২১ বছরেই বিশ্বজয়! ইউরোপের ত্রাস ‘গ্রেট ইগল’ সুলতান মেহমেদ ফাতেহ

Daily Feature World1,760 words

Full Transcript

দীর্ঘ 800 বছর 23 বার আক্রমণ কিন্তু ফলাফল শুধুই শূন্যতা। ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়ে রাখা বড় বড় সব বীজে তারা এলেন ঝড়ের গতিতে ঢেয়েল ও বিশাল সব সেনাবাহিনী। কিন্তু এই শহরের পাথরে দেয়াল সবাইকে নিরাশ করে ফিরিয়ে [মিউজিক] দিল। কনস্ট্যান্টিনোপল এক অভেদ্য দুর্গ এক অপরাজীয় [মিউজিক] ধাঁধা। যেন একে জয় করা কোন মানুষের সাধ্যেই নেই। কিন্তু তারপর ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দিতে আগমন ঘটলো এক [মিউজিক] তরুণের। বয়স মাত্র 21। টকবগে যুবক। যিনি এমন এক অসম্ভবকে সম্ভব করলেন [মিউজিক] যা গত আট শতাব্দীতে কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। তিনি শুধু শহর জয় করলেন না। তিনি গোটা বিশ্বকে নিজের বুদ্ধিমত্তায় [মিউজিক] বোকা বানিয়ে দিলেন। যখন সমুদ্র তাকে পথ দিতে অস্বীকার করল তখন তিনি মাটির বুক চিড়ে ডাঙার উপর দিয়েই চালিয়ে দিলেন আস্ত সব যুদ্ধজাহাজ। এমন জেদ, [মিউজিক] এমন পাগলামি আর এমন সাহস কেবল একজন মানুষেরই থাকতে পারে। কনস্ট্যান্টিনোপল বিজেতা সুলতান মেহমদ ফাতেহ। কিন্তু একটু থামুন। আপনারা তো সেই বিশ্বজয়ী সুলতানকে চেনেন যার ভয়ে একসময় ইউরোপের বুক কাঁপতো। যাকে তারা ডাকতো দ্যা গ্রেট ইগল নামে। কিন্তু সেই মহাবীরের আড়ালে লুকিয়ে থাকা [মিউজিক] এক ব্যর্থ রাজপুত্রকে কি আপনারা চেনেন? আপনারা কি জানেন যেই ছেলেটি একদিন গোটা [মিউজিক] দুনিয়া কাঁপিয়ে দেবে। তাকেই তার নিজের বাবা আর মন্ত্রীরা একদিন অযোগ্য ঘোষণা করে সিংহাসন থেকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছিলেন। ছোটবেলায় যাকে শুনতে হয়েছিল অপমানের কটুক্তি। আজকের এই গল্পটা শুধু একজন শাসকের রাজ্য জয়ের গল্প নয়। [মিউজিক] এটা হলো ছাই থেকে উঠে দাঁড়ানোর গল্প। এটা একটা দুর্দান্ত কামব্যাক স্টোরি। আর জীবন যুদ্ধে হার না মানা এমন কামব্যাক স্টোরি শুনতে কার না ভালো লাগে। তো চলুন আজ ডেইলি ফিচার ওয়ার্ল্ডে আমরা শুনবো সেই রূপকথার চেয়েও অবিশ্বাস্য সুলতান মেহমদ ফাতেহের আসল কাহিনী। গল্পের শুরুটা কিন্তু বিজয়ের ছিল না। ছিল চরম অপমানের। সাল 1444। অটমান সাম্রাজ্যের সিংহাসনে বসানো হলো 12 বছরের এক কিশোরকে। নাম দ্বিতীয় মেহমাত। বাবা সুলতান মুরাদ অবসরে যাওয়ার আগে ভাবলেন ছিলে রাজ্য সামলাবে। কিন্তু হায় শিশু সুলতানকে দেখে চারদিক থেকে ধেয়ে এলো বিপদ। [মিউজিক] ইউরোপের রাজারা ভাবল বাচ্চা ছেলে সিংহাসনে। এটাই তো অটোমানদের শেষ করে দেওয়ার সুযোগ। চারদিক [মিউজিক] থেকে শত্রু ঘিরে ধরল। সাম্রাজ্যের নিজের মন্ত্রীরাই বিশেষ করে তৎকালীন উসমানীয় সাম্রাজ্যের উজিরে আজম হালিল পাশা এই ছোট্ট সুলতানকে নিয়ে হাসাহাসি শুরু করলেন। অবস্থা এমন হলো যে বাধ্য হয়ে ছোট্ট মেহমাত তার বাবাকে চিঠি লিখলেন বাবা আপনি যদি