আমাদের সংসার | পর্ব ১ | Dilara Zaman | Ananna Islam | Epi 01 | পারিবারিক নাটক | Bangla Natok 2026

Red Films Entertainment7,391 words

Full Transcript

মাথাটাও তো মাশাল্লাহ। >> এই এটা তুমি কি করতেছো? >> আজকে মাছের মাথাটা আম্মা থাক। >> তুমি কিন্তু অতিরিক্ত করতে সব জিনিসটা। আমি বাইচা দেশি মাছ কিনে নিয়েছি মাথা খাওয়ার জন্য। তুমি এটা আম্ম বুড়া মানুষ হয়ে গেছে। সে খাবে কিভাবে? সে খাইতে পারবে? তুমি তাড়ি দিতেছো? কোন বুদ্ধি আছে তোমার? তুমি জানো না আমি মাছের মাথা পছন্দ করি। ভদ্র হইতে পারো নাই। ভালো মানুষ হইতে পারো নাই। বুঝছো? [মিউজিক] কালকার থেকে তুমি আমারে আলাদা খাওন দিবা একত্রে দিবা না দিব তোরে আলাদা খাওন দিব তো কি হইছে আলাদা খাওন দিব কালকা থেকে তুই একা খাইস একা খাইস তুই মাছের মাথা খাইস মার সামনে মাছের মাথা চাপায় চাপা খালি বড় ভাই বছে এখানে সবাই মাছের মাথা পছন্দ করে অসভ্য কোথাকার >> [মিউজিক] >> খুব কষ্ট আমার খুব কষ্ট মা এক মাস ধরে আইছে পাগল হইয়া গেছস আমারে ফোন দে কি দরকার ছিল মায়েরে নিয়া যা মায়েরে নিয়া যা মা কি বোঝা হয়ে গেছে এক মাস ধরে তো আইছে মা তুই তো মায়ের সন্তান নাকি আমার তো সে অবস্থা নাই নালে তো আমি নিয়া যাইতাম পাগল হয়ে যাস না আরে মারে কি জিনিস বুঝবি না মরলে বুঝবি >> থাক বাবা থাক তোরা আর কাজ্জা টজাজ্জা করিস না আসলে তোগরে তো আল্লাহ অনেক দিছে আমারে তার মধ্যে থেকে তোরা যা দেস জিনিসপত্র সবকিছু দাম বাইড়া গেছে ওষুধ কিনতে মেলা পয়সা লাগে থাক তোরা আর কিছু দিস না তাও তোরা চুপ থাক দিতাম বাড়াইয়া দিতাম কিন্তু ঘটনা কি ঘটাইছো গ্রামের প্রত্যেকটা মানুষের কাছে হাত পাচ্ছো আমারে ফোন কইরা কয় আমার ইজ্জত থাকে ইজ্জত এই রাখ তোর ইজ্জত কিসের ইজ্জত রে যখন টাকা দেস না তখন মায়ে হাত পাচ্ছে বা কি করছে করছে মা বাপের বিচার হয় কোনদিন কত বড় সাহস তুই মা মার বিচার করতে বসছস হ্যা আরে মাইরে নিয়া যাওয়ার মত অবস্থা যদি হতো তো নিয়েই যাইতাম মা কি জিনিস জানস মা কত কাছের হয় কত কলিজার টুকরা হয় আর সেই মায়েরে তুই তোর বাসায় এক মাস ধরে আইসা নিয়া যাইতে কইতেছিস আহা কেমন সন্তান তুই আরে আমি আমার মায়েরে কই রাখুম রে আমি তো মেসে থাকি কষ্টে আর এসবে টাকা দিতে পারি না। বেচে খাওয়াও জোটে না। আমি আমার মাইরে কোত্থেকে রাখুম? পারলে তো রাখতাম কলিজার ভিতরে বইরা। আহা তুই আমার ভাই। তুই কেমন ভাই রে? এদেশে কি আর ভাই নাই? তোর মত কোন ভাই নাই। তোর মত হারামি কোন ভাই হয় না। বড় ভাইয়ের কাছে টাকা নাই। আমার কাছেও টাকা নাই। তাহলে তোর কাছে হাত পাত্রতো না। তুই যে কি জিনিস সব জানি 200 টাকা চাইছিলাম আমি তোর কাছে ওষুধ খাওয়ার জন্য জিনিস 200 টাকা দেস নাই আহারে তুই আমার ভাই অনেক কষ্টে অনেক কষ্টে দিন যাপন করতেছি আমরা কমও তোগো দেই নাই মুখ পুচস কে এত কম দিছি আমার টাকার উপরে তো চলতেছস তা অন্যের টাকার উপরে চলস আমি কারো টাকার উপর চলি না আমি মাঝে মাঝে তোর বাসায় খাওয়ানোর জন্য আসি ভাই কথা কও না কে তুমি >> আমি আর কি কমু আমি হলাম গরিব মানুষ গরিব মানুষের কথা কোন দাম আছে ক এই যে তুই দেখ সেই ছোটবেলায় তুই একবার খুব জটিল একটা অসুখে পড়লি আমি তোরে কত যতনাথি করছি হ্যা আমি কোল থেকে তোরে মাটিতে নামাইনি দেখবি আমার কোমরে সেই কহর পইড়া গেছি হ্যা >> থাক বাবা তখন আর আমারে বেশি টাকা পয়সা দে লাগব না আমি শুধু তোগো কাছে এইটুকুই চাই আমার এই নাতনিটারে তোগো কাছে রাইখা একটরে লেখাপড়া করতে দিস মা নাই বড় কষ্টে মানুষ হইছে ওর বাপের তো সেই অবস্থা নাই এখন >> না মা আমি এসে [মিউজিক] নামে আমার বাসায় রাখতে পারব না >> মা আমারে একটা কথা বলতে দাও ওনাদের যদি ঢাকা শহরে থাকার এতই শখ থাকে থাকুক না আমাদের তো কোন সমস্যা নেই এত বড় একটা ঢাকার শর যেকোন জায়গায় থাকুক না এই যে বড় কাক আর ছোট কাকু আপনারা দাদরে নিয়ে আলাদা একটা বাসা ভাড়া নেন সেখানে থাকেন শখও সেখানে থাকুক চা খুক খুশি করেন আমাদের সমস্যা নাই আমাদের বাড়িতে তো ঝামেলা করার কোন দরকার আছে বলে আমি মনে করতেছি না ভাপ গাল ফাটা ফেলাইতাম বাড়ি বাপের [মিউজিক] মত হইছস না আরে এই ঢাকায় যদি বাসা নিয়ে আমরা থাকতে পারতাম আমার ভাইয়েরও টাকা নাই আমারও টাকা নাই তাইলে ম্যাচে থাকুন কে জানস ম্যাচের সিচুয়েশন বুঝস কিছু মেসে যখন টাকা দিতে পারি না তো আমারে খাইতে দেয় না বন্ধু বান্ধবের বাসায় অফিসে যাইয়া খাই কোনদিন বিস্কুট দেয় বিস্কুট খাই কষ্ট বুঝস কষ্ট করছস কোনদিন কিন্তু আমরা কষ্ট করে তোর বাপের অনেক টাকা দিছি একসময় আর মাইরে যদি আমি নিতেই পারতাম মাইরে তো মাথায় করে রাখতাম রে আল্লাহই তো সেই সামর্থ্য আমার নিয়ে গেছে দেয় নাই কে না চায় মায়েরে বুকের মধ্যে আলগলায়া রাখতে মারে অনেক ভালোবাসি আমরা কিন্তু আমার কিছু করার নাই মায়েরে আমি সেবা যত্ন করতে পারুম কিন্তু খাওয়ামু কি তোদের অনেক টাকা দিছে আল্লাহ অনেক কিছু দিছে কোনদিন আরে উল্টাপাল্টা কথা কইস না বাবা তোগো তো আমরা ভালোবাসছি ছোটবেলায়। >> এই বোকা কান্দস কেন? আরে সংসারের দুঃখ আসে। সংসারে দুঃখ থাকলেই যে ঝগড়াঝাড়ি করতে হইবো তা তো না। আমরা তো সবাই ভাই। ভাই না আমরা? একই পরিবারের লোক আমরা। আর এই যে ফ্যামিলি, ফ্যামিলি তো অনেক মারাত্মক জিনিস। ফ্যামিলিটা কি আমরা বুঝতে চাই সব। এই যে দেখ এই ফ্যামিলিতে কারো টাকা আছে, মন নাই। আবার কারো মন আছে, কারো টাকা নাই। এরকম পন্ডিতি মার্কা কথা রাখো। [মিউজিক] তোমরা তো রিনফিন করে চলো। সব জায়গায় হাত পাতো। আমি তো [মিউজিক] হাতপাতি না। আমি যেটা কষ্ট করে কামাই সেটার উপরে আমি চলার চেষ্টা করি। ওইটুকু থেকে আবার জমানোর চেষ্টা করি। তোগো কথা শুনলে তো আমার পথে বসতে হইব। বুঝ নাই ব্যাপারটা? >> হ বাবা। তোর কাছে কেউ কিছু পাইবো না। কিন্তু আমি পাই। আমি পাই যেইটা তুই কোনদিনই দিতে পারবি