বাংলাদেশ বন্দর, বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি মার্কিন সেনাদের | Bangladesh Opens Ports to US Warships

Padatik1,955 words

Full Transcript

বাংলাদেশের মানুষ যখন দুহাত তুলে দোয়া করছে ঈশ্বরের কাছে মধ্যপ্রাচ্যে আরব দেশগুলোতে যেন আমেরিকার কোন সেনাউনি না থাকে তখন অত্যন্ত আশ্চর্যজনকভাবে বাংলাদেশের মাটিতে বাংলাদেশের জলসীমাতে আমেরিকার যুদ্ধজাহাজ পাকাপাকিভাবে জায়গা করে নিচ্ছে এবার বাংলাদেশে তৈরি হচ্ছে আমেরিকার সেনাছাউনি আর এই খবর বাংলাদেশের কোন মিডিয়া এখনো পর্যন্ত একটি সংবাদ পর্যন্ত করেনি। এটি অপর আশ্চর্যের বিষয়। বাংলাদেশের যখন সয়ে সয়ে মিডিয়া হাউস আর অসংখ্য ইউটিউবার তাদের মধ্যে একটি সংস্থাও গত পাঁচ থেকে 7ই মে আমেরিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি দল ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমতিতে ঢাকায় এসে তিনদিন ধরে তারেক রহমান সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক সেরে গেলেন। আগামী দিনে আমেরিকার নেভি, আমেরিকার নৌসেনারা বাংলাদেশের কোথায় কোথায় কয়টি যুদ্ধজাহাজ রাখবে এবং গোটা বাংলাদেশের সমস্ত বায়ুসেনাঘাটি বাংলাদেশের চারটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক অনুমতি আদায় করে মার্কিন প্রতিনিধি দল দেশে ফিরলেন। এত বড় সংবাদ এই গোটা সাউথইস্ট এশিয়া জুড়ে বাংলাদেশ, ভারত, মায়ানমার এবং চীন এই গোটা অঞ্চলের উপরে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র আগামী দিনে এক মারাত্মক নজরদারি শুরু করতে যাচ্ছে। এমনকি বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সমস্ত গোপন তথ্য হাতিয়ে নেয়ার অধিকার পেয়ে গেল। আর সেই অধিকার দিল বাংলাদেশের বর্তমান সরকার। আর অপর গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ 2013 সাল থেকে এক নাগারে আমেরিকার সরকার বাংলাদেশের তৎকালীন হাসিনা সরকারকে চাপ দিয়ে আসছিল সেন্ট মার্টিন ডিপটি আমেরিকার হাতে তুলে দেয়ার জন্যে। যে কাজ বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হাসিনা কোনভাবেই করতে রাজি হয়নি। সেই কাজও দক্ষতার সঙ্গে করে ফেললেন বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অর্থাৎ বাংলাদেশের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ একটি দ্বীপ সেন্ট মার্টিন। সেই সেন্ট মার্টিন এখন থেকে আমেরিকার সেনাবাহিনীর দখলে চলে গেল। আমরা ভারত মহাসাগরের ক্ষুদ্র একটি দ্বীপ দিওগো গার্সিয়ার গল্প বলেছিলাম। যে দিওগো গার্সিয়া ইংল্যান্ডের দখলে ছিল সেখানে আমেরিকা যৌথভাবে ইংল্যান্ডের সঙ্গে একটা বিরাট বড় সামরিক সেনাউনি চালায়। সেই দিওগো গার্সিয়া থেকেই ভারত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করেছে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি সেই গার্সিয়া দ্বীপ থেকে ইরানের উপরে সামরিক হামলা চালিয়েছে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র। এবার একই ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে বাংলাদেশের