আল্লাহর লানত! এক রাতে পুরো একটি ধনী জাতি কীভাবে বানর হয়ে গেল? আসহাবে সাবতের ঘটনা।

ইমানের আলো2,226 words

Full Transcript

কল্পনা করুন গতকাল রাতেও যারা ছিল সুস্থ মানুষ আজ সকালে তারা হয়ে গেছে পশু। পাশের গ্রামের মানুষ যখন দেয়ালটোপকে ভেতরে ঢুকলো তারা ভয়ে পাথর হয়ে গেল। তারা দেখল বিছানায় মানুষের পোশাক পড়ে মানুষের গয়না পড়ে বসে আছে হাজার হাজার বানর। তারা কথা বলতে পারছে না। শুধু অঝরে কাঁদছে আর নিজেদের আত্মীয়দের পা জড়িয়ে ধরছে। মাত্র এক রাতে আল্লাহর একটি লানতে কিভাবে পুরো একটি ধনী জাতির চেহারা বিকৃত হয়ে বানরে পরিণত হলো। কি ছিল তাদের সেই ভয়ঙ্কর অপরাধ। ইতিহাসের সেই লোমহর্ষক ঘটনা জানতে ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখুন। লোহিত সাগরের তীরে বিশাল জলরাশির পাশে গড়ে উঠেছিল বনী ইসরাইলের এক সমৃদ্ধ জনপদ। তাফসীর কারকগণ বলেন জায়গাটির নাম ছিল আইলা বা বর্তমানের ইলাত সেখানকার মানুষের প্রধান পেশা ছিল মাছ ধরা সাগরের মাছ বিক্রি করেই তারা বিশাল ধনী হয়েছিল তাদের জীবন ছিল সুখের সম্পদের কোন কমতি ছিল না কিন্তু আল্লাহ যখন কাউকে সম্পদ দেন তখন তাকে পরীক্ষাও করেন আল্লাহ চাইলেন এই জাতিটিকে পরীক্ষা করতে তাদের ঈমানের গভীরতা মাপতে হযরত মূসা আলাইহিস সালামের শরীয়ত অনুযায়ী বনী ইসরাইলের জন্য সপ্তাহের একটি দিন ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট ছিল। সেই দিনটি ছিল শনিবার বা সাবাত। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাদের উপর কঠোর নির্দেশ জারি করলেন। তিনি বললেন, শোন সপ্তাহের ছয় দিন তোমরা যা খুশি করো মাছ ধরো, ব্যবসা করো। কিন্তু খবরদার শনিবার দিনটি শুধুই আল্লাহর ইবাদতের জন্য। এই দিনে তোমরা কোন দুনিয়াবী কাজ করতে পারবে না। বিশেষ করে সাগরে মাছ ধরতে পারবে না। যদি এই হুকুম অমান্য করো তবে তোমাদের উপর কঠিন আযাব নেমে আসবে। শহরের মানুষরা মেনে নিল। তারা ভাবলো এ আর এমন কি কঠিন কাজ। সপ্তাহে একদিন মাছ না ধরলে আমাদের কিছুই হবে না। কিন্তু শয়তান তো ও পেতে ছিল আর আল্লাহর পরীক্ষাও ছিল বড় অদ্ভুত। আল্লাহ তাদের পরীক্ষা করার জন্য প্রকৃতির নিয়মকে একটু বদলে দিলেন। সপ্তাহের ছয় দিন রবিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত জেলেরা জাল নিয়ে সাগরে যেত। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো এই ছয় দিন সাগরে কোন মাছ পাওয়া যেত না। জেলেরা সারাদিন পরিশ্রম করে খালি হাতে ক্লান্ত হয়ে ফিরে আসতো। সাগরের পানি থাকতো একদম ফাঁকা। মাছগুলো যেন ভোজবাজির মত উধাও হয়ে যেত। কিন্তু যখনই শুক্রবার সন্ধ্যা পার হতো এবং শনিবার বা সাবাত শুরু হতো তখনই ঘটতো এক অলৌকিক ঘটনা। শনিবার সকালবেলা সাগরের পানি মাছের ভিড়ে তোলপার হয়ে যেত। বিশাল বিশাল মাছ সাদা