আল্লাহর পরিকল্পনাই সর্বোত্তম: এক ধৈর্যশীল যুবকের কাহিনী | ইসলামিক গল্প | Islamic Voice Bangla

Islamic Voice Bangla3,312 words

Full Transcript

বাগদাদ শহর থেকে কিছুটা দূরে একাকি

দাঁড়িয়ে ছিল নাবিল নামের এক যুবক। শৈশবের স্মৃতি তার কাছে ধূষর কুয়াশার মত।

এই বিশাল শহরের কোথায় কিভাবে সে বড় হয়েছে তা তার মনে নেই। জীবনের কঠিন

বাস্তবতায় সে বড় হয়েছে মানুষের অবহেলা আর প্রকৃতির কঠোরতার মাঝে। তার একমাত্র

আশ্রয় ছিল এক মহান সত্তার উপর বিশ্বাস। যিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন এবং কখনো একাও

ছাড়বেন না। নাবিলের জীবিকা ছিল শহরের পরিত্যক্ত সরাইখানা ও ধ্বংসস্তূপ থেকে

পুরনো ব্যবহারযোগ্য জিনিসপত্র সংগ্রহ করা। কখনো ভাঙ্গা কাঠের টুকরো কখনো বা পুরনো

তামার পাত্র। যাই পেত তাই সংগ্রহ করে শহরের বাইরে এক পুরনো বাজারে বিক্রি করত।

সেই সামান্য আইডিয়াই তার জীবন চলতো। দিনের পর দিন মাসের পর মাস এভাবেই কেটে

যাচ্ছিল তার। পেটে ক্ষুধা গায়ে জীর্ণ পোশাক। কিন্তু তার অন্তরে ছিল এক ধনী

বাদশার মতো প্রশান্তি। কারণ সে বিশ্বাস করত তার তাকদীরে যা লেখা আছে তা আসবেই| আর

যা তার জন্য নয় তা পাহাড় সম হলেও তার কাছে পৌঁছাবে না| প্রতি রাতের আধারে যখন

ঝলমলে বাগদাদ ঘুমের কোলে ঢলে পড়ত তখন সে শহরের কোন এক নির্জন মসজিদের এক কোণে

জায়নামাজে দাঁড়িয়ে যেত অশ্রুসিক্ত চোখে সে তার মহান প্রভুর কাছে বলতো হে আমার রব

হে আরশের মালিক তুমি তো আমার অবস্থা দেখছো আমার দুর্বলতা আমার অসহায়ত্ব তোমার কাছে

গোপন নয় আমি তোমার কাছে দুনিয়ার সম্পদ চাই না। আমি শুধু তোমার সন্তুষ্টি চাই।

সেদিনও ছিল এমনই একদিন। কিন্তু ভাগ্যের কি পরিহাস? সেদিন সে উল্লেখ করার মত কিছুই

খুঁজে পায়নি। ক্লান্ত ক্ষুধার্থ শরীরটাকে নিয়ে কোন মতে সে যখন ফিরছিল তখন তার চোখ

পড়লো মাটির নিচে সামান্য বেরিয়ে থাকা এক অদ্ভুত দর্শন নকশা করা কাঠের বাক্সের

কোনায়। তার মনে এক অজানা কৌতুহল জেগে উঠল। সে মাটি সরিয়ে সাবধানে বাক্সটি বের

করে আনল। বাক্সটি বেশ পুরনো কিন্তু এর কারুকার্য এতটাই নিখুঁত যে দেখলেই বোঝা

যায় এটি কোন সাধারণ বাক্স নয়। সে কাঁপা কাঁপা হাতে বাক্সটি খুলল। ভেতরে মখমলের

কাপড়ে মোড়ানো সারি সারি স্বর্ণ মুদ্রা। এক মুহূর্তের জন্য নাবিলের মনে হলো তার সব

কষ্ট, সব ক্ষুধা, সব যন্ত্রণা বুঝি এবার শেষ হতে চলল। এই মুদ্রাগুলো দিয়ে সে শুধু

নিজের জন্যই নয় আরো অনেক অসহায় মানুষের জন্য কিছু করতে পারবে। কিন্তু পরক্ষণেই

তার ভেতর থেকে ঈমানের কন্ঠস্বর জেগে উঠলো। সে নিজেকে প্রশ্ন করল, নাবিল, এটা কার

সম্পদ? এটা তো তোমার নয়। তুমি কি এমন কিছু গ্রহণ করতে পারো যা তোমার আমানত নয়?

