কিয়ামত কবে হবে? 😳 পর্ব ১: দাজ্জালের আগমন | The Signs of Qiyamah | Bangla Islamic Story

ইমানের আলো2,158 words

Full Transcript

কিয়ামত এটি শুধু একটি শব্দ নয় এটি হলো মহাবিশ্বের সেই অন্তিম পরিণতি যার ওয়াদা স্বয়ং আল্লাহ করেছেন। আসুন আজ আমরা [মিউজিক] পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে সেই মহাদিবসের প্রতিটি মুহূর্তকে বিস্তারিতভাবে জানার চেষ্টা করি। আজ আমরা জানবো কেয়ামতের সেই চূড়ান্ত মুহূর্ত আসার আগে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি কি সতর্ক বার্তা দিয়ে গেছেন। অর্থাৎ কেয়ামতের আলামতগুলো কি কি? কেয়ামত কোন হঠাৎ ঘটে যাওয়া ঘটনা না। এর আগমনের আগে আল্লাহ পৃথিবীতে কিছু সুস্পষ্ট চিহ্ন পাঠাবেন যা জ্ঞানী ব্যক্তিদের জন্য হবে সতর্ক বার্তা। এই চিহ্নগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে ছোট আলামত এবং বড় আলামত। ছোট আলামতগুলো হল সেইসব ঘটনা যা কেয়ামতের অনেক আগে থেকেই শুরু হবে এবং ধীরে ধীরে বাড়তে থাকবে। আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আজ থেকে 1400 বছর আগেই এই আলামতগুলোর কথা বলে গেছেন। যার অনেকগুলোই আজ আমরা আমাদের চোখের সামনে ঘটতে দেখছি। এর মধ্যে প্রথম এবং সবচেয়ে আশ্চর্য আলামতটি হলো সময়ের বরকত উঠে যাওয়া। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেয়ামত ততক্ষণ পর্যন্ত হবে না যতক্ষণ না সময় খুব দ্রুত চলে যেতে শুরু করবে। তখন [মিউজিক] এক বছরকে মনে হবে এক মাসের সমান। এক মাসকে মনে [মিউজিক] হবে এক সপ্তাহের সমান। এক সপ্তাহকে মনে হবে একদিনের সমান। আর একদিনকে মনে হবে মাত্র এক ঘন্টা সময় সময়। একবার [মিউজিক] ভেবে দেখুন তো আমাদের বাবা-দাদারা বলতেন তাদের সময়ে দিনে অনেক কাজ করা যেত। সময় যেন শেষই হতো না। আর আজ আমাদের দিনগুলো চোখের পলকে শেষ হয়ে যাচ্ছে। সকাল শুরু হতে না হতেই রাত নেমে আসছে। সপ্তাহের পর সপ্তাহ মাসের পর মাস কিভাবে কেটে যাচ্ছে আমরা টেরও পাচ্ছি না। এটাই হল সময়ের বরকত উঠে যাওয়ার সেই ভয়ঙ্কর নিদর্শন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন কেয়ামতের আগে মানুষের নৈতিকতার চরম পতন ঘটবে। তিনি বলেছেন দ্বীনি জ্ঞান উঠিয়ে নেওয়া হবে এবং অজ্ঞতা বেড়ে যাবে। মানুষ দুনিয়ার জ্ঞানে হয়তো অনেক উন্নতি করবে কিন্তু হালাল হারাম ন্যায় অন্যায় এবং আল্লাহর পরিচয় সম্পর্কে তারা হয়ে যাবে চরম অজ্ঞ সমাজের নেতৃত্ব চলে যাবে অযোগ্য এবং মূর্খ লোকদের হাতে যারা পদের যোগ্য নয় তারাই হবে নেতা হত্যা এবং রক্তপাত এতটাই সাধারণ হয়ে যাবে যে হত্যাকারী জানবে না সে কেন হত্যা করছে আর নিহত ব্যক্তিও জানবে না তাকে কেন হত্যা করা হলো লজ্জা উঠে যাবে। [মিউজিক] ব্যভিচার এবং অশ্লীলতা