সাদা পেট বের করে পানির উপর ভেসে বেড়াতো। মাছগুলো এতটাই কাছে চলে আসতো যে মনে হতো হাত বাড়ালেই ধরা যাবে। তারা যেন জেলের সঙ্গে ঠাট্টা করতো। চোখের সামনে দিয়ে ভেসে বেড়াতো কিন্তু ধরার কোন উপায় ছিল না। কারণ আজ শনিবার। আজ মাছ ধরা হারাম। আবার যখন শনিবার সন্ধ্যা পার হয়ে রবিবার আসতো মাছগুলো আবার গভীর সমুদ্রে পালিয়ে যেত। মাসের পর মাস বছরের পর বছরেই পরীক্ষা চলতে লাগলো। জেলেদের পেটে ক্ষুধা, ঘরে দারিদ্র অথচ চোখের সামনে কোটি কোটি টাকার সম্পদ ভেসে বাড়াচ্ছে। তাদের নাফস বা লোভ আর ঠিক থাকতে পারছিল না। তারা সাগরের দিকে তাকায় আর দীর্ঘশ্বাস ফেলে। তাদের ঈমানের বাঁধন ধীরে ধীরে আলগা হতে শুরু করল। শয়তান তখন মানুষের রূপ ধরে অথবা তাদের মনে কুমন্ত্রণা দিয়ে তাদের কাছে এল। শয়তান তাদের এক অদ্ভুত এবং ধূর্ত বুদ্ধি শিখিয়ে দিল। শয়তান বলল, আরে বোকা জাতি তোমরা কেন কষ্ট করছো? আল্লাহ তো তোমাদের শনিবার মাছ ধরতে নিষেধ করেছেন তাই না? কিন্তু মাছ যদি তোমরা আটকে রাখো তাহলে তো কোন দোষ নেই। লোভী মানুষরা শয়তানের এই ফতোয়া লুফে নিল। তারা বলল, ঠিকই তো আমরা তো সরাসরি মাছ ধরবো না। আমরা শুধু আটকে রাখবো। তারা এক ভয়ঙ্কর ফন্ডি আটলো। তারা সাগরের তীরে বড় বড় গর্ত বা নালা তৈরি করল। শুক্রবার বিকেলে সূর্য ডোবার আগে তারা সেই নালাগুলোর মুখ খুলে দিত। এরপর শনিবার যখন জোয়ারের সাথে হাজার হাজার মাছ তীরের দিকে আসতো, তখন মাছগুলো সেই নালায় বা গর্তে ঢুকে পড়তো। মাছগুলো আটকা পড়ে যেত। শনিবার সারাদিন তারা মাছ ধরতো না। তারা দূর থেকে দেখতো আর হাসতো। মাছগুলো গর্তে লাফালাফি করত। এরপর রবিবার সকালবেলা তারা এসে সেই আটকে পড়া মাছগুলো তুলে নিত। আর মানুষকে গর্ব করে বলতো দেখেছো আমরা আল্লাহর হুকুমও মানলাম আবার মাছও পেলাম। আমরা তো শনিবার মাছ ধরিনি। আমরা তো রবিবার ধরেছি। তারা ভাবলো তারা আল্লাহকে ধোঁকা দিচ্ছে। তারা ভাবলো এই আইনি বাহানা করে তারা পার পেয়ে যাবে। আল্লাহর হুকুমকে নিয়ে তারা রীতিমত ছিনিমি খেলা শুরু করল। তাদের এই ধৃষ্টতা দেখে শহরের মানুষ তিন ভাগে ভাগ হয়ে গেল। প্রথম দল যারা এই পাপ কাজে লিপ্ত হলো। এরা ছিল লোভী এবং অবাধ্য। দ্বিতীয় দল যারা নিজেরা পাপ করত না কিন্তু অন্যদেরও বাধা দিত না। তারা বলতো বাদ দাও না। ওরা যা খুশি করুক আল্লাহ ওদের বুঝবে। তৃতীয় দল যারা ছিল মুমিন এবং সাহসী তারা চুপ থাকতে পারল না তারা শহরের মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলতে লাগলো হে আমার জাতি তোমরা একি করছ তোমরা আল্লাহকে ধোঁকা দিচ্ছ এটা তো সরাসরি মাছ ধরার চেয়েও বড় অপরাধ তোমরা আল্লাহর আজাবকে দাওয়াত দিচ্ছ পাপী লোকেরা তখন এই ভালো মানুষগুলোকে নিয়ে হাসাহাসি করতো তারা বলতো তোমরা কেন আমাদের জ্ঞান দিচ্ছ আমরা তো বুদ্ধিমান দেখো আমরা