কিন্তু নাবিলের অন্তর ছিল আল্লাহর ভয়ে কম্পিত। সে বাক্সটি বন্ধ করে বুকে জড়িয়ে

ধরল। তার চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়তে লাগল। সে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল হে আমার

আল্লাহ আমি জানি তুমি আমাকে দেখছো এটা আমার জন্য তোমার পক্ষ থেকে এক কঠিন

পরীক্ষা। আমার স্বপ্ন পূরণের চাবি তুমি আমার হাতে তুলে দিয়েছো কিন্তু তা এক

আমানত হিসেবে। নাবিল সেই স্বর্ণ মুদ্রার বাক্সটি তার জীর্ণ পোশাকের নিচে পরম যত্নে

লুকিয়ে রেখেছে। তার বুকের ভেতরটা ধুকপুক করছে। একদিকে যেমন ভয় অন্যদিকে এক অজানা

দায়িত্বের ভার। এই স্বর্ণমুদ্রা এখন তার কাছে সম্পদ নয় বরং এক জ্বলন্ত অঙ্গারের

মত মনে হচ্ছে যা তাকে হয় পুড়িয়ে ছাই করে দেবে নয়তো তার ঈমানের পরীক্ষাকে আরো

উজ্জ্বল করবে সে জানে এই শহরের অলিগলিতে যেমন ভালো মানুষ আছে তেমনি আছে লোভী

হায়নার দল এই সম্পদের খবর সামান্যতম প্রকাশ পেলেই তার জীবন বিপন্ন হতে পারে

নাবিল সেই রাতে আর ঘুমাতে পারলো না সে শহরের এক নির্জন মসজিদের কোনায় বসে রইল

বাক্সটি বুকে আগলে রেখে তার মনে তখন হাজারো চিন্তার ঝড়। কিভাবে সে এই বাক্সের

মালিককে খুঁজে পাবে? এই বিশাল বাগদাদ শহরে যেখানে প্রতিদিন হাজারো মানুষের আনাগোনা

সেখানে একজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা খরকুটোর গাদায় সুই খোঁজার মতোই

অসম্ভব। পরদিন সকালে নাবিলা এক কঠিন সিদ্ধান্ত নিল। সে তার স্বাভাবিক কাজকর্ম

বন্ধ করে দেবে এবং তার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হবে এই আমানতের প্রকৃত মালিককে

