মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি ও কেয়ামতের ভয়ানক আলামত! | Dajjal and Imam Mahdi

ইমানের আলো2,857 words

Full Transcript

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ, পারমাণবিক হামলা, পৃথিবী কি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে? আজ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দেখে আমরা চরম আতঙ্কে ভুগছি। কিন্তু আপনি কি জানেন? আজ থেকে 1400 বছর আগে কোন স্যাটেলাইট বা ইন্টারনেট ছাড়াই আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঠিক এই সময়টা এবং এই জায়গাগুলোর এক ভয়ঙ্কর নিখুত বর্ণনা দিয়ে গেছেন। তিনি এমন এক মহাযুদ্ধের কথা বলেছেন যার ভয়াবহতা এত বেশি হবে যে একটা পাখি লাশের উপর দিয়ে উড়তে উড়তে ক্লান্ত হয়ে নিচে পড়ে যাবে কিন্তু লাশের শেষ দেখতে পাবে না। আজ মধ্যপ্রাচ্যে যা ঘটছে তা কোন সাধারণ যুদ্ধ নয়। এটা হলো মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ধ্বংসলীলার পদধ্বনি। কি হতে যাচ্ছে সামনের দিনগুলোতে? দাজ্জালের আগমন কি খুব কাছাকাছি? আর কবেই বা নামবেন হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম। বুকের ধুকপুকানি বাড়িয়ে দেওয়া 1400 বছর আগের সেই ভবিষ্যৎবাণীগুলো আজ কিভাবে অক্ষরে অক্ষরে সত্য হচ্ছে। চলুন সেটাই আজ আপনাদের জানাবো। কথা দিচ্ছি। ভিডিওর শেষ পর্যন্ত পৌঁছালে আপনার দুনিয়া দেখার দৃষ্টিভঙ্গি পুরোপুরি বদলে যাবে। পৃথিবীর মানচিত্রের দিকে তাকালে আপনি দেখতে পাবেন সিরিয়া, ফিলিস্তিন, লেবানন এবং জর্ডান। এই পুরো এলাকাটাকে ইসলামী ইতিহাসে বলা হয় মূলকে শাম বা শাম দেশ। আর এর একটু পাশেই রয়েছে ইরাক এবং ইরান যাকে আগে পারস্য বলা হতো। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জীবদ্দশায় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বলে গেছেন কিয়ামতের আগে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বড় ফিতনা সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং সবচেয়ে বড় ধ্বংসলীলা এই মধ্যপ্রাচ্যের মাটিতেই ঘটবে। আজ আমরা ইসরায়েল আর ইরানের মধ্যে যে চরম উত্তেজনা দেখছি তা হয়তো কেবল একটি বিশাল ধারাবাহিক ধ্বংসের শুরু মাত্র। শেষ জামানায় যখন ফিতনা বা বিপদ শুরু হবে তখন তা এমনভাবে ছড়াবে যেমন তসবির সুতো ছিড়ে গেলে দানাগুলো একটার পর একটা মাটিতে পড়তে থাকে। কেউ শত চেষ্টা করেও তাকে আটকাতে পারবে না। ইসলামের সত্য বর্ণনায় পাওয়া যায় এই ধ্বংসলীলার একটি বড় সংকেত হলো ফোরাত নদী পুরোপুরি শুকিয়ে যাওয়া। এই ফোরাত নদী সিরিয়া এবং ইরাকের বুক চিড়ে প্রবাহিত হয়েছে। আজ বিজ্ঞানীরা প্রমাণ পেয়েছেন এবং আমরা নিজেরাও খবরে দেখছি যে ফোরাত নদীর পানি সত্যিই খুব দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে। এর অনেক জায়গায় এখন শুধুই খাঁখা বালি আর শুকন পাথর। কিন্তু আসল ভয়ঙ্কর কথাটি লুকিয়ে আছে এর ঠিক পরের অংশে। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলে গেছেন ফোরাত নদী শুকিয়ে যাওয়ার পর তার নিচ থেকে সোনার একটি বিশাল পাহাড় বা সোনার খনি বের হয়ে আসবে। যখন এই বিপুল পরিমাণ সোনার সন্ধান পাওয়া যাবে তখন পৃথিবীর বড় বড় পরাশক্তিগুলো যাদের হাতে আজ পারমাণবিক বোমা আর অত্যাধুনিক অস্ত্র আছে তারা সবাই সেই সোনার লোভে সেখানে পাগলের মত ছুটে আসবে। শুরু হবে এক রক্তক্ষয়ী মহাযুদ্ধ। এই যুদ্ধের ভয়াবহতা এত বেশি হবে যে প্রতি 100 জন যোদ্ধার মধ্যে 99 জনই মারা যাবে। একটু কল্পনা করুন 100 জনের মধ্যে 99 জন মারা যাবে। অর্থাৎ 99 শতাংশ মানুষ ধ্বংস হয়ে যাবে। চারদিকে রক্তের নদী বইবে। কিন্তু সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো সেই যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকটা মানুষ মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত ভাববে হয়তো আমিই সেই একজন যে বেঁচে যাব এবং এই বিশাল সোনার পাহাড় কেবল আমারই হবে। এই অন্ধ লোভ তাদের সবাইকে ধ্বংসের অতল গহবরে টেনে নিয়ে যাবে। আজ আমরা মধ্যপ্রাচ্যের তেলের জন্য বা ক্ষমতার আধিপত্য বিস্তারের জন্য যে যুদ্ধ দেখছি তা হয়তো সেই সোনার পাহাড়ের মহাযুদ্ধেরই একটা পূর্ব প্রস্তুতি। যখন পরাশক্তিগুলো একে অপরের সাথে এভাবে লড়বে তখন মুসলমানদের অবস্থা কেমন হবে? প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত আক্ষেপের সাথে সাহাবীদের জানিয়েছিলেন সেই সময় মুসলমানরা চারদিক থেকে আক্রান্ত হবে| শত্রুরা মুসলমানদের উপর এমনভাবে ঝাঁপিয়ে পড়বে যেমন ক্ষুধার্থ মানুষ খাবারের থালার উপর ঝাপিয়ে পড়ে এই কথা শুনে সাহাবীরা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেছিলেন ইয়া রাসূলাল্লাহ সেদিন কি আমরা সংখ্যায় খুব কম থাকবো তাই কি তারা আমাদের উপর এমনভাবে ঝাপিয়ে পড়বে নবীজি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেছিলেন সেদিন তোমরা সংখ্যায় মোটেও কম থাকবে না বরং তোমরা হবে কোটি কোটি কিন্তু তোমাদের অবস্থা হবে সমুদ্রের ফেনার মত সমুদ্রের ফেনার যেমন কোন নিজস্ব ওজন নেই কোন শক্তি নেই বাতাস যেদিকে নেয় সেদিকে উড়ে যায় মুসলমানদেরও ঠিক সেই অবস্থা হবে তোমাদের শত্রুদের অন্তর থেকে তোমাদের প্রতি ভয় একেবারে দূর হয়ে যাবে আর তোমাদের অন্তরে ঢুকে যাবে ওয়াহান নামক এক ভয়ঙ্কর ব্যাধি সাহাবীরা চিন্তিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন ইয়া রাসূলাল্লাহ এই ওয়াহান কি জিনিস? নবীজি উত্তর দিলেন দুনিয়াকে অন্ধের মত ভালোবাসা আর মৃত্যুকে ভয় পাওয়া। আজকের বিশ্বের দিকে একটু তাকিয়ে দেখুন মুসলমানদের সংখ্যা আজ 200 কোটির উপরে। কিন্তু ফিলিস্তিনে, গাজায়, লেবাননে যখন নিরীহ শিশুদের মারা হচ্ছে, মা-বোনদের আর্তনাদ আকাশে বাতাসে ভাসছে, তখন পুরো মুসলিম বিশ্ব যেন সমুদ্রের ফেনার মতোই নীরব এবং অসহায়। কারণ আমাদের অন্তরে আজ দুনিয়ার মোহ বিলাসবহুল জীবন যাপনের লোভ আর মৃত্যুর ভয় বাসা