সে অনেক পুরনো দিনের কথা। বাগদাদ শহরের গলিগুলোতে ধুলবালি নরম বাতাসের সাথে উড়তো এবং চারিদিকে ঘরবাড়ির সোনালী রং আর ছাদে সূর্যের আলোর ছাপ দেখা যেত। সেখানে এক ধনী বনিক বাস করতেন যার নাম ছিল হামিদ শাহ। আল্লাহ তাকে অগন্তি সম্পদের নেয়ামত দান করেছিলেন। বাড়ি জমি সম্পত্তি সবকিছুর প্রাচুর্য ছিল। কিন্তু সন্তানের দিক থেকে তার কপালে কেবল একটি ছেলের ভাগ্য জুটেছিল। যার নাম ছিল শাহজাদ। হামিদ শাহ তার একমাত্র পুত্রকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন। কিন্তু ভালোবাসার পাশাপাশি তিনি শাহজাদের শিক্ষায় বা তরবিয়তে কখনো কোন ত্রুটি রাখেননি। তিনি প্রায়শই তার ছেলেকে জীবনের নীতি বোঝাতে গিয়ে বলতেন, বাবা এই যে সম্পদ তুমি দেখছো এতো জলের বুদবুদের মত। আজ আছে কাল নেই। দুনিয়া কারো বিশ্বস্ত নয়। আজ হাসায় কাল কাঁদিয়ে দেয়। আসল সম্পদ হলো জ্ঞান আর বিচক্ষণতা। শাহজাদ ছোটবেলা থেকেই বাবার উপদেশ মন দিয়ে শুনতো। সময় কাটতে থাকলো এবং শাহজাদ যুবক হলো। তার মন আর মস্তিষ্কে এখন পৃথিবীর বাস্তবতা ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছিল। যখন তার বিবাহের সময় এলো হামিদ শাহ তাকে একান্তে বসালেন। হৃদয়ের গভীর থেকে ছেলেকে উপদেশ দিয়ে বললেন, বাবা এখন তুমি বিয়ে করতে চলেছো। আমি তোমাকে এমন একটি রহস্য বলবো যা আমার বাবা আমাকে বলেছিলেন। শোনো এবং মনোযোগ দিয়ে শোনো। শাহেজাদ সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে তার পিতার কথা শুনল। হামিদ শাহ গাম্ভীর্যের সাথে এগিয়ে বললেন, তুমি যে মেয়েকেই বিয়ে করো না কেন? প্রথম রাতে তাকে একটি প্রশ্ন অবশ্যই করবে। এমন কখন হয় যে এক টাকা দু টাকার চেয়েও বেশি মূল্যবান হয়ে যায়। যদি সে সঠিক উত্তর দেয় তবে বুঝে নেবে সে বিচক্ষণ এবং ধর্মপরায়ণ নারী। কিন্তু যদি সে উত্তর দিতে না পারে তবে বাবা কিছু না ভেবেই তাকে তালাক দিয়ে দিও। এই উত্তর কেবল সেই নারীই জানে যে জ্ঞানী এবং খোদাভীরু হয়। শাহজাদ মাথা নেড়ে পিতার কথা মেনে নিল। যদিও বিষয়টি তার কাছে কিছুটা অদ্ভুত এবং কঠিন মনে হল। কয়েকদিন পর হামিদ শাহ শাহজাদের বিয়ের জন্য প্রতিবেশী এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়েকে মনোনীত করলেন। বিয়ের রাতে কোনের সুন্দর আগমনে অনুষ্ঠান আলোকিত হয়ে উঠল। শাহজাদ মনে মনে পিতার উপদেশ স্মরণ করে বিনয়ের সাথে জিজ্ঞাসা করল একটু বলতো এমন কখন হয় যে এক টাকা দু টাকার চেয়েও বেশি মূল্যবান হয়ে যায় মেয়েটি কয়েক মুহূর্তের জন্য চিন্তায় পড়ে গেল তার চোখে কিছু অস্বস্তি ছিল কিন্তু সে উত্তর দিতে পারল না শাহজাদের মনে হতাশার ঢেউ উঠলো কিন্তু সে বাবার উপদেশের অনুযায়ী পরের দিনই তাকে তালাক দিয়ে দিল মেয়েটি নিজের বাড়িতে ফিরে গেল এবং শাহজাদ মনে মনে তার এই সিদ্ধান্তের উপর চিন্তা করতে থাকল কয়েক মাস পর আরেকটি বিয়ের প্রস্তাব এল। শাহেজাদ মনে মনে স্থির করল যে এবারও সে একই প্রশ্ন করবে। বিয়ের রাতে একই দৃশ্য পুনরাবৃত্তি হল এবং ফলাফলও একই হল। দ্বিতীয় স্ত্রীও উত্তর দিতে পারলো না এবং তালাক পেল। এবার শাহজাদের মনে