খুঁজে বের করা। কিন্তু খাবে কি? চলবে কিভাবে? তার জমানো সামান্য কিছু অর্থ ছিল

যা দিয়ে হয়তো কয়েকটা দিন কোন মতে চলে যাবে। সে মহান আল্লাহর উপর ভরসা করে

বেরিয়ে পড়ল। তার প্রথম চিন্তা হলো যেখান থেকে সে বাক্সটি পেয়েছে সেই পরিত্যক্ত

এলাকায় ফিরে যাওয়া। হয়তো সেখানে কোন সূত্র পাওয়া যেতে পারে। সে আবার সেই

ধ্বংসস্তূপের কাছে গেল এবং চারপাশ তন্ন তন্ন করে খুঁজতে লাগল। ঘন্টার পর ঘন্টা

অনুসন্ধানের পর সে একটি পুরনো দেয়ালের গায়ে কিছু অস্পষ্ট লেখা দেখতে পেল।

লেখাগুলো এতটাই পুরনো যে তার পাঠোদ্ধার করা প্রায় অসম্ভব। কিন্তু নাবিল হাল

ছাড়ল না। সে একজন বৃদ্ধ ক্যালিগ্রাফারের কথা শুনেছিল। যিনি শহরের পুরনো বাজারে

বসতেন এবং প্রাচীন লিপি সম্পর্কে তার অগাধ জ্ঞান ছিল। নাবিল সেই বৃদ্ধের কাছে গেল।

বৃদ্ধ লোকটি তার জীর্ণ পোশাক আর ক্লান্ত চেহারা দেখে প্রথমে গুরুত্ব দিতে চাইলেন

না। কিন্তু যখন নাবিল তাকে সেই দেয়ালের লেখার কথা বর্ণনা করল তখন বৃদ্ধের কপালে

চিন্তার ভাঁজ পড়ল। তিনি নাবিলের সাথে সেই পরিত্যক্ত জায়গায় যেতে রাজি হলেন।

ধ্বংসস্তূপের কাছে পৌঁছে বৃদ্ধ লোকটি দেয়ালের লেখাগুলো মনোযোগ দিয়ে দেখতে

লাগলেন। কিছুক্ষণ পর তিনি বললেন, এই লিপি তো বহু পুরনো। এটি এক বিখ্যাত বনিকের

পারিবারিক চিহ্ন। এই বনিক তার সততার এবং দানশীলতার জন্য পরিচিত ছিলেন। কিন্তু বহু

বছর আগে এক ভয়াবহ দুর্যোগে তার পুরো পরিবার এবং ব্যবসা ধ্বংস হয়ে যায়। যতদূর

জানি তার বংশের আর কেউ বেঁচে নেই। এই কথা শুনে নাবিলের বুকটা ধক করে উঠলো। মালিকের

বংশের কেউ যদি বেঁচেই না থাকে তাহলে এই স্বর্ণমুদ্রা এখন কার? নাবিল তার ঈমান

থেকে এক চুলও নড়লো না। সে বৃদ্ধকে জিজ্ঞেস করল, চাচা আপনি কি নিশ্চিত যে তার বংশের

কেউই বেঁচে নেই? কোন দুঃসম্পর্কের আত্মীয় কোন বন্ধু বা পরিচিত কেউ? বৃদ্ধ কিছুক্ষণ

ভেবে বললেন, শহরের অন্য প্রান্তে এক সরাইখানার মালিক আছেন। নাম তার আবু জাফার।

তিনি অনেক পুরনো মানুষ এবং শহরের ইতিহাস সম্পর্কে অনেক কিছু জানেন। তিনি হয়তো ওই

বনিকের পরিবার সম্পর্কে আরো কিছু তথ্য দিতে পারবেন। নাবিলের মনে নতুন ঘুরে আসার

আলো জ্বলে উঠল। সে বৃদ্ধকে ধন্যবাদ জানিয়ে আবু জাফরের সরাইখানার দিকে রওনা

হলো। পথিমধ্যে শহরের এক সরু গলিতে সে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্য দেখল। এক বৃদ্ধা

ক্ষুধার যন্ত্রণায় কাঁদছে আর তার ছোট ছোট নাতিনাতনীরা খাবারের জন্য হাহাকার করছে।

নাবিলের কাছে যে সামান্য কয়েকটি মুদ্রা ছিল তা দিয়ে সে রুটি কিনে তাদের হাতে

তুলে দিল। বৃদ্ধা তার জন্য দু হাত তুলে দোয়া করলেন। বাবা আল্লাহ তোমার সব মুশকিল

আসান করে দিন। এই দোয়া নাবিলের ক্লান্ত আত্মায় যেন প্রশান্তির বাড়িধারা বর্ষণ

করল। সে নতুন উদ্যমে সরাইখানার দিকে এগিয়ে চলল। সরাইখানায় পৌঁছে এসে দেখল

আবু জাফর একজন রাসভারী এবং গম্ভীর প্রকৃতির মানুষ। নাবিলের জীর্ণ পোশাক দেখে

তিনি তাকে তাড়িয়ে দিতে উদ্যত হলেন। কিন্তু নাবিল অত্যন্ত বিনয়ের সাথে তাকে

সেই পুরনো বনিকের কথা জিজ্ঞেস করল। বনিকের নাম শুনতেই আবু জাফরের চেহারায় এক অদ্ভুত

পরিবর্তন এল। তিনি নাবিলকে প্রশ্ন করলেন, তুমি ওই ধ্বংস হয়ে যাওয়া বনিকের খবর কেন

নিচ্ছ? তার সাথে তোমার কি সম্পর্ক? নাবিলের বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল। সে বুঝতে

পারল এই স্বর্ণ মুদ্রার রহস্য যতটা সহজ সে ভেবেছিল ততটা নয়। এর পেছনে লুকিয়ে আছে

আরো গভীর কোন ষড়যন্ত্র বা অজানা কোন বিপদ। নাবিলের মনে হল এই মানুষটির কাছে

কিছু গোপন করা ঠিক হবে না। আবার সব খুলে বলাও হবে বিপদজনক। সে তার সহজাত

বুদ্ধিমত্তা এবং আল্লাহর উপর ভরসা করে একটি মধ্যম পথ বেছে নিল। সে শান্ত উত্তর

দিল। জনাব আমি একজন গরীব মানুষ। পুরনো জিনিসপত্র সংগ্রহ করাই আমার কাজ। সেই

ধ্বংসস্তূপ এলাকা থেকে আমি এমন কিছু জিনিস পেয়েছি, যা দেখে আমার মনে হয়েছে সেগুলো

ওই প্রাচীন বনিকের পরিবারের হতে পারে। আমার বিশ্বাস কোন জিনিসের প্রকৃত মালিককে

তা ফিরিয়ে দেওয়াই ইনসাফের দাবি। তাই আমি শুধু তার কোন বংশধর বা পরিচিতের সন্ধান

করছি যার কাছে আমি এই জিনিসগুলো সম্পর্কে জানাতে পারি। নাবিল ইচ্ছাকৃতভাবেই

স্বর্ণমুদ্রার কথা গোপন রাখল। সে শুধু কিছু জিনিস বলে বিষয়টির গুরুত্ব হালকা

করার চেষ্টা করল। তার এই সৎ এবং বুদ্ধিদীপ্ত উত্তরে আবু জাফরের কঠোর মুখের

ভাব কিছুটা নরম হলো। তিনি নাবিলের চোখের দিকে তাকিয়ে তার সততা বোঝার চেষ্টা

করলেন। কিছুক্ষণ নীরব থেকে তিনি বললেন, সেই বনিকের নাম ছিল আব্দুর রহমান। তিনি

শুধু একজন ধনী ব্যবসায়ী ছিলেন না। ছিলেন একজন অত্যন্ত আল্লাহভীরু এবং দয়ালু

মানুষ। কিন্তু তার শেষ জীবনটা ছিল খুব কষ্টের। এক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে তিনি

