যুলকারনাইন কি সত্যিই বাস্তব ছিলেন? কুরআনের সবচেয়ে শক্তিশালী বাদশা

Sakib Islamic Corner 2,907 words

Full Transcript

আজকের ভিডিওতে আলোচনা করব বাদশাহ জুলকারনাইন সম্পর্কে। তার কাহিনী এতটাই [মিউজিক] অবিশ্বাস্য আর অলৌকিক যে যদি তা স্বয়ং মহাগ্রন্থ আল-কোরআনে বর্ণিত না হতো তবে হয়তো আধুনিক যুগের মানুষ একে নিছক রূপকথা বা মিথ্যা বলেই উড়িয়ে দিত। আজ আমরা সেই বিশ্বয়কর রহস্যময় এবং অবিশ্বাস্য বাদশা জুলকারনায়নের [মিউজিক] গল্প শুনবো। যার কাহিনী 1400 বছর আগে আরবের রুক্ষ মরুভূমিতে দাঁড়িয়ে শুনিয়েছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ মানব আমাদের প্রিয় [মিউজিক] নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। মক্কার বুকে তখন এক থমথমে [মিউজিক] আর উত্তেজনাকর পরিবেশ। ইসলামের আলো কেবল মানুষের হৃদয়ে ছড়াতে শুরু করেছে। মক্কার কুরাইশ নেতারা মরিয়া হয়ে উঠেছে এই নতুন ধর্মকে যে কোোন মূল্যে থামানোর জন্য। তারা কিছুতেই বুঝতে পারছিল [মিউজিক] না কিভাবে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মিথ্যা প্রমাণ করা যায়। কিভাবে মানুষের সামনে [মিউজিক] তাকে হেয় করা যায়। কোন উপায় না পেয়ে তারা মদিনার ইহুদি পন্ডিতদের কাছে লোক পাঠালো। ইহুদি পন্ডিতেরা ছিল প্রাচীন কিতাব এবং ইতিহাসের জ্ঞানী। তারা কুরাইশদের শিখিয়ে দিল এক অভিনব কৌশল। তারা বলল তোমরা তাকে তিনটি প্রশ্ন করো। যদি সে এই তিনটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারে তবে নিঃসন্দেহে সে একজন সত্য নবী। আর যদি না পারে তবে সে ভন্ড তখন তোমরা তার সাথে যা ইচ্ছা তাই করতে পারো। সেই তিনটি কঠিন প্রশ্নের একটি [মিউজিক] ছিল বাদশাহ জুলকারমাইনকে নিয়ে যিনি পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্ত ভ্রমণ করেছিলেন। কুরাইশরা ভাবল আরবের এক নিরক্ষর [মিউজিক] মানুষ যিনি কখনো মক্কা ও সিরিয়ার বাইরে খুব একটা যাননি প্রাচীন ইতিহাস নিয়ে যার কোন প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা নেই তিনি কি করে জানবেন সেই হাজার বছর আগের দিগবিজয়ী [মিউজিক] বাদশার কথা? তারা হাসি মুখে বুক ফুলিয়ে ফিরে এলো মক্কায়। সবার সামনে প্রশ্ন ছুড়ে দিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে। নবীজি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে বললেন, আমি আগামীকাল তোমাদের এর উত্তর দেব। কিন্তু তিনি ভবিষ্যতের কোন কাজের ক্ষেত্রে ইনশাআল্লাহ কথাটি বলতে ভুলে গিয়েছিলেন। আর ঠিক এই কারণেই আসমান থেকে ওহী আসা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেল। একদিন দুইদিন তিনদিন করে দীর্ঘ [মিউজিক] 15 দিন কেটে গেল। মক্কার কাফিররা আনন্দে মেতে উঠলো। তারা চারদিকে রটিয়ে দিতে শুরু করল যে মোহাম্মদের খোদা তাকে ছেড়ে চলে গেছে। সে আর কোন উত্তর দিতে পারবে না। নবীজির হৃদয় তখন বিষাদে আর দুশ্চিন্তায় [মিউজিক] পূর্ণ। অবশেষে সমস্ত অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সমস্ত উপহাসের জবাব নিয়ে জিব্রাইল আলাইহিস সালাম আকাশ থেকে নেমে এলেন। তিনি নিয়ে এলেন সূরা আল কাহাফ। [মিউজিক] আর সেই সূরার আয়াতে আয়াতে উন্মোচিত হলো সেই অজানা রহস্যময় বাদশার অবিস্মরণীয় উপাখ্যান। আল্লাহ তাআলা সেই মহান বাদশাকে ডাকলেন জুলকারনাইন নামে। [গান গাওয়া] জুলকারনাইন। [মিউজিক] এই অদ্ভুত নামের অর্থ কি? আরবি ভাষায় জুল মানে হলো অধিকারী। আর কারনাইন মানে হল দুটি সিং বা দুটি যুগ। কেউ কেউ বলেন তিনি পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম এই দুই প্রান্তে পৌঁছেছিলেন বলে তাকে জুলকারনাইন বলা হয়। আবার কারো মতে তিনি তার সময়ে দুটি ভিন্ন যুগ বা প্রজন্মের উপর রাজত্ব করেছিলেন। এমনও মত রয়েছে যে তিনি আলো এবং অন্ধকারের পথে ভ্রমণ করেছিলেন অথবা তার মুকুটে দুটি সিংহের মত বিশেষ কোন অংশ ছিল। তবে নাম বা উপাধির পেছনের কারণ যাই হোক না কেন তার আসল পরিচয় লুকিয়ে আছে তার সুবিশাল কর্মে [মিউজিক] তার অটল বিশ্বাসে এবং তার অতুলনীয় ন্যায়বিচারে। আল্লাহ তাআলা কুরআনে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন [মিউজিক] আমি তাকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম এবং তাকে প্রত্যেক বিষয়ের পথ ও উপকরণ দান করেছিলাম। কি অদ্ভুত আর বিশ্বয়কর এই ঘোষণা? স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যার ক্ষমতার স্বীকৃতি দিচ্ছেন তার ক্ষমতা ঠিক কতটা বিশাল ছিল তা কি আমরা আমাদের এই ক্ষুদ্র মস্তিষ্কে আদৌ কল্পনা করতে পারি? আল্লাহ তাকে এমন জ্ঞান, এমন অত্যাধুনিক কৌশল, এমন অঢেল সম্পদ [মিউজিক] এবং এমন এক সুশৃঙ্খল বিশাল সৈন্যবাহিনী দিয়েছিলেন, যার সামনে পৃথিবীর কোন শক্তি [মিউজিক] টিকতে পারতো না। তিনি চাইলে পারতেন পুরো পৃথিবীকে রক্তে ভাসিয়ে দিতে। পারতেন নিজের নামে বিশাল [মিউজিক] সব মূর্তি বানাতে। মানুষকে নিজের দাস বানাতে। কিন্তু তিনি তা করেননি। [মিউজিক] তিনি তার এই অসীম ক্ষমতাকে ব্যবহার করেছিলেন কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। মাজলুম ও অসহায় মানুষের সহায়তার জন্য এবং পৃথিবীতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য। জুল কারনাইনের সেই অবিশ্বাস্য বিশ্বযাত্রা শুরু হলো। তিনি তার বিশাল [মিউজিক] বাহিনী নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন অজানার উদ্দেশ্যে। তার প্রথম যাত্রা ছিল পশ্চিম দিকে। যেদিকে সূর্য অস্ত যায়। দিনের পর দিন মাসের পর মাস চলতে থাকলো তার এই বিরতিহীন অভিযান। দুর্গম পাহাড়ের চূড়া [মিউজিক] বিস্তীর্ণ তপ্ত মরুভূমি। আর গভীর অরণ্য পেরিয়ে তার বাহিনী বীরদর্পে এগিয়ে চলল। তার সাথে ছিল হাজার হাজার সুসজ্জিত সৈন্য সারি সারি ঘোড়া উট আর [মিউজিক] সমরাস্ত্রের এক বিশাল বহর। তাদের চলার পথের ধুলোয় আকাশ যেন অন্ধকার হয়ে আসছে। তাদের ঘোড়ার খুরের শব্দে কেঁপে উঠছে মাটি। চলতে চলতে তিনি এমন