মাথার উপর আগুন ঝরা সূর্য আর নিচে জ্বলন্ত কয়লার মত ফুটন্ত বালু। সেই তপ্ত বালিতে শুইয়ে রাখা হয়েছে এক মানুষকে। বুকের উপর বিশাল পাথর আর চারপাশ থেকে পড়ছে নির্মম চাবুকের আঘাত। পিঠের চামড়া ঝলসে যাচ্ছে। কিন্তু অবাক করা বিষয় তার মুখে কোন আর্তনাদ নেই। রক্ত মাখা শুকন ঠোট থেকে শুধু একটি শব্দ বের হচ্ছে। আহাদ আহাদ। কে এই মানুষটি? এত ভয়ঙ্কর পাশবিকতাও কেন তার ঈমান টলাতে পারল না? আর কিভাবে এই নির্যাতিত মানুষটি একদিন পবিত্র কাবার ছাদে উঠে পুরো বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন? গায়ে কাঁটা দেওয়া এই ইতিহাস জানতে ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখুন। ইসলামের একদম শুরুর দিকের কথা। মক্কার বুকে তখন গুটি কয়েক মানুষ অত্যন্ত গোপনে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তাদের মধ্যে একজন ছিলেন এমন এক ব্যক্তি, যিনি দেখতে খুব সুন্দর ছিলেন না। যার গায়ের রং ছিল ঘোর কৃষ্ণবর্ণ। চুলগুলো ছিল উষ্কুষ্ক। আর যিনি জন্মসূত্রে ছিলেন একজন অসহায় কৃতদাস। তার নাম হযরত বিলাল ইবনে রাবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু। হযরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন মক্কার কুরাইশদের অন্যতম বড় সরদার এবং ইসলামের ঘোর শত্রু উমাইয়া বিন খালাফের কেনা গোলাম। তার জীবনের কোন মূল্য ছিল না এই সমাজে। তার কাজ ছিল সারাদিন উমাইয়ার উট আর ভেড়া চড়ানো এবং বিনা বাক্যে মনিবের সব হুকুম পালন করা। তার নিজের কোন স্বাধীনতা ছিল না। নিজের ইচ্ছায় কথা বলার অধিকারটুকুও তার ছিল না। তৎকালীন আরবের জাহিলী সমাজে দাসদেরকে মানুষের মর্যাদাই দেওয়া হতো না। তাদেরকে হাটে বাজারে পশুর মত কেনাবেচা করা হতো। হযরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু একদিন শুনতে পেলেন আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র বাণী। তিনি শুনলেন নবীজি এমন এক রবের কথা বলছেন যিনি এই বিশাল আসমান ও জমিনের একমাত্র মালিক যিনি সাদা কালো ধনী গরীব স্বাধীন গোলাম আরব অনারব সবার কাছে সমান সেই মহান রবের কাছে মক্কার সরদার উমাইয়া আর অসহায় গোলাম বিলালের মধ্যে জন্মগত কোন পার্থক্য নেই পার্থক্য শুধু তাকওয়া বা আল্লাহ ভীতির মধ্যে এই সাম্য আর ন্যায়ের কথাগুলো হযরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুর তৃষ্ণার্ত অন্তরে এক অদ্ভুত প্রশান্তি এনে দিল। তিনি গোপনে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করলেন। প্রথমদিকে হযরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু তার ইসলাম গ্রহণের কথা খুব সাবধানে গোপন রেখেছিলেন। কিন্তু মক্কার মাটিতে সত্য বেশিক্ষণ লুকিয়ে থাকে না। একদিন আবু জাহেল বা উমাইয়ার কোন এক গুপ্তচর দেখে ফেলল যে বিলাল মক্কার এক নির্জন কোনায় দাঁড়িয়ে অত্যন্ত একাগ্রতার সাথে আল্লাহর ইবাদত করছেন। খবর চলে গেল উমাইয়া বিন খালাফের কাছে। গুপ্তচর বলল, হে উমাইয়া, তোমার কেনা গোলাম