তার সবকিছু হারান। লোকে বলে তার শত্রুরাই তাকে এবং তার পরিবারকে শেষ করে দিয়েছিল।

আবু জাফরের কন্ঠে এক ধরনের বিষন্নতা ফুটে উঠল। তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবার বললেন,

তার একটি শিশুকন্যা ছিল। দুর্যোগের সেই রাতে মেয়েটিকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

কেউ বলে সে মারা গেছে আবার কেউ বলে তাকে অপহরণ করা হয়েছিল। সত্যিটা কি তা একমাত্র

আল্লাহই জানেন। এই কথাগুলো শুনে নাবিলের বুকের ভেতরটা মোচর দিয়ে উঠলো। একটি

নিষ্পাপ শিশু তার মন কান্নায় ভরে উঠলো। সে ভাবল এই স্বর্ণমুদ্রা হয়তো সেই

হারিয়ে যাওয়া মেয়েটিরই প্রাপ্য। তার দায়িত্ব এখন আরো বেড়ে গেল। আবু জাফর

হঠাৎ বলে উঠলেন, শোনো যুবক, তোমার উদ্দেশ্য যদি সৎ হয় তবে আমি তোমাকে একটি

ঠিকানা দিতে পারি। শহরের অপর প্রান্তে জ্ঞানের আলো নামে একটি পাঠাগার আছে। এর

তত্ত্বাবধায়ক হলেন শেখ হামদান। তিনি ছিলেন আব্দুর রহমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং

তার ব্যবসার একজন অংশীদার। যদি কেউ সেই পরিবারের কোন খবর রাখতে পারে তবে তিনি

হলেন শেখ হামদান। কিন্তু এরপর আবু জাফর যা বললেন তা নাবিলের মনে নতুন সন্দেহের বীজ

বপন করল। তিনি নিচু স্বরে বললেন, তবে সাবধান। শেখ হামদান এখন আর আগের মতো নেই।

আব্দুর রহমানের মৃত্যুর পর তিনিই তার ব্যবসার একাংশ এবং পাঠাগার্তীর মালিক

হয়েছেন। তিনি অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং রহস্যময় একজন মানুষ। তার কাছে যাওয়ার

আগে দুবার ভাববে। আবু জাফরের এই সতর্ক বাণী নাবিলের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলল। সে

খামদান কি বন্ধু? নাকি শত্রু? নাবিল আবু জাফরকে ধন্যবাদ জানিয়ে বেরিয়ে পড়ল। তার

হাতে এখন একটি নতুন সূত্র। কিন্তু সেই সাথে যোগ হয়েছে একরাশ ভয় এবং

অনিশ্চয়তা। তার জমানো শেষ মুদ্রাটিও ততক্ষণে ফুরিয়ে গেছে। পেটে তীব্র ক্ষুধা।

কিন্তু মনের মধ্যে জ্বলছে আমানত ফিরিয়ে দেবার অদম্য ইচ্ছা। জ্ঞানের আলো পাঠাগারের

দিকে যাওয়ার পথে সে দেখল শহরের প্রধান কাজীর বাড়ির সামনে একদল লোক ভিড় করছে।

কৌতুহল বসত সে এগিয়ে গিয়ে জানতে পারল কাজীর একমাত্র কন্যা দুরারোগ্য এক রোগে

আক্রান্ত। বাগদাদের কোন হাকিমই তার চিকিৎসা করতে পারছেন না। কাজী সাহেব ঘোষণা

দিয়েছেন যে তার কন্যাকে সুস্থ করতে পারবে তাকে তিনি তার অর্ধেক সম্পত্তি দান করবেন

এবং নিজ কন্যার সাথে তার বিয়ে দেবেন। এই ঘোষণা শুনে চারপাশের লোভী মানুষগুলোর চোখে

মুখে স্বপ্নের ঝলকানি দেখা গেলেও নাবিলের মনে এর কোন প্রভাব পড়ল না। সে শুধু

অসুস্থ মেয়েটির জন্য মনে মনে দোয়া করে নিজের পথে হাঁটা ধরল। তার লক্ষ্য এখন

একটাই। শেখ হামদানের সাথে দেখা করা। অবশেষে সে জ্ঞানের আলো পাঠাগারের সামনে

এসে পৌঁছলো। এটি একটি বিশাল এবং সুন্দর ভবন। বাইরে থেকে এর জাগজমক দেখেই বোঝা

যায় এর মালিক কতটা প্রভাবশালী। নাবিলের মত একজন জীর্ণ পোশাকের মানুষের জন্য এই

ভবনের দরজা পর্যন্ত পৌঁছানোই ছিল একটি কঠিন ব্যাপার। প্রহরীরা তাকে দেখেই

তাড়িয়ে দিতে চাইল। কিন্তু নাবিল মরিয়া হয়ে প্রহরীদের বোঝানোর চেষ্টা করল যে সে

শেখ হামদানের সাথে একটি জরুরি বিষয়ে কথা বলতে চায়। কিন্তু তারা তার কথা কানেই

তুলল না। যখন তাকে প্রায় ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হচ্ছিল ঠিক সেই

মুহূর্তে ভেতর থেকে এক বৃদ্ধ বেরিয়ে এলেন। তিনি প্রহরীদের থামিয়ে দিয়ে

নাবিলের কাছে এসে নরম স্বরে জিজ্ঞেস করলেন, কি হয়েছে যুবক? তুমি কাকে চাও?

