কল্পনা করুন আপনি একদিন ঘুমিয়ে পড়লেন। যখন জেগে উঠলেন, তখন আপনার চারপাশের পৃথিবী সম্পূর্ণ বদলে গেছে। আপনার চেনা মানুষ কেউ আর বেঁচে নেই। আপনার পরিবার নেই, আপনার বন্ধু নেই, আপনার প্রতিবেশী নেই। শুধু তাই নয় আপনি যে মুদ্রা দিয়ে বাজারে কেনাকাটা করতেন সেই মুদ্রা এখন জাদুঘরে রাখার মত প্রাচীন জিনিসে পরিণত হয়েছে। আপনার শহরের রাস্তাঘাট বদলে গেছে, ঘরবাড়ি বদলে গেছে, মানুষের পোশাক বদলে গেছে, ভাষার ধরণ বদলে গেছে। আপনি মনে করছেন মাত্র একটি দিন বা আধা দিন ঘুমিয়েছেন। অথচ বাস্তবে 300 বছরেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে। অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে তাই না? কিন্তু এটি কোন রূপকথা নয়। কোন সিনেমার গল্প নয়। কোন মানুষের বানানো কাহিনী নয়। এটি স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনুল কারীমে বর্ণনা করেছেন। এটি সেই যুবকদের ঘটনা যারা নিজেদের ঈমান রক্ষা করতে গিয়ে সবকিছু ছেড়ে দিয়েছিলেন। ঘর, পরিবার, সম্পদ, সামাজিক মর্যাদা। তারা একটি অন্ধকার গুহার আশ্রয় নিয়েছিলেন। আর আল্লাহ তাআলা তাদের সাথে এমন এক বিশ্বয়কর ঘটনা ঘটালেন যা কিয়ামত পর্যন্ত মানুষের জন্য শিক্ষা ও নিদর্শন হয়ে থাকবে। এই ঘটনা শুনলে আপনার হৃদয় কেঁপে উঠবে। আপনি বুঝতে পারবেন আল্লাহর উপর ভরসা করলে তিনি কিভাবে তার বান্দাদের হেফাজত করেন। আপনি বুঝতে পারবেন ঈমানের পথে ত্যাগ স্বীকার করলে আল্লাহ কিভাবে তার প্রতিদান দেন। আপনি বুঝতে পারবেন আল্লাহর ক্ষমতার কাছে কোন কিছুই অসম্ভব নয়। না মৃত্যুর পরে পুনরুত্থান না শত শত বছর ঘুম পাড়িয়ে রাখা না কিয়ামতের দিন সকলকে আবার জীবিত করা। তাহলে আসুন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত জানি সেই অসাধারণ ঘটনা আসহাবে কাহাফের ঘটনা। বহু বহু বছর আগের কথা ঈসা আলাইহিস সালামের পরবর্তী সময়কাল। সেই যুগের রোমান সাম্রাজ্য ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী সাম্রাজ্যগুলোর একটি। রোমান সম্রাটরা ছিলেন মূর্তিপূজক। তারা বিভিন্ন দেব দেবীর পূজা করতেন এবং তাদের প্রজাদেরকেও এই মূর্তি পূজা করতে বাধ্য করতেন। যে কেউ মূর্তি পূজা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিত। যে কেউ এক আল্লাহর ইবাদতের কথা বলতো তাকে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হতো। সেই সময় একজন অত্যাচারী রাজা ছিলেন। তাফসীরবিদ্দের বর্ণনা অনুযায়ী তার নাম ছিল দাকিয়ানুস বা ডেসিয়াস। এই রাজা ছিল চরম মূর্তিপূজক এবং ঈমানদারদের প্রতি ছিল অত্যন্ত নির্দয়। সে তার রাজ্যের প্রতিটি মানুষকে মূর্তিপূজা করতে বাধ্য করত। যে কেউ এক ইলাহর কথা বলতো তাকে সে নির্মমভাবে হত্যা করত অথবা কঠিন শাস্তি দিত। সমগ্র রাজ্যে ভয় আর আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করত। মানুষ প্রকাশ্যে সত্য কথা বলতে ভয় পেত। যারা মনে মনে এক আল্লাহকে বিশ্বাস করত তারাও ভয়ে মুখ বুঝে থাকতো। এই শহরে মূর্তিপূজার উৎসব হতো। বিশাল বিশাল মূর্তি বানানো হতো। মন্দিরে মন্দিরে পশু বলি দেওয়া হতো মূর্তিদের সামনে। ধূপ জ্বালানো হতো। ফুল দেওয়া হতো। মূর্তিদের সামনে সেজদা করা হতো। আর রাজা দাকিয়ানুস