ভয়াবহ কবর আজাব কুরআনে কেন নেই? পর্ব -৩

Only Quran Research 2,685 words

Full Transcript

সূরা আরাফের আট নাম্বার আয়াতে আল্লাহ বলেন হাশরের দিন ওজন হবে যথাযথ অতএব যাদের নেকির পাল্লা ভারী হবে তারাই সফলকাম সূরা আরাফ আয়াত নয় আর যাদের পাল্লা হালকা হবে তারাই হবে সেইসব লোক যারা নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে কারণ তারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করার মাধ্যমে জুলুম করেছিল সূরা মুমিনুন আয়াত 102 থেকে তিন আল্লাহ বলেন সেদিন যাদের পাল্লা ভারী হবে তারাই হবে সফলকাম এবং যাদের পাল্লা হালকা হবে তারাই নিজেদের ক্ষতি সাধন করেছে তারা জাহান্নামে চিরকাল বসবাস করবে সূরা আরাফের আট নয় সূরা মুমিনুনের 102 তিন চারটা আয়াতে পরিষ্কার হাশরের মাঠে পাপ-পূর্ণ নেকি বুধি ওজন করার পর যাদের পাল্লা ভারী হবে তারা সফল হবে অর্থাৎ তারা জান্নাতে যাবে আর যাদের পাল্লা হালকা হবে তারা চিরকালের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত তাদের আবাসস্থল হবে জাহান্নাম সূরা নাহল 111 নাম্বার আয়াতে আল্লাহ বলেন স্মরণ করো ওই দিনকে যেদিন প্রত্যেক ব্যক্তি আত্মপক্ষ সমর্থনের যুক্তি উপস্থাপন করতে আসবে এবং প্রত্যেককে তার আমলের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে আর তাদের প্রতি বিন্দুমাত্র জুলুমও করা হবে না সূরা মুমিনুনের 1023 সূরা আরাফের আট নয় সূরা নাহলের 111 নাম্বার আয়াত ভায়োলেট করে আল্লাহকে পাপ-পুণ্য নেকি বোধের ওজন করার আগেই মানুষের উপর জুলুম করতে পারেন তাকে শাস্তি দিতে পারেন তার উপর জুলুম করতে পারেন পারেন না শাস্তি শুরু হবে পাপ-পুণ্যের ওজনের পরে যদি পাপের পাল্লা ভারী হয় তখন থেকে আর সেই শাস্তি অনন্তকাল চলতে থাকবে সূরা জুমারের 42 নাম্বার আয়াতে আল্লাহ বলেন আল্লাহ মানুষের নফস আত্মা প্রাণ হরণ করেন তার মৃত্যুর সময় আর যে তার নিদ্রাকালে মৃত্যুর সময় যে মানুষের নফসকে মানুষের আত্মাকে মানুষের প্রাণকে কবজ করা হয় হরণ করা হয় সেই আত্মা বা প্রাণ কবরে কি আবার দিয়ে দেয়া হয় না সূরা তাকবীরের সাত নম্বর আয়াতে আল্লাহ পরিষ্কার করে বলে দিয়েছেন যখন দেহের সাথে আত্মাগুলোকে প্রাণগুলোকে আবার জুড়ে দেয়া হবে কোরআনে আল্লাহ পরিষ্কার করে বলে দিয়েছেন সূরা জুমারের 42 নাম্বার আয়াতে মৃত্যুর সময় মানুষের প্রাণকে হরণ করা হবে কবজ করা হবে আর সেই প্রাণকে হাশরের মাঠের দিন বিচারের দিন যখন কেয়ামত হবে তখন আবার এই প্রাণকে দেহের সাথে