াতে ফেলে দেওয়ার সম্পূর্ণ ঘটনা। | ...