একদিন হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম আল্লাহর আদেশে সিরিয়ার দিকে রওনা হলেন অতঃপর পথ চলতে চলতে নমরুদের দেশের সীমান্ত পেরিয়ে তিনি এক নতুন দেশে পৌঁছালেন। যখন তিনি খাজানা ওয়াজা নামক স্থানে পৌঁছালেন তখন তিনি দেখলেন যে লোকেরা খুব সুন্দর সুন্দর পোশাক পরিধান করে একই দিকে ছুটে চলেছে। তাই হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম এই দৃশ্য দেখে বিস্মিত হলেন এবং অবাক হয়ে তিনি একজন [মিউজিক] লোককে জিজ্ঞাসা করলেন ভাই এই লোকেরা কোথায় যাচ্ছে লোকটি তখন বলল জনাব সাতদিন ধরে আমাদের বাদশার একমাত্র মেয়ে সাইরা খাতুন তার পছন্দের স্বামী বেছে নেওয়ার জন্য লোকদের ডাকছেন। তাই প্রতিদিন মহলে একটি বড় জলসা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত সায়রা খাতুনের কাউকে পছন্দ করা হয়নি। লোকটির এমন এই কথা শুনে হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের মনেও ইচ্ছা জাগল তাই তিনি বললেন চলো আমিও দেখি কি ব্যাপার তিনি সবেমাত্র মনস্থির করেছিলেন তখনই আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে একটি আওয়াজ এলো হে ইব্রাহিম তুমি সেই জলসায় যাও কারণ আমার সিদ্ধান্ত এই যে সেই রাজকুমারীর বিবাহ আমি তোমার সাথে করিয়ে দেব আল্লাহর আদেশ পেয়ে হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম রাজমহলের দিকে চললেন। অতঃপর অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি এক বিশাল জনসমাদেশে পৌঁছালেন। এত ভিড় যে সামনে তো দূরের কথা মাঝখানেও জায়গা ছিল না। তাই তিনি পেছনে গিয়ে একটি খেজুর গাছের নিচে দাঁড়িয়ে গেলেন। তারপর অল্প সময়ের মধ্যেই অত্যন্ত সুন্দরী নূরানী চেহারা নিয়ে রাজকুমারী সাইরা খাতুন তার সখীদের সাথে মঞ্চে এলেন। তার হাতে ছিল হীলাম মুক্তা খোচিত একটি [মিউজিক] মুকুট। তিনি একে একে প্রতিটি মানুষকে দেখতে লাগলেন কিন্তু কারোর উপর তার দৃষ্টি স্থির হলো না। অবশেষে তিনি পেছনের দিকে এলেন এবং হঠাৎ তার দৃষ্টি থেমে গেল হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের দিকে। কারণ তার কপালে জ্বলজল করছিল নূর মোহাম্মদী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। এমন নূর যে পুরো মাহফিল আলোকিত হয়ে গেল। সায়রা খাতুনের দৃষ্টি কেবল সেই নূরের উপরই স্থির হলো। তার শ্বাস যেন থেমে গেল এবং তারপর তিনি ধীরে ধীরে হযরত ইব্রাহিমের সামনে এসে থেমে গেলেন। এখান থেকেই শুরু হলো এক পবিত্র ও বিশ্বয়কর কাহিনী যা আল্লাহতালা নিজেই নির্ধারণ করেছিলেন। ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের কপালে যে নূর ছিল সেই নূরের আভা দেখে রাজকুমারী যেন মুগ্ধ হয়ে গেলেন। তার চোখ [মিউজিক] কেবল ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের উপরে স্থির হয়ে রইল। কিছু মুহূর্ত এভাবেই তাকে দেখতে থাকলেন এবং তারপর হঠাৎ তিনি নিজের হাতে মুক্তাখোচিত রাজকীয় মুকুট তুললেন এবং ধীরে [মিউজিক] ধীরে হাসতে হাসতে সেই মুকুট ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের