প্রিয় বন্ধুরা আজকের যে [মিউজিক] গল্পটি তা খুবই চমৎকার। আমি দাবির সাথে বলতে পারি যে এর চেয়ে ভালো ও সুন্দর গল্প আপনি আগে কখনো শোনেননি। পারস্যের মূলকে ফারস বাদশা তার চাঁদের মত সুন্দরী রাজকন্যাকে কেন একজন গরীব কাঠুরের সাথে বিয়ে দিয়ে দিলেন? শেষমেষ রাজকন্যা এমনকি গুনাহ করেছিলেন যার জন্য তাকে এত বড় সাজা পেতে হলো। তারপর বিয়ের পর রাজকন্যা জুলেখাকে এক ভয়ঙ্কর জিন উঠিয়ে নিয়ে গেল। এরপর সেই জিন রাজকন্যার সাথে যা করল তা শুনলে আপনি নিশ্চিতভাবে [মিউজিক] অবাক হয়ে যাবেন। তো বন্ধুরা গল্পটি খুবই মজাদার এবং শিক্ষণীয়। তাই আপনাদের কাছে অনুরোধ গল্পটি শেষ পর্যন্ত অবশ্যই শুনবেন। তবেই আপনি পুরো গল্পটি বুঝতে পারবেন। পুরানো জামানায় মুল্কি ফার্জ ছিল এক বিশাল ও সুন্দর দেশ। এর ওপর শাহী বাদশার হুকুমত চলতো। যিনি ছিলেন অত্যন্ত দয়ালু এবং প্রজাদের মঙ্গলকামী একজন বাদশা। বাদশাহ নিজ দেশের গরীব মানুষের প্রতি মহব্বত এবং সমবেদনার চর্চা দূর-দূরান্ত পর্যন্ত মসুর ছিল। বাদশার একটি কন্যা ছিল যার নাম ছিল শাহজাদী জুলেখা। বাবার মতো মেয়েও ছিল গরীবদের হিতাকাঙ্ক্ষী ও নেক দিল। মানুষের সমস্যা সমাধান করতে সে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আগ্রহ দেখাতো। এই জন্যই মানুষের মনে শাহজাদীর প্রতি অত্যন্ত ইজ্জত ছিল। শাহজাদী জুলেখা অনেক ইতিমখানা বানিয়েছিলেন এবং এতিম শিশুদের পড়ার জন্য স্কুলও তৈরি করিয়েছিলেন। এছাড়া একটি বিশাল হাসপাতাল ছিল যেখানে মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসা হতো এবং মানুষ তাকে দোয়া করত শাহজাদী জুলেখা নেককার হওয়ার পাশাপাশি অত্যন্ত সুন্দরীও ছিলেন এটাই কারণ ছিল যে দূর-দূরান্তের অনেক শাহজাদা তাকে বিয়ে করার জন্য আগ্রহী ছিল কিন্তু শাহজাদীর আজ পর্যন্ত কোন সম্বন্ধ পছন্দ হলো না শাহজাদী জুলেখা শুধু বাইরের রূপ চাকচিক্য আর দাপুর দেখে প্রভাবিত হওয়ার মতো মেয়ে ছিলেন না বরং তিনি নিজের কর্মচারীদের মাধ্যমে সমস্ত আগ্রহী শাহজাদ দের গোপনে চরিত্র সম্পর্কে খবর নিতেন। কিন্তু দেখা যেত এদের মধ্যে প্রায় সব শাহজাদাই মধ্যপায়ী এবং চরিত্রহীন ছিলেন। আর যে শাহজাদারা মধ্যপ্রাণ থেকে দূরে থাকতো তারা ছিল এতটাই পাষান হৃদয় ও দয়ালুহীন যে তাদের দেশের গরীব মানুষ তাদের নাম শুনলেই থরথর করে কাঁপতো। তাই কোন শাহজাদায় নিজের চরিত্রের বদৌলতে শাহজাদিকে প্রভাবিত করতে পারল না। একদিন শাহজাদী জুলেখা বাগানে ধীরে ধীরে হাঁটছিলেন। বাদশাহ তার উপর রাগান্বিত ছিলেন কারণ বার্ধক্যের কারণে এখন আর তার মধ্যে সেই সামর্থ্য বাকি ছিল না যে শাসনকার্য ঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারেন। তাই তিনি চেয়েছিলেন শাহজাদী যেন মুলকে ফারসের কোন শাহজাদাকে বিয়ে করে সালতানাতের দায়িত্ব তার হাতে সোপে দেন। কিন্তু শাহজাদী বারবার যেকোনো শাহজাদাকে গ্রহণ করতে মানা করে দিচ্ছিলেন। তাই বাদশাহ তার উপর ভীষণ রেগে থাকতেন| কারণ তিনি চেয়েছিলেন নিজের জীবদ্দশাতেই এই দায়িত্ব পালন [মিউজিক] করতে| কিন্তু শাহজাদী জুলেখার স্বভাবে একটু জেদও ছিল| তিনি বাদশাহকে সাফ জবাব দিয়ে দিলেন যে আপাতত তার মন কোন শাহজাদাকে গ্রহণ করার জন্য তৈরি নয় তবে মনে মনে শাহজাদী নিজেও খুব চিন্তিত থাকতেন কারণ বাদশার স্বাস্থ্যের খুব অবনতি হয়েছিল এবং তিনি প্রায়ই অসুস্থ হতে শুরু করেছিলেন। শাহজাদী জুলেখা বাগানে হাঁটতে হাঁটতে ভাবছিলেন কিন্তু সিদ্ধান্তের কোন কুল কিনারা পাচ্ছিলেন না। এভাবে হাঁটতে হাঁটতে না জানি কত সময় পার হয়ে গেল যে হঠাৎ তার কানে তার বান্ধবী উজির কন্যা হামিদা বেগমের কণ্ঠ পড়ল। শাহজাদী হুজুর তো না জানি কোন ভাবনায় ডুবে আছেন। হামিদা বেগম কাছে এসে বেশ অমাইক ভঙ্গিতে বলল। কারণ তারা দুজনেই সমবয়সী ছিল। অর্থাৎ শাহজাদী জুলেখা এবং উজির কন্যা হামিদা বেগম একই বয়সে ছিলেন। মহলেও দুজনে একসাথে বড় [মিউজিক] হয়েছিলেন। তাই দুজনের মধ্যে অত্যন্ত সক্ষ্যতা ও ঘনিষ্ঠতা ছিল। শাহজাদী জুলেখা হেসে জবাব দিল সবাই তো কিছু না কিছু ভাবতে থাকে। তাই স্বাভাবিকভাবেই আমিও কিছু না কিছু ভাবছিলাম। হামিদা বেগম বলল, আমি তো এটাই জানতে চাই যে আপনার ভাবনার কেন্দ্রবিন্দু কে? আসলে সেই ভাগ্যবান ব্যক্তিটি কে যার কথা ভেবে আপনি এতটা মগ্ন হয়ে আছেন? শাহজাদী জুলেখা দুষ্টু চোখে তার দিকে তাকিয়ে বলল তুমি কি সত্যিই জানতে চাও আমি কার কথা ভাবছিলাম হামিদা বেগম গভীর আগ্রহ নিয়ে বলল হ্যাঁ অবশ্যই আমার এটা জানার খুব ইচ্ছে হচ্ছে শাহজাদী জুলেখা বলল তবে শোনো আমি আব্বা হুজুরের কথা ভাবছিলাম শাহজাদী জুলেখা এই কথাটি বলতেই এক মুহূর্তের জন্যে হামিদা বেগম স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল যেন সে কথাটি বুঝতে পারিনি আর পরের মুহূর্তেই তার মুখ থেকে খিলখিল করে হাসি বেরিয়ে এল এবং সে এতটাই হাসতে লাগল যে পেটে খিল ধরে গেল শাহজাদী জুলেখা নিজেও অঝরে হাসছিলেন। বেশ কিছুক্ষণ তারা দুজনে হাসাহাসি করল। তারপর ধীরে ধীরে গম্ভীর হয়ে গেল। হামিদা বেগম বলল, শাহজাদী জুলেখা আমি শুনেছি বাদশাহ আপনার উপর খুব রাগ করে আছেন। তিনি চান আপনি দ্রুত বিয়ের সিদ্ধান্ত নিন। শাহজাদী জুলেখা জবাব দিল, আব্বা হুজুরের