সুলতান হন তাহলে এসে আপনার সেনাদলের নেতৃত্ব দিন। [মিউজিক] আর আমি যদি সুলতান হই তবে আমি আপনাকে আদেশ করছি এক্ষুনি ফিরে আসুন। বাবা ফিরে এলেন। কিন্তু নিজের ছেলের দিকে তাকিয়ে বললেন, তুমি এখনো প্রস্তুত নও। সবাই দেখল 12 বছরের সেই ছেলেটিকে অপমানিত হয়ে সিংহাসন ছাড়তে হলো। সবার চোখের আড়ালে মানিসার নির্জন প্রাসাদে নির্বাসনে পাঠানো হলো তাকে। সাধারণ কেউ হলে হয়তো এখানেই ভেঙে পড়তো। হয়তো ইতিহাসের অতলে হারিয়ে যেত। কিন্তু ওই যে বললাম ইনি সাধারণ কেউ নন। মানিসার সেই নির্বাসনে মেহমাত কাঁদেননি। তিনি নিজেকে গড়ছিলেন। আগুনের মত তপ্ত করছিলেন নিজের জেদকে। তার জীবনে এলেন এক মহান শিক্ষক শায়েখ আকশামসুদ্দিন। তিনি মেহমাতকে শোনালেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক পবিত্র ভবিষ্যৎবাণীর কথা। কনস্ট্যান্টিনোপোল একদিন অবশ্যই বিজিত হবে। আর কতই না চমৎকার সেই সেনাপতি [মিউজিক] যিনি তা জয় করবেন। ব্যাস লক্ষ্য ঠিক হয়ে গেল। মেহমদ প্রতিজ্ঞা [মিউজিক] করলেন হয় আমি কনস্ট্যান্টিনোপোল নেব নয়তো কনস্ট্যান্টিনোপোল আমাকে গ্রাস করবে। তিনি শিখলেন গণিত, [মিউজিক] বিজ্ঞান, ভূগোল আর রণকৌশল। তিনি শিখলেন ল্যাটিন, গ্রিক, হিব্রু আর আরবি ভাষা। তিনি পড়লেন আলেকজান্ডার দ্য [মিউজিক] গ্রেটের ইতিহাস। তিনি শুধু একজন যোদ্ধা নন হয়ে উঠলেন একজন ইঞ্জিনিয়ার। 1451 সাল বাবা সুলতান মুরাদ মারা গেলেন। 19 বছর বয়সে দ্বিতীয়বারের মতো সিংহাসনে বসলেন মেহমাদ। কিন্তু এবার আর সেই ভীতু কিশোর নন। এবার সিংহাসনে বসেছেন এক ক্ষুধার্থ ইগল। সিংহাসনে বসেই তিনি ঘোষণা দিলেন আমার চোখ এখন কেবল ওই লাল আপেলটির দিকে অর্থাৎ কনস্টান্টিনোপল। ইউরোপের রাজারা তখন হাসাহাসি শুরু করলেন। তারা ভাবল ও তো সেই ব্যর্থ রাজপুত্র। ও আর কি করবে? কিন্তু তারা জানতো না এই মেহমাত আর সেই 12 বছরের ছেলে নেই। মেহমাত এবার খালি হাতে আসেননি। তিনি হাঙ্গেরি থেকে ডেকে আনলেন এক প্রকৌশলীকে। নাম অরবান। [মিউজিক] মেহমাত তাকে নির্দেশ দিলেন এমন এক কানান বানাতে যা এর আগে পৃথিবী দেখেনি। তৈরি হলো ইতিহাসের অন্যতম ভয়ঙ্কর মারণাস্ত্র ব্যাসিলিকা ক্যানন। যার এক একটা কানানের গোলার ওজন ছিল 600 কেজির ও বেশি। শহর অবরুদ্ধ করা হলো। কিন্তু কনস্ট্যান্টিনোপোলকে রক্ষা করছিল প্রাকৃতিকভাবে তৈরি গোল্ডেন হর্ন নামের এক জলপথ। সেখানে বাইজেন্টাইনরা মোটা লোহার শিকল দিয়ে পথ বন্ধ করে রেখেছিল। অটোমান জাহাজ কিছুতেই সেই শিকল ছিড়ে শহরে [মিউজিক] ঢুকতে পারছিল না। দিনের পর দিন যুদ্ধ চলল। মেহমতের সৈন্যরা ক্লান্ত হয়ে পড়ল। মন্ত্রীরা কানের কাছে ফিসফিস করছে। ফিরে চলুন সুলতান এই শহর অভিশপ্ত। এটা জয় করা সম্ভব নয়। মনে হচ্ছিল আবারো বুঝি ইতিহাস তার পুনরাবৃত্তি [মিউজিক] করবে। আবারো বুঝি ব্যর্থ হয়ে ফিরে যেতে হবে। 22শে এপ্রিল 1453 রাত তখন গভীর। বাইজেন্টাইনরা নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে। কারণ তারা জানে সাগরের পথ শিকল দিয়ে বন্ধ। 