বেঁধেছে। আমাদের শত্রুরা এই দুর্বলতা খুব ভালো জানে। এই চরম ফিতনার সময় যখন সিরিয়া বা সাম দেশে যুদ্ধ ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। যখন আকাশ থেকে আগুন ঝরবে, জমিন লাশে ভরে যাবে এবং পৃথিবীতে জুলুম ও অত্যাচার চরম সীমায় পৌঁছাবে। ঠিক সেই সময় মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মুসলমানদের রক্ষার করার জন্য একজন বিশেষ মানুষকে পাঠাবেন। তিনি কোন নবী বা রাসূল হবেন না তিনি হবেন আমাদের প্রিয় নবীজির বংশেরই একজন অত্যন্ত নেককার মানুষ। যখন সারা পৃথিবীর মুসলমানরা হতাশ হয়ে পড়বে। যখন মনে হবে আর বাঁচার কোন পথ নেই। চারদিক শুধু অন্ধকার। তখন মক্কায় পবিত্র কাবার চত্তরে হাজারে আসওয়াদ এবং মাকামে ইব্রাহিমের ঠিক মাঝখানে একদল নেককার ঈমানদার মানুষ এমন একজনকে খুঁজে পাবেন। তিনি নেতৃত্ব চাইবেন না বরং তিনি নেতৃত্ব থেকে পালিয়ে বেড়াবেন কিন্তু সেই ঈমানদার মানুষগুলো তাকে চিনে ফেলবেন এবং একপ্রকার জোর করেই সেই বিশেষ ব্যক্তির হাতে বায়াত বা শপথ গ্রহণ করবেন। তখন তিনি বুঝতে পারবেন যে আল্লাহ তাকে মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য মনোনীত করেছেন। তিনিই হলেন সেই প্রতিশ্রুত হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম। তার নাম হবে আমাদের প্রিয় নবীজির নামের মতো মোহাম্মদ। তার বাবার নামও হবে নবীজির বাবার নামের মতো আব্দুল্লাহ। তিনি দেখতে অত্যন্ত সুন্দর হবেন। তার কপাল হবে প্রশস্ত এবং নাক হবে খাড়া। কিন্তু পৃথিবীর জালিম শাসকরা কি সহজে তাকে মেনে নেবে? কখনোই না। যখনই ইমাম মাহাদীর আত্মপ্রকাশের খবর দামেস্ক, সিরিয়া এবং বর্তমানের এই জালিম শাসকদের কানে পৌঁছাবে তখন তাদের সিংহাসন কেঁপে উঠবে। তারা বুঝতে পারবে এই সেই ব্যক্তি যিনি পুরো পৃথিবীকে আবার ন্যায়বিচারে ভরে দেবেন এবং তাদের জুলুমের অবসান ঘটাবেন। তাই তাকে হত্যা করার জন্য ইসলামকে চিরতরে মুছে ফেলার জন্য সিরিয়া থেকে এক বিশাল শক্তিশালী এবং অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত সেনাবাহিনী মক্কার দিকে রওনা হবে। এই সেনাবাহিনী হবে অত্যন্ত অহংকারী এবং নিষ্ঠুর। তারা মদিনা পার হয়ে মক্কার দিকে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাবে। তাদের মনে থাকবে শুধু রক্ত পিপাসার।যে যেভাবেই হোক মক্কায় পৌঁছে ইমাম মাহাদীকে শেষ করতে হবে। কিন্তু তারা জানে না মহান আল্লাহর ভাইসালা কেউ বদলাতে পারে না। যখন সেই বিশাল সেনাবাহিনী মক্কা এবং মদিনার মাঝখানে বায়দা নামক একটি খোলা এবং সমতল প্রান্তরে এসে পৌঁছাবে তখন তাদের উপর আকাশ থেকে কোন বোমাও পড়বে না। মিসাইলও আসবে না। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন শুধু মাটিকে হুকুম দেবেন। চোখের পলকে সেই বায়দা প্রান্তরের মাটি বিকট শব্দে ফেটে দুভাগ হয়ে যাবে। একটা বিশাল গহবর তৈরি হবে। আর সেই অহংকারী সেনাবাহিনীর প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সেনাপতি থেকে শুরু করে সাধারণ সৈন্য, তাদের ঘোড়া, তাদের অত্যাধুনিক অস্ত্র, তাদের অহংকার, সবকিছু জ্যান্ত অবস্থায় মাটির নিচে তলিয়ে যাবে। মাটি তাদের সবাইকে গিলে ফেলবে। বিশাল সেই বাহিনীর মাত্র দুই তিন জন মানুষ কোনো রকমে বেঁচে থাকবে। তারা চরম আতঙ্কে দৌড়ে গিয়ে সারা দুনিয়ায় এই ভয়ঙ্কর খবরটি ছড়িয়ে দেবে যে আল্লাহর আজাব নেমে এসেছে। ইমাম মাহদীকে হত্যা করতে যাওয়া বাহিনী জ্যান্ত অবস্থায় মাটির নিচে ধ্বংস হয়ে গেছে। এই অলৌকিক এবং রোমহর্ষক ঘটনা যখন সিরিয়া, ইরাক, ইয়েমেন এবং বিশ্বের আনাচে কানাচে পৌঁছাবে তখন সেখানকার বড় বড় আলেম, আবদাল এবং নেককার মানুষরা বুঝতে পারবেন যে যিনি মক্কায় অবস্থান করছেন তিনি আর কেউ নন। তিনিই হলেন সেই প্রতিশ্রুত হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম। তখন তারা সব ভয় উপেক্ষা করে দলে দলে মক্কার দিকে ছুটে যাবেন এবং তার হাতে হাত রেখে জিহাদের শপথ গ্রহণ করবেন। শুরু হবে এক নতুন অধ্যায়। ইমাম মাহাদী একটি ছোট কিন্তু ইস্পাতের মত কঠিন ঈমানদার বাহিনী নিয়ে সিরিয়ার দিকে রওনা হবেন। কারণ সিরিয়াই হল শেষ জামানার আসল রণাঙ্গন। এই সময় পৃথিবীর পরিস্থিতি হবে কল্পনার চেয়েও ভয়াবহ। পারমাণবিক যুদ্ধ, অজানা মহামারী এবং খাদ্যাভাবের কারণে পৃথিবীর জনসংখ্যা এমনিতেই অনেক কমে যাবে। কিন্তু আসল ধ্বংসলীলা তখনও বাকি। এই সময় মুসলিমদের সাথে রোমান বা খ্রিস্টানদের যাদের আমরা এখন পশ্চিমা বিশ্ব বা ইউরোপ, আমেরিকা বলি, তাদের একটি শক্তিশালী শান্তি চুক্তি হবে। তারা মিলে একটি অভিন্ন এবং ভরঙ্কর শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে এবং জয় লাভও করবে। কিন্তু এই বন্ধুত্ব বেশিদিন টিকবে না। যুদ্ধের পর যখন তারা এক জায়গায় বসে বিজয় উদযাপন করবে তখন এক অহংকারী খ্রিস্টান সৈন্য একটা ক্রুশ উঁচু করে ধরে চিৎকার করে বলবে আজ ক্রুশের জয় হয়েছে। যীশুর জয় হয়েছে। এই কথা শুনে পাশেই থাকা একজন মুসলিম সৈন্য তার রাগ সামলাতে পারবে না। সে গর্জে উঠে বলবে, না জয় কেবল আল্লাহর হয়েছে। এই বলে সে ওই খ্রিস্টান সৈন্যকে আঘাত করে হত্যা করে ফেলবে। আর ঠিক এই একটি ঘটনাই হবে সেই মহাযুদ্ধের বা আল মালহামাতুল কুবরার স্ফুলিঙ্গ। এই স্ফুলিঙ্গ এমন এক দাবানল তৈরি করবে যা পুরো পৃথিবীকে গ্রাস করে নেবে। পশ্চিমা বিশ্ব চরম ক্ষোভে এই শান্তি চুক্তি ভেঙে ফেলবে। তারা বলবে মুসলমানরা আমাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তারা বিশাল এক আন্তর্জাতিক জোট তৈরি করবে। নবীজি বলে গেছেন তারা 80টি দেশের পতাকা নিয়ে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সিরিয়ার দিকে ধেয়ে আসবে। প্রতিটি পতাকার নিচে থাকবে 12 হাজার সৈন্য। অর্থাৎ প্রায় 10 লাখের কাছাকাছি এক বিশাল দানবীয় সেনাবাহিনী। তাদের কাছে থাকবে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি আর ভয়ঙ্কর সব মারণাস্ত্র। তাদের লক্ষ্য হবে একটাই। সিরিয়ার মাটি থেকে ইসলামকে এবং