জুড়ে দেয়া হবে এই আয়াতকে ভালেট করে যারা বলেন যে না হাশরের মাঠে না কেয়ামতের সময় না তার আগেই মৃত্যুর পরেই কবরে পাঠানোর সাথে সাথেই তার দেহের সাথে তার আত্মাকে তার প্রাণকে জুড়ে দেয়া হবে তারা আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করেন তারা কোরআনের সাথে মিথ্যাচার করেন অনেকে বলেন কবরে রুহ দেয়া হবে কিন্তু রুহ তো প্রাণ নয় রুহ তো আত্মা নয় রুহ কি জিনিস সেটা তো আল্লাহ কোরআনেই বলে দিয়েছেন রুহ হচ্ছে আল্লাহর আদেশ রুহ আর প্রাণ আত্মা নফস পুরোপুরি ভিন্ন জিনিস সূরা ইনফিতার চার থেকে পাঁচ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ বলেন যখন কবরসমূহ উন্মোচিত হবে তখনও প্রত্যেকে জানতে পারবে সে যা আগে পাঠিয়েছে এবং যা পেছনে রেখে এসেছে প্রশ্ন হচ্ছে কবর উন্মোচিত হবে বলতে আল্লাহ কি বোঝালো মৃত্যুর সাথে সাথে মৃত ব্যক্তির জন্য এই চেনা পৃথিবী সম্পূর্ণরূপে অচেনা হয়ে যাবে কেয়ামতের আগ মুহূর্তে আল্লাহ যখন নফস গুলোকে আত্মাগুলোকে ছেড়ে দেবেন তখনই মানুষ পরকালের বাস্তবতা বুঝতে শুরু করবে এজন্য আল্লাহ আয়াতে বলেছেন তখন প্রত্যেকে জানতে পারবে কারণ ওই মৃত ব্যক্তির দেহে প্রাণ বা আত্মা প্রবেশ করালে সে জীবিত হয়ে উঠবে এবং পৃথিবীতে থাকা অবস্থায় সে যা আমল করতো যা কর্ম করতো তা কিয়ামত হওয়ার সাথে সাথে সে উপলব্ধি করতে পারবে মহান আল্লাহর কথা এটা পরিষ্কার যখন কবরসমূহ উন্মোচিত হবে উন্মোচিত হওয়ার পর তার দেহের সাথে আত্মাকে জুড়ে দেয়া হবে তখনই শেষ তার সমস্ত কিছু জানতে পারবে আল্লাহর কথায় এটাও প্রমাণ হয় যে পুনরায় কবর থেকে ওঠার আগ পর্যন্ত দেহ কবরেই থাকবে আর সে কিছুই জানতে পারবে না সূরা কাহাফের 47 নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন সেদিনের কথা চিন্তা করো যেদিন আমি পাহাড়কে চলমান করব এবং আপনি পৃথিবীকে দেখবেন একটা উন্মুক্ত প্রান্তর সেদিন মানুষকে আমি একত্রিত করব অতঃপর তাদের কাউকেই ছাড়বো না স্মরণ করো সেদিনের কথা যেদিন আমি পর্বতকে করব সঞ্চারিত এবং তুমি পৃথিবীকে দেখবে একটা শূন্য প্রান্তর সেদিন মানুষকে আমি একত্রিত করব এবং তাদের কাউকেই অব্যাহতি দেবো না তাহলে আল্লাহ এই আয়াতে পরিষ্কার করে বলে দিচ্ছেন কেয়ামতের পরে সকল মানুষকে তিনি একত্রিত করবেন তারপর কাউকেই তিনি ছাড়বেন না তার আগে কাউকে আলাদা আলাদাভাবে ধরবেন জবাবদিহি করবেন এমন কোন কথা কোরআনের কোথাও কি আছে কোথাও নেই সেদিন ভালো মানুষ খারাপ মানুষ সব ধরনের মানুষকেই আল্লাহ বিচারের মুখোমুখি