দুশ্চিন্তা জায়গা করে নিল। তার মনে হলো প্রশ্নটি হয়তো সহজ নয় এবং নারীরা সবসময় প্রত্যাশা অনুযায়ী উত্তর দিতে পারে না। একদিন শাহজাদ তার দোকানে বসেছিল। যখন হঠাৎ একটি সুন্দরী মেয়ে দোকানে প্রবেশ করল। তার চোখে অদ্ভুত এক দুতি ছিল যেন জ্ঞানের আলো তার ভেতর থেকে ঝিলিক দিচ্ছিল। শাহজাদ তাকে দেখেই থেমে গেল। আপনার কি দরকার? শাহজাদ বিনয়ের সাথে জিজ্ঞাসা করল। মেয়েটি হেসে বলল, কিছু জিনিস দরকার ছিল। আমার নাম নারগিস। সেদিন থেকে নারগিস প্রায়শই দোকানে আসতে শুরু করল। তাদের মধ্যে কথাবার্তা বাড়তে লাগলো এবং শাহজাদ তার বুদ্ধিমত্তা ও সৌন্দর্যে মুগ্ধ হলো। মনে ভালোবাসা জাগলো এবং সে ভাবল এবার আমি নারগিসকেই বিয়ে করব। এবং এইবার আমি সেই বোকার মত প্রশ্নটি করবো না। আল্লাহ যা চাইবেন তাই হবে। কিন্তু বিয়ের পর শাহজাদের অভ্যাস তাকে বাধ্য করল এবং সে ইতস্তত করে নারগিসকে সেই প্রশ্নটি জিজ্ঞাসা করল। নারগিস নীরবতা অবলম্বন করল। উত্তর দিল না। মন ভারী হলো। কিন্তু এবার শাহজাদ ভালোবাসার কারণে তার সঙ্গ ছাড়তে প্রস্তুত ছিল না। সে তালাক দিল না। যখন হামিদ শাহ জিজ্ঞাসা করলেন, বাবা তোমার স্ত্রী কি উত্তর দিল? তখন শাহজাদ মিথ্যা বলল। আব্বাজান সে একেবারে সঠিক উত্তর দিয়েছে। হামিদ শাহ খুশি হলেন এবং মনে মনে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলেন যে তার ছেলের বিয়ে ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কিছুদিন পর একদিন শাহজাদ বাজারে গিয়েছিল। হামিদ শাহ নারগিসকে ডেকে ঘরের একটি অন্ধকার কোঠায় নিয়ে গেলেন। সেখানে একটি গোপন কুঠুরি ছিল যেখানে সোনা এবং মূল্যবান হীরায় ভরা একটি গুপ্তধন সুরক্ষিত ছিল। নারগিসের চোখ চকচক করে উঠল। হামিদ শাহ গাম্ভীর্যের সাথে বললেন এই গুপ্তধন আমি শাহজাদের জন্য সুরক্ষিত করে রেখেছি কিন্তু আমার ভয় হয় যে সে এর কদর করবে না এই গোপন কথাটি কেবল আমার আর তোমার মধ্যে থাকবে শাহজাদকে তখনই দেখাবে যখন প্রকৃত প্রয়োজন হবে আমি তোমার উপর ভরসা করি নারগিস ওয়াদা করল যে সে রাজটি সুরক্ষিত রাখবে এবং শাহজাদের প্রতি বিশ্বস্ত থাকবে মনে একটি ছোট্ট লোভ জাগল তবে তবে সে শ্বশুর মশাইয়ের বিশ্বাসের প্রতি বিশ্বস্ত থাকার সংকল্প করল। সময় কাটতে থাকলো এবং নারগিস তার শ্বশুরের সেবায় কখনো কোন ত্রুটি রাখতো না। তার আচরণে সবসময় একটি কৃত্রিম নম্রতা ও বাধ্যতার ঝলক দেখা যেত। সে শাহজাদের সামনেও নম্রতা ও আদবের সাথে উপস্থাপন করত এবং সব কথা সামলে রাখতো। হামিদ শাহ তার উপর সম্পূর্ণ ভরসা করে নিয়েছিলেন। মনে মনে তিনি সন্তুষ্ট ছিলেন যে মেয়ের মতোই নারগিস তার জায়গায় অটল আছে এবং শাহজাদের খেয়াল রাখবে। কিন্তু হামিদ শাহ এই পৃথিবী ছেড়ে যেতেই নারগিস তার আসল চেহারা দেখানো শুরু করল। এখন সে শাহজাদের কাছে সবসময় টাকা, গয়না এবং নতুন কাপড়ের দাবি করত। তার প্রতিটি কথায় একটি লুকানো লোভ আর স্বার্থপরতা ঝিলিক দিত। শাহজাদ তার স্ত্রীকে খুব ভালোবাসতো। তাই কখনো অস্বীকার করত না। নারগিস যা চাইতো সে বিনা দ্বিধায় দিয়ে দিত। কিন্তু এই উদারতা শীঘ্রই