হযরত ঈসা (আঃ) কে আসমানে তুলে নেওয়ার অলৌকিক ঘটনা।

Islamic Story's2,915 words

Full Transcript

একদিন হযরত মারিয়াম আলাইহিস সালাম তার পুত্র হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম কে [মিউজিক] ডেকে বললেন, বাবা আমার কিছু ফল খেতে ইচ্ছে করছে। তুমি যাও আমার জন্য কিছু ফল নিয়ে আসো। সেই সময় হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম এবং তার মা হযরত মারিয়াম আলাইহিস সালাম মরুভূমির মাঝে একটি নির্জন কুটিরে একাকী বসবাস করতেন। তাদের আশেপাশে কোন ঘরবাড়ি ছিল না। মায়ের আদেশে হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম ফল [মিউজিক] আনতে বেরিয়ে গেলেন। এদিকে হযরত মারিয়াম আলাইহিস সালাম কুটিরের সামনে দাঁড়িয়ে থেকে পুত্রের ফিরে আসার [মিউজিক] অপেক্ষা করতে লাগলেন। ঠিক এমন সময় মালাকুল মউত অর্থাৎ মৃত্যুর ফেরেশতা হযরত আজরাইল আলাইহিস সালাম তার সামনে এসে উপস্থিত [মিউজিক] হলেন। হযরত মারিয়াম আলাইহিস সালাম হযরত আজরাইল আলাইহিস সালামকে দেখে অত্যন্ত ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়লেন। আতঙ্কিত [মিউজিক] কন্ঠে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কে? কি উদ্দেশ্যে এখানে এসেছেন? তখন ফেরেশতা হযরত আজরাইল আলাইহিস সালাম বললেন, আমি মৃত্যুর ফেরেশতা আজরাইল। আল্লাহর নির্দেশে আমি আপনার প্রাণ গ্রহণ করতে এসেছি। দুনিয়াতে আপনার সময় শেষ হয়েছে। এখন আপনাকে পরপারে যাত্রার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। আজরাইল আলাইহিস সালামের কথা শুনে হযরত মারিয়াম আলাইহিস সালাম বিমর্শ হয়ে পড়লেন। অতঃপর শান্ত স্বরে বললেন হে মালাকুল [মিউজিক] মাউত আমাকে কিছু সময়ের জন্য অবকাশ দিন। আমি আমার প্রাণের চেয়েও প্রিয় পুত্রকে কিছু ফল আনতে বাগানে পাঠিয়েছি। অল্প সময়ের মধ্যেই সে [মিউজিক] ফিরে আসবে। দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার আগে আমি একবার তার সঙ্গে দেখা করতে চাই। বিদায়ের মুহূর্তে তাকে দুই চারটি উপদেশ দিতে চাই [মিউজিক] যেন সে আমার কথাগুলো হৃদয়ে ধারণ করতে পারে। হযরত মারিয়াম আলাইহিস সালাম মিনতি করে বললেন, অনুগ্রহ করে কিছুক্ষণ সময় অপেক্ষা করুন। সে ফিরে এলে এরপর আপনি আমার প্রাণ [মিউজিক] গ্রহণ করবেন। দুনিয়া থেকে চির বিদায় গ্রহণের পূর্বে তার সাথে একটিবার দেখা করে যেতে চাই এবং বিদায়ের প্রাক্কালে তাকে দুই চারটি উপদেশ বাণী শুনিয়ে দেওয়ার ইচ্ছে রাখি। অতএব সে ফিরে আসুক এরপরেই আপনি না হয় আমার জান কবজ করবেন। তখন মালাকুল মাউত আজরাইল ফেরেশতা বললেন হে ঈসার জননী আমার এই কাজে এক মুহূর্ত বিলম্ব করার ক্ষমতা নেই। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন প্রত্যেকটি প্রাণীর মৃত্যুর জন্য নির্ধারিত সময় নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন এবং সেই সময়ের মাঝেই তাকে মৃত্যুবরণ [মিউজিক] করতে হবে। অতএব একটু সময় এগিয়ে দেওয়া বা একটু সময় পিছিয়ে দেওয়া কোনটাই আমার ক্ষমতার আওতাধীন নয় আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের এই আদেশ অনুসারে আমাকে এখনই আপনার [মিউজিক] জান কবজ করতে হবে হযরত আজরাইল আলাইহিস সালামের এই কথা শুনে হযরত মারিয়াম আলাইহিস