মুসলমানদের চিরতরে মুছে ফেলা। তারা সিরিয়ার দাবিক বা আমাক নামক প্রান্তরে এসে তাদের বিশাল তাবু ফেলবে। অন্যদিকে হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালামের নেতৃত্বে মদিনা, ইরাক, ইয়েমেন এবং অন্যান্য জায়গা থেকে আসা মুসলমানদের সেরা মুজাহিদ বাহিনী তাদের মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত হবে। তারা সিরিয়ার দামেস্কের কাছাকাছি গুতা নামক জায়গায় অবস্থান নেবে। এই যুদ্ধ কোন সাধারণ যুদ্ধ হবে না। এটি হবে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী এবং ভয়াবহ লড়াই। যুদ্ধের ময়দানে যখন দুই বাহিনী মুখোমুখি হবে তখন খ্রিস্টানরা মুসলিমদের প্রস্তাব দেবে। তোমাদের মধ্য থেকে যারা আমাদের ধর্ম ছেড়ে তোমাদের ধর্মে গেছে অর্থাৎ যারা ইসলাম গ্রহণ করেছে তাদের আমাদের হাতে তুলে দাও। আমরা শুধু তাদের সাথে যুদ্ধ করব। তোমাদের সাথে আমাদের কোন শত্রুতা নেই। কিন্তু মুসলিমরা এক বাক্যে বীরের মত উত্তর দেবে। আল্লাহর কসম আমরা আমাদের ভাইদের তোমাদের হাতে তুলে দেবো না। আমরা তাদের রক্ষার জন্য নিজেদের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করব। শুরু হবে সেই ভয়ঙ্কর মহাযুদ্ধ। সিরিয়ার সেই দাবিক বা আমাক প্রান্তর মুহূর্তের মধ্যে পরিণত হবে এক মৃত্যুপুরিতে। চারদিকে শুধু লাশের পাহাড়। বাতাস ভারী হয়ে উঠবে রক্তের গন্ধে। তলোয়ার বর্ষা আর আধুনিক অস্ত্রের ঝনঝনানীতে আকাশ-বাতাস কেঁপে উঠবে। টানা তিন দিন ধরে চলবে এই নারকীয় লড়াই। নবীজি বলেছেন এই যুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর তিন ভাগের এক ভাগ সৈন্য শহীদ হয়ে যাবে। যারা আল্লাহর কাছে শ্রেষ্ঠ শহীদের মর্যাদা পাবে। আরেক তৃতীয়াংশ সৈন্য যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে লাশের স্তুপ দেখে ভয়ে ময়দান ছেড়ে পালাবে। নবীজি বলেছেন, যারা এই ময়দান ছেড়ে পালাবে আল্লাহ তাদের তওবা কখনোই কবুল করবেন না। বাকি রইল শুধু এক তৃতীয়াংশ সৈন্য। এই অল্প সংখ্যক মুজাহিদ যাদের নেতৃত্বে আছেন স্বয়ং হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম তারা মৃত্যু ভয় সম্পূর্ণ জয় করে নেবেন| তারা নিজেদের মধ্যে শপথ করবেন হয় আমরা বিজয়ী হয়ে ফিরবো না হয় এই ময়দানেই শাহাদত বরণ করব [মিউজিক] কিন্তু আমরা এক কদমও পিছু হোটবো না শুরু হবে চতুর্থ দিনের যুদ্ধ এটি ছিল এক চরম অসম লড়াই 10 লাখের কাছাকাছি পশ্চিমা সৈন্যের বিপরীতে মুষ্টিমেয়ও কয়েকজন মুসলিম কিন্তু যাদের সাথে স্বয়ং আল্লাহ থাকেন তাদের সংখ্যা দিয়ে বিচার করা যায় না। মুমিনদের এই অবিচল ঈমান আর ত্যাগের কারণে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আসমান থেকে তার গায়েবী সাহায্য পাঠাবেন। সেইদিন মুসলিম বাহিনী এমন এক প্রচন্ড এবং মরণপন আক্রমণ চালাবে যা শত্রুবাহিনীর স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেনি। মুসলিমদের আল্লাহু আকবার ধ্বনিতে শত্রুদের বিশাল