পৃথিবীর প্রথম মানব ও মানবী হযরত আদম ও বিবি হাওয়া আলাইহিস সালামের মাধ্যমে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এই পৃথিবীতে মানবজাতির বংশবিস্তার করেছিলেন মানব বংশবিস্তারের প্রক্রিয়াটি ছিল এই যে হযরত হাওয়া আলাইহিস সালাম প্রতিবছর দুটি করে জমজ সন্তান প্রসব করতেন সেই সন্তানদের একটি হতো পুরুষ এবং অপরটি হতো নারী হযরত আদম ও বিবি হাওয়ার প্রথম জোড়ার পুরুষ সন্তানটির নাম রাখা হয়েছিল কাবিল এবং কন্যা সন্তানের নাম রাখা হয়েছিল আকলিমা দ্বিতীয় জোড়ার পুরুষ সন্তানটির নাম রাখা হয়েছিল হাবিল এবং কন্যা সন্তানের নাম রাখা হয়েছিল গাজা কাবিলের সাথে জন্মগ্রহণকারিনী বোন আকলিমা ছিল অত্যন্ত রূপসী সুন্দরী আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাকে সীমাহীন রূপ সৌন্দর্য দান করেছিলেন পক্ষান্তরে হাবিলের সাথে জন্মগ্রহণ করা কন্যা সন্তান গাজা তেমন রূপবতী ছিল না আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাকে তেমন রূপ সৌন্দর্য দেননি এভাবেই প্রতিবছর বিবি হাওয়া আলাইহিস সালাম জমৎ সন্তান জন্মদান করতে লাগলেন এবং মানবের বংশবিস্তার হয়ে চলল তাদের প্রথম দুইজোড়া সন্তানগুলি যখন বিয়ের বয়সে উপনীত হলেন তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন একটি বিশেষ নির্দেশ নিয়ে জিব্রাইল আলাইহিস সালামকে আদম আলাইহিস সালামের কাছে প্রেরণ করলেন হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সালাম আদম আলাইহিস সালামের কাছে উপস্থিত হয়ে বললেন হে আল্লাহর নবী আদম আপনার প্রথম দুই জোড়া পুত্রকন্যাদের বিবাহের বয়স হয়েছে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের উদ্দেশ্য হলো মানবের বংশবিস্তার করা অতএব আপনি তাদের মাঝে বিবাহ সংঘটিত করুন তবে এক্ষেত্রে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নির্দেশ ছিল একই জোড়া পুত্র ও কন্যার মধ্যে বিবাহ সংঘটিত হতে পারবে না বরং একজোড়ের পুত্রের সাথে অপরজোরের কন্যার বিবাহ হবে সাবধান যাতে কোনভাবেই একজোড়ের পুত্র-কন্যাদের মাঝে বিবাহ সংঘটিত না হয় এই বলে হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সালাম বিদায় গ্রহণ করলেন আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে নির্দেশ লাভ করে হযরত আদম আলাইহিস সালাম তার দুই পুত্র হাবিল ও কাবিলকে ডাকলেন এবং তাদেরকে বললেন হে বৎস আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ নির্দেশ এসেছে তোমাদের বিবাহের বয়স হয়েছে আর আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের উদ্দেশ্য হলো মানবের বংশবিস্তার করা অতএব আমি তোমাদের মাঝে বিবাহ সংঘটিত করে দিতে চাই হে বৎস তোমরা শুনে রাখো বিবাহের ক্ষেত্রে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের বিধান হলো একই জোরের পুত্র কন্যার মাঝে বিবাহ সংঘটিত হতে পারবে না বরং প্রথম জোরের কন্যাকে দ্বিতীয় জোরের পুত্রের সাথে বিবাহ দিতে হবে এবং দ্বিতীয় জোরের পুত্রকে প্রথম জোরের কন্যার সাথে বিবাহ দিতে হবে সুতরাং কাবিল বিবাহ করবে গাজাকে