নিজে এসব উৎসবে উপস্থিত থাকতো এবং খেয়াল করত কে মূর্তির সামনে মাথা নোয়াচ্ছে আর কে নোয়াচ্ছে না। এই শহরেই কিছু যুবক ছিলেন। তারা সাধারণ যুবক ছিলেন না। তারা ছিলেন সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। কোন কোন তাফসীরের বর্ণনা অনুযায়ী তারা ছিলেন রাজদরবারের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের সন্তান। রাজ পরিবারের সাথে সংশ্লিষ্ট। তাদের জীবনে কোন অভাব ছিল না। সম্পদ ছিল, মর্যাদা ছিল, সামাজিক প্রতিপত্তি ছিল। দুনিয়ার হিসেবে তাদের জীবন ছিল আরামদায়ক ও বিলাসবহুল। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাদের অন্তরে হেদায়েতের আলো জ্েলে দিলেন। তারা নিজেরাই চিন্তা করতে শুরু করলেন। এই মূর্তিগুলো কি সত্যিই কোন ক্ষমতা রাখে? এই পাথরের তৈরি জিনিসগুলো কি সত্যিই কারো উপকার বা ক্ষতি করতে পারে? মানুষ নিজের হাতে এগুলো বানায় তারপর এগুলো সামনে গিয়ে সেজদা করে। এটা কি যুক্তিসঙ্গত? এই আসমান কে বানিয়েছেন? এই জমিন কে সৃষ্টি করেছেন? সূর্য কে উদয় করেন? বৃষ্টি কে বর্ষণ করেন? এসব প্রশ্ন তাদের মনে ঘুরপাক খাচ্ছিল। আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারীমে তাদের সম্পর্কে বলেছেন, তারা ছিল কিছু যুবক যারা তাদের রবের প্রতি ঈমান এনেছিল এবং আমি তাদের হেদায়েত বাড়িয়ে দিয়েছিলাম। লক্ষ্য করুন আল্লাহ তাআলা এখানে ফিতিয়াহ শব্দ ব্যবহার করেছেন যার অর্থ যুবক। তারা বয়সে তরুণ ছিলেন। যৌবনের সেই সময় যখন সাধারণত মানুষ দুনিয়ার ভোগবিলাসে মত্ত থাকে। খেলাধুলায় আর আমদ প্রমোদে ব্যস্ত থাকে। ঠিক সেই সময় এই যুবকরা সত্যের সন্ধান খুঁজছিলেন। আল্লাহর একত্বের পথে নিজেদের উৎসর্গ করছিলেন। আর আল্লাহ বলেছেন, আমি তাদের অন্তরকে মজবুত করে দিলাম। যখন তারা দাঁড়িয়ে বলল, আমাদের রব হলেন আসমান সমূহ ও জমিনের রব। আমরা কখনোই তাকে ছাড়া অন্য কোন ইলাহকে ডাকবো না। তাহলে আমরা অবশ্যই সীমালঙ্ঘনকারী কথা বলব। কি অসাধারণ সাহস, কি অসাধারণ ভৃঢ়তা। একটি শহরে যেখানে রাজা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সবাই মূর্তি পূজা করছে সেখানে কিছু যুবক দাঁড়িয়ে ঘোষণা দিচ্ছেন আমাদের রব শুধু এক আল্লাহ আমরা তাকে ছাড়া আর কাউকে ডাকবো না আর তারা পরিষ্কার বলছেন যারা আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ইলাহ হিসেবে মানে তারা সীমা লঙ্ঘনকারী তারা ভুল পথে আছে তারপর তারা বললেন এরা আমাদের সম্প্রদায় এরা আল্লাহ ছাড়া অন্য ইলাহ গ্রহণ করেছে এরা কেন এদের ব্যাপারে স্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে আসে না সুতরাং সেই ব্যক্তির চেয়ে বড় জালেম আর কে যে আল্লাহর ব্যাপারে মিথ্যা রচনা করে। তারা যুক্তি দিয়ে কথা বলছেন। তারা বলছেন তোমরা যেসব মূর্তির পূজা করো এগুলো যে ইলাহ এর কি প্রমাণ আছে? কোন প্রমাণ নেই। সুতরাং যারা আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর ইবাদত করে তারাই সবচেয়ে বড় জালেম। কিন্তু এই ঈমানী ঘোষণার পরিণতি কি হতে পারে তা তারা ভালো করেই জানতেন। রাজা দাকিয়ানুস এমন কাউকে ছাড় দেয় না যে মূর্তিপূজা প্রত্যাখ্যান করে। তাদের ধরা পড়লে নিশ্চিত মৃত্যু অথবা এমন