বহু পুরনো দিনের [মিউজিক] কথা। বাগদাদের কাছে একটি ছোট্ট গ্রামে ইউসুফ নামের এক সহজ সরল যুবক বাস করত। কয়েক বছর আগেই তার মা-বাবা ইন্তেকাল করেছিলেন। এই দুনিয়ায় তার [মিউজিক] আপন বলে আর কেউ ছিল না। ইউসুফ ছিল অত্যন্ত নেককার ও সরল মনের একটি ছেলে। বাজারে তার একটি ছোট্ট মেওর দোকান ছিল। আয়রোজগার মোটামুটি হতো যা দিয়ে সে তার দিনগুজ রান করত। রাতে যখন ক্লান্ত [মিউজিক] পরিশ্রান্ত হয়ে ঘরে ফিরতো তখন ঘরটা শূন্য শূন্য লাগতো। ইউসুফ নিজেই দুটো রুটি ভেজে নিত। কখনো বেশি [মিউজিক] ক্লান্ত থাকলে এমনিই শুয়ে পড়তো। কোন আত্মীয়স্বজন থাকলে হয়তো তার বিয়ের কথা ভাবতো। কিন্তু এই দুনিয়ায় ইউসুফের কেউই ছিল না। তার পাশের বাড়িতে একজন বয়স্কা মহিলা থাকতেন। সবাই তাকে খালাম্মা বলে ডাকতো। যেন তিনি পুরো মহল্লারই খালাম্মা। তার ইউসুফের জন্য বড়ই মায়া হতো। যখনই কোন ঈদের উৎসব বা বিশেষ অনুষ্ঠান হতো খালাম্মা ভালো ভালো পিঠাপুলি বানাতেন এবং তার থেকে কিছুটা ইউসুফকেও দিয়ে আসতেন। খালাম্মার একটি ভাগ্নিী ছিল [মিউজিক] যার নাম ছিল সুমাইয়া। যে অন্য গ্রামে তার মায়ের সাথে থাকতো। সুমাইয়া ছিল বেশ ভর্ষা ও রূপবতী। সে তার ভর্ষা রং ও রূপের উপর বড়ই গর্ব করত। সে সর্বক্ষণ আয়নার সামনে সেজে গুজে থাকতো এবং জানালা দিয়ে উঁকিছুকি দিত। সুমাইয়ার বিধবা মা তার মেয়ের বিয়ে নিয়ে বড়ই চিন্তায় থাকতেন এবং মেয়ের এই স্বভাব চরিত্রে তিনি খুবই বিরক্ত হতেন। কিন্তু কি করবেন? তার কাছে তো সম্পদ নেই। আর যৌতুক ছাড়া গরীবের মেয়েকে বিয়ে করবেই বা কে। একদিন সুমাইয়ার বিধবা মা তার বোন অর্থাৎ ইউসুফের পরশী [মিউজিক] খালাম্মার সাথে দেখা করতে এলেন। বোনের কাছে বসে মেয়ের বিয়ের দুঃখের কথা বলতে লাগলেন। তখন সেই খালাম্মার সঙ্গে সঙ্গে পাশের বাড়ির ইউসুফের কথা মনে পড়ে গেল। ভাবতে লাগলেন, ভদ্র সহজ সরল ছেলে দেখতেও সুন্দর। এমন ছেলে [মিউজিক] তো আলো জ্বালিয়ে খুঁজলেও পাওয়া যাবে না। তিনি তার বোনকে বললেন, তুই চিন্তা করিস না [মিউজিক] বোন। আমি আমার পাশের বাড়ির এক ছেলে আছে ওর সাথে কথা বলব। বড়ই নেককার ছেলে। যৌতুকে টাকা পয়সা খরচ না করেই মেয়েটা ভালো ঘরে চলে যাবে। সেই সন্ধ্যায় [মিউজিক] খালাম্মা একটি থালায় দুটো মিষ্টি নিয়ে ইউসুফের বাড়ি হাজির হলেন। ইউসুফ তখন দোকান থেকে ফিরেছে এবং খিদে পেয়েছে বলে চুলা জ্বালানোর চেষ্টা করছিল। খালাম্মাকে দেখে এসে বাইরে এল। খালাম্মাকে ঘরে বসালো এবং আসার কারণ জিজ্ঞেস করল। খালাম্মা বললেন, বেটা সারাদিন ক্লান্ত হয়ে