না। >> কি পাইবা মা কওতো? কি পাও? >> আসমানের চান্দ পাই। তুই না আগে [মিউজিক] কইতি মা তোমার জন্য আমি আসমানের চান্দ আইনা দিতে পারবো। >> আরে বাবা ওটা তো কথার কথা ছিল। মানুষ চাইলে কি আসমানের চান্টা আইনা দিতে পারে? এটা কিরকম কথা কও তুমি? >> হ বাবা। আসমানের চান্দ কেউ আয়না দিতে পারে না। তুই যে আমারে মিছা আশ্বাস দিছিলি এইটা আমি ঠিক বুঝতে পারছি তখন কিন্তু তোগো কাছে ওই আসমানের চান্দ না শুধু একটা জিনিস চাই আমি কালকেই বাড়ি চলে যামু। আমার চোখের সানির অপারেশন কিচ্ছু করাইতে হইব না। শুধু একটা আমার আশা। একটা দাবি তোর কাছে তোরা এই আমার এই নাতনীটারে তোর কাছে রাখ ওরে একটু লেখাপড়া শিখাইয়া ওর বাপের আশা মা মরা মায়া ওর আশাটা পূরণ কর >> না দাদি আমাদের এই বাসা অনেক ছোট এই বাসায় আমরা কাউকে রাখতে পারবো না >> হট করে বলে দিলা তুমি কাউরে রাখতে পারবা না তুমি রাখা না রাখার কেডা তোমার উপর তো গার্ডিয়ান আছে ও কি বাইরের লোক ওতো এই বাসার শানি সন্তান আমার আমার বড় ভাইয়ের সন্তান >> আচ্ছা ঠিক আছে হায়দার ভাই তুমি একটু চুপ করো নাকি >> আম্মা আপনি এখন বাড়িতে যাবেন না ডাক্তার দেখাবেন সেটা যত টাকাই লাগে সানি অপারেশন করবেন তারপরে বাড়িতে যাবেন আর >> ভাই যাব >> ভাইজান উঠান তো সবাই হাত মুখ ধুয়ে নেন বাই বাই ভাই তুমিও যাও হাত মুখ ধুয়ে নাও সবাই খাবেন টেবিলে যায়ে বসো আম্মা >> থাক আমরা খাওয়ার দরকার নাই >> কেন কেন খাওয়ার দরকার নাই বললে হল চল তো সবাই আসো আমি খাবার দিতেছি আম্মা আসো >> মা মেসে আলুর ভর্তা করছে ডাগি করছে ওরেই খাই আমি [মিউজিক] তুমি কি কও >> তোমার সামনে একটা বাইরের লোক আমাকে এইভাবে অপমান করলো আর তুমি চুপচাপ দাঁড়ায়া রইলা না >> তুমি কি ভাবছে এই অপমানের প্রতিশোধ আমি নেবো না 100% প্রতিশোধ নেব তখন তো কিছু করতে পারি না কারণ দাদুর সামনে ছিল দাদুর সামনে তো তো আর কিছু বলা যায় না। শত হলো দাদুর প্রিয় পুত্র সে। যাইতে দাও দাদুরে। দাদুরে যাইতে দেবো না? তারপর দেখবা কেমনে প্রতিশোধ নেই আমি এই অপমানের। হ্যাঁ। >> কেন? ওনার সামনে কিছু বলা যাবে না কেন? আমি অফিস থেকে আসতে না আসতে প্রত্যেকদিন শুরু করে দাও উনার ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাও, ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাও। শোনো আমি একটা কথা বলতেছি উনারে তাড়াতাড়ি গ্রামে পাঠাও। হ্যা। আশ্চর্য! মানে এইটা কি কোন বাড়ি? কথা নাই বার্তা নেই হুট কইরা সবাই যখন খুশি তখন এই বাসায় চলে আসে লঙ্গরখানা একটা একটা দিনও আমি শান্তি পাইলাম না এই বাড়িতে একটার পর একটা মানুষ আসতেই থাকে আসতেই থাকে তোমাদের বাড়িতে >> আচ্ছা তুমি কোন চিন্তা করো না আমি তো প্ল্যান করছি আমরা আলাদা হয়ে যাব >> অনেকদিন ধরে বলতেছো আমরা আলাদা হয়ে যাব আলাদা হয়ে যাব >> তুমি খুব ভালো করে জানো যে আমি মায়ের হাতে রান্না ছাড়া খাইতে পারি না এমন যদি হতো তোমার রান্নার হাত ভালো একটা কথা ছিল তোমার যা রান্না তা তো মুখ তোলা যায় না। অস তোমার দোষ দিয়া লাভ কি? তোমার মা তো তোমারে শিখায় নাই। সারাক্ষণ লেখাপড়া করছো। লেখাপড়ার পিছয় সময় নিছো। রান্নাবান্না যে একটু শিখতে হয়, একটু টেস্ট হইতে হয়। এতো তুমি জানো না। তোমার এটা তো বুঝতে হবে বাবা। আমি বাড়ি বড় ছেলে। আমার তো একটা দায়িত্ব কর্তব্য আছে। উঠে আমার যা খুশি তাই আমি করতে পারি না। এগুলো যদি তুমি না বোঝোক। >> ভাবি! চাচি ডাকতেছিল খাওয়ার জন্য। এই তুমি নক না করে বেডরুমে ঢুকছো কেন? দাড়া আছিস কিসের জন্য মানে এখানে কি চেহারা দেখতেছিস আমাদের আমরা কি সার্কাসের প্রাণী নাকি এ গাইয়া ভুত এই গাইয়া ভুতটা আবার এখানে রাখতে চাই কি আস আবার দাড়া যা এখান থেকে ম্যানারলেস একেবারে বুড়া মাছ খুব পছন্দ করি অনেকদিন পরে খাইতাছি >> এইখানে তো বসা বসার কোন জায়গাই নাই। আমাকে ডাকছেন কেন আম্মা? >> ও আমার তো খাওয়া শেষ। আচ্ছা আমি এই বসানের ঘরে যাইতেছি। তুমি এইখানে বসো। >> না না মা তুমি বসো আমি যাইতেছি। আমি খাবার নিয়া যাইতেছি। এই বৌমা তুমি বসো এখানে। >> থাক লাগবে না। পরে খাবো আমি। এত মানুষের সামনে আমি আবার খাইতে পারি না। >> দাও আমার কাছে দাও। মাছ আছে >> মাছ নিব >> আচ্ছা দেন মাছ দে >> দেশি মাছ মনে হয় >> এই >> হ আব্বা দেশি মাছই আনছে >> আব্বা মাথাটাও তো মাশাল্লাহ >> এই এটা তুমি কি করতেছো >> আজকে মাছের মাথাটা আম্মা খাত >> তুমি কিন্তু অতিরিক্ত করতে সব জিনিস নিয়া আমি বাইচা দেশি মাছ কিনে নিয়েছি মাথা খাওয়ার জন্য তুমি এটা আম্মা আম্মা বুড়া মানুষ হয়ে গেছে সে খাবে কিভাবে সে খাইতে পারবে হ্যা তুমি তাহলে দিতেছো কোন বুদ্ধি আছে তোমার তুমি জানো না আমি মাছের মাথা পছন্দ করি তুমি কেন দেখে দিতেছো >> হ মাথা তো বড় ভাইও পছন্দ করে >> হ তুই তো পছন্দ কর >> ছোটকালে আমাগো পুশক থেকা তগো আব্বায় যখন জাইলা দিয়া মাছ ধরাইতো সকলের পাতে একটা কইরা মাছের মাথা আমি দিতাম। তারপরে পরে যখন একটা মাছ আনতো সেই একটা মাছে ভাইঙ্গা মা খাইয়া তখন চার [মিউজিক] ভাই বোনেরে খাওয়াইতাম আমি। >> হ বুঝছি। তুমি কেন খাইবা? ভাইঙ্গা দিমু >> না বাবা তুমিই খাও। ছোটকালের থেকেই তোমার এই ভালো খাওয়ানোর দিকে [মিউজিক] একটু বেশি নজর আছিল। আল্লাহ পাক সেই জন্য তোমারে অবস্থা ওরকম ভালো কইরা দিছে। খাও। মন ভইরা খাও। >> আমিও তো মাছের মাথা পছন্দ করি। তো মাছ তো আব্বা দুইটা নিয়ে আসছিল। দুইটা মাথা তুমি রান্না করতা? >> মাথাটা আমি [মিউজিক] রেখে দিছি। মুড়ি গন্ড করব। সবাই মিলে খাবো। আর আমি [মিউজিক] বুঝলাম না। এই খাবার নিয়ে সবার এত কথা কিসের? >> দুদিন পর রুই মাছ খাইতেছি। >> কিসের মাথা কিসের লেজ? এক টুকর মাছ তো শান্তি। কি কষ্ট তুই? >> আমি খাওয়ানোর সময় এত কথা বলি না। স বু তোমার খিদা লাগছে না। >> থাক আর লাগছে না। >> একটু তো লাগছে। আচ্ছা আমি