দুজনের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠল। নারগিসের আকাঙ্ক্ষা এবং দাবির তীব্রতার কারণে কয়েক মাসের মধ্যেই হামিদ শাহের রেখে যাওয়া সমস্ত সম্পদ শেষ হয়ে গেল। প্রতিটি সোনা, প্রতিটি গয়না, প্রতিটি টাকা নারগিসের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী ব্যবহৃত হল। যখন নারগিস দেখল যে এখন শাহজাদের কাছে আর কিছু বাকি নেই এবং পরিস্থিতি খারাপ হয়ে গেছে তখন সে গুপ্তধনের রহস্যটি নিজের মনে লুকিয়ে রাখল। সে জানতো যে যদি সে এই রহস্য ফাঁস করে দেয় তবে তার উদ্দেশ্য পূরণ হবে না। শাহজাদের ভালোবাসা ও বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে সে স্বার্থপরতার পথ বেছে নিল। শাহজাদের দোকানেও এখন আগের মত জৌলুস ছিল না। ক্রেতা কমে গেল এবং ব্যবসা পুরোপুরি মন্দা পড়ে গেল। বাধ্য হয়ে সে বাকি থাকা জিনিসপত্র সস্তা দামে বিক্রি করে দিল যাতে খাওয়া-দাওয়া এবং ঘরের দৈনন্দিন খরচের ব্যবস্থা করা যায়। প্রতিটি দিন তার জন্য একটি নতুন পরীক্ষা হয়ে উঠলো। অবশেষে দোকান বন্ধ করতে হল। যখন শাহজাদের কাছে একেবারেই টাকা রইলো না তখন সে বাজারে গিয়ে শ্রমিকদের সাথে দাঁড়িয়ে গেল। মনে এক দুর্বল আশার আলো ছিল যে কোথাও কোন কাজ যদি মিলে যায়। গতকাল পর্যন্ত আরাম আয়েশের জীবন কাটানো শাহজাদ আজ নিজেকে মাটিতে পা রেখে কঠোর পরিশ্রম করতে দেখছিল। মনে আফসোস আর অসহায়ত্বের ঢেউ উঠছিল। নারগিস এই অবস্থা দেখে আরো নির্লজ্য হয়ে গেল। সে একজন কসাইয়ের সাথে সম্পর্ক তৈরি করল যে তাকে মাংস দিত এবং সে শাহজাদের অনুপস্থিতিতে রান্না করে খেত। শাহজাদকে শুধু রুটি আর তেল পেত। নারগিস শাহজাদ আর তার পিতার সমস্ত কৃতজ্ঞতা একেবারে ভুলে গিয়েছিল। আর তার বিশ্বাসঘাতকতা প্রতি মুহূর্তে স্পষ্ট হচ্ছিল। একদিন এক লোক শাহজাদকে মজুরির জন্য ডাকল। সে কিছু রাজমিস্ত্রীর সাথে কাজ করবে। সৌভাগ্যক্রমে এই লোকটি ছিল হামিদ শাহের পুরনো বন্ধু। তিনি শাহজাদকে শুধু কাজই দিলেন না দ্বিগুন মজুরিও দিলেন এবং খাবারের জন্যও আমন্ত্রণ জানালেন। যখন শাহজাদ দস্তরখানে বসলো লোকটি অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করল আমি তোমার পিতাকে খুব ভালো করে জানতাম কিন্তু এই বলো তুমি এই মজুরি কেন করছো এই কাজ তোমার যোগ্য নয় তোমার পিতা তো তোমার জন্য অনেক সম্পদ রেখে গিয়েছিলেন। শাহজাদ মন খুলে তার পুরো গল্প শোনালো। প্রতিটি দুঃখ আর প্রতিটি ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করল। হামিদ শাহের বন্ধু মনোযোগ দিয়ে শুনলেন এবং তারপর মাথা নেড়ে বললেন শাহজাদ আমার বিশ্বাস হয় না যে তোমার সম্পদ এত তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল তোমার পিতা তো শহরের সবথেকে ধনী বনিকদের মধ্যে ছিলেন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে তিনি তোমার থেকে কোন গুপ্তধন লুকিয়ে রেখেছেন। হয়তো তিনি ভেবেছিলেন যে তুমি তা নষ্ট করে ফেলবে। আর আমার সন্দেহ হয় যে তিনি এই রাজটি তোমার স্ত্রীকে বলে দিয়েছেন। শাহজাদ অবাক হয়ে গেল। তার চোখে প্রশ্ন আর হতাশার মিশ্র অনুভূতি ছিল। তারপর তার মনে পড়ল যে নারগিস তো সেই প্রশ্নের