মাথায় পড়িয়ে দিলেন যেমনই মুকুট তার মাথায় রাখা হলো পুরো দরবার করতালি ধ্বনিতে ভরে উঠলো চারদিক থেকে আওয়াজ আসতে লাগলো মোবারক হো মোবারক হো রাজকুমারীর সাথী ও প্রহরীরা ছুটে এলেন এবং রাজকুমারীর আদেশে ইব্রাহিম আলাইহিস সালামকে তুলে গোসলখানার দিকে কে নিয়ে গেলেন যাতে তাকে রাজকীয় ভঙ্গিতে সাজানো যেতে পারে। ওদিকে অল্প সময়ের মধ্যেই খবর রাজার কাছে পৌঁছালো যে তার একমাত্র মেয়ে রাজকুমারী সাইরা তার বর বেছে নিয়েছে। এই কথা শুনেই রাজার মুখ আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে উঠলো। তিনি তৎক্ষণাৎ ঘোষণা করলেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রাজকুমারী সায়রার নিকাহ করিয়ে দেওয়া হোক। আদেশ পেতেই চারদিকে দাওয়াত পাঠিয়ে দেওয়া হলো। রাজমহল মানুষে ভরে গেল। গায়ক-বাদক রাধুনি সবাই নিজের নিজের কাজে লেগে গেল। রাজমহলের কোনে কোনে আনন্দ ছড়িয়ে পড়ল। এদিকে হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামকে রাজকীয় পোশাক পড়ানো হলো। তিনি তো এমনিতেই তার সময়ের সবচেয়ে সুন্দর মানুষ ছিলেন। কিন্তু যখন তিনি সেই রাজকীয় পোশাক পড়লেন, তখন তার উজ্জ্বল চেহারা আরো নূরানী লাগতে লাগল। লোকেরা হতবাক হয়ে গেল। এমন চেহারা তো হয়তো আকাশ থেকে কোন ফেরেশতাই নিয়ে এসেছেন। প্রতিটি মুখ থেকে কেবল একটি কথাই বেরোলো। রাজকুমারী সায়রা তো সত্যিই নিজের জন্য যোগ্য বর বেছে নিয়েছেন। অতঃপর অল্প সময়ের মধ্যেই রাজা দুজনকে একটি সোনালী সিংহাসনে বসালেন এবং দরবারের সব লোক ঝুঁকে সালাম করতে লাগলো। তারপর পুরো দেশে আনন্দ ছড়িয়ে পড়ল। ঢোল, নাকারা, নাচ, গান পুরো মহল যেন আনন্দে কেঁপে উঠলো। যখন সব থেমে গেল তখন রাজার আদেশে একজন মুসলিম আলেমকে ডাকা হলো এবং তার হাতে হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম এবং বিবি সায়রার নিকাহ সম্পন্ন হলো কি চমৎকার মাহফিল ছিল সেটি চারিদিকে সুগন্ধ আলো এবং দোয়া এরপরে ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম রাজকুমারীর স্বামী হয়ে সেই পুরো রাজ্যে ইজ্জত এবং সম্মানের মালিক হয়ে গেলেন। সবসময় তার চারপাশে চাকর, গোলাম এবং দাসীরা হাজির থাকতো। তাদের আদেশের অপেক্ষায় থাকতো। কিছু বছর এই আরাম এবং শান্তিতে কেটে গেল। তারপর একদিন আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের আদেশে জিব্রাইল আলাইহিস সালাম হাজির হলেন এবং বললেন, "হে আল্লাহর নবী, আপনাকে আপনার রব আদেশ দিয়েছেন যে, আপনি সিরিয়া সামের দিকে হিজরত করুন।” যখন হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম জিব্রাইল আলাইহিস সালামের পক্ষ থেকে ওহীর আওয়াজ শুনলেন তখন তার মন অস্থির হয়ে উঠলো। নবুয়াতের দায়িত্ব পালনের জোষ তার ভিতর উথলে উঠলো। তিনি তৎক্ষণৎ নিজের শ্বশুর রাজা সাহেবের কাছে গিয়ে বললেন, হে বাদশাহ, আমি কোন সাধারণ মানুষ নই। আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত নবী ও রাসূল, আমার উদ্দেশ্য এই আরাম ও আয়েশের জীবন নয় বরং পথভ্রষ্ট মানুষদের আল্লাহর পথ দেখানো। আমার রব আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যে আমি এখান থেকে বেরিয়ে সিরিয়া শামের দিকে হিজরত করি। রাজা যখন এই কথাগুলো শুনলেন তখন তিনি খুশিতে হেসে উঠলেন তিনি ইব্রাহিম আলাইহিস সালামকে বিদায় হওয়ার অনুমতি দিলেন এবং দোয়ার সাথে বললেন যাও আল্লাহ তোমার সাথে থাকুন। তারপর ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম নিজের স্ত্রী সায়রা এবং দুই প্রহরীকে সাথে নিয়ে সিরিয়ার দিকে রওনা হলেন। শহর থেকে শহর, বস্তি থেকে বস্তি, শহরগুলো পার হতে হতে তারা ধীরে ধীরে সিরিয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। এইভাবে একদিন ও এক রাতের সফরের পর তারা যখন মিশরের সীমান্তে পৌঁছে গেলেন, তখন সেখানে কিছু মানুষের সাথে তাদের দেখা হলো। সেই মানুষগুলো তাদের দেখে বলল, আপনারা কোথায় যাচ্ছেন? আপনারা কি জানেন না যে মিশরের বাদশা বড় জালিম ও বদকার মানুষ সে রাস্তায় রাস্তায় নিজের সিপাহী বসিয়ে রাখে যাতে যে কোন মাল দৌলত নিয়ে যায় তার কাছ থেকে জোর করে ছিনিয়ে নেওয়া হয় আর যদি কোন সুন্দরী মহিলা দেখা যায় তাহলে তাকে [মিউজিক] ধরে রাজমহলে নিয়ে যাওয়া হয় যেখানে বাদশা তার অপমান করে তাই আপনারা মিশরে যাবেন না নিজেদের রাস্তা বদলে নিন এই কথা শুনে হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম খুব চিন্তায় পড়ে গেলেন। তিনি মাথা নিচু করে নিলেন এবং আল্লাহর সামনে ফরিয়াদ করতে লাগলেন হে আমার রব আমি কি করব তখনই আল্লাহ বললেন হে ইব্রাহিম আমার নির্দেশে মিশরের রাস্তা ধরো সিরিয়া যাওয়ার এটাই রাস্তা হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম আল্লাহর নির্দেশ শুনলেন এবং ভর্ষার সাথে মিশরের দিকে চলতে লাগলেন। অতঃপর রাস্তায় কিছুদূর যাওয়ার পর তিনি একটি কৌশল ভাবলেন। কারণ এখন তিনি জানতেন যে মিশরের বাদশা বদনিয়ত মানুষ এবং তার লোকেরা ডাকাত তাই তিনি নিজের স্ত্রী বিবি সায়রাকে একটি কাঠের সিন্দুকে বসালেন এবং সেটি নিজের মাথায় রেখে চলতে লাগলেন। কিন্তু কিছুদূর যাওয়ার পর হঠাৎ কিছু প্রহরী তাদের থামিয়ে দিল। তারা বলল থামো তোমাদের কাছে যা কিছু আছে সব আমাদের হাতে তুলে দাও। আর এই বাক্স এতে কি আছে আমাদের এটি দেখতে হবে। তখন হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম বিনয়ের সাথে বললেন আমার কাছে যত দৌলত আছে সব নিয়ে নাও কিন্তু এই বাক্সটি খুলোনা কিন্তু প্রহরীরা তার কথাকে একটুও পরোয়া করল না তারা বাক্সটি ছিনিয়ে নিল এবং জোর করে তার ঢাকনা খুলে দিল যখন প্রহরীরা সেই বাক্সটি খুলল তখন সবার চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল কারণ ভেতরে বসেছিল এক সুন্দরী রূপসী মহিলা তিনি ছিলেন বিবি সায়রা তিনি সেই সময়ের সবচেয়ে সুন্দরী ও পবিত্র চরিত্রের মহিলা ছিলেন। প্রহরীরা যেই তার চেহারা দেখলো সবাই থেমে গেল অবাক হয়ে গেল এবং তারপর শুরু হয়ে গেল এক অদ্ভুত প্রতিযোগিতা। সবাই চাইছিল আমি এই রুপসীকে বাদশাহর সামনে পেশ করবো যাতে পুরস্কার আমি পাই। কারণ সেই সময় মিশরের বাদশাহর নির্দেশ ছিল যে তাকে খুশি করবে তাকে