ফিরে তুই রুতি বানাচ্ছিস। এটা দেখে তো আমার কলিজা পুড়ে যায়। তুই নিজের সংসার পাতিস না কেন? ইউসুফ বলল, খালাম্মা আপনি তো জানেনি আমার আগে পিছে কেউ নেই। না কোন বংশের [মিউজিক] লোক আছে না কোন আত্মীয়। বিয়ে তো মা বাবার দায়িত্ব। আমার এখানে কে আছে যে আমার বিয়ে দেবে। আর আমাকেই বা বিয়ে করবে কে? এতে খালাম্মা তড়াক করে বলে উঠলেন, আরে না বেটা না এ কথা বলতে নেই। আমি কি এখনো বেঁচে নেই? আর তোর আবার কিসের কমতি? [মিউজিক] তুই কি আমার ছেলে না? সেসব তো ঠিকই আছে খালাম্মা। কিন্তু মেয়ে কোথায়? খালাম্মা [মিউজিক] ঝটপট তার মুখে একটা মিষ্টি গুজে দিয়ে বললেন, আরে বেটা আমার ভাগ্নি আছে না? ওর নাম সুমাইয়া। একদম চাঁদের মত রূপবতী। তুই তো তাকে দেখলে চোখ ফেরাতেই পারবি না। এমনিতে তার জন্য অনেক বিয়ের প্রস্তাব এসেছে। কিন্তু আমি তো আমার বোনকে সাফ বলে দিয়েছি [মিউজিক] যে ইউসুফের চেয়ে ভালো ছেলে তুমি কোথাও পাবে না আর আমার সুমাইয়াহুর বড়ই নেককার [মিউজিক] মেয়ে তোর সংসার আবাদ হয়ে যাবে ইউসুফের নিজের বিয়ের কথা শুনতে বড়ই লজ্জা লাগছিল সে আস্তে করে বলল খালাম্মা আপনি তো আমার মায়ের জায়গায় আপনি যেটা সঠিক মনে করেন সেটাই করুন খালাম্মা আনন্দে দ্বিতীয় মিষ্টিটা নিজের মুখেই রেখে ইউসুফকে দোয়া দিতে দিতে সেখান [মিউজিক] থেকে চলে গেলেন। খালাম্মা ঘরে ফিরে তার বোনকে বললেন নাও বোন তোমার কাজ হয়ে গেছে এত সহজ সরল আর সুন্দর ছেলে [মিউজিক] তুমি সাত জন্মেও খুঁজলে পাবে না তোমার মেয়ে রাজার হালে থাকবে আর ইউসুফের একটা ভালো দোকান আছে ভালোই উপার্জন করে [মিউজিক] সুমাইয়ার মা বলতে লাগলেন কিন্তু বোন আমার কাছে তো একটি ফুটোড়িও নেই যে আমার জামাইকে দুজোড়া কাপড়ও বানিয়ে দিতে পারব এবং বরযাত্রীদের খাওয়াতে পারব খালাম্মা বললেন সেটার তুমি চিন্তা করো না আমি সব সামলে নেব। পরের দিন সন্ধ্যায় খালাম্মা মিষ্টি নিয়ে আবার ইউসুফের বাড়ি গেলেন এবং সম্বন্ধ পাকা হওয়ায় তাকে অভিনন্দন দিতে লাগলেন। ইউসুফ বেশ খুশি হয়ে বলল, খালাম্মা এখন যা করার আপনাকেই করতে হবে। খালাম্মা বললেন, আরে ইউসুফ তুই চিন্তা করিস না। আমি সবকিছু সামলে নেব। হ্যারে তোর কাছে কিছু নগদ অর্থ থাকলে সেটা আমাকে দে তো। [মিউজিক] ইউসুফ আনন্দে আর স্থির থাকতে পারছিল না। সে তাড়াতাড়ি ঘরে গেল এবং [মিউজিক] যা কিছু জমানো পুঁজি ছিল সব থলিতে ভরে নিয়ে এসে সেই থলি খালাম্মার হাতে তুলে দিল। খালাম্মার মনের আশা যেন পূরণ হয়ে গেল। তিনি থলি নিয়ে নিজের বাড়ি চলে গেলেন। কিছুটা দেরহাম তার