এক জায়গায় পৌঁছালেন যা ছিল তৎকালীন মানুষের জানা পৃথিবীর একেবারে [মিউজিক] শেষ সীমানা। এর বাইরে আর কোন স্থলভাগ বা জনবসতি ছিল না। সেখানে দাঁড়িয়ে জুলকারনাইন দেখলেন এক অদ্ভুত মায়াবী আর বিশ্বয়কর দৃশ্য। সূর্য যেন [মিউজিক] এক বিশাল কর্দমাক্ত জলাশয়ের মধ্যে ডুবে যাচ্ছে। কোরআনের ভাষায় একে বলা হয়েছে আইনিন হামিয়া। এটি হতে পারে কোন মহাসাগরের তীর বা কোন বিশাল জলাভূমি যেখানে সূর্যাস্তের সময় পানির রং কাঁদার মত কালো ও লালচে দেখায়। >> [মিউজিক] >> বিশাল সেই জলরাশির তীরে দাঁড়িয়ে জুলকারনাইন যখন সূর্যাস্ত দেখছিলেন তখন তার সামনে এক নতুন পরীক্ষা উপস্থিত হলো। সেই অঞ্চলে এক অবাধ্য এবং পাপাচারী জাতির [মিউজিক] বসবাস ছিল। আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা'আলা জুলকারনাইনকে বললেন, হে জুলকারনাইন, তুমি চাইলে তাদের কঠোর শাস্তি [মিউজিক] দিতে পারো অথবা তাদের সাথে সদয় আচরণ করতে পারো। তিনি একজন প্রবল পরাক্রমশালী শাসক [মিউজিক] যার হাতে অসীম ক্ষমতা। যার তরবারির নিচে দাঁড়িয়ে আছে এক পরাজিত ও দুর্বল জাতি। আল্লাহ তাকে পুরোপুরি স্বাধীনতা দিয়েছেন তাদের ভাগ্য নির্ধারণের। পৃথিবীর অন্য কোন অহংকারী রাজা হলে হয়তো সাথে সাথে তাদের নির্বিচারে হত্যা করত। তাদের সম্পদ লুণঠন করত বা তাদের আজীবনের জন্য দাসে পরিণত করতো। কিন্তু জুল-কারনাইন কি করলেন? তিনি তার ক্ষমতার দম্ভ দেখালেন না। তিনি অত্যন্ত প্রজ্ঞার সাথে ঘোষণা করলেন এক যুগান্তকারী এবং মানবিক সংবিধান। তিনি বললেন, যে ব্যক্তি জুলুম করবে, পাপাচার করবে, আমি তাকে শাস্তি দেব। এরপর তাকে তার রবের কাছে ফিরিয়ে নেওয়া হবে এবং তিনি তাকে আখেরাতে আরো কঠিন শাস্তি দেবেন। কিন্তু যে ব্যক্তি ঈমান আনবে এবং সৎকর্ম করবে তার জন্য রয়েছে উত্তম পুরস্কার। [মিউজিক] আর আমি তাকে আমার পক্ষ থেকে সহজ কাজের নির্দেশ দেবো। কি অসাধারণ এক ন্যায়বিচারের [মিউজিক] দৃষ্টান্ত। তিনি অপরাধীদের বিনা শাস্তিতে ছেড়ে দিলেন না আবার নিরপরাধীদের উপর একটুও জুলুম করলেন না তিনি মানুষকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিলেন যে এই পৃথিবীতে তার ক্ষমতা কেবল আল্লাহর দেওয়া এক পবিত্র আমানত মাত্র আর আখেরাতের বিচারই হলো চূড়ান্ত বিচার তিনি সেই [মিউজিক] পশ্চিমাঞ্চলের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করলেন মানুষকে এক আল্লাহর পথে ডাকলেন [মিউজিক] এবং তারপর আবার নতুন এক গন্তব্যের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লেন। পশ্চিমের কাজ সফলভাবে শেষ করে জুলকারনাইন এবার মুখ ফেরালেন [মিউজিক] ঠিক উল্টো দিকে পৃথিবীর পূর্ব প্রান্তে। যেখান থেকে প্রতিদিন সূর্য উদিত হয়। আবার শুরু হলো সেই দীর্ঘ ক্লান্তিকর এবং রোমাঞ্চকর যাত্রা। মাইলের পর মাইল বিরানভূমি দিনের প্রচন্ড রোদ আর রাতের হাড় কাঁপানো শীত উপেক্ষা করে প্রবল সাহসের সাথে এগিয়ে চলল তার বাহিনী। অবশেষে তারা পৌঁছালেন পৃথিবীর পূর্ব