উত্তর জানতোই না। সে মিথ্যা বলে তার পিতাকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করেছিল। আর পিতার উপদেশকে উপেক্ষা করেছিল। মন কষ্টে ভরে গেল এবং চোখে জল এল। আমার কি করা উচিত? শাহজাদ বিষন্নতার সাথে জিজ্ঞাসা করল। বাবার বন্ধু তাকে একটি কৌশল বললেন, তোমার স্ত্রীর সামনে এমন ভান করো যে তুমি বাবার লুকানো সম্পদের কিছুই জানো না। নয়তো সে সতর্ক হয়ে যাবে। শাহজাদ বাড়িতে ফিরে এল এবং নারগিসকে বলল, শোনো এখন আমার কাছে আর কিছু নেই। আমাকে এই অট্টালিকাটি বিক্রি করতে হবে এবং একটি ছোট বাড়ি নিতে হবে। তুমি কয়েকদিনের জন্য তোমার মা-বাবার বাড়িতে চলে যাও। আমি ততক্ষণ নতুন বাড়ি দেখব। নারগিসের মুখে হাসি ফুটে উঠল। মনে মনে সে খুশি হলো। ভাবছিল, এখন এই অট্টালিকা এবং এতে লুকানো গুপ্তধন সব আমার হবে। সে তাড়াতাড়ি নিজের জিনিসপত্র গুছিয়ে নিল এবং নিজের বাপের বাড়ি চলে গেল। শাহজাদ দ্রুত খোঁজ শুরু করল। পুরো অট্টালিকার প্রতিটি কোণ খুঁজলো। প্রতিটি দরজা, প্রতিটি ইট, প্রতিটি ছাদের খরখড়ি। মনে ভাবল, আমি তো সব জায়গায় দেখলাম। কিন্তু গুপ্তধন কোথাও পেলাম না। মনে আশার আলম লান হয়ে গেল এবং সে নীরবে তার ভাগ্যের উপর চিন্তা করতে লাগল। শাহজাদ মনে মনে ভাবল, আমি তো সব জায়গায় দেখেছি। এখন শুধু একটি জায়গা বাকি আছে। এই ভাবতে ভাবতে তার মনে এক অদ্ভুত শান্তি আর আসার ঢেউ জাগলো। মনে অতীতের স্মৃতি, পিতার উপদেশ এবং নারগিসের বিশ্বাসঘাতকতার দুঃখ সব একসাথে ভেসে এল। অট্টালিকার পুরনো দেওয়াল সেই সোনালী আলো যা দিনের বেলায় ভেতরে আসতো এবং প্রতিটি কোণ প্রতিটি ইট তার জন্য আজ একটি ধাঁধা হয়ে গিয়েছিল। শাহজাদ একটি মোমবাতি জাল এবং তার মৃদু আলোয়ে কুঠুরির দিকে পা বাড়ালো। সেখানকার ঠান্ডা বাতাস, স্যাতস্যাতে দেওয়াল এবং দূর থেকে প্রতিধ্বনিত হওয়া ছোট পাথরের শব্দ এক শিহরণ সৃষ্টি করছিল। অন্ধকারে সে তার হাত দিয়ে প্রতিটি কোণ হাটরাতে লাগল। দেওয়াল ঠান্ডা এবং ভেজা মনে হচ্ছিল। আর প্রতি পদক্ষেপে বুক ধরফর করছিল। হঠাৎ তার নজর একটি ছোট গর্তের উপর পড়ল যেখান থেকে একটি ইঁদুর উকি মারছিল। শাহজাদ তার লাঠি দিয়ে সেটাকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করল এবং হঠাৎ একটি ইট দেওয়াল থেকে খসে পড়ল। ইটটি পড়ার সাথে সাথেই এক দুর্দান্ত আলোর ঝলক তার চোখে পড়ল। চোখের সামনে সোনা ও জহরতের চমক তাকে এক মুহূর্তের জন্য প্রায় অন্ধ করে দিল। শাহজাদের চোখে জল এল। মনে তার পিতার স্মৃতি জেগে উঠলো এবং সে নীরবে তার পিতার জন্য দোয়া করল। প্রতিটি জাদুকরী সোনা, প্রতিটি হীরা, প্রতিটি মূল্যবান গয়না এখন তার সামনে ছিল এবং তার উপলব্ধি হল যে এটি সেই গুপ্তধন যা পিতা ভালোবাসা ও চিন্তা থেকে লুকিয়ে রেখেছিলেন। মনে কৃতজ্ঞতার আর আনন্দের ঢেউ বইল। তবে একই সাথে একটি গম্ভীর চিন্তা তাকে ঘিরে ঢরল। শাহজাদ সব গুপ্তধন বের করল এবং তারপর একটি চালাক ধারণা তার মনে এল। সে গুপ্তধনের জায়গায় উটের গোবর রেখে দিল এবং ইটটি আবার লাগিয়ে দিল। মনে এক প্রতিশোধ এবং পরিকল্পনা চলছিল। সে ভাবল যে নারগিস এবং তার সাথীদের ধোঁকা