থেকে নিজের কাছে রেখে বাকি থলি তার বোনকে দিয়ে দিলেন। বললেন, নাও দেরহামের ব্যবস্থা হয়ে গেছে। [মিউজিক] এখন বুঝে শুনে খরচ করো। পরের মাসে ইউসুফের বিয়ে ঠিক হয়ে গেল। বিয়ের দিন এলে ইউসুফ অল্প কিছু বরযাত্রী নিয়ে শ্বশুরবাড়ি পৌঁছালো। ইউসুফের বেশি বন্ধু বান্ধব বা পরিচিত কেউ ছিল না। তার একমাত্র বন্ধু ছিল কামাল। কামাল আর আশেপাশের কিছু দোকানদার তার বর যাত্রায় এসেছিল। ইউসুফ চাঁদের মত ফর্সা দুলহানকে দেখে আনন্দে আটখানা [মিউজিক] হয়ে গেল। পরের দিন সে চার পাঁচ জনকে বাড়িতে দাওয়াত করল। কামালও তার বাড়িতে দাওয়াত খেতে এসেছিল। সে বলল, আমি তো ভাবিজানের মুখ দেখানি দেব। একমাত্র দেবরটাই তো আমি। দেবরের সাথে আবার কিসের লজ্জা? ইউসুফ বেচারা [মিউজিক] সহজ সরল মানুষ। বন্ধুত্বের খাতিরে সে রাজি হয়ে গেল। কামাল ভাবীর মুখ দেখল এবং তার রূপে মুগ্ধ হয়ে গেল। সে ভাবীকে মুখ দেখানিতে সোনার পালিশ দেওয়ার রুপর দুল দিল। এটা দেখে সুমাইয়া [মিউজিক] বেজায় খুশি হয়ে গেল। এত দামি মুখ দেখানি তো তাকে কেউ দেয়নি। আসলে ইউসুফের বন্ধু কামাল তার নামের একদম উল্টতো ছিল। সে ছিল এক নম্বরের বদমাশ। ধনী পরিবারের [মিউজিক] ছেলে। বাবার নিজের ব্যবসা ছিল। পয়সার কোন অভাব ছিল না। সামান্য কিছুক্ষণ কারবারে বসতো আর সারাদিন আড্ডাবাজি করতো। [মিউজিক] ইউসুফ আর কামাল একসাথে মাদ্রাসায় পড়তো। সেখান থেকেই বন্ধুত্ব হয়েছিল। যদিও দুজনের মধ্যে আসমান জমিন ফারাক ছিল। ইউসুফ তার ভালো স্বভাবের কারণে সবাইকে নিজের মত মনে করত এবং সবাইকে বিশ্বাসও করে ফেলত। কিছুদিন কেটে গেল ইউসুফের বউ সুমাইয়া ইউসুফের সরলতায় বিরক্ত হয়ে উঠেছিল। সে চাইতো সারাদিন [মিউজিক] সেজেগুজে বসে থাকবে আর ইউসুফ তার রূপের প্রশংসা করতে থাকবে। ইউসুফ তাকে ভালোবাসতো অনেক। কিন্তু এসব ঢং তার আসতো না। আর সময়ও ছিল না। বউয়ের এসব আবদার মেটাতে গেলে দোকান চলবে কি করে? তবুও সে প্রতি দু- তিন দিন পর পর তার বউয়ের জন্য উপহার নিয়ে আসতো। কখনো চুরি, কখনো সস্তা দুল। কিন্তু সুমাইয়ার এগুলো পছন্দ হতো না। সুমাইয়ার দুঃখ ছিল যে তার কাছে একটিও সোনার গহনা নেই। কামালের দেওয়া সেই দুলটা ছাড়া। সে সর্বক্ষণ ইউসুফকে খোঁটা দিতে থাকতো। ইউসুফ [মিউজিক] ঘরে ফিরলে রান্না করা থাকতো না। তার বউ বলতো কাঠ ভেজা ছিল। কখনো বলতো মাথা ব্যথা। ইউসুফ বেচারা কখনো নিজে চুলা ধরাতো, কখনো বাজার থেকে রান্না করা খাবার কিনে আনতো। তার কম আয়ের এতটা কষ্ট এর আগে কখনো হয়নি যতটা এখন হচ্ছিল। তার এই দুঃখও ছিল [মিউজিক] যে