বিলাল আমাদের বাপ-দাদার ধর্ম ছেড়ে দিয়েছে। সে মোহাম্মদের আল্লাহকে মেনে নিয়েছে। এই কথা শোনা মাত্রই উমাইয়ার রাজে হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হয়ে গেল। তার নিজের গোলাম যাকে সে পশুর চেয়েও অধম মনে করে। সে কিনা তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করবে। সে চিৎকার করে বলল, বিলালকে ধরে আনো। আমি তাকে এমন শিক্ষা দেবো, যে মক্কার কোন গোলাম আর মোহাম্মদের নাম নেওয়ার সাহস পাবে না। উমাইয়া প্রথমে তাকে একটি অন্ধকার বদ্ধ ঘরে বন্দী করল। তাকে দিনের পর দিন রাতের পর রাত কোন খাবার বা এক ফোঁটা পানি দেওয়া হলো না। ক্ষুধার তীব্র জ্বালায় এবং পিপাসায় হযরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুর শরীর শুকিয়ে হাড়গোড় বেরিয়ে এল। উমাইয়া ভাবল, হয়তো খাবার না পেয়ে দুর্বল হয়ে সে বস্যতা স্বীকার করবে। কিন্তু হযরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুর মুখ থেকে শুধু একটি আওয়াজ আসত আল্লাহর জিকির। এরপর শুরু হলো তার পাশবিক শারীরিক নির্যাতন। মক্কার রাস্তায় সবার সামনে সে হযরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুর গলায় একটা খসখসে মোটা দড়ি পড়ালো। তারপর মক্কার ছোট ছোট দুষ্ট ছেলেদের হাতে সেই দড়ি ধরিয়ে দিয়ে বলল, একে মক্কার রাস্তায় রাস্তায় টেনে হিচুয়ে ঘোরাও। যাতে সবাই দেখে মোহাম্মদের ধর্ম গ্রহণ করার পরিণতি কি হয়। বাচ্চারা নির্মমভাবে দড়ি ধরে টানতো, আর হযরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু মক্কার এবড় খেবড়ো তীক্ষ্ণ পাথরের রাস্তায় আছড়ে পড়তেন। তার শরীর ছেড়ে রক্ত বের হয়ে যেত। সমস্ত শরীর ক্ষতে ভরে গিয়েছিল। মক্কার কাফেররা চারদিকে দাঁড়িয়ে এই দৃশ্য দেখে আনন্দে হাসতো। কিন্তু সেই রক্তাক্ত আর মুমূর্ষ অবস্থায়ও হযরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুর মুখ থেকে কোন গানই বের হলো না। কোন বাঁচার আকুতি বের হলো না। তিনি শুধু একটি কথাই বারবার উচ্চারণ করতেন আহাদ আহাদ। আমার আল্লাহ এক আল্লাহ এক। [দীর্ঘশ্বাস] উমাইয়া যখন দেখল এতেও কোন কাজ হচ্ছে না। তখন সে তার সবচেয়ে ভয়ঙ্কর আর নিষ্ঠুর রূপ ধারণ করল। সময়টা ছিল আরবের গ্রীশবকাল। দুপুরবেলা। সূর্য যখন ঠিক মাথার উপর থাকে তখন মক্কার মরুভূমির বালি এতটাই গরম হয়ে যায় যে সেখানে খালি পায়ে দাঁড়ালে ফোসকা পড়ে যায় উমাইয়া তার লোকদের হুকুম দিল বেলালকে ওই তপ্ত বালির উপর নিয়ে যাও আর ওকে লোহার বর্ম পড়াও যাতে গরমের তীব্রতা আরো বেড়ে যায় হযরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে সেই জ্বলন্ত বালির উপর খালি গায়ে শুইয়ে দেওয়া হল তার পিঠের চামড়া গরমে ঝলসে যেতে লাগল এরপর উমাইয়া তার লোকদের বলল পাহাড় থেকে একটা বিশাল পাথর নিয়ে আয়। এত বড় পাথর যা সরাতে 10 জন শক্তিশালী মানুষের দরকার। সেই বিশাল ভারী পাথরটা এনে হযরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুর বুকের