একদিন হঠাৎ মক্কা নগরীতে প্রচন্ড ঝড় বৃষ্টি শুরু হলো। ঝড় বৃষ্টির প্রবল দাপটের কারণে মক্কা নগরীর আবে জামজাম কূপটি পানিতে পরিপূর্ণ হওয়ায় জামজম কূপ থেকে পানি ওঠা বন্ধ হয়ে গেল। তারপরে মক্কা নগরীতে প্রবল আকারে পানির সংকট দেখা দিল। কোথায়ও কোন পানির চিহ্ন মাত্র নেই। মক্কার মানুষেরা পানির জন্য এদিক ওদিকে ছোটাছুটি করতে লাগল। কিন্তু কোথাও পানির সন্ধান না পেয়ে একেবারে তারা দিশেহারা হয়ে পড়লেন। শিশু যুবক ও বৃদ্ধ সবাই পানির জন্য অসুস্থ হয়ে পড়লেন। তৎকালীন সময়ে মক্কা নগরীর নেতা ছিলেন হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাদা অর্থাৎ আব্দুল মুত্তালিব। পানির সংকটের জন্য দিশেহারা হয়ে তারা সবাই তাদের নেতা আব্দুল মুত্তালিবের কাছে উপস্থিত হলেন। আব্দুল মুত্তালিবের কাছে উপস্থিত হয়ে সবাই তাকে বললেন, আপনি আমাদের নেতা। আপনি যেভাবেই হোক আমাদের পানির ব্যবস্থা করুন। আপনি জমজম কূপ থেকে পানি উত্তোলন করার ব্যবস্থা করে দিন। আমাদের মনে হয় আপনি ছাড়া আর কেউই জমজম কূপ থেকে পানি উত্তোলন করার ব্যবস্থা করে দিতে পারবে না। উপস্থিতরা বললেন, আমরা যদি জমজম কূপ থেকে পানি না পাই তাহলে সবাই অসুস্থ হয়ে মারা যাব। এই কথা শুনে আব্দুল মুত্তালিব ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়লেন। তিনি মনে মনে ভাবতে লাগলেন কিভাবে জমজম কূপ থেকে পানি উত্তোলন করা যায় এবং কিভাবে পানি উত্তোলন করার ব্যবস্থা করা যায়। কিন্তু তিনি কোন চিন্তা করেই কুল কিনারা পেলেন না। কোন আলো দেখতে পেলেন না। তখন তিনি মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে দুইখানা হাত উত্তোলন করে দোয়া করলেন এবং বিভিন্ন ধরনের মান্নত করলেন। কিন্তু কোন দোয়া ও মান্নত আল্লাহর দরবারে কবুল হলো না। শেষ পর্যন্ত আব্দুল মুত্তালিব দিশেহারা হয়ে মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে দোয়া করে বললেন, হে মহান রাব্বুল আলামীন, আপনি জমজম কূপ থেকে পানি [মিউজিক] উত্তোলন করার ব্যবস্থা করে দিন। বিনিময়ে আমি আমার 10 সন্তানের মধ্য থেকে একটি সন্তানকে আল্লাহর রাস্তায় কুরবানী করে দেবো। আব্দুল মুত্তালিব যখন এই মান্নত করলেন তখন এই মান্নত কবুল হয়ে গেল। অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাদা যখন এই মান্নতটি করলেন তখন আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন তার মান্নতকে কবুল করে নিলেন এবং তার সাথে সাথেই জামজম কূপ থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি বের হতে লাগলো। জামজম কূপের পানি বের হতে দেখে মক্কাবাসীগণ অবাক হয়ে গেলেন এবং তারা আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়লেন। এরপর জমজম কূপের পানি বের হবার পরে সবাই সুখে শান্তিতে বসবাস শুরু করল। কিন্তু এই দিকে এই ঘটনার পরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দাদা আব্দুল মুত্তালিবের এই মান্নতের কথা মনে ছিল না। তিনি অবিরাম এই মান্নতের কথা ভুলে গেলেন। একদিন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাদা আব্দুল মুত্তালিব তার নিজের গৃহে ঘুমাচ্ছিলেন। তিনি স্বপ্নে দেখলেন মহান আল্লাহ তাআলা আব্দুল মুত্তালিবকে বলছেন, হে আব্দুল মুত্তালিব, তুমি কি ভুলে গেলে তুমি কি মান্নত করেছিলে? তুমি মান্নত করেছিলে যে জমজম কূপ থেকে পানি বের হলে তোমার 10 সন্তানের মধ্য থেকে একটি সন্তানকে তুমি আল্লাহর রাস্তায় কোরবানী করে দেবে তুমি তোমার মান্নত পূরণ করো তারপর এই স্বপ্ন দেখার পরে আব্দুল মুত্তালিব ঘুম থেকে জাগ্রত হলেন এবং উঠে বসে পড়লেন। তারপর তিনি চিন্তা করতে লাগলেন সত্যিই তো আমি মান্নত করেছিলাম যে জমজম কূপ থেকে পানি বের হলে আমি আমার 10 সন্তানের মধ্য হতে একটি সন্তানকে আমি আল্লাহর রাস্তায় জবাই করে দেব। কিন্তু আমি আমার মান্নতের কথা বেমালুম ভুলেই গিয়েছিলাম। আব্দুল মুত্তালিব তার এই স্বপ্নের কথা কারো সাথে প্রকাশ করলেন না। পরের দিন রাতের বেলা তিনি আবারো যখন ঘুমাচ্ছিলেন, আবারো স্বপ্নে দেখলেন, মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন তাকে বলছেন, হে আব্দুল মুত্তালিব, তুমি কি ভুলে গেলে, তুমি কি মান্নত করেছিলে? অতএব, তুমি তোমার মান্নত পূরণ করো। এবারও তিনি এই স্বপ্নের কথা কারো সাথে প্রকাশ করলেন না। পরের দিন আবারও যখন তিনি ঘুমাচ্ছিলেন, তখনও আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন তাকে বললেন, হে আব্দুল মুত্তালিব, তোমার কি মনে নেই যে তুমি কি মান্নত করেছিলে? তুমি তোমার মান্নত পূরণ করো। তুমি তোমার 10 সন্তানের মধ্যে হতে একটি সন্তানকে আল্লাহর রাস্তায় জবাই করে দিতে হবে। যদি আমি আমার মান্নত পূরণ না করি তাহলে 10 সন্তান মৃত্যুবরণ করবে এবং জমজম কূপ চিরদিনের জন্য পুনরায় বন্ধ হয়ে যাবে। আপনারা বলুন এখন আমি কি করতে পারি? তখন পন্ডিতগণ বললেন হে আব্দুল মুত্তালিব যেহেতু আপনি মান্নত করেছেন এবং মান্নত মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন পূরণ করে আপনাকে স্বপ্নে সেই মান্নত পূরণ করতে বলেছেন। তাহলে অবশ্যই আপনাকে আপনার 10 সন্তানের মধ্যে একজনকে আল্লাহর রাস্তায় জবাই করতে হবে। পন্ডিতগণের কথা শুনে আব্দুল মুত্তালিব অত্যন্ত চিন্তিত এবং পেরেশানি হয়ে পড়লেন। তিনি কি করবেন কিছুই ভেবে পাচ্ছিলেন না। তার 10 সন্তানের মধ্যে কাকে তিনি জবাই করবেন তাই তিনি ভেবে পাচ্ছিলেন না। কারণ তার 10 সন্তানই তার কাছে প্রিয় ছিল। তারপর তিনি কোন উপায় না পেয়ে পরের দিন তার সন্তানদেরকে ডাকলেন। আব্দুল মুত্তালিবের বড় সন্তান ছিলেন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু। আব্দুল [মিউজিক] মুত্তালিব প্রথমে