সে তার বউকে খুশি রাখতে পারছে না। অন্যদিকে সে দোকানে চলে গেলে তার বন্ধু কামাল মিষ্টি আর দামি উপহার নিয়ে তার বাড়িতে এসে হাজির হতো। ধীরে ধীরে বোকা সুমাইয়া কামালের ফাঁদে পড়তে থাকল। কামাল তাকে ভুলিয়ে ভালিয়ে [মিউজিক] বলত, তোমার মত সুন্দরী মেয়ের তো শাহজাদীর মত থাকার কথা। তুমি কোথায় এই ফকির ইউসুফের চক্করে পড়ে গেলে? সুমাইয়ারও এখন মনে হতে শুরু করল যে তার সাথে অন্যায় হয়েছে। তাকে ইউসুফের মত গরীব লোকের সাথে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার তো কামালের মত কোন টাকাওয়ালার বউ হওয়ার কথা ছিল। যে তার জন্য দামি উপহার নিয়ে আসতো এবং সর্বক্ষণ তার রূপের প্রশংসা করতো। শেষ পর্যন্ত কামাল একদিন তাকে বুঝালো তুমি তোমার স্বামীকে ব্যবসা করতে দামেশকে পাঠিয়ে দাও তারপর আমরা স্বাধীনভাবে মেলমেশা করতে পারব আমি তোমাকে সোনার গহনা বানিয়ে দেব সুমাইয়া তার ফুসলা নিতে রাজি হয়ে গেল সে ইউসুফের মাথা খাওয়া শুরু করল এই ছোট্ট মেওয়ার দোকান থেকে তুমি কখনো বেশি উপার্জন করতে পারবে না আর এভাবে আমরা আরামায়েশের জীবন কাটাতে পারবো [মিউজিক] না যতক্ষণ না তুমি দামেশকে গিয়ে উপার্জন করো আর তোমার এত সামর্থ্যও নেই যে একটা [মিউজিক] কাজের মেয়ে রাখতে পারবে সারাদিন কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যাই। সারাদিন চুলায় ধরাই। এত কাজ তো আমি আম্মার বাড়িতেও করিনি। প্রতিদিনকার অভিযোগে বিরক্ত হয়ে ইউসুফ [মিউজিক] দামেশকে গিয়ে উপার্জন করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিল। সে কামালকে তার ভালো বন্ধু মনে করতো। তাই এ বিষয়ে তার সাথে পরামর্শ করল। কামালও তার কথায় হ্যাঁ মিলিয়ে দিল এবং বলল, হ্যাঁ ভাই তোমার উপার্জন করতে দামেশকে যাওয়া উচিত। আর কতদিন এই ছোট্ট দোকান থেকে চালাবে? এখন ইউসুফের কাছে সুমাইয়ার কথা পুরোপুরি সঠিক মনে হল। ইউসুফ তার দোকান এক বছরের জন্য [মিউজিক] পাশের দোকানদারকে দিয়ে দিল। সেখান থেকে যা পয়সা পেল তা দিয়ে ব্যবসা করার জন্য কিছু মাল কিনে সফরের জন্য প্রস্তুত হয়ে গেল। তার বউ মিথ্যে কান্না কাঁদতে কাঁদতে বলল, তুমি ফিরে এলে আমাদের ভালো দিন চলে আসবে। আমার [মিউজিক] খুব কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু আমাদের দুজনের ভালো ভবিষ্যতের জন্য আমি তোমাকে ছেড়ে থাকতেও পারব। ভারী মন নিয়ে ইউসুফ সফরে রওনা হয়ে গেল। যাওয়ার সময় সে কামালকে বলে গেল, একটু ভাবিজানের খেয়াল রেখো। তোমার উপর ভরসা করে রেখে যাচ্ছি। ওর যেন কোন কষ্ট না হয়। কামাল আশ্বাস দিল, তুমি একদম নিশ্চিন্তে যাও। আমি ভাবীকে কোন কষ্ট হতে দেব না। সেই যুগে কোন গাড়ি চলাচল করতো না। মানুষ খচ্চর ও উটে সফর করতো। 