তোমারে ভাত দেই তুমি রান্নাঘরে গায়ে খাও মা >> কেন ও রান্না করে খাইবো কে ও এ বাড়ির কাজের মেয়ে হ্যা ও মানুষ না >> কাকু আপনি না মাঝে মাঝে বেশি কথা বলেন >> হ্যা বেশি কথা তো বলি উচিত কথা বললে খারাপ লাগে তোদের মধ্যে এত বৈষম্য হ্যা আহা লেখাপড়া শিখছস মানুষ হইতে পারস নাই >> স্যার এক কাজ করো এখানে বসো মা আমার খাবার চাবার দাও তরকা তরকারি দাও আমি বরং রান্না করি খাই তোমরা তো সেটাই চাইতেছো নাকি >> আহা ঠিক আছে এই বউ এই প্লেটের মধ্যে একটু ভাত দিয়া দাও আর এখান থেকে এক মাছ দাও আমি ওরে নিযে বস ওখানে বসে লোক ধরে খাওয়া দিতে >> কেন আপনি খাবেন না >> আমার খাওয়া শেষ আরে মা কি বলতেছে এখান থেকে এতদিন পর সবাই খাইতে বসছি টেবিলে আর তুমি চলে যাবা ফ্যামিলি ফ্যামিলি কি জিনিস এটা জানে বুঝে কিছু হতে পারছি আমরা এ সময় পামু কখনো আর তুই বসে খাও চুপ করে কত ফ্যামিলি আপনি বোঝেন তাই না এতই যদি বুঝেন তাহলে নিজের ফ্যামিলি থেকে আলাদা হইছেন কেন চুপ তুমি ছোট ছোটর মত থাকবা মুরুব্বির সামনে বড়দের সামনে কেমনে কথা কইতা হয় শিখো নাই হ্যা তুমি আমার সামনে এরকম কইরা কথা কইতাছো তুমি আমার ছেলেরে আমার সামনে অপমান করতেছো। লেখাপড়া শিখছো, বিএমএ পাস দিছো কিন্তু ভদ্র হইতে পারো নাই। ভালো মানুষ হইতে পারো নাই। বুঝছো? বউ তোমারে কইয়া দাও। আমি তোমাগো এখানে [মিউজিক] থাকতে আসি। আমার ছেলে গরিব হইতে পারে। কিন্তু মা হইয়া সেখানে বইসা বইসা দেখবো এইটা যেন কোনদিন না ভাবে। সার্কাস চলতেছে তো। বাইরের মধ্যে একটা সারকাস চলতেছে। এক কাজ করো আপা। তুমি তোমার ভাই তোমার মা সবারি নিয়া থাকো। আমরা আবার মুখে চলে যাই। খাওয়াটার সময় শান্তিতে খাওয়া যায়। যত সহ কালকার থেকে তুমি আমারে আলাদা খাওন দিবা। একত্রে দিবা না। দিব তোরে আলাদা খাওন দিব। তো কি হইছে? আলাদা খাওন দিব। কালকে থেকে তুই একা খাইস। একা খাইস তুই মাছের মাথা খাইস। মার সামনে মাছের মাথা চাপায় চাপায় খালি বড় ভাই বয়ে রছে এখানে সবাই মাছের মাথা পছন্দ করে অসভ্য কোথাকার এই তোর কত বড় স্পর্ধা তুই আমার বাড়িতে আইসা আমারটা খাইয়া তুই আমারে অপমান করস অসভ্য কোথাকার আর তোমারে আমি কিন্তু কইছি যে এগো সাথে কিন্তু কখনো আমারে খাইতে দিও না বাজার থেকে আমি টাটকা শাকসবজি কিনে আমি মাছ কিনে এনে এসেছি নিজের শান্তি মতো খাওয়ার জন্য। কিন্তু শান্তি মতো এই অসভ্য বুকুলের জন্য আমি খাইতে পারি না। >> কালকে থেকে তুমি একলা একলাই খাইও। >> হ। কালকে থেকে তুমি আমারে একাই খাইতে দিবা। আমি একাই খামু। কি খাইলাম এত স্বাদের মাথা? আমি কইতেই পারুম না আমি কি খাইলাম। >> আমিও বুঝতে পারলাম না। মা ভাই সবার সামনে তুমি একলা একলা কেমন করে মাথাটা খাইলা? কেমনে করে পারলা তুমি। মাদবুরি করো না সব বিষয়ে মাদবুরি করো আমার টাকার জিনিস আমি নিয়ে আসছি আমার উপর মাদবুরি করো তোমার বাবার বাসা থেকে নিয়েছে এগুলা হ্যা তোমার বাবার টাকার এগুলা ফাজিল কোথাকার মনটা কত 32 টা দাত ফালা দেই আমি খা তুই খা তুই খা ভালো ক আমি গেলাম >> সব তুমি দাঁড়ায়ে আছো কেন তুমি বসো আমি তোমারে ভাত দেই। [মিউজিক] আরে এই বাড়িতে সবসময় এমন চলতেই থাকে। যাও একটা প্লেট নিয়ে আসো। আমি তোমারে ভাত দেই। [মিউজিক] যাও যাও। বসো। এখানেই বসো। [মিউজিক] বসো। হাত ধো। উফ উফ একটা রাত যদি আমি ঠিক মত ঘুমাইতে পারি একটা রাত >> কি হইছে >> কি আরে বাবা আমার কপাল হইছে একটা রাত আমি ঠিকমত ঘুমাইতে পারি নাই এই টং টং টংটং আওয়াজের চোটে প্রতিদিন রাতে কি পান খাইতে হয় নাকি তার >> আল্লাহ 30 টা দিন তোমার ওই একই কথা মার যন্ত্রণায় ঘুমাইতে পারি না। মার যন্ত্রণায় ঘুমাইতে পারিনা। আরে বাবা তুমি যখন ছোট ছিলা তোমার জন্যও তো মা ঘুমাইতে পারতো না। তো এটা কি সবসময় বলতে হয়। >> তোমার কথা শুনে মনে হইতেছে আমার মায়ে তোমারে জন্ম দিছে। তার পেটে তুমি পালন হইছো? তাই না? তার পেটের কইছো না তুমি? >> আমার মা হবে কেন? >> আমার শাশুড়ি ইউনিক। কিন্তু তোমার কথাবার্তা না আমার ভালো লাগে না। আর আমি আমার শাশুড়িকে মায়ের মতোই জানি। >> ভালো তো। মায়ের মতো জানো। সমস্যা কোন জায়গায় জানো? >> হ্যাঁ জানিই তো। আর শোনো মা কিছুদিনের জন্য আমাদের এখানে বেড়াইতে আসছে। তারে আমাদের রুমটাই দিতাম থাকতে। আমরা বাইরের রুমে বিছানা করে থাকতাম। একটু না বিবেক থাকা উচিত। >> দাও। ধ্যান গান করো না। ধ্যান করো না। মিয়াজ খারাপ করো না আমার। আমার কিন্তু তোমার কথা ভাল লাগে না। আরে হুনো ভালো কথা ওই যে বাজার থেকে যে বড় চিংড়ি মাছগুলো আনছিলাম যেগুলো ফ্রিজে আছো ওগুলো কিন্তু রান্না রান্না করবা না। এগুলা আমার জন্য আনছি। তুমি আমার জন্য এগুলা রান্না করবা আলাদা গেলে পরে বুঝছো? >> হায়রে মানুষ। মানুষ দেখছি নিজের মা ভাই বোন, আপনজনদের না ভালো ভালো খাওয়াইতে পছন্দ করে, ভালোবাসে। আর তুমি আপন মানুষ থেকে লুকায়ে তারপর ভালো ভালো খাইতে পছন্দ করো। কাউরে খাইতে দিতে চাও না। >> তো কি করবো আমি? কি করবো? অগো খাওয়াবো? >> শোনো তোমার এই ব্যবহার না আজকাল যা হচ্ছে না আমি দেখে সহ্য করে থাকি। এর কথা বলেই তুমি ঠ্যাং করে উঠো। আমারে মারতে যাও, ধরতে যাও। সব আমি দেখে সহ্য করি। অন্য কেউ হইলে না, তোমার সংসার করতো না। >> তুমি কিন্তু অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করতেছো সব জিনিস নিয়া। দাঁতগুলো ফেলে দিমু। আমি একেবারে দাঁতগুলো ফেলে দিমু। এইসবই তো জানো তুমি দাঁতই তো ফেলতে জানো খালি ভালো কিছু তো শিখো নাই জানোও না >> না শালা ওদিকে জ্ঞান এদিকে ঘান ঘনানি আর ভালো লাগতেছে না আমার এই ঘ্যান কমাও তো আমারে ঘুমাইতে দে ঘান ঘান করবি না >> ইচ্ছা করে কি ঘ্যান ঘান করি আজকে তুমি খাবার টেবিলে কি করলা আজকে খাবার টেবিলে মাছের মাথাটা নিয়ে [মিউজিক] যা করলা মনে হলো যেন জীবনে কোনদিন তুমি মাছের মাথা খাও নাই আরে আল্লাহ তোমারে তো