দেওয়া দরকার। যাতে সে তার বাস্তবতা সামনে আনতে পারে। এবং সে তার কাজের অনুযায়ী শাস্তি পায়। তারপর শাহজাদ সাথে সাথে তার পিতার বন্ধুর কাছে গেল এবং সবকিছু বলল। তিনি হেসে বললেন যখন তোমার স্ত্রী এই গর্তে হাত দেবে তখন সে একটি বড়সড় চমক পাবে। শাহজাদের চোখের দৃঢ়তা আর ধৈর্যের ঝলক ছিল এবং মনে শান্তি অনুভব হলো যে ইনসাফের সময় কাছে এসেছে। পরের দিন সকালে শাহজাদ একজন দালালকে ডাকল এবং অট্টালিকাটি নিলামে দেওয়ার ঘোষণা করালো। লোকজন জড়ো হলো এবং তাদের মধ্যে সেই কসাইও ছিল যে নারগিসের সাথী হয়ে উঠেছিল। সে বারবার দাম বাড়াতে থাকলো। শেষ পর্যন্ত অট্টালিকাটি তারই নামে হয়ে গেল। শাহজাদ টাকা নিয়ে নিল এবং চাবি কসাইকে দিয়ে দিল। বাবার বন্ধু পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং তিনি শাহজাদের কানে বললেন, এই সেই লোক যে তোমার স্ত্রীর সাথে মিলে তোমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিল। পরের দিন শাহজাদ সরাসরি কাজীর কাছে গেল এবং কোন দ্বিধা ছাড়াই নারগিসকে তিন তালাক দিয়ে দিল। যখন সে কাজীর বাড়ি থেকে বাইরে বেরোলো বাবার বন্ধু তাকে নিজের বাড়িতে ডাকলেন এবং বললেন, বাবা এখন ধৈর্য ধরো। কাল পর্যন্ত অপেক্ষা করো এবং দেখো কি হয়। এই সময়ে কসাই নারগিসের সাথে কুঠুরিতে নামলো। নারগিস কসাইয়ের দিকে তাকিয়ে বলল, আমি তোমাকে তোমার টাকা ফেরত দিয়ে দেব এবং তুমি এই অট্টালিকাটি আমার কাছে বিক্রি করে দাও। যেমনটা আমরা ঠিক করেছিলাম। সে দেওয়াল থেকে ইট সরালো এবং ভেতরে হাত দিল। কিন্তু তার প্রত্যাশার বিপরীতে সে শুধু উটের গোবর পেল। নারগিসের মেজাজ চড়ে গেল। সে চিৎকার করে উঠলো। শাহজাদ আমাকে ধোকা দিয়েছে। আমি তো তাকে বোকা ভাবতাম। কসাই নাকে হাত রাখল। দুর্গন্ধে তার খারাপ অবস্থা। তারপর রাগে এসে নারগিসকে মারতে শুরু করল। তোর জন্য আমি এই অট্টালিকার দ্বিগুন দাম দিয়েছি। আমার সব টাকা ডুবে গেল। এই বলে সে তাকে সেখানেই ফেলে রেখে চলে গেল। নারগিসের রাগ আরো বেলে গেল। স্বামী তাকে তালাক দিয়ে দিয়েছে এবং কসাইও তাকে তাড়িয়ে দিয়েছে। সবকিছু শেষ হয়ে গিয়েছিল। সে কাঁদতে কাঁদতে ভাবতে লাগলো। আমি নিজের সাথে কি করলাম? আমার জীবন কত ভালো ছিল। কিন্তু লোভ আমাকে অন্ধ করে দিয়েছিল। সারারাত সে কাঁদতে থাকলো। নিজেকে দোষ দিতে থাকলো এবং অনুশোচনা তাকে খেয়ে যাচ্ছিল। সকাল হলো এবং শাহজাদ তার পুরনো অট্টালিকার দিকে গেল। দরজা খোলা ছিল। যখন সে কুঠুরিতে নামলো তখন দেখল যে নারগিস সেখানেই মেঝেতে পড়ে আছে খারাপ অবস্থায়। শাহজাদ তার কাছে গেল এবং বলল, যদি তুমি একজন ভালো স্ত্রী হতে তবে আমি আমার বাবার সম্পদ তোমার সাথে ভাগ করে নিতাম। কিন্তু তুমি লোভী আর তোমার মধ্যে নেকির কোন চিহ্ন নেই। পরের দিন কসাই শাহজাদের কাছে এলো এবং মিনতি করল। আমাকে আমার টাকা ফেরত দাও আর তুমি তোমার অট্টালিকা ফিরিয়ে নাও। আমার এটির প্রয়োজন নেই। শাহজাদ বলল, আমি তোমাকে কেবল অর্ধেক টাকা ফেরত দেব। কসাই ভাবলো, অর্ধেক টাকা কিছুই না পাওয়ার চেয়ে ভালো। আমিই জালিম ছিলাম। আমাকে কে বলেছিল যে আমি আমার