সমাজে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়বে। [মিউজিক] নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মানুষ পশুর মত প্রকাশ্যে রাস্তায় দাঁড়িয়ে খারাপ কাজে লিপ্ত হবে। মানুষ তার বাবা-মায়ের অবাধ্য হবে এবং স্ত্রীর কথা মত চলবে। বন্ধুর সাথে ভালো ব্যবহার করবে কিন্তু বাবার সাথে করবে দুর্ব্যবহার। সন্তান তার মায়ের জন্য কষ্টের কারণ হবে এবং মানুষ তার প্রতিবেশীর হক নষ্ট করবে। এই প্রতিটি কথাই আজ আমরা আমাদের সমাজে কম বেশি দেখতে পাচ্ছি। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু অর্থনৈতিক এবং প্রাকৃতিক নিদর্শনের কথাও বলেছেন। সুদ এবং হারাম উপার্জন এতটাই ছড়িয়ে পড়বে যে যে ব্যক্তি সরাসরি সুদ খাবে না তার কাছেও সুদের প্রভাব কোন না কোন ভাবে পৌঁছাবে। মানুষের হাতে এত সম্পদ আসবে যে যাকাত দেওয়ার জন্য লোক খুঁজে [মিউজিক] পাওয়া যাবে। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন তোমরা যখন দেখবে খালি পায়ে খালি গায়ে থাকা বকরির রাখালেরা উঁচু উঁচু দালান তৈরিতে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করছে তখন তোমরা কেয়ামতের জন্য অপেক্ষা করো। আজ [মিউজিক] আরব দেশগুলোর দিকে তাকালে এই হাদিসের বাস্তবতা আর ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন হয় [মিউজিক] না। তিনি বলেছেন কেয়ামত ততক্ষণ পর্যন্ত হবে না যতক্ষণ না আরবের মরুভূমি আবার সবুজ [মিউজিক] মাঠ এবং নদ নদীতে পরিণত হবে। বিজ্ঞানীরা আজ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দেখছেন যে আরবের জলবায়ু ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হচ্ছে। এই ছোট আলামতগুলো হলো সেই মহাপ্রলয়ের আগে বেজে ওঠা সতর্ক ঘন্টা। এগুলো আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয় যে আমাদের হাতে সময় ফুরিয়ে আসছে। যখন কেয়ামতের ছোট আলামতগুলো পূর্ণ হয়ে যাবে এবং পৃথিবী পাপে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে তখন আল্লাহর হুকুমে প্রকাশ পেতে শুরু করবে সেই 10টি চূড়ান্ত এবং বড় আলামত। এই আলামতগুলো একবার শুরু হলে একটির পর একটি খুব দ্রুত ঘটতে থাকবে। ঠিক যেন একটা মালার সুতো ছিড়ে গেলে পুতিগুলো যেভাবে ঝড়ের বেগে ছড়ে পড়ে। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী সেই দশটি বড় আলামতের সর্বপ্রথম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ ফিতনাটি হবে দাজ্জালের আগমন। আজ আমরা জানবো এই ভয়ঙ্কর ফিতনাটির ব্যাপারে যার সম্পর্কে প্রত্যেক নবী তার উম্মতকে সতর্ক করে গেছেন। এটি হল সেই একচোখা মিথ্যাবাদী দাজ্জালের কাহিনী। দাজ্জাল হবে মানুষেরই একজন। সে হবে একজন যুবক, যার শরীর হবে বিশাল এবং শক্তিশালী এবং তার গায়ের রং হবে লালচে। তার চুল হবে কোকড়ানো এবং ঘন। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী তার সবচেয়ে বড় এবং সুস্পষ্ট চিহ্ন হলো সে হবে এক চোখা কানা। তার ডান চোখটি হবে একটি আঙ্গুরের মত ফোলা এবং নষ্ট। অর্থাৎ তার একটি চোখ থাকবে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয়। তার চেয়েও বড় চিহ্ন হলো তার দুই চোখের মাঝখানে কপালে লেখা থাকবে কা র অর্থাৎ কাফির এই লেখাটি প্রত্যেক ঈমানদার ব্যক্তি সে পড়ালেখা জানুক বা না জানুক স্পষ্ট দেখতে পাবে এবং এক মুহূর্তেই বুঝতে পারবে যে সেই সেই অভিশপ্ত মিথ্যাবাদী দাজ্জাল কিন্তু যারা কাফির বা মুনাফিক তারা এই লেখাটি দেখতে পাবে না এবং চিনতেও পারবে না হাদিসে এসেছে যে দাজ্জাল বর্তমানে কোন এক অজানা দ্বীপে লোহার চিকল দিয়ে বন্দি অবস্থায় আছে এবং সে আল্লাহর পক্ষ থেকে মুক্তি পাওয়ার আদেশের জন্য অপেক্ষা করছে। দাজ্জাল কোন স্বাভাবিক সময় পৃথিবীতে আসবে না। তার আগমনের ঠিক আগে পৃথিবী এমন এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাবে যা মানবজাতি আগে কখনো দেখেনি। আল্লাহর হুকুমে একটা না তিন বছর পৃথিবীতে এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দিবে। প্রথম বছর আকাশ তার এক তৃতীয়াংশ বৃষ্টি আটকে রাখবে এবং জমিন তার এক তৃতীয়াংশ ফসল উৎপাদন বন্ধ করে দিবে। মানুষ কষ্টে পড়ে যাবে কিন্তু তারা কোনভাবেই টিকে থাকবে। দ্বিতীয় বছর আকাশ তার দুই তৃতীয়াংশ বৃষ্টি আটকে রাখবে এবং জমিন তার দুই তৃতীয়াংশ ফসল উৎপাদন বন্ধ করে দিবে। পৃথিবীর অবস্থা আরো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে। খাবারের অভাব তীব্র থেকে তীব্রতর হবে। মানুষ ক্ষুধায় কাতর হয়ে একে অপরের দিকে তাকাবে কিন্তু সাহায্য করার মত কিছুই থাকবে না। আর তৃতীয় বছর আকাশ থেকে এক ফোঁটাও বৃষ্টি পড়বে না এবং জমিনে একটিও সবুজ ঘাস জন্মাবে না। পৃথিবীর সকল পশুপাখি খাবারের অভাবে মারা যাবে। মানুষ ক্ষুধার যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকবে। খাবারের জন্য এক ফোঁটা পানির জন্য তারা হাহাকার করবে। বাবা তার ক্ষুধার্থ সন্তানের [মিউজিক] মুখের দিকে তাকিয়ে চোখের পানি ফেলবে। কিন্তু তার মুখে তুলে দেওয়ার মত [মিউজিক] এক টুকরো রুটিও খুঁজে পাবে না। মানুষের ঈমান তখন সবচেয়ে দুর্বল এবং ভঙ্গুর অবস্থায় থাকবে। ঠিক সেই চরম অসহায় এবং হতাশার মুহূর্তেই মানুষের সামনে মুক্তিদাতা হিসেবে আগমন ঘটবে দাজ্জালের। তার সাথে থাকবে ইসফাহানের 70 হাজার ইহুদি। যাদের পরণে থাকবে সবুজ চাদর। সে সিরিয়া ও ইরাকের মধ্যবর্তী একটি স্থানে এসে আত্মপ্রকাশ করবে এবং সারা পৃথিবীতে বিপর্যয় ছড়াতে শুরু করবে। তার ক্ষমতা হবে অনিকল্পনীয়। যা দেখে সাধারণ মানুষের চোখ ধাঁধিয়ে যাবে এবং দুর্বল ঈমানদারদের পা কেঁপে যাবে। সে এমন এক গ্রামে যাবে যেখানে মানুষ দুর্ভিক্ষে ও অনাহারে মারা যাচ্ছে। সে তাদের