আসসালামু আলাইকুম প্রিয় দর্শক পৃথিবীতে আমরা কত রকমের সুন্দর সুন্দর পোশাক পরিধান করি তাই না নামি দামি ব্র্যান্ড রকমারি ডিজাইন সিল্ক সুতি বা মখমলের পোশাক দিয়ে আমরা নিজেদের সাজাতে পছন্দ করি কিন্তু একটা সময় পর এই শখের পোশাকগুলো পুরনো হয়ে যায় এর রং জ্বলে যায় কিংবা তা ছিড়ে যায় পৃথিবীর কোন পোশাকই চিরস্থায়ী নয় কিন্তু আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন যে জান্নাতের ওয়াদা [মিউজিক] আল্লাহ সুবহানাহুতালা মুমিনদের জন্য করেছেন। সেই অনন্ত সুখের ঠিকানায় [মিউজিক] জান্নাতিদের পোশাক কেমন হবে? সেই পোশাক কি কখনো পুরনো হবে? জান্নাতিদের পোশাকের উপাদান পৃথিবীর কোন সাধারণ সুতো বা তুলা দিয়ে [মিউজিক] তৈরি হবে না। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে জান্নাতিদের পোশাক হবে রেশম বা সিল্কের। পৃথিবীতে আল্লাহ [মিউজিক] তাআলা পুরুষদের জন্য রেশমের পোশাক এবং স্বর্ণ ব্যবহার করা হারাম বা নিষিদ্ধ [মিউজিক] করেছেন। কারণ এটি হলো অহংকার এবং দুনিয়ার মোহ। কিন্তু যারা পৃথিবীতে [মিউজিক] আল্লাহর ভয়ে এই রেশমের পোশাক থেকে নিজেদের বিরত রাখবে আল্লাহ তাদের জান্নাতি [মিউজিক] সবচেয়ে দামি রেশমের পোশাক উপহার দেবেন। কোরআনের সূরা আল কাহাফ এবং সূরা আল ইনসানে আল্লাহ তাআলা জান্নাতের পোশাকের দুটি বিশেষ স্তরের কথা বলেছেন। সুন্দুস এবং [মিউজিক] ইস্তাব্রাক। সুন্দুস হলো অত্যন্ত মিহি, মুসরিন এবং পাতলা রেশমের কাপড়। [মিউজিক] যা জান্নাতিরা তাদের শরীরের ভেতরের অংশে পরিধান করবে। এটি এতই নরম হবে যে শরীরের সাথে প্রশান্তির পরস বুলিয়ে দেবে। আর ইস্তাব্রাক হলো উজ্জ্বল, পুরু এবং চমকালো রেশমের ব্রোকেট [মিউজিক] যা তারা বাইরের আবরণ হিসেবে পড়বে। এই দুইর সমন্বয়ে তৈরি পোশাক জান্নাতিদের [মিউজিক] এক অভাবনীয় রাজকীয় রূপ দান করবে। জান্নাতিদের পোশাকের একটি নির্দিষ্ট রঙের কথা পবিত্র কুরআনে [মিউজিক] বারবার উল্লেখ করা হয়েছে। আর সেই রংটি হল সবুজ। সূরা আল কাহফের 31 নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে তারা সবুজ রঙের মিহি ও পুরো রেশমী বস্ত্র পরিধান করবে। আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে জান্নাতের [মিউজিক] পোশাকের রং সবুজ কেন? মনোবিজ্ঞান এবং বিজ্ঞান উভয়ই বলে। সবুজ রং হলো সতেজতা, জীবন, [মিউজিক] প্রশান্তি এবং চির বসন্তের প্রতীক। সবুজ রং চোখের জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক। জান্নাত হলো চির সবুজ এক উদ্যান। আর জান্নাতিদের সবুজ পোশাক সেই চিরন্তন সতেজতারই বহিঃপ্রকাশ। আরেকটি বিস্ময়কর তথ্য হলো জান্নাতীদের এই পোশাক কোথা থেকে আসবে জানেন? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানিয়েছেন জান্নাতের তুবা নামের একটি বিশাল গাছ থাকবে। এই গাছটি এত বড় যে একজন অশারোহী যদি এর ছায়ায় 100 বছরও ঘোড়া ছোটায় তবুও এর ছায়া অতিক্রম করতে পারবে না। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী এই তুবা গাছের ফলের আবরণ বা কুড়ি ফেটেই [মিউজিক] জান্নাতিদের জন্যই অপরূপ রেশমী পোশাক বের হবে। সুবহানাল্লাহ। শুধু রেশমের পোশাকই নয়, জান্নাতিদের সাজস্যা পূর্ণ করার জন্য তাদের পড়ানো হবে মহামূল্যবান সব অলংকার। পবিত্র কোরআনের সূরা আল ফাতের 33 নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে সেখানে তাদের স্বর্ণের কাঁকুন ও মুক্তা দ্বারা অলংকৃত [মিউজিক] করা হবে। জান্নাতিদের হাতে পড়ানো হবে স্বর্ণ, রৌপ্য, রুপা এবং খাঁটি মুক্তার তৈরি নজরকারা ব্রেসলেট বা বালা। পৃথিবীতে রাজা বাদশারাও এমন নিখুত ও উজ্জ্বল অলংকার কখনো কল্পনা করতে পারেনি। নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই এই সাজসজ্জার ব্যবস্থা থাকবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, একজন জান্নাতি যে অলংকার [মিউজিক] পড়বে, তার আলো দুনিয়ার সূর্য ও চাঁদের আলো থেকেও বেশি উজ্জ্বল হবে। তাদের মাথায় থাকবে তাজুল [মিউজিক] ওয়াকার বা সম্মানের মুকুট। যার একটি মাত্র মনিমুক্তা পৃথিবীর সমস্ত সম্পদের চেয়েও বেশি দামী। পৃথিবীর পোশাক যতই দামি হোক না কেন তা একসময় ছিড়ে যায়, ময়লা হয়। কিন্তু জান্নাতি পোশাকের বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ আলাদা। সহীহ মুসলিমের একটি হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জান্নাতিদের পোশাক কখনো পুরনো হবে না। আর তাদের যৌবনও কখনো ফুরিয়ে যাবে না। জান্নাতের পোশাকে কখনো ধুলোবালি লাগবে না। তাতে ঘামের কোন দুর্গন্ধ হবে [মিউজিক] না এবং তা ধোয়ারও প্রয়োজন হবে না। এটি সবসময় নতুনের মত উজ্জ্বল আর সুগন্ধ ছড়াতে থাকবে। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো জান্নাতি ব্যক্তি যখন যা ইচ্ছা করবে [মিউজিক] তার পোশাকের নকশা এবং রং তার মনের ইচ্ছা অনুযায়ী সাথে সাথে পরিবর্তন হয়ে যাবে। এই পোশাক [মিউজিক] পড়লে কোন ক্লান্তি বা অস্বস্তিবোধ হবে না। বরং তার শরীরের সাথে এক অদ্ভুত প্রশান্তির মিলন ঘটাবে। প্রিয় দর্শক, দুনিয়ার এই ক্ষণস্থায়ী জীবনের সাজসজ্জা আর পোশাক নিয়ে আমরা কতই না ব্যস্ত থাকি। অথচ আমাদের আসল গন্তব্য তো আখিরাত। দুনিয়ার মোহ ত্যাগ করে আমরা যদি [মিউজিক] আল্লাহর নির্দেশিত পথে চলি তবেই আমরা সেই অনন্ত জান্নাতের অধিকারী হতে পারব। যেখানে আমাদের [মিউজিক] জন্য অপেক্ষা করছে সুন্দস ও ইস্তাবরাকের পোশাক এবং স্বর্ণমুক্তার রাজকীয় মুকুট। আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা'আলা আমাদের সবাইকে জান্নাতুল ফেরদৌসের মেহমান হিসেবে কবুল করুন এবং সেই জান্নাতি পোশাক পরিধান করার তৌফিক দান করুন। আমিন। আজকের ভিডিওটি আপনাদের কেমন লাগলো তা অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। ইসলামী জ্ঞান সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে ভিডিওটি শেয়ার করুন। এমন আরো অনুপ্রেরণামূলক ভিডিও পেতে [মিউজিক] আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে বেল আইকনটি ক্লিক করে রাখুন। আসসালামু আলাইকুম।
Get free YouTube transcripts with timestamps, translation, and download options.
Transcript content is sourced from YouTube's auto-generated captions or AI transcription. All video content belongs to the original creators. Terms of Service · DMCA Contact