উপর সজরে চাপিয়ে দেওয়া হলো। একবার শুধু দৃশ্যটা কল্পনা করুন। নিচে আগুনের মত ফুটন্ত বালি, বুকের উপর পাহাড়ের মত ভারী পাথর যাতে নিঃশ্বাস নেওয়াও কষ্টকর। আর শরীরের উপর ক্রমাগত পড়ছে চাবুকের নির্দয় আঘাত। উমাইয়া আর আবু জাহেল তার চারপাশে দাঁড়িয়ে হাসছে আর বলছে বল বিলাল বল যে তুই লাত আর উজ্জা আমাদের খোদা বল যে তুই মোহাম্মদের ধর্ম মানিস না নইলে আজ এই পাথরের নিচেই তোর মৃত্যু হবে কিন্তু সেই জাহেলরা জানতো না যে পাথরের চেয়েও বেশি মজবুত আর শক্ত হয় একজন সত্যিকারের মুমিনের ঈমান হযরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুর শরীর হয়তো দুর্বল হয়ে পড়েছিল কিন্তু তার অন্তর ছিল আল্লাহর নূরে আলোকিত তিনি জানতেন এই কষ্ট শুধু দুনিয়ার কয়েকটা দিনের কিন্তু এর বিনিময়ে যে রবের কাছে যে জান্নাত অপেক্ষা করছে তা চিরকালের উমাইয়া ভাবল এবার হয়তো বিলাল মৃত্যুর ভয়ে হার মানবে কিন্তু না হযরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু তার সমস্ত জমানো শক্তি এক করে আকাশের দিকে তাকিয়ে বললেন আহাদ আহাদ আমার আল্লাহ এক আল্লাহ এক উমাইয়ার আগে আগুন হয়ে গেল সে চাবুক দিয়ে আরও জোরে আঘাত করতে লাগল সে বলল তুই এখনো তোর ওই এক আল্লাহর নাম নিচ্ছিস আমি তোকে আজ মেরেই ফেলব। কিন্তু যতবার চাবুক পড়ে, যতবার পাথর বুকের ওপর চেপে বসে, হযরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুর মুখ থেকে শুধু একটি শব্দ বের হয় আহাদ আহাদ। পরবর্তী জীবনে সাহাবীরা হযরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, হে বিলাল, সেই চরম কষ্টের সময় তুমি কি অন্য কোন শব্দ বলতে পারতে না? শুধু আহাদ কেন বলছিলে? হযরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু তখন চোখের পানি মুছতে মুচতে উত্তর দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আল্লাহর কসম যদি আহাদের চেয়ে এমন কোন শব্দ আমার জানা থাকতো যা শুনলে কাফেরদের বুকে বেশি আগুন ধরবে তাদের অহংকার চূর্ণ হবে আমি সেটাই বলতাম। আমি তাদের রাগিয়ে দেওয়ার জন্যই বারবার আহাদ বলছিলাম। কারণ তারা চাইতো আমি তাদের দেবতার নাম নিই। আর আমি তাদের বুঝিয়ে দিচ্ছিলাম যে উপাস্য কেবল একজনই। সুবহানাল্লাহ। কি অসাধারণ ঈমানের জোর। দিনের পর দিন এই নির্যাতন চলতে লাগলো। মক্কার আকাশে বাতাসে হযরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুর আহাদ আহাদ ধ্বনি ছড়িয়ে পড়ল। এই খবর পৌঁছলো রাহমাতুল্লিল আলামিন আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পবিত্র হৃদয় ব্যথায় কেঁদে উঠলো। তিনি তার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু কে ডেকে বললেন হে আবু বকর বিলালের খুব কষ্ট হচ্ছে তাকে কি বাঁচানো যায় না হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু এক মুহূর্তও দেরি করলেন না তিনি তার ঘরের জমানো সম্পদ বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ মুদ্রা নিয়ে মক্কার সেই