সামর্থ্য দিছে। কয়দিন পর পরই তুমি বড় বড় মাছ আনতেছো। [মিউজিক] মাছের মাথাটা তুমিই তো খাইতেছো। কিন্তু বড় ভাইয়ের তো আল্লাহ সে সামর্থ্য দেয় নাই। সে তো আমার মনে হয় না বছরেও একটা [মিউজিক] দিন এত বড় মাছ আনতে পারে। মাছের মাথা খাইতে পারে। আজকেই দিতা বড় ভাইয়ের মাথার মাথাটা। সেই খাইতো। >> ওই তোর গান গান থামাবি। জেন গানে থামাবি? আমারে একটু ঘুমাইতে দে। শান্তিতে ঘুমাইতে দে। অশান্তিতে রাখছস কিন্তু সবাই আমারে। আমারে একটু [মিউজিক] ঘুমায় দে। ফাজিল হোলারি নিয়ে সংসার করতাছি আমি। [মিউজিক] >> আল্লাহ উনাকে হেদায়েত দাও। >> ও মা। তুমি কষ্ট কইরা কুলের উপর চড়াইয়া এটা কেন তুমি এটা করতেছো মা? >> অসুবিধা নাই। >> কেন? তুমি যেভাবে পান চাচতে ভালো লাগে তুমি সেইভাবে চাইছো। >> থাক বাপ একটা কথা কই এই তুই আমারে একটু বাড়িতে দিয়ে আসতে পারবি? >> পারুম না কে পারুম তো মা? কিন্তু তোমার বাড়িতে দিয়ে আইলে হইবো। তোমার চিকিৎসা আছে না? তোমার চোখে ছানি পড়ছে। তোমার ফুল বডি চেকআপ করাইতে হইবো। কতগুলি টাকার ব্যাপার এখানে? হ্যাঁ? আমি তো তোমারে দিয়ে আসতেই পারুম। 30 35 40 হাজার টাকা লাগবো। এই টাকা পামু কোথায়? আমার কাছে তো অত টাকা নাই। >> হায়দার আমার কাছে 101 হাজার টাকা আছে। >> আছে। আমার কাছেও হাজার বিয়ে টাকা আছে। >> থাক ওই টাকা তোগো কাছে রাইখা দে। আমার চিকিৎসা করা লাগবো না। আমারে বাড়িতে দিয়া আয়। >> কেন মা চিকিৎসা করা লাগবে না? তুমি আমাদের মা। চিকিৎসা করা লাগবে না। মার চিকিৎসা কি ছেলেরা করবে না? কষ্ট হয় মা। খুব কষ্ট হয়। তোমার এই যে খাইতে বসছি। খাইতে বসে কি করলো? মাছের মাথাটা তোমারে রাইখা খাইলো। একটু লজ্জাও করে না। কতদিন কতদিন গরুর গোস্ত দিয়া ভাত খাই না। আমার কত কষ্ট আমার মেসের মধ্যে। ডাইল ভর্তা ডাইল ভাজি। আলু ভাজি কোনদিন একটু ডিম ভাজা আজ একটু ভালো হয় সেদিন খাই >> বুঝছিরে ভাই বুঝছি ভাইরে আমি না খাইতে খাইতে দেখ আমার পেটটা শুকা গেছে মাইটারে খাইতে দিতে পারি না ভালো করে [মিউজিক] এমন তো অনেকের কথা ছিল না আমার সংসারে তো অনেক সুখ আছিল ছিল শান্তি আছিল এক ভাই আরেক ভাইরে যদি একটু দেখতো একটু মায়া থাকতো তাইলে তো এইরকম হইতো না কি করবি বাবা ধৈর্য ধর ধৈর্য ধর আল্লাহই দেখুক কি ধৈর্য ধরুম্মা ওরা তো তোমারে এটলিস্ট একটা একটা বেডরুম দিতে পারতো এই নিচে শোয়াইতেছে তোমারে চুপ চুপ থাক বাবা। চুপ থাক। এইখানে তো আমার কোন অসুবিধা হইতেছে না। ওগো তো আর আলাদা ঘর নাই যে আমার জন্য আলাদা ঘর দিবো। এরম কইরা কয় না। থাক। এইখানেই ভালো আছি আমি। চুপ কর। ওগো দিকটাও তো দেখতে হইবো। >> ঠিক আছে মা। অনেক রাত হইছে আমি মেসেজ আইতে হইবো। আমি মেসেজে যাই মা। ভাইরে আমি কি তোর ম্যাচে থাকতে পারমু? >> কি ক হয়ে গেলি? ম্যাচে থাকতে পার ম্যাচে থাক। তুমি কেন ম্যাচে থাকবা? ম্যাচে তো আমি থাকুক। ম্যাচের কপাল নিয়ে আইছি। ম্যাচে থাকতেছি। যে কদিন কপাল আছে থাকবো। তুমি মারে এনি থাকবা। মা আমি যাই। আমি যাই মা। কালকে আবার আসো। দোয়া করো মা। যা সাবধানে যাই। দোয়া করবা কানো না ভাই না ওরিফ আমি মইরা গেলে ছোট ভাইটারে একটু দেইখা রাখে মা তুমি কে মরবা? আমার কাছে 10 12 হাজার টাকা আছে। এই টাকা নিয়া আমি ডাক্তারের হাতে পায়ে ধরমু। ধইরা তোমার চিকিৎসা করামু। মা ডাক্তারেরও তো মন আছে। ডাক্তারও তো মন গলতে পারে। আর মা ওরা যদি আমার মাইয়ারে এখানে রাখে তো রাখলো। আর যদি না রাখে তাহলে বাড়িতে নিয়ে চলে যামু। আমি তো আলিফের লগে বরছি। আলিফ আইসা দেখি কি ডিসিশন দেয়। >> আলিফ তো আমারে কইয়া গেছিল। ও আইসা আমারে ডাক্তারের কাছে নিয়া যাইবো। নতুন চাকরিতে ঢুকছে তো অনেক ঝামেলা। এইজন্য মনে হয় আসতে পারতেছে না। >> ওমা রিফাত >> চাচা পান খাবে? >> হ মা খামু। সেই ছেলেবেলায় তুমি ইচ্ছাসে আমারে পান খাওয়াইতা। কি মজা। ওই পানটা একবার খাওয়া মা আমারে। >> [মিউজিক] [মিউজিক] >> এই যে তোমার দাদি সারাক্ষণ ছাগলের মত পান চাবায় আওয়াজ পাইতেছো পান চাই ঠকঠক করতেছে আচ্ছা এক কথা তুমি বারবার কেন বলতেছো? দাদি যতদিন বাচ্চা আছে বা আমাগো বাড়িতে আছে তোমার অত্যাচারটা তো সহ্য করতে হবে। কিছু করার তো নাই। বুড়া মানুষ পান খাইতেই পারে। সেখানে আমাদের কি করার থাকতে পারে? আশ্চর্য বিষয়। তুমি আছো তোমার পান চাচা নিয়া। এদিকে আমার কি বলছে জানো তুমি? বলছে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাইতে। চিন্তা করছো তুমি? আমি যদি এখন ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাই টেস্ট ফেস্ট মিলা মিনিমাম 30 থেকে 40 হাজার ডাক দিব। এইযে তিন মাস আগে আব্বা তো তারে নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেছে টেস্ট টেস্ট করাইছে কলজা ফ্যাপটা সবই তো ঠিক আছে কোথাও কোন প্রবলেম নাই ফুসফুসও ঠিক আছে আরে এই বয়সে যা আছে একটু ছোটখাট রোগবাদীটা থাকতেই পারে এটা বয়সের একটা ব্যাপার আছে না কে শোনে কার কথা আবার বলতেছে নিয়ে যাইতে তারপরে তুমি টাকা দাও হ্যা কইতেছে একটা টাকাও দিব না চিন্তা করছো >> ঠিকই তো আছে আব্বা তো অনেক দিছে আর কত টাকা দিবে দিতে দিতে বিরক্ত এজন্য আর দিবে না বাবা আব্বার মানে পক্ষ নিয়ে কথা কইতেছ ঠিক আছে সমস্যা নাই মিনিমাম তো 40 হাজার টাকা খরচ যাবে আমি 20 হাজার টাকা দেই তুমি 20 হাজার টাকা দিয়ে দাও >> ফাতরামি করো আমি একটা টাকাও দিতে পারবো না তোমাদের এই সংসারে আমি প্রতি মাসে 3 হাজার টাকা দেই তোমার ভাই আলিফ চাকরি না পাইছে বেতন পাইলে বইল সংসারে হাল ধরতে অসভ্য ফ্যামিলি আমি একটাও দেখি নাই প্রতিদিন কেউ না কেউ আসতেই থাকে আসতেই থাকে হলুস তোর যেমন লাইগাই আছে এই বাড়িতে একটা >> আচ্ছা ঠিক আছে তোমার টাকা দিতে হবে না টাকা চাইছে তো তুমি অনেক কথা আমাদের শোনাবা আমার টাকা আমি দিবনে কোন মানে সমস্যা নাই দাদি তো আমার না আব্বারও টাকা দিতে হবে