কঠিন শাস্তি যা মৃত্যুর চেয়েও ভয়ানক। তারা পরামর্শ করলেন। তারা চিন্তা করলেন তাদের সামনে দুটি পথ। হয় মূর্তিপূজা করে রাজার অনুগত থাকা এবং দুনিয়ার আরাম আয়েশে জীবন কাটানো নয়তো ঈমানের ওপর অটল থেকে সবকিছু ত্যাগ করা। তারা দ্বিতীয় পথটি বেছে নিলেন। তারা সিদ্ধান্ত নিলেন যে তারা এই শহর ছেড়ে চলে যাবেন। তারা কোন গুহায় আশ্রয় নেবেন। আল্লাহর উপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল করবেন। আল্লাহ তাদের রক্ষা করবেন। চিন্তা করুন এই যুবকরা সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। তারা বড় বড় প্রাসাদে থাকতেন। নরম বিছানায় ঘুমাতেন। উন্নত খাবার খেতেন। আর এখন তারা সেই সবকিছু ছেড়ে দিয়ে একটি অন্ধকার স্যাথ্যা গুহায় আশ্রয় নিচ্ছেন। শুধুমাত্র ঈমান রক্ষার জন্য। শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তারা ঘর ছাড়লেন পরিবার ছাড়লেন বন্ধু-বান্ধব ছাড়লেন সম্পদ ছাড়লেন সামাজিক মর্যাদা ছাড়লেন সবকিছু ছাড়লেন সাথে নিলেন শুধু আল্লাহর উপর ভরসা এবং নিজেদের ঈমান আর সাথে ছিল তাদের একটি কুকুর হ্যা তাদের সাথে একটি কুকুর ছিল এই কুকুরটি তাদের অনুসরণ করেছিল কোন কোন তাফসীরে এসেছে যে কুকুরটি ছিল একজন রাখালের যে তাদের পথে পেয়েছিল আবার কোন কোন বর্ণনায় এসেছে যে কুকুরটি তাদেরই ছিল শিকারী কুকুর। কুকুরটি তাদের সাথে সাথে চলল এবং গুহায়ও তাদের সঙ্গী হল। তারা শহর থেকে বের হয়ে পাহাড়ের দিকে রওনা দিলেন। অবশেষে তারা একটি গুহা খুঁজে পেলেন। এটি ছিল একটি প্রশস্ত গুহা। তারা সেই গুহায় প্রবেশ করলেন। তাদের কুকুরটি গুহার মুখে তার সামনের দুই পা প্রসারিত করে শুয়ে পড়ল। যেন একজন প্রহরীর মত পাহারা দিচ্ছে। তারা গুহায় ঢুকে আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন। তারা আল্লাহর কাছে রহমত চাইলেন। তারা আল্লাহর কাছে নিজেদের কাজকর্মের সুব্যবস্থা চাইলেন। তারা আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইলেন সেই জালিম রাজা ও তার কওমের অনিষ্ট থেকে। আর আল্লাহ তাআলা তাদের দোয়া কবুল করলেন। কিন্তু আল্লাহ তাদের দোয়া কবুল করলেন এমনভাবে যা তাদের কল্পনাতেও ছিল না। আল্লাহ তাদের জন্য এমন এক ব্যবস্থা করলেন যা ছিল সত্যিই অবিশ্বাস্য। সত্যিই বিশ্বয়কর। আল্লাহ তাআলা তাদের কানে পর্দা ফেলে দিলেন। অর্থাৎ আল্লাহ তাদের গভীর ঘুমে নিমজ্জিত করলেন। এমন ঘুম যে বাইরের কোন শব্দ তাদের কানে পৌঁছায় না। কোন ঝড়ের আওয়াজ, কোন পশুপাখির ডাক, কোন মানুষের কথা কিছুই তাদের ঘুম ভাঙ্গাতে পারবে না। আল্লাহ যতক্ষণ চান ততক্ষণ তারা ঘুমিয়ে থাকবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, অতঃপর আমি গুহায় তাদের কানে পর্দা ফেলে দিলাম বহু বছরের জন্য। বহু বছরের জন্য। এই কথাটি শুনে কি একটু থামতে হয় না? এই যুবকরা জানতেন না যে তাদের এই ঘুম হবে বহু বছরের ঘুম। তারা ভেবেছিলেন হয়তো কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবার জেগে উঠবেন। কিন্তু আল্লাহর পরিকল্পনা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখন প্রশ্ন হলো 300 বছরেরও বেশি সময় ধরে কিছু মানুষ একটি গুহায় ঘুমিয়ে আছে। তাদের শরীর কি নষ্ট হয়ে যাবে না? তাদের চামড়া কি পৌঁছে যাবে না? তাদের হাড়গোড় কি ক্ষয় হয়ে যাবে না? সাধারণ হিসেবে তো হওয়ার কথা। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাদের হেফাজতের জন্য কিছু অসাধারণ ব্যবস্থা করলেন যা তিনি নিজে কুরআনে উল্লেখ করেছেন। প্রথম ব্যবস্থা সূর্যের আলো ও তাপ থেকে সুরক্ষা। আল্লাহ তাআলা বলেন, তুমি সূর্যকে দেখবে যখন তা উদিত হয় তখন তাদের গুহা থেকে ডানদিকে সরে যায়। আর যখন তা অস্ত যায় তখন তাদের থেকে বাম দিকে কেটে যায়। অথচ তারা গুহার প্রশস্ত স্থানে রয়েছে। সুবহানাল্লাহ। আল্লাহ গুহার অবস্থান এমনভাবে নির্ধারণ করেছিলেন যে সূর্যের আলো সরাসরি তাদের শরীরে পড়তো না। সকালে সূর্য উদিত হলে রস গুহার ডান পাশ দিয়ে চলে যেত। আর সন্ধ্যায় সূর্য অস্ত যাওয়ার সময় রসী বাম পাশ দিয়ে চলে যেত। কিন্তু তারা গুহার এমন একটি প্রশস্ত জায়গায় ছিলেন যেখানে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করতো। এই ব্যবস্থার ফলে তাদের শরীরে সরাসরি সূর্যের তাপ পড়তো না। তাই তাদের শরীর শুকিয়ে যেত না বা পুড়ে যেত না। আবার সম্পূর্ণ অন্ধকারেও ছিল না। কিছুটা আলো ও বাতাস আসতো। তাই সেত সেতে পরিবেশে তাদের শরীর পচেও যেত না। আল্লাহ এরপর বলেন, এটা আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে একটি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দেন সেই হেদায়েত প্রাপ্ত। আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তুমি তার জন্য কোন পথপ্রদর্শনকারী অভিভাবক পাবে না। দ্বিতীয় ব্যবস্থা পাশ ফেরানো আল্লাহ তাআলা তাদের ঘুমের মধ্যে আরেকটি বিস্ময়কর ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি বলেন তুমি তাদেরকে জাগ্রত মনে করবে অথচ তারা ঘুমন্ত আমি তাদেরকে ডানদিকে ও বামদিকে পাশ ফিরিয়ে দিচ্ছিলাম কেউ যদি তাদের দিকে তাকাতো তাহলে মনে করতো তারা জেগে আছে ঘুমাচ্ছে না কারণ তাদের চোখ খোলা ছিল অথবা তাদের শরীরে এমন জীবন্ত ভাব ছিল যে দেখে মনে হতো তারা সজাগ আর আল্লাহ তাআলা তাদেরকে ডানদিকে ও বামদিকে পাশ ফিরিয়ে দিতেন। এটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যবস্থা। চিকিৎসাবিজ্ঞান আজ আমাদের জানিয়েছে যে কোন মানুষ যদি দীর্ঘ সময় একই পাশে শুয়ে থাকে তাহলে তার শরীরের যে অংশ মাটির সাথে লেগে থাকে সেই অংশে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। মাংসপেশি ক্ষয় হয়ে যায়। চামড়ায় ঘা হয়ে যায় এবং হাড়ে সমস্যা দেখা দেয়। আজকের হাসপাতালগুলোতেও দীর্ঘদিন শুয়ে থাকা রোগীদের নিয়মিত পাশ ফেরানো হয় যাতে এই সমস্যা না হয়। আল্লাহ তাআলা 1400 বছরেরও আগে কুরআনে এই বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তিনি নিজে তার অসীম ক্ষমতায় এই যুবকদের পাশ ফিল্লিয়ে দিতেন। কখনো ডানে, কখনো বামে যাতে তাদের শরীর সংরক্ষিত থাকে। তাদের মাংসপেশী অক্ষত থাকে। তাদের রক্ত চলাচল বজায় থাকে। তৃতীয় ব্যবস্থা কুকুরটির ভূমিকা। আল্লাহ বলেন, আর তাদের কুকুরটি গুহার মুখে তার দুই সামনের পা প্রসারিত করে বসে আছে। কুকুরটি গুহার প্রবেশদ্বারে ছিল। তার দুই সামনের পা ছড়িয়ে দিয়ে সে শুয়েছিল। ঠিক যেন একজন প্রহরী। এই কুকুরটিও