বিহ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে। শত্রুদের মধ্যে হাহাকার পড়ে যাবে। তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালাতে শুরু করবে। এক পর্যায়ে আল্লাহ মুসলিমদের চূড়ান্ত বিজয় দান করবেন। পরাশক্তিদের দম্ভ চিরদিনের জন্য চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে। বিজয়ের পর মুসলিম সৈন্যরা যখন ক্লান্ত শরীরে তাদের অস্ত্রগুলো জয়তুন গাছের ডালে ঝুলিয়ে রাখবে। যখন তারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ ভাগ বাটোয়ারা করতে বসবে তাদের মনে তখন এক বিশাল শান্তি। এত বড় একটা ফিতনা দূর হলো। ইসলাম বিজয়ী হল। কিন্তু তাদের এই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হবে না। হঠাৎ করেই এক বিকট চিৎকার শোনা যাবে। কেউ একজন চিৎকার করে বলবে হে মুসলমানরা তোমরা এখানে বসে সম্পদ ভাগ করছো। আর ওদিকে তোমাদের বাড়িঘরে তোমাদের পরিবার পরিজনের কাছে দাজ্জাল হানা দিয়েছে। দাজ্জাল বেরিয়ে পড়েছে। দাজ্জাল এই নামটা শোনা মাত্রই মুজাহিদদের বুকের রক্তহীন হয়ে যাবে। যে দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার জন্য আদম আলাইহিস সালাম থেকে শুরু করে শেষ নবী পর্যন্ত সবাই সতর্ক করেছেন সেই দাজ্জাল তারা তাদের সব সম্পদ সেখানেই ফেলে দেবে। নিজেদের পরিবারকে বাঁচানোর জন্য পাগলের মত ঘোড়া ছুটিয়ে বাড়ির দিকে রওনা হবে। কিন্তু যখন তারা তাদের গন্তব্যে পৌঁছাবে তখন তারা দেখবে এটা ছিল একটা মিথ্যা খবর। দাজ্জাল তখনো বের হয়নি। শয়তান তাদের ধোঁকা দেওয়ার জন্য এবং তাদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য ওই চিৎকার করেছিল। তবে [নাক ডাকা] এই স্বস্তিও হবে খুবই ক্ষণস্থায়ী। কারণ তারা যখন নিশ্চিত হবে যে দাজ্জাল বের হয়নি ঠিক তার কিছুদিন পরেই সত্যিকারের দাজ্জাল তার ভয়ঙ্কর রূপ নিয়ে আত্মপ্রকাশ করবে। সে সিরিয়া এবং ইরাকের মাঝখানের কোন এক জায়গা থেকে বের হয়ে আসবে। দাজ্জালের আত্মপ্রকাশের সাথে সাথে পৃথিবীতে এক ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে। দাজ্জালের এক চোখ কানা থাকবে। চোখটি আঙ্গুরের মত খোলা থাকবে। তার কপালে স্পষ্ট অক্ষরে লেখা থাকবে কাফের। যা অক্ষর জ্ঞান না থাকলেও পৃথিবীর প্রতিটি প্রকৃত মুমিন পড়তে পারবে। কিন্তু যাদের ঈমান নেই তারা অন্ধ হয়ে থাকবে। দাজ্জাল নিজেকে খোদা দাবি করবে। তার এক হাতে থাকবে বিশাল আগুনের নদী বা জাহান্নাম। যা আসলে হবে সুশীতল জান্নাত। আর অন্য হাতে থাকবে জান্নাত যা আসলে হবে ভয়ঙ্কর জাহান্নাম। সে আকাশকে হুকুম দিলে বৃষ্টি পড়বে। মাটিকে হুকুম দিলে ফসল ফলবে। সে মৃত মানুষকে জ্যান্ত করার জাদুকরী ভেলকি দেখাবে। পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষ বিশেষ করে যাদের ঈমান দুর্বল তারা তার জাদুতে মুগ্ধ হয়ে তাকেই খোদা মেনে নেবে এবং তার ধ্বংসের ফাঁদে পা দেবে। দাজ্জাল তার বিশাল বাহিনী নিয়ে তীব্র বেগে পুরো পৃথিবী চষে বেড়াবে। সে পবিত্র