কত ধনী হয়ে গেছি আল্লাহ আমাদের কিছুই করছে না ভালো মানুষগুলো যখন দেখল এরা কোনভাবেই কথা শুনবে না তখন তারা একটি কঠিন সিদ্ধান্ত নিল তারা বলল আমরা এই পাপী সম্প্রদায়ের সাথে এক শহরে থাকবো না আল্লাহর গজব যখন আসবে তখন তা ভালোমন্দ বিচার করবে না তাই তারা শহরের মাঝখানে একটি উঁচু দেয়াল তুলে দিল একপাশে থাকলো আল্লাহর হুকুম মান্যকারী ভালো মানুষরা আর অন্যপাশে থাকলো সেই মাছ শিকারী পাপীরা অবশেষে সেই ভয়ঙ্কর রাতটি ঘুমিয়ে এল পাপীরা শনিবার রাতে প্রচুর মাছ খেয়ে উৎসব করে নাচ গান করে ঘুমাতে গেল। তারা জানতো না এটাই তাদের মানুষের রূপের শেষ রাত। তারা জানতো না আসমান থেকে আল্লাহর লানত বা অভিশাপ তাদের ঘরের ছাদ ভেদ করে নেমে আসছে। গভীর রাতে যখন সবাই ঘুমে অচেতন তখন হঠাৎ মাটির নিচ থেকে কোন শব্দ হলো না। আকাশ থেকে কোন বজ্রপাত হলো না। কিন্তু প্রতিটি মানুষের শরীরের কোষগুলো পরিবর্তন হতে শুরু করল। তাদের চামড়া কুচকে গেল। শরীরে বড় বড় লোম গজাতে শুরু করল। তাদের মেরুদন্ড বেঁকে গেল এবং পিছন দিক থেকে একটি লেজ বেরিয়ে এলো। সকাল হলো রবিবার সকাল। শহরের ওই পাশের অর্থাৎ ভালো মানুষদের এলাকায় সূর্য উঠলো। মানুষ ঘুম থেকে উঠে নামাজ পড়লো। কাজে বের হলো। কিন্তু দেয়ালের ওই পাশে অর্থাৎ গর্দিদের এলাকায় কোন শব্দ নেই। পিন পতন নীরবতা। না কোন দরজা খোলার শব্দ না কোন মানুষের গলার আওয়াজ। ভালো মানুষগুলো চিন্তিত হয়ে পড়ল। তারা ভাবলো ব্যাপার কি? ওরা কি সবাই মরে গেল? নাকি ওরা এতই ঘুমাচ্ছে? কৌতুহল দমাতে না পেরে কয়েকজন সাহসী যুবক মই বেয়ে সেই উঁচু দেয়ালের উপর উঠলো। দেয়ালের উপর থেকে তারা নিচের দিকে তাকাল আর তাকানোর সাথে সাথেই তাদের চোখ ভয়ে কপালে উঠে গেল। তাদের হাত পা কাঁপতে লাগল। তারা নিচে যা দেখল তা দেখার জন্য পৃথিবীর কোন মানুষ প্রস্তুত ছিল না। দেয়ালের উপর থেকে সেই যুবকরা দেখল নিচের শহরটি যেন একটি মৃত্যুপুরি নয় বরং একটি অদ্ভুত চিড়িয়াখানায় পরিণত হয়েছে। শহরের অলিগলি, দোকানপাট এবং ঘরবাড়ি আঙ্গিনায় হাজার হাজার প্রাণী উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। যুবকরা ভালো করে তাকালো। প্রাণীগুলো দেখতে অনেকটা বানরের মতো। কিন্তু ঠিক সাধারণ বোনের বানর নয়। তাদের শরীরের গঠন, তাদের বসার ভঙ্গি সবকিছুর মধ্যেই যেন মানুষের ছাপ রয়ে গেছে। যুবকদের হাত-পা তখনো কাঁপছে। তারা একে অন্যের দিকে তাকালো। তাদের বুঝতে বাকি রইল না যে আল্লাহর ওয়াদা সত্য হয়েছে। সেই যুবকরা দেয়াল থেকে নিচে নেমে দৌড়ে এল তাদের সম্প্রদায়ের মুরুব্বীদের কাছে। তাদের শ্বাস তখনো দ্রুত ওঠানামা করছে। তারা চিৎকার করে বলল, হে আমাদের কওম সর্বনাশ হয়ে গেছে। দেয়ালের ওই পাশে পাপীদের এলাকায় আর কোন মানুষ অবশিষ্ট নেই। আল্লাহ তাদের সবাইকে পশুতে পরিণত করে