আল্লাহর হুকুমে তাদের সাথে ঘুমিয়েছিল। কুকুরটি ছিল গুহার এক ধরনের পাহারাদার। কেউ যদি গুহার কাছে আসতো এবং ভেতরে কুকুরটিকে দেখতো তাহলে ভয় পেয়ে ফিরে যেত। আল্লাহ বলেন, তুমি যদি তাদের দিকে উঁকি দিতে তাহলে অবশ্যই পিছু হোটে পালিয়ে যেতে এবং তাদের ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়তে। অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা তাদের উপর এমন একটি ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছিলেন, যে কেউ সেই গুহার কাছে গেলেই ভয়ে পালিয়ে যেত। কেউ সাহস করতো না গুহার ভেতরে প্রবেশ করা বা তাদের কাছে যাওয়া। কি কারণে এই ভয় হতো? কেউ বলেন কুকুরটির কারণে, কেউ বলেন তাদের চেহারায় এমন একটি জ্যোতি ছিল যা দেখে মানুষ ভয় পেত। কেউ বলেন আল্লাহ তাআলা ফেরেশতা দ্বারা তাদের হেফাজত করতেন আল্লাহই ভালো জানেন। কিন্তু মূল বিষয় হলো আল্লাহ তাআলা 300 বছরেরও বেশি সময় ধরে এই যুবকদের এমনভাবে সংরক্ষণ করেছিলেন যে কোন মানুষ কোন প্রাণী কোন প্রাকৃতিক শক্তি তাদের কোন ক্ষতি করতে পারেনি। তাদের শরীর অক্ষুন্ন ছিল। তাদের চেহারা তাজা ছিল। তাদের কাপড় অক্ষুন্ণ ছিল। তারা ঠিক যেভাবেই ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। যখন এই যুবকরা গুহায় ঘুমিয়ে ছিলেন পৃথিবী থেমে থাকেনি। রাজা দাকিয়ানুস সম্ভবত তাদের খোঁজ করেছিল। সে হয়তো তাদের পরিবারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল কিন্তু তাদের কোন হদিস পায়নি। সময় গড়িয়ে গেল। রাজা দাকিয়ানুস মারা গেল। তারপরে আরেক রাজা এল সেও মারা গেল। প্রজন্মের পর প্রজন্ম এল চলে গেল। এই যুবকদের কথা মানুষ ভুলে গেল। তাদের পরিবারের সদস্যরা মারা গেলেন। তাদের বন্ধু-বান্ধব মারা গেলেন। তাদের চেনাজানা সকল মানুষ পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন। শত বছর পেরিয়ে গেল, 200 বছর পেরিয়ে গেল, 300 বছর পেরিয়ে গেল, সমাজ বদলে গেল, রাজ্যের শাসন ব্যবস্থা বদলে গেল। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে পরিবর্তন ঘটলো, সেই শহরে এখন আর মূর্তিপূজা হয় না। এখন এই শহরের মানুষ এক আল্লাহতে বিশ্বাস করে। একজন ঈমানদার রাজা এখন এই শহর শাসন করছেন। কিন্তু এই সময়ে মানুষের মধ্যে একটি বিতর্ক দেখা দিয়েছিল। সেই বিতর্ক ছিল মৃত্যুর পরে পুনরুত্থান নিয়ে। কিছু মানুষ বলছিল যে মৃত্যুর পরে মানুষ আবার জীবিত হবে। কিয়ামতের দিন সকলকে উঠানো হবে। আর কিছু মানুষ বলছিল এটা অসম্ভব। মরে গেলে মানুষ শেষ। হাড়গোড় পচে গেলে আবার কিভাবে জীবিত হবে? শুধু রুহ থাকবে। শরীর আর উঠবে না। এই বিতর্কের মীমাংসার জন্য আল্লাহ তাআলা আসহাবে কাহাফকে জাগ্রত করার সিদ্ধান্ত নিলেন। যাতে মানুষ বুঝতে পারে যে আল্লাহর পক্ষে মানুষকে মৃত্যুর পরে আবার জীবিত করা কঠিন কিছু নয়। তিনি যদি কিছু মানুষকে 300 বছর ঘুম পাড়িয়ে রাখতে পারেন এবং তারপর আবার জাগাতে পারেন তাহলে তিনি কিয়ামতের দিন সকল মানুষকেও জীবিত করতে পারবেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, এরপর আমি তাদেরকে জাগিয়ে তুললাম যাতে আমি জানতে পারি তাদের দুই দলের মধ্যে কোনটি তাদের অবস্থানকালের সঠিক হিসাব রাখতে পেরেছে। 