মক্কা এবং মদিনায় ঢোকার চেষ্টা করবে, কিন্তু পাহারারত ফেরেশতারা খোলা তলোয়ার হাতে তাকে বাধা দেবে। মদিনার মাটি তিনবার কেঁপে উঠবে এবং মদিনা থেকে সব মুনাফিকরা বের হয়ে দাজ্জালের সাথে যোগ দেবে। এরপর দাজ্জাল ক্ষিপ্ত হয়ে সিরিয়ার দিকে হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম এর বাহিনীর দিকে ধেয়ে আসবে। হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম এবং তার অল্প সংখ্যক মুমিন সঙ্গী তখন দামেস্কের এক মসজিদ যা বর্তমানে উমাইয়া মসজিদ নামে পরিচিত সেখানে আশ্রয় নেবেন। দাজ্জালের বিশাল বাহিনী সেই মসজিদ অবরুদ্ধ করে ফেলবে। মুমিনরা চরম সংকটে পড়বেন। তাদের কাছে কোন খাবার থাকবে না, পানি থাকবে না। তখন মুমিনদের খাবার হবে কেবল আল্লাহর জিকির, তাসবিহ আর তাকবীর। তারা বুঝতে পারবেন যে দাজ্জালের অসীম জাদুকরী ক্ষমতার সাথে সরাসরি লড়াই করার সামর্থ্য তাদের নেই। ঠিক সেই চরম হতাশার মুহূর্তে যখন মনে হবে আর কোন আশা নেই মৃত্যু একেবারে শিওরে তখন ফজরের নামাজের সময় হবে। মুয়াজ্জিন আযান দেবেন। হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম নামাজের ইমামতি করার জন্য সামনে দাঁড়াবেন। আর ঠিক সেই মুহূর্তে আসমানের দরজা খুলে যাবে। মেঘের ভিতর থেকে দুজন ফেরেশতার ডানায় ভর করে হালকা হলুদ রঙের দুটো কাপড় পরে আকাশ থেকে ধীরে ধীরে নেমে আসবেন আল্লাহর মহান নবী হযরত ঈসা ইবনে মারিয়াম আলাইহিস সালাম। তার পবিত্র চুল থেকে টপ টপ করে পানি ঝরবে। মনে হবে যেন তিনি এইমাত্র গোসল করে বের হয়েছেন। তার চেহারা থেকে নূরের আভা ঠিকরে পড়বে। তিনি দামেস্কের সেই সাদা মিনারের উপর অবতরণ করবেন। মসজিদের ভিতরে থাকা মুমিনরা অবাক হয়ে আকাশের দিকে তাকাবে। হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম বুঝতে পারবেন যে আল্লাহর সাহায্য এসে গেছে। তিনি চরম সম্মানের সাথে পেছনে সরে দাঁড়াবেন এবং হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে নামাজের ইমামতি করার জন্য অনুরোধ করবেন। কিন্তু হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম অত্যন্ত বিনয়ের সাথে বলবেন, না আপনারাই আপনাদের ইমাম। আল্লাহ এই উম্মতকে এই সম্মান দিয়েছেন। আপনিই নামাজ পড়ান। নামাজ শেষ হওয়ার পর হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম মুমিনদের নির্দেশ দেবেন মসজিদের দরজা খুলে দাও দরজা খোলা হবে বাইরে দাজ্জাল তার বিশাল বাহিনী নিয়ে দম্ভ ভরে দাঁড়িয়ে আছে কিন্তু হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে দেখা মাত্রই সেই ভয়ঙ্কর দাজ্জাল যে নিজেকে খোদা দাবি করত যার ভয়ে পৃথিবী কাঁপতো সে ভয়ে এমনভাবে গলতে শুরু করবে যেমন পানিতে লবণ গলে যায় দাজ্জাল প্রাণ ভয়ে পাগলের মত পালাতে শুরু করবে কিন্তু হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম তাকে ধাওয়া করবেন। তিনি ফিলিস্তিনের লুদ নামক শহরের গেটের কাছে গিয়ে দাজ্জালকে ধরে তার হাতের বর্ষা দিয়ে