15 দিনের পথ পাড়ি দিয়ে ইউসুফ দামেশকে পৌঁছালো [মিউজিক] এবং একটি ছোট্ট বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করল। বাড়িওয়ালা ছিলেন একজন অত্যন্ত বৃদ্ধ [মিউজিক] আর নেককার মানুষ। বৃদ্ধ তার মেয়ের সাথে থাকতেন। একটাই জোয়ান মেয়ে তার। এছাড়া [মিউজিক] আর কেউ ছিল না। তিনি ইউসুফকে বাড়িতে একটি কামড়া ভাড়া দিলেন। বাড়িওয়ালা যখন জানলেন যে ইউসুফ শত শত মাইল দূর থেকে ব্যবসা করতে এসেছে এবং সম্পদ অর্জন করতে চায় তখন তিনি ইউসুফকে বুঝিয়ে বললেন, ব্যাটা এই শহরে ব্যবসা একটু সাবধানে করো। এই শহরের লোকেরা [মিউজিক] বড়ই বেঈমান ও ফাঁকিবাজ। ইউসুফ তার উপদেশটা মাথায় রেখে সেখানে ব্যবসা করতে [মিউজিক] লাগল। 10 মাস ব্যবসা করার পর ইউসুফের ঘরের জন্য বড়ই মন টানতে শুরু করল এবং সে [মিউজিক] বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্তও করে নিল। যদিও সে সুমাইয়াকে চিঠি লিখেছিল যে সে দু মাস পরে ফিরবে এবং তার জন্য উপহারও কিনে আনবে কিন্তু এখন ঘরের জন্য প্রাণ আকুপাকু করায় আগেই চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। তার ব্যবসার সব মাল বিক্রি [মিউজিক] হয়ে গিয়েছিল এবং ভালো মুনাফাও হয়েছিল। যাওয়ার সময় সে বাড়িওয়ালা অর্থাৎ বৃদ্ধ বাবার কাছে কৃতজ্ঞতা [মিউজিক] জানালো এবং বলল বাবা আপনি একজন পিতার মতো আমার সাহায্য করেছেন। [মিউজিক] বৃদ্ধ বললেন আমার কোন ছেলে নেই। শুধু একটি মেয়ে আছে। তোমাকে দেখামাত্র আমার মনে হয়েছিল যে আমার যদি কোন ছেলে থাকতো তাহলে ঠিক তোমার মতই হতো। যদি জীবন থাকে [মিউজিক] তাহলে তোমার সাথে দেখা করতে আসবোই। ব্যাটা তুমি এত নেককার আর সহজ সরল। মন চায় তোমার সাথে কখনো কিছু মন্দ না হোক। তুমি একজন ব্যবসায়ী। তাই প্রায়ই তোমাকে সফরে আসতে হবে। তাই [মিউজিক] আমার তিনটে কথা সবসময় মনে রেখো। প্রথম উপদেশেই যে যতটা সম্ভব রুজি রুটি কামাতে পরদেশে যেও না এবং নিজের দেশেই যা রুক্ষা সুক্ষা পাও তাতেই গুজরান করো। কারণ নিজের [মিউজিক] দেশের রুটি পরদেশের রুটির চেয়ে অনেক ভালো। আল্লাহ সকলের জন্য রুজির ব্যবস্থা করেছেন। তোমার তাকদীরে [মিউজিক] যা আছে তা তুমি পাবেই। দ্বিতীয় উপদেশ এই যে কখনো স্ত্রীর কথায় ভুলেও পরদেশের সফরে বেরিও না। কারণ ঘরের মেয়েরা কারবার ও ব্যবসা সম্পর্কে কিছুই জানে না। আর আমার তৃতীয় উপদেশ এই যে