সোনা, রুপা এবং দৌলত পুরস্কার দেওয়া হবে। তাই প্রহরীদের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়ে গেল। সবাই সায়রাকে ধরে নিজের দিকে টানছিল এবং সবাই মিলে বিবি সায়রাকে নিয়ে ধীরে ধীরে রাজমহলের দিকে চলতে লাগলো। হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম এবং তার প্রহরীরা অসহায় চোখে সবকিছু দেখতে দেখতে তাদের পেছনে চলতে লাগলেন। কিছুক্ষণের মধ্যে তারা রাজদরবারে পৌঁছে গেলেন এবং প্রহরীরা বিবি সায়রাকে রাজার সামনে পেশ করে দিল। রাজা যখন বিবি সায়রাকে দেখল তখন তার চোখ স্থির হয়ে গেল এবং বলল বাহ কি রুপসী তারপর সে প্রহরীদের বড় পুরস্কার দিল সে হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের দিকে তাকিয়ে [মিউজিক] জিজ্ঞেস করল হে অপরিচিত এই মহিলার সাথে তোমার কি সম্পর্ক হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম শান্ত স্বরে জবাব দিলেন সে আমার স্ত্রী ইব্রাহিম নবীর কথা শুনে রাজার চেহারা বদলে গেল সে বলল নিজের স্ত্রীকে আমার হাতে তুলে দাও তখন ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম বললেন, এটা আমার সাধ্যে নেই। তখন রাজা চিৎকার করে বলল, এখন তোমার মতামতের কোন প্রয়োজন নেই। সে এখন আমার হবে এবং সব সময় আমার কাছে থাকবে। [মিউজিক] এতটুকু বলে সে নিজের দাস-দাসীদের নির্দেশ দিল, এই মহিলাকে স্নান করাও, সুগন্ধি ও খুশবু দিয়ে সুবাসিত করো। রাজকীয় [মিউজিক] পোশাক পরিয়ে এবং তাকে আমার ঘরে নিয়ে গিয়ে বিছানায় বসিয়ে দাও। অতঃপর দাস-দাসীরা বিবি সায়রাকে ভিতরে নিয়ে গিয়ে খুব সাজিয়ে দিল এবং তারপর তাকে রাজার ঘরে সাজিয়ে বসিয়ে দিল। সেই সময় হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম দরবারের এক কোণে বসে আল্লাহর কাছে দোয়া করছিলেন হে আমার রব আমার স্ত্রীর ইজ্জত রক্ষা করো। আল্লাহ তাআলা নিজের রহমতে তাদের সামনে থেকে পর্দা তুলে দিলেন যাতে তিনি দূর থেকে সবকিছু পরিষ্কার দেখতে পান যে তাদের সাথে কি হচ্ছে ওদিকে যখন বিবি সারাকে সাজিয়ে রাজার ঘরে বসানো হলো তখন রাজা ধীরে ধীরে ঘরের দিকে এগিয়ে গেলেন তিনি ঘরে ঢুকে সায়রাকে দেখলেন এবং বললেন এসো হে সুন্দরী আমার কাছে এসো এত সুন্দরী নারী আমি আমার জীবনে কখনো দেখিনি আজ তুমি আমার আমি ভাগ্যবান যে তোমাকে পেয়েছি। এই বলে তিনি এগিয়ে গেলেন এবং সায়রাকে ছোয়ার চেষ্টা করলেন। কিন্তু সেই মুহূর্তে আল্লাহর আযাব নেমে এল। রাজার দুটি হাত অবাস হয়ে গেল। তিনি কাঁপতে লাগলেন পিছিয়ে গেলেন। মুখে ভয় এবং ব্যথা স্পষ্ট ফুটে উঠলো। তিনি বললেন, হে পবিত্র নারী আমাকে ক্ষমা করে দাও। আমার উপর রহম করো। আমি তোমার কাছে তওবা করছি। কখনো তোমাকে হাত দেবো না। রাজার কষ্টকর অবস্থা দেখে সায়রার মনে দয়া এলো। তিনি হাত তুলে এবং কাঁদতে কাঁদতে আরজ করলেন হে আল্লাহ তুমি এই রাজাকে হেদায়েত দাও এবং তাকে [মিউজিক] পুরোপুরি সুস্থতা দান করো। সায়রার দোয়া কবুল হয়ে গেল। আল্লাহ তাআলা সঙ্গে সঙ্গে রাজার হাত পুরোপুরি [মিউজিক] ঠিক করে দিলেন। রাজা অনেকক্ষণ সাঁরাকে সামনে বসিয়ে দেখতে