এবং হাবিল বিবাহ করবে আকলিমাকে পিতার এরূপ আদেশ শুনে হাবিল নীরব রইল কিন্তু কাবিল প্রবল আপত্তি করে বসলো এবং সে প্রতিবাদের সুরে বলে উঠলো হে আমার পিতা আপনি আমাদেরকে যে নির্দেশ দিচ্ছেন তা বড় অন্যায় ও ইনসাফহীন একটি নির্দেশ আকলিমা আমার সাথে জন্মগ্রহণ করেছে যুক্তির দাবি এটাই যে তাকে আমার সাথেই বিবাহ দেওয়া হবে আর গাজা হাবিলের সাথে জন্ম জন্মগ্রহণ করেছে অতএব তাকে হাবিলের সাথেই বিবাহ দেওয়া হোক আমার বোন আকলিমা অনেক সুন্দর ও সুশ্রী পক্ষান্তরে গাজা অনেক কুৎসিত আমি আমার বোন আকলিমাকে ছাড়া অন্য কাউকেই বিবাহ করবো না সুতরাং হাবিল তার কুৎসিত বোন গাজাকে বিবাহ করুক আর আমি আমার সুন্দরী বোন আকলিমাকেই বিবাহ করব আল্লাহ তাআলা তো আমাদেরকে মায়ের গর্ভে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন অতএব দুনিয়ার জমিনে ভূমিষ্ঠ হবার পরে আপনি কেন এই জোড়া ভাঙতে চাচ্ছেন এটা তো কঠিন জুলুম অত্যাচার এবং ন্যায়নীতিহীন একটি আদেশ হে আমার পিতা আমার মনে হয় আপনি হাবিলকে অধিক ভালোবাসেন তাই তার সাথে আমার সুন্দরী বোন আকলিমাকে বিবাহ দিতে চাচ্ছেন তবে আমিও আমার পরিষ্কার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিচ্ছি আমি হাবিলের সাথে আকলিমার বিবাহ কোনভাবেই মেনে নিব না যে করেই হোক আমার বোন আকলিমাকে আমিই বিবাহ করব আমি আপনাকে আগেই জানিয়ে দিচ্ছি আমাদের বিবাহ নিয়ে যদি কোন দুর্ঘটনা সৃষ্টি হয় তাহলে তার জন্য আপনিই দায়ী থাকবেন কাবিলের কথা শুনে আদম আলাইহিস সালাম বললেন বৎস তুমি হয়তো মনে করছো যে এগুলি আমার নিজের বানানো কোন কথা কিন্তু আমি এবার নিজে থেকে কোন কিছুই বানিয়ে বলছি না আমি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের হুকুমগুলি তোমাদেরকে শুনিয়ে দিচ্ছি মাত্র আর তুমিও জেনে রাখো আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের বিধানের সামান্যতম আমি নড়চর করবো না তার নির্দেশ অনুসারেই তোমাদের বিবাহ সংঘটিত হবে আমি একবার তার হুকুম অমান্য করে বেহেশত থেকে দুনিয়ায় নিক্ষিপ্ত হয়েছি আমি আর কোনদিন তার কোন নির্দেশ অমান্য করতে পারবো না পুনরায় যদি আমি আমার প্রতিপালকের হুকুমের অন্যথা করি তাহলে আমার উপর কোন বিপদ আসবে তা আমি জানিনা আমি আমার প্রতিপালকের আজাব ও শাস্তি নিয়ে অত্যন্ত ভীত সন্তুষ্ট অতএব হে বৎস অবনত চিত্তে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের হুকুমকে মেনে নাও এবং তিনি যেভাবে বিবাহের ফরমান জারি করেছেন সে মতেই তোমরা বিবাহ করার জন্য প্রস্তুত হয়ে যাও কিন্তু হযরত আদম আলাইহিস সালামের কোন নসিহতি কাবিলের কর্ণগোচর হলো না সে তার জিদের উপরেই অটল থাকলো হযরত আদম আলাইহিস সালাম তাদেরকে বললেন ঠিক আছে তোমরা এখন যাও আমি এই ব্যাপারে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পরবর্তী নির্দেশের অপেক্ষা করব অতঃপর আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নির্দেশ আমি তোমাদেরকে জানিয়ে দিব এরপর হযরত আদম আলাইহিস সালাম আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে দোয়া করলেন