সঙ্গে। বাংলাদেশে আমেরিকা শেষবার যুদ্ধজাহাজ দিয়ে হাজির হলো। আর তার অনুমতি দিল বাংলাদেশের বর্তমান সরকার। কিন্তু সেই খবর না বাংলাদেশের কোন মিডিয়া প্রকাশ করেছে না সরকারের পক্ষে সেইভাবে কোন বিবৃতি দিয়ে দেশবাসীকে জানানো হয়েছে যে বাংলাদেশের সরকার বাংলাদেশের মানুষের অনুমতি সাপেক্ষে সেই দেশে আমেরিকার সৈন্যবাহিনীকে সামরিক সেনাউনি করার অনুমতি দিচ্ছে আর এই খবর সম্প্রচারিত হয়েছে বাংলাদেশ থেকে নয় এ খবর প্রকাশিত হয়েছে ইউক্রেন ভারতবর্ষ এবং শ্রীলংকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদপত্রে আমরা যে খবর আপনাদের প্রথমে দেখাব ইউক্রেেন থেকে সম্প্রচারিত হয়েছে খবর মিলিটার এন ওয়াই আই এই সংবাদপত্র ইউক্রেন থেকে সম্প্রচারিত হয় 13ই মে 13ই মে তারা খবর করেছিল খবরের হেডলাইন ছিল বাংলাদেশ ওপেন স্পোর্টস টু ইউএস ওয়ারশিপ বাংলাদেশ আমেরিকার যুদ্ধজাহাজের জন্যে বাংলাদেশের বন্দরকে উন্মুক্ত করে দিল আমরা যে ছবি এখানে দেখেছি তারেক রহমান এবং আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প তারা করমর্দন করছেন। এটি প্রতীকী চিহ্ন। সত্যি সত্যি এখনো পর্যন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তারেক রহমানের এখনো সাক্ষাৎ হয়নি বা এরকম কোন কর্মবর্ধন হয়নি। কিন্তু বাংলাদেশের সরকারি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আমেরিকার সরকারি প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ বৈঠক সমস্ত সম্পন্ন হয়েছে। এখন যেটুকু বাকি রয়েছে শুভ বিবাহ শুধু বাকি। আনুষ্ঠানিক সাইনিং ইন সেরেমনি। দুটি দেশ অনুষ্ঠান করে চুক্তিপথের স্বাক্ষরটুকু বাকি। কিন্তু কূটনৈতিক স্তরে আমলা স্তরে আইনি কার্যাবলী সমস্তই সম্পন্ন হয়েছে। কি কি শর্তে স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ তার যাবতীয় তথ্য আপনাদের সামনে তুলে ধরবো। পদাতিক চ্যানেল দায়বদ্ধ বাংলাদেশের সকল দর্শক কাছে সত্য তুলে ধরার জন্যে। আমরা এবার দেখব মেরিন ইনসাইট। ভারতবর্ষের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র বিষয়ক সংবাদপত্র। যারা সমুদ্রের নৌসেনা চলাচল বা বাণিজ্যিক বিষয় নিয়ে কাজ করে। তারা 15 তারিখে একটি ডিটেইল নিবেদন চেপেছিল। যার শিরোনাম ছিল ইউএস প্ল্যানস টু ডেপ্লয় ওয়ারশিপ। ইন বাংলাদেশ ক্লোজার টু ইন্ডিয়া এন্ড চাইনা। আমেরিকা খুব শিঘ্রি বাংলাদেশের জলসীমাতে যুদ্ধজাহাজ মোতায়ন করতে যাচ্ছে। আর যে অঞ্চলে এই কাজ করতেছে অর্থাৎ বে অফ বেঙ্গল বঙ্গোপসাগর এলাকায় যেটি ভারতবর্ষ এবং চীনের সংলগ্ন। অর্থাৎ এই গোটা অঞ্চলে আগামী দিনে মার্কিন সেনার একটি অভাবনীয় প্রভাব বলায় তৈরি হতে যাচ্ছে। আর এর ফলে দিস ডিল আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের যে চুক্তি হতে যাচ্ছে দিস ডিল উইল গিভ ইউএস নেভি শিপ ডাইরেক্ট এক্সেস টু ঢাকা স্পোর্টস এন্ড এয়ারপোর্টস। আর এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের যে সমস্ত বন্দর রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর, মংলা বন্দর, পায়রা বন্দর এবং নির্মিয়মান মাতারবাড়ি