থাকলেন। তারপর হঠাৎ উত্তেজনায় এসে সায়রার কাছে আসতে লাগলেন। তিনি তাকে আলিঙ্গন করার জন্য এগিয়ে গেলেন। কিন্তু যেই তিনি সায়রার কাছে পৌঁছালেন আল্লাহ তা'আলার গজব তার উপর নেমে এলো। তার দুটি পা হাঁটু পর্যন্ত মাটিতে ডুবে গেল। রাজা ভয়ে কাঁপতে লাগলেন তিনি চিৎকার করতে লাগলেন সায়রা আমাকে বাঁচাও আমার জন্য দোয়া করো আমি তওবা করছি তখন সায়রা কঠোর সুরে বললেন আল্লাহর সাথে ঠাট্টা করার শাস্তি এর চেয়েও ভয়ঙ্কর হতে পারতো আমি তোমার জন্য দ্বিতীয়বার দোয়া করতে পারি না আমার স্বামী একজন নবী হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম তিনি সামনে বৈঠকখানায় আছেন যাও [মিউজিক] তার কাছে ক্ষমা চাও আমি একবার তোমার জন্য দোয়া করেছিলাম আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করেছিলেন। কিন্তু তুমি আবার সেই গুনাহটি করেছো। আমার দিকে খারাপ দৃষ্টি [মিউজিক] দিয়েছো। এখন যদি আমার স্বামী তোমাকে ক্ষমা করে দেন তাহলে হয়তো আল্লাহও তোমাকে ক্ষমা করে দেবেন। অসহায় রাজা আদেশ দিলেন ইব্রাহিম আলাইহিস সালামকে ভিতরে আনো। কর্মচারীরা দৌড়ে গেল এবং হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামকে হাজির করল। সবাই যখন রাজার অবস্থা দেখল তখন কেউ হাসতে লাগলো। কেউ অবাক হয়ে গেল। মানুষের হাসি দেখে রাজা ভেঙে পড়লেন এবং হযরত ইব্রাহিমের দিকে তাকিয়ে বললেন হে আল্লাহর নবী আমি আপনাকে চিনতে পারিনি আমি আপনার স্ত্রীকে চিনতে পারিনি তাই আমি গুনাহ করে ফেলেছি খোদার কসম আমার জন্য দোয়া করে দিন আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করে দিন এবং আমাকে আবার ঠিক করে দিন হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম মাথা নিচু করলেন এবং মন থেকে সেই রাজার জন্য দোয়া করলেন। হে আল্লাহ তাকে হেদায়েত দাও এবং তাকে নিজের রহমতে সুস্থতা দান করো দোয়া [মিউজিক] শেষ হলো এবং সবার চোখের সামনে মোজেজা হয়ে গেল রাজার শরীর পুরোপুরি ঠিক হয়ে গেল যে অংশ মাটিতে ডুবে গিয়েছিল তা বাইরে বেরিয়ে এল এখন তিনি কাঁদতে কাঁদতে [মিউজিক] হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের পায়ে পড়ে গেলেন এবং বললেন জনাব আমি আপনার স্ত্রীর সাথে যে বেয়াদবি করেছি তার শাস্তি আপনি আমাকে দিন আমাকে তওবার সুযোগ দিন আমি প্রতিজ্ঞা করছি এখন জীবনে কখনো গুনাহ করবো না। রাজা জোরে জোরে কাঁদতে লাগলেন। তার আওয়াজ প্রাসাদে প্রতিধ্বনিত হলো। অতঃপর হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম রহমত ভরা দৃষ্টিতে তার দিকে তাকালেন। দুই রাকাত নামাজ আদায় করলেন এবং তারপর মন থেকে দোয়া করলেন। হে পরম করুণাময় আল্লাহ এই বান্দাকে ক্ষমা করে দাও। এবং সেই মুহূর্তে রাজার হৃদয়ে তওবাতে ভরে গেল। রাজার চোখে জল চলে এল। তিনি সায়রা এবং ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের মোজেজা দেখে হতবাক হয়ে গেলেন এবং চিন্তায় পড়ে গেলেন। এই দুজন কোন সাধারণ মানুষ নয়। এরা তো আল্লাহর নির্বাচিত বান্দা। তাই তিনি দুজনকে রাজকীয় প্রাসাদের সবচেয়ে উঁচু এবং