দিয়েছেন। এই খবর মুহূর্তের মধ্যে মুমিনদের এলাকায় আগুনের মত ছড়িয়ে পড়ল। সবাই ভীতস্ত হয়ে পড়ল। কৌতূহল এবং ভয়ের এক অদ্ভুত মিশ্রণ কাজ করতে লাগল। মুরব্বিরা সিদ্ধান্ত নিলেন, চলো, আমরা নিজের চোখে গিয়ে দেখে আসি আল্লাহর আজাবের স্বরূপ, যাতে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিতে পারে। তারা সবাই মিলে সেই দেয়ালের প্রধান গেটের কাছে গেল। অনেক বছর ধরে এই গেট বন্ধ ছিল। তারা কুঠার এবং হাতুড়ি দিয়ে সেই গেটের তালা ভেঙে ফেলল। বিশাল দরজাটি ক্যাচ ক্যাচ শব্দ করে খুলে গেল। মুমিনরা ভয়ে ভয়ে পা টিপে টিপে সেই অভিশপ্ত শহরের ভেতরে প্রবেশ করল। শহরের ভেতরে ঢোকার পর যে দৃশ্য তাদের সামনে ভেসে উঠলো তা কোন হরর মুভির চেয়েও ভয়ঙ্কর। তাফসীর ইবনে কাসীরে হযরত কাতাদা থেকে বর্ণিত আছে যে যুবকরা পাপ করেছিল তারা বানরে পরিণত হলো। আর যারা বয়স্ক বা বৃদ্ধ ছিল তাদের চেহারা শুকরে বিকৃত হয়ে গেল। পুরো শহরটি কান্নার আওয়াজে ভারী হয়ে উঠলো। কিন্তু সেই কান্না কোন মানুষের গলার আওয়াজ ছিল না। ছিল এক অদ্ভুত ক্যাচ ক্যাচ আর বোনানির শব্দ। মুমিনরা সেই অভিশপ্ত শহরের বাজারগুলোর দিকে তাকালো। গতকাল যেখানে মাছ বিক্রির ধুম পড়েছিল টাকার গরমে যেখানে পা ফেলা যেত না আজ সেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে পচা মাছ আর দুর্গন্ধ। সেই হারাম সম্পদ যা তারা এত কষ্ট করে জমিয়েছিল আজ সেটা ধুলোয়ে গড়াগড়ি খাচ্ছে। তাদের দালানকোঠা তাদের সোনাদানা সব পড়ে আছে কিন্তু ভোগ করার মত কেউ নেই আল্লাহ দেখিয়ে দিলেন হারাম সম্পদ মানুষকে শান্তি দেয় না বরং ধ্বংস ডেকে আনে বানরগুলো তাদের মুমিন আত্মীয়দের পিছনে পিছনে ঘুরতে লাগলো তারা মুমিনদের জামা ধরে টানতো তাদের পায়ের কাছে লুটিয়ে পড়তো তাদের চোখে ছিল বাঁচার আকুতি হয়তো তারা ভাবছিল তাদের আত্মীয়রা তাদের এই অবস্থা থেকে বাঁচাতে পারবে কিন্তু আল্লাহর ফয়সালা একবার হয়ে গেলে তা আর ফেরানো যায় না তাফসীরবিদগণ উল্লেখ করেন এই বানর হয়ে যাওয়া মানুষগুলো একে অপরকে চিনতে পারছিল। তারা যখন আয়নায় বা পানিতে নিজেদের ছায়া দেখতো তখন তারা ভয়ে এবং লজ্জায় চিৎকার করে উঠতো। তারা বিশ্বাস করতে পারছিল না যে তাদের সেই সুন্দর চেহারা সেই মানুষের অবয়ব কোথায় হারিয়ে গেল। তাদের হাতগুলো এখন লোমে ঢাকা। তাদের নোখগুলো বড় বড়। তাদের পেছনে এক লম্বা লেজ। সবচেয়ে করুণ বিষয় হলো তাদের ক্ষুধা এবং তৃষ্ণা। তারা মুমিনদের কাছে খাবার চাইতো ইশারা করত। কিন্তু তাদের গলার গঠন এমনভাবে বদলে গিয়েছিল যে তারা কোন খাবার গিলতে পারছিল না। পানি পান করতে পারছিল না। আল্লাহর আজাব তাদের এমনভাবে ঘিরে ধরেছিল যে দুনিয়ার কোন নিয়ামত আর তাদের পেটে যাচ্ছিল না। মুমিনরা তাদের এই অবস্থা দেখে চোখের পানি ধরে রাখতে পারলো না। তারা