সালাম বললেন আমি মৃত্যুকে ভয় করি না এবং আমি আল্লাহর আদেশের অবাধ্য নই কিন্তু দুঃখের বিষয় শেষ মুহূর্তে পুত্রকে একটি কথাও বলে যেতে পারলাম না এবং তাকে একবারের জন্য দেখে যেতেও পারলাম না। যাই হোক আল্লাহ যা কিছু করেন সবকিছুই তিনি বান্দার মঙ্গলের জন্য করেন। এরপর তিনি তার জান কবজ করার জন্য হযরত আজরাইল আলাইহিস সালামকে অনুমতি দিলেন। অতঃপর ফেরেশতা আজরাইল আলাইহিস সালাম যথাসময়ে হযরত মারিয়াম আলাইহিস সালামের জান কবজ করে চলে গেলেন। তার প্রাণহীন দেহটি মাটিতে পড়ে রইল। কিছুক্ষণ পর হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম জঙ্গল থেকে কিছু ফল নিয়ে কুটিরে ফিরে এলেন এবং তিনি দেখলেন তার জননী মাটিতে শুয়ে আছেন। তিনি ভাবলেন হয়তো তার মা নিদ্রায় [মিউজিক] গিয়েছেন। তাই তাকে বিরক্ত করলেন না। অনেক সময় অতিবাহিত হওয়ার পর হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম তার মায়ের কোন সারা শব্দ না পেয়ে তাকে নাড়া দিলেন। [মিউজিক] তখন তিনি বুঝতে পারলেন তার মায়ের পবিত্র আত্মা তার দেহ মোবারক ত্যাগ করে পরপারে চলে গিয়েছে। হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম তার মায়ের এই রূপ হঠাৎ মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত হয়ে পড়লেন। মায়ের বিরহে তিনি অস্ত্র বিসর্জন দিতে লাগলেন। তার এই করুণ কান্না দেখে বোনের পশুপাখিরাও [মিউজিক] কেঁদে আকুল হয়ে গেল। এভাবে কিছু সময় অতিবাহিত হওয়ার পরে তিনি নিজেকে সামলে নিলেন এবং উপলব্ধি করলেন [মিউজিক] মায়ের দাফন-কাফনের কাজে মনোনিবেশ করা জরুরি। কিন্তু তিনি এমন এক জায়গায় থাকতেন যেখানে দূর-দূরান্তে কোন মানুষ থাকতো না। তাই তিনি তার মায়ের দাফন-কাফনের কাজে সহায়তা করার জন্য কতিপয় লোক অনুসন্ধানের জন্য বেরিয়ে পড়লেন। কিছুদূর পথ চলার পর কয়েকজন লোকের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হলো। তারা ঈসা আলাইহিস সালামের দিকেই আসছিলেন। তিনি তাদের কাছে তার মায়ের মৃত্যুর সংবাদ জানালেন এবং অনুরোধ করলেন আমার মায়ের দাফন কাফনের কাজে আমাকে একটু সাহায্য করুন। তারা হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের কথা শুনে বললেন, হে আল্লাহর নবী, আমরা মূলত মানুষ নই। আমরা আল্লাহর মনোনীত ফেরেশতা। আমরা আপনার মায়ের দাফন-কাফনের কাজে অংশগ্রহণ করার জন্য বেহেশত [মিউজিক] থেকে এসেছি। আমরা আপনার মা হযরত মারিয়াম আলাইহিস সালামের দাফন-কাফনের উপযোগী কাপড়, সুগন্ধি এবং আনুষাঙ্গিক জিনিসপত্র সঙ্গে নিয়ে এসেছি। অতঃপর হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম ফেরেশতাদেরকে নিয়ে তার মায়ের দাফন-কাফনের কার্য সম্পন্ন করলেন। মায়ের ইন্তেকালের কিছুদিন পর হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম বায়তুল মুকাদ্দাসে ফিরে আসেন। সেখানে কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পর আল্লাহ রাব্বুল আলামীন [মিউজিক] তার প্রতি ওহী নাযিল করলেন এবং তাকে নতুন শরীয়ত এবং ইঞ্জিল কিতাব দান করলেন। এরপর আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাকে আদেশ করলেন, হে ঈসা, তুমি তোমার এই নতুন শরীয়ত [মিউজিক] এবং ইঞ্জিল কিতাব অনুযায়ী মানুষকে দ্বীনের পথে আহ্বান করতে থাকো। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের আদেশ মোতাবেক একদিন হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম একটি জনসমাবেশে [মিউজিক] উপস্থিত হয়ে বললেন হে আল্লাহ তাআলার বান্দারা পূর্ববর্তী বিধান অনুসারে আমার নিকটে নতুন কিতাব এবং শরীয়ত নাযিল হয়েছে অতএব এখন থেকে [মিউজিক] তোমরা পুরাতন কিতাবের বিধান বর্জন করে নতুন কিতাবের হুকুম অনুযায়ী জীবন যাপন করার অঙ্গীকার গ্রহণ করো হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের মুখ থেকে এসব কথা শোনা মাত্রই অবাধ্য বনী ইসরাইল প্রচন্ড ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলো তারা বলল এতদিন আমরা তোমাকে একজন সৎ ও উত্তম মানুষ বলে মনে করতাম। কিন্তু [মিউজিক] এখন দেখছি তুমি সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে আমাদের পূর্বপুরুষদের ধর্ম নষ্ট করার ষড়যন্ত্র করছো। তোমার সাহস তো কম [মিউজিক] নয়। তুমি নিজে একটি নতুন শরীয়ত তৈরি করে আমাদের উপর তা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছো। শুনে রাখো আমরা তোমার এই ষড়যন্ত্র এবং তোমার পরিকল্পনা [মিউজিক] কখনোই সফল হতে দেবো না। যদি তুমি তোমার এই অসৎ পথ থেকে ফিরে না আসো তবে আমরা তোমাকে হত্যা করতে বাধ্য হবো। হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম এই কথা শুনে তাদেরকে বললেন, তোমরা আমাকে হত্যা করার ভয় দেখাচ্ছো। কিন্তু এটা আমার কাছে অতি তুচ্ছ ব্যাপার। জেনে রেখো আমি আল্লাহ তাআলার একজন মনোনীত নবী। সেই হিসেবে আল্লাহর নির্দেশ অনুসারে জাতিকে সত্য ও সঠিক পথে আহ্বান করা এবং তাদেরকে দ্বীনের দাওয়াত দেওয়া আমার একান্ত দায়িত্ব। অতএব আমি তোমাদেরকে এই সত্য পথ গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি। অন্যথায় তোমাদের উপর সেই রূপ আযাব নাযিল হবে যেরুপ ইতিপূর্বে অন্যান্য উম্মতের উপর নাযিল হয়েছিল। অতঃপর নবীর এই নতুন শরীয়তের কথা প্রচার হওয়ার সাথে সাথে বনী ইসরাইলদের মাঝে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা এবং সমালোচনা শুরু হলো। কিছু অবাধ্য লোক নবীর বিরোধিতায় মেতে উঠল। আবার কিছু লোক [মিউজিক] হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের নিকটে এসে কালিমা পড়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করল নবী তার অনুসারীদের সামনে অসংখ্য মোজেজা প্রদর্শন করলেন তার [মিউজিক] দেখানো মোজেজাগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করা জন্মগত অন্ধকে সুস্থ করে তোলা কুষ্ঠ রোগীকে আরোগ্য দান করা এবং মাটি দিয়ে পাখি তৈরি করে তাতে প্রাণ সঞ্চার করা নবীর এইসব আশ্চর্যজনক নিদর্শন দেখে বহু মানুষ সত্যের পথে ফিরে এলো তবে যারা একগুয়ে এবং দুর্ভাগা ছিল তারা এতসব স্পষ্ট প্রমাণ দেখেও নবীর বিরোধিতায় লিপ্ত রইল যখন নবীর বিরোধী বনী ইসরাইল হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে হত্যার ষড়যন্ত্র করতে লাগলো তখন তার অনুসারী মুসলিমগণ তাদের [মিউজিক] সতর্ক করে বললেন, তোমরা ইতিপূর্বে হযরত জাকারিয়া এবং হযরত ইয়াহিয়া আলাইহিস সালামকে হত্যা করেছ। আর এখন তোমরা হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে হত্যা করতে