কুরবানীর গোশত কার হক? তিন ভাগের রহস্য জানলে চোখে পানি আসবে | Islamic Story

Ahoshan Islamic1,428 words

Full Transcript

কুরবানি শুধু পশু জবাই নয় এটি আল্লাহর প্রতি গভীর ভালোবাসার প্রকাশ। ঈদুল আযহার সকাল গ্রামের [মিউজিক] প্রতিটি ঘরে উৎসবের আমেজ। কাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব? যে মুসলিম নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক তার ওপর। কুরবানির পশু নির্বাচনে সতর্কতা জরুরি। নিখুত ও [মিউজিক] সুস্থ পশু হওয়া চাই। কাটার আগে বিসমিল্লাহ বলা ওয়াজিব। এটি ইবাদতের অংশ। কুরবানির গোস্ত [মিউজিক] তিন ভাগে ভাগ করা। এটি ইসলামের সুন্দর নির্দেশনা। এক ভাগ নিজের পরিবারের জন্য এটি হালাল ও বরকতময়| দ্বিতীয় ভাগ [মিউজিক] আত্মীয় স্বজনের জন্য সম্পর্ক মজবুত করার সুযোগ| আত্মীয়রা হাসি মুখে গোস্ত গ্রহণ করলেন সম্পর্কের বন্ধন আরো দীর্ঘ হলো তৃতীয় ভাগটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এটি গরীব আর মিসকিনদের [মিউজিক] হক বছরে একবার গরীবরা ভালো খাবার সুযোগ পায় কুরবানির মাধ্যমে ইসলাম ধনীদের উপর গরীবের হক নির্ধারণ করে দিয়েছে কুরবানির গোস্ত সংরক্ষণের কোন সীমা নেই তবে দেওয়াই উত্তম প্রতিবেশীর [মিউজিক] হকও কুরবানীতে আছে| ইসলাম তাদের কথা ভুলতে বলেনি| নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে প্রতিবেশী ক্ষুধার্থ তার পাশে থাকো শুধু নিজে খাওয়া নয় ভাগ করে খাওয়াতেই বরকত গরীব রহিম আজ অনেকদিন পরে ভালো খাবার পেলেন রহিমের চোখে পানি কৃতজ্ঞতার অশ্রু আল্লাহর শুকরিয়া এই দোয়াই হয়তো কুরবানীদাতার জন্য আল্লাহর দরবারে কবুল হবে কিন্তু সেদিন গ্রামে একজন মানুষ ছিলেন যিনি তার গোশত ভাগ করেননি হাজী সাহেব সব গোশত নিজের ঘরে রেখে দিলেন প্রতিবেশীকে কিছুই দিলেন না। মসজিদে মাগরিবের আজান হলো। মুসল্লিরা নামাজে দাঁড়ালেন হাজী সাহেব নামাজের পরে মালবালার কাছে গেলেন গর্বের সাথে বললেন কুরবানি দিয়েছেন। মাওলানা ইউসুফ আস্তে আস্তে [মিউজিক] এগিয়ে গেলেন তিনি জানতেন সত্যটা। মাওলানা বললেন, হাজী সাহেব প্রতিবেশী রহিম আজ না খেয়ে ঘুমাচ্ছেন। হাজী সাহেবের মনে ভয় ঢুকল। তিনি কি ভুল করেছেন? মাওলানা সাহেব কোরআনের আয়াত তেলাওয়াত করলেন যে গরিবকে ভুলে যায় আল্লাহ তাকে ভুলে যান। হাজী সাহেবের পা কাঁপতে লাগলো। তিনি বুঝলেন এই কুরবানি কবুল হবে না। মধ্যরাতে হাজী সাহেব উঠলেন মনে শান্তি নেই ঘুম নেই। তিনি উঠলেন গোস্তের পাত্র তুললেন। এখনো সময় আছে। মধ্যরাতের অন্ধকারে হাজী সাহেব একা হাঁটছেন [মিউজিক] রহিমের ঘরের দিকে। রহিমের দরজায় পৌঁছালেন। হাত কাঁপছে বুকে লজ্জা। রহিম দরজা খুললেন ক্লান্ত ক্ষুধার্থ অবাক চোখে হাজী সাহেব কাঁদতে কাঁদতে বললেন মাফ করুন আমি দেরি করে ফেলেছি রহিম মুচকি হাসলেন বললেন আল্লাহ আপনাকে মাফ করুন সেই রাতে হাজী সাহেব বাড়ি ফিরলেন হালকা বুকে