না তো আব্বার সাথে কথা বইলা আব্বার কম যে দাদরে বাড়ি ল যাইতে আর আম্মারে ক দিমু যেতে সরকার যদি বাড়িতে না রাখে এটা তো লিল্লা না যে আসবে তার খাওয়ার দায়িত্ব নিতে হবে পড়াশোনার দায়িত্ব নিতে হবে ফাইজলা আমি >> তোমাদের ব্যাপার তোমরা কি করবা না করবা তো করো এই বাড়ির এক মানুষের উপর আমি একটা টাকাও খর্চ করতে পারব না >> আচ্ছা তুমি [মিউজিক] ঘুমাও কাজ শেষ করি হাত >> [মিউজিক] [মিউজিক] >> তোর জামা কাপড় ঠিক হবে বুঝাইছোস তো ভিতরে >> কই যাস >> মা সবটি নিয়ে আমি চলে যাইস >> মরে নিয়ে যাবি কেন তুই না ওরে এইখানে লেখাপড়া করার জন্য রাইখা যাওনের কথা >> মা যাদের বাসায় রাইখা যামু তারা যদি রাজি না থাকে তাহলে আমি কি জোর করে তো আর রেখে দিতে পারিনা নামা। >> ভাইজান এই বাসায় কেউই শখকে রাখতে যাবে না। আমি যে রাখবো ওর পিছনে তো একটা খরচ আছে। সেটা আমি কোত্থেকে দিব? তাছাড়া এই বাসায় তো কোন বাড়তি রুমও নাই থাকার মতো। >> বউ যে কোন উপায়েই হোক আমি শখের জন্য প্রতি মাসে 3000 টাকা করে পাঠাবো। >> 3000 3000 টাকা দিয়ে ঢাকা শহরে কি হয় একটা মানুষের? তার এক মাসের খাবার কি <unk>3000 টাকা হয়? চলে মেয়েটারে ঢাকা শহরে নিয়ে আইছেন পড়াশোনা করানোর জন্য সম্ভব এই যে আপনারা দুই তিন দিন যাবত আমার এ জায়গায় আছেন এই দুই তিন দিনে কত টাকা খর্চ হইছে আপনি বলতে পারবেন মাথায় কি ওই ইটা আছে সেন্সটা আছে আপনার একটাবার ভাবেন তো 3 হাজার টাকা দিয়ে কি পাওয়া যায় এমন সব তো আমার ঘাড়ে ফেলবেন আমারে করতে হবে সব এই যে রুইমা মাছটা খাইলেন একটা রুই মাছের একটা পেটির দাম কত ঢাকা শহরে এটা কি জানা আছে আপনার আছে >> না ভাই আমার কোন আইডিয়া নাই >> ওর কত থেকে এইসব হিসাব থাকবো কইলো না কতদিন পরেই রুই মাছ দিয়া ও ভাত খাইতাছে >> মা কথাটা কিন্তু আসলে সেটা না কথাটা হইলো এই যে আমি বাজার করি তুমি নিজেই দেখো যে আমার ঘরে কি বাজারে আমি আনি। আমি যে চাল খাই সে চালটা মনে করো যে 130 টাকা থেকে 150 টাকা দাম। আমি যে মাছ আনি, যে মাংস আনি, যে শাকসবজিগুলো আনি, একেবারে দেশি বাইচা বাইচা জিনিসগুলো আনি। কত টাকা পড়ে? হিসাব রাখছো একবার? তাইলে মা তুমি কও এই 3000 টাকা দিয়া কি এক মাস এই মেয়ের খান চলব সম্ভব? হ্যা আরে আমার তো প্রতি মাসে তন লাখ টাকা খরচ সংসারের পিছনে তোমারে এই নাতিরে আমি খাওয়ামুই কি আর পড়াশোনাই বা আমি করামুই এই টাকার খরচটা একবার হিসাব করছো তুমি >> কাক্কু আমারে আলু ভর্তা দিয়া কয়টা ভাত দিলেই হইবো বেশি তেমন কিছুই দেওয়া লাগবো না শুধু আমার একটু পড়ালেখা করার সুযোগটা দিয়েন| আমি বড় হইয়া বড় একটা চাকরি করে আপনাগো সব ঋণশোধ করে দিমু| কোন ঋণ বাকি রাখমু শুধু একটু পড়ালেখাটা করতে দিয়েন। আর আমার আব্বারে বইন না। আব্বারে বকলে আমার বুকে খুব কষ্ট লাগে। আপনার পায়রা ধরি। দয়া করে আমারে একটু জায়গা দেন। >> কাল কোন কাম হইবো না। তুই তোর বাপের লগে দেশে চইলা যা। >> না ও যাবে না। আমি ওকে রাখবো। >> তুমি বলার কে? তুমি কি এই সংসার খরচ দাও? হ্যা শুধু মুখটা দিয়ে বই ফেললা >> সংসার চালাই না তাতে কি হইছে তার থেকেও বেশি কিছু করি তুমি কি মনে করো হ্যাঁ সংসারের মহিলাদের কি মনে করো বল এই যে আমি দিন রাত 24 ঘন্টা তোমাদের পিছনে খাটি সারাক্ষণ খাটতেই থাকি নিজের আরাম আয়েশ নিজের জীবনের কথা কোনদিন চিন্তাও করি না খালি চাকরিটাই করি না দরকার পড়লে তাও করব আমার জন্য না এই মেয়েটার জন্যে ওকে আমি পড়াবো বাবারে এই ভাইয়ের কথা তুই কেমনে ভুলা গেলি? তোর কি মনে নাই এই ভাই তোরে এই [মিউজিক] শীতের মধ্যে রইদে বৃষ্টিতে ঝর তুফান হইলে কোলে করে নিয়া তোরে স্কুলে দিয়ে আসছে। তোর জামা কাপড় নষ্ট হইবো, জুতা নষ্ট হইবো। নিজে বৃষ্টিতে ভিচে রদে পড়ছে তোর মাথায় ছাতাটা ধরছে বাপ এই ভাইরে তুই কেমনে ভুলা যাস হ্যা এই ক্ষেতের ধান উঠলে খোরাকের জন্য ধান রাখে নাই সব বিক্রি কইরা দিয়া সে তোর পড়ার খরচ দিচ্ছে আজ তুই হিসাব করস >> মা তুমি ভাঙ্গার রেকর্ড বাজানো তো আজকে কয়টা মাস ধইরা আমি নাশ না শান্তিতে খাইতে পারতেছি না শান্তিতে আমি শুতে পারতেছি না ঘুমাইতে পারতেছি তোমার এই ভাঙ্গা রেকর্ড আর বাজাও না তুমি তুমি একটু আমার শান্তির দিকে তাকাও >> কেন বাপ আমি তো এই বসনের ঘরের এক কোনায় চুপ কইরা শুইয়া থাকি তগরের তো কোন অসুবিধা করি না বাপ কেন ঘুমা হয় না কেন >> করোনা আবার রাতটা ভইরা কিন্তু আমি ঘুমাইতে পারি না তোমার পান ছেচনের টন টন টন টন টন করো তুমি ছেচতে থাকো ওদিকে আবার ঘুম আসে না তোমার জন্য। তাইলে তুমি তুমি করো না কিভাবে? বিরক্ত করো না কিভাবে তুমি? >> কেন রে বাপ? তোর মনে নাই ছোটকালে তোর দাদী যে যখন পানস তো তুই আমার কোলে শুইয়া শুইয়া কইতি মাগো এই পাঞ্ছুনের শব্দ আমার কত ভালো লাগে। আই যে এখন সময় পাল্টাইয়া গেছে। এই পাংসা [মিউজিক] শব্দে তোর ঘুম আসেনা। ঠিক আছে বাপ। আমি ওই পাটার মধ্যে বাইটা ওই পান যা লুক যাই হোক খামুনে তোর অসুবিধা করতাম না। >> হ তুমি যা খুশি তাই করো কোন সমস্যা নাই। কিন্তু আমার একটা শান্তি দাও। আর তোমার এই নাতনীর ব্যাপারে যেটা কইলা আমি শিশিরের সাথে আলাপ করে দেখি। ও কি সিদ্ধান্ত নেয়? কি বলে সেটা শোনার পরে আমি তোমারে জানামু। ঠিক আছে। তুমি আমার ঘরে নাস্তাটা দিয়ে আইসো। >> আচ্ছা আজকে নাস্তায় কি দিব? নাস্তায় তুমি আজকে দুইটা পোষ দিবা ডিমের সাথে দুইটা রিম সিদ্ধ দিবা আর যে পলির যেটা আছে স্লাইস করে দিও তুমি কলা আর মিষ্টির সাথে দিও আর যদি হালুয়া থাকে সেটার সাথে দিও ঠিক আছে >> আচ্ছা দিচ্ছি >> হ আমি দিলাম >> ভাইজান বসেন না >> বউ >> জি মা বলে তোমারে কইতেও খারাপ লাগতেছে। তোমার স্বামী তারে তো তুমি ফালায়া দিতে [মিউজিক] পারবা না। তবে মা ওর ভালোর জন্যই কইতাছি। এত ডিম এত খাওয়া ওরে দিও [মিউজিক] না। ওরে সব তো একটা অসুখ হইবো। এই কত কিছু আছে না পেশা। তারপরে