চাইছো। [মিউজিক] এটা জাতির জন্য একটি ভয়ানক এবং বিপদজনক তৎপরতা। তোমরা এই তৎপরতা ও ষড়যন্ত্র থেকে ফিরে আসো। হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম অবশ্যই আল্লাহর একজন খাস [মিউজিক] নবী। তিনি তোমাদের সামনে যে সকল মোজেজা প্রদর্শন করেছেন সেগুলো তার নবী হওয়ার প্রমাণের জন্য যথেষ্ট। অপর একদিন হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম একটি জনসমাবেশে উপস্থিত হয়ে বললেন, হে আল্লাহর বান্দারা আল্লাহ তাআলা হযরত মুসা আলাইহিস সালামকে শনিবার দিন ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন। আর তিনি আমাকে দিয়েছেন রবিবারের দিন। অতএব রবিবারের দিন তোমরা সকল কাজকর্ম ও ব্যবসা-বাণিজ্য পরিত্যাগ করে একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ইবাদত [মিউজিক] করবে। এই দিনে তোমরা আল্লাহ তাআলার কিতাব তিলাওয়াত করবে, মানুষকে সৎ কাজের আদেশ দেবে এবং মন্দ কাজ থেকে ফিরিয়ে রাখবে। কোনরূপ পার্থিব কাজে মনোনিবেশ করা যাবে না। এই হুকুম অমান্য করলে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তোমাদের উপর অসন্তুষ্ট হবেন এবং তোমাদের উপর তার শাস্তি, বিপদ আপদ এবং কঠিন আযাব আসার সম্ভাবনা [মিউজিক] বেড়ে যাবে। অতএব, হে বনী ইসরাইল সম্প্রদায় তোমরা আমার এই দাওয়াত কবুল করো এবং মনোযোগ সহকারে এই বিধানের উপর আমল করো। তিনি আরো বললেন হে বানি ইসরাইলের ভাইয়েরা আমি তোমাদেরকে আরো একটি সুসংবাদ দিতে চাই। তোমরা জেনে রাখো আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমার উপর যে কিতাব নাযিল করেছেন আমি তার হুকুম প্রতিষ্ঠিত করার জন্য দিন-রাত চেষ্টা চালিয়ে যাব। তবে আমার পর তোমাদের নিকটে আরো একজন [মিউজিক] মহান নবী আগমন করবেন। আমি তার সুসংবাদ তোমাদের কাছে রেখে যাচ্ছি। তার নাম হবে মোহাম্মদ। তিনি হবেন পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বশেষ নবী। যদি তোমাদের কেউ তার যুগে উপস্থিত থাকো তাহলে তোমরা অবশ্যই [মিউজিক] তার দ্বীন এবং ধর্ম গ্রহণ করবে। যে ব্যক্তি তার আনুগত্য করবে সে হবে সর্বাপেক্ষা সম্মানিত ব্যক্তি। তার উপর এক মহান কিতাব অবতীর্ণ করা হবে যার নাম হবে আল কুরআন। যে ব্যক্তি সেই কুরআন পাঠ করবে এবং তদনুযায়ী আমল করবে সে অসংখ্য সাওয়াব ও মর্যাদার অধিকারী হবে। তোমরা সেই নবীর প্রতি হৃদয়ের গভীর থেকে দরুদ ও সালাম পাঠ করবে। কেননা তিনি এমন একজন নবী যার প্রতি স্বয়ং আল্লাহ তাআলা এবং ফেরেশতারাও দরুদ পাঠ করেন। সেই নবীকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার হাবিব বা বন্ধু বলে [মিউজিক] আখ্যায়িত করেছেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যদি তাকে সৃষ্টি না করতেন তাহলে আসমান ও জমিন কিছুই সৃষ্টি করতেন না। অতএব তোমরা এর মাধ্যমে [মিউজিক] বুঝে নাও তার মান ও মর্যাদা কতটা উচ্চ। আমি একজন নবী হওয়া সত্ত্বেও সেই আখেরি নবীর একজন সাধারণ উম্মতের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার [মিউজিক] জন্য অত্যন্ত আগ্রহী। যদি আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমার এই প্রার্থনা কবুল করেন তাহলে আমি নিজেকে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান মনে করব। ধর্মদ্রোহী