প্রান্তের এমন এক দুর্গম জায়গায়, যেখানে সূর্যের আলো এক অদ্ভুত এবং অসহায় নাতির উপর এসে পড়ছে। কোরআনের বর্ণনায় এই জায়গাটির চিত্রায়ন এতই জীবন্ত [মিউজিক] যে চোখ বন্ধ করলেই তা দেখতে পাওয়া যায়। আল্লাহ বলছেন, অবশেষে যখন তিনি সূর্যোদয়ের স্থানে পৌঁছালেন, [মিউজিক] তখন দেখলেন তা এমন এক সম্প্রদায়ের উপর উদিত হচ্ছে যাদের জন্য আমি সূর্যের তাপ থেকে রক্ষা পাওয়ার কোন আড়াল রাখিনি। একটু কল্পনা করুন সেই মানুষগুলোর করুণ অবস্থা। তাদের কোন ঘরবাড়ি ছিল না, রোদ থেকে বাঁচার মত কোন তাবু ছিল না, এমনকি পরনে পর্যাপ্ত কাপড়ও হয়তো ছিল না। তাদের ভূমি ছিল এতটাই সমতল ও রুক্ষ যে সেখানে কোন বড় গাছপালা বা পাহাড়ের ছায়াও ছিল না। সূর্যের প্রখর রোদ সরাসরি তাদের শরীরের উপর এসে পড়তো। তারা গুহায় বা মাটির নিচে গর্ত করে কোন মতে নিজেদের লুকিয়ে রাখতো। তারা ছিল একেবারে আদিম, অনগ্রসর এবং অসহায় এক মানবগোষ্ঠী। জুলকারনাইন তাদের উপর কোন রকম আধিপত্য বিস্তার করলেন না। তিনি তাদের জীবনযাত্রায় জোর করে কোন পরিবর্তন আনলেন না বা তাদের ওপর কোন প্রকার কর চাপিয়ে দিলেন না। তিনি তাদের প্রতি অত্যন্ত দয়াশীল হলেন। আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলছেন, ঘটনা এমনই ছিল [মিউজিক] আর তার কাছে যা কিছু ছিল আমার জ্ঞান তা সম্পূর্ণ পরিবেষ্টন করে আছে। এই আয়াতে লুকিয়ে আছে এক গভীর তাৎপর্য। জুলকারনাইন এই অসহায় মানুষদের সাথে ঠিক কি আচরণ করেছিলেন তা আল্লাহ বিস্তারিত বলেননি। শুধু ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি যা করেছিলেন তা ছিল সম্পূর্ণ সঠিক ন্যায়সঙ্গত এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অনুযায়ী তিনি তাদের নিজ অবস্থায় শান্তিতে বসবাস করতে দিলেন এবং সেখান থেকে তার তৃতীয় এবং সবচেয়ে রহস্যময় যাত্রার জন্য প্রস্তুত হলেন। এবারের যাত্রাটি ছিল একেবারে ভিন্ন। তিনি পূর্ব বা পশ্চিম নয় বরং এক অজানা দুর্গম এবং রহস্যময় পথে অগ্রসর হলেন। চলতে চলতে তিনি এসে পৌঁছালেন দুটি বিশাল পাহাড় বা পর্বত প্রাচীরের মাঝখানে। জায়গাটি এতটাই দুর্গম আর ভীতিকর ছিল যে সাধারণ মানুষের পক্ষে সেখানে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব। এই দুটি বিশাল পাহাড়ের পাদদেশে তিনি এক অদ্ভুত সম্প্রদায়ের সন্ধান পেলেন। কুরআনের ভাষায় তারা এমন লোক ছিল যারা কোন কথা বুঝতেই পারছিল না। অর্থাৎ তাদের ভাষা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন [মিউজিক] জুলকারনাইন বা তার বাহিনীর কেউ তাদের ভাষা বুঝতে পারছিল না। আর তারাও জুলকারনাইনের ভাষা [মিউজিক] বুঝছিল না। কিন্তু বিপদের ভাষা, কান্নার ভাষা আর আতঙ্কের ভাষা তো পৃথিবীর সব মানুষের কাছেই এক। ইশারায় বা কোন দোভাসির মাধ্যমে যখন তাদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করা হলো তখন বেরিয়ে এলো এক ভয়ঙ্কর এবং শিউড়ে ওঠার মত সত্য। সেই দুর্বল আর আতঙ্কিত মানুষগুলো জুলকারনাইনকে জানালো এক মহাবিপদের কথা। তারা বলল, হে জুলকারনাইন, [মিউজিক] ইয়াজুজ এবং মাজুজ এই দেশে ব্যতক ফাসাদ বা অশান্তি সৃষ্টি করছে। কারা এই ইয়াজুজ আর মাজুজ? ইসলামিক স্কলারদের মতে এরা হলো আদম আলাইহিস সালামের বংশধর। কিন্তু এরা সাধারণ মানুষের মতো স্বাভাবিক নয়। এরা অত্যন্ত হিংস্র, বরবর, রক্তপিপাসু এবং ধ্বংসাত্মক প্রকৃতির। এদের সংখ্যা অগণিত যা সাধারণ মানুষের ধারণারও বাইরে। এরা পাহাড়ের ওপার থেকে বন্যার পানির মতো ছুটে আসতো। নিরীহ মানুষদের নির্মমভাবে হত্যা করত। [মিউজিক] তাদের সব ফসল নষ্ট করত। জনবসতি জ্বালিয়ে দিত এবং যা পেত তাই ধ্বংস করে দিত। এদের হাত থেকে বাঁচার কোন উপায় সেই দুর্বল মানুষগুলোর ছিল না। [মিউজিক] তারা ছিল পুরোপুরি অসহায়। মৃত্যু যেন প্রতিদিন তাদের তাড়া করে ফিরত। যখন তারা দেখল যে জুলকারনাইনের মত একজন শক্তিশালী দয়ালু ও ন্যায়পরায়ণ বাদশা বিশাল বাহিনী নিয়ে তাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছেন তখন তারা যেন মৃত্যুর দুয়ার থেকে প্রাণের আশা ফিরে পেল। তারা জুলকারনাইনকে একটি প্রস্তাব দিল। তারা কাতর কন্ঠে বলল আমরা কি আপনাকে আমাদের সম্পদ থেকে কিছু কর বা টাকা পয়সা দেব যাতে আপনি আমাদের এবং তাদের মাঝখানে এক মজবুত [মিউজিক] প্রাচীর নির্মাণ করে দেন তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে বললেন আমার রব আমাকে যে ক্ষমতা ও সম্পদ দিয়েছেন সেটাই আমার জন্য যথেষ্ট তোমাদের সম্পদের আমার কোন প্রয়োজন নেই তোমরা শুধু আমাকে তোমাদের শ্রম ও শারীরিক শক্তি দিয়ে সাহায্য করো আমি তোমাদের ও তাদের মাঝখানে এক দুর্জয় প্রাচীর গড়ে দেব সুবহানাল্লাহ এটি হল হলো একজন প্রকৃত মুমিন শাসকের বৈশিষ্ট্য। তিনিও সকলের সাথে কাজ শুরু করলেন। এটি কোন সাধারণ ইটের বা পাথরের দেওয়াল ছিল না। এটি ছিল প্রাচীন পৃথিবীর এক বিশ্বয়কর অকল্পনীয় ইঞ্জিনিয়ারিং প্রজেক্ট। জুলকারনাইন নির্দেশ দিলেন আমার কাছে লোহার বড় বড় পাথ বা খন্ড নিয়ে [মিউজিক] এসো। পাহাড়ের মাঝখানের সেই বিশাল ফাঁকা জায়গাটি ভারী লোহার পাথ দিয়ে [মিউজিক] স্তরে স্তরে ভরিয়ে দেওয়া হলো। একেবারে পাহাড়ের চূড়া পর্যন্ত যখন লোহার স্তুপ সমান হয়ে গেল তখন তিনি নির্দেশ দিলেন এবার তোমরা আগুন জ্বালাও [মিউজিক] বিশাল সেই লোহার স্তুপের চারপাশে প্রচন্ড আগুন জ্বালানো হলো দাউ দাউ করে জ্বলতে লাগলো আগুনের বিশাল লেলিহান শিখা বাতাসের তোড়ে সেই আগুন এমন রূপ নিল যে পুরো লোহার পাহাড়টি যেন এক বিশাল অগ্নিকুন্ডে পরিণত হলো লোহাগুলো উত্তপ্ত হয়ে একেবারে আগুনের মত লাল হয়ে গেল তৈরি হলো দুই পাহাড়ের মাঝখানে এক জ্বলন্ত লোহার প্রাচীর তিনি বললেন, এবার আমার কাছে গলিত তামা নিয়ে এসো। আমি এই জ্বলন্ত লোহার উপর তা ঢেলে দেবো। গলিত তামা সেই উত্তপ্ত লোহার পাতগুলোর ফাঁকে ফাঁকে ঢুকে গিয়ে এমন এক রাসায়নিক মিশ্রণ তৈরি করল যা [মিউজিক] ঠান্ডা হওয়ার পর পৃথিবীর অন্যতম কঠিন, মসরিন