সামনে গিয়ে দাঁড়াবে এবং বলবে শোনো তোমাদের যদি আমি আকাশ থেকে বৃষ্টি নামিয়ে দেই। তোমাদের এই শুকনো জমিনে যদি আবার সবুজ ফসল ফলাই তোমাদের মরে যাওয়া পশুপাখিগুলোকে যদি আবার জীবিত করে মোটা তাজা করে দেই তাহলে কি তোমরা আমাকে তোমাদের রব হিসেবে মেনে নেবে ক্ষুধার্থ তৃষ্ণার্থ এবং অসহায় মানুষগুলো যারা তাদের সন্তানদের চোখের সামনে মরতে দেখছে তারা হয়তো আর কোন উপায় না দেখে রাজি হয়ে যাবে তখন দাজ্জাল আকাশের দিকে তাকিয়ে বলবে বৃষ্টি দে আর সাথে সাথে সাথে আল্লাহর হুকুমে আকাশ থেকে ঝমঝম করে বৃষ্টি নামতে শুরু করবে। সে শুকনো মাটির দিকে তাকিয়ে বলবে, ফসল উৎপন্ন করো। আর সাথে সাথে সেই মৃত জমিন [মিউজিক] সবুজ ফসলে ভরে যাবে। তাদের মরে যাওয়া পশুপাখিগুলো হঠাৎ করে মোটাতাজা হয়ে যাবে এবং আগের চেয়েও বেশি দুধ দিতে শুরু করবে। এই অবিশ্বাস্য দৃশ্য দেখে সেই গ্রামের অনেক দুর্বল ঈমানদার মানুষেরা তাকেই তাদের প্রাণকর্তা এবং খোদা বলে মেনে নিয়ে সিজদায় লুটিয়ে পড়বে। তারা ঈমান হারিয়ে ফেলবে। তারপর সে অন্য এক এলাকায় যাবে যেখানে খাঁটি ঈমানদার মানুষেরা বসবাস করে। সে তাদেরও একই প্রস্তাব দিবে। কিন্তু ঈমানদার মানুষেরা তার কপালে লেখা কাফির শব্দটি স্পষ্ট দেখতে পাবে। তারা এক মুহূর্তেই তাকে চিনে ফেলবে। তারা ভয় না পেয়ে তার চোখের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে বলবে তুই মিথ্যাবাদী তুই সেই এক চোখা দাজ্জাল যার ব্যাপারে আমাদের নবীজি আমাদের সতর্ক করে গেছে আমাদের রব একমাত্র আল্লাহ যিনি কোন কিছুর মুখাপেক্ষী নন তাদের এই উত্তরে দাজ্জাল ক্রোধে ফেটে পড়বে সে বলবে ঠিক আছে তাহলে তোরা তোদের আল্লাহকে নিয়ে থাক দেখি তোদের আল্লাহ তোদের কিভাবে বাঁচায় এই বলে সে সেখান থেকে চলে যাবে আর যাওয়ার সাথে সাথেই আল্লাহ আল্লাহর হুকুমে সেই ঈমানদারদের সকল সম্পদ ধ্বংস হয়ে যাবে। তাদের সবুজ ফসল চোখের সামনে শুকিয়ে কালো হয়ে যাবে। তাদের পশুপাখি হারা যাবে। তারা চরম দারিদ্র এবং কষ্টের মধ্যে পড়ে যাবে। কিন্তু তবুও তারা আল্লাহর উপর ঈমান হারাবে না। তারা ক্ষুধায় কষ্ট পাবে। কিন্তু কুফরি করবে না। দাজ্জালের সাথে থাকবে দুটি নদী। একটি দেখতে হবে স্বচ্ছ ঠান্ডা পানির নদী। আর অন্যটি দেখতে হবে দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকা আগুনের নদী। কিন্তু এটাই হবে তার সবচেয়ে বড় ধোঁকা। আমাদের প্রিয় নবীজি আমাদের সতর্ক করে বলেছেন, তোমরা যেটাকে পানির নদী দেখবে সেটাই আসলে জাহান্নামের আগুন। আর যেটাকে আগুনের নদী দেখবে সেটাই আসলে জান্নাতের শীতল পানি। তোমাদের মধ্যে যে কেউ সেই সময় পাবে সে যেন চোখ বন্ধ করে সে আগুনের নদীতে ঝাপ দেয়। কারণ সেটাই হবে ঠান্ডা ও মিষ্টি পানি। তার সাথে আরো থাকবে রুটির পাহাড় আর অপরূড়ান্ত খাবার। যে তার উপর ঈমান আনবে