বনী ইসরাঈল হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের বক্তব্য শুনে বলল, এতো দেখছি হযরত মুসার শরীয়তকে বাতিল করে নিজে এক নতুন শরীয়ত প্রবর্তনের মাধ্যমে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্র করে চলেছে। এছাড়াও নতুন এক শ্রেষ্ঠ নবীর আগমনের কথা বলে আমাদেরকে তার দিকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে। আমরা এই দুরভিসন্ধির জাল ভেদ করে তার গোপন উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবগত হতে সক্ষম হয়েছি। অতএব দেশের বাদশার নিকটে তার এই ষড়যন্ত্রের কথা খুলে বলা উচিত। এমন অবস্থায় আমাদের [মিউজিক] আর বিলম্ব করা ঠিক হবে না। অতি সত্তর এই খবর বাদশাহকে জানিয়ে এর সমোচিত [মিউজিক] শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। তৎকালীন সময়ে বায়তুল মুকাদ্দাস এবং জেরুজালেম রাজ্যের বাদশা বনী ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে ছিল। বনী ইসরাইলের বাদশা হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম এবং তার অনুসারীদের ঘোর [মিউজিক] বিরোধী ছিল। বনি ইসরাইলদের মধ্যে যখন এরূপ চরম দ্বন্দপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হলো তখন সে হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম এবং তার [মিউজিক] অনুসারীদেরকে চিরতরে দুনিয়া থেকে মুছে দেওয়ার জন্য ধর্মদ্রোহীতায় লিপ্ত হলো। হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম এবং তার অনুসারীদেরকে কিভাবে দুনিয়ার জমিন থেকে চিরদিনের জন্য নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া যায় এই ব্যাপারে বাদশাহ একদিন একটি গোপন [মিউজিক] মিটিং ডাকলেন বাদশা সেই মিটিং বললেন তোমাদের পূর্বপুরুষদের ধর্মকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার জন্য যে লোকটি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে তাকে এবং তার অনুসারীদেরকে এই দুনিয়ার জমিন থেকে নিশ্চিহ্ন করা আমাদের একান্ত [মিউজিক] দায়িত্ব এবং কর্তব্য এরা নবীদের শত্রু এবং আল্লাহর শত্রু তোমরা নিশ্চিন্তে থাকো এই ব্যাপারে [মিউজিক] তোমাদের যত সাহায্য প্রয়োজন আমি সর্বোচ্চ সাহায্য করতে প্রস্তুত কারণ আমি জানি >> [মিউজিক] >> এদেরকে নিধন করা সাওয়াবের কাজ এবং এতে অংশগ্রহণ করতে পারলে নিজেকে ধন্য [মিউজিক] মনে করব। বাদশার উৎসাহ ও সমর্থনের পর সবাই সিদ্ধান্ত নিল হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম এবং তার অনুসারীদেরকে এই দুনিয়ার জমিন থেকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলতে হবে। সেই লক্ষ্যে তারা নবীকে হত্যা করার পরিকল্পনা গ্রহণ করল। পরের দিন থেকে তারা হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের প্রতি কঠোর নজরদারী শুরু করল। প্রতিনিয়ত তার চলাফেরার উপর তীক্্ণ দৃষ্টি রাখলো। যেন একাকি পেলেই তাকে আক্রমণ করা যায়। ধর্মদ্রোহীরা পালাক্রমে পাহারা দিতে লাগলো এবং নবীকে একা পাওয়ার সুযোগ খুঁজতে লাগলো। [মিউজিক] হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের অনুসারীরা যখন লক্ষ্য করলেন বনী ইসরাইল তাকে হত্যা করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে তখন