আমরা তো সবাই কমবেশি তারাপীঠ মন্দিরে গিয়েছি। কিন্তু আপনি কি জানেন এই মন্দিরের পাশেই এমন একটি পবিত্র পুকুর আছে যার জলের ছোঁয়ায় একসময় মৃত মানুষও বেঁচে উঠতো। আর এই মন্দিরে আমরা মা তারার যে রূপটি দেখি তা কিন্তু তার আসল রূপ নয়। ভেতরে এমন এক শিলাম লুকিয়ে রয়েছে যার কথা শুনলে আপনি সত্যিই চমকে যাবেন। [মিউজিক] এই মন্দির তৈরি এবং মন্দিরের এমনই কিছু গায়ে কাটা দেওয়া রহস্য যা খুব কম মানুষই জানেন। চলুন আজ মনশুদ্ধির এই বিশেষ পর্বে তা জেনে নেওয়া যাক। ঘটনাটি বহু প্রাচীন। জয়দত্ত নামে এক বনিক বা সদাগর তার একমাত্র ছেলেকে নিয়ে দবারকা নদীপথে বাণিজ্যে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু যাত্রাপথে নেমে আসে চরম বিপদ। মাঝ নদীতে তার ছেলেকে এক বিষোধর সাপ ছোবল মারে। আর চোখের সামনেই ছেলেটি মৃত্যুর কোলে ঢলে [মিউজিক] পড়ে। শোকে পাগল প্রায় পিতা মৃত ছেলেকে দাহ করার জন্য নৌকা ভেড়ান নদীর তীরের এক মহা শ্মশানে। ঠিক সেই শ্মশানের পাশেই ছিল একটি ছোট পুকুর বা কুন্ড। নৌকার রাধুনি সেখানে একটি মরা [মিউজিক] মাছ ধুতে গেলে ঘটে এক অদ্ভুত অলৌকিক ঘটনা। জলের স্পর্শ লাগামাত্রই সেই মরা মাছ জ্যান্ত হয়ে হাত ফোসকে জলে সাঁতার কেটে চলে যায়। এই দৃশ্য দেখে চমকে ওঠেন সদাগর। তিনি বুঝতে পারেন এটি কোন সাধারণ জল নয়। তিনি কাল বিলম্ব না করে তার মৃত ছেলেকে [মিউজিক] সেই কুন্ডের জলে স্নান করিয়ে দেন। আর সবাইকে অবাক করে দিয়ে ছেলেটি দীর্ঘ ঘুম থেকে জেগে ওঠার মতো চোখ মেলে তাকায় এবং উঠে বসে। এই [মিউজিক] পবিত্র পুকুরটি হলো তারাপীঠের সেই বিখ্যাত জীবিত কুন্ড। ছেলের প্রাণ ফিরে পেয়ে সেই রাতেই সদাগর মহাশ্মশানে গভীর ধ্যানে [মিউজিক] বসেন। তখন স্বয়ং মা তারা তাকে স্বপ্নে দর্শন দিয়ে বলেন, আমি এই মহাশ্মশানেই মাটির নিচে শিল রূপে অবস্থান করছি। তুই আমাকে [মিউজিক] এখান থেকে তুলে এনে প্রতিষ্ঠা কর। মায়ের আদেশমতো পরদিন সকালে মাটি খুরতে শুরু করেন সদাগর। আর সেখান থেকেই উদ্ধার হয় মা তারার এক অদ্ভুত [মিউজিক] আদি শিলা। আমরা আজ মন্দিরে যে রূপ মুখাবরণ বা মুখোশ দেখি [মিউজিক] তার ঠিক পেছনেই রয়েছে মায়ের সেই আসল রূপ। এই মূর্তিতে মা কোন ভয়ঙ্করী রূপে নেই বরং সমুদ্র মন্থনের বিষ পান করার পর মহাদেবের জ্বালা জুড়াতে মা তাকে নিজের কোলে নিয়ে অত্যন্ত স্নেহের সাথে মাতৃরূূপে স্তন্ন পান করাচ্ছেন। এটিই [মিউজিক] মা তারার আসল শিলাম। জয়দত্ত সদাগর সেই মহা শসনেই মায়ের প্রথম মন্দির তৈরি করেন এবং পূজার সূচনা করেন। কালের নিয়মে সেই আদি মন্দির একসময় [মিউজিক] ধ্বংস হয়ে গেলেও 1818 সালে ঠিক সেই পবিত্র জীবিত কুন্ডের পাশেই মল্লারপুরের জমিদার জগন্নাথ রায় আজকের এই বিশাল মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ করেন। [মিউজিক] আজও লক্ষ লক্ষ মানুষ জীবিত কুন্ডের পবিত্র জল মাথায় ছুঁয়ে মায়ের আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন। মায়ের এই অজানা লীলা এবং তারাপীঠের এই পৌরাণিক রহস্য আপনাদের কেমন লাগলো তা কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। তারা মায়ের ভক্ত হলে ভিডিও লাইক করুন। এরকম আরো অনেক অজানা গল্প জানতে আমাদের বিশাল পরিবারের সাথে যুক্ত থাকুন। জয় মা তারা।
Get free YouTube transcripts with timestamps, translation, and download options.
Transcript content is sourced from YouTube's auto-generated captions or AI transcription. All video content belongs to the original creators. Terms of Service · DMCA Contact