আফসোস করে বলতে লাগলো হায় কতবার তোমাদের সতর্ক করেছিলাম। কতবার বলেছিলাম আল্লাহর সাথে চালাকি করো না। তোমরা আমাদের বোকা বলতে, তোমরা আমাদের নিয়ে হাসাহাসি করতে। আজ দেখো কে জিতল আর কে হারলো। এভাবে একদিন দুইদিন কেটে গেল। তাদের আয়ু দ্রুত ফুরিয়ে আসছিল। এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হল। তাফসীরে এসেছে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এই বিকৃত জীবগুলোকে মাত্র তিনদিন হায়াত দিয়েছিলেন। এই তিনদিন ছিল তাদের জন্য দুনিয়ার বুকে এক জীবন্ত জাহান্নাম। তারা ক্ষুধার যন্ত্রণায় ছটপট করত। কিন্তু তাদের গলার গঠন বদলে যাওয়ার কারণে তারা কোন খাবার গিলতে পারতো না, তারা পানি পান করতে পারতো না। তাদের পেটের ভিতর আগুন জ্বলতো আর বাইরে ছিল অপমানের গ্লানি। তৃতীয় দিনের সূর্য যখন ডুবুডুবু তখন এক নীরব মৃত্যু সেই জনপদকে গ্রাস করতে শুরু করল। এক এক করে প্রতিটি ঘরে প্রতিটি রাস্তায় সেই বানরগুলো মাটিতে লুটিয়ে পড়তে লাগলো। কেউ তার ভাইয়ের পায়ের কাছে মরে পড়ে রইল। কেউ তার জমানো সম্পদের উপর মরে পড়ে রইল। তাদের চোখগুলো তখনো খোলা। কিন্তু তাতে আর কোন প্রাণ নেই। সূর্যাস্তের পর পুরো শহর আবার নিস্তব্ধ হয়ে গেল। কিন্তু এবারের নিস্তব্ধতা ঘুমের নয়। এবারের নিস্তব্ধতা মৃত্যুর। হাজার হাজার মানুষ যারা আল্লাহর হুকুমকে নিয়ে ঠাট্টা করেছিল যারা শয়তানের শেখানো বুদ্ধিতে মাছ স্বীকার করে নিজেদের চালাক ভেবেছিল মাত্র 72 ঘন্টার ব্যবধানে তারা পৃথিবী থেকে এমনভাবে মুছে গেল যেন তাদের কোন অস্তিত্বই ছিল না তাফসীরে এসেছে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন প্রবল বাতাস বা সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাস পাঠিয়েছিলেন। সেই বাতাস বা পানি তাদের মৃতদেহগুলোকে ভাসিয়ে নিয়ে গভীর সমুদ্রে ফেলে দিন। লোহিত সাগরের নীল জলরাশি তাদের পচা গলা দেহগুলোকে গিলে খেল। শহরে তাদের কোন কবর রইল না। কোন চিহ্ন রইল না। পড়ে রইল শুধু তাদের সেই খালি অট্টালিকাগুলো আর তাদের জমানো সেই অভিশপ্ত সম্পদ। মুমিনরা যারা দেয়ালের ওই পাশে ছিল তারা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করল যে আল্লাহ তাদের রক্ষা করেছেন। তারা বুঝতে পারল তাদের বেঁচে থাকার একমাত্র কারণ ছিল তারা অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছিল। তারা চুপ করে থাকেনি। লোহিত সাগরের তীরের সেই জনপদ আজ আর নেই। কিন্তু তাদের এই ঘটনা পবিত্র কুরআনের সূরা বাকারার 65 66 নম্বর আয়াতে এবং সূরা আল আরাফে কেয়ামত পর্যন্ত সব মানুষের জন্য এক জ্বলন্ত দলিল হয়ে আছে। আল্লাহ বলেছেন আমি এই ঘটনাকে তাদের সমসাময়িক এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য দৃষ্টান্ত এবং মুত্তাকীদের জন্য উপদেশ সলোপ বানিয়েছি। এখন প্রশ্ন হলো আমরা কি আসহাবে সাবদের মত আচরণ করছি না? সেই জাতি সরাসরি মাছ ধরেনি। তারা গর্ত করে মাছ আটকে রেখেছিল। তারা ভেবেছিল পদ্ধতিটা একটু ঘুরিয়ে দিলেই পাপ আর পাপ থাকে না। আজ আমরাও কি একই কাজ করছি না? সুদ খাওয়া হারাম তাই আমরা নাম দিয়েছি মুনাফা বা সার্ভিস চার্জ। ঘুষ খাওয়া হারাম তাই আমরা নাম দিয়েছি বকশিশ বা স্পিড মানি। অশ্লীলতা হারাম। কিন্তু আমরা ফ্যাশন বা সংস্কৃতির নাম দিয়ে বেহায়াপনাকে হালাল করে নিয়েছি। মনে রাখবেন আপনি নাম পাল্টালে আল্লাহর বিধান পাল্টায় না। আপনি মানুষকে ধোঁকা দিতে পারেন, রাষ্ট্রকে ধোঁকা দিতে পারেন। কিন্তু ইন্নাল্লাহা আলিমুন বিজাতি সুদুর অর্থাৎ নিশ্চয়ই আল্লাহ অন্তরের খবর জানেন। আল্লাহর সাথে চালাকি করার পরিণাম বড়ই ভয়াবহ। সেই শহরে তিন ধরনের মানুষ ছিল। পাপী, নীরব, দর্শক এবং প্রতিবাদকারী। কেবল প্রতিবাদকারীদেরই সম্মানের সাথে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। যারা পাপ করেনি কিন্তু পাপীদের দেখেও চুপ ছিল তাফসীরের অনেক মত অনুযায়ী তারাও ধ্বংসের হাত থেকে রেহাই পায়নি অথবা তাদেরও লাঞ্ছিত হতে হয়েছে। আজ আমাদের সমাজের চোখের সামনে অন্যায় হয় কিন্তু আমরা বলি আমার কি দরকার ঝামেলায় জড়ানোর। এই চুপ থাকাই আমাদের ধ্বংসের কারণ হতে পারে। তারা সম্পদের লোভে শনিবারের পবিত্রতা নষ্ট করেছিল। আমরাও আজ টাকার লোভে হালাল হারাম বাচ বিচার করি না। আমরা ভাবি টাকা থাকলে সব ঠিক। কিন্তু আসহাবে সাব্দের সেই বানরগুলোর দিকে তাকান। তাদের শরীরে দামি কাপড় ছিল। ঘরে সোনাদানা ছিল। কিন্তু সেগুলো তাদের বাঁচাতে পারেনি। হারাম সম্পদ দুনিয়াতেও শান্তি দেয় না। আখেরাতেও জাহান্নামের কারণ হয়। প্রিয় দর্শক, আসহাবে সাব্দের সেই খালি শহর আজও আমাদের ডাক দিয়ে বলছে, আল্লাহর হুকুম মানার মধ্যেই শান্তি। আল্লাহর সীমার বাইরে গেলেই ধ্বংস। শয়তান আপনাকে অনেক বুদ্ধি দেবে। অনেক শর্টকাট রাস্তা দেখাবে। কিন্তু সেই রাস্তার শেষ মাথায় আছে শুধুই লাঞ্ছনা আর অপমান। আসুন আমরা তওবা করি। আমাদের জীবনে যদি কোন শনিবারের মাছ শিকার মত বা আল্লাহর সাথে প্রতারণা থাকে তবে আজই তা ছেড়ে দিই। আল্লাহ আমাদের সবাইকে খাঁটি মুমিন হিসেবে কবুল করুন এবং আসহাবে সাবদের মত করুণ পরিণতি থেকে আমাদের ও আমাদের পরিবারকে হেফাজত করুন। আমিন ইয়া রব্বুল আলামিন

Need a transcript for another video?

Get free YouTube transcripts with timestamps, translation, and download options.

Transcript content is sourced from YouTube's auto-generated captions or AI transcription. All video content belongs to the original creators. Terms of Service · DMCA Contact

আল্লাহর লানত! এক রাতে পুরো একটি ধনী জাতি কীভাবে বানর হয়ে ...