তাকেই বললেন হে আমার পুত্র আমি মান্নত করেছিলাম যে জমজম কূপ থেকে পুনরায় পানি বের হলে আমি আমার 10 সন্তানের মধ্যে একটি সন্তানকে আল্লাহর রাস্তায় কোরবানী করে দেব এখন আমি কি করব এখন তুমি কি আমার সেই মান্নতটি পূরণ করবে তখন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু বললেন আব্বাজান এ কেমন মান্নত আমি আপনার এই মান্নত পূরণ করতে পারবো না আপনি আপনার অন্য সন্তানকে এই মান্নত পূরণ করতে বলুন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাদা অর্থাৎ আব্দুল মুত্তালিব তার দ্বিতীয় সন্তান আমির হামজাকে বললেন হে পুত্র তুমি আমার মান্নত পূরণ করো। তখন আমির হামজা বললেন আব্বাজান আপনি কেমন মান্নত করেছেন? আপনার মান্নতের জন্য আমি আমার জীবন দিতে পারবো না। আপনি আপনার অন্য সন্তানকে বলুন। এভাবেই আব্দুল মুত্তালিব একে একে সব সন্তানদেরকে বললেন কিন্তু কেউই এতে রাজি হলো না। বাকি ছিল তার একটি সন্তান। সেটি হলো তার সবচাইতে ছোট সন্তান যার নাম হল আব্দুল্লাহ। আব্দুল্লাহ ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিতা এবং আব্দুল মুত্তালিবের সবচেয়ে প্রিয় সন্তান। আব্দুল মুত্তালিব আব্দুল্লাহকে অনেক স্নেহ এবং আদর-যত্ন করতেন এবং তাকে অধিক পরিমাণে ভালোবাসতেন। যখন আব্দুল মুত্তালিবের কথায় তার নজন ছিলে রাজি হলো না তখন মুত্তালিব অত্যন্ত ব্যথিত হয়ে পড়লেন। তারপর আব্দুল্লাহ তার পিতার চিন্তিত মুখমন্ডল দেখে বললেন, আব্বাজান আপনার কি হয়েছে? আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না। আপনি কি নিয়ে এত চিন্তা করছেন? তখন আব্দুল মুত্তালিব তার সবচাইতে ছোট পুত্র রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিতা আব্দুল্লাহ কে বললেন হে প্রিয় সন্তান আব্দুল্লাহ আমি মান্নত করেছিলাম যে জমজম কূপ থেকে পুনরায় পানি বের হলে আমি আমার দশটি সন্তানের মধ্যে একটি সন্তানকে আল্লাহর রাস্তায় জবাই করে দিব কিন্তু দশটি সন্তানের মধ্যে হতে কেউই আমার এই মান্নত পূরণ করার জন্য রাজি হলো না এবং আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন বলেছেন হে আব্দুল মুত্তালিব তুমি যদি তোমার 10টি সন্তানের মধ্যে হতে একটি সন্তানকে আল্লাহর রাস্তায় জবাই না করো তাহলে তোমার 10 সন্তান মৃত্যুবরণ করবে এবং পবিত্র জমজম কূপের পানি পুনরায় বন্ধ হয়ে যাবে। এমনকি চিরদিনের জন্য সেই পানি ওঠা বন্ধ হয়ে যাবে। এখন আমি কি করব? তখন ছোট পুত্র আব্দুল্লাহ বলেন, আব্বাজান আপনি কোন চিন্তা করবেন না। আব্বাজান আমাকে আপনি আল্লাহর রাস্তায় জবাই করে আপনার মান্নত পূরণ করুন। আব্দুল মুত্তালিব তার ছোট পুত্র আব্দুল্লাহর কথাগুলো শুনে খুবই খুশি হলেন কিন্তু অন্যদিকে অত্যন্ত দুঃখ পেলেন। তার কারণ ছিল আব্দুল [মিউজিক] মুত্তালিবের অত্যন্ত প্রিয় সন্তান ছিল তার ছোট পুত্র