সিদ্ধান্ত একদম সঠিক। [মিউজিক] কিন্তু যখন মানুষের মন কাউকে গ্রহণ না করে তখন বিয়ে তো জবরদস্তির নাম নয়। হামিদা বেগম বলল, শাহজাদী সাহেবা আপনি কেন এত অহংকারী? কত বড় বড় সম্বন্ধ এসেছে কিন্তু আপনি কাউকেই গ্রহণ করলেন না শাহজাদী জুলেখা বলল প্রায় সব শাহজাদাই ছিল চরিত্রহীন এবং লম্পট আর যারা এরকম নয় তারা তাদের প্রজাদের উপর প্রচন্ড জুলুম করে আর আমার চরিত্রহীন এবং জালিম মানুষ একদম পছন্দ নয় হামিদা বেগম মুখ ভেঙেছে বলল শেষ পর্যন্ত কোন না কোন সিদ্ধান্ত তো আপনাকে নিতেই হবে এখন আকাশ থেকে তো আর কোন ফেরেশতা নামবে না যার সাথে আপনি বিয়ে করবেন শাহজাদী জুলেখা বলল সিদ্ধান্ত তো আমাকেই নিতে হবে এবং এটাই ভাবছিলাম যখন তুমি এলে হামিদা বেগম হাসি হাসি মুখে বলল, আমিও তো আসার সাথে সাথেই প্রশ্নই করেছিলাম। যে কার কথা ভাবছেন কিন্তু আপনি ঠাট্টা করে কথাটি উড়িয়ে দিলেন। শাহজাদী জুলেখা বলল, আমি যার কথা ভাবছিলাম তাকে বলতে পারিনা। কারণ এতে আমার ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে ভুল ধারণা ঝড়ানোর আশঙ্কা ছিল। হামিদা বেগম অবাক হয়ে বলল, ভুল ধারণা মানে কি? আমি ঠিক বুঝলাম না। শাহজাদী জুলেখা বলল, মানে এই যে আমি যার কথা ভাবছি তার সম্পর্ক কোন রাজপরিবারের সাথে নেই। বরং সে একটি সাধারণ গরীব ঘরের [মিউজিক] সন্তান। হামিদা বেগম বলল, শাহজাদী সাহেবা ধাধা করবেন না। আপনার কথা আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। শাহজাদী জুলেখা হামিদা বেগমের দিকে প্রশ্নবোধক চোখা তাকিয়ে বলল, তোমার কি মনে আছে গত কয়েকদিন আগে আব্বা হুজুরের রাজকীয় চিড়িয়াখানার খাঁচা প্রহরীর ভুলের কারণে খুলে গিয়েছিল? আর সেখান থেকে চারটি বড় সিংহ বেরিয়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়েছিল এবং তারা রাজ্যের অনেক মানুষকে ছিড়ে ফেড়ে মেরে ফেলেছিল। হামিদা বেগম নিজেই সব বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে বলল, আরে হ্যাঁ। আর আমি এটাও জানি যে বড় বড় যোদ্ধারা এবং সিপাহিরা তাদের জীবিত ধরতে বা মারতে ব্যর্থ হয়েছিল। এর ফলে দেশে কয়েকদিন খুব আতঙ্ক ছড়িয়ে ছিল। অবশেষে একজন কাঠুরে আহমদ একাই তাদের মেরে ফেলল এবং [মিউজিক] বাদশাহ আহমদকে দরবারে ডেকে বিশেষ পুরস্কারও দিলেন শাহজাদী জুলেখা বলল তবে শোনো সেই আহমদকেই আমার পছন্দ হয়েছে উজির কন্যা হামিদা বেগম চমকে গিয়ে বলল শাহজাদী সাহেবা আপনার কাছ থেকে আমি এটা কখনো আশা করিনি যে আপনি এমন বোকামি করবেন আপনার উচিত নিজের আভিজাত্য এবং রাজবংশের মর্যাদার খেয়াল রাখা [মিউজিক] আপনি কি জানেন বাদশাহ এ কথা জানতে পারলে তিনি কতটা কষ্ট পাবেন হামিদা প্রচন্ড রেগে গিয়ে কথাটি বলল এবং সে উঠে উঠে চলে যেতে লাগলো। শাহজাদী তাকে থামানোর চেষ্টা করল। শাহজাদী তার পেছনে ছুটতে ছুটতে বলল, আরে আরে আমি তো এমনি মজা করছিলাম। তুমি তো সত্যি সত্যি ভেবে নিলে। কিন্তু হামিদা সত্যিই রেগে গিয়েছিল। তাই শাহজাদী থামানো সত্ত্বেও সে দ্রুত চলে [মিউজিক] গেল। আহমদ ছিল অত্যন্ত সুদর্শন এবং অনেক গুণের অধিকারী এক যুবক। কিন্তু তার দুর্ভাগ্য ছিল এই যে সে এক সাধারণ কাঠুরের ঘরে জন্মেছিল। নেজাবাজি, তিরন্দাজি এবং তলোয়ার চালানোর বিদ্যায় সে ছিল মাহির। ঘোষওয়ারিতেও তার অনেক দক্ষতা ছিল। সে কথা বলার সময় এমন আদব কায়দা বজায় রাখত যেন কোন রাজ পরিবারের সদস্য। সে প্রথাগত শিক্ষা না পেলেও নিজের চেষ্টার [মিউজিক] বদৌলতে অনেক জ্ঞান অর্জন করেছিল। সে ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার পাগল ছিল। রাজদরবারের শিশুদের পড়ানোর জন্য যে শাহী মক্তব বানানো হয়েছিল, আহমদ [মিউজিক] ছোটবেলায় সেই মক্তবের এক কোণে লুকিয়ে ওস্তাদদের পড়ানোর পদ্ধতি দেখতো এবং যা কিছু বুঝতে পারতো তা মুখস্ত করে নিত। অবশেষে একদিন একজন শিক্ষকের তার ওপর মায়া হলো এবং তার শখ দেখে তাকে শাহী দরবারের শিশুদের সাথে শিক্ষা নেওয়ার অনুমতি দিয়ে দিল। এভাবে কিছুদিন সে নিয়মিত জ্ঞান অর্জন করতে থাকলো। পরে যখন রাজ দরবারের শিশুরা তাদের ওস্তাদদের কাছে এ ব্যাপারে আপত্তি জানালো তখন তাকে মক্তব ছাড়তে হল। তবুও এই অল্প সময়েই সে শাহী আদব কায়দা এবং কথা বলার সুরুচি শিখে নিয়েছিল। কিছুদিন ধরে আহমদের ওপর এক অদ্ভুত অস্থিরতা বিরাজ করছিল। সে নিজেও বুঝতে পারছিল না এটি কেমন অস্থিরতা। দিন দিন তার এই অস্থিরতা বেড়েই চলল। আহমদ যে আগে খুব হাসি খুশি থাকতো এখন সে মনমরা হয়ে থাকতে শুরু করল। তার বন্ধুরা এই অবস্থা দেখে খুব চিন্তিত ছিল। আহমদ স্বভাবজাত ভাবেই খোশমেজাজি মানুষ [মিউজিক] ছিল। কিন্তু এখন সে সবসময় মুখ ভার করে বিমর্শ হয়ে বসে থাকতো। আহমদ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে চন্দন কাঠের আঁটি মাথায় নিয়ে শহরের দিকে রওনা হলো। অন্য কাঠরেরা সাধারণ কাঠ বিক্রি করত। কারণ চন্দন গাছ ছিল জঙ্গলের সবচেয়ে গহীন অংশে এবং সেখানে নানা রকম বন্য জানোয়ারের ভয় ছিল। তাই অন্য কাঠুরেদের সেখানে যেতে জান বেরিয়ে যেত। কিন্তু আহমদ [মিউজিক] ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত সাহসী ও নির্ভিক ছিল এবং বিপদের সাথে খেলা করা তার জীবনের অংশ ছিল। আর তাছাড়া