309 বছর পরে আল্লাহ তাআলা তাদের ঘুম ভাঙ্গালেন। তারা জেগে উঠলেন। তাদের চোখ মেলে তাকালেন। তারা দেখলেন তারা একটি গুহার মধ্যে আছেন। তাদের মনে হলো যেন তারা সামান্য কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে ছিলেন। তারা পরস্পরকে জিজ্ঞেস করলেন তাদের মধ্যে একজন বলল তোমরা কতক্ষণ অবস্থান করেছ? তারা বলল আমরা একদিন বা একদিনের কিছু অংশ অবস্থান করেছি। সুবহানাল্লাহ। 309 বছর ঘুমিয়ে থেকেও তাদের মনে হচ্ছে মাত্র একটি দিন বা আধা দিন ঘুমিয়েছেন। তাদের শরীরে কোন পরিবর্তন হয়নি। তাদের চেহারায় বার্ধক্যের কোন ছাপ নেই। তাদের কাপড় আগের মতোই আছে। তাদের পেটে ক্ষুধা লেগেছে, যেমনটা একটি রাত ঘুমিয়ে উঠলে লাগে। সবকিছু তাদের কাছে স্বাভাবিক মনে হচ্ছে। কিন্তু তাদের মধ্যে কিছুটা সন্দেহও ছিল। কারণ তারা ঠিক নিশ্চিত হতে পারছিলেন না কতক্ষণ ঘুমিয়েছেন। তাই তারা বললেন, তারা বলল, তোমাদের রবই ভালো জানেন তোমরা কতক্ষণ অবস্থান করেছো। তারা নিজেদের মধ্যে এই বিতর্ক শেষ করে দিলেন। তারা বললেন, আমরা সঠিক সময় জানিনা আল্লাহই ভালো জানেন। এটি ছিল তাদের আদবের পরিচায়ক। যে বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন সে বিষয়ে তারা আল্লাহর কাছে সপর্দ করলেন। ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর স্বাভাবিকভাবেই তাদের ক্ষুধা লাগলো। তারা সিদ্ধান্ত নিলেন যে তাদের একজনকে শহরে পাঠাতে হবে খাবার কিনে আনার জন্য। তারা বললেন, এখন তোমরা তোমাদের একজনকে তোমাদের এই রুপার মুদ্রা দিয়ে শহরে পাঠাও। সে যেন দেখে কোন খাবার সবচেয়ে পবিত্র ও উত্তম। সেখান থেকে যেন তোমাদের জন্য খাবার নিয়ে আসে। আর সে যেন সতর্কতা অবলম্বন করে এবং কাউকে যেন তোমাদের ব্যাপারে জানতে না দেয়। এখানে কয়েকটি বিষয় লক্ষণীয়। এক, তাদের কাছে রুপার মুদ্রা ছিল। এই মুদ্রা ছিল 300 বছর আগের। তারা ভাবছিলেন এই মুদ্রা দিয়ে তারা স্বাভাবিকভাবেই খাবার কিনতে পারবেন। দুই তারা আজকা তামা বা সবচেয়ে পবিত্র খাবার খুঁজতে বললেন। কারণ সেই শহরে মূর্তিপূজকরা তাদের মূর্তির নামে পশু জবাই করতো এবং সেই মাংস বাজারে বিক্রি হতো। এই যুবকরা চাইছিলেন না যে তারা মূর্তির নামে জবাই করা কোন খাবার খান। তাই তারা পবিত্র ও হালাল খাবার খুঁজতে বললেন। তিন, তারা সতর্কতা অবলম্বন করতে বললেন। তারা ভয় পাচ্ছিলেন যে রাজা দাকিয়ানুস বা তার লোকজন তাদের খুঁজে বের করবে। তারা জানতেন না যে দাকিয়ানুস শত শত বছর আগে মারা গেছে। তারা বললেন, কারণ তারা যদি তোমাদের সম্পর্কে জানতে পারে তাহলে তারা তোমাদের পাথর মেরে হত্যা করবে অথবা তাদের ধর্মে মানে মূর্তিপূজায় ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। আর তাহলে তোমরা কখনোই সফল হবে না। তারা এখনো মনে করছেন যে বাইরে সেই পুরনো পরিবেশ রয়েছে। সেই মূর্তিপূজক রাজা রয়েছে। সেই জুলুম অত্যাচার চলছে। তাই তারা সতর্ক থাকতে চাইছেন। তাদের মধ্য থেকে একজনকে পাঠানো হলো শহরে। তিনি রুপার মুদ্রা নিয়ে রওনা দিলেন। গুহা থেকে বের হয়ে তিনি পাহাড় থেকে নামতে শুরু করলেন। যতই তিনি শহরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন ততই কিছু একটা অসঙ্গতি অনুভব করছিলেন। রাস্তাঘাট