বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) এর অবিশ্বাস্য কারামত — ডাকাতদের সাথে সততার এক অলৌকিক ঘটনা —

ইমানের দরজা2,155 words

Full Transcript

60 জন ডাকাত হাতে তলোয়ার চারদিক [মিউজিক] থেকে ঘেরাও আর মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছেন একা একটি তরুণ হাতে কোন অস্ত্র নেই পকেটে শুধু 40 টি স্বর্ণ মুদ্রা ডাকাতের সর্দার গর্জে উঠলো তোর কাছে কি আছে মিথ্যে বললে জান নেব সবাই ভাবলো [মিউজিক] এই তরুণ শেষ কিন্তু সেই তরুণ কাঁপলেন না পালালেন না মিথ্যাও বললেন না শান্ত কন্ঠে শুধু বললেন আমার কাছে 40 টি স্বর্ণ মুদ্রা আছে বুকের [মিউজিক] কাপড়ের নিচে সেলাই করা। সেই একটি সত্য কথা সেই রাতে 60 জন ডাকাতকে কাঁদিয়ে দিয়েছিল। [মিউজিক] সাতটি তলোয়ার মাটিতে নামিয়ে দিয়েছিল। সাতটি জীবন বদলে দিয়েছিল। এই তরুণের নাম আব্দুল কাদের জিলানী। [মিউজিক] যাকে পৃথিবী চেনে বড় পীর নামে। বাগদাদের পথ ছিল দীর্ঘ। সেই যুগে বাগদাদের পথে একা চলা না নেই মৃত্যুকে [মিউজিক] আমন্ত্রণ জানানো। কাফেলায় যেতে হতো, দলে যেতে হতো। আর [মিউজিক] তবুও নিশ্চয়তা ছিল না। কিন্তু সেই সন্ধ্যায় জিলান শহরের একটি ছোট্ট ঘরে [মিউজিক] 18 বছরের এক তরুণ যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। মনে তার কোন ভয় নেই। চোখে শুধু একটাই স্বপ্ন। বাগদাদ যাবেন, জ্ঞান [মিউজিক] অর্জন করবেন। আল্লাহর দ্বীন শিখবেন এবং সেই আলো মানুষের মাঝে ছড়িয়ে [মিউজিক] দেবেন। তার নাম আব্দুল কাদের। যাওয়ার আগে তার মা তাকে ডেকে বসালেন। তিনি ছেলের দুই [মিউজিক] হাত নিজের হাতে তুলে নিলেন। বললেন, বাবা তুমি যাও। আল্লাহ তোমাকে [মিউজিক] যেখানে ডাকছেন সেখানে যাও। কিন্তু যাওয়ার আগে আমাকে একটি প্রতিশ্রুতি দাও। [মিউজিক] তরুণ আব্দুল কাদের মায়ের মুখের দিকে তাকালেন। বললেন, বলুন মা। মায়ের ঠোট [মিউজিক] একটু কাঁপলো। তারপর তিনি বললেন, জীবনে যাই হোক না কেন, [মিউজিক] বিপদ আসুক, মৃত্যু আসুক, আকাশ ভেঙে পড়ুক, কখনো মিথ্যা বলবে না। কোন পরিস্থিতিতে, [মিউজিক] কোন চাপে, কোন ভয়ে, কখনো মিথ্যার আশ্রয় নেবে না। [মিউজিক] এটাই তোমার মায়ের একমাত্র উসিয়াত। এটাই তোমাকে দিয়ে যাচ্ছি। [মিউজিক] এর বেশি আমার কাছে কিছু নেই। ঘরে নীরবতা নামলো। [মিউজিক] বাইরে বাতাস বইছিল। মসজিদ থেকে ভেসে আসছিল আজানের সুর। আব্দুল কাদের কিছুক্ষণ চুপ থাকলেন। তারপর তার মুখে একটি শান্ত গভীর হাসি ফুটে উঠলো। তিনি বললেন, মা [মিউজিক] আল্লাহকে সাক্ষী রেখে প্রতিশ্রুতি দিলাম। জীবনে কখনো মিথ্যা বলবো না। আপনার এই কথা আমার বুকে গেঁথে রাখলাম। মা ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। অনেকক্ষণ ধরে রাখলেন। এই বুকের উষ্ণতা, এই মায়ের