এবং তাকে রব বলে মেনে নেবে সে তাকে খাবার দেবে। আর যে তাকে অস্বীকার করবে সে তাকে ক্ষুধার্থ রাখবে। দাজ্জাল পৃথিবীর বুকে বিদ্যুৎ গতিতে ভ্রমণ করবে। বাতাসের গতিতে এক শহর থেকে আরেক শহরে যাবে। তার চলার গতি হবে এমন যেমন বাতাস মেঘকে উড়িয়ে নিয়ে যায়। মক্কা ও মদিনা ছাড়া পৃথিবীর এমন কোন জায়গা থাকবে না যেখানে সে প্রবেশ করবে না। কারণ মক্কা ও মদিনাকে পাহারা দেওয়ার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে সারিবদ্ধভাবে ফেরেশতারা নিযুক্ত থাকবেন। দাজ্জাল যখন দেখবে যে তার সকল অলৌকিক ক্ষমতা দিয়েও সে কিছু খাঁটি ঈমানদার বান্দাকে পথভ্রষ্ট করতে পারছে না। তখন সে ক্রোধে এবং অহংকারে উন্মাদ হয়ে যাবে। সে তার অনুসারীদের সামনে নিজের খোদাইকে চূড়ান্তভাবে প্রমাণ করার জন্য ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ ফিতনাটি ঘটানোর সিদ্ধান্ত নেবে। দাজ্জাল একজন ঈমানদার যুবককে দেখবে। তখন সে তার লক্ষ লক্ষ অনুসারীদের সামনে তাকে জিজ্ঞেস করবে, বলো, তুমি কি আমাকে তোমার রব হিসেবে মানো? সেই যুবক বিন্দু পরিমাণ ভয় না পেয়ে। লক্ষ লক্ষ মানুষের সামনে দাজ্জালের চোখের দিকে তাকিয়ে অত্যন্ত সাহসের সাথে চিৎকার করে উত্তর দেবে না তুই হলি সেই একচোখা মিথ্যাবাদী দাজ্জাল যার ব্যাপারে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সতর্ক করে গেছেন। এই কথা শুনে দাজ্জাল ক্রোধে ফেটে পড়বে। সে তার প্রহরীদের নির্দেশ দেবে যে একে ধরো এবং এর উপর অত্যাচার করো। সেই যুবকের উপর ভয়ঙ্কর অত্যাচার করা হবে। তার শরীরকে ক্ষতবিক্ষত করে দেওয়া হবে। এরপর দাজ্জাল তাকে আবার জিজ্ঞেস করবে, এবার কি তুই আমাকে রব মানবি? যুবকটি আরো দৃঢ় কন্ঠে উত্তর দেবে। তোর উপর আমার বিশ্বাস আরো বেড়ে গেছে যে তুই সেই মিথ্যাবাদী দাজ্জাল। তখন দাজ্জাল তার অনুসারীদের বলবে, দেখো আমি যদি একে এখন হত্যা করে আবার তোমাদের চোখের সামনে জীবিত করতে পারি তাহলেও কি তোমরা আমার খোদাই নিয়ে সন্দেহ করবে? তার অনুসারীরা চিৎকার করে বলবে, না আমরা কোন সন্দেহ করবো না। এরপর দাজ্জাল তার হাতে থাকা একটি বিশাল করা দিয়ে সেই যুবককে সবার সামনে মাথা থেকে পা পর্যন্ত চিড়ে দুই টুকরো করে ফেলবে। এরপর সে সেই দুই টুকরোর মাঝখান দিয়ে অহংকারের সাথে হেঁটে যাবে এবং তার অনুসারীদের বলবে, দেখো আমার ক্ষমতা। আমি আমার এই গোলামকে আবার জীবিত করবো। এই বলে সে সেই মৃত যুবকের দেহের দিকে তাকিয়ে বলবে, ওট। আর সাথে সাথেই আল্লাহর হুকুমে সেই যুবক হাসতে হাসতে কোন রকম ক্ষত ছাড়াই আবার জীবিত হয়ে উঠে দাঁড়াবে। দাজ্জাল তখন তাকে আবার জিজ্ঞাস করবে এবার তো তুই বিশ্বাস [মিউজিক] করিস যে আমি তোমার রব আমি তোর খোদা তখন সেই যুবক যার ঈমান এই অলৌকিক ঘটনা দেখার পর আরো হাজার গুণ বেড়ে গেছে। সে দাজ্জালের মুখের উপর চিৎকার করে বলবে আল্লাহর কসম আজ আমার বিশ্বাস আরো বেড়ে গেছে যে তুই সেই মিথ্যাবাদী দাজ্জাল। কারণ তোর এই ক্ষমতার কথাই তো আমাদের নবীজি বলে গিয়েছিলেন। তুই আজ আমার উপর যে ক্ষমতা খাটিয়েছিস এরপর তুই আর কোন মানুষের উপর এই ক্ষমতা খাটাতে পারবি না। এই কথা শুনে দাজ্জাল চূড়ান্তভাবে পরাজিত এবং অপমানিত হবে। সে ক্রোধে উন্মাদ হয়ে আবার তাকে হত্যা করার চেষ্টা করবে। কিন্তু সে আর তাকে মারতে পারবে না। [মিউজিক] তখন সে তাকে তার আগুনের নদীতে নিক্ষেপ করার নির্দেশ দেবে। বাহিরভাবে লোকেরা দেখবে যে যুবকটিকে আগুনে [মিউজিক] নিক্ষেপ করা হচ্ছে কিন্তু বাস্তবে সে নিক্ষিপ্ত হবে জান্নাতের শীতল বাগানে। আর এভাবেই সেই যুবক শাহাদাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা লাভ করবে এবং আল্লাহর কাছে সর্বশ্রেষ্ঠ শহীদদের একজন হিসেবে গণ্য হবে। এই ঘটনার পর দাজ্জাল আর কোন মানুষকে হত্যা করে জীবিত করার ক্ষমতা রাখবে না। তার সবচেয়ে বড় ধোকাটি ব্যর্থ হয়ে যাবে। কিন্তু সে তার বাকি ক্ষমতা দিয়ে পৃথিবীর বুকে ফিতনা ছড়াতেই থাকবে। এভাবে 40 দিন ধরে সে পৃথিবীর বুকে রাজত্ব করবে। কিন্তু এই 40 টি দিন সাধারণ দিনের মতো হবে না। তার প্রথম দিনটি হবে এক বছরের সমান লম্বা। দ্বিতীয় দিনটি হবে এক মাসের সমান লম্বা। তৃতীয় দিনটি হবে এক সপ্তাহের সমান লম্বা। এবং বাকি 37 টি দিন হবে আমাদের সাধারণ দিনের মতোই 24 ঘন্টা। সেই দীর্ঘদিনগুলোতে ঈমানদারদের উপর দাজ্জালের অত্যাচার চরমে পৌঁছাবে। তাদের না থাকবে কোন খাবার, না থাকবে কোন পানি। তখন আল্লাহর তাসবিহ অর্থাৎ সুবহানাল্লাহ। তাহলীল অর্থাৎ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং তাকবীর অর্থাৎ আল্লাহু আকবার পাঠ করাই তাদের জন্য খাবারের কাজ করবে। যখন ঈমানদারদের অবস্থা চরম পর্যায়ে পৌঁছাবে। যখন তারা বাঁচার জন্য আল্লাহর কাছে আকুল হয়ে প্রার্থনা করতে থাকবে। ঠিক সেই চূড়ান্ত মুহূর্তে আল্লাহর সাহায্য নেমে আসবে আসমান থেকে। কিভাবে হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের হাতে এই সর্বশ্রেষ্ঠ ফিতনার অবসান ঘটবে আর দাজ্জালের পতনের পর কিয়ামতের কোন বড় আলামতটিকে প্রকাশ পাবে পৃথিবীর ইতিহাসের এই চূড়ান্ত অধ্যায় এখনো বাকি। জানতে হলে পরের পর্বে ফিরে আসুন। ভিডিওটি লাইক করুন, শেয়ার করুন। আর পরবর্তী পর্বের জন্য চ্যানেলটি এখনি সাবস্ক্রাইব

Need a transcript for another video?

Get free YouTube transcripts with timestamps, translation, and download options.

Transcript content is sourced from YouTube's auto-generated captions or AI transcription. All video content belongs to the original creators. Terms of Service · DMCA Contact

কিয়ামত কবে হবে? 😳 পর্ব ১: দাজ্জালের আগমন | The Signs of...