তারা নবীর নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। ফলে শত্রুরা তাকে একাকী পাওয়ার কোন [মিউজিক] সুযোগ পেল না। অবশেষে অবাধ্য বনী ইসরাইল সিদ্ধান্ত নিল নবীর সঙ্গে সঙ্গে তার অনুসারীদেরও হত্যা করতে হবে। যেহেতু নবীর প্রহরীরা [মিউজিক] সবসময় নিরস্ত্র থাকতেন তাই তাদেরকে হত্যা করা কঠিন হবে না বলে তারা মনে করল। অতঃপর একদিন হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম তার সঙ্গীদের নিয়ে একটি ঘরে আশ্রয় নিলেন। এই খবর [মিউজিক] পেয়ে বনী ইসরাইল দ্রুত দলবদ্ধ হয়ে সেই ঘরটি ঘেরাও করলো এবং হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে হত্যার জন্য চূড়ান্ত পরিকল্পনা করল। এই সময়ে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন একটি মহামহিম ফয়সালা করলেন। তিনি তার নবীকে আসমানে তুলে নেবেন। এই মর্মে আল্লাহ তাআলা হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সালামকে আদেশ দিলেন, হে জিব্রাইল, তুমি যাও আমার নবীকে সম্মানের সঙ্গে আসমানে তুলে নিয়ে আসো। আল্লাহ তাআালার আদেশ পেয়ে হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সালাম তাৎক্ষণিক সেই ঘরের ছাদ ভেদ করে হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের কাছে উপস্থিত হলেন এবং তিনি বললেন হে [মিউজিক] নবী আপনার বিষয়ে আল্লাহ রাব্বিল আলামীন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আপনাকে এখনই আমার সঙ্গে আসমানে উঠে যেতে হবে। হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর আদেশ মেনে হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালামের সঙ্গে আসমানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে লাগলেন। আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া কিতাবে বর্ণিত হয়েছে হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তখন হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে একটি সাদা মেঘন্ডের উপর উঠিয়ে আসমানে নিয়ে চলে গেলেন এবং নবীকে সোজা চতুর্থ আসমানে তুলে বিশ্রামের জায়গা করে দিলেন। এদিকে বনী ইসরাইলরা দীর্ঘ সময় ঘরটি ঘেরাও করে রাখার পর যখন দেখলো হযরত ঈসা এবং তার অনুসারীরা ঘর থেকে বের হচ্ছে না তখন তাদের সর্দার একটি খোলা তরবারি নিয়ে লাফাতে লাফাতে ঘরের মধ্যে ঢুকে পড়ল। ঘরের সকল [মিউজিক] কক্ষে সে হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে তন্ন তন্ন করে খুঁজল কিন্তু কোথাও তার কোন হদিশ পাওয়া গেল না। এমন সময় হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তার মুখমন্ডলে একটি ফুঁক [মিউজিক] দিয়ে দিলেন। তখন তার চেহারা হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের চেহারায় রূপান্তরিত হয়ে গেল। এমন অবস্থায় [মিউজিক] যখন সে ঘরের বাইরে আসলো তখন বনী ইসরাইলরা তাকে ঈসা আলাইহিস সালাম মনে করে পাকড়াও করে [মিউজিক] ফেলল এবং তার উপর প্রচন্ড মারধর আরম্ভ করল। কি থেকে কি হয়ে গেল? সরদার কিছুই বুঝতে পারলো না। বনী ইসরাইলদের সরদার তখন চিৎকার দিয়ে বলতে লাগলো, ভাইয়েরা তোমরা কি করছো? তোমরা আমাকে মারছো কেন? তোমরা আমাকে চিনতে পারছো না? আমি তোমাদের সর্দার আমি ঈসাকে সব জায়গায় খুঁজে হয়রান