সুবাস এটুকুই ছিল তার পথের পাথেও। পরদিন ভোরে [মিউজিক] ফজরের নামাজ পড়ে মায়ের পায়ে সালাম করে আব্দুল কাদের [মিউজিক] পথে বেরিয়ে পড়লেন। তার সঙ্গে ছিল একটি কাপড়ের থলে কিছু শুকনো [মিউজিক] রুটি, একটি ছোট কুরআনের কপি আর সবচেয়ে মূল্যবান 40 টি স্বর্ণ মুদ্রা। এই 40 টি স্বর্ণ মুদ্রা [মিউজিক] ছিল তার মায়ের সারা জীবনের সঞ্চয়। একটি একটি করে জমানো বছরের পর বছর ধরে। মা বিদায়ের সময় বলেছিলেন, এই টাকা তোমার পড়াশোনার জন্য। এটা তোমার আমানত। আব্দুল কাদের মুদ্রাগুলো নিজের জামার ভেতরে বুকের কাপড়ের নিচে সেলাই করে নিলেন। তারপর [মিউজিক] আল্লাহর নাম নিয়ে হাঁটতে শুরু করলেন। তার ঠোটে ছিল জিকির। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু। কিছুদূর যাওয়ার পর আব্দুল কাদের একটি কাফেলার সাথে মিলে গেলেন। বিভিন্ন মানুষ, ব্যবসায়ী, আলিম, সাধারণ মুসাফির। [মিউজিক] সবাই একসাথে চলছে বাগদাদের দিকে। পথের বিপদ ভাগ করে নেওয়ার জন্য কাফেলা পদ্ধতিই ছিল সেই যুগের রীতি। [মিউজিক] দিন চলছিল, পথ কাটছিল। কিন্তু আল্লাহর পরীক্ষা [মিউজিক] আসে অপ্রত্যাশিতভাবে। কাফেলা যখন একটি পাহাড়ের ঢালে রাতের বিশ্রাম [মিউজিক] নিচ্ছিল, চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার আকাশে তারা ভরা। কেউ কেউ ঘুমিয়ে পড়েছে তখন দূর থেকে ভেসে এলো ঘোড়ার খুরের শব্দ তারপর আগুনের [মিউজিক] মশাল তারপর ভয়াবহ চিৎকার কেউ নড়বে না সবাই মাটিতে শুয়ে পড়ো যে নড়বে মরবে ডাকাত [মিউজিক] প্রায় 60 জন সশস্ত্র ডাকাত চারদিক থেকে ঘিরে ফেলল পুরো কাফেলাকে তাদের হাতে তলোয়ার ভালা ধনুক তাদের [মিউজিক] চোখে হিংস্রতার আলো তাদের নেতা ছিল এক বিশাল দেহী মানুষ নাম তার আবু সুফিয়ান এই অঞ্চলের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ডাকাত দলের সরদার। [মিউজিক] 20 বছর ধরে এই পথ সে লুট করে আসছে। তার নাম শুনলে ব্যবসায়ীরা এই পথ এড়িয়ে [মিউজিক] চলে। আবু সুফিয়ানের একটি বিশেষ রীতি ছিল। সে প্রতিটি মুসাফিরকে সামনে দাঁড় করিয়ে [মিউজিক] জিজ্ঞেস করত, তোমার কাছে কি আছে? এটা কোন দয়ার রীতি ছিল না। এটা ছিল তার নিষ্ঠুর খেলার অংশ। যে সত্য বলতো সে সামান্য মার খেয়ে ছাড় পেত। যে মিথ্যা বলে লুকাতে চাইতো তার পরিণতি ছিল অনেক কঠোর। একে একে কাফেলার সব মুসাফিরকে [মিউজিক] জিজ্ঞেস করা হলো। কেউ কাঁদতে লাগলো। কেউ মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। [মিউজিক] কেউ বলল, আমার কাছে কিছু নেই। তারপর তাদের তল্লাশী করে বের করা হলো তাদের লুকানো সম্পদ। এই দৃশ্য দেখে কাফেলার বাকি মানুষগুলো [মিউজিক] আরো বেশি ভয়ে কুকড়ে গেল। তারপর পালা এলো সেই তরুণের। একজন ডাকাত [মিউজিক] তরুণ আব্দুল কাদেরের কলার