আত্মা শান্ত পরদিন সকালে মাওলানা ইউসুফ আবার বললেন কুরবানি কবুলের শর্ত কি তিনি বললেন নিয়ত পরিষ্কার হতে হবে লোক দেখানো কুরবানী কবুল হয় না কুরবানি শুধু রক্ত ঝরানো নয় এটি তাকওয়ার প্রকাশ আল্লাহ পশুর গোস্ত বা রক্ত দেখেন না তিনি দেখেন তোমার মনের তাকওয়া| কুরবানির মাধ্যমে ইসলাম সমাজে ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা দেয় গরীব ধনী উঁচু নিচু কুরবানির দস্তরখানের সবাই এক মাওলানা ইউসুফ বললেন যে কুরবানি দেয় সে যেন মনে রাখে তিন ভাগের কথা যে নিজে খায় আর প্রতিবেশীকে ভুলে যায় সে প্রকৃত মুমিন নয় এই হলো কুরবানির প্রথম পাঠ আল্লাহর পথে দেওয়ার আনন্দ পরদিন ভোরে কারিম উঠলেন মনে একটাই চিন্তা আরো ভালো [মিউজিক] করতে হবে। কারিম ভাবলেন, আমার প্রতিবেশীরা কি সবাই ঠিকমত গোস্ত পেয়েছে? তিনি তার স্ত্রীকে বললেন, আরো কিছু গোস্ত আলাদা করো প্রতিবেশীদের জন্য। ইসলামে প্রতিবেশীর অধিকার অনেক বড়। সাত ঘর পর্যন্ত। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যার প্রতিবেশী না খেয়ে থাকে [মিউজিক] সে মুমিন নয়। কারিম সাতটি বাড়িতে গোস্ত পৌঁছে দিলেন এক এক করে। একটি বাড়িতে পৌঁছালেন সেখানে একজন অসুস্থ বৃদ্ধা একা [মিউজিক] থাকেন। বৃদ্ধা কাঁদতে কাঁদতে দোয়া করলেন আল্লাহ তোমাকে দুনিয়া ও আখেরাতে [মিউজিক] বারকাত দিন। কারিমির মন আনন্দে ভরে উঠলো। দেবার সুখ পাওয়ার চেয়ে বেশি। এদিকে গ্রামের আরেক প্রান্তে এক তরুণ কুরবানি দিতে পারিনি অভাবের কারণে। বিলাল মনে মনে ভাবলেন, আমি যদি সামর্থ্য রাখতাম, অবশ্যই কুরবানি দিতাম। মাওলানা ইউসুফ [মিউজিক] বললেন নিয়ত থাকলে আল্লাহ সওয়াব দেন সামর্থ্য না থাকলেও আল্লাহর নিয়তকে আমল হিসেবে গণ্য করেন| এটি ইসলামের মহান উদারতা সেদিন বিকেলে কারিম বিলালের দরজায় গেলেন হাতে গোশতের থালা বিলাল আর তার স্ত্রী সেদিন পেট ভরে খেলেন চোখে কৃতজ্ঞতার পানি কুরবানির গোশত বন্টনে যেন কোন বৈষম্য না হয় ধনী গরীব সবাই সমান হক তার একজন অমুসলিম প্রতিবেশীও দরজায় এলো তাকে তাকেও গোশত দেওয়া হলো। মাওলানা ইউসুফ বললেন, ইসলাম অমুসলিম প্রতিবেশীকেও মেহমান মানে। কুরবানির গোশত বিক্রি করা হারাম। এটি ইবাদতের অংশ, পণ্য নয়। মাওলানা সাহেব তাকে সরিয়ে দিলেন। বললেন, এটি আল্লাহর জন্য দেওয়া, বিক্রির জন্য নয়। কুরবানির চামলাও সাদকা করতে হবে। বিক্রি করলে সেই টাকা গরীবের হক। ঈদের দিন রহিমের পরিবার প্রথমবার পেট ভরে খেল। চোখে স্বপ্ন, মুখে হাসি। কুরবানি একটি [মিউজিক] সামাজিক ইবাদাত এটি পুরো উম্মাহকে একসাথে বাঁধে নামাজের পরে সবাই একে অপরকে জড়িয়ে ধরলেন ঈদের আলিঙ্গন হাজী সাহেব আবার মাওলানার কাছে গেলেন মনে একটা প্রশ্ন হাজী সাহেব জিজ্ঞেস করলেন আমার কুরবানী [মিউজিক] কি কবুল হবে আমি তো দেরিতে দিয়েছিলাম মাওলানা বললেন যে তওবা করে এবং শুধরে নেয় আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন হাজী সাহেব সেজদায় পড়ে গেলেন কাঁদতে কাঁদতে তওবা করলেন সেই রাতে হাজী সাহেব প্রতিজ্ঞা করলেন, আগামী বছর থেকে সবার আগে গরিবের কথা ভাববো। কুরবানীর আসল শিক্ষা, নিজের ভেতরের পশুকে জবাই করো। হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম এর ত্যাগের কথা মনে করুন। [মিউজিক] তিনি পুত্রকে কুরবানী দিতে রাজি হয়েছিলেন। আল্লাহ তার ত্যাগ দেখলেন। পুত্রের বদলে জান্নাত থেকে দুম্বা [মিউজিক] পাঠালেন। সেই স্মৃতিকে জীবিত রাখতেই প্রতিবছর কুরবানি। এটি ভালোবাসা ও আনুগত্যে প্রতীক। প্রতিটি কুরবানির পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই আল্লাহর দরবারে পৌঁছে যায়। মিসকিনের সংজ্ঞা বুঝতে হবে। মিসকিন সে নয় যে চেয়ে বেড়ায়। মিসকিন সে যে চাইতে পারে না কিন্তু অভাব তাকে কুড়ে কুড়ে খায়। এই মানুষগুলোকে খুঁজে বের করাই ধনীদের [মিউজিক] দায়িত্ব। গোস্ত বন্টনের সময় লজ্জা দেওয়া যাবে না। সম্মানের সাথে দিতে হবে। কুরবানির মৌসুমে যারা ভাগে অংশ নেন তাদের নিয়তও পরিষ্কার [মিউজিক] রাখতে হবে। শুধু গোস্ত নয় কুরবানির দিন আরো অনেক আমল আছে ঈদের রাতে মসজিদে বিশেষ দোয়ার আয়োজন হলো| সবাই একসাথে আল্লাহর কাছে মাফ চাইলেন| আকাশ থেকে রহমত নামে যখন বান্দারা একসাথে [মিউজিক] কাঁদে আল্লাহর কাছে| সেই রাতে হাজী সাহেব বাড়ি ফিরলেন সম্পূর্ণ নতুন মানুষ হয়ে| পরের দিন ভোরে গোটা গ্রাম যেন আলাদা এক আলোয়ে জেগে উঠলো কুরবানির এই তিনদিন শেষ হলো কিন্তু এর শিক্ষা সারা জীবনের জন্য কুরবানির পর গ্রামের মসজিদে এক বিশেষ দারস শুরু হলো কুরবানির গভীর [মিউজিক] তাৎপর্য নিয়ে। মাওলানা বললেন, কুরবানী শুধু একটি আমল নয়, এটি একটি জীবন দর্শন। যে কুরবানী দেয় এবং বন্টন করে সে আসলে নিজেই পুরস্কৃত হয়। সোয়াব কেবল গোশতে নয় মানুষের মুখে যে হাসি ফোটাও সেটাও ইবাদাত। হাজী সাহেব সেদিন রহিমের ঘরে গেলেন শুধু খোঁজ নিতে। রহিম বললেন আপনি আশায় আমার ঘর আলো হয়ে গেছে ইসলামের ধনীর সম্পদে গরীবের হক আছে এটি দান নয় এটি অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া| যে বছর কুরবানী দেওয়ার সামর্থ্য নেই সে বছর বেশি সাদকা করো বিলাল সেদিন তার ছোট্ট সঞ্চয় থেকে একটু সাদকা করলেন মন হালকা হয়ে গেল গ্রামে কুরবানির ঐতিহ্য প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসছে কারিমের ছেলে বাবাকে জিজ্ঞেস করল আব্বু কুরবানি কেন দেওয়া হয় কারিম বললেন এটি হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের ভালোবাসার স্মৃতি ব্যাটা ছেলেটি ঘুমিয়ে পড়ল স্বপ্নে দেখলো [মিউজিক] মরুভূমির সেই পাহাড় সেই দুম্বা কুরবানির শিক্ষা শিশুদের মধ্যে বপন করতে হবে ছোট থেকেই হাজী সাহেব ঠিক করলেন এই বছর থেকে গরীবদের তালিকা বানাবেন বিলাল ঠিক করলেন আগামী বছর যদি আল্লাহ দেন অবশ্যই কুরবানি দেবেন মাওলানা ইউসুফ বললেন কুরবানি