কখনো তোমার স্ত্রীকে কারো ভরসায় রেখে সফরে যেও না। সে যেই হোক যতই ভালো হোক আর তোমার যতই কাছের হোক না কেন। এসব শুনে ইউসুফ বলল, বাবা আমি তো এই তিনটি কাজই করেছি যেগুলো না করতে আপনি উপদেশ দিলেন। রুজির সন্ধানে আমি পরদেশের সফরে এসেছি। আর এই সফর আমি আমার বউয়ের জোড়াজোড়িতেই করেছি। আর আমার বন্ধুকে বউয়ের খেয়াল রাখার দায়িত্ব দিয়ে এসেছি। বৃদ্ধ বললেন, [মিউজিক] ব্যাটা সত্যিই তুমি অনেক সহজ সরল আর নেককার মানুষ। কিন্তু দুনিয়ায় সবাই তোমার মতো [মিউজিক] না। এখন যা হয়েছে হয়েছে। শুধু এটুকু মনে করো যে তোমার ঘরে চোর ঢুকেছে। কিন্তু তুমি [মিউজিক] খবর দিয়ে ঘরে যেও না। আর যা তামাশা দেখবে তা অনুযায়ী একজন মর্দের মতো সিদ্ধান্ত নিও। ইউসুফ তখনই তার গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে গেল। প্রায় 10 থেকে 15 দিনের পথ পাড়ি দিয়ে সে বাড়ি পৌঁছালো। তখন সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিল। তার সেই বৃদ্ধ বাবার বলা কথা মনে এল। খবর দিয়ে বাড়িতে যেও না। সে তার মালসামানা বাড়ির বাইরেই রেখে দিল এবং চুপি চুপি পা টিপে টিপে বাড়িতে ঢুকে গেল। ঘরের যেখানে জানালা [মিউজিক] ছিল সে সেই জানালা দিয়ে ভেতরে উকি দিল। দেখল কামড়ায় আলো জ্বলছে। ভেতর থেকে সুমাইয়া ও কামালের হাসি আর কথার আওয়াজ আসছে। ইউসুফ দেয়ালের সাথে গা চেপে দাঁড়িয়ে গেল। [মিউজিক] আর বাইরেও অন্ধকার ঘনি আসছিল। সুমাইয়া কামালকে ইউসুফের লেখা চিঠি পড়ে শোনাচ্ছিল যে সে দু মাস পরে আসবে এবং তাকে ছেড়ে আর কখনো যাবে না। তার জন্য পায়েল ও দুলের মত উপহারও কিনে নিয়েছে। সুমাইয়া ও কামাল তার [মিউজিক] চিঠি নিয়ে মজা করছিল। কামাল বলল, আরে ওই ফকির [মিউজিক] ফকিরই থাকবে। দিরহামে মাল কিনে তোমার উপর রোব দেখাচ্ছে। আমি তোমার জন্য যে বাজুবন্ধ এনেছিলাম সেটা তো পুরো 10 দিন আর ছিল। সুমাইয়া [মিউজিক] বলল তোমার আর তার কি তুলনা? আমার শুধু এটাই মাথায় ঘুরছে যে সে এলে আমরা কিভাবে দেখা করব। কামাল বলল, তুমি দু তিন মাস পরে তাকে আবার ব্যবসা করতে দামেশকে পাঠিয়ে দিও। ওই গাধার নাকের দড়ি এখন তোমার হাতে। এই কথায় [মিউজিক] দুজন উচ্চস্বরে হাসতে লাগল। ইউসুফ এসব শুনছিল। রাগে তার অবস্থা কাহিল হয়ে গিয়েছিল। সেই মুহূর্তে সে গিয়ে দরজায় ধরাধর ঠোকাঠোকি শুরু করে দিল। সুমাইয়া দরজা খুলল। ইউসুফকে দেখে তার অবস্থা এমন হলো যেন কাঁটা ফুটলেও শরীরের রক্ত বেরোবে না। পেছন পেছন কামালও এসে গেল। ইউসুফকে দেখে তার হাতপা থরথর করতে লাগল। বড় কষ্টে