সে সীতার করতে ভালোবাসতো। তাই সে জঙ্গলের গভীর অংশে চলে যেত এবং সেখান থেকে চন্দন কাঠ কেটে আনতো। যদি কখনো কোনো পশুর সামনে পড়ে যেত, তবে হয় সেই পশুটি তার তলোয়ারের শিকার হতো, নতুবা তাকে লেজ গুটিয়ে পালাতে হতো। আহমদ যেহেতু চন্দন কাঠ বিক্রি করত, তাই তার খরিদ্দার ছিল অভিজাত মানুষ এবং রাজদরবারের সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা। আহমদের বাবা ছোটবেলায় মারা গিয়েছিলেন। সে তার বৃদ্ধা মায়ের সাথে থাকতো। তারা দুজনেই গ্রামের দিকে থাকতো। চন্দন কাঠ বিক্রি করে যেহেতু বেশ আয় হতো, তাই সে গ্রামে ছোট একটি পাকা ঘরও তৈরি করিয়েছিল। যেখানে অন্য সব কাঠুরেরা ঝুপড়িতে থাকতো। আহমদ শহরে পৌঁছে রাজপ্রাসাদের দিকে চলল। প্রাসাদের কাছে পৌঁছে সে চন্দনকাঠের আঁটি একপাশে রাখল এবং বিশ্রাম নেওয়ার জন্য বসল। হঠাৎ তার চোখ প্রাসাদের বারান্দার বালাখানার দিকে উঠল। যেখানে শাহজাদী জুলেখা দাঁড়িয়ে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছিলেন। শাহজাদী জুলেখা তার দিকে তাকিয়ে ছিলেন। আহমদ শাহজাদী জুলেখাকে দেখল এবং লম্বা শ্বাস নিল। শাহজাদীর চাহনি যেন তার হৃদয় গেঁথে গেল। শাহজাদীও তার দিকে শেষবারের মতো তাকিয়ে গভীর শ্বাস নিয়ে ভেতরে চলে গেল। আহমদ প্রথমবার শাহজাদী জুলেখাকে সেই সময় দেখেছিল যখন সে চারটি বিদ্রোহী সিংহ মারার জন্য বাদশার কাছ থেকে পুরস্কার পাচ্ছিল এবং রাজপ্রাসাদে তার জন্য খাবারের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখান থেকে শাহজাদী জুলেখা তাকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন এবং নিজের মুখে সেই লড়াইয়ের ঘটনা শুনেছিলেন। শাহজাদী তার কথা বলার ধরণে অত্যন্ত মুগ্ধ হয়েছিলেন। [মিউজিক] আর আহমদেরও মনে হয়েছিল যে শাহজাদী তার মনে আহমদের জন্য একটি নরম জায়গা রাখেন। যেহেতু প্রাসাদের সামনে দিয়ে আহমদের যাওয়ার সময় নির্দিষ্ট ছিল তাই শাহজাদীও ঠিক সেই সময় বারান্দায় এসে দাঁড়াতেন। এভাবে এখন প্রতিদিন তাদের দেখা হতে লাগল। আহমদ দীর্ঘশ্বাস ফেলে কাঠের আটি তুলে নিল। যাতে তা বিক্রি করে খাবার >> [মিউজিক] >> কেনা যায়। পরের দিন আহমদ যথারীতি জঙ্গলের গভীর অংশে পৌঁছল। সে তীর ধনুক নামিয়ে একপাশে রাখল এবং কুঠার তুলে একটি গাছের দিকে বাড়ল। যেই না সে গাছের গুড়িতে প্রথম কোপ মারল, অমনি গাছ থেকে একটি ভয়াবহ চিৎকার বেরিয়ে এল। এবং সেই জায়গা দিয়ে রক্ত বইতে শুরু করল, যেখানে কুঠার লেগেছিল। আহমদ অবাক হয়ে গেল। গাছ থেকে চিৎকার হওয়া আর কান্ড থেকে রক্ত বের হওয়া এসব তার কাছে অদ্ভুত ছিল। সে অবাক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। হঠাৎ সেদিক থেকে আওয়াজ এলো নেকদিল আহমদ তুমি কি আমাকে এই বন্দি দশা থেকে মুক্তি দিতে পারো [মিউজিক] গাছ থেকে কাতরাবার আওয়াজ বেরলো তুমি কি কথা বলছো গাছ তো কথা বলে না আহমদ তখনো অবাক ছিল আমি গাছ নই আমি একজন জিন মারজার জিন আমাকে সারি জিন্নাতরা সাজা হিসেবে গাছ বানিয়ে দিয়েছে [মিউজিক] তুমি যদি চাও আমাকে মুক্তি দিতে পারো আমি তোমার এই উপকারের প্রতিদান কখনো না কখনো শোধ করে দেব গাছ থেকে আওয়াজ এল আচ্ছা তো তুমি জিন [মিউজিক] কিন্তু আমি তোমাকে কিভাবে মুক্তি দিতে পারি আমাদের গলায় তখনও বিস্ময় ছিল তুমি এখান থেকে উত্তর দিকে চলে যাও জঙ্গল পার হওয়ার পর অন্ধকারের মরুভূমি সেহেয়ে জুলমাত আসবে সেই মরুভূমিতে আমাদের বসতি আছে প্রহরী জিন তোমাকে ধরে শাহী জিন্নাতের সামনে পেশ করবে শাহী জিন্নাতের ছেলে শাহজাদা হাশিম এখন ভীষণ অসুস্থ এবং জিনের রাজকীয় কবিরাজও হাল ছেড়ে দিয়েছে কিন্তু আমার দাদা একজন অনেক বড় জ্যোতিষী তিনি আমাকে বলেছিলেন যে যদি ওখানকার শাহজাদী জুলেখার মুকুটে থাকা [মিউজিক] হীরা কোন পানীয়র সাথে মিশিয়ে হাশিমকে খাওয়ানো যায় তবে সে ঠিক হয়ে যাবে। এই হীরা কোন এক মস্ত বড় বুজুর্গ বাদশাহকে দিয়েছিলেন। [মিউজিক] আর এর শর্ত হলো এই যে শাহজাদী যেন খুশি মনে এই হীরা ব্যবহারের অনুমতি দেন। [মিউজিক] যদি তা চুরি করে বা জোর করে হাসিল করে খাওয়ানো হয় তবে কোন কাজ হবে না। তুমি শাহী জিন্নাতকে বলবে যে তুমি তার ছেলের চিকিৎসা করতে যাও। যখন তিনি অনুমতি দেবেন তখন তুমি বাদশাহ বা শাহজাদীকে সব ঘটনা বলবে। তারা দুজনেই অত্যন্ত দয়ালু এবং আমার বিশ্বাস তারা তোমাকে এই হীরা নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়ে দেবেন। যখন হাশিম সুস্থ হয়ে যাবে তখন শাহী জিন্নাত তোমাকে পুরস্কার চাইতে বলবে। তুমি তাদের বলবে যে মারজান জিনকে গাছের মধ্যে বন্দি রাখার যে সাজা দেওয়া হয়েছে তা যেন শেষ করে দেওয়া হয়। শাহী জিন্নাত আমার সাজা মাফ করে দেবে। তারপর তুমি এই হীরা নিয়ে গিয়ে তোমার বাদশাহকে ফেরত দিয়ে দেবে। এইসব কথা গাছ থেকে মারজানের আওয়াজ হয়ে এল। আহমদ দ্বিধাগ্রস্ত কন্ঠে জিজ্ঞেস করল আমি তোমাকে সাহায্য করতে রাজি আছি কিন্তু হতে পারে বাদশাহী হীরা আমাকে দেবেন না কারণ আমি একজন কাঠুরে এবং নিজের মেয়ের মুকুট থেকে হীরা বের করাকে তিনি নিজের জন্য অপমানজনক মনে করতে পারেন যখন তুমি তাদের পরিস্থিতি জানাবে যে তুমি কোন বিপদগ্রস্তের সাহায্য করছো তখন আমার বিশ্বাস তারা তোমাকে ফিরিয়ে