কেমন যেন বদলে গেছে। আগে যেখানে মাঠ ছিল সেখানে এখন ঘরবাড়ি। আগে যেখানে ঘর ছিল সেখানে হয়তো অন্য কিছু। মানুষের চেহারা অপরিচিত। তাদের পোশাক আলাদা ধরনের। কিন্তু তিনি ভাবলেন হয়তো তিনি ভুল রাস্তায় এসেছেন অথবা কিছু পরিবর্তন হয়েছে। তিনি শহরে প্রবেশ করলেন। তিনি একটি দোকানে গেলেন খাবার কিনতে। তিনি রুপার মুদ্রা বের করলেন এবং দোকানদারকে দিলেন। দোকানদার মুদ্রাটি হাতে নিয়ে অবাক হয়ে তাকালো। এই মুদ্রা তো 300 বছরের পুরনো। এমন মুদ্রা তো বহু আগে চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। দোকানদার মুদ্রাটি উল্টেপাল্টে দেখল। মুদ্রায় দাকিয়ানুস রাজার নাম ও ছবি খোদাই করা। এই রাজাতো শত শত বছর আগে মারা গেছে। দোকানদার জিজ্ঞেস করল তুমি কোথা থেকে এই মুদ্রা পেলে? তুমি কি কোন গুপ্তধন খুঁজে পেয়েছো? যুবকটি অবাক হলেন। তিনি বুঝতে পারছিলেন না দোকানদার কেন এত অবাক হচ্ছে। তিনি বললেন, এটা আমার নিজের টাকা। এতে অবাক হওয়ার কি আছে? আমি তো গতকালই এই শহরে ছিলাম। দোকানদার আরো বিস্মিত হলো। সে অন্যদের ডাকলো। খবর ছড়িয়ে পড়ল। মানুষ জড়ো হতে শুরু করল এই অদ্ভুত যুবকের চারপাশে যে 300 বছরের পুরনো মুদ্রা দিয়ে কেনাকাটা করতে এসেছে এবং দাবি করছে যে সে গতকালই এই শহরে ছিল। যুবকটি এই ভিড় দেখে ভয় পেলেন। তিনি ভাবলেন হয়তো তাকে চিনে ফেলেছে এবং রাজা দাকিয়ানুসের কাছে নিয়ে যাবে। তিনি পালানোর চেষ্টা করলেন। কিন্তু মানুষ তাকে ঘিরে ধরল। তারা তাকে শহরের শাসকের কাছে নিয়ে গেল। কিন্তু এই শাসক কোন মূর্তিপূজক ছিলেন না। তিনি ছিলেন একজন ঈমানদার শাসক। শাসকের কাছে যুবকটিকে আনা হলো। শাসক তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কে? কোথা থেকে এসেছো? এই পুরনো মুদ্রা তুমি কোথায় পেলে? যুবকটি তার পরিচয় দিলেন। তিনি তার বাবার নাম বললেন, তার পরিবারের নাম বললেন, তার ঠিকানা বললেন। কিন্তু সেই নামগুলো কেউ চেনে না। সেই পরিবারের কথা কেউ জানে না। সেই ঠিকানায় এখন অন্য মানুষ থাকে। যুবকটি বললেন, আমি এই শহরের বাসিন্দা। আমরা রাজা দাকিয়ানুসের অত্যাচার থেকে বাঁচতে কাল রাতে একটি গুহায় আশ্রয় নিয়েছিলাম। আজ আমার সাথীরা আমাকে খাবার কিনতে পাঠিয়েছে। মানুষ একে অপরের দিকে তাকালো। দাকিয়ানুস, সেই রাজা তো 300 বছরেরও আগে মারা গেছে। এই যুবক কি পাগল নাকি সত্যিই কিছু ঘটেছে। শাসক বুদ্ধিমান ছিলেন। তিনি বুঝতে পারলেন যে এখানে কোন সাধারণ ঘটনা ঘটেনি। তিনি যুবকটিকে বললেন, তুমি আমাদের সেই গুহায় নিয়ে চলো। যুবকটি রাজি হলেন। তিনি এবং শহরের অনেক মানুষকে নিয়ে গুহার দিকে রওনা দিলেন। পুরো শহর যেন নড়ে উঠলো। শত শত মানুষ সেই যুবকের পিছে পিছে গুহার দিকে ছুটলো। খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল। 300 বছর আগের কিছু মানুষ জীবিত আছে একটি গুহায়। তারা গুহার কাছে পৌঁছলেন। যুবকটি গুহার ভেতরে প্রবেশ করলেন। তিনি তার সাথীদের কাছে গেলেন। গুহার ভেতরে বাকি যুবকরা অপেক্ষা করছিলেন। তারা তাদের সাথীর জন্য চিন্তিত ছিলেন। তিনি যখন ফিরে এলেন তারা জিজ্ঞেস করলেন, কি হয়েছে? খাবার এনেছো? যুবকটি তাদের সবকিছু জানালেন। তিনি বললেন, ভাইয়েরা পৃথিবী বদলে গেছে। দাকিয়ানুস আর নেই। সেই মূর্তিপূজকরা আর নেই। এখন এই শহরে এক আল্লাহতে বিশ্বাসী মানুষ বাস করে। আর আমরা একদিন নয় 300 বছরেরও বেশি সময় ঘুমিয়েছিলাম। তাদের অবস্থা কেমন হয়েছিল সেই মুহূর্তে তা কল্পনা করুন। 