বন্দর। এই চারটি বন্দরে আমেরিকার নৌসেনার যুদ্ধজাহাজগুলি অবাধে প্রবেশ করবার সেখানে থাকবার অধিকার লাভ করবে ফর মেনটেনেন্স রিফুয়েলিং এন্ড রিসাপ্লাই অপারেশনস আর এই বন্দরগুলি থেকেই আমেরিকার যুদ্ধজাহাজের মেইনটেনেন্স করবে সেখানে জ্বালানি সংগ্রহ করবে এবং রিসাপ্লাই অপারেশন তারা চালাবে অপরদিকে শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশ থেকে সামুদ্রিক পথে একটু দূরেই অবস্থিত তারাও কিন্তু আমেরিকার যে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি হবে গোটা অঞ্চলে তার জন্য উদ্বিগ্ন। তাদের শ্রীলঙ্কা গার্ডিয়ান খবরের কাগজ তারাও এই সংবাদ ছেপেছে। ইউএস টু ডেপ্লয় ওয়ারশিপ ইন বাংলাদেশ সি। বাংলাদেশের সমুদ্রে আমেরিকা যুদ্ধজাহাজ মোতায়ন করতে চলেছে। আমরা আগেই জানিয়েছি আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের দুটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হচ্ছে। তার প্রথম চুক্তি হল আকসা। এই আকসা চুক্তির বলে ডেপ্লয়মেন্ট অফ ইউএস ওয়ারশিপ ইন দা বে অফ বেঙ্গল। অর্থাৎ বে অফ বেঙ্গল। বাংলাদেশের সুন্দরবন অঞ্চলের নিচেরই গোটা অঞ্চল জুড়ে এই গোটা অঞ্চল জুড়ে বাংলাদেশের নৌসেনার সাথেই এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলগুলিতে অবস্থান করবে মার্কিন নৌসেনা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এক্সেস টু বাংলাদেশের সিপোর্টস বাংলাদেশের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বন্দর এই চট্টগ্রাম বন্দর চট্টগ্রাম বন্দরে প্রবেশ করবার অধিকার লাভ করছে এদিকে আমরা দেখছি পোর্ট অফ মংলা মংলা বন্দরে প্রবেশ করার অধিকার পাচ্ অধিকার পাচ্ছে পোর্ট অফ পায়রা পায়রা বিমান বন্দরে তারা প্রবেশ করছে এবং সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ নির্মিয়মান যে বন্দর মাতারবাড়ি বন্দর এই মাতারবাড়ি বন্দর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আন্তর্জাতিক জাহাজের ব্যবহারের উপযোগী হয়ে উঠবে আর তারপরেই এই বন্দর ব্যবহারের অনুভূতি পেয়ে যাচ্ছে মার্কিন সেনারা ফলে বাংলাদেশের যে চারটে সমুদ্র বন্দর সেই চারটে সমুদ্র বন্দরেই মার্কিন যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি আগামী দিনে দেখা যাবে এক্সেস টু বাংলাদেশের এয়ারফিল্ডস বাংলাদেশ বায়ুসেনার যে কয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিমান ঘাঁটি রয়েছে প্রত্যেকটি বিমানঘাটি ব্যবহার করার অনুমতি লাভ করছে মার্কিন সেনা। আর এখানে সবচাইতে বড় যে প্রশ্ন উঠে আসছে ইতিপূর্বে মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলো যেভাবে আমেরিকার হাতের পুতুল হয়ে গিয়েছিল তাদের দেশে মার্কিন সেনা তাদের দেশে মার্কিন ঘাটি নির্মাণ করতে দিয়ে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি বাংলাদেশে হতে যাচ্ছে না তো তবে এর থেকেও আরো স্পর্শবদ্ধ যে ঘটনা ঘটে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মার্কিন সেনাবাহিনীকে সকল গোপন বিষয় তারা শেয়ার করবে আগামী দিনে এই চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে বাংলাদেশের সঙ্গে আমেরিকা। আর এই চুক্তির নাম দেয়া হয়েছে জিসোমিয়া। জি সোমিয়া এই চুক্তির মাধ্যমেই মিলিটারি টু মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স শেয়ারিং হবে। বাংলাদেশের সঙ্গে আমেরিকার সৈন্যবাহিনী আমেরিকার সৈন্যবাহিনীর সঙ্গে বাংলাদেশের সৈন্যবাহিনীর তথ্য আদান প্রদান হবে। শুনতে খুব গাল ভরা লাগছে যে বাংলাদেশের সেনা যেমন আমেরিকার সেনাবাহিনীকে তথ্য দেবে আমেরিকাও বাংলাদেশকে দেবে। অতীত ইতিহাস সাক্ষী আছে। মার্কিন সেনারা কতদূর যেতে পারে তাদের স্বার্থ চরিতার্থ করবার জন্যে। আর আমেরিকার সৈন্যকে কতখানি বিশ্বাস করা যায় ইতিহাসে তার ভুরি ভুরি নথি আছে। সুতরাং শুনতে চমকপ্রদ হলেও আগামী দিনে বাংলাদেশকে এই চুক্তির জন্য কতখানি মাসল দিতে হবে সে নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। আর তাছাড়াও রয়েছে কিছু রিফুয়েলিং, লজিস্টিক্স এবং স্পেয়ার পার্টস। এই সমস্ত বিষয়ে মার্কিন সেনারা গোটা বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ব্যবহার করার অবাদ অধিকার লাভ করছে। তবে যেহেতু পদাতিক এই সংবাদ আপনাদের সামনে সবার আগে হাজির করছে। অনেকের মনেই সন্দেহ জাগতে পারে যে পদাতিক এই খবরকে বানিয়ে সম্প্রচার করছে। তার জন্য আরো একবার আপনাদের বলছি দুটি চুক্তির নাম। আপনারা লিখে রাখুন আকসা এসিএসএ এবং জি সোমিয়া এই দুটি চুক্তি বাংলাদেশ এবং আমেরিকা যে স্বাক্ষর করেছে তা আপনারা অনলাইনে সার্চ দিলেই দেখতে পাবেন। তাই আপনাদেরকে এই দুটি চুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত পড়ার জন্য অনুরোধ রাখলাম। চলুন এবার আসল বিষয় দেখে নিই। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্যটা কি? কি কারণে হঠাৎ করে বাংলাদেশের জলসীমাতে মার্কিন নৌসেনারা আসতে চাইছে বড় বড় যুদ্ধজাহাজ নিয়ে এবং সেই যুদ্ধজাহাজে অবশ্যই ভর্তি থাকবে আমেরিকার সেই শক্তিশালী যুদ্ধবিমান কেন এই অঞ্চলকে নির্বাচন করল আমেরিকার নৌবাহিনী তবে তার অন্যতম প্রধান কারণ সাউথ ইস্ট এশিয়ার উপরে আমেরিকা চাইছে একচ্ছত্র আধিপত্য নির্মাণ করতে গ্লোবাল সাউথ যখন ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে উঠছে এবং আমেরিকার আধিপত্য সামরিক শক্তি যখন খর্ব হচ্ছে মধ্যপ্রাচে নতুন করে এই বিস্তীর্ণ বলয়ে যে বলয়কে চায়না বাণিজ্যের জন্য সবচাইতে বেশি গুরুত্ব দিয়ে আসছে সেই সাউথ ইস্ট এশিয়াকে এবার পাখির চোখ করছে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র। তাই আগামী দিনে চীনের প্রভাব খর্ব করে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের গোটা অঞ্চলে তার প্রশ্নাতিত কর্তৃত্ব তৈরি করার জন্যেই বাংলাদেশকে সর্বপ্রথম তারা নির্বাচন করেছে। চলুন একে একে আমরা দেখে নিই সেই মূল কারণগুলোকে এবার। এক নম্বরে আমরা দেখব ইউএস কান ফিজিক্যালি ব্লক চাইনাস ওভারল্যান্ড রোডলিং থ্র মায়ানমার ইফ নিডেড। প্রথম যে শর্তটা বললাম আপনাদেরকে আমরা অনেকেই ইতিমধ্যে জেনে গেছি স্ট্রেট অফ মালাক্কার নাম এই স্টেট অফ মালাক্কা ইন্দোনেশিয়ার মধ্য