সম্মানিত স্থানে জায়গা করে দিলেন। এখন হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম সেই দরবারে সম্মানিত উপদেষ্টা হিসেবে থাকতে লাগলেন। তিনি ভাবলেন যদি এই বাদশাকে পুরোপুরি ইসলামের শিক্ষা দেওয়া যায় তাহলে তার মাধ্যমে পুরো মিশরে ইসলামের বার্তা ছড়িয়ে যেতে পারে। তাই ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম আল্লাহ তাআলার কাছে অনুমতি চাইলেন যে কিছু সময়ের জন্য সেখানেই থাকবেন এবং আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন নিজের নবীর দোয়া কবুল করে নিলেন। তারপর তিনি মিশরের রাজকীয় প্রাসাদে আরো কিছুদিন থাকতে লাগলেন। বাদশাহকে সালতানাতের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে উপদেশ দিতে লাগলেন। তিনি বললেন রাজ্যে অত্যাচার, দুর্নীতি, অবিচার ও অপহরণ চিরতরে শেষ করে দাও। আল্লাহর আইন অনুযায়ী এই দেশ চালাও। বাদশা তাদের জ্ঞান ও রহমতপূর্ণ চরিত্র দেখে এত মুগ্ধ হলেন যে তিনি আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করলেন এবং ইসলাম গ্রহণ করলেন। ধীরে ধীরে পুরো মিশরে মানুষ হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের হাতে ইসলাম গ্রহণ করতে লাগলো। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হতে লাগল। তারপর একদিন যখন মিশরে ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেল তখন হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম বাদশার সাথে দেখা করতে এলেন। তিনি নরম সুরে বললেন হে বাদশাহ আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নির্দেশ যে এখন আমাকে রওনা হতে হবে। যদি আপনার অনুমতি হয় তাহলে আমি শাম সিরিয়ার দিতি সফর করতে চাই। বাদশাহ এটা শুনে দুঃখিত হলেন এবং বললেন হে আল্লাহর নবী আমি আপনার রহমত এবং আপনার কল্যাণ কখনো ভুলতে পারবো না। আমি আপনাকে একটি উপহার দিতে চাই। তারপর তিনি তার বিশেষ লোকদের নির্দেশ দিলেন যে হাজেরাকে মহলে নিয়ে এসো। কিছুক্ষণ পরেই বিবি হাজেরাকে হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম এবং সায়রার সামনে পেশ করা হলো। বাদশাহ তখন বললেন হে আল্লাহর নবী আপনি আমার উপর যে রহমত ও হেদায়েত করেছেন তার শুকরিয়া স্বরূপ আমি এই পবিত্র নারীটিকে আপনাকে উপহার হিসেবে পেশ করছি। প্রিয় দর্শক এখানে এটা জেনে রাখা জরুরি যে এই হাজেরাই পরবর্তীতে সেই বরকতময় নারী হয়েছিলেন যার ঘরে হযরত ইসমাইল আলাইহিস সালামের জন্ম হয়েছিল এবং যার শ্রমণে সাফা মারওয়ার সাই এবং জমজমের ইতিহাস তৈরি হয়েছিল। এই হাজেরার বংশ থেকেই আমাদের প্রিয় নবী রাহমাতুল্ল আলামিন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করেছিলেন। আসলে বিবি হাজেরা কোন সাধারণ দাসী ছিলেন না। তিনি ছিলেন এক উচ্চ বংশের শরীফ নারী। কিন্তু সেই যুগে যুদ্ধে হেরে যাওয়া পুরুষ ও নারীদের গোলাম ও দাসী বানিয়ে নেওয়া হতো। কোন [মিউজিক] যুদ্ধে যখন তাদের গোত্র পরাজিত হয়েছিল, তখন হাজেরা এবং তার লোকেরা বন্দী হয়ে মিশরের বাদশার দখলে চলে এসেছিলেন, এবং সেখান থেকেই আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি নবীর প্রিয় স্ত্রী হয়েছিলেন এবং ইসলামের ইতিহাসে অমর হয়ে গিয়েছিলেন এবং একইভাবে সেই ধারাবাহিকতায় বিবি হাজেরা তার স্বাধীনতা হারিয়েছিলেন এবং তিনি একজন দাসী হিসেবে পরিচিত হয়েছিলেন। এরপরে হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম হাজেরাকে উপহার হিসেবে গ্রহণ করলেন। তারপর তিনি বাদশার কাছে একটি অনুরোধ করলেন। তিনি বললেন হে মহান বাদশাহ যেহেতু এখন আমি মিশর ছেড়ে শাম সিরিয়ার দিকে রওনা হতে চলেছি তাই আমার মন চায় যে রওনা হওয়ার আগে আমি এই দেশের লোকদের কিছু শেষ উপদেশ দিতে চাই। বাদশাহী কথা শুনলেন এবং সাথে সাথে পুরো দেশে ঘোষণা করিয়ে দিলেন একটি বিশেষ দিনে সমস্ত লোক বিশেষ করে ধনী গরীব এবং বড় বড় অফিসাররা একটি ময়দানে একত্রিত হবে যেখানে আল্লাহর নবী ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম তাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন তারপর সেই দিনটি এসে গেল পুরো মিশর সেই ময়দানে একত্রিত হলো চারিদিকে ভিড় নীরবতা এবং আধ্যাত্মিক অনুভূতি চেয়েছিল যখন হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম মঞ্চে এলেন তখন চারদিকে নীরবতা নেমে এল। তিনি তার হাত আকাশের দিকে উঠিয়ে বললেন, হে লোকেরা আল্লাহ তাআলাকে ভয় করে জুলুম, অবিচার, লোভ এই সব থেকে দূরে থাকো। আল্লাহই সবকিছু দানকারী। তারই ওপর ভরসা রাখো। নবীর কন্ঠে এমন আধ্যাত্মিকতা ছিল যে, ময়দানে বসা প্রতিটি মানুষের চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে গেল এবং মানুষের হৃদয় কেঁপে উঠলো। প্রতিটি মুখ থেকে বের হলো আমরা ওয়াদা করছি হে আল্লাহর নবী আমরা সারাজীবন ইসলামের পথে অবিচল থাকবো। যখন এই আধ্যাত্মিক মজলিস শেষ হলো তখন হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম সেজদায় ঝুঁকে আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া আদায় করলেন এবং বললেন হে আমার রব তুমি তোমার রহমত দিয়ে এই লোকদের হৃদয়ে আলো ভরে দিয়েছো। তারপর তিনি ধীরে ধীরে বাদশার সাথে মহলের দিকে রওনা হলেন। পরের দিনই হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম বাদশাহ এবং সমস্ত দেশবাসীর কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার প্রস্তুতি নিলেন। মহলে নীরবতা নেমে এসেছিল। প্রতিটি মুখ বিষন্ন প্রতিটি দৃষ্টিতে ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা ঝলমল করছিল কারণ তিনি চলে যাচ্ছিলেন আল্লাহর নবী যিনি মিশরকে অন্ধকার থেকে বের করে ঈমানের আলোতে ডুবিয়ে দিয়েছিলেন তো প্রিয় দর্শক এই ছিল আমাদের আজকের এই ভিডিও কেমন লাগলো কমেন্ট করে আমাদের অবশ্যই জানাবেন আলো ঘর পবিত্র [মিউজিক] পথের যাত্রা হেদায়েতের ঠিকানা
Get free YouTube transcripts with timestamps, translation, and download options.
Transcript content is sourced from YouTube's auto-generated captions or AI transcription. All video content belongs to the original creators. Terms of Service · DMCA Contact