নাবিল তার দিকে তাকিয়ে সম্মানের সাথে বলল, আমি শেখ হামদানের সাথে দেখা করতে

এসেছি। আমার কাছে একটি জরুরি খবর আছে। বৃদ্ধ লোকটি মৃদু হাসলেন। তিনি বললেন, আমি

সে হামদান। ভেতরে এসো। নাবিল অবাক হয়ে গেল। এই সেই প্রভাবশালী এবং রহস্যময় সে

হামদান যার সম্পর্কে আবু জাফর তাকে সতর্ক করেছিলেন, জ্ঞানের আলো পাঠাকারের ভেতরে

প্রবেশ করে নাবিলের চোখ বিশ্বয় বিস্ফারিত হয়ে গেল। চারদিকে শুধু বই আর বই। দেয়াল

ঘেসে থাকা উঁচু তাকগুলো প্রাচীন সব গ্রন্থে ভালা। শেখ হামদানের সৌম্য চেহারা

এবং এই জ্ঞানগর্ভ পরিবেশ নাবিলের মনের ভয়কে অনেকটাই দূর করে দিল। শেখ হামদান

তাকে একটি কার্পেট বিছানো আসনে বসতে বললেন। তারপর তার দিকে সরাসরি তাকিয়ে

শান্ত কিন্তু গভীর কন্ঠে জিজ্ঞেস করলেন, বল যুবক, কি এমন জরুরি খবর নিয়ে তুমি

আমার কাছে এসেছো? আর তুমি বা কে? নাবিলের মনে হলো এই মানুষটির কাছে সত্য গোপন করা

হবে সবচেয়ে বড় বোকামি। সে সিদ্ধান্ত নিল সে সবকিছু খুলে বলবে। সে তার নিজের পরিচয়

থেকে শুরু করে কিভাবে বাক্সটি খুঁজে পেল আবু জাফরারের সাথে তার কথোপকথন এবং তার

মনের ভেতরের সমস্ত দ্বন্দ্ব সবকিছু বর্ণনা করল। সবশেষে সে তার পোশাকের ভেতর থেকে

সাবধানে সেই কারুকার্য করা কাঠের বাক্সটি বের করে শেখ হামদানের সামনে রাখল। পুরোটা

সময় শেখ হামদান একটি কথাও না বলে স্থির দৃষ্টিতে নাবিলের কথা শুনলেন। তার মুখে

কোন ভাবান্তর দেখা গেল না। নাবিলের কথা শেষ হলে তিনি বাক্সটির দিকে এক দৃষ্টিতে

তাকিয়ে রইলেন। কিছুক্ষণ পর তিনি এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে বাক্সটি হাতে তুলে নিলেন।

কাঁপা কাঁপা হাতে তিনি সেটি খুললেন। ভেতরের স্বর্ণ মুদ্রাগুলো দেখে তার চোখ

দিয়ে টপটপ করে পানি পড়তে লাগলো। তিনি অশ্রুসিক্ত কন্ঠে বললেন, আল্লাহু আকবার।

মহান আল্লাহ সত্যিই তার ওয়াদা পূরণ করেন। তিনি আমানতকে তার সঠিক প্রাপকের কাছে

পৌঁছে দেওয়ার জন্য তোমার মত একজন সৎ মানুষকে বেছে নিয়েছেন। নাবিল অবাক হয়ে

জিজ্ঞেস করল এর মানে আপনি এই বাক্সের মালিককে চেনেন? সে হামদান কান্না জড়ানো

কন্ঠে বললেন চিনি যুবক। খুব ভালো করেই চিনি। এই বাক্স এবং এর ভেতরের সম্পদ আমারই

ঘনিষ্ঠ বন্ধু আব্দুর রহমানের। আর আমিই সেই হতভাগা যে তার শেষ সময় পাশে থাকতে

পারিনি। তিনি বলতে শুরু করলেন আব্দুর রহমানের শত্রুরা যখন তার সবকিছু কেড়ে

নিচ্ছিল তখন সে তার একমাত্র শিশুকন্যা এবং তার ভবিষ্যতের জন্য জমানো এই সম্পদ আমার

কাছে আমানত রাখতে চেয়েছিল কিন্তু শত্রুরা এতটাই প্রভাবশালী ছিল যে তারা আমার উপরও

নজর রাখছিল আব্দুর রহমান বুঝতে পেরেছিল এই সম্পদ আমার কাছেও রাখা নিরাপদ নয় তাই এক

রাতে সে তার মেয়ে এবং এই বাক্স নিয়ে নিরুদ্দেশ হয়ে যায় পরে আমি খবর পাই

শত্রুরা তাকে হত্যা করেছে কিন্তু তার মেয়ে আর এই বাক্সের কোন সন্ধান পাওয়া

যায়নি শেখ হামদান থামলেন। তার মুখটা দুঃখে এবং অনুশোচনায় কালো হয়ে গেল। তিনি

বললেন, আমি এতদিন নিজেকে দোষী ভেবে এসেছি। আমি আমার বন্ধুর আমানত রক্ষা করতে পারিনি।