হে মাবুদ আমার সন্তানদের বিবাহের ব্যাপারে যে ফিতনা সৃষ্টি হয়েছে তা তুমি সবকিছুই দেখছো আমাকে এ ব্যাপারে একটি উত্তম ফায়সালা দান করুন যাতে করে প্রত্যক্ষভাবে তারা এর একটি প্রমাণ পেতে পারে হযরত আদম আলাইহিস সালামের দোয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নির্দেশ নিয়ে হযরত জিব্রাইল আলাইহিস সালাম তার কাছে আগমন করলেন এবং তিনি বললেন হে আদম আপনি আপনার পুত্রদয়কে কুরবানি করার নির্দেশ দিন তারা তাদের কুরবানি নিয়ে পাহাড়ে রেখে আসবে অতঃপর যার কুরবানি কবুল করা হবে সেই আকলিমাকে বিবাহ করবে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে নির্দেশ প্রাপ্ত হয়ে আদম আলাইহিস সালাম পুনরায় তার পুত্রদয়কে ডাকলেন এবং তিনি তাদেরকে বললেন হে বৎসদয় আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নির্দেশ হলো তোমরা দুজনেই কুরবানি করবে এবং তোমাদের কুরবানির বস্তু পাহাড়ের উপর রেখে আসবে যার কুরবানিকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কবুল করবেন সেই আকলিমাকে বিবাহ করতে পারবে অতএব যাও তোমরা তোমাদের কুরবানি পাহাড়ের উপর রেখে আসো হযরত আদম আলাইহিস সালামের যুগে কুরবানির নিয়ম ছিল কুরবানির বস্তু পাহাড়ের উপর রেখে আসা হতো আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যার কুরবানি কবুল করতেন তার কুরবানি আগুন এসে জ্বালিয়ে দিত আর এটাই ছিল আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে কুরবানি কবুল হওয়ার নিদর্শন পিতার নির্দেশ হাবিল ও কাবিল তাদের নিজ নিজ মাল থেকে কুরবানির বস্তু সংগ্রহের জন্য চলে গেল কাবিল ছিল কৃষক কৃষি কাজ করে শস্য উৎপন্ন করতো সুতরাং সে তার কৃষি পণ্যের মাধ্যমে কুরবানির সামগ্রী সংগ্রহের জন্য মনস্থির করল পক্ষান্তরে হাবিল ছিল একজন মেশ পালক সে মেষ চড়িয়েই জীবিকা উপার্জন করতো তাই সে তার মেষগুলি থেকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের রাস্তায় একটিকে কুরবানির জন্য মনস্থির করল এক্ষেত্রে সে তার সবচাইতে উত্তম ও মোটা তাজা মেষটিকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের রাস্তায় কুরবানি করার জন্য ঠিক করল অতঃপর কাবিল ও হাবিল দুজনেই তাদের কুরবানি পাহাড়ের উপর রেখে আসলো মুফাসসিরিনে কেরাম উল্লেখ করেছেন যে হযরত আদম আলাইহিস সালামও তাদের সাথে সেই স্থানে উপস্থিত ছিলেন এর কিছুক্ষণ পরেই আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে এক খন্ড আগুন এসে হাবিলের কুরবানিকে জ্বালিয়ে দিল এই দৃশ্য দেখে হাবিল অত্যন্ত খুশি ও আনন্দিত হয়ে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে শুকরিয়া জ্ঞাপন করল পক্ষান্তরে কাবিল লজ্জায় ও অনুতাপে হিংস ও ক্রুদ্ধ মূর্তির ধারণ করল সে আদম আলাইহিস সালামকে বলল পিতা আপনি হাবিলকে অধিক ভালোবাসেন এবং তার জন্যই দোয়া করেছেন তাই তার কুরবানি কবুল হয়েছে কিন্তু আমাকে আপনি ভালোবাসেন না এবং আমার জন্য দোয়াও করেননি তাই আমার কুরবানি কবুল হয়নি এবং সে হাবিলকে লক্ষ্য করে বলল হাবিল অবশ্যই আমি তোমাকে হত্যা করব হাবিল