এই যে হার্টের অসুখ অসুখ কেমনে কি করবা তখন? না না মা বড় লোকেরা চারটা ডিম খাইলে হার্টের কোন অসুখ হয় না। আর অসুখ হলেও তো সারা যায় কোন সমস্যা নাই। >> আম্মা আপনি কিছু মনে করেন না। শখের একটা ব্যবস্থা হবে ইনশল্লাহ। আমার মেয়ে ছেলেটা আসুক ওর সাথে আমি আলাপ করে দেখি। >> কে? আলি আলিফ আজকে আসবো? >> হ্যাঁ মা। একটু আগে আমার সাথে কথা হইছে। ও আজকে আসতেছে। রিফাত তাইলে [মিউজিক] তুই একটু বয় বাবা আলিফ আসুক তারপরে তুই যাইস >> মা আমি আত যাইতেছি না এইসব তোর চাচির সাথে রান্না করে একটু সাহায্য কর ওযে ডিম বয়েল করবে নাতাটাতে দিবে তোর চাচারে যা >> আচ্ছা বা চল আমিও যাই আসো মা তোমার চিকিৎসার লেগে তো আমার কাছে 10 12 হাজার টাকা আছে। এখন হায়দার যদি কিছু দেয় তাহলে চিকিৎসাটা ভালো করে চোখের ছানির অপারেশনটা করতে পারি। >> টাকা [মিউজিক] লাগবো না। ও কই থেকে দিব? ও নিজেই চলতে পারে না। টাইনা টুনা চলে। তাইলে ঠিক আছে আমার যা আছে আমি এটা নিয়েই তোমারে নিয়ে হাসপাতালে যাই ডাক্তারের হাতে বাইরে ধইরা চিকিৎসাটা করাই দি মা মরে গেলে তো আর পামু না তুমি মরে গেলে কি পামু হ্যা একটাই তো মা এক মা মরে গেলে কি আর পাওয়া যায় নাকি এটা মুদির দোকান থেকে কেনা যায় আমার যতদূর সম্ভব স্বামী আপ্রাণ চেষ্টা করে যামু তোমার চোখের ছানি কাটার চাচি আমি কিন্তু সংসারের প্রায় সব কাজই করতে পারি। এই যেমন ধরেন থালাবাসন মাজা, ঘরদর পরিষ্কার করা। তারপর ভাতও আনতে পারি, ডাইডাও আনতে পারি। আবার খুব মজা করে খুব সুন্দর করে ডিমটাও ভাজতে পারি। >> এগুলা কাজ তুমি [মিউজিক] কার থেকে শিখছো? কার থেকা আবার আমার আব্বার থেকা ছোট থেকা তো সব কাজ আমিই করতেছি মা তো আর নাই এখন থেকে আপনার এই সংসারের সব কাজ আমিই করতে পারবো আপনার আর কোন কাজের লোক রাখতেই হইব না >> শোনো তোমাকে কোন কাজ করতে হবে না মন দিয়ে লেখাপড়া করো আর এই নাও এটা তোমার চাচার ঘরে দিয়ে আসো কি ব্যাপার নাস্তা তুই আইছত কেন কাম দেখাতে আইছ তোরে কইছে আমি নাস্তা আনতে তুই নাস্তা আনছস তোর হাত ধুইছ তুই হাত ধুইছ >> জি হাত ধুইছি >> রাখ এই জায়গায় রাখ এই নাস্তা আমার জন্য আমি কি কইছি আমি কইছি যে দুইটা পোষ দুইটা সিদ্ধ ডিম চারটা একটা ডিম হইব এদিকে এদিকে পনির থাকবো হালুয়া এগুলো কই >> চাচি তো এই নাস্তাই বানাইলো আর কইলা আপনারে দিতে >> তোর চাচিরে কি আমি এগুলো বইলা আইছি এগুলো দিতে কইছি আমি >> বেশি খাইলে তো কাকু আপনারই শরীর খারাপ করব >> বেশি খাইলে আমার শরীর খারাপ করব এটা কি তগো আমি কইতে কইছি আমি জানিনা আমার কোনটা খাইলে কি হইব আমি জানিনা আমি জানিনা কোনটা মাদবুরি সব জিনিসটা মাদবড়ি না >> কাকু চা বানাই দেই >> তুই চা বানা দিলি তুই চা বানাতে পারস জি পারি তো >> কিভাবে চা বানায় কত >> চা যেমনে বানায় >> কেমনে বানায় চা >> আপনি কোন চা খাবেন এইটা কন >> আমার চাটা স্পেশাল চা হয় দুধ গাড় কইরা তার মধ্যে মলাই ফালায় ওই মলাই দিয়ে আমি চা খাই এটা তুই পারবি >> আমি ওই মালাই চা বানাইতে পারি গ্রামে আব্বারে কত বানায় দিছি আর আব্বাজি কি মজা করে খাইতো আপনি খাইলে আপনিও বুঝবেন আমি কেমন মজা করে বানাইতে পারি >> তাই নাকি তুই আমার আমি যেভাবে চা খাই তুই ওভাবে চা বানা দিতে পারবি আমারে এই বেশি কথা কবি না তো যা ভাগ সর চোখের সামনে থেকে সর [মিউজিক] আইছে চা দিমু জীবনটা আসলে নষ্ট হয়ে গেল এগো দিয়া আমার কোন কিছুরই ঠিক নাই কইছি কে আনলো কি [মিউজিক] দাদি কি হইছে >> তোর লগে কথা নাই তোর না কবে আসনের কথা এতদিন পরে আইলি আমি তোর লগে কথা কমু না কোন >> আরে দাদি দাদি দাদি তুমি বোঝো না কেন তোমারে দেখার জন্য আমার মন সবসময় ছটফট করে বস কেন তুমি জানো না আমার নতুন চাকরি ঘনঘন চাইলে আমারে ছুটি দেয় না চাচা কেমন আছেন আপনি? আপনি এখন শুকায় গেছেন কেন? >> আছি ভালোই আছি। ডাল ভাত খেয়ে ভালোই আছি। >> চাচা শখ কই? শখ রান্না করে তোর মাকে সাহায্য করতেছি। >> আরে ওহো ছোট মানুষ ও মাকে কি সাহায্য করবে? >> মা ও মা? >> আরে শখ কি আর ছোট আছে। স্কুলে পড়া শেষ। এখন ঢাকা শহরে আসছে। কলেজে ভর্তি হইবো। >> কখন আসলি তুই? >> মাত্র। >> কেমন আছিস? খাওয়া দাওয়া ঠিকমত করিস না কেমন হইছে তোর চেহারা >> আরে খাওয়া দাওয়া তো করি >> আসসালামু আলাইকুম >> ওয়ালাইকুম আসসালাম দাদি শক্ত তো সত্যিই বড় হয়ে গেছে তোরে কিন্তু আবার বিয়ে দিতে হবে >> ধরু কি বলতেছে আমারে না বরং তোমারে বিয়া দিতে হইবো >> শোন তুই আসছিস ভালোই হইছে ভাইজান তো শখরে নিয়ে আসছে ওইখানে থাইকা লেখাপড়া করবে >> আচ্ছা >> কিন্তু এই বাসা তো কেউ রাজি হচ্ছে না শখ এখানে থাকার জন্য >> কি বলো রাজি হবে না কেন? ও আমাদের ফ্যামিলি মেম্বার না আর ও তো আমার চাচতো বোন তো রাজি না হওয়ার কি আছে >> তোর আব্বা শিশির কেউ আর খরচ দিতে পারবে না আর ভাইজান বলছে প্রতি মাসে ওর জন্য 3000 টাকা করে পড়ালেখার খরচ দিবে >> কেন চাচা টাকা দিবে কেন আমি আছি না মা কারো টাকা দিতে হবে না বাবা ভাইয়া কারো টাকা দিতে হবে না শখের পড়াশোনার যত খরচ সব আমি দিব >> পাগলামি করিস সেটা তো বাপ আরে আমার বাপ হিসেবে তো একটা দায়িত্ব আছে না আমার তো আমি যাই পারি চেষ্টা করুম কিছু করা যায় কিনা। আর আমার তো এমনিতেই কাজকাম কম তো তো জানছি। >> এক টাকাও দিতে পারবো না। >> আরে এক টাকাও লাগবে না দাদি। আর শখ এখানেই থাকবে। >> শখ এখানে থাকবে মানে কি? মানে মুখে যা আসলে তাই বলে দিলাম। খেয়াল খুশির মতো। এখানে থাকবে। তুই কখন আসছিস? >> এইতো মাত্রই আসলাম। যা হাত মুখ ধুয়ে নে ফ্রেশ হ তারপর এটা নিয়ে হিসাব নিকাশ করা যাবে না একটা বাইরের মানুষ এখানে আসছে কোথায় থাকবে রুমের একটা হিসাব নিকাশ আছে না আশ্চর্য >> কারে তুমি বাইরের লোক বলতেছো ভাইয়া ও আমাদের আপন চাচতো বোন আমাদের রক্ত আর এই যে এটা আমাদের দাদী এই দাদীর পেট থেকে কিন্তু বড় চাচা হইছে আমার বাপ হইছে ছোট চাচা হইছে ফুপু হইছে আর আমার বাপের ঘরে আমরা তিন ভাই এখন যদি তোমার মেয়ে হয় আর তোমার মেয়েকে আমি বলি বাইরের লোক কেমন লাগবে তোমার? হ্যাঁ কি চুপ করে আছো কেন? কথা বলতেছো না কেন? কেমন লাগবে তোমার? >> আচ্ছা আচ্ছা [মিউজিক] থাক এখন এই ঝগড়া এগুলি বন্ধ করবা। বউ ওরে কিছু খাইতে দাও। কত দূরে থেকে আইছে কি খাইছে না খাইছে। যা >> আচ্ছা আয় বাবা। >> হাত মুখ ধুইয়া একটু কিছু খাওয়াবা তারপরে ধীরে সুস্তে সব খাও। >> ঠিক আছে কি ব্যাপার এত তাড়াহুড়া করতেছো তুমি কি অফিসে যাবে নাকি >> হ্যাঁ তুমি কিভাবে অফিসে যাবা তুমি না বললে দাদারি ডাক্তারের কাছে যাবা তুমি যদি অফিসে যাও তাহলে দাদরে কে নিয়ে যাবে >> তোমাকে কালকে রাত্রেই তো বললাম এইসব কাজ আমি করতে পারব না অলরেডি আমি এই মাসে অফিস থেকে দুইদিন ছুটি নিছি বারবার যদি এমন করি না আমার চাকরি টা থাকবে না। তোমার দাদি কিনে তুমি যাও। >> আচ্ছা ঠিক আছে সেখানে আমি গেলাম। তুমি এক কাজ করো। তোমার কাছে যদি হাজার দশক টাকা থাকে সেটা আমাকে দিয়াও। >> এক টাকাও দিতে পারবো না। তোমার ভাই আছে না আলী? ওর কাছ থেকে টাকা নাও। ও তো বেতন পাইছে। আর শোনো অফিস যাওয়ার আগে তোমাকে একটা কথা বইলা যাই। যাই হোক না কেন ওই মেয়েকে কোনভাবেই এই বাসায় রাখতে কিন্তু রাজি হবা না। কেমন? গেলাম আমি। চল। >> আরে টাকাটা লাগতো আমার। বল। শুধু শুরু মা তুমি রেডি হও তোমারে নিয়ে তো ডাক্তারের কাছে যামু >> ডাক্তারের কাছে যাবে টাকা পাইবে কই >> আরে টাকা তো কিছু আছে ডাক্তারের হাতে পায়ে ধইরা ওই চিকিৎসাটা করুম ওদের দিয়ে চলো >> আরে চাচা কি বলতেছো তুমি এসব হ্যা আমার জানার মধ্যে তোমার কাছে কোন টাকা পয়সা নাই >> আরে আছে রে আছে 10 12 হাজার টাকা আছে আমি এই টাকাটা শকের ভর্তির জন্য জমাইছি। >> আরে না চাচা ওই টাকা তুমি তোমার কাছেই রাখো। তোমার কাজে লাগবে। >> দাদি ডাক্তার আমি দেখামু। যত টাকা লাগে আমি দিমু। বাবা এই কি কইলি তুই? >> তুই টাকা দিবি? ডাক্তার দেখানোর লাইগা। তোর কাছে টাকা আছে। তিন মাস আগেও আমি মাইরা ডাক্তার দেখাইছি। আবার এখন তার ডাক্তার দেখাইতে হইব। তো ডাক্তার জানো তো কোন রোগ হইয়া গেছে তার ডাক্তার দেখাইতে হইবো। >> হ বাবা ডাক্তার দেন আমার রোগী হইয়া গেছে। রোগী আমি তো তোগোরে বহু জ্বালাইতেছি। এইডা তো রোগ। বাপ আমারে ডাক্তার দেখানো লাগবো না। তোরা খালি আমার নাতিনডারে তোগো বাসা রাইখা একটু লেখাপড়া করার ব্যবস্থা করে দে। তাইলেই হইব >> দাদি তুমি এত চিন্তা করো না তো তোমারে আমি ডাক্তার দেখামু আর শখের আমি কলেজে ভর্তি করমু এগুলো নিয়ে তোমার কোন চিন্তা করতে হইব না >> এই তোর মাতবপুরের দিকে এই সংসার চলবো হ্যা একটা মানুষের পিছনে কত খরচ তুই এটা বুঝস বুঝস তুই মানে মুখদা বললি আর রয়া গেল নাকি তুই কয় মাস ধরে চাকরি করস কয় মাস তুই কয় টাকা দিছস আমারে সংসার এই পর্যন্ত তোর কথা মত সংসার চলবো জানাই নাই কিন্তু তোমারে আমি গত মাসে 15 হাজার টাকা দেই নাই এই গাধা 15000 টাকা কি সংসার চলে চলে কত টাকা লাগে তুই জানস >> এই তোর বাপ তুই ঝগড়া রাখতোরা যদি সকালে রাখস তো রাখ আর যদি না রাখোস তাহলে আমি ওরে নিয়ে বাড়িতে চলে যাই >> তুই একলা যাবি কেন আমারেও সাথে নিয়া যা আমার কোন ডাক্তার ডাক্তার দেখানো লাগবো না >> কে বলছে আম্মা আপনার ডাক্তার দেখানো লাগবে না তিন মাস আগেই তো আপনারে ডাক্তার দেখাইলাম ডাক্তার বলছিল কি দুই মাস পরে তার কাছে নিয়ে যাইতে কিন্তু তিন মাস হয়ে গেল এইবারে কেউ আপনারে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাচ্ছে না এই আলিফ তুই আম্মাকে আজকে সন্ধ্যায় ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবি আর ভাইজান আপনি বাড়িতে যেতে যাচ্ছেন যান শখ এইখানেই থাকবে আমার কাছে থাকবে >> এই তোমার কথা মত কি সংসার চলবো নাকি হ্যাঁ মানে যা ইচ্ছা তাই তুমি করতাছো যেটা চাইবো ওইটা হইবো এই সংসারে নাকি বাড়িটারে তো বস্তু বানাইয়া ফেলছো ছি আব্বা ছি মানে তুমি এত খারাপ কেমনে হইতে পারো বলতো হ্যাঁ তোমার নিজের ভাই নিজের ভাতিজা নিজের মা তোমার বাড়িতে থাকলে তোমার বাড়ি বস্তি হয়া যাইব কথা কওয়ার সময় তো খুব বড় বড় কথা কস হিসাব করে কথা কস মা আইছে মান নালে এক মাস থাকুক সমস্যা নাই এদিকে বড় ভাই আইছে তার মেয়েরে নিয়া বুঝস কিছু আবার ওদিকে রোজ দুপুরবেলা হায়দার আসে মায়েরে দেখার জন্য দেখার উসিলায় খাইয়া যায় শান্তি মত তো দুপুরবেলা একবেলা ঠিকমত খাইতে পারি না বুঝস এগুলা বুঝস বাড়িটা তো নঙ্গরখানা হয়ে গেছে হইছে না বাজান আল্লাহ খুব খুশি হন যখন কোন বাড়িতে মেহমান [মিউজিক] আসে আরো খুশি হয় যখন কোনখানে আল্লাহর রহমত বৃষ্টি হয় আর তারও বেশি খুশি হয় যখন কারো সংসারে একটা মাইয়া পয়দা হয়। আল্লাহ তোগো ঘরে একটা মাইয়া দিছে। তোর না হোক তোর আপন ভাইয়ের মাইয়া। >> আম্মা আপনি যারে বুঝাইতেছেন সে কি এসব কথা বোঝে নাকি বুঝতে চায়? সে তো খালি বুঝে নিজের খাওয়া আর নিজের আরাম। স্বার্থপর মানুষ কোথাকার। নিজের স্বার্থ [মিউজিক] ছাড়া কিছুই বুঝেন না। আত্মীয়স্বজন বলেন আর আপনজনী বলেন কাউকে পছন্দও করে না, কাউকে সে চায়ও না। >> হ। ঠিক আছে। আমি আত্মকেন্দ্রিক। আমি স্বার্থবাজ। আমি কিন্তু কারো কাছে চায়া চলি না। অনেক কষ্ট করে উপার্জন করি আমি। এটা মাথায় রাখবা। আর যে কষ্ট করে উপার্জন করে চলি না ওইটাতে সংসার চলে। ওই জায়গা থেকে আমি জমাই। বিষয়টা সবসময় মাথায় রাখবা। এটাই সংসার। আর কখনো মনে করো না যে আমি কারো কাছ থেকে হাত পা দিব এরকম চিন্তাভাবনা আমার আছে >> বাজানরে কার কাছে কার হাত পাতে হয় সেইটা শুধুই পাক পরদি জানে এত অহংকার ভালো না বাবা এত দেমাক দেখাইস না >> দেখ ভাই আমার কোন গর্বও নাই আমার কোন অহংকারও নাই এখন তোরা যদি শখরে এই বাসায় রাখতে চাস তো বল >> হ্যা ভাইজান শখ এইখানেই [মিউজিক] থাকবে আমার কাছেই থাকবে আর চাচা শখের যত পড়াশোনার খরচ আছে সব আমি দিব আপনি এগুলো নিয়ে কোন চিন্তা করেন না >> আলহামদুলিল্লাহ আমি [মিউজিক] যা সমর্থ হয় আমি চেষ্টা করে যাব >> সব এই সব থাকো তোমরাই থাকো বাড়িটারে বস্ত বানা ফেলছো না থাকার জায়গা নাই খাওয়ার জায়গা নাই মানুষে রাখবা রাখো রাখো তোমরা এই চুপ চত সব বাড়িটারে বস্ত বানা ফেলছে মা আমি যাই >> মা চাচির কথা শুনিস যা বলে শুনিস মন দিয়ে কাছিস কেন এই চলে যাওয়ার সময় একটু কান্না দেখবো না কেন >> শোন চাচির কথা কিন্তু মন দিয়ে শুনিস তুমি আবার আসবা কিন্তু হ্যা আসবো আজ শোন কোথায় রাখলাম নে আর যখন মন চায় [মিউজিক] কিছু খাবি টাকাটা কোথায় রাখলাম >> টাকা কেন নিতেছো লাগবো না তো >> আরে লাগবে টাকা তুই ডাক তোর কাছে 100 টাকা আছে আমার কাছে আর কিছু টাকা আছে ঠিক আছে আমি চলে [মিউজিক] যেতে পারব >> আরে চাচা তুমি এটা কি করতেছো >> তোমার কাছে এমনি টাকা তার উপর তুমি টাকা দিতে শকের যা যা লাগবে আমি দেখব সব তোমারও কোন টাকা পয়সা দিতে হবে না >> আরে আমার কাছে আছে তো ছিল ভাঙতে 300 টাকা ওকে টাকা দিছি টাকা দিতে পারলাম না বাকিটা আমার কাছে আছে আমি এটা চলে যেতে পারব >> আব্বা তুমি কিন্তু নিজের দিকে খেয়াল রাখবা ঠিকমত খাবা ওষুধ খাবা >> ঠিক আছে মা ঠিক আছে থাকিস হ্যা তুই ঠিক থাকলে আমি ভালো থাকব মা >> আব্বা যাই যা বৌমা গেলাম >> আবার আসবেন >> আপনি চিন্তা করবেন না চাচা আপা তোমার একটা কথা বলি। তুমি থাকতে আলিফ কেমনে এই বাড়িতে মাতবাড়ি করে? দুইজন চাকরি পাইছে। ভাবখান এরকম যে এ বাড়ি গার্জিয়ান হয়ে গেছে সে। >> তোর মায় যে লাই মাথা উঠেছে এটা দাস টাইম। আর আরেকটার তো কোন কথাই নাই। আজকে পাঁচ দিন যাবত তিনি বাড়িতে নেই। শুনলাম কক্সবাজার গিয়ে নাকি বেড়াইতেছে বন্ধু বান্ধবের সাথে। আমরা একটা কথা কই বল। আমার মনে হয় কি আলবে খারাপ বন্ধু বান্ধবের পাল্লায় পড়ছে। কথা আছে না সঙ্গদোষ। সঙ্গদোষে পড়ে গেছে। এক কাম করো। ওরে বিদেশে পাঠায় দাও। ওইখানে লেখাপড়া করুক। কি কইলি? বিদেশে। ওরে পাঠামু। আমি কখনো লস প্রজেক্টে ইনভেস্ট করি না। আর ওরে বিদেশে পাঠামু। টাকা কি গাছে ধরে রে? যাকে দিলাম আর পড়লো। তুমি এমন করো কিসের জন্য? টাকা কি তোমার কম আছে? এমন তো না যে তোমার টাকা পয়সা না তুমি ইনভেস্ট করতে পারবা না খরচ করতে পারবা না। এইযে এত টাকা পয়সা কামাইছো। কার জন্য কামাইছো? এইযে আমরা আমাদের সন্তানদের জন্যই তো কামাইছো। তোমার সন্তানের জন্যই তো কামাইছো। তাই না? সে টাকা পয়সা যদি সন্তানের কাজেই না লাগে তাহলে টাকা পয়সাটা কি করবা? কবরে নিয়ে যাবা। দেখ আমি কিন্তু একটা আগে কইলাম যে আমি লস প্রজেক্টে কখনো টাকা ইনভেস্ট করি না। ওই বন্ধু বান্ধবের চাকে পইড়া গেছে। আমি এই জায়গায় ওর পিছনে টাকা খর্চ করুম। আমি আর ওর পিছনে এক টাকাও ইনভেস্ট করতে নারাজ। >> সেটা তোমার ব্যক্তিগত ব্যাপার। আমার বলার দরকার ছিল আমি বলছি। ব্যাস। >> হ। সবই তো আমার ব্যাপার। আমারই তো ব্যাপার তাই না? তগো তো আর কোন ব্যাপার নাই। সব অপদার্থগুলারে আমি জন্ম দিছি ফাজিল গুলা কাঞ্চটা তোমার সাথে কিছু কথা বলা যায় না তো বলে উল্টাপাল্টা কথা কও ঠিক আছে আমার ব্যাপার তো আমার ব্যাপার আমি দেখুনে আমি আর থাকমু না আমি আমার বুট নিয়ে আলাদা বাসায় যামুগা আর ব্যবসা তোমার একা না ব্যবসা তো আমার আছে আমার ইনভেস্টমেন্ট আছে আমি আমার ব্যবসা আলাদা করে ফালামু আলাদা ব্যবসা তোমার তো ফুটানি কই যায়? >> তুই না দুইদিনের জন্য গেলি। আসলি পাঁচ দিন পরে। আর কে মেয়েটা? >> মা বাকি কথা পরে বল। [মিউজিক] >> কে বলবি তো? সরো মারে সালাম। >> আরে কে মেয়েটা? >> এই বল আমি কে? >> আম্মা আমি তোমারে [মিউজিক] সব বুঝাইয়া বলতাছি। আমার কাছে উপায় ছিল না। আম্মা। আমি ওরে বিয়ে করছি। ও আমার বউ। আমাদের অনেকদিন ধইরা প্রেম চলতেছিল কিন্তু আমি ওর বাসায় বলছি ওর বাসায় কেউ মাইনা নেয় নাই তাই আমি ওরে বিয়ে করছি মা >> এই তুমি চুপ থাকো আমি বুঝাইয়া বলতেছি আম্মা হয়েছে কি আমরা দুজন দুজনকে অনেক আগ থেকেই ভালোবাসতাম আমার বাসায় আমার বাবাকে বলছি কোন ভাবেই মেনে নিতে পারতেছিল না সে আমার বিয়ে ঠিক করছে একটা ওই বিদেশি ছেলের সাথে এখন আমি কি করবো বলেন আমি এত করে বুঝাইছি বুঝতেছেই না আর আমি তো ওকে ছাড়া বাঁচতে পারবো না শেষে আমি উপায় না দেখে দুই দুইবার হারপিক খাইছি >> কি বলো এসব >> আম্মা মা, ও দুই দুইবার হারপিক খাইয়া মরতে চাইছে। আমি শুধু ওরে এইটুক বলছি যে দেখো আমার এখন বিয়ে করে সংসারের দায়বান নেয়া সম্ভব না। এইটুক শুনে >> এই সম্পা কি হইছে? কে আরে মরতে চাইছে? >> আব্বা আমি মরতে চাইছিলাম। >> ও আমারে আব্বা বলতেছো কারণ কি? কে এইডা? [সশব্দ হাসি] >> এই কে তুমি? তুমি আমারে আব্বা বলতেছো কেন? >> আপনারে আব্বা কইতেছি কারণ আমি হইলাম আপনার পোলার বউ। আর আপনি আমার আব্বাজান। শোনেন আব্বা। কি হয়েছে জানেন? আমি না মইরা যাইতে চাইছিলাম। আপনার পোলারে এত কইরা কইলাম আমারে বিয়া করো। সে তো কোনো ভাবেই বিয়া করতে রাজি না। বলে আমি তোমাকে বিয়ে করতে পারবো না। এই কথা শুইনা আমি মইরা যাইতে চাইছি। দুই দুইবার হারপিট খাইতে গেছিলাম। তারপর আর কি সে বাধ্য হয়ে আমাকে বিয়ে করে নিয়ে আসছে। >> ও তোমারে বিয়া করছে। >> তোর কত বড় সাহস! আব্বা আব্বা। আব্বা মাইরেন না আব্বা মাইরেন না আব্বা আব্বা দাদি দাদি দাদি দাদি হা

Need a transcript for another video?

Get free YouTube transcripts with timestamps, translation, and download options.

Transcript content is sourced from YouTube's auto-generated captions or AI transcription. All video content belongs to the original creators. Terms of Service · DMCA Contact

আমাদের সংসার | পর্ব ১ | Dilara Zaman | Ananna Islam | Epi...