দেবেন না যাই হোক তুমি চেষ্টা তো করে দেখো [মিউজিক] ভবিষ্যতে আমার কপালে যা আছে দেখা যাবে গাছ থেকে আবার আওয়াজ এলো আহমদ কিছুক্ষণ ভেবে [মিউজিক] দৃঢ় ভাবে মাথা নাড়ল এবং তীর ধনুক ও কুঠার কাঁধে নিয়ে সেহে জুলমতের দিকে রওনা হলো। জঙ্গল পার হয়ে মরুভূমিতে পৌঁছতে তার সন্দেহে হয়ে গেল। এই মরুভূমি ছিল সম্পূর্ণ জনমানীন এবং সেখানে দূর-দূর পর্যন্ত কোন প্রাণের চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল না। যেই না আহমদ অন্ধকার মরুভূমিতে পৌঁছল হঠাৎ প্রচন্ড ঝড় শুরু হলো এবং ঝড়ের গতি বাড়তেই থাকলো। চারদিকে ধুলোবালির কারণে আহমদ কিছুই দেখতে পাচ্ছিল না। যখন ধুলো কমল এবং তার চোখ [মিউজিক] দেখার যোগ্য হলো, সে দেখল যে সে এক বিশাল কেল্লার মতো প্রাসাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে আর [মিউজিক] তার দুই বাহুকে দুজন ভয়ঙ্কর বিশাল জিন ধরে রেখেছে। তারপর তারা তাকে এক প্রকার টেনে প্রাসাদের ভেতরে নিয়ে গেল। [মিউজিক] প্রাসাদের ভেতরে একটি খুব সুন্দর ও বিশাল দরবার সাজানো ছিল, যেখানে শত শত জিন চেয়ারে বসেছিল। সামনে [মিউজিক] শাহী তক্তে নূরানী চেহারার এক বৃদ্ধ জীন বসেছিল। আহমদ জিনভূতের গল্প শুনেছিল কিন্তু এই প্রজাতির সাথে তার কখনো দেখা হয়নি। এত দীর্ঘকায় এবং ভয়ঙ্কর মাখলুক দেখে সে অবাক হয়ে গেল। বৃদ্ধ জিন কর গলায় বলল, আদমজাত তুমি আমাদের জনপদে আসার সাহস কিভাবে করলে? বৃদ্ধ জিন যে ছিল জিন্নাতদের সরদার তার গর্জনে আহমদের মাথা ঘুরতে লাগলো। এমন গর্জন যে তার কানের পর্দা ফেটে যাচ্ছিল। কিন্তু আহমদ নিজেকে সামলে নিয়ে বলল জিন্নাতদের মহান বাদশা আপনার খেদমতে একজন সাধারণ আদমজাতের সালাম কবুল হোক আহমদ মাথা নিচু করে কুর্নিশ জানিয়ে বলল শাহে মহতারাম যদি রাগ না করেন তবে এই আদমজাত কিছু আর্জ করার অনুমতি চায় শাহী জিন্নাতের স্বর এবার আগের চেয়ে নরম ছিল জিন বলল বল [মিউজিক] কি বলতে চাও আহমদ তাকে যে সম্মান দেখিয়েছিল তার জন্য শাহী জিন্নাত বেশ প্রভাবিত মনে হচ্ছিল আহমদ বিনম্রভাবে বলল আমি শুনেছি হুজুরের ছেলে অসুস্থ এবং রাজকীয় কবিরাজ তাকে সুস্থ করতে ব্যর্থ হয়েছে। যদি হুজুর অনুমতি দেন তবে এই গোলাম এই রোগের কোন না কোন চিকিৎসা খুঁজে বের করবে। যদি তুমি আমার ছেলের চিকিৎসা খুঁজে আনো তবে তোমাকে মুখ ফুটে যা চাইবে তাই পুরস্কার দেওয়া হবে। শাহী জিন খুশি হয়ে বলল। এরপর আহমদের ইচ্ছা সারে তাকে রাজপুত্রের ঘরে নিয়ে যাওয়া হল। সেখানে একটি বড় পালঙ্কে একজন যুবক জিন শুয়ে হাপাচ্ছিল। তার পুরো শরীরে লাল গুটি বেরিয়ে ছিল এবং সেগুলোর কারণে তার শরীরে প্রচন্ড জ্বালা হচ্ছিল। পরের দিন সকালে আহমদ শাহী জিন্নাতের কাছে দু'দিনের সময় চেয়ে অনুমতি নিল এবং নিজের রাজ্যের দিকে রওনা হলো। সন্ধ্যা হলে শাহজাদী জুলেখা যথারীতি প্রাসাদের বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালেন। কাঠুরে আহমদ প্রতিদিন এখান দিয়ে [মিউজিক] যেত এবং যতক্ষণ না সে তাকে একবার দেখতেন ততক্ষণ তার মনে শান্তি আসতো না। এই সহজ সরল ও মাসুম কাঠুরেকে তার খুব ভালো লাগতো। আহমদের ব্যাপারে তিনি গোপনে অনেক কিছু খবর নিয়েছিলেন [মিউজিক] যে সে একজন দুঃখ তিরন্দাজ নেজাবাজ এবং নেককার মানুষ। ঘোরশোয়ারেতেও সে সেরা এবং সে শাহী মক্তবেও পড়াশোনা করেছে। শাহজাদীর মনে আহমদের প্রতি এক গভীর আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পরও আহমদকে দেখা গেল না। তখন শাহজাদী অত্যন্ত অস্থির হয়ে পড়লেন। সন্ধ্যার ছায়া ঘনীভূত হল। কিন্তু আহমদ সেখান দিয়ে গেল না। শাহজাদর অস্থিরতা যেন চরমে পৌঁছে গেল। রাত ধীরে ধীরে গভীর হতে লাগলো এবং শাহজাদী হতাশ হয়ে ফিরে গেলেন। খুব কষ্টে তিনি সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে এলেন। পরিচারিকা তার জন্য খাবার আনলো কিন্তু তিনি তা ফেরত পাঠিয়ে গেলেন। তিনি শোবার ঘরে পৌঁছে দরজা বন্ধ করলেন এবং বিছানায় শুয়ে পড়লেন। কিন্তু ঘুম তার থেকে যোজন যোজন দূরে ছিল। তার মন ভীষণভাবে কু ডেকে উঠছিল যে নিশ্চয়ই আহামদগুলো বিপদে পড়েছে। কিন্তু তিনি নিজের এই অস্থিরতা কারো সামনে প্রকাশ করতে পারছিলেন না। তার বুক ফেটে কান্ডা আসতে লাগলো এবং [মিউজিক] তিনি ধীরে ধীরে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদতে লাগলেন। এভাবে পুরো রাত তার ঘুম এলো না। সকালে পরিচারিকা তার জন্য নাস্তা নিয়ে এলে তিনি নাস্তাও ফেরত পাঠিয়ে দিলেন। বাদশার কাছে খবর পৌঁছলে তিনি দৌড়ে [মিউজিক] এলেন। দেখলেন শাহজাদীর বেশ জ্বর। রাজকীয় কবিরাজকে ডাকা হলো এবং তিনি শাহজাদীর জন্য কিছু ওষুধ ও শরবত দিয়ে দিলেন। উজির কন্যা হামিদা বেগম শাহজাদীর অসুস্থতার খবর পেয়ে তিনিও হাজির হলেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত শাহজাদীর অসুস্থতা কমলো না। হামিদা বেগম বলল, শেষমেষ বলেন তো আপনার হঠাৎ কি হয়েছে? কাল পর্যন্ত তো আপনি একদম ঠিক ছিলেন। কিন্তু শাহজাদি খামোশ রইলেন। আমার প্রিয় শাহজাদি আমার বন্ধু আমার বোন অন্তত আমাকে তো বলো আমরা ছোটবেলা থেকে কত ভালো বন্ধু। হয়তো আপনি কালকের কথায় রাগ করেছেন এখন রাগ মেটান। হামিদা বেগম শাহজাদীকে মানাতে মানাতে বলল, আপনি যাকে পছন্দ করবেন আমি আপনার সাথে দেবো। শাহজাদী অস্থিরভাবে বলল, "তুমি শুধু আমাকে ঠিক করার জন্য সান্ত্বনা দিচ্ছ। যখন আমি সুস্থ হয়ে যাব তখন তুমি তোমার কথা থেকে সরে যাবে। হামিদা বেগম শাহজাদীর দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল এই নাও আমি ওয়াদা করছি। তখন শাহজাদী তার হাতে হাত রাখলো। এমন সময় দরজায় পায়ের শব্দ পাওয়া গেল এবং বাদশাহ ভেতরে প্রবেশ করলেন। বাদশাহ খুব নরমভাবে জিজ্ঞেস করলেন, শাহজাদী বেটি এখন শরীর কেমন? শাহজাদী জুলেখা বলল, আব্বাল হুজুর আগের চেয়ে একটু ভালো বোধ করছি। বেটি এখনই আমাদের সামনে এক অদ্ভুত সমস্যা এসেছে এবং আমরা এই ব্যাপারে তোমার সাথে পরামর্শ করতে এসেছি। শাহজাদী চমকে উঠে জিজ্ঞেস করল, জি হুজুর। কি সমস্যা? এক কাঠুরে যার নাম আহম্মদ যে চারটি ববর সিংহকে মেরে আমাদের থেকে পুরস্কার নিয়েছিল, সে এখন দরবারে এসেছে। সে আমাদের এই কাহিনী শুনিয়েছে যে, শাহে জিন্নাতের ছেলে হাশিম অসুস্থ। যদি শাহজাদীর মুকুটে লাগানো হিয়া কোন পানিও ওর সাথে মিশিয়ে সেই জিনকে খাওয়ানো যায় তবে সে ঠিক হয়ে যাবে সেই কাঠুরে আমাদের কাছে হীরা চাচ্ছে এবং সাথে ওয়াদা করছে যে সে তা অবশ্যই ফেরত দিয়ে দেবে কিন্তু আমরা আমাদের মর্যাদার পরিপন্থী মনে করছি যে নিজের মেয়ের মুকুটের জৌলুস কমাবো যদিও তা অল্প সময়ের জন্যই হোক না কেন বাদশাহ একথা শাহজাদীকে বললেন শাহজাদী বলল আব্বা হুজুর যদি আপনি খারাপ মনে না করেন তবে কাঠুরে কে আমার কাছে পাঠিয়ে দিন। আমি নিজে তার সাথে কথা বলতে চাই। যদি সে সত্যি বলে থাকে তবে আমি বুঝে যাবো এবং আমরা তাকেই হীরা দিয়ে দেবো। কিন্তু যদি সে মিথ্যে বলে তবে আমি তাও বুঝে যাবো এবং শাহী আইন অনুযায়ী তাকে সাজা দেয়া হবে। বাদশাহ তার কথা মেনে নিলেন। তাই কিছুক্ষণের মধ্যেই আহম্মদকে ভেতরে ডাকা হলো। আহম্মদ অত্যন্ত বুদ্ধিমান ছিল। শাহজাদীর চেহারার অভিব্যক্তি দেখেই সে সব অবস্থা বুঝে গেল। শাহজাদী বলল, আহম্মদ আমি শুনেছি তুমি মিথ্যে বলায় দক্ষ হয়ে উঠেছো। যদি তোমার হীরাই প্রয়োজন হতো তবে তুমি এমনি আমার কাছে চাইতে [মিউজিক] পারতে। এর জন্য গল্প বানানোর কি দরকার ছিল? আহম্মদ বলল, না শাহজাদী হুজুর আমি [মিউজিক] মিথ্যে বলিনি। আর এর সাথে সাথে সে গাছ কাটা থেকে শুরু করে শাহী জিন্নাতের সাথে দেখা হওয়া পর্যন্ত সব ঘটনা বিস্তারিত বর্ণনা করল। শাহজাদী বুঝতে পারলেন যে আহম্মদ সত্যি বলছে। শাহজাদী বললেন, আমি তোমাকে শুধু হীরা নয় বরং হীরা সহ পুরো মুকুটই তোমাকে পুরস্কার হিসেবে দিচ্ছি। [মিউজিক] কারণ সেদিন শুধু আব্বা হুজুর পুরস্কার দিয়েছিলেন, আমি দেইনি। তাই আজ আমি পুরস্কার দিচ্ছি। আর এর সাথে সাথে তিনি বিছানার এক কোনে রাখা মুকুটটি তুলে আহম্মদের দিকে বাড়িয়ে দিলেন। আহমদ মাথা নিচু করে বলল, শাহজাদী হুজুর আমি নিজেকে এই দানের যোগ্য মনে করি না। আমার মনে হয় আমার এতটুকু যোগ্যতা নেই। শাহজাদী বললেন আমি শুনেছি আপনি তলোয়ার চালনায় খুব পটু এবং আমি আব্বা হুজুরকে বলে আপনাকে আমার রক্ষী মুহাফিজ নিযুক্ত করতে চাই। এই হিসাবে আপনার মর্যাদা রাজকীয় রক্ষীর। এই মুকুটটি রেখে দিন এটি আমার পক্ষ [মিউজিক] থেকে দেওয়া সম্মান। আহম্মদের অনেক অনুরোগ সত্ত্বেও শাহজাদী জোর করায় অবশেষে আহম্মদ অনেক কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সেই মুকুটটি গ্রহণ করল। এরপর সে শাহজাদীর কাছ থেকে বিদায় নিল। সে যত দ্রুত সম্ভব শাহী জিন্নাতের কাছে পৌঁছাতে চাইছিল। যাতে হাশিমের চিকিৎসা করে মারজান জিনকে গাছের বন্দি দশা থেকে মুক্ত করতে পারে। আহমদ একদিনের সফর শেষ করে মরুভূমির সেই অংশে পৌঁছে গেল যেখানে জিন্নাতদের বসতি ছিল। আগের মতো প্রচন্ড ঝড় বইল এবং ঝড় থামলে আহমেদ শাহী জিন্নাতের প্রাসাদের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। তাকে প্রাসাদের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হলো। যেখানে হাশিম নিজের জীবনের শেষ নিঃশ্বাস নিচ্ছিল। শাহী জিন্নাত মাথা নিচু করে বিষন্ন হয়ে বসেছিলেন এবং [মিউজিক] পুরো প্রাসাদে শোকের ছায়া নেমে এসেছিল। আহমেদ একজন কর্মচারীর মাধ্যমে পেয়ালা চাইল। তারপর তাতে তাজা শরবত ঢেলে সেই হীরাটি তাতে অনেকক্ষণ ঘোরালো এবং তার শাহজাদা হাশিমকে পান করিয়ে দিল। অল্প কিছুক্ষণ পার হতেই হাশিমের শরীর থেকে হঠাৎ লাল গুটিগুলো অদৃশ্য হতে শুরু করল। কয়েক মুহূর্তেই তার শরীর থেকে সমস্ত গুটি গায়েব হয়ে গেল। তার কাতরা আবার আওয়াজও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তারপর কয়েক মুহূর্ত পরেই সে চোখ খুলে তাকালো। সে অবাক হয়ে নিজের শরীরের দিকে তাকাচ্ছিল। যেন হঠাৎ সুস্থ হয়ে যাওয়ায় তার অবাক লাগছে। এরপর যখন তাকে আহমেদের ব্যাপারে বলা হলো, তখন সে অত্যন্ত খুশি হলো। পুরো প্রাসাদে উৎসবের আয়োজন করা হলো এবং শাহী জিন্নাত ও হাশিম তাকে এই খুশিতে হীরা জহরত ও মনি মুক্তার এক বিশাল ভান্ডার উপহার দিলেন। শাহী জিন্নাত বললেন, "হে আদমজাত, এই খাজানা তো আমরা আমাদের খুশিতে দিয়েছি। কিন্তু আমরা চাই তুমি তোমার পক্ষ থেকেও কিছু চাও। আমরা তোমার ইচ্ছে অবশ্যই পূরণ করব। আহমেদ বিনম্রভাবে বলল হুজুর আমার কোন জিনিসের লোভ নেই। আমি শুধু এই