প্রতি উত্তরে বলল হে ভ্রাতা তুমি যদি আমাকে হত্যা করার জন্য তোমার হাত সম্প্রসারিত করো আমি তোমাকে হত্যা করার জন্য আমার হাত সম্প্রসারিত করবো না আমি চাই তুমি আমার পাপ এবং তোমার পাপ বহন করো আর কেবলমাত্র মুত্তাকীদের পক্ষ থেকেই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কবুল করে থাকেন হযরত আদম আলাইহিস সালাম তাকে বললেন বৎস তুমি নিজের চোখে প্রত্যক্ষ করলে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের মর্জি ও ইচ্ছা কোনটি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের মর্জি ও ইচ্ছার প্রতি সন্তুষ্ট থেকে তুমি হাবিলের সাথে সদ্ভাব বজায় রাখো এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ফরমান অনুযায়ী বিবাহ করায় রাজি হয়ে যাও এতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন অত্যন্ত খুশি হবেন এবং ও আখিরাত উভয় জাহানেই তোমার কল্যাণ হবে কিন্তু কাবিল পিতার কোন কথার দিকেই কর্ণপাত করল না সে নিজের অপমানের জ্বালায় হাবিলের প্রতি আরো শত্রু ভাবপন্ন হয়ে পড়লো সে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করল যে করেই হোক হাবিলকে সে হত্যা করবেই এরপর থেকে সে হাবিলকে হত্যা করার জন্য সুযোগ খুঁজতে লাগলো কিন্তু আদম আলাইহিস সালাম বিদ্যমান থাকার কারণে সে কোনভাবেই এই সুযোগ পাচ্ছিল না এর কিছুদিন পরেই আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে হযরত আদম আলাইহিস সালামের কাছে নির্দেশ আসলো হে আদম তুমি আমার ঘর বাইতুল্লাহ জিয়ারত করার জন্য মক্কার উদ্দেশ্যে গমন করো হযরত আদম আলাইহিস সালাম আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে এ নির্দেশ লাভ করার পরে আকাশের দিকে লক্ষ্য করে তিনি বললেন হে আকাশ তুমি কি আমার সন্তান-সন্ততিদেরকে রক্ষা করার দায়িত্ব গ্রহণ করবে প্রতি উত্তরে আকাশ বলল হে আদম আমি তোমার সন্তানদেরকে রক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারবো না এরপরে হযরত আদম আলাইহিস সালাম পাহাড়কে লক্ষ্য করে বললেন হে পাহাড় তুমি কি আমার সন্তানদেরকে রক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারবে পাহাড় জবাব দিল হে আদম আমি তোমার সন্তানদেরকে রক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারবো না অতঃপর হযরত আদম আলাইহিস সালাম জমিনকে লক্ষ্য করে বললেন হে জমিন তুমি কি আমার সন্তানদেরকে রক্ষা করার দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারবে জমিনও হযরত আদম আলাইহিস সালামকে একই উত্তর দিল তখন হযরত আদম আলাইহিস সালাম হাবিলকে বললেন হে হাবিল তুমি কি আমার সন্তানদেরকে রক্ষা করার দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারবে হাবিল বলল হে আমার পিতা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যদি আমার উপর অনুগ্রহ করেন তাহলে অবশ্যই আমি এই দায়িত্ব গ্রহণ করতে রাজি আছি এরপরে হযরত আদম ও বিবি হাওয়া শিয় সন্তানদেরকে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব হাবিলের কাছে দিয়ে মক্কার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে গেলেন আদম আলাইহিস সালাম হজে গমন করার পরে কাবিল তার উদ্দেশ্য সিদ্ধির জন্য একটি বিশাল সুযোগ পেয়ে গেল এতদিনে সে পিতার শাস্তির ভয়ে তার উদ্দেশ্য সিদ্ধ করতে পারছিল না কিন্তু যখন পিতা তাদের থেকে দূরে চলে গেল তখন আর কিসের ভয় কোন একদিন হাবিল তার বকরি ও মেশপাল চড়াতে মাঠে গেল এরপরে সে ক্লান্ত হয়ে একটি বৃক্ষের ছায়ায় ঘুমিয়ে পড়লো কাবিল যখন দেখল হাবিল নির্জন একটি প্রান্তরে গাছের ছায়ায় একাই ঘুমিয়ে রয়েছে তখন সে সেটিকে বিশেষ সুযোগ মনে করতে লাগলো সে ভাবলো হাবিলকে হত্যা করার জন্য এটাই উপযুক্ত সময় কিন্তু সে একটি বিপদের সম্মুখীন হয়ে গেল হত্যা করবে তো ঠিকই কিন্তু হত্যা করবে কোন উপায়ে তা সে স্থির করতে পারলো না যেহেতু ইতিপূর্বে কেউ কোন মানুষ হত্যা করেনি তাই এই পদ্ধতি কাবিলের জানা ছিল না মানব জাতির চিরশত্রু ইবলিশ যখন দেখল হত্যা করা নিয়ে হাবিল একটি বিশেষ সমস্যায় পতিত হয়েছে তখন সে ভাবতে লাগলো অবশ্যই তাকে সাহায্য করা আমার একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য মূলত সে তো এরকম একটি সুযোগের অপেক্ষায় ছিল তাই সে আর কাল বিলম্ব না করে একজন পথিকের আকৃতিতে কাবিলের সামনে আত্মপ্রকাশ করল অতঃপর সে তার শয়তানি শক্তির বলে একটি কৃত্রিম সাপ তৈরি করল সাপটি ধীরে ধীরে মানবরূপী ইবলিশের দিকে এগিয়ে আসতে লাগলো ইবলিশ জমিন থেকে একটি পাথর উঠিয়ে সাপের মাথা লক্ষ্য করে ছুড়ে মারলো ফলে সাপের মাথা চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে গেল এবং সেখানেই সাপটি প্রাণ ত্যাগ করল হত্যা করার এই পদ্ধতি দেখে কাবিল অত্যন্ত খুশি হলো এবং সে স্থির করল এই পদ্ধতিতেই সে তার ভাই হাবিলকে হত্যা করবে হত্যা করার পদ্ধতি শিখার পরে কাবিল ধীরে ধীরে হাবিলের দিকে এগিয়ে যেতে লাগলো যখন সে হাবিলের কাছে পৌঁছে গেল তখন সে বিরাট একটি পাথর হাতে তুলে নিল অতঃপর সে পাথরটি ঘুমন্ত হাবিলের মাথা লক্ষ্য করে প্রচন্ড বেগ কে ছুড়ে মারলো পাথরের আঘাতে হাবিলের মাথা ফেটে চৌচির হয়ে গেল এবং সাথে সাথে সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লো হাবিলের মৃত্যু তো হলো ঠিকই কিন্তু এখন একটি নতুন সমস্যা দেখা দিল আর তা হলো এই যে হাবিলের মৃতদেহ কিভাবে গোপন করে নিজের আত্মরক্ষা করবে তার মনে এই চিন্তা দেখা দিল যে যদি হাবিলের লাশ এভাবে এখানে পড়ে থাকে তাহলে তার মৃত্যুর কথা নিশ্চয়ই পিতার কর্ণগোচর হবে এবং আমি যে তার হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছি এটা অবশ্যই তিনি বুঝতে পারবেন সুতরাং কাবিলের মৃত্যুর খবর কিছুতেই যাতে পিতার কানে না পৌঁছে এবং তার লাশেরও যাতে তিনি কোন সন্ধান না পান এজন্য তার লাশকে গোপন করে রাখা দরকার কিন্তু কাবিল বুঝতে পারছিল না যে কিভাবে সে তার ভাই হাবিলকে দাফন করবে যেহেতু ইতিপূর্বে এ কাজ পৃথিবীর কোন মানুষই করেনি তাই কাবিল তার ভাই হাবিলের মৃত লাশ কাঁধে নিয়ে এদিক সেদিক ঘুরাঘুরি করতে লাগলো আর সে ভাবতে লাগলো কিভাবে এই লাশটিকে গোপন করা যায় অনেক মুফাসসিরিন কেরামগণ বলেছেন কাবিল