কিন্তু আজ তুমি এসে আমার কাঁধ থেকে সেই বিশাল পাপের বোঝা নামিয়ে দিলে যুবক। তুমি

যা করেছো তার প্রতিদান দেওয়ার ক্ষমতা আমার নেই। এর প্রতিদান একমাত্র মহান

আল্লাহই তোমাকে দেবেন। নাবিলে মনটা ভারাক্রান্ত হয়ে উঠল। সে জিজ্ঞেস করল

তাহলে আব্দুর রহমানের সেই মেয়েটির কি হয়েছিল? সে কি বেঁচে আছে? শেখ হামদানের

মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। তিনি বললেন হ্যাঁ বেঁচে আছে আল্লাহ তাকে তার শত্রুদের হাত

থেকে রক্ষা করেছেন। আব্দুর রহমান সেই রাতে তার মেয়েকে আমার এক বিশ্বস্ত লোকের হাতে

তুলে দিয়ে তাকে শহর থেকে অনেক দূরে পাঠিয়ে দিয়েছিল। আমি বছরের পর বছর ধরে

গোপনে তাদের খোঁজখবর রেখেছি এবং তাদের ভরণপোষণের ব্যবস্থা করেছি। সে এখন বড়

হয়েছে। আমার নিজের সন্তানের মতোই আমি তাকে স্নেহ করি। এই কথা শুনে মাবিলের

অন্তর প্রশান্তিতে ভরে গেল। তার মনে হলো তার জীবনের সবচেয়ে বড় দায়িত্বটি সে আজ

পালন করতে পেরেছে। সে বিনীতভাবে বলল, শেখ এই নিন আপনার বন্ধুর আমানত। এখন আমি

নিশ্চিন্ত। শেখ হামদান বাক্সটি নাবিলের দিকে ফিরিয়ে দিয়ে বললেন, না যুবক এই

সম্পদ এখন আর আমার বন্ধুর নয়। এটি তার কন্যার। আর আমি আব্দুর রহমানের পক্ষ থেকে

একটি সিদ্ধান্ত নিতে চাই। আমি তার কন্যার অভিভাবক হিসেবে এই সম্পদের একটি অংশ

তোমাকে তোমার সততার পুরস্কার হিসেবে দিতে চাই। তিনি বাক্স থেকে অর্ধেক স্বর্ণমুদ্রা

বের করে নাবিলের দিকে এগিয়ে দিলেন। নাবিলের জীবনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষাটি এল

ঠিক সেই মুহূর্তে। তার সামনে পড়ে আছে স্বর্ণমুদ্রা যা দিয়ে সে তার সব স্বপ্ন

পূরণ করতে পারে। তার ক্ষুধা তার দারিদ্র্য তার সব কষ্ট এক নিমিষেই দূর হয়ে যাবে।

কিন্তু নাবিলের ঈমান ছিল পর্বতের মত অটল। সে হাত জোড় করে পিছিয়ে গেল। তার চোখ

দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ল। সে কান্না জড়ানো কন্ঠে বলল, আমাকে ক্ষমা করবেন শেখ।

আমি এই পুরস্কার গ্রহণ করতে পারবো না। আমি যা করেছি তা কোন পুরস্কারের আশায় করিনি।

আমি শুধু আমার রবের সন্তুষ্টির জন্য আমার ঈমানের দায়িত্ব থেকে করেছি। একজন

আমানতদারের দায়িত্ব হলো আমানতকে তার প্রকৃত মালিকের কাছে পৌঁছে দেওয়া এর থেকে

কোন অংশ গ্রহণ করা নয়। আমি যদি আজ এই মুদ্রা গ্রহণ করি তাহলে আমার এতদিনের সব

কষ্ট সব ধৈর্য বৃথা হয়ে যাবে। আমার রবের সামনে আমি কি জবাব দেব? নাবিলের এই উত্তরে

শেখ হামদান বাকর রুদ্ধ হয়ে গেলেন। তিনি বিস্মোয়ে শ্রদ্ধায় এবং মুগ্ধতায়

যুবকটির দিকে তাকিয়ে রইলেন। তিনি তার জীবনে বহু জ্ঞানী, গুণী এবং ধনী মানুষ

দেখেছেন, কিন্তু এমন নিঃস্বার্থ, সৎ এবং আল্লাহ ভীরু যুবক তিনি আর কখনো দেখেননি।

সে খানদানের চোখ দিয়ে এবার আনন্দাশ্রু গড়িয়ে পড়ল। তিনি উঠে দাঁড়িয়ে নাবিলকে

বুকে জড়িয়ে ধরলেন। তিনি বুঝতে পারলেন এই যুবকের জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন

এক পুরস্কার অপেক্ষা করছে, যা এই স্বর্ণ মুদ্রার চেয়েও হাজার গুণ বেশি মূল্যবান।

তিনি এক রহস্যময় হাসি দিয়ে বললেন যুবক তুমি তোমার ঈমানের পরীক্ষায় সর্বোচ্চ

সম্মানের সাথে উত্তীর্ণ হয়েছো। তুমি যা প্রত্যাখ্যান করলে তা হয়তো তোমার তাকদীরে

আরো উত্তম রূপে লেখা আছে এখন আমার সাথে এসো তোমার জন্য এক নতুন চমক অপেক্ষা করছে|

নাবিল কিছুই বুঝতে পারল না| শেখ হামদান তাকে সাথে নিয়ে পাঠাগারের ভেতরের একটি

বিশেষ কামড়ার দিকে এগিয়ে গেলেন। শেখ হামদান নাবিলকে নিয়ে পাঠাগারের সেই

রহস্যময় কামড়ার দরজায় এসে দাঁড়ালেন। তিনি দরজায় হালকা টোকা দিতেই ভেতর থেকে এক নারী

কন্ঠের আওয়াজ এল। সে হামদান দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করলেন এবং নাবিলকে ইশারায়

অনুসরণ করতে বললেন। কামড়ার ভেতরে প্রবেশ করে নাবিল দেখল এক অনিন্দ সুন্দরী তরুণী

জায়নামাজে বসে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করছেন। মেয়েটিকে দেখেই নাবিলের বুকের

ভেতরটা কেঁপে উঠলো। তার মনে পড়ে গেল শহরের কাজীর অসুস্থ কন্যা কথা। যার জন্য

সে মনে মনে দোয়া করেছিল। কিন্তু এই মেয়ে এখানে কিভাবে? শেখ হামদান মেয়েটির কাছে

গিয়ে তার মাথায় হাত বুলিয়ে স্নেহমাখা কন্ঠে বললেন ফাতিমা মা আমার উঠো দেখো মহান

আল্লাহ আমাদের জন্য কি রহমত পাঠিয়েছেন মেয়েটি চোখ খুলে তার সামনে দাঁড়ানো

জীর্ণ পোশাকের নাবিলের দিকে তাকালো তার চোখে কোন ঘৃণা বা অবহেলা ছিল না বরং ছিল

একরাশ কৌতুহল এবং কৃতজ্ঞতা শেখ হামদান নাবিলের দিকে ফিরে বললেন নাবিল এই আমার

বন্ধুর আমানত আব্দুর রহমানের একমাত্র কন্যা ফাতিমা

আর ফাতিমা এই সেই যুবক যে তোমার বাবার রেখে যাওয়া আমানত নিজের জীবনের ঝুমকি

নিয়ে শতকষ্ট সহ্য করে ফিরিয়ে এনেছে। ফাতিমার চোখ দুটো পানিতে ভরে গেল। সে

দুর্বল কন্ঠে বলল, আমার বাবার পক্ষ থেকে এবং আমার পক্ষ থেকে আমি আপনার কাছে

চিরকৃতজ্ঞ। আপনি যা করেছেন তার ধন্যবাদ দেওয়ার ভাষা আমার জানা নেই। নাবিল

বিনীতভাবে মাথা নিচু করে রইল। তার অন্তর তখন এক অনির্বচনীয় শান্তিতে পরিপূর্ণ।

এরপর শেখ হামদান যে রহস্য উন্মোচন করলেন তা শুনে নাবিল বিশ্বয় হতবাক হয়ে গেল।

তিনি বললেন নাবিল আমি তোমাকে আরো কিছু বলতে চাই। আব্দুর রহমানের মৃত্যুর পর তার

শিশুকন্যাকে যখন শত্রুরা খুঁজছিল তখন আমি তাকে রক্ষা করার জন্য শহরের সবচেয়ে

নিরাপদ আশ্রয় বেছে নিয়েছিলাম। আমি তাকে তুলে দিয়েছিলাম এই শহরের প্রধান কাজী

সাহেবের হাতে। যিনি ছিলেন আমার এবং আব্দুর রহমানের আরেকজন বিশ্বস্ত বন্ধু। কাজী

সাহেব নিজের সন্তানের পরিচয়েই ফাতিমাকে বড় করেছেন। নাবিলের এবার সবকিছু পরিষ্কার

হয়ে গেল। শহরের কাজীর অসুস্থ কন্যাই হল আব্দুর রহমানের মেয়ে ফাতিমা। শেখ হামদান

বলতে লাগলেন, ফাতিমার এই অসুস্থতা কোন সাধারণ রোগ নয়। হাকিমরা বলেছেন, এটি এক

ধরনের মানসিক আঘাত এবং দুশ্চিন্তা থেকে তৈরি হয়েছে। ছোটবেলার সেই ভয়ঙ্কর স্মৃতি

এবং নিজের পরিচয় হারানোর কষ্ট তাকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দিয়েছে। তারা বলেছেন কোন