21 বছরের সুলতান তাবুর ভিতরে একা। বাইরে পরাজয়ের হাতছানি। তখনই তার মাথায় এলো এক পাগলাটে বুদ্ধি। তিনি হুকুম দিলেন সমুদ্র যদি পথ না দেয় তবে আমরা মাটির উপর দিয়েই জাহাজ চালাবো। পাহাড়ের গা কেটে রাস্তা তৈরি করা হলো। রাস্তায় বিছানো হলো চর্বি মাখানো কাঠের গুড়ি। আর তারপর হাজার হাজার সৈন্য মিলে একদম নিঃশব্দে 70 টি বিশাল যুদ্ধজাহাজ এক রাতের মধ্যে পাহাড় গিঙ্গয়ে ওপর পাশের পানিতে নামিয়ে দিল। পরের দিন সকালে বাইজেন্টাইনরা ঘুম থেকে [মিউজিক] উঠে যা দেখল তাতে তাদের রক্তহীন হয়ে গেল। যে বন্দরে তাদের সুরক্ষা ছিল সবচেয়ে বেশি সেখানেই ভাসছে অটোমানদের যুদ্ধজাহাজ। [মিউজিক] এক রাতেই খেলার মোড় ঘুরে গেল। 29শে মে 1453 চূড়ান্ত আক্রমণের দিন। সুলতান মেহমানদ তার ঘোড়া ছুটিয়ে সৈন্যদের মাঝখানে গেলেন। তাদের নবীর সেই হাদিসের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন। চিৎকার করে বললেন, হে আমার সন্তানেরা, হে আমার সাথীরা, আজ আমরা ইতিহাস গড়বো। জান্নাত আমাদের অপেক্ষায় আছে। ব্যাসিলিকা কানানের গর্জনে কনস্ট্যান্টিনোপোলের [মিউজিক] হাজার বছর পুরনো দেয়াল কেঁপে উঠলো। অবশেষে সেই অভেদ্য দেয়াল ধষে পড়ল। অটোমান সৈন্যরা বন্যার [মিউজিক] পানির মত শহরে ঢুকে পড়ল। যে শহর 800 বছর ধরে অপরাজিত ছিল মাত্র 53 দিনের অবরোধে [মিউজিক] 21 বছরের এক তরুণ তা জয় করে নিলেন। যে গেট দিয়ে 800 বছর কেউ ঢুকতে পারেনি সেই গেট দিয়ে ঘোড়ায় [মিউজিক] চড়ে প্রবেশ করলেন সুলতান মেহমদ ফাতে। বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের পতন হলো। আর সেই অবহেলিত [মিউজিক] রাজপুত্র মেহমদ হয়ে উঠলেন সুলতান মেহমদ ফাতেহ বাদা কঙ্কারার। সুলতান মেহমদ ফাতেহ কেবল একজন রণকৌশলী বা বিজেতাই ছিলেন না। তিনি ছিলেন একজন অত্যন্ত ধর্মভীরু এবং নরম হৃদয়ের মানুষ। বিজয়ের পর যখন তিনি প্রথমবারের মত হাগিয়া সোফিয়ায় প্রবেশ করেন তখন তিনি কোন অহংকার দেখাননি। বরং ধুলো মাখা শরীর নিয়েই তিনি মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায়ে সেজদায় লুটিয়ে [মিউজিক] পড়েছিলেন। তিনি জানতেন এই বিজয় তার শক্তিতে নয় বরং আল্লাহর ইচ্ছায় [মিউজিক] অর্জিত হয়েছে। শহরের ভীতসন্ত্রস্ত মানুষগুলো যখন ভাবছিল এখন তাদের সবাইকে হত্যা করা হবে। তখন সুলতান তাদের সামনে দাঁড়িয়ে এক [মিউজিক] অভাবনীয় উদাহরণ স্থাপন করলেন। তিনি বললেন, তোমরা ওঠো। আজ থেকে তোমাদের জীবন এবং [মিউজিক] সম্পদ নিরাপদ। নিজ নিজ ধর্ম পালনে তোমাদের কোন বাধা নেই। মধ্যযুগের সেই [মিউজিক] নিষ্ঠুর সময়ে যেখানে বিজিতদের হত্যা করাই ছিল নিয়ম সেখানে সুলতান [মিউজিক] মেহমাত দেখিয়েছিলেন ক্ষমার এক বিরল দৃষ্টান্ত তিনি প্রমাণ করেছিলেন আসল বীর তারা নয় যারা ধ্বংস করতে [মিউজিক] জানে বরং তারা যারা জয় করার পরেও ক্ষমা করতে জানে তিনি ধ্বংসস্তূপের ওপর গড়ে তুললেন এক নতুন সভ্যতা আজকের ইস্তাম্বুল কনস্ট্যান্টিনোপল