প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করি? সে আর তার পিতা আমার প্রতিবেশী ছিলেন। সে টাকা নিল এবং চলে গেল। বেশি সময় কাটেনি যে কসাইয়ের দোকান বন্ধ হয়ে গেল। পাড়ার লোকেরা যারা আগে তার কাছ থেকে মাংস নিতে আসতো এখন তাকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করতে শুরু করল। তারা জেনে গিয়েছিল যে কসাই কিভাবে নারগিসের সাথে মিলে শাহজাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিল। এবং তাদের হৃদয়ে তার জন্য কোন সম্মান বাকি ছিল না। দোকানের জৌলস শেষ হয়ে গেল। খালি কাউন্টার আর নির্জন গলি প্রতিটি আগত দিনের সাথে তাকে আরো পরাজয়ের অনুভূতি দিচ্ছিল। গ্রাহকদের অনুপস্থিতি তাকে সামাজিক একাকিত্বের দিকে ঠেলে দিল। এবং সে দেখছিল যে কিভাবে লোকেরা তাকে উপেক্ষা করে শাহজাদের সাথে ইনসাফের সম্পর্ক স্থাপন করেছে। নারগিসের অবস্থাও দিন দিন খারাপ হতে লাগলো। এখন সে গলি দিয়ে বেরলে মাঠ ঢেকে যেত যাতে লোক তাকে নিয়ে কটাক্ষ না করে। এবং শাহজাদের দোকানের সামনে দিয়ে যাওয়াও এড়িয়ে চলত যাতে সে তাকে না দেখে ফেলে। সে বুঝে গিয়েছিল যে লোভ আর বিশ্বাসঘাতকতার ফল শুধু ক্ষতি আর অপদস্থতা। প্রতিটি মুহূর্ত তার হৃদয়ে অনুসূচনার আর্তনাদ, লজ্জা ও ভয়ের মিশ্র অনুভূতি সৃষ্টি করছিল। শাহজাদ তার দোকান আবার খুলে দিল এবং তার জিনিসপত্র দিয়ে ভরে দিল। আকর্ষণীয় বিষয় ছিল যে সে তার পিতার গুপ্তধন থেকে একটি টাকাও খরচ করেনি। সে যে টাকা ব্যবহার করেছিল তা কসাইয়ের বোকামি থেকে পাওয়া গিয়েছিল। আর প্রতিটি জিনিস কেনাবেচা সেই বিচক্ষণতা আর ধৈর্যের কারণেই সম্ভব হয়েছিল যা সে পিতার কাছ থেকে শিখেছিল। দোকানের জৌলুস আবার ফিরে এল। লোকজন আসা যাওয়া শুরু করল এবং মহল্লায় শাহজাদের স্থান আরো একবার মজবুত হল। শাহজাদ আর তার পিতার বন্ধুর মধ্যে বন্ধুত্ব আরো গভীর হয়ে উঠেছিল। দুজনে মিলে ব্যবসা শুরু করলেন। পুরনো বাড়ি কিনলেন। সেগুলোকে নতুন করে তৈরি করে বিক্রি করলেন এবং ধীরে ধীরে সম্পদ বাড়তে লাগল। কিন্তু শাহজাদ বিয়ে করতে অস্বীকার করতে থাকলো। সে নারগিসের বিশ্বাসঘাতকতা কখনো ভুলতে পারতো না। তার মনে প্রতিবার নারগিসের লোভ আর বিশ্বাসঘাতকতার ছবি ভেসে উঠতো। এবং তার মনে পড়তো যে কিভাবে সে তার পিতার উপদেশ উপেক্ষা করেছিল। সে জানতো যে ভালোবাসা এবং সৎ উদ্দেশ্য কখনো বিশ্বাসঘাতকতার সাথে চলতে পারে না। একদিন শাহজাদ তার পিতার বাড়িতে গেল। বাড়ির উষ্ণ পরিবেশে প্রবেশ করতেই সে অনুভব করতে পারল যে এটি ভালোবাসা আর আন্তরিকতায় ভরা পরিবেশ। বন্ধু খুব খুশি হয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানালেন। এসো বাবা বসো। তোমাকে দেখে খুব খুশি হলাম। তারপর তিনি নিজের মেয়েকে ডাকলেন। লায়লা আমাদের জন্য একটু কফি নিয়ে এসো। লায়লা যে খুব সুন্দরী আর নাজুক মেয়ে ছিল কফি নিয়ে ভেতরে এল। শাহজাদকে দেখে এত লজ্জা পেল যে তার হাত থেকে কাঁপ পড়ে গেল। সে কিছু মুহূর্তের জন্য স্থির হয়ে রইল এবং লজ্জায় তার মুখ লাল হয়ে গেল। সে বুঝতে পারছিল না কি করবে। কিন্তু তার লজ্জা আর বিনয় তাকে প্রতিটি মুহূর্তে নরম আর নিষ্পাপ রাখলো। শাহজাদ হেসে বলল, কোন ব্যাপার না। আমি ধরে নেব যে আমি খেয়ে নিয়েছি। লায়লা একটি হালকা লাজুক হাসির সাথে বাইরে চলে গেল। শাহজাদ অবাক এবং আগ্রহের সাথে জিজ্ঞাসা করল, এ কে? বন্ধু উত্তর দিলেন, এই আমার একমাত্র মেয়ে। ওর মা অনেক আগেই মারা গেছেন। আমি ওকে খুব পরিশ্রম করে মানুষ করেছি এবং ভালো ব্যবহার আর মূল্যবোধ শিখিয়েছি। এটা শুনে শাহজাদের মন খুশি হয়ে গেল। সে অনুভব করল যে লায়লা হয়তো একজন নেক বুদ্ধিমান এবং শারীফ মহিলা হতে পারে। তবে সে নীরবতা অবলম্বন করল এবং অনুমতি নিয়ে বাড়ি ফিরে গেল। বাড়ি পৌঁছে এসে ভাবতে লাগলো। লায়লা খুব নেক আর শারিফ মনে হয়। হয়তো আমি তার জন্য প্রস্তাব পাঠাবো। কিন্তু তার মনে আরেকটি প্রশ্ন উঠলো। কিন্তু সব নারী কি নারগিসের মতো হয়? অবশেষে সে সিদ্ধান্ত নিল যে সে লায়লার পরীক্ষা নেবে। প্রস্তাব পাঠানোর আগে সে জানতো যে লায়লা প্রতি সকালে বাজারে যায় এবং এই সুযোগ তাকে যাচাই করার জন্য সবচেয়ে ভালো মনে হল। পরের দিন সকালে শাহজাদ একটি মূল্যবান সোনার হার নিল যাতে হিরে বসানো ছিল। সে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে গেল যেখান দিয়ে লায়লা যেত। যেই সে লায়লাকে আসতে দেখল সে হাড়টি গাছের পেছনে লুকিয়ে ফেলে দিল। লায়লা এল এবং তার নজর সাথে সাথে হাড়ের উপর পড়ল। সে ঝুকে হাড়টি তুলে নিল। হাড়ের সৌন্দর্য এবং চমক তাকে অবাক করে দিল। সে এদিক ওদিক তাকালো কিন্তু কাউকে দেখতে পেল না। তারপর সে হাড় নিয়ে মসজিদের দিকে হেঁটে গেল। মনে একটি সৎ উদ্দেশ্য এবং কৃতজ্ঞতা নিয়ে। এই মুহূর্তটি শাহজাদের জন্যও বিশেষ ছিল। সে অনুভব করল যে ধৈর্য, জ্ঞান এবং সততার সাথে প্রতিটি কাজ করা মানুষকে সফলতা ও শান্তি দিতে পারে। নারগিসের বিশ্বাসঘাতকতা এবং কসাইয়ের নিষ্ঠুরতা তাকে শিক্ষা দিয়েছিল। এবং এখন সে ভবিষ্যতে তার জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্তে বুদ্ধিমান এবং সতর্ক মনোভাব অবলম্বন করবে। যখন লায়লা হাড় নিয়ে মসজিদে পৌঁছলো তখন সকালের নরম রোদ গলিগুলোতে সোনালী কিরণের মত ছড়িয়ে পড়ছিল। তার হাতে হাড়ের চমক আর তার মুখের নিষ্পাপ হাসি পুরো রাস্তাকে আলোকিত করে তুলেছিল। প্রতিটি পদক্ষেপের সাথে সে হালকা হালকা শ্বাস নিচ্ছিল। মনে এক অদ্ভুত খুশি আর অসম্পূর্ণ ভয়ের মিশ্র অনুভূতি নিয়ে। রাস্তায় সে কখনো নিজের চুল ঠিক করত। কখনো হাড়ের সুন্দর হিরা দেখে হাসতো এবং কখনো নিজের হাতে হাড়টিকে শক্ত করে ধরে রাখত। যেন এটি পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান জিনিস। মসজিদের দরজার কাছে পৌঁছতেই তার হৃদস্পন্দন দ্রুত হলো। সে ইমাম সাহেবের সামনে থামলো এবং হাড়টি আস্তে করে তার হাতে দিল। চোখে বিনয় আর আন্তরিকতা ছিল এবং তার কণ্ঠস্বর নরম কিন্তু দৃঢ় ছিল। হযরত এই হাড়টি আমি রাস্তায় পেয়েছি। যদি এর মালিক আসে তবে তাকে ফিরিয়ে দেবেন। আর যদি কেউ না আসে তবে এটিকে গরীবদের মধ্যে সদকা করে দেবেন। ইমাম সাহেবের মুখে এক শান্তি আর খুশির ঝলক দেখা গেল। তিনি হাত তুলে দোয়া করলেন আল্লাহ তোমার প্রতিপালনে বরকত দিক বেটি। শাহজাদ যে একটু দূরে