আব্দুল্লাহ। প্রিয় সন্তান হারানোর ব্যথা তার হৃদয়ে বইতে লাগল। কিন্তু ছোট পুত্র আব্দুল্লাহকে জবাই না করলে আব্দুল মুত্তালিবের আর কোন উপায় ছিল না। কারণ আব্দুল্লাহকে জবাই না করলে তার 10 সন্তানকে হারাতে হবে এবং পবিত্র জমজম কূপের পানি পুনরায় বন্ধ হয়ে যাবে। এ কারণে হয়তোবা সকল মক্কাবাসীগণ পানির অভাবে মৃত্যুবরণ করবে। তারপর আব্দুল মুত্তালিব তার ছোট পুত্র আব্দুল্লাহকে নিয়ে কাবার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে গেলেন। কিছুক্ষণ পর তারা কাবার চত্তরে উপস্থিত হলেন। সেখানে সকল মক্কাবাসীগণ উপস্থিত হলেন। এদিকে আব্দুল্লাহকে জবাই করার খবর পেয়ে মক্কার অন্যান্য নারী-পুরুষ সবাই সেখানে উপস্থিত হলেন। সেখানে যে সকল নারীরা উপস্থিত ছিল তার মধ্যে একজন ছিলেন ওয়ারাকা বিন নওফেলের কন্যা মারিয়াম। ওয়ারাকা বিন নওফেল ছিলেন তৎকালীন তাওরাত কিতাবের পন্ডিত তার কন্যা ছিল মারিয়াম মারিয়ামও [মিউজিক] তাওরাত কিতাবে খুবই পারদর্শী ছিলেন তিনি জানতেন তাওরাত গ্রন্থে লেখা ছিল এই আব্দুল্লাহর ঔরসেই জন্ম নেবেন আখেরি নবী মাহবুবে আলম আল্লাহর প্রিয় হাবিব হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাই তিনি আব্দুল্লাহকে জবাই করতে মানা করলেন। কোন মতেই আব্দুল্লাহকে জবাই করতে দিতে চাইলেন না তিনি। আব্দুল মুত্তালিব কে বললেন আব্দুল্লাহকে কোন মতেই জবাই করা যাবে না। কারণ তাওরাত কিতাবে লিখিত আছে এই আব্দুল্লাহর ঔরসেই জন্ম নেবেন আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাদা আব্দুল মুত্তালিব মারিয়াম কে বললেন আমি মান্নত করেছিলাম যে জমজম কূপ থেকে পানি পুনরায় উত্তোলন হলে আমি আমার 10 সন্তানের মধ্য থেকে একটি সন্তানকে আল্লাহর রাস্তায় জবাই করে দেব সেই অনুযায়ী এখন যদি 10 সন্তানের মধ্য থেকে একটি সন্তানকে জবাই না করি তাহলে আমার 10 সন্তানকেই মৃত্যুবরণ করতে হবে এবং জমজম কূপ থেকে আবারো পানি ওঠা বন্ধ হয়ে যাবে তখন মারিয়াম বললেন, যাই হোক না কেন, আব্দুল্লাহকে কোন মতেই জবাই করা যাবে না। বিনিময়ে এই মক্কা নগরীতে রক্তের বন্যা বয়ে যাবে। তবুও আমরা আব্দুল্লাহকে জবাই করতে দেবো না। মারিয়াম বললেন, প্রয়োজনে আপনি আপনার অন্য সন্তানের মধ্য থেকে যেকোনো একটি সন্তানকে জবাই করেন। মারিয়ামের সঙ্গে সঙ্গে সকল মক্কাবাসীগণ বলে উঠল আমরা কোনমতেই আব্দুল্লাহকে জবাই করতে দেবো না। অপরদিকে অন্যান্য মক্কাবাসীগণ বলল, আমরা যদি আব্দুল্লাহর চেহারা দেখে ব্যবসা বা সফর করি, তাহলে আমাদের ব্যবসা ভালো হয়। হে আব্দুল মুত্তালিব, আপনার ছোট পুত্র আব্দুল্লাহকে আমরা কোন মতেই জবাই করতে দেবো না। তারপর আব্দুল মুত্তালিব কোন উপায় দেখতে না পেয়ে শেষ পর্যন্ত তাওরাত পন্ডিতের কাছে আবার চলে গেলেন এবং সমস্ত ঘটনাগুলি তাদেরকে খুলে বললেন। তখন তাওরাত পন্ডিত তার