ধরে টেনে সামনে নিয়ে এলো। কাফেলার বাকি মানুষগুলো ভাবল এই তরুণ শেষ হয়ে গেল। বয়স কম, [মিউজিক] গায়ে শক্তি কম, পথের অভিজ্ঞতা কম। এই ডাকাতদের হাতে পড়ে এই ছেলের কি হবে? [মিউজিক] কিন্তু তারা দেখলো অদ্ভুত এক দৃশ্য। আব্দুল কাদের কাঁপছেন না। না হাত কাঁপছে, না [মিউজিক] পা কাপছে, না গলা কাপছে। তার চোখে নেই আতঙ্ক, নেই অনুনয়, নেই ভয়ের ছায়া। [মিউজিক] তার মুখে একটি অদ্ভুত শান্তি। সেই শান্তি যা আসে যখন মানুষ জানে [মিউজিক] যে তার পেছনে আল্লাহ আছেন। ডাকাতটি গর্জে উঠলো। এই ছোকরা তোর কাছে কি আছে? বল মিথ্যা বললে জান নেব। সেই মুহূর্তে আব্দুল কাদেরের মনে পড়লো মায়ের মুখ। সেই সন্ধ্যার কথা মনে পড়লো। মায়ের হাতের উষ্ণতা মনে পড়লো। [মিউজিক] মায়ের কন্ঠ মনে পড়লো। জীবনে যাই হোক না কেন কষনো মিথ্যা বলবে না। আর মনে পড়লো তার নিজের [মিউজিক] প্রতিশ্রুতি। আল্লাহকে সাক্ষী রেখে প্রতিশ্রুতি দিলাম কষনো [মিউজিক] মিথ্যা বলবো না। এই মুহূর্তে মিথ্যা বললে হয়তো বেঁচে যাওয়া যেত। হয়তো সোনার মুদ্রা লুকানো যেত। হয়তো ডাকাতের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যেত। কিন্তু তাহলে মায়ের সেই প্রতিশ্রুতির কি [মিউজিক] হতো? তাহলে আল্লাহর কাছে সেই কথার কি হতো? আব্দুল কাদের মাথা সোজা রেখে চোখ সরাসরি ডাকাতের দিকে [মিউজিক] রেখে স্পষ্ট ও শান্ত কন্ঠে বললেন, আমার কাছে 40 টি স্বর্ণমুদ্রা আছে। আমার বুকের কাপড়ের নিচে সেলাই করা। মুহূর্তের জন্য পুরো পৃথিবী থমকে গেল। কাফেলার মানুষগুলো হতভম্ব হয়ে একে অপরের মুখের দিকে তাকালো। ডাকাতরাও থমকে গেল। এমন দৃশ্য তারা কখনো দেখেনি। মুসাফিররা সবসময় লুকায়, [মিউজিক] ভয় পায়, মিথ্যা বলে। কিন্তু এই তরুণ নিজেই বলে দিল, নিজের সম্পদের কথা নিজেই জানিয়ে দিল। কাফেলার [মিউজিক] একজন ফিসফিস করল পাগল নাকি আরেকজন বলল মরতে চায় নাকি [মিউজিক] কিন্তু আব্দুল কাদের দাঁড়িয়ে আছেন পাথরের মত অটল শান্ত নির্ভয় সরদার আবু সুফিয়ান এগিয়ে এল বিশাল শরীর ভয়ঙ্কর চেহারা কোমরে ঝুলছে তলোয়ার সে আব্দুল কাদেরের সামনে এসে দাঁড়ালো একটু ঝুকে [মিউজিক] তার চোখের দিকে তাকালো কিন্তু সেই চোখে সে যা খুঁজছিল ভয় কান্না [মিউজিক] কাঁপুনি তার কিছুই সে পেল না। সে পেল শুধু গভীর [মিউজিক] অনর একটি শান্তি। আবু সুফিয়ান বলল, তুই নিজেই বললি যে তোর কাছে স্বর্ণ আছে? হ্যাঁ। কেন? লুকাতে পারতি। আমরা হয়তো খুঁজে পেতাম না। আব্দুল কাদের উত্তর দিলেন, আমার মা আমাকে প্রতিশ্রুতি নিয়েছেন যে আমি কখনো মিথ্যা বলবো না। আমি আল্লাহকে সাক্ষী [মিউজিক] রেখে সেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। তোমরা আমার স্বর্ণ নিতে পারো কিন্তু আমি মিথ্যা বলবো না। আবু সুফিয়ান একটু