জ্বলন্ত মরুভূমির দিকে ছুটে গেলেন যেখানে হযরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে নির্যাতন করা হচ্ছিল হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু সেখানে গিয়ে দেখলেন উমাইয়া অমানুষের মত বিলালকে পেটাচ্ছে তিনি উমাইয়াকে ধমক দিয়ে বললেন হে উমাইয়া তুই কি এই নিরীহ মানুষটার উপর জুলুম করতে আল্লাহকে ভয় পাস না তুই আর কতকাল একে এভাবে মারবি উমাইয়া তাচ্ছিল্য করে হাসতে হাসতে বলল আরে আবু বকর তুমিই তো ওকে নষ্ট করেছ তুমিই তো ওকে তোমাদের ধর্মে ঢুকিয়েছো এতই যদি দরদ থাকে তাহলে তুমি ওকে বাঁচাও না কেন হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু ঠিক এই কথাটাই শুনতে চাচ্ছিলেন। তিনি সাথে সাথে গম্ভীর কন্ঠে বললেন হ্যাঁ আমি ওকে বাঁচাবো বল উমাইয়া বিলালকে বিক্রি করতে তুমি কত দাম চাও উমাইয়া অত্যন্ত ধূর্ত ছিল সে ভাবল বিলাল তো এমনিতেই মরে যাচ্ছে এর শরীর দিয়ে তো আর কোন কাজ হবে না [মিউজিক] এই সুযোগে আবু বকরের কাছ থেকে কিছু মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া যাক সে ইচ্ছা করে একটা বিশাল অংকের দাম হাঁকালো ঐতিহাসিক বর্ণনায় এসেছে সে সাত থেকে নয় আউকিয়া স্বর্ণ বা তার চেয়েও বেশি দাবি করল যা একজন সাধারণ এবং মুমূর্ষ গোলামের দামের চেয়ে অনেক অনেক গুণ বেশি। সে ভেবেছিল আবু বকর এত দাম দিতে পারবেন না এবং পিছু হটবেন। কিন্তু হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু এক সেকেন্ডও চিন্তা করলেন না। তিনি সাথে সাথে তার কাছে থাকা সেই স্বর্ণ মুদ্রাগুলো বের করে উমাইয়ার দিকে ছুড়ে দিলেন। তিনি বললেন, নাও তোমার টাকা। আজ থেকে বিলাল স্বাধীন উমাইয়া টাকাগুলো হাতে পেয়ে হাসতে হাসতে বলল আবু বকর তুমি বড্ড ঠকে গেলে তুমি যদি এর দাম মাত্র এক আউকিয়া স্বর্ণ দিতে আমি তাতেই একে বিক্রি করে দিতাম এর তো কোন দামই নেই আমার কাছে হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তখন উমাইয়ার চোখের দিকে তাকিয়ে জবাব দিলেন হে উমাইয়া তুমি মনে করছো আমি ঠকেছি আল্লাহর কসম তুমি যদি আজ বিলালের দাম 100 আউকিয়া স্বর্ণ চাইতে আমি আমার সব সম্পদ বিক্রি নিশ্ব হয়ে গেলেও বিলালকে কিনে নিতাম। কারণ বিলালের দাম তোমার কাছে শূন্য হতে পারে। কিন্তু আল্লাহর কাছে বিলালের দাম এই দুনিয়ার সমস্ত সম্পদের চেয়েও বেশি। হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু দৌড়ে গিয়ে হযরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু এর বুকের উপর থেকে সেই বিশাল পাথরটা নিজ হাতে সরিয়ে দিলেন। তিনি তার নিজের পবিত্র চাদর দিয়ে হযরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু এর ঘাম আর রক্ত মুছে [মিউজিক] দিলেন। তারপর তাকে পরম মমতায় বুকে জড়িয়ে ধরে বললেন, ওঠো বিলাল তুমি এখন স্বাধীন। আজ থেকে তুমি আর কারো গোলাম নও। তুমি শুধু এক আল্লাহর গোলাম। হযরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু মুক্তির শ্বাস