ঐশ্বরিক মজিজা বা অত্যন্ত খুশির কোন সংবাদই হয়তো তাকে পুরোপুরি সুস্থ করে

তুলতে পারে। তিনি নাবিলের চোখের দিকে সরাসরি তাকালেন। তার দৃষ্টি ছিল অত্যন্ত

গভীর। বললেন নাবিল তুমি যখন অর্ধেক স্বর্ণমুদ্রা প্রত্যাখ্যান করলে তখন আমি

তোমার মধ্যে শুধু একজন সৎ মানুষকেই দেখিনি। আমি দেখেছি একজন সত্যিকারের

মুমিনকে। যার অন্তর দুনিয়ার লোভ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। আমি দেখেছি এমন এক

পুরুষকে যার হাতে আমার বন্ধুর কন্যা এবং তার সম্পদ সবচেয়ে বেশি নিরাপদ থাকবে।

তিনি এক মুহূর্ত থামলেন। তারপর এক ঐতিহাসিক প্রস্তাব দিয়ে বসলেন। নাবিল,

আমি আব্দুর রহমানের অভিভাবক এবং কাজী সাহেব ফাতিমার পালক পিতা হিসেবে তোমার

কাছে একটি প্রস্তাব রাখতে চাই। তুমি কি আমার বন্ধুর কন্যা ফাতিমাকে বিয়ে করে তার

এবং তার সম্পদের আজীবনের জন্য রক্ষক হবে? আমি বিশ্বাস করি তোমার মত একজন জীবনসঙ্গী

পাওয়াই হবে ফাতিমার জন্য সবচেয়ে বড় পুরস্কার এবং তার সুস্থ হয়ে ওঠার একমাত্র

উপায়। তোমার সততা আর ঈমানই পারবে তাকে সব কষ্ট থেকে মুক্তি দিতে। এই অপ্রত্যাশিত

প্রস্তাবে নাবিলের বাকরুদ্ধ হয়ে গেল। কোথায় সে এক পথের ভিখারী আর কোথায় শহরের

কাজীর কন্যা? এক বিশাল সম্পদের উত্তরাধিকারিনী। সে স্বপ্নেও এমন কিছু

কল্পনা করতে পারেনি। তার মনে হলো এ নিশ্চয়ই তার ধৈর্যের পুরস্কার যা মহান

আল্লাহ তার জন্য নির্ধারণ করে রেখেছিলেন। সে অস্ত্রসিক্ত চোখে সম্মতি জানাতেই

কামড়ায় এক স্বর্গীয় পরিবেশের সৃষ্টি হলো। ফাতিমার ফ্যাকাসে মুখে ফুটে উঠলো এক

অনাবিল আনন্দের আভা। যেন বহু বছরের জমানো মেঘ কেটে গিয়ে এক ঝলক সূর্যের আলো তার

মুখমন্ডলে এসে পড়েছে। খুব শিগগিরই কাজী সাহেবের বাড়িতে শেখ হামদানের উপস্থিতিতে

নাবিল এবং ফাতিমার বিয়ে সম্পন্ন হলো। যেদিন নাবিল ফাতিমার হাত ধরে তাকে স্ত্রী

হিসেবে গ্রহণ করল, সেদিনই যেন এক ঐশ্বরিক চমৎকার ঘটলো। ফাতিমার অসুস্থতা ধীরে ধীরে

দূর হতে শুরু করল। নাবিলের ভালোবাসা যত্ন আর ঈমানের আলোয় ফাতিমা তার জীবনের সব

অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এসে এক নতুন জীবন খুঁজে পেল যে নাবিল একদিন শহরের পরিত্যক্ত

জায়গায় ঘুরে বেড়াত আজ সে বাগদাদের সবচেয়ে সম্মানিত এবং প্রিয় মানুষগুলোর

একজনে পরিণত হল তার সততা ধৈর্য এবং তাকদীরের উপর অটল বিশ্বাসের কাহিনী শহরের

মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ল এক শিক্ষণীয় উপাখ্যান হিসেবে সে প্রমাণ করে

দিল যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর উপর ভরসা করে এবং সততার পথ আঁকড়ে ধরে তার জন্য এমন

পুরস্কার অপেক্ষা করে যা মানুষের কল্পনাকেও হার মানায়। দুনিয়ার সামান্য

সম্পদ প্রত্যাখ্যান করার বিনিময়ে মহান আল্লাহ তাকে দান করলেন সম্মান ও ভালোবাসা।

Need a transcript for another video?

Get free YouTube transcripts with timestamps, translation, and download options.

Transcript content is sourced from YouTube's auto-generated captions or AI transcription. All video content belongs to the original creators. Terms of Service · DMCA Contact

আল্লাহর পরিকল্পনাই সর্বোত্তম: এক ধৈর্যশীল যুবকের কাহিনী |...