পিছিয়ে গেল। তার মুখে একটি অদ্ভুত ভাব না ঘৃণা [মিউজিক] না রাগ বরং এমন কিছু যা সে নিজেও চেনে না। [মিউজিক] সে তার লোকদের আদেশ দিল এর জামা ছাড়াও। লোকেরা এগিয়ে এল। আব্দুল কাদের বাঁধা দিলেন না। শান্তভাবে দাঁড়িয়ে রইলেন। বুকের কাপড় কাটা হলো। ভেতর থেকে বেরিয়ে এল 40 টি সোনালী মুদ্রা। মশালের আলোয়ে চকচক [মিউজিক] করছে। আবু সুফিয়ান মুদ্রাগুলো হাতে তুলে নিল। কিন্তু তার হাত কাঁপছিল। 20 বছর ধরে এই হাত দিয়ে সে শত শত মানুষের সম্পদ ছিনিয়ে নিয়েছে। এই হাত কখনো কাঁপেনি। [মিউজিক] কিন্তু আজ কাঁপছে। সে আব্দুল কাদেরের চোখের দিকে আরেকবার তাকালো। সেই চোখে এখনো সেই একই শান্তি। [মিউজিক] সেই একই দৃঢ়তা। আবু সুফিয়ান হঠাৎ এমন একটি প্রশ্ন করল যা তার মত মানুষের করার কথা নয়। তুই ভয় পাসনি কেন? আব্দুল কাদের একটু থামলেন। তারপর বললেন, ভয় পাবো [মিউজিক] কেন? আমার রিজিক আল্লাহর হাতে। তুমি আমার মুদ্রা নিতে পারো। কিন্তু আল্লাহ আমাকে যা দিতে চান [মিউজিক] তা কেউ ছিনিয়ে নিতে পারবে না। আমি মিথ্যা বলে আমার রিজিক রক্ষা করতে চাই না। কারণ মিথ্যার উপর দাঁড়িয়ে পাওয়া রিজিক আমার কাছে বিষের চেয়েও বেশি [মিউজিক] তেত। আবু সুফিয়ান কিছু বলল না। সে শুধু দাঁড়িয়ে রইল। আবু সুফিয়ানের ভেতরে সেই মুহূর্তে কি হচ্ছিল তা হয়তো শুধু আল্লাহই জানেন। 20 বছর ধরে সে নিজেকে বুঝিয়েছে দুনিয়া শক্তের। [মিউজিক] দুর্বলের কোন জায়গা নেই। যে ছিনিয়ে নিতে পারে সেই বাঁচে। যে সত্য বলে সে বোকা। [মিউজিক] কিন্তু এই তরুণ যার হাতে কোন অস্ত্র নেই, যার শরীরে কোন শক্তি নেই, যার পকেটে এখন একটি পয়সাও নেই, সে এত শান্ত কেন? [মিউজিক] এই শান্তি কোথা থেকে আসে? আবু সুফিয়ান জীবনে অনেক মানুষকে ভয় দেখিয়েছে। [মিউজিক] কিন্তু এমন কাউকে সে দেখেনি যার চোখে ভয়ের কোন চিহ্নই নেই। তার বুকের গভীরে হঠাৎ একটা চিনচিনে [মিউজিক] ব্যথা শুরু হলো। এই ব্যথা তলোয়ারের ব্যথা নয়। এই ব্যথা সেই ব্যথা যখন মানুষ নিজের জীবনের দিকে ফিরে [মিউজিক] তাকায় এবং দেখে শুধু অন্ধকার। সে আব্দুল কাদেরকে জিজ্ঞেস করল, [মিউজিক] তুই কে? তোর নাম কি? আমার নাম আব্দুল কাদের। জিলান থেকে আসছি [মিউজিক] বাগদাদে যাচ্ছি জ্ঞান অর্জন করতে। এত কম বয়সে এত সাহস কোথা থেকে পেলি? সাহস আমার নিজের নয়। আমার সাহস আসে আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল থেকে। যে মানুষ সত্যিকার অর্থে আল্লাহকে ভয় পায় সে আর কাউকে ভয় পায় না। আবু সুফিয়ান কিছুক্ষণ নীরব থাকল। তারপর ধীরে ধীরে বলল, [মিউজিক] আমার মাও আমাকে ছোটবেলায় এমনই বলতেন। আব্দুল কাদের তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার মা কি এখনো বেঁচে আছেন? না। তিনি কি চাইতেন তুমি এই পথে থাকো? দীর্ঘ নীরবতা। পুরো পাহাড়ের ঢাল যেন নিঃশ্বাস বন্ধ করে শুনছে। আবু সুফিয়ানের চোখের কোণে একটি অশ্রু জমা হল। সে তাড়াতাড়ি হাতের পিঠে মুছলো। কিন্তু আরেকটি এল আরেকটি। সে থামাতে পারছে না। 