হয়ে গেছি কিন্তু কোথাও তাকে খুঁজে পাইনি। তোমরা ঈসাকে না পেয়ে এখন আমাকেই হত্যা করতে চাইছো। বনী ইসরাইলরা তার কথা শুনে হাসতে লাগল এবং বলতে লাগল [মিউজিক] ব্যাটা ধান্দাবাজ চুপ থাক। তুই যদি আমাদের সর্দার হয়ে থাকিস তাহলে ঈসা গেল কোথায়? নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য এখন কতই না তালবাহানা করবি। তোর কোন কথায় এবং প্রতারণায় আমরা ভুলবো না। আজ আমরা তোকে হত্যা করেই ছাড়বো। [মিউজিক] বনী ইসরাইলদের সর্দার নিজেও জানত না যে তার চেহারা পরিবর্তন হয়ে হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের চেহারায় রূপ নিয়েছে [মিউজিক] তাই সে চিৎকার করে আবার বলতে লাগল ভাইয়েরা তোমরা ভুল করে আমাকে আক্রমণ করেছ তোমাদেরকে নিয়ে আমি যাকে হত্যা করার জন্য এখানে এসেছি তাকে ঘরের মধ্যে কোথাও পেলাম না মনে হয় [মিউজিক] সে একজন জাদুকর তাই সে সকলের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়েছে কিন্তু কে শোনে কার কথা বনী ইসরাইল তাদের সরদারের উপর এইভাবে কিছুক্ষণ নির্যাতন চালানোর পর তাকে শুলে চড়ানোর জন্য সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করে ফেলল বনী ইসরাইলের সরদার যখন বুঝতে পারল [মিউজিক] জনগণ তাকেই শুলে চড়ানোর জন্য সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত হয়ে গেছে। তখন সে চিৎকার দিয়ে বলতে লাগলো, হে বনী ইসরাইলের ভাইয়েরা [মিউজিক] আমি খোদার কসম খেয়ে বলছি, আমি তোমাদের সর্দার। আমার চেহারা পরিবর্তন ঘটেছে কিনা তা আমার জানা নেই। [মিউজিক] যদি তোমরা আমাকে অন্যরকম দেখে থাকো তবে আমার মনে হয় এটা ঈসার খোদার কীর্তি। আমার বিশ্বাস [মিউজিক] ঈসা আল্লাহর একজন সঠিক নবী ছিলেন। আল্লাহ তাআলা তাকে নিরাপদ রাখার জন্য হয়তো তার কোন কুদরতি খেলা খেলছেন। যখন বনী ইসরাইলের সর্দার হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে আল্লাহর সঠিক নবী বলে এই উক্তি পেশ করল তখন বনী [মিউজিক] ইসরাইলরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে গেল এবং তারা কাল বিলম্ব না করে তাদের সর্দারকে তখনই শুলে চড়িয়ে দিল। তাদের সরদার শুলের মধ্যে বাঁচাও [মিউজিক] বাঁচাও বলে চিৎকার করতে লাগল। কিন্তু কেউ তার আর্তনাদ শুনল না অতঃপর তারা তাকে শুলে চড়িয়ে তার প্রাণ বায়ু নিভিয়ে দিল এই দৃশ্য দেখার জন্য অসংখ্য জনতা সেখানে ভিড় করেছিল যখন বনী ইসরাইলের সর্দারকে শুলে জড়িয়ে হত্যা করা হলো তখন অধিকাংশ লোকের মনে হল এটা হযরত ঈসা নয় বরং এটা বনী ইসরাইলের অবাধ্য সর্দার আবার কিছু বনী ইসরাইল মনে [মিউজিক] করতে লাগলো ঈসাকেই হত্যা করা হয়েছে এটা নিয়ে তাদের নিজেদের মধ্যে ভীষণ বিবাদ এবং তলোয়ারবাজি আরম্ভ হলো অধিকাংশ [মিউজিক] লোক বিমর্শ হয়ে গেল কেউ বলতে লাগল তারা তাদের সর্দারকে হত্যা করেছে। আবার কেউ বলতে লাগলো তারা ঈসাকে হত্যা করেছে। আর এটা ছিল আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের এক অপূর্ব লীলা খেলা। এই অবস্থা দেখে হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের অবর্তমানে বহু বনী ইসরাইল হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের উপর ঈমান [মিউজিক] আনলো এবং তারা কালেমা পাঠ করে হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের শরীয়তের উপর জীবন যাপন করার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ হলো। কিন্তু হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম এখন কোথায় আছেন তার প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে সকলে চিন্তিত [মিউজিক] হয়ে গেল এবং অনেকে তার সন্ধানে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। অনেকে নবীর খলিফাদের কাছ থেকে তার প্রকৃত [মিউজিক] অবস্থা জানতে চাইল। তারা তাদেরকে জানিয়ে দিলেন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার নবীকে সসম্মানে চতুর্থ আসমানে উঠিয়ে নিয়ে গেছেন। পরবর্তীতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনুল কারীমের মাধ্যমে হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে জীবিত অবস্থায় দুনিয়া থেকে তুলে নেওয়ার ঘটনাটি মানবজাতিকে জানিয়ে দিয়েছেন। হাদিস শরীফে বর্ণিত আছে, শেষ জামানায় পৃথিবীতে দাজ্জাল নামের একজন শক্তিশালী কাফেরের আবির্ভাব ঘটবে। সে চমক লাগানো কিছু দৃশ্য মানুষকে দেখাবে। সে মানুষের মৃত পিতা-মাতাকে জীবিত করে দেবে। আসমানকে বৃষ্টি বর্ষণ করতে বললে আসমান বৃষ্টি বর্ষণ করবে। জমিনকে ফসল উৎপন্ন করতে বললে, জমিন ফসল উৎপন্ন করবে। দাজ্জালের [মিউজিক] এই সকল কেরামতি দেখে অধিকাংশ মানুষের ঈমান নষ্ট হবে। মানুষ তার প্রতি ঈমান [মিউজিক] আনবে এবং তাকে আল্লাহ বলে বিশ্বাস স্থাপন করতে থাকবে। যখন দাজ্জালের ফিতনা এই পৃথিবীতে চরম আকার ধারণ করবে তখনই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাকে হত্যা করার জন্য হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম [মিউজিক] কে আবার পৃথিবীতে প্রেরণ করবেন। যখন হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম এই পৃথিবীতে পুনরায় আসবেন তখন [মিউজিক] তিনি আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একজন উম্মত হয়ে আসবেন। হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম এই পৃথিবীতে আগমনের পর দাজ্জালকে হত্যা করবেন [মিউজিক] এবং মুমিনদেরকে নিয়ে পৃথিবীতে তিনি একটি ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করবেন। হাদিস শরীফে বর্ণিত আছে হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম এই পৃথিবীতে পুনরায় আগমন করার পর 40 বছর জীবন যাপন করবেন অতঃপর তার ইন্তেকাল হবে এবং তাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজা মোবারকের পাশেই দাফন করা হবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সকলকে হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের এই [মিউজিক] তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে নিজেদের জীবনে আমল করার তৌফিক দান করুন। [মিউজিক]

Need a transcript for another video?

Get free YouTube transcripts with timestamps, translation, and download options.

Transcript content is sourced from YouTube's auto-generated captions or AI transcription. All video content belongs to the original creators. Terms of Service · DMCA Contact

হযরত ঈসা (আঃ) কে আসমানে তুলে নেওয়ার অলৌকিক ঘটনা। - YouTub...