প্রশ্ন শুনে বললেন, আপনি এখন গিয়ে লটারির ব্যবস্থা করুন। এই লটারিতে উটের নাম লিখুন এবং আপনার ছোট পুত্র আব্দুল্লাহর নাম লিখুন। এই লটারিতে যার নাম উঠবে তাকে আপনি আল্লাহর রাস্তায় জবাই করে দিবেন। তারপর সকল মক্কাবাসীর সামনে আব্দুল [মিউজিক] মুত্তালিব লটারির ব্যবস্থা করে দিলেন। সেখানে উটের নাম লেখা হলো এবং আব্দুল্লাহর নাম লেখা হলো এবং এই দুইটি কাগজ তারা একটি পাত্রের ভিতরে দিয়ে দিল। যখন পাত্রের ভিতর থেকে কাগজটি তুলল তখন দেখা গেল আব্দুল্লাহর নাম উঠলো। এদিকে মক্কাবাসী কোনো মতেই আব্দুল্লাহকে জবাই করতে দিবে না। আবারো লটারির ব্যবস্থা করা হল এবং কাগজ তুলে দেখা গেল আবারো আব্দুল্লাহর নাম উঠল। এভাবেই লটারি করতে করতে 99 বার ওই পাত্র থেকে লটারির মাধ্যমে কাগজটি তোলা হলো। কিন্তু প্রতিবারই আব্দুল্লাহর নাম উঠলো। তারপর আব্দুল মুত্তালিব বললেন, "আর কোন উপায় নেই। এবার আমার প্রিয় আব্দুল্লাহকে জবাই করতেই হবে। যেহেতু আমি মান্নত করেছিলাম, তাই আমাকে মান্নত পূরণ করতেই হবে এবং মান্নত পূরণ করার জন্য আমাকে শেষ পর্যন্ত আমার প্রিয় পুত্র [মিউজিক] আব্দুল্লাহকে জবাই করতে হবে। আব্দুল মুত্তালিবের এই কথা শুনে তারপর তাওরাত পন্ডিতের কন্যা মরিয়ম বললেন, না আব্দুল্লাহকে জবাই করা যাবে না। আপনি আবারো নতুন করে লটারির ব্যবস্থা করুন। যতক্ষণ পর্যন্ত উটের নাম না ওঠে ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি লটারি চালিয়ে যাবেন। আবারো লটারির ব্যবস্থা করা হলো। একদম শেষ পর্যায়ে অর্থাৎ 100 বারের পর ওই লটারিতে উটের নাম উঠল। এবার সকল মক্কাবাসীগণ আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠলো। অন্যান্য সকলে খুশি হলো। কারণ তাদের প্রিয় আব্দুল্লাহকে আর জবাই করতে হবে না। এই ভেবে সবাই খুশিতে আত্মহারা হয়ে উঠলো। তারপর আব্দুল মুত্তালিব অত্যন্ত খুশি হয়ে 100 টি উট আল্লাহর রাস্তায় জবাই করে দিলেন। এদিকে আব্দুল্লাহ ধীরে ধীরে বড় হতে লাগলো। যখন তিনি বিবাহের উপযুক্ত হলেন তখন বহু জায়গা থেকে আব্দুল্লাহর জন্য বিবাহের সম্বন্ধ আসতে লাগলো। কারণ তৎকালীন সময়ে আব্দুল্লাহ ছিলেন সবচেয়ে সুন্দর পুরুষ। আব্দুল্লাহকে দেখে যে কারো ভালো লেগে যেত। আব্দুল্লাহকে পাওয়ার জন্য মক্কার রমণীরা অধীর হয়ে থাকতো। মক্কার রমণীরা মান্নত করতো আব্দুল্লাহকে স্বামী হিসেবে পাওয়ার জন্য। কারণ আব্দুল্লাহ ছিলেন অত্যন্ত সুন্দর, ভদ্র ও সৎ চরিত্রবান পুরুষ। প্রতিদিন আব্দুল্লাহর জন্য অনেক বিবাহের প্রস্তাব আসতো। কিন্তু কোনটাতেই রাজি হতেন না। কারণ আব্দুল মুত্তালিব তার বন্ধু ওয়াইব ইবনে আব্দুল মানা এর কাছে ওয়াদা করেছিলেন, তার কন্যার সাথে আব্দুল্লাহর বিবাহ দিবেন। ওয়াইবের কন্যার নাম ছিল আমিনা। তারা মদিনায় বসবাস করতেন। তারপর কিছুদিন পরে আব্দুল মুত্তালিব তার ছোট [মিউজিক] পুত্র আব্দুল্লাহকে নিয়ে মদিনার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে গেলেন। উদ্দেশ্য ছিল আব্দুল্লাহর সাথে আমেনার বিবাহ দেওয়া। আব্দুল্লাহ এবং আব্দুল মুত্তালিব যখন মদিনার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে গেলেন, তারা দেখল পথের ধারে দাঁড়িয়ে আছে তাওরাত কিতাবের পন্ডিত ওয়ারাকা বিন নাওফেলের কন্যা মরিয়ম। তিনি আব্দুল্লাহকে দেখে তার কাছে আসলেন এবং মরিয়ম বললেন ওহে আব্দুল্লাহ কিছু বছর পূর্বে তোমার পিতার মান্নত পূরণ করার জন্য তোমার পরিবর্তে যে 100 টি উট কোরবানী দিয়েছিলেন আজ আমি শপথ করে বলছি সেই 100 টি উট তোমার পক্ষ থেকে আমি তোমার পিতাকে দিয়ে দেব কিন্তু আমার একটা প্রস্তাব রয়েছে তার বিনিময়ে তুমি আমাকে বিবাহ করো কিন্তু আব্দুল্লাহ সৎচরিত্রবান ও ভদ্র ও লাজুক হওয়ায় মরিয়মের এই প্রস্তাবে কোন উত্তর দিলেন না আব্দুল্লাহ শুধু বললেন আমি আমার পিতার সঙ্গে আছি। পিতাকে ছেড়ে অন্যত্র যাওয়া কিংবা পিতার কথার অবাধ্য হওয়া আমার পক্ষে কখনো সম্ভব নয়। এই কথা বলে আব্দুল্লাহ তার পিতার সঙ্গে মদিনার উদ্দেশ্যে আবার রওনা হলেন। দীর্ঘ পথ অতিক্রম করার পরে মদিনায় ওয়াব ইবনে আব্দুল মানাফের বাড়িতে পৌঁছে গেলেন। তৎকালীন সময়ে ওয়াব ইবনে আব্দুল মানাফ মদিনার সম্মানীয় বংশের ছিলেন এবং তার মর্যাদা ছিল ভালো। তিনি তার গোত্রের সর্দার ছিলেন। তারপর আলাপ আলোচনার মধ্য দিয়ে তার কন্যা আমিনার সঙ্গে আব্দুল মুত্তালিবের পুত্র আব্দুল্লাহর বিবাহ হয়ে যায়। এদিকে আমিনা ছিল তার সম্প্রদায়ের মহিলাদের নেত্রী। অনেক ঐতিহাসিক লিখেছেন আব্দুল্লাহ বিবাহের পর তার শ্বশুরবাড়িতে তিন দিন পর্যন্ত অবস্থান করেন তারপর আব্দুল্লাহ আমিনাকে বিবাহ করে নিজ গৃহে নিয়ে আসেন তারপর আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মা আমিনার গর্ভে আসেন আব্দুল্লাহর বিবাহের অনেকদিন পরে তিনি কোথাও যাচ্ছিলেন। তখন দেখলেন তাওরাত কিতাবের পন্ডিত ওয়ারাকা বিন নওফেলের কন্যা মরিয়ম সেখানে দাঁড়িয়েছিলেন। মরিয়ম জানতেন না [মিউজিক] ইতিমধ্যেই আব্দুল্লাহর বিবাহ হয়ে গেছে আব্দুল্লাহকে দেখে মরিয়ম তার কাছে আসলেন এবং আব্দুল্লাহর চেহারার দিকে তাকিয়ে তিনি আর কিছু না বলে মরিয়ম আবারও তার গৃহের দিকে ফিরে গেলেন। এই ঘটনা দেখে আব্দুল্লাহ কিছুটা অবাক হয়ে মরিয়ম কে জিজ্ঞেস করলেন, "হে মরিয়ম, সেদিন তুমি আমাকে বিবাহের জন্য প্রস্তাব দিয়েছিলে কিন্তু আমাকে দেখে আজ কিছু না বলে কেন এরকম ভাবে চলে যাচ্ছো? এর কারণ কি আমি জানতে পারি? তখন মরিয়ম বললেন তুমি বিয়ে করেছ ইতিমধ্যেই তুমি অন্য এক নারীর স্বামী তোমার চেহারায় পরিবর্তন ঘটেছে এটা আমি স্পষ্ট দেখতে পেয়েছি আমি সেদিন তোমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলাম তার কারণ হল তোমার ললাটে