দাঁড়িয়েছিল সেই সবকিছু দেখছিল। তার মনে এক আনন্দের ঢেউ উঠল। সে অনুভব করল যে লায়লার মধ্যে শুধু রূপ আর সৌন্দর্যই নয় বরং ভালো ব্যবহার সততা এবং আল্লাহর ভয়ও আছে। হৃদয়ের ভেতরে শান্তি ও সন্তুষ্টির অনুভূতি সৃষ্টি হল। তার হৃদস্পন্দন সেই মুহূর্তের সাথে এক ছিল এবং সে নীরবে দোয়া করতে থাকলো যে আল্লাহ তাকে সঠিক পথে রাখুন। লায়লা যখন ফিরে যেতে শুরু করল তখন শাহজাদ পা বাড়ালো এবং তার সামনে এসে বলল এই হারটি আমার এর আকার এবং চিহ্ন এই এই কিন্তু আমি আজ যা দেখেছি এরপরে এই হারটি তোমার মোহর আর আমি এর থেকেও বেশি দেবো যাতে তোমার পিতা রাজি হয়ে যান লায়লার মুখে বিশ্বময় আর খুশির ঝলক দেখা গেল সে কিছুক্ষণ স্থির হয়ে রইল তারপর একটি নরম হাসির সাথে মাথা নেড়ে সম্মতি দিল শাহজাদ সিদ্ধান্ত নিল যে সে লায়লাকে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেবে যাতে সে একা না যায়। লায়লার পিতা যখন নিজের মেয়েকে শাহজাদের সাথে আসতে দেখলেন তখন হেসে বললেন, শোনো বাবা যদি তুমি লায়লাকে বিয়ে করতে চাও তবে আমি রাজি আছি। শাহজাদ বিনয়ের সাথে উত্তর দিল, জি এটাই আমার ইচ্ছা। লায়লার পিতা হেসে বললেন, কিন্তু আমার মেয়ের মোহর খুব ভারী। আমার শর্ত এই যে তুমি তোমার পিতার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সব সোনার সম্পদ মোহর হিসেবে তাকে দেবে। শাহজাদ কোন দ্বিধা ছাড়াই বলল আল্লাহর কসম লায়লার জন্য কোন জিনিস দামি নয়। যা আমি আজ দেখেছি এরপর তো আমি সবকিছু দিতে প্রস্তুত। লায়লার পিতা খুশি হয়ে আসলেন। আমি তো শুধু এই দেখতে চেয়েছিলাম যে তুমি ওকে কতটা ভালোবাসো। আমিও আমার একমাত্র মেয়ের জন্য সময়ের উত্থানপতন থেকে ভয় পাই। মোহরের জন্য তো এই হারই যথেষ্ট বরং এর থেকেও বেশি। বিয়ের রাতে শাহজাদ তার নতুন স্ত্রীকে সেই প্রশ্নটি জিজ্ঞাসা করল যা তার পিতা তাকে শিখিয়েছিলেন। লায়লা বল এমন কখন হয় যে এক টাকা দু টাকার চেয়েও বেশি মূল্যবান হয়ে যায়? লায়লা হেসে বিচক্ষণতার সাথে উত্তর দিল। যখন সেই টাকা হালাল রোজগারের হয় এবং তাকে সঠিক জায়গায় খরচ করা হয়। শাহজাদের মুখে আনন্দের ঢেউ বয়ে গেল। সে বলল, সুবহানাল্লাহ। আল্লাহ এই লিখেছিলেন যে আমি তোমার আগে তিনজন মেয়েকে বিয়ে করি যাতে অবশেষে তোমাকে পেতে পারি। তুমি আমার উদাস মনের দরজায় করা নেড়েছো এবং আমার অনুভূতিতে অধিকার করে নিয়েছো। আমি তো ভাবতে শুরু করেছিলাম যে সব নারী একরকম হয়। এরপর শাহজাদ আর লায়লা সুখ, শান্তি আর ভালোবাসার সাথে জীবন কাটাতে লাগলো। আল্লাহ তাদের পুত্র আর কন্যা দান করলেন। শাহজাদ বড় বনিক হয়ে গেল এবং সে বুঝতে পারল যে তার পিতার উপদেশ শোনার থেকেও মূল্যবান ছিল। কারণ সেই ছিল জ্ঞান, চরিত্র এবং সঠিক সিদ্ধান্তের সম্পদ যা মনকে শান্তি এবং জীবনকে নির্দেশনা দেয়।
Get free YouTube transcripts with timestamps, translation, and download options.
Transcript content is sourced from YouTube's auto-generated captions or AI transcription. All video content belongs to the original creators. Terms of Service · DMCA Contact