দাজ্জালকে চিরতরে শেষ করে দেবেন। তিনি মুমিনদের তার বর্ষায় লেগে থাকা দাজ্জালের রক্ত দেখাবেন। দাজ্জালের বিশাল বাহিনী তখন দিশাহারা হয়ে পালাবে। কিন্তু গাছপালা আর পাথর পর্যন্ত মুসলিমদের বলে দেবে হে মুসলিম আমার পেছনে ইহুদি লুকিয়ে আছে তাকে হত্যা করো। দাজ্জালের মৃত্যুর সাথে সাথেই পৃথিবীর বুক থেকে সর্বকালের সবচেয়ে বড় ফিতনার অবসান ঘটবে। এরপর পৃথিবীতে হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের নেতৃত্বে এক শান্তির যুগ আসবে। তিনি পৃথিবীতে একচ্ছত্র ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন। পুরো পৃথিবী আবার শান্তিতে ভরে উঠবে। বাঘ আর ছাগল এক ঘাটে পানি খাবে। সাপের বিষ নষ্ট হয়ে যাবে। মানুষের মধ্যে কোন হিংসা বা বিদ্বেষ থাকবে না। পৃথিবী তার সব লুকানো সম্পদ বের করে দেবে। প্রিয় দর্শক আজকের এই ভিডিওটি শেষ করার আগে আসুন আমরা একটু গভীরভাবে চিন্তা করি। এই ঘটনাগুলো কোন রূপকথার গল্প বা সাইন্স ফিকশন সিনেমা নয়। এগুলো আমাদের অবধারিত ভবিষ্যৎ যা আমাদের প্রিয় নবীজি নিজের চোখে দেখে আমাদের জানিয়ে গেছেন এবং যা ঘটা শতভাগ নিশ্চিত। আজ আমরা মধ্যপ্রাচ্যে যে সংঘাত দেখছি যে নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ার খবর শুনছি। দুনিয়ার প্রতি আমাদের যে অন্ধ মোহ তৈরি হয়েছে তা কি সেই মহাযুদ্ধেরই পদধ্বনি নয়? আমরা কি সেই ভলঙ্কর সময়ের খুব কাছাকাছি চলে আসিনি? এই ফিতনার যুগে আমাদের করণীয় কি? আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের একটি রক্ষা কবজ শিখিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে ব্যক্তি প্রতি শুক্রবার অত্যন্ত মনোযোগের সাথে সূরা কাহাফ তেলাওয়াত করবে বায়ের প্রথম 10 আয়াত মুখস্ত রাখবে সে দাজ্জালের ভয়ঙ্কর ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকবে। আমাদের উচিত দুনিয়ার মোহে অন্ধ না হয়ে আখেরাতের চিরস্থায়ী জীবনের প্রস্তুতি নেওয়া। কারণ যখন সেই মহাযুদ্ধ শুরু হবে যখন পৃথিবীর নিয়ম কানুন বদলে যাবে তখন আমাদের ব্যাংক ব্যালেন্স আমাদের দামি বাড়ি বা গাড়ি কোন কাজে আসবে না সেদিন কাজে আসবে শুধু আমাদের মজবুত ঈমান এবং আমাদের নেক আমল মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে আমাদের পরিবারকে দাজ্জালের ফিতনা থেকে হেফাজত করুন এবং শেষ জামানায় হযরত ইমাম মাহাদী ও হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের সাথী হওয়ার তৌফিক দান দান করুন। আমিন ইয়া রাব্বুল আলামীন।

Need a transcript for another video?

Get free YouTube transcripts with timestamps, translation, and download options.

Transcript content is sourced from YouTube's auto-generated captions or AI transcription. All video content belongs to the original creators. Terms of Service · DMCA Contact

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি ও কেয়ামতের ভয়ানক আলামত!...