আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা আশা রাখি আল্লাহর অশেষ রহমতে আপনারা অনেক অনেক ভালো আছেন। রাবেয়া বসরী রহমাতুল্লাহ আলাইহের চমৎকার একটি ঘটনা। প্রিয় বন্ধুরা, এই চমৎকার ঘটনাটি জানতে চাইলে ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখুন। আল্লাহ তাআলা পৃথিবীতে বহু নবী রাসূল প্রেরণ করেছেন। তবে যত নবী রাসূল এই দুনিয়াতে এসেছে তারা সবাই ছিলেন পুরুষ। এই মর্যাদা আল্লাহ তাআলা নারীদের দেননি। তাই বলে নারীদের অবহেলা করার কোন অবকাশ নেই। নারীদের মধ্যে হতেও অনেকেই জগৎ বিখ্যাত অলি হয়েছেন। তেমনি এক ময়সী নারী হযরত রাবেয়া বসরী। ইরাকের বর্শানগরীতে এক দরিদ্র পল্লীতে জন্ম হয়েছিল এই ধর্মভবীরু হযরত রাবেয়া বসরীর। তারা দরিদ্র ছিলেন বটে। তবে পরম ধার্মিক ও আল্লাহ ভক্ত ছিলেন। রাবেয়া বসরী ছিলেন ভদ্রনম্র সংযমী। সেই সঙ্গে প্রুকুর বুদ্ধিমত্তার অধিকারিণী ছিলেন তিনি। সবসময় গভীর চিন্তায় ধ্যানমগ্ন হয়ে যেতেন। রাগ হিংসা অহংকার তার চরিত্রকে কখনো কুলুষিত করতে পারেনি। মোট কথা আল্লাহর একজন প্রকৃত ওলি হওয়ার জন্য যা যা গুণাবলী থাকা প্রয়োজন। সকল গুণের অধিকারিনী ছিলেন হযরত রাবেয়া বসরী রহমতুল্লাহ আলাই। হযরত রাবেয়া বসরী সকল বিপদ আপদকে পরীক্ষা হিসেবে গ্রহণ করতেন। আর কেনই বা মনে করবেন না? কারণ এ জগতে যারাই আল্লাহর বন্ধু হতে চেয়েছেন তাদের ঈমানের কঠিন পরীক্ষা অগ্নিপরীক্ষা দিতে হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে উল্লেখ করেছেন তোমরা কি ধারণা করেছ এমনিতেই জান্নাতে প্রবেশ করবে? অথচ আল্লাহ তাআলা অবগত আছে তোমাদের মাঝে কে জিহাদ করে আর কে ধৈর্য ধারণ করেছে। একসময় রাবেয়া বসরী দাসত্ব জীবন অতিবাহিত করেছেন। তার মনিব ছিল অত্যন্ত নিষ্ঠুর প্রকৃতির লোক। বিরামিন ভাবে তিনি সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করাতেন। মনিবের নির্ধারিত কাজ শেষ হওয়ার পর মহান রবের ইবাদতে মশগুল হয়ে যেতেন তিনি। মূলত রাবেয়া বসরীর জীবনের উদ্দেশ্য ছিল আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি লাভ করা। এক ঘুটঘুটে অন্ধকার রাতে। রাবেয়া যখন আরাধনায় লিপ্ত ছিলেন তখন তার মাথার উপর কোন শিকল দিয়ে বাধা ছাড়াই একটি ঝাড়বাতি জ্বলছিল। যার আলো বিচ্ছিত হয়ে ঘরের চারপাশে আলোকিত হয়ে গেল। এ অলৌকিক ঘটনা দেখে মনিবের পাশান হৃদয় গলে গেল। মনিব মনে মনে বলল, হায় এ আমি কাকে আমার ঘরে দাসী বানিয়ে রেখেছি। সে তো সামান্য নারী হতে পারে না। সে নিশ্চয় আল্লাহর প্রিয়জন। এ ঘটনার পরদিন সকালে মনিব রাবেয়া বসরীকে দাসত্ব জীবন থেকে মুক্ত করলেন। হযরত রাবেয়া বসরী খুব অল্প বয়সেই মা-বাবার কাছ থেকে কোরআন হাদিস ফিক ও শাস্ত্রের এলেম হাসিল করেছিলেন। শিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে তার কখনো কোন সংকোচ ছিল না। মা-বাবাকে খুব অল্প বয়সেই হারিয়েছেন তিনি। জীবনে চলার পথে বহু কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছেন তিনি। তারপরও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কখনো পিছপা হননি। সে সময়ের একজন মহান সাধক ছিলেন ইমাম হাসান বসরী রহমাতুল্লাহ আলাই। রাবেয়া তার কাছে গিয়ে এলেমে তাশাহুফ ও মারেফতের সূক্ষ জ্ঞান অর্জন করতেন। পরবর্তী জীবনে রাবেয়া একজন কবি হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। রাবেয়া বসরী রহমাতুল্লাহ আলাইর জীবন থেকে অনেক কারামত প্রকাশিত হয়েছে। এরকম অলৌকিক কর্মকাণ্ডের সংখ্যাও কম নয়। তার মধ্য থেকে একটি কারামত হচ্ছে একদিন রাবেয়া আফরাত নদীর তীরে বসে আল্লাহর ধ্যানে মগ্ন ছিলেন। এমন সময় তৎকালীন শ্রেষ্ঠ সাধক হযরত হাসান বসরী রহমাতুল্লাহ আলাই সেখানে হাজির হলেন। তিনি তার জায়নামাজখানি পানিতে বিছিয়ে দিলেন এবং রাবেয়াকে ডেকে বললেন, এসো রাবেয়া আমরা দাঁড়িয়ে দুই রাকাত নামাজ আদায় করি। রাবেয়া কিছুক্ষণ চুপ থেকে তার জায়নামাজটিকে শূন্য লোকে উড়িয়ে দিলেন এবং রাবেয়া নিজে উড়িয়ে সেখানে বসে বললেন জনাব আসুন যদি পারেন এখানে এসে দু রাকাত নামাজ আমরা আদায় করি আল্লাহর নবী রাসূল ওলিদের বহু অলৌকিক ঘটনা রয়েছে তবে তারা এসব ক্ষমতা নিয়ে কখনো অহংকার করেননি তারা ইচ্ছাকৃতভাবে কখনো তা প্রকাশ করেননি বরং তা আপনা আপনি প্রকাশিত হয়ে যেত এত কামেল হয়ে হযরত রাবেয়াকে অনেক সময় ছিন্ন বসনে দেখা যেত প্রিয় বন্ধুরা যারা এই চম চমৎকার ঘটনাটি জানতে পারলেন তারা অবশ্যই আমার নতুন চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করবেন এবং পাশে থাকবেন। ধন্যবাদ।
Get free YouTube transcripts with timestamps, translation, and download options.
Transcript content is sourced from YouTube's auto-generated captions or AI transcription. All video content belongs to the original creators. Terms of Service · DMCA Contact