এভাবে তার ভাইয়ের লাশটিকে নিয়ে এক বছর পর্যন্ত ঘুরেছিল অনেকের মতে কয়েক মাস ঘুরেছিল আবার কেউ কেউ বলেন কয়েকদিন বা কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত ঘুরেছিল তবে সঠিক ব্যাপারটি আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ভালো জানেন কাবিল যখন তার ভাই হাবিলের মৃত লাশটি কাঁধে করে এভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছিল তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইচ্ছা করলেন যে তাকে দুটি নিকৃষ্ট প্রাণী দিয়ে মানুষ দাফন করার কাজটি শিক্ষা দান করবেন এজন্য তিনি তার সামনে দুটি কাককে পাঠিয়ে দিলেন কাক দুটি কাবিলের সামনে আবির্ভূত হয়ে মারামারি শুরু করে দিল তারা একে অপরকে ঠোঁট দিয়ে ঠোকাতে শুরু করল এরপর একটি কাক অপর কাকটিকে হত্যা করল এরপর জীবিত কাকটি তার ঠোঁট দিয়ে একটি গর্ত খনন করল এবং মৃত কাকটিকে সেই গর্তের মধ্যে রেখে তার উপর মাটি চাপা দিল এবং সে উড়ে চলে গেল তাদের কাছ থেকে মানুষ দাফনের এই পদ্ধতি শিক্ষা লাভ করার পরে কাবিল মনে মনে ভীষণ লজ্জিত হলো এবং সে নিজেকে এই বলে ধিক্কার দিতে লাগলো যে হায়রে আমি এই সামান্য কাকের মতো বুদ্ধিমান নই একটি কাক মানুষ দাফনের যে পদ্ধতি জানে আমি সেই পদ্ধতিও জানিনা আমি এই কাকটির মতো তো হতে পারলাম না কত নিকৃষ্ট আমি কাকদের থেকে মানুষ দাফনের এই পদ্ধতি শিক্ষা লাভ করার পরে কাবিল ও তার ভাই হাবিলকে দাফন করার জন্য একটি কবর খনন করল অতঃপর সে কবরে হাবিলের লাশটি রেখে তার উপর মাটি চাপা দিল হাবিলকে দাফন করার পরে সে একেবারে নিশ্চিত হয়ে গেল এবং মনে মনে ভাবতে লাগলো যে করেই হোক এই বিপদ থেকে আমি নিষ্কৃতি লাভ করলাম এখন আর আমাকে থামায় কে আকলিমাকে তো আমিই বিবাহ করব এসব ভাবতে ভাবতে সে পথ চলছিল আর অপেক্ষা করছিল কখন সে বাড়িতে গিয়ে পৌঁছবে এমন সময় আল্লাহ রাব্বুল আলামীন জমিনকে নির্দেশ দিলেন হে জমিন তুমি কাবিলের দেহ হাঁটু পর্যন্ত গ্রাস করে ফেলো তাকে নাড়াচাড়া করতে দিও না সে তার নিজের ভাইকে হত্যা করে মহাপাপীতে পরিণত হয়েছে জমিন সাথে সাথে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নির্দেশ পালন করল এবং কাবিলকে হাঁটু পর্যন্ত গ্রাস করে ফেলল হতভাগ্য কাবিল আর তার পা টেনে জমিন থেকে তুলতে পারে না সে বুঝতে পারলো এই শাস্তি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে এসেছে এই কথা বুঝতে পেরে সে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে কাকুতি মিনতি করে বলতে লাগলো হে মাবুদ ইবলিশ তো গুনাহ করে তোমার দরবার থেকে বিতাড়িত হয়েছিল মাত্র কিন্তু জমিন থেকে এভাবে তাকে গ্রাস করা হয়নি আমার অপরাধ কি ইবলিশের অপরাধের চেয়েও বড় যে জমিন আমাকে এভাবে গ্রাস করে নিল আল্লাহর পক্ষ থেকে তাকে জবাব দেওয়া হলো ওহে দুরাচার সে যত বড় অপরাধই করুক না কেন সে নিজের হাতে নিজের ভাইকে হত্যা করেনি কাবিল আবার বলল হে মাবুদ আমার পিতা বেহেশতে অবস্থানকালে তোমার হুকুম অমান্য করে বড় গুনাহ করেছিল তাকে তুমি শাস্তি দিয়েছো বটে কিন্তু তাকেও তো জমিন থেকে এভাবে গ্রাস