অনুরোধ করব যে আপনি আপনার জনপদের জিন মারজানকে যে গাছের মধ্যে বন্দি রাখার সাজা দিয়েছেন তা [মিউজিক] মাফ করে দিন এবং তাকেই বন্দি দশা থেকে মুক্ত দিন। ঠিক আছে। আমরা শুধু তার সাজাই মাফ করছি না বরং তোমার সুপারিশে আজ থেকে সে আমাদের দরবারের এক বিশেষ সদস্য হবে। শাহে জিন্নাথ বজ্রকণ্ঠে বললেন এর সাথেই তিনি কিছু পড়ে বাতাসে ফু দিলেন। [মিউজিক] তখন মেঘের একটি টুকরো তৈরি হলো এবং উড়ে চলে গেল। কিছুক্ষণ পর যখন এই মেঘের টুকরোটি ফিরে এলো তখন তার উপর মারজান জিন বসেছিল। মারজান প্রথমে শাহী জিন্নাত এবং আহমেদকে মাথা নিচু করে সালাম করল এবং তারপর সে আহমেদের সামনে নত হয়ে গেল। আহমেদ আমি তোমার এই উপকারের প্রতিদান কখনো না কখনো অবশ্যই দেব। তুমি সত্যি আমার অনেক সাহায্য করেছ। মারজান জিন কৃতজ্ঞতার সাথে বিদায় জানালো এবং শাহী জিন্নাতের অনুমতি নিয়ে সে আহমেদকে তার বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিতে এল সে আহমেদকে নিজের পিঠে সাওয়ার করিয়ে রেখেছিল আর সাথে সেই খাজানাও ছিল যা জিন্নাত ও হাশিম তাকে পুরস্কার হিসেবে দিয়েছিল মারজান জিন তাকে তার বাড়ির বাইরে নামিয়ে দিল আহমেদ আমি তোমাকে একটি আংটি দিচ্ছি এটি অত্যন্ত মূল্যবান আংটি এটি আমার দাদা আমাকে দিয়েছিলেন এর বিশেষত্ব হলো এই যে যখনই তুমি কোন অভিযানে যেতে চাইবে তখন চোখ বন্ধ করে এই আংটিকে হুকুম দিও এটি তোমাকে সেখানে পৌঁছে দেবে। এছাড়া যখন কোন বিপদে পড়বে তখন এই আংটিটিকে কোন জিনিসের উপর ঘসবে আমি সাথে সাথে খবর পেয়ে যাব এবং সেখানে পৌঁছে যাব। মারজান জিন বলল এবং আহমেদ অত্যন্ত খুশি হল। সে মারজানের সামনেই সেই তিলিশনিমি [মিউজিক] আংটি নিজের আঙ্গুলে পড়ে নিল। এরপর মারজান জিন তার থেকে বিদায় নিয়ে নিজের জনপদের দিকে উড়ে গেল। আহমেদ শাহী জিন্নাতের কাছ থেকে পাওয়া খাজানা দিয়ে নিজের এলাকায় একটি সুন্দর মহল তৈরি করালো। যা বিশালতা ও সৌন্দর্যে বাদশাহের মহলের চেয়ে কোন অংশে কম ছিল না। এখন আহমেদ ইচ্ছা করল যে বাদশাহ সালামতের শুকরিয়া আদায় করতে যাবে। যার দেওয়া হীরার কারণেই সে এইসব পুরস্কার ও সম্মান পেয়েছিল। তার ইচ্ছা ছিল বাদশাহ সালামতকে নিজের মহলে দাওয়াত দেওয়ার। সে একটি উন্নত জাতের ঘোড়াও কিনে নিয়েছিল এবং কাঠ কেটে বিক্রি করার পেশা সে বন্ধ করে দিয়েছিল। যেই আহমেদ শহরে পৌঁছলো সে দেখে অবাক হলো যে প্রতিটি মানুষ অত্যন্ত বিচলিত ও দুঃখী ছিল। সে দুই একজনকে থামিয়ে জিজ্ঞেস করার চেষ্টাও করল, কিন্তু কেউ তার কথার জবাব দিল না। তার মনে হচ্ছিল যেন শহরের উপর কোন বিপদ নেমে এসেছে। যখন আহমেদ শাহী মহলে পৌঁছলো তখন সে এই খারাপ খবরটি পেল যে শাহজাদীকে কেউ অপহরণ করেছে। এই খবর আহমেদের উপর বজ্রপাতের মতো পড়ল। বাদশাহ সালামতের অবস্থা খুব খারাপ ছিল এবং তিনি শোকে ভেঙে পড়েছিলেন তাই শাহী তবিব কাউকে তার সাথে দেখা করার অনুমতি দিচ্ছিলেন না| উজির কন্যা হামিদা বেগম যখন আহমেদের আসার খবর পেলেন তিনি সাথে সাথে আহমেদকে নিজের কাছে ডেকে নিলেন [মিউজিক] আহমেদ বিচলিত হয়ে জিজ্ঞেস করল উজিরজাদি শেষমেষ এটি কি হলো শাহজাদীকে কিভাবে অপহরণ করা হলো হামিদা বেগম বললেন আমরা অনেক বান্ধবী বাগানে খেলছিলাম যে হঠাৎ একটি বিশাল জিন হাজির হলো তার মাথায় লম্বা লম্বা চুল ছিল হাত ও পায়ে এসে বড় বড় বড় সোনার বালা পড়েছিল আর কানে সোনার দুল পড়েছিল তাকে দেখেই আমাদের চিৎকার বেরিয়ে গেল সে ছোঁ মেরে শাহজাদীকে ধরল এবং পশ্চিম দিকে উড়ে গেল শাহজাদী বেচারী আতঙ্কে চিৎকার করছিল কিন্তু তার উপর কোন প্রভাব পড়ল না আমরা কাঁদতে কাঁদতে বাদশাহ সালামতের কাছে এলাম আর সেই সময় থেকে বাদশাহ সালামত মূর্ছা যাচ্ছেন হামিদা বেগম সব বিস্তারিত বললেন আহমদ অত্যন্ত চিন্তিত স্বরে বলল এটি তো খুব খারাপ হল আপনি বাদশাহ সালামতকে সান্ত্বনা দিন আমি এই অভিযানে আজই রওনা হচ্ছি। ইনশাআল্লাহ শাহজাদী সাইবাকে উদ্ধার করেই ফিরবো। আহমদ হামিদা বেগমকে [মিউজিক] সান্ত্বনা দিয়ে মহল থেকে বেরিয়ে এল। সেই সন্ধ্যায় বাদশাহ ঘোষণা করে দিলেন যে যে ব্যক্তি শাহজাদী জুলেখাকে উদ্ধার করে আনবে শাহজাদীর বিয়ে তার সাথেই করে দেওয়া হবে। আহমদ ঘোড়া নিয়ে জঙ্গলের উত্তর দিকে রওনা হলো যেখানে একজন অত্যন্ত নেক বুজুর্গ থাকতেন। আহমদের বিশ্বাস ছিল যে [মিউজিক] তিনি এই বিপদে কোন না কোন সমাধান অবশ্যই দেবেন। সে ঘোড়াকে তাড়া দিল এবং ঘোড়া অত্যন্ত দ্রুত গতিতে পথ পাড়ি দিতে লাগল। শাহজাদীর বন্দি দশার আজ দ্বিতীয় দিন ছিল। আর কেঁদে কেঁদে তিনি খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। জঘন্য জাদুকর তাকে এক মাস ভাবার সময় দিয়েছিল। তারপর সে বলেছিল যে সে একটি বিশেষ জাদুর মাধ্যমে অনুমতি নিয়ে তাকে জবরদস্তি বিয়ে করে নেবে। মক্কার জাদুকর কোন কাজে বাড়ি থেকে চলে গিয়েছিল এবং শাহজাদী তার বন্দি দশা থেকে বের হবার উপায় খুঁজছিলেন। মহলে তার ঘোড়ার পূর্ণ স্বাধীনতা ছিল। এমনকি মহলের বাইরে যাওয়ার উপরেও কোন নিষেধাজ্ঞা ছিল না। তিনি কয়েকবার মহলের বাইরে গেলেন। এই উপত্যকাটি ছিল খুব সুন্দর। চারদিকে পুকুর, ঝর্ণা আর চমৎকার জলপ্রপাত ছিল। কিন্তু শাহজাদীর তাতে কোন আগ্রহ ছিল না। তিনি অত্যন্ত দুশ্চিন্তার মধ্যে