এবং অভেদ্য এক ধাতব প্রাচীরে পরিণত হলো। এটি এতটাই মসরিন এবং উঁচু ছিল যে ইয়াজুজ এবং মাজুজের পক্ষে তা বেড়ে ওপরে ওঠা একেবারে অসম্ভব হয়ে গেল। আর এটি এতটাই পুরু ও শক্ত ছিল যে তা ভেঙে বা ফুটো করে আসাও তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে গেল। চিরকালের জন্য সেই পাহাড়ের ওপারে আটকে গেল সেই ভয়ঙ্কর ধ্বংসাত্মক জাতি। আর এই দিকের দুর্বল মানুষগুলো পেল এক নিরাপদ, [মিউজিক] সুন্দর ও শৃঙ্খল জীবন। কাজ শেষ হলো। বিশাল সেই প্রাচীরের দিকে তাকিয়ে যে কারোরই অহংকারে বুক ফুলে যাওয়ার কথা। জুলকারনাইন চাইলেই পারতেন এই প্রাচীরের গায়ে নিজের নাম খোদাই করে রাখতে। [মিউজিক] পারতেন সবাইকে ডেকে বলতে দেখো আমি আমার অসীম বুদ্ধি আমার উন্নত প্রযুক্তি আর আমার ক্ষমতা দিয়ে কত বড় এক অসাধ্য সাধন করেছি কিন্তু না একজন আল্লাহর প্রিয় বান্দা কখনোই এমনটা করেন না তিনি সেই বিশাল এবং অভেদ্য প্রাচীরের দিকে তাকিয়ে চরম বিনয় ও কৃতজ্ঞতার সাথে বললেন এটি আমার রবের এক বিশেষ রহমত আল্লাহু আকবার তিনি নিজের কোন কৃতিত্বই দাবি [মিউজিক] করলেন না সবকিছুই তিনি সপে দিলেন সেই মহান রবের দরবারে যিনি তাকে এই অসামান্য জ্ঞান ও ক্ষমতা দিয়েছেন। শুধু তাই নয় তিনি সাথে সাথে ভবিষ্যতের এক ভয়ঙ্কর ভবিষ্যৎবাণীও স্মরণ করিয়ে দিলেন। তিনি বললেন, যখন আমার রবের ওয়াদা পূর্ণ হওয়ার সময় আসবে তখন তিনি এই বিশাল অহংকার চূর্ণ করে একে মাটির সাথে মিশিয়ে দেবেন। আর আমার রবের ওয়াদা চিরসত্য। এখন একটি বড় প্রশ্ন [মিউজিক] হলো এই মহান বাদশাহ জুলকারনাইন আসলে কে ছিলেন? ইতিহাসে তার আসল পরিচয় কি? বহু শতাব্দী ধরে মুফাসসিরিন, ঐতিহাসিক এবং গবেষকরা এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর খুঁজে বেড়িয়েছেন। কেউ কেউ দাবি করেছেন যে তিনি হলেন ম্যাসিডোনিয়ার [মিউজিক] রাজা আলেকজান্ডার বা সিকান্দার। কারণ আলেকজান্ডারও পৃথিবীর এক বিশাল অংশ জয় করেছিলেন। কিন্তু একটু গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলেই এই দাবির দুর্বলতা ধরা পড়ে। আলেকজান্ডার ছিলেন একজন বহু ঈশ্বরবাদী বা মূর্তিপূজক। তিনি নিজেকে দেবতা বলে দাবি করতেন। তার ব্যক্তিগত জীবন ছিল মদ্যপান, হত্যা আর বিলাসবহুলতায় পূর্ণ। অন্যদিকে কোরআনের জুলকারনাইন হলেন একজন একনিষ্ঠ [মিউজিক] মুমিন। যিনি অত্যন্ত বিনয়ী এবং এক আল্লাহর প্রতি গভীরভাবে সমর্পিত। তাই আলেকজান্ডারের [মিউজিক] সাথে জুলকারনাইনের তুলনা করাটা একেবারেই অযৌক্তিক [মিউজিক] এবং ভিত্তিহীন। আধুনিক যুগের অনেক গবেষক মনে করেন জুলকারনাইন হতে পারেন প্রাচীন [মিউজিক] পারস্যের সম্রাট সাইরাস যাকে ইতিহাসে খোরেশ বলা হয়। সাইরাস অত্যন্ত ন্যায়পরায়ণ শাসক ছিলেন এবং তার সাম্রাজ্য পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তিনি ইহুদিদের ব্যাবিলনের বন্দি দশা থেকে মুক্ত করেছিলেন এবং জেরুজালেমে তাদের উপাসনালয় পুনর্নির্মাণের সুযোগ দিয়েছিলেন। সাইরাসের চরিত্রে জুলকারনাইনের অনেক বৈশিষ্ট্যের [মিউজিক] মিল পাওয়া যায়। আবার কিছু আরব ঐতিহাসিকের মতে তিনি ছিলেন প্রাচীন ইয়েমেনের হিমিয়ার বংশের কোন এক মহান বাদশা। কারণ হিমিয়ার রাজাদের নামের শুরুতে জুল শব্দটি ব্যবহার করার প্রথা ছিল। তবে সত্যি কথা হলো ইতিহাস হয়তো কোনদিনও নিশ্চিত করে বলতে পারবে না জুলকারনাইনের আসল পরিচয়। আর একটু গভীরভাবে ভেবে দেখলে বুঝতে পারবেন এই পরিচয় না জানাটাই হয়তো আল্লাহর এক অপূর্ব হেকমত [মিউজিক] বা প্রজ্ঞা। আল্লাহ তাআলা যদি চাইতেন তবে কোরআনে তার আসল নাম, তার জন্মস্থান, [মিউজিক] তার পিতার নাম সবকিছুই বিস্তারিত উল্লেখ করতে পারতেন। কিন্তু আল্লাহ তা করেননি। কারণ কোরআনের উদ্দেশ্য [মিউজিক] কোন নিখুঁত ইতিহাসের বই হওয়া নয়। কোরআনের উদ্দেশ্য হলো মানুষকে হেদায়েত দেওয়া। জীবনের চরম সত্যের [মিউজিক] শিক্ষা দেওয়া। জুলকারনাইন কে ছিলেন তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো জুলকারনাইন কি করেছিলেন এবং কিভাবে করেছিলেন। তার চরিত্র, তার ন্যায়বিচার, তার বিনয় আর তার তাকওয়াই হলো আমাদের জন্য আসল শিক্ষণীয় [মিউজিক] বিষয়। আজকের এই আধুনিক পৃথিবীর দিকে একবার তাকান। একটু চিন্তা করুন [মিউজিক] আমাদের বর্তমান নেতাদের কথা, বিশ্ব মোড়লদের কথা। যখনই কোন মানুষের হাতে সামান্য কিছু ক্ষমতা আসে যখনই কোন রাষ্ট্র একটু শক্তিশালী হয় তখনই শুরু হয় অন্যকে শাসন করার শোষণ করার এক কঠিন প্রতিযোগিতা। দুর্বল জাতিগুলোর উপর নেমে আসে জুলমের [মিউজিক] স্টিমরোলার। সম্পদের লোভে ধ্বংস করে দেওয়া হয় নিরীহ জনপদ। ক্ষমতার অহংকারে মানুষ নিজেকে ধরাছোয়ার বাইরে ভাবতে শুরু করে। কিন্তু জুলকারনাইনের জীবন আমাদের এক সম্পূর্ণ ভিন্ন বার্তা দেয়। তিনি আমাদের শেখান যে ক্ষমতা মানেই ভোগবিলাস নয়। ক্ষমতা মানে হলো এক বিশাল দায়িত্ব বা আমানত। একজন প্রকৃত নেতা কখনো তার দুর্বল প্রজাদের শোষণ করেন না। বরং তিনি নিজের বুকের ঢাল [মিউজিক] দিয়ে তাদের রক্ষা করেন। জুলকারনাইন প্রমাণ করে গেছেন যে পুরো পৃথিবীর অধিপতি হয়েও কিভাবে আল্লাহর সামনে একজন নগণ্য দাসের মত মাথা নত করে থাকা যায়। তিনি দেখিয়ে গেছেন প্রযুক্তি আর [মিউজিক] সম্পদের চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছেও কিভাবে বলতে হয় এ সবকিছু আমার রবের রেহমত এই যে তাওয়াক্কুল এই যে আল্লাহর উপর অগাধ বিশ্বাস এটাই একজন মুমিনকে পৃথিবীর অন্য সবার চেয়ে আলাদা করে দেয় জুলকারনাইনের তৈরি করা প্রাচীর আজ কোথায় আছে আধুনিক স্যাটেলাইট জিপিএস আর প্রযুক্তির যুগেও কেন মানুষ সেই বিশাল প্রাচীর খুঁজে পায় না এই প্রশ্নগুলো অনেকের মনেই ঘুরপাখ্যায় এর উত্তর হল আল্লাহ সুবহানাতায়ালা তার অসীম কুদরতে সেই প্রাচীর এবং ইয়াজুজ মাজুজের বিশাল জনপদকে আমাদের চোখের আড়ালে রেখেছেন। আমাদের দৃষ্টিসীমা আমাদের প্রযুক্তি একটা নির্দিষ্ট পর্যায় পর্যন্তই কাজ করে। গায়েবের জগতের উপর