300 বছর তাদের মা-বাবা নেই, পরিবার নেই, বন্ধু নেই, চেনা জানা কেউ নেই। তাদের জানা পৃথিবী আর নেই। সবকিছু বদলে গেছে। শহরের মানুষ গুহার বাইরে দাঁড়িয়েছিল। শাসক তাদের দেখলেন। তিনি এবং শহরের মানুষ বুঝতে পারলেন যে এটি আল্লাহর একটি মহান নিদর্শন। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে পুনরুত্থানের একটি জীবন্ত প্রমাণ হিসেবে দেখিয়ে দিলেন। আল্লাহ তাআলা এই ঘটনা ঘটিয়েছিলেন বেশ কয়েকটি উদ্দেশ্যে। আল্লাহ নিজে কোরআনে বলেছেন, এভাবে আমি তাদের অবস্থা মানুষদের জানিয়ে দিলাম যাতে তারা জানতে পারে যে আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য এবং কিয়ামতে কোন সন্দেহ নেই। এটিই ছিল সবচেয়ে বড় উদ্দেশ্য। মানুষকে প্রমাণ করে দেখানো যে পুনরুত্থান সত্য। মৃত্যুর পরে আবার জীবিত হওয়া সত্য। কিয়ামত সত্য। আল্লাহ যদি কিছু মানুষকে 300 বছর ঘুম পাড়িয়ে রেখে আবার জানাতে পারেন তাহলে তিনি কিয়ামতের দিন সকল মানুষকে কবর থেকে উঠিয়ে জীবিত করতেও পারবেন। এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। সেই সময় শহরে যে বিতর্ক চলছিল শরীরসহ পুনরুত্থান হবে কিনা সেই বিতর্কের চূড়ান্ত জবাব ছিল এই ঘটনা| আল্লাহ দেখিয়ে দিলেন হ্যাঁ শরীরসহই পুনরুত্থান হবে এই যুবকরা তো শরীরসহই 300 বছর পরে জেগে উঠেছে তাদের শরীর অক্ষত আছে তাদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ঠিক আছে তারা কথা বলতে পারছে চলাফেরা করতে পারছে এটাই প্রমাণ যে আল্লাহ চাইলে যেকোনো কিছু সম্ভব আল্লাহ তাআলা তাদের জাগ্রত করার উদ্দেশ্য পূর্ণ হয়ে গেল। মানুষ জেনে গেল যে পুনরুত্থান সত্য। যুবকরা জেগে ওঠার কিছুদিন পর কেউ কেউ বলেন সেই দিনই বা কিছুক্ষণ পর এই যুবকরা আবার মৃত্যুবরণ করলেন। আল্লাহ তাআলা তাদের রুহ কবজ করলেন। তারা এই দুনিয়া থেকে চিরবিদায় নিলেন। তাদের মৃত্যুর পরে মানুষের মধ্যে বিতর্ক শুরু হলো এদের সাথে কি করা হবে? কোথায় এদের দাফন করা হবে? কিভাবে এদের স্মৃতি সংরক্ষণ করা হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, তখন তারা নিজেদের মধ্যে তাদের বিষয়ে বিতর্ক করছিল। তখন কেউ বলল, তাদের উপর একটি ইমারত নির্মাণ করো। তাদের রব তাদের সম্পর্কে ভালো জানেন। যারা তাদের বিষয়ে জয়ী হলো তারা বলল, আমরা অবশ্যই তাদের উপর একটি মসজিদ নির্মাণ করব যাতে মানুষ এখানে এসে আল্লাহর ইবাদত করতে পারে এবং এই মহান ঘটনার কথা স্মরণ করতে পারে। এই কাহিনী শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়। এটি কেয়ামত পর্যন্ত প্রতিটি মুমিনের জন্য অনুপ্রেরণা ও শিক্ষার উৎস। আজকে এই পর্যন্তই। দেখা হবে পরবর্তী ভিডিওতে। আল্লাহ হাফেজ।
Get free YouTube transcripts with timestamps, translation, and download options.
Transcript content is sourced from YouTube's auto-generated captions or AI transcription. All video content belongs to the original creators. Terms of Service · DMCA Contact