তোমাকে মৃত্যুর কথা মনে করিয়ে দেয় প্রতিটি কুরবানি যেন বলে আমি তৈরি আছি যা চাও তাও আল্লাহ দিতে পারবো। গ্রামের ইমাম সাহেব বললেন, আখেরাতে এই কুরবানির পশু সাক্ষী হবে। কেয়ামতের দিন পুলসিরাত পার হতে সাহায্য করবে আজকের [মিউজিক] এই কুরবানি। তাই কুরবানি দাও কিন্তু সঠিকভাবে সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে। যে গরীবের কথা ভুলে যায় তার নামাজ রোজাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়। ইসলাম একটি সম্পূর্ণ জীবন [মিউজিক] ব্যবস্থা। ইবাদত ও সমাজসেবা আলাদা নয়। কুরবানির মাধ্যমে যে ভ্রাতৃত্ব তৈরি হয় তা বছরভর টিকিয়ে রাখতে হবে। এই গ্রামের গল্প কোন কল্পনা নয়। আমাদের চারপাশেও এমন মানুষ আছে। তোমার পাশের বাড়িতেও হয়তো একজন রহিম আছেন খুঁজে বের করো। কুরবানির এই শিক্ষা যদি মানুষ বুঝতো [মিউজিক] পৃথিবীতে ক্ষুধার্থ কেউ থাকতো না। মাওলানা ইউসুফ একটি শেষ কথা বললেন সবচেয়ে বড় কুরবানী হলো নাফসকে কুরবান করা। নাফসের কুরবানী মানে লোভকে বলো না। অহংকারকে [মিউজিক] ছুড়ে ফেলো। আর এই কুরবানি কোন পশুর দরকার নেই। শুধু দরকার সাহস। গল্পের শেষে রহিম একটি কথা বললেন এটি সবার বুকে [মিউজিক] বাঁচবে| রহিম বললেন আমি কখনো আল্লাহর উপর ভরসা ছাড়িনি| তিনি তার বান্দার মাধ্যমে পাঠিয়ে দেন| এই গ্রামের ঈদ শেষ হলো কিন্তু একটি নতুন অধ্যায় শুরু হলো মাওলানা ইউসুফ একটি শেষ দোয়া করলেন সবার জন্য হে আল্লাহ আমাদের কুরবানি কবুল করো আমাদের সম্পদে বরকাত [মিউজিক] দাও হে আল্লাহ আমাদের প্রতিবেশীর হক আদায় করার তৌফিক দাও এই ঈদুল আযহায় তুমি কি ঠিক করেছ কোন পরিবর্তন আনবে নিজের মধ্যে? কুরবানির গোশত শুধু পেট ভরায় না, হৃদয়ও পূর্ণ হয়। আর হাজী সাহেবের ঘরেও সেই রাতে শান্তির ঘুম নামলো। প্রথমবারের মতো। এই হল ইসলামের সৌন্দর্য। এটি শুধু ব্যক্তিকে নয় পুরো সমাজকে বদলে দেয়। আজকের এই গল্প তোমার জন্য। যদি কুরবানি দাও সঠিকভাবে দাও। যদি নাও দিতে পারো তবুও তোমার প্রতিবেশীকে ভুলো না। কুরবানির গোশত বন্টন করো। তিন ভাগে ভালোবাসায় আল্লাহর সন্তুষ্টিতে আল্লাহ তোমার কুরবানি কবুল করুন তোমার পরিবারে প্রতিবেশীতে [মিউজিক] উম্মাতে বরকত দিন ঈদ মোবারক আল্লাহ আমাদের সকলের কুরবানি কবুল করুন আমিন ভিডিওটি ভালো লাগলে লাইক দিন চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন শেয়ার করতে ভুলবেন না পরের ভিডিওতে কোন গল্প দেখতে চান কমেন্টে জানান

Need a transcript for another video?

Get free YouTube transcripts with timestamps, translation, and download options.

Transcript content is sourced from YouTube's auto-generated captions or AI transcription. All video content belongs to the original creators. Terms of Service · DMCA Contact

কুরবানীর গোশত কার হক? তিন ভাগের রহস্য জানলে চোখে পানি আসব...