20 বছর ধরে শুকিয়ে যাওয়া একটি [মিউজিক] হৃদয় আজ হঠাৎ একজন তরুণের একটি সত্য কথায় ভেঙে পড়ছে। আবু সুফিয়ান [মিউজিক] হঠাৎ উঠে দাঁড়ালো। কিন্তু এবার তার চোখে হিংস্রতার আলো নেই। সে আব্দুল কাদেরকে বলল, তুমি কি আমাকে [মিউজিক] সঠিক পথ দেখাতে পারবে? আমি 20 বছর ধরে ভুল পথে আছি। আমার হাতে রক্ত আছে। আমার জীবনে শুধু পাপ আছে। [মিউজিক] আমি কি আর কখনো আল্লাহর কাছে ফিরতে পারবো? আমার মত মানুষের জন্য কি আল্লাহর দরজা এখনো খোলা আছে? কাফেলের মানুষগুলো অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। ডাকাতরা পরস্পরের মুখের দিকে তাকাচ্ছে। কেউ কেউ পিছু [মিউজিক] হটছে। কিন্তু আব্দুল কাদের এগিয়ে গেলেন। সেই ভয়ঙ্কর ডাকাতের সামনে তিনি দাঁড়ালেন। তার [মিউজিক] চোখের দিকে তাকালেন। সেই চোখে ঘৃণা নেই, রাগ নেই, ভয় নেই। শুধু অপরিসীম দয়া। তিনি বললেন আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া সবচেয়ে বড় পাপ। আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা'আলা কুরআনে বলেছেন হে আমার বান্দারা যারা নিজেদের উপর অত্যাচার করেছ আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয় না। [মিউজিক] নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত পাপ মাফ করেন। তোমার হাতে রক্ত আছে সত্য। তোমার জীবনে পাপ আছে সত্য। কিন্তু আল্লাহর রহমত কি তোমার পাপের চেয়ে ছোট? না। আল্লাহর রহমত অসীম। তুমি যদি সত্যিকার মনে তওবা করো আজ রাতে এই মুহূর্তে আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করবেন। সে হাঁটু মুড়ে [মিউজিক] মাটিতে বসে পড়ল। তারপর 60 জন ডাকাতের সামনে পুরো কাফেলার [মিউজিক] সামনে খোলা আকাশের নিচে সে কাঁদতে শুরু করল। এমন কান্না যা সে শেষবার [মিউজিক] কেঁদেছিল তার মায়ের মৃত্যুর দিন। ইয়া আল্লাহ আমি পাপী। আমি অপরাধী। [মিউজিক] আমার হাতে রক্ত লেগে আছে। আমি এই 20 বছরে তোমার কত বান্দাকে কষ্ট দিয়েছি তুমিই জানো। কিন্তু আজ [মিউজিক] এই তরুণের সত্যের আলো দেখে আমার মনে হচ্ছে তুমি আমাকে ডাকছো। তুমি আমাকে ফিরিয়ে নিতে চাইছো। ইয়া আল্লাহ আমি তওবা করছি। তুমি আমাকে কবুল [মিউজিক] করো। তুমি আমাকে ক্ষমা করো। আর তারপর একটি অলৌকিক ঘটনা ঘটলো। আবু সুফিয়ানের পেছন থেকে [মিউজিক] একজন ডাকাত এগিয়ে এলো। সে বলল সরদার আমিও তওবা করতে চাই। [মিউজিক] তারপর আরেকজন আরেকজন আরো একজন। একে একে [মিউজিক] সেই রাতে 60 জন ডাকাতের মধ্যে একজন একজন করে এগিয়ে এল। কেউ কাঁদছে কেউ মাথা নত করে আছে। কেউ হাত তুলে দোয়া [মিউজিক] করছে। সেই রাতে সেই পাহাড়ের ঢালে 60 জন ডাকাত তওবা [মিউজিক] করল। সবার লুট করা সম্পদ ফেরত দেওয়া হলো। যার যার মাল তাদের কাছে। আব্দুল কাদের [মিউজিক] তার 40 টি স্বর্ণমুদ্রা ফেরত পেলেন। সেই রাত বেরিয়ে [মিউজিক] গেল। পূর্ব আকাশ লাল হলো। ফজরের আজান ভেসে এল দূর থেকে। পাখি ডাকতে শুরু করল। কাফেলার মানুষগুলো সেই ভোরে এক অদ্ভুত অনুভূতি নিয়ে জেগে উঠলো। তারা দেখল >> [মিউজিক] >> ডাকাতরা নেই। গত রাতের সেই ভয়ঙ্কর মানুষগুলো নেই। তাদের জায়গায় আছে কিছু মানুষ। মাথা নত করে বসে আছে। অনেকের [মিউজিক] চোখ লাল। অনেকের গাল ভেজা। তারা নামাজ পড়ছে। আবু সুফিয়ান আব্দুল কাদেলের [মিউজিক] পাশে এসে বসল। বলল, আমি কি তোমার সাথে বাগদাদ যেতে পারি? আমি নতুন জীবন শুরু করতে চাই। আমি শিখতে চাই। [মিউজিক] আব্দুল কাদের হাসলেন। তিনি বললেন, আল্লাহ তোমার তওবা কবুল [মিউজিক] করুন। এসো একসাথে যাই। সেই ভোরে একটি অদ্ভুত কাফেলা পথ হাঁটতে শুরু করল। [মিউজিক] সাধারণ মুসাফির, আলিম, ব্যবসায়ী আর তাদের সাথে প্রাক্তন 60 জন ডাকাত। [মিউজিক] যারা কাল রাতেও তলোয়ার হাতে ছিল। আজ তারা মাথা নত করে হাঁটছে। [মিউজিক] পথে আবু সুফিয়ান জিজ্ঞেস করল, তুমি কি জানতে যে সত্য [মিউজিক] বললে এই ঘটনা ঘটবে? আব্দুল কাদের বললেন, না। আমি শুধু জানতাম যে সত্য বলব। পরিণতি আল্লাহর হাতে। আমার কাজ ছিল সত্যের পথে থাকা বাকি সব আল্লাহর কাজ। আবু সুফিয়ান মাথা নাড়লো। বলল, একটা সত্য কথা [মিউজিক] আমার 20 বছরের জীবন বদলে দিল। বাগদাদে পৌঁছে আব্দুল কাদের জ্ঞান অর্জনের [মিউজিক] পথে নামলেন। সেই যুগের সেরা আলেমদের কাছে পড়লেন। ফিকহ, হাদিস, তাফসীর, তাসাউফ সব বিষয়ে পারদর্শী হলেন। রাতের পর রাত জেগে পড়লেন। দিনের পর দিন ইবাদতে কাটালেন। কষ্ট করলেন, ধৈর্য [মিউজিক] ধরলেন এবং ধীরে ধীরে তার আলো ছড়িয়ে পড়তে লাগলো। মানুষ [মিউজিক] তার কথা শুনতে আসতো দূর-দূর থেকে। তার ওয়াজ শুনে কাঁদতো, তওবা করত, পথে ফিরে আসতো। তার মাজলিসে বসলে মনে হতো জীবনের সব [মিউজিক] জঞ্জাল সাফ হয়ে যাচ্ছে। বুক হালকা হয়ে যাচ্ছে। আল্লাহ কাছে হয়ে [মিউজিক] আসছেন। মানুষ তাকে ডাকতে লাগলো বড় পীর সুলতানুল আউলিয়া মহিউদ্দিন পীরানে পীর দাস্তগীর

Need a transcript for another video?

Get free YouTube transcripts with timestamps, translation, and download options.

Transcript content is sourced from YouTube's auto-generated captions or AI transcription. All video content belongs to the original creators. Terms of Service · DMCA Contact

বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) এর অবিশ্বাস্য কারামত — ...