আমাদের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। কিন্তু সেইদিন খুব বেশি দূরে নয়। কিয়ামতের অন্যতম বড় আলামত হলো ইয়াজুজ এবং মাজুজের আত্মপ্রকাশ। যখন ঈসা আলাইহিস সালাম পৃথিবীতে ফিরে আসবেন দাজ্জালকে হত্যা করবেন ঠিক সেই সময়ই ইয়াজুজ এবং মাজুজ সেই প্রাচীন প্রাচীর ভেঙে বেরিয়ে আসবে। কোরআনের [মিউজিক] সূরা আম্বিয়াতে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে বলেছেন অবশেষে যখন ইয়াজুজ ও মাজুজকে মুক্ত করে দেওয়া হবে এবং তারা প্রত্যেক [মিউজিক] উঁচু ভূমি থেকে ছুটে আসবে তারা পৃথিবীর সমস্ত নদীর পানি পান করে শুকিয়ে ফেলবে। তাদের অত্যাচারে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠবে। তখন ঈসা আলাইহিস সালামও তার সঙ্গীদের নিয়ে পাহাড়ে আশ্রয় নিতে বাধ্য হবেন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হবে যে মনে হবে বুঝি পুরো পৃথিবী আজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তারপর চরম হতাশার সেই মুহূর্তে আবার আল্লাহর সাহায্য আসবে। আল্লাহর [মিউজিক] এক অলৌকিক নির্দেশনায় ধ্বংস হয়ে যাবে সেই অজেয় ইয়াজুজ এবং মাজুজের বাহিনী। পৃথিবী আবার শান্ত হবে। জুলকারনাইনের গল্প শুধু এক প্রাচীন বাদশার গল্প নয়। এটি আমাদের ঈমানের গল্প। এটি ক্ষমতার সাথে বিনয়ের গল্প। এটি জালিমের বিরুদ্ধে মাজলুমের ঢাল হয়ে দাঁড়ানোর গল্প। জুলকারনাইন আজ আমাদের মাঝে নেই। তার সেই বিশাল সাম্রাজ্য আর নেই। কিন্তু মহাগ্রন্থ আল-কোরআনে তার নাম চির অমলান হয়ে আছে। যতক্ষণ এই পৃথিবী কোরআন থাকবে ততক্ষণ মানুষ জুলকারনাইনের এই অবিশ্বাস্য কাহিনী পড়বে এবং অবাক হবে। আর মনে মনে খুঁজবে এমন একজন নেতাকে যিনি আবারও এই পৃথিবীতে ন্যায়বিচার আর শান্তির সুবাতাস নিয়ে আসবেন। জীবনের এই দৌড়ঝাপে ক্ষমতার এই মহমায়ায় যেন আমরা ভুলে না যাই আমাদের আসল গন্তব্য। আমরা যেন ভুলে না যাই সেই পরাক্রমশালী সত্তাকে যিনি এক মুহূর্তে কাউকে পথের ভিখারী থেকে রাজ সিংহাসনে বসাতে পারেন আবার মুহূর্তের মাঝেই অহংকারী রাজাকে ধুলোয় মিশিয়ে দিতে পারেন [মিউজিক] জুলখনাইনের মতো আমাদেরও একদিন ফিরে যেতে হবে সেই মহান রবের কাছে [মিউজিক] সেইদিন আমাদের সাথে কোন ক্ষমতা কোন ব্যাংক ব্যালেন্স কোন সৈন্যবাহিনী কোন প্রাচীর থাকবে না থাকবে [মিউজিক] শুধু আমাদের আমল আর আল্লাহর রহমত আল্লাহ সুবহানাওয়া তায়ালা আমাদের সবাইকে জুলকারনাইনের এই কাহিনী থেকে শিক্ষা নেওয়ার তৌফিক দান করুন এবং অহংকার মুক্ত বিনয়ী এক সুন্দর জীবন গড়ার সুযোগ দিন।

Need a transcript for another video?

Get free YouTube transcripts with timestamps, translation, and download options.

Transcript content is sourced from YouTube's auto-generated captions or AI transcription. All video content belongs to the original creators. Terms of Service · DMCA Contact

যুলকারনাইন কি সত্যিই বাস্তব ছিলেন? কুরআনের সবচেয়ে শক্তিশ...