নিজেকে সামলিয়ে সে ইউসুফকে বলল, [মিউজিক] আমি তো ভাবিজানের হালচাল জিজ্ঞেস করতে এসেছিলাম যে ভাবিজানের কোন কিছুর দরকার আছে কিনা। ইউসুফের [মিউজিক] মন চাইছিল কামালের মুখে খুব জোরে থাপ্পড় কষিয়ে দিতে। কিন্তু সে নিজেকে সামলে ধরল এবং ধৈর্যের [মিউজিক] সাথে বলল, এখন তুমি ওকে তোমার বাড়িতে নিয়ে যেতে পারো যাতে ওর সব চাহিদা ভালোমতো পূরণ করতে পারো। সুমাইনা বলল, [মিউজিক] না এমন বলবেন না। আর সে জোরে জোরে কাঁদতে শুরু করল। এরপর কামালও [মিউজিক] বুক ফুলিয়ে ইউসুফকে গাল মন্দ করতে শুরু করল। সে বলল, ভালো মানুষের আর যুগ নেই। >> [মিউজিক] >> আমি তো ভাবীকে মায়ের মত জেনে এতদিন দেখাশোনা করলাম। আর এখন তুমি আমার উপর অপবাদ দিচ্ছো। চিৎকার চেচামেচি শুনে আশেপাশের [মিউজিক] পরশীরাও সেখানে জমে গেল। সবাই ইউসুফকে বলল, ইউসুফ তুমি ভালোই করেছো যে ফিরে এসেছো এবং এই মেয়ের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলে। এমন মেয়ের সাথে এটাই হওয়ার ছিল। আমরা তো এতদিন ধরে এই দুজনের বেহায়া কনা দেখছিলাম। কিন্তু শুধু তোমার জন্যই চুপ ছিলাম। এটা ভদ্রলোকের মহল্লা। >> [মিউজিক] >> আমাদের ঘরেও বউ মেয়ে আছে। লোকজনের কথা শুনে কামাল ও সুমাইয়ার মুখ থেকে একটিও কথা বের হলো না। এই খবর কামালের মা-বাবার কাছে পৌঁছালো। তখন তারাও তাদের ছেলের কান্ডে বড়ই [মিউজিক] লজ্জিত হলেন। ইউসুফ কামালের মাকে বলল, আপনি আপনার ছেলের বিয়ে [মিউজিক] সুমাইয়ার সাথে করিয়ে দিন। কারণ আমি চাইনা সুমাইয়া বেঘর হয়ে যাক। আর এতে ভুলটাই বাকি। ওরা দুজন একে অপরকে ভালোবাসে এবং একসাথে সুখেই থাকবে। কামালের মা বললেন, ব্যাটা তোমার মন সত্যি অনেক বড়। আমি আমার ছেলের এই নিজ কাজে বড় কষ্ট পেয়েছি। কিন্তু কি করব? তুমি যেমন চাও আমি রাজি। কামালের মা সুমাইয়াকে নিয়ে নিজের বাড়ি চলে গেলেন। যাতে [মিউজিক] সঠিক সময়ে দুজনের বিয়ে দেওয়া যায়। এই হইচই এর মধ্যে মধ্যরাত [গান গাওয়া] পেরিয়ে গেল। ইউসুফ দীর্ঘ সফর থেকে এসে ক্লান্ত ছিল। এসব দেখে সে একদম ভেঙে পড়েছিল। দুদিন ধরে সে বাড়ির বাইরেই বেরলো না। দামেশ্কের [মিউজিক] বৃদ্ধ বাবার কথা আর তার উপদেশ তার মনে পড়ছিল। কোনমতে 15 দিন পার করল কিন্তু কোন কাজেই তার মন বসছিল না। ভাবনা চিন্তা করে সে আবার সফরে বেরিয়ে পড়ল। কয়েকদিনের সফরের পর সে বৃদ্ধ বাবার বাড়িতে পৌঁছালো। ইউসুফ সব কাহিনী বৃদ্ধ বাবাকে বলল। বৃদ্ধ বাবা তাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন এবং সান্ত্বনা দিতে দিতে বললেন, ব্যাটা যা