করবেন আল্লাহ কি এই আয়াতে কবরের মধ্যে কাউকেই ছাড়বেন না বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন দেননি যদি কবরে শাস্তি দেওয়া হয় তাহলে তো সেদিন আসার পূর্বেই আল্লাহর কবরবাসীকে ধরে ফেললেন শাস্তিও দিয়ে দিলেন তাহলে আল্লাহ সেদিনের কথা বলে আবার কবরেও শাস্তি দেওয়ার জন্য আক্রমণ করবেন তার মানে কি আল্লাহ দুই রকম কথা বললেন মাজাল্লাহ সূরা কমারের সাত নাম্বার আয়াতে আল্লাহ বলেন সেদিন তারা অপমানে তাদের দৃষ্টি অবনত অবস্থায় কবর থেকে বের হয়ে আসবে মনে হবে যেন তারা বিক্ষিপ্ত পঙ্গপাল ভীতসংকিত চোখে তারা তাদের কবর থেকে বের হয়ে আসবে যেন তারা বিক্ষিপ্ত পঙ্গপাল সূরা মার এইজ আয়াত 43 থেকে 44 আল্লাহ বলেন সেদিন তারা কবর হতে বের হবে দ্রুত বেগে মনে হবে তারা কোন একটা লক্ষ্যস্থলের দিকে ধাবিত হচ্ছে তাদের দৃষ্টি হবে অবনমিত লাঞ্ছনা তাদেরকে আচ্ছন্ন করবে এটাই হলো সেই দিন যার ওয়াদা তাদেরকে দেয়া হয়েছিল সূরা কামারের সাত সূরা মারিজের 43 থেকে 44 এই তিনটা আয়াতেই প্রমাণ হয় নফস প্রাণ আত্মা দেহে আসার পর সেদিন আল্লাহ মানুষকে একত্রিত করবেন এবং সেদিনই অপরাধী মানুষগুলোকে লাঞ্ছনা আচ্ছন্ন করবে তারা অবনমিত হয়ে অপমান অবস্থায় তারা অবনমিত হয়ে লাঞ্ছিত অবস্থায় অপমানিত অবস্থায় নির্দিষ্ট লক্ষ্যস্থলের দিকে ছুটতে থাকবে যে দিনের ওয়াদা আল্লাহ আগেই করেছেন প্রশ্ন হচ্ছে তারা কোন দিন লাঞ্ছিত হবে অপমানিত হবে কবরে নাকি কেয়ামতে দেহে আত্মা কখন জুড়ে দেয়া হবে কবরে না কেয়ামতে কবরে শাস্তি দিলে সে কি লাঞ্ছিত হলো না অপমানিত হলো না এই তিনটা আয়াতে কি আল্লাহ কবরে অপমানিত হওয়ার লাঞ্ছিত হওয়ার কথা বলেছেন কবরে প্রশ্ন কবরে শাস্তি কবরে সাপ বিচ্ছুর কামড় হাতুড়ি দিয়ে পেটানো দুই পাশের মাটি দ্বারা চাপ দেয়ার ওয়াদা কি আল্লাহ করেছেন কোরআনে কোথাও নাকি শাস্তির ব্যাপারে সেই কেয়ামতের দ্বীনের ওয়াদা করেছেন সূরা হাক্কা 25 থেকে 27 আল্লাহ বলেন কিন্তু যার আমলনামা বাম হাতে দেয়া হবে সে বলবে হায় আমাকে যদি আমার আমলনামা না দেয়া হতো আর আমার হিসাব কি তা যদি আমি নাই জানতাম হায় দুনিয়ার মৃত্যুই যদি আমার শেষ মৃত্যু হতো এই আয়াতে পরিষ্কার অপরাধী মানুষ যারা তারা কিয়ামতে আফসোস করে বলবে যে আমার দুনিয়ার মৃত্যুই যদি শেষ মৃত্যু হতো যারা বলেন কবরে শাস্তি আছে তাদের ভাষায় বলি মৃত্যু শেষ হওয়া অর্থাৎ তাকে যদি কবর থেকে আর না উঠানো হতো তাহলে সে শান্তিতে বেঁচেই যেত এতেই বোঝা যায় যে তার কবরে থাকাটা