একটি পুকুরের পাড়ে গিয়ে বসলেন। হঠাৎ পুকুর থেকে ব্যাঙের ডাক শোনা গেল এবং মনে হচ্ছিল তারা মানুষের ভাষায় কথা বলছে। তুমি কি জানো জাদুকর কেন ইফকে বন্দী করে রেখেছে? একটি ব্যাঙ জিজ্ঞেস [মিউজিক] করল। হ্যাঁ। আমি জানি জিনের রাজা নিঃসন্তান এবং তিনি খুব বৃদ্ধ হয়ে গেছেন। তার মৃত্যুর পর ইফ জিনের [মিউজিক] রাজত্বের উত্তরাধিকারী। আর জাদুকর নিজে পরিস্থানের বাদশাহ হতে চায় তাই সে ইফকে বন্দি করে রেখেছে| ইফ শুধু সাহসী সে জাদু জানে না| অথচ জাদুকর জিনের পাশাপাশি মস্ত জাদুকর অন্য ব্যাঙটি জবাব দিল তুমি কি জানো ইফকে কিভাবে মুক্ত করা যাবে হ্যাঁ আমি জানি যে সে জাদুর কামড়ায় আছে এবং ততক্ষণ মুক্ত হতে পারবে না যতক্ষণ না মূর্তির রশ্শি ওই কামরার দরজায় ফেলা হয় কারণ কামড়ায় যে তালা লাগানো আছে সেটি জাদুর [মিউজিক] তালা সে সাধারণ উপায়ে ভাঙ্গা যাবেনা ওটি শুধু মূর্তির তেজ দিয়েই ভাঙ্গা সম্ভব। অন্য ব্যাংটি উত্তর দিল। তাছাড়া শাহজাদী যদি সাহস করেন তবে ইফকে মুক্ত করতে পারেন। এতে তার নিজেরও লাভ আছে। প্রথম ব্যাংকটি ডাকল এবং এরপর দুজনেই চুপ হয়ে গেল। শাহজাদীর সামনে বন্ধ কামড়ার রহস্য প্রকাশ হয়ে গেল। তিনি দ্রুত মহলের দিকে দৌড়ালেন যাতে জাদুকর আসার আগেই ইফকে মুক্ত করতে পারেন। অন্যদিকে আহমদ গভীর জঙ্গলে ঝুপড়ির কাছে পৌঁছে তার ঘোড়া থামালো। ঝুপড়ির গায়রে ঘোড়া বেঁধে সে ভেতরে ঢুকলো। ভেতরে এক সাদা দাড়িওয়ালা বুজুর্গা ইবাদতে মশগুল ছিলেন। আহমদ এক কোণে মেঝেতে বসে পড়লো। কিছুক্ষণ পর বুজুর্গা ইবাদত শেষ করে আহমদের দিকে তাকালেন। এসো বাবা আহমদ আমি জানি তুমি কেন এসেছো। বুজুর্গা হাসি মুখে বললেন, জি বাবা। আমি খুব দুশ্চিন্তায় আছি। শাহজাদী জুলেখা অপহরিত হয়েছেন। আপনি আমাকে বলুন কোন জিন তাকে অপহরণ করেছে এবং সে কোথায় থাকে? আমি তাকে খতম [মিউজিক] করতে চাই আহমদ ব্যাকুল হয়ে বলল আহমদ বাবা শাহজাদী জুলেখাকে সাহির নামের জালিম জাদুকর অপহরণ করেছে সে জীনের পাশাপাশি অনেক বড় জাদুকরও তাই তাকে খতম করা সহজ নয় সে অদিয়ে কাফে থাকে জাদুকরের মোকাবিলা করার আগে তোমাকে ভয়ানক জঙ্গলে যেতে হবে সেখানে এক বৃদ্ধা পূজারিনী থাকে সে দুটি তিলিসিম জাদু তৈরি করবে এবং তোমাকে সেই দুটি জয় করতে হবে প্রথম তিলিসিম হল ভয়ঙ্কর সাপ এদের মধ্যে তোমাকে সোনালী মুকুটওয়ালা সাপটিকে মারতে হবে। তাকে মারার জন্য তোমাকে প্রচন্ড ক্ষিপ্রতা দেখাতে হবে। না হলে সাপ তোমাকে কামড়ে দেবে এবং তোমার শরীর মুহূর্তেই ছাই হয়ে যাবে। এরপর কবুতরের এক ঝাঁক তোমার মাথার উপর চক্কর দেবে। সেই ঝাঁকের তিন চক্কর শেষ হবার আগে তোমাকে কালো কবুতরটিকে স্বীকার করতে হবে। শর্ত হলো প্রথম তীরেই তাকে স্বীকার করতে হবে। যদি সে শিকার না হয় বা কবুতর গুলো তিন চক্কর পূর্ণ করে ফেলে তবে তুমি নিজেই পাথর হয়ে যাবে। যদি তুমি এই কাজ [মিউজিক] করতে পারো তবে সে তোমাকে পুরস্কার হিসেবে একটি মনি মনকা দেবে। এই মনি নিয়ে তুমি ওয়াদিয়ে কাফে চলে যাবে। সেখানে ডানে বায়ে না তাকিয়ে সোজা মহলে ঢুকবে। যখন জাদুকর সামনে আসবে তখন এই মনি তার গায়ে ছুড়ে মারবে। যেই মনি তার শরীর স্পর্শ করবে তার জাদুকরী ক্ষমতা শেষ হয়ে যাবে এবং সে সাধারণ জিন হয়ে যাবে। তারপর [মিউজিক] তুমি নিজের বীরত্ব দিয়ে তাকে খতম করতে পারবে। বুজুর্গা বাবা সব বিস্তারিত বললেন। আহমদ বুজুর্গা বাবার কাছ থেকে দোয়া নিয়ে ঝুপড়ি থেকে বেরিয়ে এল। সে চোখ বন্ধ করে মারজান জিনের দেওয়া আংটিতে হুকুম দিল যেন তাকে ভয়ানক জঙ্গলের বাইরে বৃদ্ধা পূজারিনীর আস্তানায় পৌঁছে [মিউজিক] দেয়। পায়ে মাটি অনুভব করতেই আহমদ চোখ খুলল। সে একটি বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়েছিল। হঠাৎ আহমদ সাপের তীব্র গর্জন শুনতে পেল। সে চমকে নিচে দেখল। পরক্ষণেই তার চেহারা ফ্যাকাসে হয়ে গেল। মাটি থেকে সাপ উপচে বেরচ্ছিল এবং তারা আহমদকে চারপাশ থেকে ঘিরে নিল। তাদের থেকে একটু দূরে সে সোনালী মুকুটওয়ালা সাপটিকেও দেখতে পেল। সাপের [মিউজিক] গর্জন তীব্র হল। আহমদ দ্রুত তলোয়ার বের করে নিল। সে সাপেদের থেকে বাঁচতে [মিউজিক] বাঁচতে বিদ্যুতের গতিতে সোনালী সাপের দিকে বাড়লো। হঠাৎ একটি সাপ দ্রুত ফনা তুলল এবং আহমদ কিছু বোঝার আগেই তাকে কামড়ে দিল। আহমদ খুব জোরে ঝিমিয়ে পড়ল। কিন্তু সে পড়ে যাওয়ার আগে মারজান জিনের চিৎকার শুনতে পেল। আহমদ নিজেকে সামলাও জলদি সোনালী সাপকে খতম করো। না হলে সাপের বিষে তুমি মরে যাবে। আহমদ [মিউজিক] নিজের জ্ঞান হারানো মনকে সামলালো এবং টলতে টলতে সোনালী সাপের দিকে এগিয়ে তার শেষ শক্তি দিয়ে সাপের মাথায় তলোয়ারের আঘাত করল। সাপের ফনা কেটে দূরে গিয়ে পড়ল। এক মুহূর্তের জন্য চারদিকে ধোঁয়া ছেয়ে গেল। ধোঁয়া কমলে দেখা গেল সমস্ত সাপ গায়েব হয়ে গেছে। এমন সময় মারজান জিন হাজির হলো। তার হাতে একটি পেয়ালা ছিল। যাতে কালো রঙের কোন পানিও ছিল। এটি জলদি খেয়ে নাও। না হলে সাপের বিষ তোমার উপর কাজ করে যাবে। মারজান বলল এবং আহমদ জলদি পানিটি খেয়ে নিল। মারজান জিন যদি তুমি ঠিক সময় আমাকে না ডাকতে তবে আমি মরে যেতাম। আহমদ কৃতজ্ঞতার স্বরে বলল। এরপর আহমদ উপরে [মিউজিক] পাখিদের ডানার ঝটপটানি অনুভব