হয়েছে তা ভুলে যাও। সুমাইয়া তোমার মত নেককার ছেলের [মিউজিক] যোগ্যই ছিল না। এটার জন্য তো আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করো যে তিনি তোমাকে ওইরকম [মিউজিক] মেয়ের থেকে মুক্তি দিলেন। ইউসুফ বলল, বাবা আপনার সাথে নিজের দুঃখ ভাগ করে নিয়ে মনটা একটু হালকা হয়ে গেল। বৃদ্ধ কিছুক্ষণ ভেবে বললেন, ব্যাটা আমার মেয়েকে তো তুমি চেনই। আমি নিজের মুখে তারিফ করবো [মিউজিক] না। তবে সে অনেক নেককার ও ঘরও আমি। তুমি তার সাথে সুখে থাকবে। তুমি যদি [মিউজিক] রাজি হও তাহলে আমি আমার মেয়ের বিয়ে তোমার সাথে দিতে পারি। ইউসুফ কিভাবে না করতো? সে তো আগে থেকেই বৃদ্ধ [মিউজিক] বাবাকে অনেক সম্মান করতো। সেই সম্বন্ধে রাজি হয়ে গেল। কয়েকদিন পর ভালো দিন দেখে দুজনের [মিউজিক] বিয়ে দেওয়া হল। এরপর বৃদ্ধ বাবা বললেন, ব্যাটা এখন তুমি নিজের গ্রামে [মিউজিক] গিয়ে আশেপাশের শহরগুলোতে ব্যবসা করো এবং সুখে থাকো। ইউসুফ জেড ধরল, বাবা আপনিও আমাদের সঙ্গে চলুন। এখানে আপনার দেখাশোনা করার মত কেউ নেই। আপনি আমাদের সাথে থাকলে আমাদের ঘরেরও বরকত হবে। বড়দের দোয়া যেন আল্লাহর রহমত। ইউসুফের জেদের সামনে বৃদ্ধ বাবা বাধ্য হলেন। আর আসলে তিনিও সেই শহরে আর থাকতে [মিউজিক] চাইতেন না। তিনি তার বাড়িটি বিক্রি করে দিলেন এবং ইউসুফের সাথে চলে এলেন। তারপর তিনজন মিলে আনন্দে [মিউজিক] দিন কাটাতে লাগলো। বলা হয়ে থাকে যে যার মাথার উপর বড়দের হাত থাকে সে অনেকদূর এগিয়ে যায়। ইউসুফের সাথেও তাই হলো। তার শ্বশুরের জ্ঞান বুদ্ধিপূর্ণ [মিউজিক] উপদেশে চলে ইউসুফ অনেক উন্নতি করল এবং অল্পদিনের মধ্যেই তার আশেপাশের এলাকার একজন বড় ব্যবসায়ী হয়ে উঠলো। তো বন্ধুরা এই গল্প থেকে আমরা যা শিখতে পাই তা হলো যে ঘরে তুমি বিনা বাধায় যেকোনো সময় যেতে পারো সেই ঘরের উপর কষনো খারাপ নজর দিও না। সেটা সম্পদের লোভ হোক বা ভালোবাসার ছল না। প্রিয় দর্শক বন্ধু [মিউজিক] আপনি আমাদের ভিডিও কোন দেশ ও জেলা থেকে দেখছেন এবং এই গল্পটি আপনার কেমন লাগলো অবশ্যই কমেন্টে আপনার মতামত প্রকাশ করতে ভুলবেন না এবং আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করতে ভুলবেন না। আর পরের গল্প পর্যন্ত আমাদের সাথেই থাকুন।
Get free YouTube transcripts with timestamps, translation, and download options.
Transcript content is sourced from YouTube's auto-generated captions or AI transcription. All video content belongs to the original creators. Terms of Service · DMCA Contact