তার জন্য ভালোই ছিল সে কবরে আজাবের মধ্যে থাকলে সে তো ভালো থাকতো না কবর আজাবে থাকলে সে তো এমন মন্তব্য করার সুযোগও পেত না কারণ কবরেও শাস্তি জাহান্নামেও শাস্তি কিয়ামতেও শাস্তি তাহলে সে কেন বলবে যে পৃথিবীর মৃত্যুই যদি আমার শেষ মৃত্যু হতো সুতরাং এই আয়াত দিয়ে পরিষ্কার বোঝা যায় কবরে তার কোন শাস্তি ছিল না তাই কিয়ামতে সে এই আফসোসটা করবে যে হায় পৃথিবীর মৃত্যুটাই যদি আমার শেষ মৃত্যু হতো সূরা নাবার 40 নাম্বার আয়াতে আল্লাহ বলছেন আমি তোমাদেরকে নিকটবর্তী শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করে যেদিন মানুষ দেখতে পাবে তার হাতগুলো আগেই কি আমল পাঠিয়েছে আর কাফেররা বলবে হায় আমি যদি মাটি হতাম তাহলে আমাকে আজকের এই আজাবের সম্মুখীন হতে হতো না আমি তোমাদেরকে আসন্ন শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করছি সেদিন মানুষ তার কৃতকর্ম প্রত্যক্ষ করবে যা তার দুই হাত আগেই পাঠিয়েছে আর কাফিররা বলতে থাকবে হায়রে হতভাগা আমি আমি যদি মাটি হয়ে যেতাম এই আয়াত বলা হয়েছে আমি তোমাদেরকে আসন্ন শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করছি সেদিন মানুষ তার আমল তার কৃতকর্ম নিজ চোখে দেখতে পারবে যা তার দুই হাত আগেই পাঠিয়েছে এই আয়াতে এই আসন্ন শাস্তি নিকটবর্তী শাস্তি কি কবরে না পরকালের শাস্তি জাহান্নামের শাস্তি তাহলে কবর আজাব সম্পর্কে না বলে আল্লাহ কেন সরাসরি পরকালের নিকটবর্তী শাস্তির কথা বললেন এর কারণ কবরে কোন শাস্তি নাই তাই কবর না বলে আল্লাহ সরাসরি পরকালের আসন্ন শাস্তির কথা বলেছেন এই আয়াত দ্বারা কি প্রমাণ হয় না যে কবরে কোন শাস্তি নাই এই আয়াতের আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই আয়াতে সূরা হাক্কার 25 থেকে 27 আয়াতের মতোই কাফেররা বলবে হায়রে হতভাগা আমি আমি যদি মাটি হয়ে যেতাম কেন কাফের ব্যক্তি মাটি হতে চাইবে কবরে যদি শাস্তি হতো তাহলে সে তো কবরের আজাবের ভয়ে তখন বলতো যে যদি আমি মাটি হয়ে যেতাম কিন্তু কবরে মৃত ব্যক্তি কি ঐরূপ কোন আফসোস করবে ঐরূপ কোন অনুশোচনা করবে করবে না সে ওই অনুশোচনা করবে হাশরের মাঠে কিয়ামতে আর যদি কবরে বসেই সেই আফসোস অনুশোচনা করতেন তাহলে আল্লাহ সেই কথাও আমাদেরকে জানিয়ে দিতেন যেমনটা দিয়েছেন সূরা নাবার 40 নাম্বার আয়াতে সূরা 99 নাম্বার আয়াতে আল্লাহ বলেন এমনকি যখন তাদের কারো কাছে মৃত্যু এসে হাজির হয় তখন সে বলে হে আমার রব আমাকে আবার প্রেরণ করো আমাকে আবার পাঠাও এমনকি যখন তাদের