নিলেন। তিনি হযরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর হাত ধরে সোজা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে চলে এলেন। নবীজি বিলালকে দেখে আবেগে আপ্লুত হয়ে তাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। এরপর হযরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু তার পুরো জীবন ইসলাম এবং নবীজির খেদমতে উৎসর্গ করলেন। নবীজির ছায়ার মত তিনি সবসময় তার সাথে সাথে থাকতেন। যেই মানুষটিকে মক্কার রাস্তায় গালি দেওয়া হতো যাকে মানুষ নয় বরং পশুর মতো ব্যবহার করা হতো ইসলাম তাকে এমন এক অভাবনীয় মর্যাদা দিল যা তৎকালীন মক্কার বড় বড় সরদাররাও কল্পনা করতে পারেনি নবীজি যখন মদিনায় হিজরত করলেন এবং সেখানে প্রথম মসজিদ মসজিদে নববী তৈরি হল তখন নামাজের জন্য মানুষকে ডাকার একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতির প্রয়োজন হল। সাহাবীরা নানা রকম পরামর্শ দিলেন। এরপর হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে জায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু এবং হযরত রাদিয়াল্লাহু আনহু স্বপ্নে আযানের পবিত্র বাক্যগুলো শুনতে পেলেন এবং নবীজিকে এসে জানালেন আযানের এই উইশী বাক্যগুলো যখন নির্ধারিত হলো তখন প্রশ্ন এল কে দেবেন এই আযান নবীজি মদিনার বড় বড় বংশের কোন সাহাবীকে ডাকলেন না তিনি সেই কালো রোগা পাতলা সাবেক গোলাম হযরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে কাছে ডাকলেন নবীজি বললেন হে বিলাল তুমি আব্দুল্লাহ ইবনে জায়েদের কাছ থেকে বাক্যগুলো শিখে নাও ওঠো এবং নামাজের জন্য আযান কারণ তোমার কন্ঠস্বর অত্যন্ত সুমধুর এবং জোরালো। আল্লাহু আকবার। ভেবে দেখুন যে কন্ঠ একদিন তক্ত বালুর উপর শুয়ে চরম নির্যাতিত অবস্থায় আহাদ আহাদ বলেছিল আজ সেই কন্ঠ থেকেই উচ্চারিত হবে ইসলামের ইতিহাসের প্রথম আজান। আল্লাহু আকবার। আল্লাহু আকবার। হযরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু হয়ে গেলেন ইসলামের প্রথম মুয়াজ্জিন তার ভরাট দরদী এবং সুমধুর আজানের আওয়াজ মদিনার আকাশ বাতাসকে পবিত্র করে তুলল কিন্তু মক্কার সেই জালিমদের কি হলো যারা হযরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে পাথর চাপা দিয়েছিল তাদের বিচার কি হবে না আল্লাহ ছাড় দেন কিন্তু ছেড়ে দেন না হিজরী দ্বিতীয় সাল বদরের প্রান্তর মক্কার কাফিররা মুসলিমদের চিরতরে মুছে ফেলার জন্য বিশাল এক সুসজ্জিত বাহিনী নিয়ে এসেছে সেই বাহিনীর অন্যতম বড় নেতা ছিল সেই অহংকারী উমাইয়া বিন খালাফ হযরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু এর সেই সাবেক মনিব। যুদ্ধের ময়দানে তুমূ লড়াই চলছে। মুসলিমরা কাফিরদের উপর প্রবল আক্রমণ চালিয়েছে। কাফিররা যখন বুঝতে পারলো যে তারা হেরে যাচ্ছে তখন উমাইয়া নিজের প্রাণ বাঁচাতে পালানোর চেষ্টা করল। কিন্তু পালানোর সময় সে হযরত রহমান ইবনে আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহু এর হাতে ধরা পড়ল। হযরত রহমান রাদিয়াল্লাহু আনহু উমাইয়াকে বন্দী করলেন। হঠাৎ যুদ্ধের ময়দানে হযরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুর এর চোখ পড়ল সেই উমাইয়ার উপর। সেই মুখ সেই চেহারা যা দেখলে বিলালের পিঠের পুরনো দগদগে ক্ষতগুলো যেন আবারো যন্ত্রণায় জ্বলে উঠত। হযরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু হুংকার দিয়ে উঠলেন। উমাইয়া বিন খালাফ, তুই আজ বেঁচে গেলে আমার আর রক্ষা নেই। হযরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু আনসার সাহাবীদের ডাকলেন হে আল্লাহর সাহায্যকারীরা ওই দেখো আল্লাহর দুশমন উমাইয়া ও যেন আজ কোনভাবেই বাঁচতে না পারে সাহাবীরা চারদিক থেকে উমাইয়াকে ঘিরে ফেললেন মুহূর্তের মধ্যে সাহাবীদের তলোয়ারের আঘাতে বিশেষ করে হযরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু এর চোখের সামনেই সেই অহংকারী জালিম উমাইয়া বিন খালাফ মাটির উপর লুটিয়ে পড়ল যে উমাইয়া একদিন বিলালকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছিল আজ সেই উমাইয়াকে বিলালের পায়ের কাছেই চরম লাঞ্ছনার সাথে করুণ মৃত্যুবরণ করতে হলো। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন দুনিয়াতেই জালিমের বিচার করে দিলেন। দিন গড়িয়ে বছর গেল হিজরী অষ্টম সাল। এলো সেই ঐতিহাসিক মক্কা বিজয়ের দিন। নবীজি 100 হাজার সাহাবীর এক বিশাল বাহিনী নিয়ে বিজয়ী বেশে মক্কায় প্রবেশ করলেন। কোন রক্তপাত হলো না। কাবার চারপাশ থেকে 360 টি মূর্তি ভেঙে চুরমার করে পরিষ্কার করা হলো। কাবার পবিত্র দরজা খোলা হলো। নবীজি চাইলেন মক্কার মাটিতে খোদ কাবার বুকে আজ আজান হোক কিন্তু কে দেবেন এই আজান নবীজি ডাকলেন তার প্রিয় মুয়াজ্জিনকে তিনি বললেন হে বিলাল কাবার ছাদে ওঠো আর আজান দাও সুবহানাল্লাহ একটু চোখ বন্ধ করে চিন্তা করে দেখুন দৃশ্যটা মক্কার যে রাস্তায় হযরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে গলায় দড়ি বেঁধে টেনে হিচড়ে ঘোরানো হতো আজ সেই বিলালের পায়ের নিচে সেই পবিত্র কাবা ঘর আর মক্কার সেই অহংকারী অভিজাত নেতারা নিচে দাড়িয়ে অবাক হতভাগ হয়ে দেখছে একজন কালো আফ্রিকান বংশোদ্ভূত সাবেক গোলাম কাবার ছাদে দাঁড়িয়ে দরাজ কন্ঠে ঘোষণা করছে আল্লাহু আকবার আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এই হল হযরত বিলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু এর জীবন। একজন সাধারণ গোলাম থেকে ঈমানের শক্তিতে বলিয়ান হয়ে তিনি কিভাবে ইসলামের আকাশে এক উজ্জ্বল নক্ষত্রে পরিণত হয়েছিলেন তা আজীবন পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। হবে।
Get free YouTube transcripts with timestamps, translation, and download options.
Transcript content is sourced from YouTube's auto-generated captions or AI transcription. All video content belongs to the original creators. Terms of Service · DMCA Contact