করে দাওনি আল্লাহর তরফ থেকে জবাব আসলো হে নিষ্ঠুর তোমার পিতা আমার আদেশ অমান্য করে অন্যায় করেছিল নিজের প্রতি কিন্তু তুমি এমন অপরাধ করেছো যার দ্বারা অন্যের হক নষ্ট হয়েছে তুমি অন্যের প্রতি অবিচার করেছো সুতরাং তোমার অপরাধ সর্বাপেক্ষা গুরুতর এরপর আল্লাহ রাব্বুল আলামীন জমিনকে নির্দেশ দিলেন হে জমিন তুমি কাবিলের দেহকে তার বুক পর্যন্ত গ্রাস করে ফেলো সাথে সাথে জমিন আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের হুকুম পালন করল এবং কাবিলের দেহকে বুক পর্যন্ত গ্রাস করে ফেলল তখন কাবিল দিশেহারা হয়ে ব্যাকুলভাবে আল্লাহর দরবারে মিনতি জানাতে লাগলো হে দয়াময় প্রভু আমি না বুঝে ইবলিশের প্ররোচনায় পড়ে আমার ভাই হাবিলকে হত্যা করেছি এবং আমি মহা অন্যায় করেছি সত্যি এর চেয়ে বড় অন্যায় আর কিছুই নেই কিন্তু হে দয়াময় তোমার রহমত তো অপরিসীম তুমি সবকিছু ক্ষমা করে দিতে পারো হে আল্লাহ আমি আমার পিতার নিকট শুনেছি যে তার গুনাহটি তুমি তোমার প্রিয় হাবিব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওসিলায় ক্ষমা করে দিয়েছিলে আমাকেও তুমি তোমার সেই মহান হাবিবের বরকতের ওসিলায় ক্ষমা প্রদর্শন করো এবার আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার প্রিয় হাবিব মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সম্মান ইজ্জত রক্ষার তাগিদে জমিনকে বললেন হে জমিন তুমি কাবিলকে ছেড়ে দাও জমিনের কবল থেকে মুক্তি লাভ করার পরে কাবিল ভাবতে লাগলো যেভাবেই হোক এই বিপদ থেকে আমি রক্ষা পেলাম এবার আর আমাকে ঠেকায় কে আকলিমাকে তো আমিই বিবাহ করব কাবিল এই কথা চিন্তা করার সাথে সাথে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের একজন আজাবের ফেরেশতা এসে তাকে পাকড়াও করল এবং তাকে একটি পাহাড়ে বন্দি করে তার মাথায় একটি পাথর দ্বারা আঘাত করল আর সাথে সাথে কাবিলের মৃত্যু হয়ে গেল এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পুনরায় তাকে জীবিত করে দিলেন পুনরায় সেই ফেরেশতা তার মাথায় পাথর দ্বারা আঘাত করল এবং পুনরায় সে মৃত্যুবরণ করল বলা হয়ে থাকে কেয়ামত পর্যন্ত এই ফেরেশতা কাবিলকে এভাবেই শাস্তি দিতে থাকবে সহি মুসলিম শরীফে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পক্ষ থেকে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন কেয়ামত পর্যন্ত যত অন্যায় হত্যাকাণ্ড ঘটবে সেই পাপের একটি অংশ আদম আলাইহিস সালামের পুত্র কাবিলের আমলনামায় লিখা হতে থাকবে কেননা সেই প্রথম ব্যক্তি যে হত্যার মত ভয়ঙ্কর এ পাপ কাজকে পৃথিবীর জমিনে চালু করেছিল কাবিল যখন হাবিলকে হত্যা করেছিল তখন আদম আলাইহিস সালাম হজ আদায়ের জন্য মক্কা শরীফে ছিলেন আদম আলাইহিস সালাম দেশে ফিরে এসে হাবিলের সন্ধান না পেয়ে তার সন্তানদের কাছে জিজ্ঞাসা করলেন হে বৎস তোমরা কি তোমাদের ভাই হাবিলের কোন সন্ধান জানো আমি তাকে দেখছি না কেন আদম আলাইহিস সালামের সন্তানগণ তাকে উত্তর দিল হে পিতা আপনি হজ করতে যাওয়ার কিছুদিন পর থেকেই আমরা আমাদের ভাই হাবিল ও কাবিল দুজনকেই দেখছি