কারো কাছে মৃত্যু এসে হাজির হয় তখন সে বলে হে আমার প্রতিপালক আমাকে আবার দুনিয়াতে পাঠিয়ে দাও এই পৃথিবীতে আল্লাহকে আমরা খুব কমই রব বা প্রতিপালক বলি কিন্তু সেইদিন ঠিকই সবাই বলবে খেয়াল করুন মৃত্যুর সময় দুনিয়াতে পাঠাতে বলবে কবরের আজাব শুরু হলে দুনিয়াতে পাঠাতে বলবে না কারণ মানুষ বিচার দিবস জাহান্নাম ও ফেরেশতার কথা শুনলেও তা বাস্তবে কোনদিন চোখে দেখেনি এবং অনেকে বিশ্বাসও করে না কিন্তু মৃত্যুর সময় যখনই সেই প্রাণ কবজকারী জান কবজকারী ফেরেশতাগণকে দেখবে তখনই সে মনে করবে যে সবই তো সত্য তাই আত্মা বের হওয়ার আগেই সে বলে উঠবে আমাকে আরো কিছুকাল সময় দাও নেক আমল করবো সৎকর্ম করব যা আমি আগে করিনি যেমনটা আল্লাহ সূরা মুনাফিকুনের 10 নম্বর আয়াতে বলেছেন আমি তোমাদেরকে যা দিয়েছি তা থেকে মৃত্যু আসার আগেই ব্যয় করো অন্যথায় সে বলবে হে আমার পালনকর্তা আমাকে আরো কিছুকাল অবকাশ দিলে না কেন তাহলে আমি সাদকা করতাম দান করতাম আর নেক আমলকারীদের সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হতাম সুতরাং এই আয়াতে পরিষ্কার যে মৃত্যুর সময় পুনরায় পৃথিবীতে পাঠাতে বলবে কিন্তু কবরে শাস্তি থাকলে তো সেই শাস্তি দেখেই মৃত ব্যক্তির বলার কথা ছিল যে আমাকে পুনরায় পৃথিবীতে পাঠাও এই আয়াত দ্বারা প্রমাণ হয় যে কবরে শাস্তি নাই তাই সে কবরের আজাবের সময় পৃথিবীতে পাঠাতেও বলবে না যদি বলতেন তাহলে আল্লাহ তা আমাদের ঠিকই জানিয়ে দিতেন প্রশ্ন হচ্ছে মোল্লা মৌলভীরা কুরআন দ্বারা কবরের আজাবের ওয়াজ করে না কেন মোল্লা মৌলভীরা কুরআন দ্বারা কবর আজাবের কোন ওয়াজই করতে পারে না কারণ কবর আজাবের কথা আল্লাহ কোরআনের একটি আয়াতেও বলেননি আর এজন্যই কবর আজাব শোনানোর জন্য মিথ্যা হাদিস জাল হাদিস জয়ীফ হাদিস বানোয়াট হাদিসগুলোকেই তারা বেছে নিয়েছে আর এই সমস্ত হাদিস দ্বারাই কবরের আজাবের ওয়াজ করে তারা মানুষকে কবর আজাবের ভয় দেখিয়ে কবরে 99 টা সাপের ভয় দেখিয়ে মৃত ব্যক্তির নামে কুলখানি করে চার দিনের খাবার 40 দিনের খাবার সাত দিনের খাবার চল্লিসা ফাতেহা কুরআন খতম দোয়া দরুদ মিলাদ মাহফিল পড়িয়ে মানুষের পকেটের টাকা যেন হাতিয়ে নিতে পারে আর কোরআনের জ্ঞান না থাকাতে সাধারণ মানুষও তাদেরকে টাকা-পয়সা দিয়েও থাকে ভাবে যদি এতে কবর আজাব মাফ হয় আমার বা আমার বাপ-দাদের মোল্লা মৌলভী হুজুররা কোন উপায় না পেয়েই এটা করে থাকে কারণ তাদের জেনারেল শিক্ষার কোন সার্টিফিকেট না থাকায় তারা সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি পায় না কোন অফিস আদালতে চাকরি হয় না কোন কাজকর্ম শেখানো হয়নি বলে ইনকাম সোর্স কমে যায় তাই বড় হয়ে যখন টাকার প্রয়োজন হয় তখন সে নিরুপায় হয়ে অন্যদের মতো ইসলামকে পুঁজি করে পরনির্ভরশীল হয়ে চলতে থাকে এই মোল্লারা পবিত্র কোরআনের একটা আয়াত দ্বারাও কবরের আজাবের ওয়াজ করতে পারে না এর দ্বারা কি প্রমাণ হয় না যে কবরে কোন শাস্তি নাই তাই তারা কোরআন দিয়ে কবর আজাবের ওয়াজও এজন্য করতে পারে না সূরা হাজ্জ আয়াত সাত থেকে 10 আল্লাহ বলেন কিয়ামতের দিন আমি তাকে দহন যন্ত্রণা ভোগ করাবো আয়াত আট মানুষের মধ্যে এমন মানুষও আছে যার কাছে কোন জ্ঞান পথনির্দেশ কিংবা দিক নির্দেশনা প্রদানকারী কিতাব না থাকা সত্ত্বেও সে আল্লাহর ব্যাপারে বিতর্ক করে সে বিতর্ক করে ঘাড় বাঁকিয়ে মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে ভ্রষ্ট করার উদ্দেশ্যে তার জন্য রয়েছে দুনিয়াতে লাঞ্ছনা এবং কেয়ামতের দিন আমি তাকে দহন যন্ত্রণা আস্বাদন করাবো সেদিন তাকে বলা হবে এটা তোমার দুই হাত যা পূর্বে প্রেরণ করেছে তার কারণে আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তার বান্দাদের প্রতি জুলুম করেন না তাহলে সূরা হাজের সাত থেকে 10 নাম্বার আয়াতে কি প্রমাণ হলো আল্লাহ কখন দহন যন্ত্রণা ভোগ করাবেন কবরে না কিয়ামতে কি বলছেন আল্লাহ সাত নাম্বার আয়াতে আর কি আসবেই এতে কোন সন্দেহ নেই এবং কবরে যারা আছে নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের পুনরুত্থিত করবেন আর যখন পুনরুত্থিত করবেন তখন সূরা তাকবীরের সাত আয়াতে আল্লাহ বলে দিয়েছেন তখন দেহের সাথে এই আত্মাকে প্রাণকে জুড়ে দেয়া হবে সুতরাং যারা এইসব কোরআন বিরোধী বিষয় দিয়ে বিতর্ক করছেন তাদেরকে আল্লাহ সাবধান করে দিচ্ছেন আট নাম্বার আয়াতেই আর মানুষের মধ্যে এমন মানুষও আছে যারা আল্লাহ সম্পর্কে বিতর্ক করে কোন জ্ঞান ছাড়া কোন হিদায়েত ছাড়া কোন দীপ্তিমান কিতাব ছাড়া এই দীপ্তিমান কিতাব কিতাবে মুবিন এই কিতাব কোন কিতাব তিরমিজি সুনানে আবু দাউদ সুনানে নাসাঈ না সুনানে বুখারী নাকি পবিত্র আল কুরআন পরের আয়াতে আল্লাহ বলছেন সে বিতর্ক করে ঘাড় বাঁকিয়ে মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে ভ্রষ্ট করার উদ্দেশ্যে তার জন্য রয়েছে দুনিয়াতে লাঞ্ছনা আর কিয়ামতের দিন আমি তাকে দহন যন্ত্রণা আস্বাদন করাবো তাহলে আল্লাহ দহন যন্ত্রণা আস্বাদন করাবেন কখন কবরে না কিয়ামতের দিন সেদিন তাকে বলা হবে এটি