এক উজ্জ্বল নূর ছিল সেই নূরের জ্যতি যেমন তেমন ছিল না এর আগে কখনোই কোন পুরুষের ললাটে এমন দেখিনি কিন্তু আজ তোমার ললাটে সেই নূর দেখতে পাচ্ছি না এর কারণ হচ্ছে এখন এটার অধিকারিনী [মিউজিক] হল তোমার সৌভাগ্যবতী স্ত্রী। সুতরাং এখন আমার আর তোমার কোন প্রয়োজন নেই। এই কথা বলা শেষ হলে মরিয়ম সেখান থেকে চলে গেল। অতঃপর আব্দুল্লাহ বাড়ি ফিরলেন। তারপর থেকে আব্দুল্লাহ ও আমিনা সুখে শান্তিতে সংসার করতে লাগলেন। কিছুদিন পরে আব্দুল মুত্তালিব আব্দুল্লাহকে খেজুর আনার জন্য সুদূর মদিনায় পাঠান। খেজুর নিয়ে আসার সময় আব্দুল্লাহ কুরাইশদের একটি বাণিজ্য [মিউজিক] কাফেলার সঙ্গে সফর করেছিলেন। কিন্তু পথেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লেন। যার ফলে আব্দুল্লাহ মদিনায় [মিউজিক] অবতরণ করেন এবং সেখানেই তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আব্দুল্লাহ যখন ইন্তেকাল করেন প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন আমিনার গর্ভে ছিলেন। বিশ্বজাহানের সর্দার সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 570 খ্রিস্টাব্দে রবিউল আউয়াল মাসে জন্মগ্রহণ করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্মের সময় পৃথিবীতে এমন কিছু অলৌকিক ঘটনা ঘটেছিল যা সবাইকে অবাক করে শ্রেষ্ঠ নবীর আগমনকে মানুষের সামনে স্পষ্ট করে দেয়। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মের কিছুদিন আগে আব্রাহার হস্তি বাহিনীর বিনাশ ঘটে। আসহাবে ফিল অর্থাৎ আব্রাহার হস্তি বাহিনী খানা কাবার উপর আক্রমণ করেছিল এবং আল্লাহ তাআলা তাদেরকে আবাবিল নামক কিছু ক্ষুদ্র পাখি দ্বারা ধ্বংস করেছিলেন। এই ঘটনাটি বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মের বড় বরকতের পটভূমি ছিল বলে সিরাতের কিতাবগুলোতে উল্লেখ রয়েছে। হযরত ওসমান ইবনে আব্দুল্লাহ আস রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর মা হযরত ফাতেমা বিনতে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্মের মুহূর্তে আমি মা আমিনার কাছে ছিলাম। আমি দেখলাম বিবি আমেনার ঘরটি আলোয় আলোকিত হয়ে গেল এবং আকাশের সব তারকা নিচের দিকে ঝুকে পড়ল। আমার মনে হতে লাগলো তারকাগুলো যেন আমার উপর এসে পড়ছে। বিশ্বনবীর জন্মক্ষণে একদিকে পৃথিবীর [মিউজিক] মূর্তিশালায় নবুয়তের সূর্যোদয় অপরদিকে পারস্য সম্রাট কিশরার রাজপ্রাসাদে ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়। এই ভূমিকম্পের দরুণ রাজপ্রাসাদের 14 টি গম্বুজ ভেঙে গুড়িয়ে যায়। পারস্যের এক অগ্নিকুন্ড যা 1000 বছরব্যাপী বিরতিহীনভাবে জ্বলছিল তা সেই শুভ মুহূর্তে হঠাৎ নিভে যায়। সাবা নামক এক নদীতে যথারীতি [মিউজিক] পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। বিশ্বনবীর আগমনের মুহূর্তে