না আমরা তাদেরকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি কিন্তু তাদের কোন সন্ধান পাইনি আমরা জানিনা তারা কোথায় আছে এবং কি করছে তাদের কথা শুনে আদম আলাইহিস সালাম বুঝতে পারলেন অবশ্যই কাবিল হাবিলকে হত্যা করেছে আর সে তো তাকে ইতিপূর্বেই হত্যার হুমকিও দিয়ে রেখেছিল আর এই দ্বন্দের একমাত্র কারণ যে তার কুপুত্র কাবিলের অন্যায় জেদি ছিল তা তিনি অবশ্যই জানতেন সুতরাং কাবিলের কারণে তার মনে খুব দুঃখ হলো না কিন্তু হাবিলকে হারিয়ে তিনি একেবারেই শোকাকুল হয়ে পড়লেন অতঃপর তিনি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে কাঁদতে কাঁদতে প্রার্থনা করলেন হে আল্লাহ হাবিলকে যদি হত্যা করা হয়ে থাকে তবে তার কবর ও মৃত লাশের চিহ্নটুকু তুমি আমাকে দেখিয়ে দাও তাতে আমি শান্তি পাবো আদম আলাইহিস সালামের এই দোয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাকে জানিয়ে দিলেন হে আদম তোমার কুপুত্র কাবিল তোমার সন্তান হাবিলকে হত্যা করেছে এজন্য কেয়ামত পর্যন্ত তাকে এই পাপের শাস্তি ভোগ করতে হবে এ পৃথিবীতে তোমার যত সন্তানই অন্যায়ভাবে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করবে সেই হত্যাকাণ্ডের পাপের একটি অংশ তোমার কুপুত্র কাবিলের আমলনামায় লিপিবদ্ধ করা হবে অতঃপর আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাকে হাবিলের মৃত্যুর জায়গা ও তার কবর সম্পর্কে জানিয়ে দিলেন আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে এই সংবাদটি জানার পরে আদম আলাইহিস সালাম সেই স্থানে গেলেন এবং তিনি কবর থেকে হাবিলের লাশটিকে উঠিয়ে দেখলেন তার মাথা চূর্ণ বিচূর্ণ করে দেওয়া হয়েছে এবং তার সারা শরীর এখনো রক্তে রঞ্জিত হয়ে রয়েছে তখন হযরত আদম আলাইহিস সালাম হাবিলের লাশটিকে বাড়িতে নিয়ে আসলেন পুত্রের এই অবস্থা দেখে বিবি হাওয়াও কাঁদতে কাঁদতে অস্থির হয়ে গেলেন অতঃপর তারা সিদ্ধান্ত নিলেন হাবিলের লাশটিকে একটি সিন্দুকে করে তারা তাদের কাছেই রেখে দিবেন তাদের এই চিন্তা করার পরে যে জিব্রাইল আলাইহিস সালাম আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের হুকুম নিয়ে তাদের কাছে এসে বললেন হে আদম ও বিবি হাওয়া আপনারা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এটি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সিদ্ধান্ত নয় কোন মৃত মানুষকে আপনারা আপনাদের কাছে রেখে দিতে পারেন না বরং আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের হুকুম হলো তাকে আপনারা উত্তম রূপে গোসল করিয়ে জমিনে পুনরায় দাফন করে দিন জিব্রাইল আলাইহিস সালামের পরামর্শে আদম আলাইহিস সালাম পুনরায় তার পুত্র হাবিলের লাশটিকে উত্তম রূপে কাফনের কাপড় পরিধান করিয়ে দাফন করে দিলেন
Get free YouTube transcripts with timestamps, translation, and download options.
Transcript content is sourced from YouTube's auto-generated captions or AI transcription. All video content belongs to the original creators. Terms of Service · DMCA Contact