তোমার দু হাত যা পূর্বে প্রেরণ করেছে তার কারণে এই সেদিন কোনদিন মৃত্যুর পর যেদিন কবরে রাখা হবে সেইদিন না কিয়ামতের দিন অবশ্যই নয় নাম্বার আয়াত থেকে পরিষ্কার কিয়ামতের দিন কেন আয়াতের শেষেই আল্লাহ বলে দিচ্ছেন কারণ আল্লাহ তার বান্দাদের প্রতি জুলুম করেন না হিসাব নিকাশ ছাড়া পাপ-পুণ্যের ওজন ছাড়া নেকির পাল্লা বদির পাল্লা মাপা ছাড়া আগেই যদি তাকে শাস্তি দিয়ে দেন তাহলে তো সেটা জুলুম হয়ে যায় সূরা আকাফ আয়াত 20 সেদিনের কথা স্মরণ করো যেদিন অবিশ্বাসীদেরকে জাহান্নামের সামনে উপস্থিত করা হবে তাদেরকে বলা হবে তোমরা তোমাদের ভালো জিনিসগুলো দুনিয়ার জীবনেই নিয়েছো এবং তা উপভোগ করে করেছো অতএব আজ তোমাদেরকে লাঞ্ছনাকর শাস্তির প্রতিফল দেয়া হবে কারণ তোমরা দুনিয়ায় অন্যায়ভাবে অহংকার করতে এবং আল্লাহর আদেশের বিরোধিতা করতে এই আয়াতে পরিষ্কার অবিশ্বাসীদের সেদিন জাহান্নামের সামনে উপস্থিত করা হবে তারপর বলা হবে আজ তোমাদেরকে লাঞ্ছনাকর শাস্তির প্রতিফল দেয়া হবে এই সেদিন কোন দিন এদিন কি কবরের দিন মৃত্যুর দিন না কিয়াম দিন অবশ্যই কেয়ামতের দিন সেদিনই তাদের লাঞ্ছনাকর শাস্তি দেয়া হবে এই আয়াতেও পরিষ্কার যে কেয়ামতের দিন শাস্তি শুরু তার আগে নয় সুতরাং যারা কোরআনের আয়াত অস্বীকার করে বলেন যে কবরে শাস্তি দেয়া হবে তাদের কাছে প্রশ্ন আল্লাহ যে এই আয়াতে স্পষ্ট করে বলেছেন আজ শাস্তি দেয়া হবে এই আজ বলতে কবে পরিষ্কার শব্দ আজ এই আজ বলতে কবে মৃত্যুর পর যেদিন কবরে রাখা হবে সেইদিন নাকি কেয়ামতের সেই দিনের কথা আল্লাহ বলেছেন আল্লাহ কেয়ামতের দিন কাফেরদেরকে বলবেন যে আজ তোমাদেরকে শাস্তি দেয়া হবে কাজেই শাস্তি সেদিনই দেয়া হবে সেদিন আসার আগে কবরে কোন শাস্তির কথা আল্লাহ বলেননি যারা বলে কবরে শাস্তি দেয়া হয় তারা আল্লাহর এই কথা বিশ্বাস করে না তারা বলে কবরে শাস্তি দেয়া হয় যারা বলে কবরে শাস্তি দেয়া হয় হয় তাদের কথার অর্থ দ্বারায় তারা আল্লাহর চেয়েও বেশি জানে সূরা হাক্কা আয়াত 30 থেকে 31 আল্লাহ বলেন তখন নির্দেশ আসবে ধরো ওকে ওর গলায় ফাঁস লাগিয়ে দাও বেড়ি পড়িয়ে দাও তারপর তাকে নিক্ষেপ করো জাহান্নামে সূরা হাক্কা আয়াত 32 ওকে শিকল দিয়ে বাঁধো 70 হাত দীর্ঘ এক শিকলে কবরে দুই পাশের মাটি দ্বারা চাপ দিয়ে শাস্তি নয় সাপ বিচ্ছুর কামড় দ্বারা শাস্তি নয় হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে শাস্তি নয় 70 হাত দীর্ঘ এক শিকলে বেঁধে গলায় বেড়ি পড়িয়ে সেই দিনই শাস্তি