জয় ছিল কেবল শুরু অনেকে ভেবেছিল এই অভাবনীয় জয়ের পর হয়তো সুলতান থামবেন কিন্তু না মেহমাতের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল মহান আলেকজান্ডারের মত। তিনি চেয়েছিলেন বিশ্বজয়ী হতে। সুলতান মেহমাত নিজেকে ঘোষণা করলেন কাইজারি রুম বা রোমান সিজার হিসাবে। [মিউজিক] পরবর্তী কয়েক বছর তিনি যেন এক প্রলয়নকারী ঝড়ের মত ছুটে চললেন। [মিউজিক] তার ঘোড়ার খুরের আওয়াজে বলক্যান অঞ্চল কেঁপে উঠলো। সার্বিয়া, গ্রিস, বসনিয়া, [মিউজিক] আলবেনিয়া একের পর এক রাজ্য তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল তার সামনে। এমনকি বল্কানের ত্রাস ইতিহাসের সেই কুখ্যাত [মিউজিক] ব্ল্যাড ড্রাকুলা যাকে নিয়ে আজও ভয়ের গল্প প্রচলিত সেও রেহাই পেল না। ছোটবেলায় যে ব্ল্যাড মেহমাতের সাথেই রাজপ্রাসাদে বেড়ে উঠেছিল সেই বন্ধু যখন বিশ্বাসঘাতক হয়ে ক হাজার মানুষকে শুলে চড়িয়ে মেহমাতকে ভয় দেখাতে চাইল তখন সুলতান মেহমাত বিন্দুমাত্র না ঘাবড়ে সেই ড্রাকুলা কেও পরাজিত করে রাজ্য ছাড়া করলেন এবং পরবর্তীতে তার কাটা মাথায় এনে কনস্ট্যান্টিনোপোলের প্রাচীরে ঝুলিয়ে রাখলেন। [মিউজিক] কোন পিশাচের ভয়ই তাকে দমাতে পারেনি। যেই কৃষ্ণসাগর ছিল অন্যদের নিয়ন্ত্রণে তিনি ট্রেবিজন্ড জয় করে সেই সাগরকে বানিয়ে ফেললেন অটোমানদের নিজস্ব একটি লেক বা খ্রিদো। [মিউজিক] ভাবা যায় মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে তিনি পূর্ব ইউরোপের মানচিত্রটাই বদলে ফেললেন। কিন্তু সুলতান মেহমাতের আসল লক্ষ্য তখনও বাকি। তার স্বপ্ন ছিল প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যের দুটি রাজধানী তার হবে। তিনি কনস্ট্যান্টিনোপল পেয়েছেন। এবার চাই [মিউজিক] খোদ রোম 1480 সাল। ইউরোপের হৃদস্পন্দন থামিয়ে দিয়ে সুলতান মেহমাত তার ভয়ঙ্কর নৌবাহিনী পাঠালেন ইতালির দিকে। অটোমান সেনাপতি গেদিক আহমেদ পাশা ইতালির ওটান্টো উপকূলে অবতরণ করলেন। অট্রান্টো দুর্গ জয় করে যখন অটোমান পতাকা ইতালির মাটিতে উড়ল তখন ভ্যাটিকান সিটিতে পোপের হাত থেকে ভয়ের চোটে পানপাত্র পড়ে গেছিল। শোনা যায় [মিউজিক] পোপ সিক্সটাস রোম ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতিও নিয়ে ফেলেছিলেন। কারণ সবাই জানত গ্রেট [মিউজিক] ইগল মেহমাত একবার যখন নজরে রেখেছেন তখন রোম জয় কেবল সময়ের ব্যাপার। 1481 সাল বসন্তকালে সুলতান মেহমাত আবার এক বিশাল সেনাবাহিনী প্রস্তুত করলেন। ইস্তাম্বুলের [মিউজিক] এশিয়া অংশে হাজার হাজার সৈন্য অপেক্ষা করছে। গন্তব্য কোথায় কেউ জানে [মিউজিক] না। কিন্তু হায় নিয়তির লিখন কে খন্ডাবে? অভিযান শুরু করার মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে গেবজে [মিউজিক] নামক স্থানে সুলতান হঠাৎ প্রচন্ড অসুস্থ হয়ে পড়লেন। পেটের তীব্র যন্ত্রণায় কাতরাতে লাগলেন সেই বিশ্বজয়ী বীর। [মিউজিক] মাত্র কয়েক ঘন্টার ব্যবধান। 