করল। সে দেখল কবুতরের এক ঝাঁক উড়ছে যার মধ্যে কালো কবুতরটিও ছিল। আহমদ তীরের লক্ষ্য কবুতরের [মিউজিক] দিকে স্থির করল। ঝাঁকটি প্রথম চক্কর শেষ করে দ্বিতীয় চক্কর দিচ্ছিল। উড়ন্ত ঝাঁক থেকে কালো কবুতরকে নিশানা করা অত্যন্ত কঠিন ছিল। আহমদ জানতো, তৃতীয় চক্কর পূর্ণ হলেই সে পাথর হয়ে যাবে। সে তাকদীরের উপর ভরসা করে তীর ঝুড়ল। ওই তো লেগেছে আহমদ খুশিতে চিৎকার করে উঠলো। কারণ তীরটি সরাসরি কবুতরের বুকে বেঁধে ছিল এবং সেটি নিচে পড়ে গেল। আবার চারদিকে অন্ধকার ছেয়ে গেল। যখন অন্ধকার কাটলো সেখানে বৃদ্ধা পূজারিনী দাঁড়িয়েছিল। কাঠুরে তুমি জলদি সামনের জঙ্গল থেকে নীল হাতির সুর কেটে নিয়ে এসো। যদি ব্যর্থ হও তবে আমি তোমাকে হত্যা করব। বৃদ্ধা চিৎকার করে বলে গায়েব হয়ে গেল। অন্যদিকে শাহজাদী জুলেখা আঙ্গিনায় রাখা মূর্তিটি পাঁজা কলা করে তুললেন। তিনি সেটি নিয়ে বন্ধ কামড়ার দিকে চললেন। শাহজাদী মূর্তির চোখের রশমির মুখ দরজার দিকে করে দিলেন। [মিউজিক] একটি ধামাকা হলো এবং দরজা গায়েব হয়ে গেল। অমনি কামড়া থেকে একটি কালো রঙের জিন তেরে বেরিয়ে এল এবং শাহজাদীর সামনে মাথা নোয়াল। শাহজাদী জুলেখা আমি ইফরত আপনাকে কথা দিচ্ছি। আপনার এই উপকার আমি অবশ্যই শোধ করব। ইফরত গর্জন করে উড়ে চলে গেল। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তেই জাদুকর সাহির হাজির হলো এবং ইফরতের সাথে সংঘর্ষ হলো। মনে হচ্ছিল দুটি পাহাড় ধাক্কা খেয়েছে। আকাশে তাদের মধ্যে ভয়ঙ্কর যুদ্ধ শুরু হলো। তারা একে অপরকে শিং দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত করছিল। তারা যুদ্ধ করতে করতে নজরের আড়ালে চলে গেল। শাহজাদী খুব ভয় পেয়ে গেলেন। তিনি মহল থেকে বেরিয়ে সেই [মিউজিক] পুকুরের দিকে গেলেন যেখানে ব্যাঙের কথা শুনেছিলেন। সেখানে আবার ব্যাঙেরা মানুষের ভাষায় কথা বলছিল। যদি শাহজাদী এই পুকুরে গোসল করেন তবে তিনি জাদুকরের প্রকোপ থেকে বেঁচে যাবেন। [মিউজিক] কারণ এটি তার জন্য পবিত্র পুকুর। ব্যাঙের কথা শুনে শাহজাদী কাপড়সহ পুকুরে ঝাপ দিলেন। কিছু সময় পর তিনি যখন উঠে এলেন তখন জাদুকর শাহীর গর্জন করতে করতে মাটিতে নামল। তার সারা শরীর থেকে রক্ত পড়ছিল। যদি তুমি এই পবিত্র পুকুরে নামতে তবে আমি এখনই তোমার দফা রফা [মিউজিক] করে দিতাম। তুমি ভাগ্যবতী যে বেঁচে গেলে। জাদুকর গর্জালো এবং নিজে পুকুরে ঝাপ দিল। সে যখন উঠে এলো তার সমস্ত ক্ষত সেরে গিয়েছিল। সে শাহজাদীকে একটি কামড়ায় বন্দি করে দিল। এদিকে আহমদ জঙ্গলে নীল হাতির জন্য অপেক্ষা করছিল। হঠাৎ এক বিশাল নীল রঙের হাতি তেড়ে এল। আহমদ ভয়েই ঘেমে গেল। কিন্তু পিছু হটার উপায় ছিল না। হঠাৎ কোন অদৃশ্য শক্তি তাকে গাছের উপর তুলে নিল। সে দেখল পাশে মারজান জিন [মিউজিক] বসে আছে। তোমার বুদ্ধি থাকা উচিত ছিল যে সামনে দাঁড়িয়ে হাতির মোকাবিলা করা যাবে না। গাছের উপর বসে সুরে আঘাত করতে হতো। মারজান বলল, আহমদ আংটির সাহায্যে নিজেকে বাতাসে ভাসিয়ে রাখল এবং মারজান জিন হাতিটিকে তাড়িয়ে আহমদের গাছের নিচ দিয়ে নিয়ে এল। আহমদ তলোয়ারের [মিউজিক] এক কোপে নীল হাতির সুর কেটে ফেলল। হাতিটি যন্ত্রণায় চিৎকার করে পালিয়ে গেল। আহমদ সুরটি নিয়ে বৃদ্ধা পূজারিনীর কাছে গেল। বৃদ্ধা খুশি হয়ে তাকে একটি লাল মনি উপহার দিল। যখন তুমি এই মনি জাদুকরের শরীরে লাগাবে তার জাদু খতম হয়ে যাবে। আহমদ আংটির সাহায্যে ওয়াদিয়ে কাফে পৌঁছে গেল। জাদুকর তার আয়নায় দেখল যে আহমদ আসছে। সে একটি কালো জিনকে শাহজাদী জুলেখার রূপ ধরিয়ে [মিউজিক] আহমদের কাছে পাঠালো। আহমদ যখন উপত্যকায় হাঁটছিল সে দেখল পাহাড় থেকে শাহজাদী নেমে আসছেন। বুজুর্গের কথা ভুলে সে শাহজাদীর দিকে তাকালো। সাথে সাথে একটি খাঁচা তাকে বন্দি করে ফেলল। জাদুকর হাসতে হাসতে খাঁচাটি টেনে নিয়ে যাচ্ছিল। আহমদ সুযোগ বুঝে পকেট থেকে মনিটি বের করে জাদুকরের গায়ে ঘষে দিল। জাদুকর ছিটকে পড়ল এবং তার জাদু শেষ হয়ে গেল। খাঁচাও গায়েব হয়ে গেল। আহমদ তলোয়ার বের করে জাদুকরের উপর ঝাপিয়ে পড়ল। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর আহমদ জাদুকরের পেটে তলোয়ার ঢুকিয়ে দিল। জাদুকর মরে গেল এবং তার প্রাসাদ গায়েব হয়ে গেল। ধুলো সরলে দেখা গেল শাহজাদী জুলেখা দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি আহমদকে দেখে দৌড়ে কাছে এলেন। আহমদ আংটির সাহায্যে শাহজাদীকে নিয়ে সরাসরি রাজদরবারে পৌঁছে গেল। বাদশাহ আহমদকে জড়িয়ে ধরলেন। ঘোষণা অনুযায়ী আহমদ ও শাহজাদী জুলেখার বিয়ে হলো। বাদশাহ বৃদ্ধ হওয়ায় আহমদকে সিংহাসন ছেড়ে দিলেন। সেই দেশের আইন ছিল রাজ পরিবারের বাইরে কেউ রাজা হতে পারবে না যতক্ষণ না রাজকন্যা ও রাজার সন্তান হবে। এক বছর পর তাদের একটি সুন্দর পুত্র সন্তান [মিউজিক] হলো এবং আহমদের আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্যাভিষেক হলো।
Get free YouTube transcripts with timestamps, translation, and download options.
Transcript content is sourced from YouTube's auto-generated captions or AI transcription. All video content belongs to the original creators. Terms of Service · DMCA Contact