দিয়ে একটি সংকীর্ণ সামুদ্রিক পথ যার সর্বনিম্ন ব্যাপ্তি মাত্র 3 কিলোমিটার অথচ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিরীক্ষে এই স্টেট অফ মালাক্কা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পৃথিবীতে যত সামুদ্রিক পথে ব্যবসা হয় তার 30 শতাংশ ব্যবসায়ী হয় এই স্টেট অফ মালাক্কার মধ্য দিয়ে তাই চীনের অন্যতম বাণিজ্যিক পথ এই স্টেট অফ মালাক্কা। যদি আগামী দিনে চীন কোনভাবে এই স্টেট অফ মালাক্কা ব্যবহারের অনুমতি হারায় বা এই পথকে যদি হারায় চীন বিকল্প পথ খুলে রেখেছে। এই মায়ানমারের মধ্য দিয়ে দুটি সড়ক পথ চীন আগে থেকেই প্রস্তুত করে রেখেছে। এই দুটি সড়কপথ একটা রেঙ্গুন থেকে শুরু করে আরেকটা চকচি থেকে চীনের কুন্ডিং পর্যন্ত দুটি বিস্তীর্ণ সড়কপথ তৈরি আছে। তাই আগামী দিনে যদি চীন মনে করে তারা সমুদ্রপথে এসে এখান থেকে তারা স্থলপথে মাল পৌঁছে দিতে পারে তাদের মূল ভূখন্ডে। কিন্তু বাংলাদেশের এই বিস্তীর্ণ জলসেবাকে ব্যবহার করে আগামী দিনে মায়ানমারের যে দুটি স্থলপথ রয়েছে এই দুটি স্থলপথকে আগামী দিনে যদি চায় আমেরিকা বন্ধ করে দিতে পারে। একদিকে স্টুড মালাকাকে বন্ধ করার হুমকি দেওয়া। অপরদিকে এই দুটি স্থলপথকে বন্ধ করা। দুটি ক্ষেত্রে আমেরিকা আগামী দিনে বিরাট বড় লিভারেজ পাবে। আর এই লিভারেজ পাওয়ার জন্যেই আমেরিকা মুখে আছে এবং বাংলাদেশের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ অনুমতি আদায় করে নিল। দুই নম্বর গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ইউএস কান সেভার চাইনাস ক্রিটিক্যাল ওয়াইল্ড পাইপলাইন রানিং ফ্রম মায়ানমার। একদিকে যেমন আমরা দেখালাম দুটি স্থলপথ। পাশাপাশি চীন মায়ানমারের সিনো থেকে ওই কুনমিং পর্যন্ত। এই দুটি জায়গাকে সংযুক্ত করছে পাইপলাইনে। এটা ওয়াইল্ড পাইপলাইন। এই বিস্তীর্ণ ওয়াইল্ড পাইপলাইনকে ব্যবহার করে চীন চাইলে অনাশে খুব অল্প পথে এখান থেকে চীনের মেইন ল্যান্ডে তারা তেল বহন করে নিয়ে যেতে পারে। আগামী দিনে চীনের এই তেল পাইপলাইনকে ধ্বংস করার এক অভিপ্রায় রয়েছে আমেরিকার। চীন যাতে আগামী দিনে এই পাইপলাইন ব্যবহার করার সুযোগ না পায় সেই লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখেই আমেরিকা এই বঙ্গোপসাগরে যুদ্ধজাহাজ নিয়ে হাজির হচ্ছে। চীনের উপরে আগামী দিনে আমেরিকা ব্যাপকভাবে চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে। অপর গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য আমেরিকার। দ ইউএস ক্যান ট্র্যাক এন্ড নিউট্রালাইজ চাইনিজ সাবমেরিনস লিভিং কক্সেসবাজার বিএনএস পেকুয়া বেস। আপনারা অনেকেই জেনে থাকবেন চীনের অর্থ সাহায্যে কক্সেসবাজারের কাছে এই বিএনএস পেকুয়া বেস তৈরি হয়েছিল। যে পেকুয়া বেছে চীন এবং বাংলাদেশ তারা উভয়েই সাবমেরিন ব্যবহার করত। এই অঞ্চলে আগামী দিনে চীন যাতে তার সাবমেরিন ব্যবহার করতে না পারে। চীনের ভূরাজনৈতিক যে প্রভাব যেটা ক্রমশ গড়ে উঠছিল গোটা সাউথইস্ট এশিয়াতে তাকে ধ্বংস করা। বিশেষ করে চীনের সাবমেরিন যে ক্ষমতা সেই ক্ষমতাকে ধ্বংস করার লক্ষ্য নিয়েই