দেয়া হবে যেদিনের ওয়াদা আল্লাহ করেছেন সুতরাং এই আয়াত দ্বারা প্রমাণ হয় যে কবরে কোন শাস্তি নাই শাস্তি কিয়াম মতে শাস্তি পরকালে সূরা আহকাফ আয়াত 34 সেদিন আল্লাহ বলবেন শাস্তি ভোগ করো প্রশ্ন হচ্ছে আল্লাহ কোনদিন শাস্তি ভোগ করতে বলবেন কবরে নাকি কিয়ামতে সূরা আহকাফের 34 আয়াত দ্বারাও প্রমাণ হয় যে কবরে কোন শাস্তি নেই সূরা জারিয়াত 13 থেকে 14 সেদিন তারা অগ্নিতে প্রতিত হবে বলা হবে তোমরা শাস্তি ভোগ করো সেদিন তাদেরকে আগুনে পুড়িয়ে শাস্তি দেয়া হবে বলা হবে তোমরা তোমাদের শাস্তি ভোগ করো এটা হচ্ছে তাই যার জন্য তোমরা তাড়াহুড়া করেছিলে তাহলে সূরা জারিয়াতে 13 নাম্বার আয়াতে আল্লাহ যেই দিনের কথা বলেছেন সেই দিন কোন দিন মৃত্যুর পর যেদিন কবরে রাখা হয় সেইদিন নাকি কিয়ামতের দিন সূরাতুর আয়াত 13 আল্লাহ বলেন সেদিন ধাক্কা মেরে মেরে দিকে নিয়ে যাওয়া হবে সেদিন তাদেরকে জাহান্নামের আগুনের দিকে তাড়িয়ে নেয়া হবে ধাক্কাতে ধাক্কাতে খেয়াল করেছেন সেদিনই ধাক্কাতে ধাক্কাতে জাহান্নামের দিকে নেয়া হবে বারবার বলা হয়েছে সেদিনের শাস্তির কথা কবরে শাস্তির কথা আল্লাহ একবারও পবিত্র কুরআনে বলেননি সূরা নাবা আয়াত 39 এদিনটি সত্য সুনিশ্চিত অতএব যার ইচ্ছে হয় সে তার প্রতিপালকের দিকে আশ্রয় গ্রহণ করুক এদিনটি সত্য সুনিশ্চিত অতএব যার ইচ্ছে হয় সে তার প্রতিপালকের দিকে আশ্রয় গ্রহণ করুক এই দিন কোন দিন কবরের দিন না হাশরের মাঠের কেয়ামতের দিন প্রতিপালকের দিকে আশ্রয় গ্রহণ করতে বলেছেন আল্লাহ আর আল্লাহর দিকে আশ্রয় গ্রহণ করার একমাত্র উপায় হচ্ছে আল্লাহর নাযিলকৃত কিতাব আল কোরআন বুঝে বুঝে পড়া ও তার আমল করা সূরা কাফের 45 নাম্বার আয়াতে আল্লাহ বলেন এরা যা বলে আমি তা সবচেয়ে ভালো জানি আর তুমি তাদের উপর কোন জোর জবরদস্তিকারী নও সুতরাং যে আমার শাস্তিকে ভয় করে তাকে কোরআনের সাহায্যে উপদেশ দাও মহান আল্লাহ আমাদেরকে কোরআনের সাহায্যে উপদেশ গ্রহণ করার এবং উপদেশ দেয়ার তৌফিক দান করুক আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন

Need a transcript for another video?

Get free YouTube transcripts with timestamps, translation, and download options.

Transcript content is sourced from YouTube's auto-generated captions or AI transcription. All video content belongs to the original creators. Terms of Service · DMCA Contact

ভয়াবহ কবর আজাব কুরআনে কেন নেই? পর্ব -৩ - YouTube Transc...