3 মে 1481 মাত্র 49 বছর বয়সে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করলেন সুলতান মেহমদ ফাতেহ। অনেকে বলেন তাকে [মিউজিক] বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়েছিল। ভেনিসিয়ানরা নাকি তার নিজের [মিউজিক] চিকিৎসকের মাধ্যমেই এই জঘন্য কাজ করেছিল। কারণ তারা জানতো মেহমদ বেঁচে থাকলে পুরো [মিউজিক] ইউরোপ একদিন তার পদতলে থাকতো। মৃত্যু তাকে থামিয়ে [মিউজিক] দিল ঠিকই কিন্তু ততক্ষণে তিনি ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে গেছেন। [মিউজিক] তার মৃত্যু সংবাদ যখন বাতাসের বেগে ইউরোপে পৌঁছালো তখন যা ঘটলো তা ইতিহাসের [মিউজিক] এক বিরল ঘটনা। ভেনিসের রাজপ্রাসাদে এক বার্তাবাহক [মিউজিক] ছুটে এল। তার চিৎকার করে বলা একটি বাক্য মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে [মিউজিক] পড়ল পুরো ইউরোপে। লাগ্রান্দে আকুইলায়ে মরতা অর্থাৎ গ্রেট ইগল মারা গেছে। যে সুলতানের [মিউজিক] ভয়ে পোপ থেকে শুরু করে ইউরোপের রাজারা রাতের পর রাত ঘুমাতে পারতেন [মিউজিক] না। তার মৃত্যু সংবাদে গোটা ইউরোপ যেন পাগল হয়ে গেল। >> [মিউজিক] >> রোম এবং ভেনিসের রাস্তায় শুরু হলো এক নগ্ন উল্লাস। গির্জার [মিউজিক] ঘন্টাগুলো একটানা তিন দিন ধরে বাজানো হলো। পোপ এতটাই খুশি হলেন যে তিনি রোমের [মিউজিক] সব গির্জা খুলে দিলেন এবং উৎসবের ঘোষণা করলেন। তাদের এই বাদ [মিউজিক] ভাঙ্গা উল্লাসী প্রমাণ করে সুলতান মেহমদ তাদের জন্য কতটা বড় [মিউজিক] ত্রাস ছিলেন। শত্রুর এই ভয়ই ছিল মেহমাদের শক্তির সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি। >> [মিউজিক] >> কিন্তু তারা জানতো না ব্যক্তি মেহমদ মারা গেলেও তার রেখে যাওয়া সভ্যতা [মিউজিক] আর আদর্শের মৃত্যু নেই। সুলতান মেহমদ ফাতেহ যিনি এসেছিলেন দেখলেন [মিউজিক] জয় করলেন এবং চলে যাওয়ার সময় পৃথিবীকে জানিয়ে দিলেন অসম্ভব শব্দটি কেবল বোকাদের [মিউজিক] অভিধানেই থাকে। যাকে একদিন তার নিজের রাজ্য বাতিল করে দিয়েছিল। তিনিই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠলেন অটোমান সাম্রাজ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সুলতানদের [মিউজিক] একজন। সুলতান মেহমদের পর আপনারা এরপর কার রোমাঞ্চকর [মিউজিক] অভিযানের গল্প শুনতে চান? সুলতান আল আরসালান নাকি সুলতান [মিউজিক] সালাহউদ্দিন আইয়ুবী? আপনার পছন্দের বীরের নাম এখনি কমেন্ট [মিউজিক] করে জানান। ইতিহাসের আরো এমন রোমাঞ্চকর ফিচার দেখতে সাবস্ক্রাইব করে সাথেই থাকুন ডেইলি ফিচার ওয়ার্ল্ডেরর।

Need a transcript for another video?

Get free YouTube transcripts with timestamps, translation, and download options.

Transcript content is sourced from YouTube's auto-generated captions or AI transcription. All video content belongs to the original creators. Terms of Service · DMCA Contact

২১ বছরেই বিশ্বজয়! ইউরোপের ত্রাস ‘গ্রেট ইগল’ সুলতান মেহমে...