আমেরিকা হাজির হচ্ছে বাংলাদেশের এই জলসীমাতে। এটি অপর গুরুত্বপূর্ণ কারণ। চতুর্থ গুরুত্বপূর্ণ দিক এই মুহূর্তে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের পাখির চোখ এই গোটা অঞ্চলকে রাজনৈতিকভাবে অস্থির করে তোলা। মায়ানমারে যখন জুন্টা সরকার চলছিল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপরে যে বর্গরচিত আক্রমণ শুরু হয়েছিল যার মাসুল গুনতে হয়েছে বাংলাদেশ সরকারকে। যার বাসল গুনছে পশ্চিম বাংলা তথা ভারতবর্ষের সাধারণ মুসলমান জনগোষ্ঠী আজ পর্যন্ত প্রতিদিন। তাই মায়ানমারে নতুন করে রেবেল গোষ্ঠীকে উৎসাহ দিয়ে মার্কিন সরকার যে কাজে সবথেকে পটু। এই মায়ানমারে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করে গোটা বাংলাদেশ এই সামগ্রিক অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি করে আগামী দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপকভাবে রাজনৈতিক বাণিজ্যিক এবং সামরিক একটি ফায়দা লুটতে চাইছে। আর এই কৌশলকে আরো পাকাপাকি জায়গা দিতে এতদিনের যে লক্ষ্য ছিল আপনারা এখানে দেখছেন মানচিত্রে সেন্ট মার্টিনস আইল্যান্ড আয়তনে অতি ক্ষুদ্র হলেও এই কক্সেসবাজার সংলগ্ন সেন্ট মার্টিন দ্বীপ সামরিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যার জন্যে আমেরিকা এত বছর ধরে হাফেস তাকিয়েছিল এবার তারেক রহমান সরকারকে পাকড়াও করে এই সেন্ট মার্টিন দ্বীপকে আয়ত্ত করতে পেরেছে আমেরিকা এখন আইনে বলা হয়েছে এই সেন্ট মার্টিন দ্বীপে বাংলাদেশের মিলিটারি এবং আমেরিকার মিলিটারি তারা যৌথভাবে কার্যক্রম চালাবে। কিন্তু আমরা এ কথা অনাশেই অনুমান করতে পারি আগামী দিনে সেন্ট মার্টিন আইল্যান্ড বকলমে আমেরিকার দখলে চলে যাবে। এখানে বাংলাদেশের মিলিটারি সেই অর্থে দখল থাকবে না। এটা বড় সড় আশঙ্কা। পরিশেষে আমরা আরো একবার সেই কথাই বলব। যখন বিশ্বব্যাপী মার্কিন সামরিক ঘাটিগুলোকে উঠিয়ে দেয়ার দাবি উঠছে। স্থানীয় মানুষজন লড়াই করছে এই মার্কিন সেনাচানীর বিরুদ্ধে। যার জ্বলন্ত উদাহরণ ইরান। ইরানের যে যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে তার এক নম্বর দাবি মার্কিন সেনাসাউনিকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে চিরতরে নিঃশর্তে তুলে দেওয়া। আর সেই জায়গায় বাংলাদেশের নতুন করে বাঘের অভয়ারণ্য খোলা হচ্ছে। এটা অত্যন্ত হতাশাজনক, অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তাই বাংলাদেশের প্রত্যেকটি দর্শক মন্ডলকে আমরা এই ভিডিওর মাধ্যমে সজাগ হতে এবং এই বিষয়ে দেশবাসীকে সচেতন করে তোলার আহ্বান জানিয়ে এই ভিডিও শেষ করলাম।

Need a transcript for another video?

Get free YouTube transcripts with timestamps, translation, and download options.

Transcript content is sourced from YouTube's auto-generated captions or AI transcription. All video content belongs to the original creators. Terms of Service · DMCA Contact

বাংলাদেশ বন্দর, বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি মার্কিন সেনাদ...