হঠাৎ তার অনেক জলরাশি শুকিয়ে যায়। এটা ছিল অগ্নিপূজা সহ সব ভ্রান্তির অবসরের ইঙ্গিত। সহি হাদিসে বর্ণিত, জন্মের সময় বিশ্বনবীর মায়ের পেট থেকে এমন একটি নূরের বিচ্ছুরণ ঘটেছিল, যার আলোকে পূর্ব থেকে পশ্চিম দিগন্ত পর্যন্ত সবকিছুই আলোকিত হয়ে গিয়েছিল। কোন কোন বর্ণনায় পাওয়া যায় বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ভূমিতে আবির্ভূত হলেন তখন উভয় হাতের উপর ভর দিয়েছিলেন তারপরে এক মুষ্টি মাটি দিয়ে আকাশের দিকে দৃষ্টিপাত করলেন। হযরত ইবনে সুফিয়ান বর্ণনা করেন হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা বললেন, বিশ্বনবীর জন্মগ্রহণের সময় এক ইহুদি ব্যবসার উদ্দেশ্যে মক্কা নগরীতে বসবাস করত। যে রাতে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পৃথিবীতে আগমন করেন সেই রাতের পরবর্তীকালে সে কুরাইশদের কাছে জিজ্ঞেস করল গত রাতে এই এলাকাতে কোন শিশুর জন্ম হয়েছে কি? উপস্থিত কুরাইশের লোকেরা বলল এ বিষয়ে আমরা কিছুই জানিনা। লোকটি বলল তোমরা এই বিষয়টির অনুসন্ধান করো। কেননা এই রাতে বর্তমান উম্মতের নবী ভূমিষ্ঠ হয়েছে। তাদের মধ্যবর্তী স্থানে একটি বিশেষ নিদর্শন অর্থাৎ মোহরে নবুয়ত রয়েছে। জন্মের পর শিশুটির মুখে জিব আঙ্গুল পুড়ে রাখার ধরণ শিশুটি দুদিন ধরে কারো দুধ পান করবে না। কুরশের লোকেরা সন্ধান করে জানতে পারল যে আব্দুল্লাহর এক পুত্র সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়েছে। ইহুদিকে সংবাদ জানানো হলে সেও শিশুটিকে দেখার জন্য আগ্রহ জানাল এবং সে বলল চলো আমিও শিশুটিকে দেখব ইহুদি লোকটি যখন শিশুটিকে দেখল এবং তার দুই কাঁধের মাঝে মোহরে নবুয়তের নিদর্শন দেখতে পেল তখন সে চিৎকার করে বেহুশ হয়ে গেল হুশ ফিরে আসার পর লোকটি বলল নবুয়ত বনী ইসরাইল থেকে আজ থেকে শেষ হয়ে গেল হে কুরাইশ সম্প্রদায় ভবিষ্যতে এই শিশু তোমাদের প্রতি এমন এক আক্রমণ পরিচালনা করবে যার সংবাদ পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়বে। এছাড়া আরো অনেক আশ্চর্যজনক ঘটনা সিরাতের পাতায় পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে। আসুন আমরা বিশ্বনবীর চরিত্র লক্ষ্য করে আমাদের জীবন গড়ি। তাহলে এই পৃথিবী থেকে সমস্ত অন্ধকার দূরিভূত হয়ে আসবে। আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন যেন আমাদের সকলকে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামেরর দেখানো পথে চলার তৌফিক দান করেন। সকলেই কমেন্ট বক্সে লিখুন [মিউজিক] আমিন।
Get free YouTube transcripts with timestamps, translation, and download options.
Transcript content is sourced from YouTube's auto-generated captions or AI transcription. All video content belongs to the original creators. Terms of Service · DMCA Contact